আমার প্রেমিকার বাড়ি নন্দীগ্রামে কবি সুমন্ত ভৌমিক কবিতাটি ‘কবিতীর্থ’ পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যা ২০১৯-এ প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১০.১২.২০২১।
ট্রেনটা রওনা হল ঠিক সময়েই, বুকের মধ্যে নানা মুখের যাত্রীদের নিয়ে। মাঝপথে কেউ নেমে গেল, কেউ-বা এলো উঠে। যাকে নেবে বলে ট্রেনটা ব্যাকুল গতিতে ছোটে, দেরি হলে সে চলে যাবে না তো? বিশ্বাস আর নিঃশ্বাস ঘন হয়ে আসে... সূর্যঘড়িতে নেমে আসে চন্দ্রঘড়ির ছায়া। যে ভাঙা স্টেশনে সে আসবে, বিষাক্ত বসন্তের বাতাসে সেখানের গাছেরা আজ শব। শুকনো গাছের গায়ে কে যেন লেপে দিয়েছে টাটকা গাঢ় লাল সিঁদুর। নতুন যাত্রীরা পুরনো হয়ে নেমে যায় একে-একে। ট্রেনটা অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। বিশ্বাস আর নিঃশ্বাস ক্রমে ক্লান্ত হয়ে ওঠে। কাজলহীন হেডলাইটের আলোয় দেখা যায় ভাঙা স্টেশনের সিঁদুর লাগা গাছে এখনও লেগে আছে দু-ফোঁটা শিশির বিন্দু। দূরের বাতাস বয়ে নিয়ে আসে টাটকা চিতার গন্ধ।
দ্বিরাগমন কবি সুমন্ত ভৌমিক কবিতাটি ‘আবাহন’ পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যা ২০১৯-এ প্রকাশিত হয়েছিল। মিলনসাগরে প্রকাশ ১০.১২.২০২১।
আলপথ ধরে আমাদের হাঁটা শুরু হল হাঁটছি কাটাধান,সরষে,শুঁটি,স্মৃতি মাড়িয়ে তোমার বাঁ-হাতের মুঠোয় ধরা কাজললতা আমার ডানহাতে জাঁতি। দক্ষিণমুখী কুমারী হাওয়া গুমরে গুমরে কাঁদে কি? আমাদের আলপথ এগিয়ে যাচ্ছে; অতীত মাড়িয়ে ভবিষ্যতের দিকে শঙ্খচিল শুধু আশীর্বাদ করে, ভালো হোক তোদের। পশ্চিম আকাশের গলন্ত আগুন পথ দেখায় নতুন সিঁদুর কিছুটা ঝরে পড়েছে, কপাল থেকে নাকে,আলপথে... যে আলপথ রাস্তা হয়ে নিয়ে যাচ্ছে অনন্তেপথের দিকে আমাকে...তোমাকে...আমাদেরকে।