কবি সুমন্ত ভৌমিকের কবিতা
*
ঘরের মেয়ে উমা
কবি সুমন্ত ভৌমিক
কবিতাটি ‘কবিতীর্থ’ পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যা ২০১৯-এ প্রকাশিত হয়েছিল।
মিলনসাগরে প্রকাশ ১০.১২.২০২১।

একাদশীর সকাল। সদ্য জল থেকে পাড়ে তুলে রাখা সিংহবাহিনী। প্রগতিশীল  জলের
ধারায় দেবীর মুখের জৌলুস কিঞ্চিৎ ম্লান।  এলোমেলো চুল  লেগে আছে গালে, গলায়,
কপালে। মধ্যযুগীয় কাদায় কাপড়ের আভিজাত্য হয়েছে নষ্ট। মঞ্চের গ্ল্যামার হারিয়েছে
বটে,তবুও চেনা যায় বিগত দিনের আরাধ্যাকে। মনে হয় ঠিক এমনই মুখ তো রোজ দেখি
ট্রেনের কামরায় ধূপ হাতে ঘুরতে, কিংবা ফুটপাথে রুটির দোকানে রুটি সেঁকতে, কিংবা...

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আমার প্রেমিকার বাড়ি নন্দীগ্রামে
কবি সুমন্ত ভৌমিক
কবিতাটি ‘কবিতীর্থ’ পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যা ২০১৯-এ প্রকাশিত হয়েছিল।
মিলনসাগরে প্রকাশ ১০.১২.২০২১।

ট্রেনটা রওনা হল ঠিক সময়েই, বুকের মধ্যে নানা মুখের যাত্রীদের নিয়ে।
মাঝপথে কেউ নেমে গেল, কেউ-বা এলো উঠে।
যাকে নেবে বলে ট্রেনটা ব্যাকুল গতিতে ছোটে, দেরি হলে সে চলে যাবে না তো?
বিশ্বাস আর নিঃশ্বাস ঘন হয়ে আসে... সূর্যঘড়িতে নেমে আসে চন্দ্রঘড়ির ছায়া।
যে ভাঙা স্টেশনে সে আসবে, বিষাক্ত বসন্তের বাতাসে সেখানের গাছেরা আজ শব।
শুকনো গাছের গায়ে কে যেন লেপে দিয়েছে টাটকা গাঢ় লাল সিঁদুর।
নতুন যাত্রীরা পুরনো হয়ে নেমে যায় একে-একে। ট্রেনটা অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে।
বিশ্বাস আর নিঃশ্বাস ক্রমে ক্লান্ত হয়ে ওঠে।
কাজলহীন হেডলাইটের আলোয় দেখা যায় ভাঙা স্টেশনের সিঁদুর লাগা গাছে এখনও লেগে
আছে দু-ফোঁটা শিশির বিন্দু।
দূরের বাতাস বয়ে নিয়ে আসে টাটকা চিতার গন্ধ।

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দ্বিরাগমন
কবি সুমন্ত ভৌমিক
কবিতাটি ‘আবাহন’ পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যা ২০১৯-এ প্রকাশিত হয়েছিল।
মিলনসাগরে প্রকাশ ১০.১২.২০২১।

আলপথ ধরে আমাদের হাঁটা শুরু হল
হাঁটছি কাটাধান,সরষে,শুঁটি,স্মৃতি মাড়িয়ে
তোমার বাঁ-হাতের মুঠোয় ধরা কাজললতা
আমার ডানহাতে জাঁতি। দক্ষিণমুখী কুমারী হাওয়া
গুমরে গুমরে কাঁদে কি?
আমাদের আলপথ এগিয়ে যাচ্ছে; অতীত মাড়িয়ে ভবিষ্যতের দিকে
শঙ্খচিল শুধু আশীর্বাদ করে, ভালো হোক তোদের।
পশ্চিম আকাশের গলন্ত আগুন পথ দেখায়
নতুন সিঁদুর কিছুটা ঝরে পড়েছে, কপাল থেকে নাকে,আলপথে...
যে আলপথ রাস্তা হয়ে নিয়ে যাচ্ছে অনন্তেপথের দিকে
আমাকে...তোমাকে...আমাদেরকে।

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পৌরুষ
কবি সুমন্ত ভৌমিক
কবিতাটি ‘হালুম’ পত্রিকার জানুয়ারি সংখ্যা, ২০২০-তে প্রকাশিত হয়েছিল।
মিলনসাগরে প্রকাশ ১০.১২.২০২১।

ঠান্ডা ছাই জমে জমে উঠে আসছে একটা শরীর
যেভাবে সদ্য ভেজা মাটি থেকে উঠে আসে জাতিস্মর ঘ্রাণ

রাতের শহরে প্রেম নিভে আসে হঠাৎ, জ্বলে উঠতে চায় শেষ প্রতিজ্ঞা
গঙ্গার ভাঙা ঘাটে জল এসে টাটকা শরীরে... গোড়ালি,হাঁটু,বুকে...
মাংসে মাংস বৃদ্ধি, প্রবঞ্চনা বৃদ্ধি বিশ্বাসে
ছাইয়ের শরীর ঘুরে বেড়ায় অষ্টমঙ্গলার রাতে
কালো মেয়ের সহজে বিয়ে হতে চায় না, কিন্তু ধর্ষন হয় এমনিই।
হাঁটু জল বুকে হাত দিয়ে বুঝে নিতে চায় ৩২ না ৩৪
তলপেট চিরে প্রেমিক আঁকতে চায় পুরুষত্বের রং
লিঙ্গ দাঁড়ায় একপলকেই। তবু
হাজার চেষ্টাতেও মেরুদণ্ড দাঁড়ায় না।

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
একটি চাঁদ ও কিছু ক্ষতচিহ্ন
কবি সুমন্ত ভৌমিক
কবিতাটি ‘স্বপ্নতরী’ পত্রিকার
শারদীয়া সংখ্যা, ২০২- প্রকাশিত হয়েছিল।
মিলনসাগরে প্রকাশ ১০.১২.২০২১।

তেলচিটে পড়া গলা থেকে নেমে এসেছে
এঁটো বোতলের মা
লা... যেন নরমুণ্ড।

দু-হাতে কোমর জড়িয়ে আছে, গর্ভপাতের
                 একটুকরো কাফন

অন্তর্বাস আজ রূপান্তরকামী বহির্বাসে মগ্ন
ছেঁড়া পা আর গোলমেলে মাথা টলমল করে কেবল
       শীৎকার মিশে যায় ক্ষুৎকাতরে

পচালাশ আর জীবন্ত পাগলী রোজ বয়ে যায়
                 চোখের সামনে দিয়ে

তাও দু-হাতে নিংড়ে খেতে চাওয়া ‘ভদ্রসমাজ’
কিছুতেই বিশ্বাস করে না যে

আজকের পাগলীটাও একদিন পারতো...
কারুর মা হতে।

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর