| কবি কালীপ্রসন্ন সিংহের ছড়া কবিতা ও গান |
| রাড়ী বাড়ী জুড়ী গাড়ী মিছে কথার কি কেতা হুতোমপ্যাঁচা কবি কালীপ্রসন্ন সিংহ কবির ১৮৬২ খৃষ্টাব্দে রচিত “হুতোমপ্যাঁচার নক্সা” গ্রন্থের গীত। ১৭৮৪শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৮৪ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত বইটির দ্বিতীয় সংস্করণের ৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। গানটি অনেকেই প্রচলিত গান বলেন, অনেকে আবার মনে করেন গানটি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের আমলের। কিন্তু গানটি একেবারেই হুতোমপ্যাঁচার রচিত। গানটিতে “হুতোম দাস” ভণিতা রয়েছে! ॥ বাউলের সুর॥ রাড়ী বাড়ী জুড়ী গাড়ী মিছে কথার কি কেতা। হেতা ঘুঁতে পোড়ে গোবর হাসে বলিহারি ঐক্যতা, যত বক বিড়ালে ব্রহ্মজ্ঞানী, বদমাইসির ফাঁদ পাতা। পুঁটে তেলির আশা ছড়ি শুঁড়ি সেনার বেণের কড়ি, খ্যাম্ টা খান্ কির খাসা বাড়ী, ভদ্রভাগ্যে গোলপাতা। হদ্দ হেরি হিন্দুয়ানী, ভিতর ভাঙ্গা ভড়ংখানি, পথে হেগে চোক্ রাঙ্গানি, লুকোচুরির ফেরগাঁতা। গিণ্টি কাজে পালিশ করা, রাঙ্গা টাকায় তামা ভরা, হুতোম দাসে স্বরূপ ভাষে, তফাৎ থাকাই সার কথা॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বড় বারে বারে এসো ঘরে মকদ্দমা ক’রে ফাঁক হুতোমপ্যাঁচা কবি কালীপ্রসন্ন সিংহ কবির ১৮৬২ খৃষ্টাব্দে রচিত “হুতোমপ্যাঁচার নক্সা” গ্রন্থের গীত। ১৭৮৪শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৮৪ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত বইটির দ্বিতীয় সংস্করণের ৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। চিতেন। বড় বারে বারে এসো ঘরে মকদ্দমা করে ফাঁক! এইবারে গেরে, তোমার কল্লে সূর্পণখার নাক! আস্তাই। ক্যামন সুখ পেলে কম্বলে শুলে, ব্রহ্মত্তর দেবত্তর বড় নিতে জোর ক’রে এখন জারী হ্যাল, ভূর ভাংলে, তোমার আত্তো জুলুম চল্ বে না! পেনেলকোডের আইন গুণে মুখুয্যের পোর ভাংলো জাঁক। বে-আইনীর দফারফা বদমাইসি হলো খাক্॥ মোহাড়া। কুইনের খাসে, দেশে, প্রজার দুঃখ রবে না। মহামহোপাধ্যায় মথুরানাথ মুস্ ড়ে গিয়েচেন। কংস-ধ্বংসকারী লেটোর, জেলায় এসেচেন। এখন গুমী গ্রেপ্তারী লাঠি দাঙ্গা ফোজ চলবে না। . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কে মা রথ এলি? হুতোমপ্যাঁচা কবি কালীপ্রসন্ন সিংহ কবির ১৮৬২ খৃষ্টাব্দে রচিত “হুতোমপ্যাঁচার নক্সা” গ্রন্থের “রথ” অধ্যায়ের গান। ১৭৮৪শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৮৪ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত বইটির দ্বিতীয় সংস্করণের ৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। … দর্শকদের ভিড়ের ভিতর একটা মাতাল ছিল, সে রথ দর্শন করে ভক্তিভরে মাতলামী সুরে--- কে মা রথ এলি? সর্ব্বাঙ্গে পেরেক-মারা চাকা ঘুর-ঘুর ঘুরালি। মা তোর সামন দুটো ক্যেটে ঘোড়া, চূড়োর উপর মুকপোড়া, চাঁদ চামুরে ঘন্টা নাড়া, মধ্যে বনমালী। মা তোর চৌদিকে দেবতা আংকা লোকের টানে চল্ চে চাকা, আগে পাছে ছাতা পাকা, বেহুদ্দ ছেনালী॥ গান গেয়ে, “মা রথ! প্রণাম হই মা!” বলে প্রণাম কল্লে। . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বিদায় হো মা ভগবতি হুতোমপ্যাঁচা কবি কালীপ্রসন্ন সিংহ কবির ১৮৬২ খৃষ্টাব্দে রচিত “হুতোমপ্যাঁচার নক্সা” গ্রন্থের “দুর্গোত্সব” অধ্যায়ের গান। ১৭৮৪শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৮৪ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত বইটির দ্বিতীয় সংস্করণের ৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গানটিতে “হুতোম দাস” ভণিতা রয়েছে। গান বিদায় হও মা ভগবতি! এ সহরে এসো নাকো আর। দিনে দিনে কলিকাতার মর্ম্ম দেখি চমত্কার॥ জষ্টিসেরা ধর্ম্ম-অবতার, কায়মনে কচ্চেন সুবিচার। এদিকে ধূলোর তরে রাজপথেতে চেঁচিয়ে চেয়ে চলা ভার॥ পথে হাগামোতা চলবে না, লাহোরের জল তুলতে মানা, লাইসেন্সচেক্স মাথটচাঁদা, পাইখানায় বাসি ময়লা রবে না। আবার গবর্ণরের গুয়েদৃষ্টি, সৃষ্টিছাড়া ব্যবহার। অসঙ্য হতেছে মাগো! অসাধ্য বাস করা আর॥ জীয়ন্তে এই ত জ্বালা মাগো! ---মলেও শান্তি পাবে না, মুখাগ্নির দফা রফা কলেতে করবে সত্কার। হুতোমদাস তাই সহর ছেড়ে আসমানে করেন বিহার॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| চায় মন চিরদিন পূজিতে সেই পুতুলে হুতোমপ্যাঁচা কবি কালীপ্রসন্ন সিংহ কবির ১৮৬২ খৃষ্টাব্দে রচিত “হুতোমপ্যাঁচার নক্সা” গ্রন্থের “রেলওয়ে” অধ্যায়ের গান। ১৭৮৪শকাব্দে অর্থাৎ ১৮৮৪ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত বইটির দ্বিতীয় সংস্করণের ১০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। গান চায় মন চিরদিন পূজিতে সেই পুতুলে। রং-চঙ্গে চক্ চকে, সাধে কি ছেলে ভুলে॥ জাক রাং অভর চিক্ মিক্ ঝিক্ মিক্ করে। তায় সোণালী রূপালী চূমকি বসান আলো করে॥ আহ্লাদে পেহ্লাদে কেলে, তামাকখেগো বুড়ো ফেলে। কও কেমনে রহিব, খেলাঘর কিসে চলে। চিরপরিচিত প্রণয় সহজে কি ভগ্ন হয়। থেকে থেকে মন ধায় চোরাসিঙ্গী পাটের চুলে॥ শর্ম্মার সাহস বড়, ভুতের নামে জড়োসড়ো, ঘরে আছেন গুণবতী গঙ্গাজলে গোবর গুলে। . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |