এই মহতী সভায় কবি কালীপ্রসন্ন সিংহ ১৮৫৯ খৃষ্টাব্দে রচিত, ভবভূতির প্রসিদ্ধ সংস্কৃত নাটক অবলম্বনে, কালীপ্রসন্ন সিংহের “মালতীমাধব” নাটকের গান।
॥ রাগিণী বেহাগ, তাল আড়াঠেকা॥
এই মহতী সভায়। গুণিগণ মনতোষা দেখি বড় দায়॥ নিজে আমি জ্ঞানহীন, বিষয়ে বিশেষ দীন, অবলা সভায়ে আর ভ্রম পায়ে পায়। রঙ্গভূমির সঙ্গত, সঙ্গীত করিব যত, শঙ্কিত হয়েছি পাছে ছলে ছলে যায়॥ গুণগ্রাহিণি সমাজে, কি ক রবে ভয় লাজে, অরসিক হলে পরে সভয়ে সমায়॥
কি আশ্বাসে বল সখী করি জীবন ধারণ কবি কালীপ্রসন্ন সিংহ ১৮৫৯ খৃষ্টাব্দে রচিত, ভবভূতির প্রসিদ্ধ সংস্কৃত নাটক অবলম্বনে, কালীপ্রসন্ন সিংহের “মালতীমাধব” নাটকের গান।
॥ রাগিণী বেহাগ, তাল আড়াঠেকা॥
কি আশ্বাসে বল সখী করি জীবন ধারণ। প্রাণনাথ তরে সদা ধৈরজ না ধরে মন॥ কেমনে পাইব তারে, পরেতে জানিবে পরে, হবে লাজ পরস্পরে, পর প্রেমের কারণ। পর প্রেম লভিবারে, ত্যজি প্রিয় পরিবারে, রব দুঃখের আকরে, হতেছে শঙ্কিত মন॥ কি বলিবে সখীজন, পিতা মাতা গুরুজন, হবে অনর্থ ঘটন, দহিবে চিরজীবন।
তাহে মজোনারে মন কবি কালীপ্রসন্ন সিংহ ১৮৫৯ খৃষ্টাব্দে রচিত, ভবভূতির প্রসিদ্ধ সংস্কৃত নাটক অবলম্বনে, কালীপ্রসন্ন সিংহের “মালতীমাধব” নাটকের গান।
॥ রাগিণী বারোয়াঁ, তাল আড়াঠেকা॥
তাহে মজোনারে মন। যাতে হবে পরে জ্বালাতন॥ দুর্ল্লভ বস্তুর তরে, মন কি যতন করে, পরে অনুরাগ করে, হবে পর কি আপন। পরের প্রণয় তরে, লাজভয় ত্যাগ করে, কুলে জ্বলাঞ্জলি করে, কর কুপথে গমন॥ পরপ্রেম বশ হয়ে, পরেরে আপন কয়ে, বিরহ যাতনা সয়ে, কর পরেরে যতন।
বাঁচিয়ে কি ফল, আশা না পুরিলো কবি কালীপ্রসন্ন সিংহ ১৮৫৯ খৃষ্টাব্দে রচিত, ভবভূতির প্রসিদ্ধ সংস্কৃত নাটক অবলম্বনে, কালীপ্রসন্ন সিংহের “মালতীমাধব” নাটকের গান। গানটি আমরা পেয়েছি মন্মথ নাথ ঘোষ রচিত “মহাত্মা কালীপ্রসন্ন সিংহ” গ্রন্থ থেকে।
॥ রাগিণী কানেড়া, তাল আড়াঠেকা॥
বাঁচিয়ে কি ফল, আশা না পুরিল। আমার কপালদোষে অমৃতে বিষ উঠিল॥ বড় সাধ ছিল মনে, সান্ত হবো কান্তসনে, পোড়া বিধি সঙ্গোপনে, সে সাধে বাদ সাধিল। আশাতরু আরোপিয়ে, যত্নে যত্নবারি দিয়ে, রাখিলাম প্রেমবনে করিয়ে যতন॥ কোথা ফলিবে সুফল, নিরাশাবায়ু প্রবল, একেবারে করি বল, মূলসহ উচ্ছেদিল।
জিবনে কি ফল আর বিফল হলো জিবনে কবি কালীপ্রসন্ন সিংহ ১৮৫৯ খৃষ্টাব্দে রচিত, ভবভূতির প্রসিদ্ধ সংস্কৃত নাটক অবলম্বনে, কালীপ্রসন্ন সিংহের “মালতীমাধব” নাটকের গান।
॥ রাগিণী ভৈরবী, তাল আড়াঠেকা॥
জিবনে কি ফল আর বিফল হলো জিবনে। প্রিয় সখীর বিরহে কে বল বাঁচিবে প্রাণে॥ হারাইয়ে প্রাণ সখী, অন্তরে সদত দুঃখী, মরিলে হইব সুখী, প্রবোধ মানে না মনে॥ মন তাহে দুর্নিবার, সদা করে হাহাকার, সখীর বিরহ ভার, সহিতে পারি কেমনে॥ করি ক্লেশ অতিশয়, শোকাশয় দেহ দয়, সব দেখি শূন্যময়, বারি বহে দুনয়নে॥