কবি সুনীতি দেবনাথের কবিতা
*
অব্যাখ্যাত যন্ত্রণা
কবি সুনীতি দেবনাথ

জীবন মানে প্রতি পলে মৃত্যুর সমষ্টি
কান্নার পথ বেয়ে শেষে অন্ত স্টেশন পৌঁছা

তবু এরই মাঝে আলো ঝর্না হয়ে ওঠে ...
অজানা বন্দরে বাতিঘরে কখনো সমুদ্রে
নাবিক দেখে দিগ্ নির্দেশনা আলো ...
উদ্ভ্রান্ত সময়ের অন্তে সমুদ্রসৈকতে
আরেক জন্মের নির্মাণ হয়
শাশ্বত  আলোর মশাল স্বপ্ন দেখায়
স্মৃতি হয়ে ওঠে কণা কণা বিষাদ

শেষ রাতে ভয়ঙ্কর স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে গেলে
অব্যাখ্যাত যম্ত্রণায় বিদ্ধ হতে হয় শুধু

.         ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নক্ষত্রের পতন
কবি সুনীতি দেবনাথ

কাল শেষ রাতে আকাশ মাতিয়ে
একটি নক্ষত্রের পতন হলো
চমকে উঠেছিল পৃথিবী সসাগরা
মানুষের সব ঘরবাড়ি প্রকৃতির ঘর
এভাবেই নক্ষত্রের পতন হয়
গোলাপ বাগানে ঝরে যায় গোলাপ

গগনে গগনে নক্ষত্রের ব্যাকুল কান্না
অকাল বর্ষণে ভাসালো আকাশ আঙিনা
ভেসে গেলো আমাদের ঘরবাড়ি
মাঠের ফসল নদী হলো খরস্রোতা
সমুদ্র ফোঁসে উঠলো গভীর বেদনায়
এভাবেই নক্ষত্রের পতন হয় জেনে গেছি

অন্তরে আমার শুধু ভাঙ্গনের শোরগোল
আমি মৃত্তিকার মত কোমল হতে চাই
আমি মৃত্তিকার মত সহিষ্ণু হতে চাই
আমার নক্ষত্র সব যখন একে একে
গ্যালাক্সির পথে চূর্ণ চূর্ণ হয়ে পড়ে
মহাকাশ মহাবিশ্ব বিপন্নতায় ডুব দেয়

আমি চাই বসরাই গোলাপের মদির সুগন্ধ
শান্তির বাতাবরণ গড়ে তুলুক বিশ্ব চরাচরে

.         ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
না-হওয়া কথারা
কবি সুনীতি দেবনাথ

না-হওয়া কথারা জেগে থাকে ঘুমগন্ধি রাতে
এই অশীতিপর অন্ধকারও ঝরা বকুল-সূর্য ওঠার আগে
রোদের বাগানে হেসে ওঠে ভ্রমররহিত ভোরফুল
আকাশের আর্কাইভ থেকে এইদৃশ্য চিরপ্রচারিত
না-হওয়া কথারা জেগে থাকে তবুও
নিকষিত নিকোটিনের আলোয় -ভাঙা অর্গান
বাজিয়ে বাজিয়ে কাটিয়ে দেয় নিরন্ন-দুপুর
স্মৃতিপুরে কাঠঠোকরার মত ঠুকরে ঠুকরে খায়
কৃশকায় আত্মার ফসিল
না-হওয়া কথারা জেগে থাকে বুকের ব্যাসে
সন্ধ্যার আঁধার নিয়ে
আত্মার ফসিল, ভাঙ্গা অর্গান,
না হওয়া কথা জলছাপ হয়ে জেগে
দুরন্ত কবিতা সাজাতে চায় শাশ্বত ছন্দে

.         ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রজন্ম
কবি সুনীতি দেবনাথ

ইউক্যালিপটাসের সরু দীঘল পাতা পিছলে
সকালের চৈতী রোদ্দুর ছলকে ঝাঁপিয়ে পড়লো
টংঘরের দুয়ারে চিত্রার্পিত ধনবতী রিয়াংএর পেটে।
চার চারটে সুদীর্ঘ দিন রাত নৌকো বেয়ে পার হলো
ফেরেনি মরদ চাল নিয়ে উপরের লুসাই বস্তি থেকে,
পেটে জ্বলছে ধনবতীর জুমের আগুন ধিকিধিকি
সারাদিন সারারাত দমকে দমকে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে,
আরেক বিপন্ন নবীন অস্তিত্ব হাত পায়ের সঞ্চালনে
ঘোষণা করেই চলেছে বেরোতে চাই আলোকে,
মোচড়ে মোচড়ে কঁকিয়ে উঠছে নারী বিস্ফারিত চোখ।
তারপর সূর্য যখন প্রখর উত্তপ্ত মাথার উপর —
আদিম জননীর মত ধনবতী রক্তস্রোতে ভাসিয়ে
রক্তাক্ত আবহে একটি শিশু উপহার দিলো
আগামী পৃথিবীর প্রবাহিত জনতার স্রোতে,
কান্নার উতরোলে সে তার আবির্ভাব ঘোষণা করলো,
তার কান্নার চমকে তপ্ত চৈতালি সূর্য উঁকি দিল —
সামনের রক্তিম পলাশ উঁকি দিল., প্রসবের রক্তিম
স্রোতে নিস্পন্দ নিস্প্রাণ জননীর পাশে দেখা গেল
আগামীর রক্তাক্ত ইতিহাস জেহাদে ক্রন্দনে আকুল,
বিষাদে মুখ ফেরালো সূর্য ঝরলো পলাশ গুচ্ছ ।

.         ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঘূর্ণিপাক
কবি সুনীতি দেবনাথ

অস্তিত্ব জুড়ে মাতন তুলেছে ঘূর্ণিপাক
ঘুরছে জগৎ ঘুরছো তুমি ঘুরছি আমি।
আমরা কি বদলে যাবো?
বলো বদলে যাওয়া কি এতোই সহজ?
বিশ্বাস তো হয়না
বিশ্বাস তো হয় না!
তোমার সবুজ প্রাণের প্রতিটি বিন্দু কণা
সবুজ ক্লোরোফিল, আমার মৃত কোষে
ঝড়ের দুন্দুভি বাজিয়ে মত্ত বোশেখীর
কাল বোশেখীর অদ্ভুত নাচন জাগাতো
ভুলে যেতাম আছে দুঃখ আছে সুখ
মৃত্যুর মৃদুল হাতের অনিবার্য ছোঁয়া।
পুরোনো আস্তানা ছেড়ে অন্য বসতির
অন্য এক নতুন পথ হাতছানি দিতো।
সব কিছু মিথ্যাচার মনে তো হয় না,
তবু ঘূর্ণির ঘূর্ণন ওঠে অস্তিত্ব জুড়ে।

সুখের মিহিন আঁচল আমার ঘরদোরে
কোনদিনই আলতো আহ্লাদে উড়েনি
সে তুমিও জেনেছিলে বলিনি যদিও
দুঃখের আদিগন্ত পশরা আমার
তুমি নিতে চেয়েছিলে ঝেড়ে পুছে
কি করে উজাড় করে দিই বলো?
সুখ নেই দুঃখ নেই থাকে শুধু শূন্য
অনুভূতির দ্রোহহীন দাহহীন অন্তহীন
বিবর্ণ আকাশের বিস্তীর্ণ প্রসার
আমাকে এমন নিঃস্ব করে দেবে তুমি?
তুমি সব বিষ কণ্ঠে নিয়ে নীলকণ্ঠ পাখি
তাও কি হতে পারে, হয় কোনদিন?
জানি তুমি মুক্ত ছন্দ আন্দোলিত ঝড়
পুরোনোকে ভেঙ্গেচুরে গড়ে নিতে চাও
নতুন আরেক পৃথিবী, নষ্টদের নত করে
আরেক আকাশে মেলে দেবে সৃষ্টির
উদ্দাম ডানা, সবল উড়ালে মেঘেদের
ঘরবাড়ি পেরিয়ে সন্ধ্যা এলে যাবে
নক্ষত্রের আলোর নিশানায়
সারারাত আলোর ভাষায় কথা বলে
পুবের ভোরালি রোদ গায়ে মেখে
মুঠোভরা রোদ নিয়ে আমার জানালায়
হাসির ফোয়ারা ঝরিয়ে কুশল শুধোবে।

আজ এই দ্রোহকালে, আজ এই প্রমত্ত
ঝড়ের আদিগন্ত আক্রোশের ঘূর্ণির
উদ্ভ্রান্ত সময়ে, আলোর পাখি তুমি
গান থামিয়ো না, মন্দ্র ভৈরবের তান
প্রবল বন্যার মত ছড়িয়ে দাও মাটিতে
আকাশে বাতাসে ঊর্ধ্বে মহাকাশে।
আমি মৃত্তিকার কন্যা আলো আলো
চোখ মেলে সব ভুলে তোমাকে দেখে
সুখ দুঃখ যাপিত জীবনের গ্লানি ভুলে
সব ভুলে বিস্ময়ের হাসি হেসে যাবো ।

.         ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কালান্তরের কন্যারা
কবি সুনীতি দেবনাথ

সে তো বহুকাল আগে
বিরহী শাপগ্রস্ত যক্ষ প্রিয়তমাকে
মেঘদূতের হাতে পাঠায় প্রেমপত্র,
পৌঁছেনি পত্র তবু চিরন্তন হয়ে
আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে
বিরহী অন্তরে মাতন তুলেই যায়।
যক্ষ আর যক্ষপ্রিয়া শাশ্বতের ঘরে
চিরায়ত বিরহী যুগল স্থানু হয়ে আছে।
সুনীলবাবু তোমার নীরার কথা বলছি –
বহুদিন বাঙালি যুবক নীরাকে দিয়েছে  প্রেমাঞ্জলি
আর বাংলার যুবতীরা মনে মনে নিজেকে নীরা ভেবে
চমকে এদিক ওদিক তাকিয়ে হয়েছে লাজুক।
আজ তুমি অতীতের প্রান্তরে অতিকায় ক্যানভাসে
বর্ণিল প্রস্তরখন্ডে খোদাই করা আকাশ ছোঁয়া প্রতিমূর্তি!
বিস্ময়ে মাথা উঁচু করে দেখে সেই সময়ের তোমাকে
আজকের নিরীখে বহুমাত্রিক  অতিমানব মনে হয়।
তোমার যৌবনবতী গহীনা নীরা বহু পথ হেঁটে
আজো কোন রহস্য ছুঁয়ে রোমাঞ্চে উষ্ণতা ছড়ায়—
উঁচু পর্বত শিখরবাসিনী চর্যাপদের শবর বালিকা
চুলে গুঁজে ময়ূরপাখ গুঞ্জামালা গলায়
নিরবধি  কালের প্রাঙ্গণে
যেমন করে রহস্যে ঘোরপাঁক খায়।
নাটোরের বনলতা সেন এখনো
বেতের ফলের মত
শান্ত চোখে চেয়ে কাকে যেন বলে,
এতদিন কোথায় ছিলেন?
ফুল্লরার বারমাস্যা বেহুলার ভেলা লহনা খুল্লনা
গীতিকার মহুয়া মলুয়া আরো সব যুবতী কন্যা
আজো যেন সুখ দুঃখ হাসি কান্না প্রেম নিয়ে
বাংলার চিরন্তনী নারীরা সব
আম কাঁঠাল শেওড়ার ছায়ায়
ছায়া ছায়া মায়াবী বৃত্তে লঘু ছন্দে ধ্রুপদী ঝংকারে
হেলেদোলে হেসেখেলে প্রেমে অপ্রেমে ভাসে শুধু।
সেই সব মধুরা কন্যারা এপারে ওপারে সেপারে
কোনোপারে আজ আর নেই, পাবে না খোঁজে কোনদিন।
বেদরদী এই কালে সেসব কন্যাদের মত যাপনের রীতি নীতি নেই,
দ্রৌপদীর বস্ত্র আর কোন সংবেদী সখা বাড়ানোরও নেই —
দুঃশাসনেদের সংখ্যা গেছে বেড়ে পথে ঘাটে ঘরে।
আজকের কন্যারা রক্তাভ আকাশ তলে প্রতিবাদী মিছিলে হাটে,
স্লোগানে স্লোগানে আত্মার বিদ্রোহ ঘোষণা করে,
রক্ত তাদের আলপনা আঁকে প্রকাশ্যে রাজপথে।
ইট পাথর ভাঙ্গে, কলে কারখানায় স্বল্প মূল্যে খিদমত খাটে,
তবু সন্তানের অনন্ত ক্ষুধা, যাপনের নিষ্ঠুর  গ্লানি
সারাদিন সারারাত সারাটি সময় দংশন করে শুধু।
গ্রামে গঞ্জে আরো সব পুঁতিগন্ধময়
নিরক্ত জীবন কান্না ভুলে জেনে গেছে
এমনি হয়, এর নাম বেঁচে থাকা।
ভিন্ন চিত্রে বহুতলের খাঁচায় বন্দি সোনার ময়নারা
অদৃশ্য শেকলের জ্বালায় জ্বলে ছটফট করে,
স্ট্যাটাস বাঁচাতে নেহাত স্বদেশী দেহে বিদেশী পোশাক
হাই স্পিডে ড্রাইভ ঝাঁ চকচকে শপিং মল স্যুইমিং পোল
সুরা হাতে শাকী অন্তঃসারশূন্য
আমদানির ভিন্নতর জীবনালেখ্য!
আল্ট্রা কনট্রাস্টের বিকট পাঞ্চিং একুশের প্রগতি!
স্বপ্নের কন্যারা হারিয়ে যায় প্রেম কাঁদে নীরবে নিভৃতে।
দেখছি শুনছি ভাবছি —
ক্রোধ আমার চিৎকার করে আকাশ ফাটিয়ে বলতে চায় —
হেই, হচ্ছেটা কি? থামাও এসব,
উপর নিচের সব জঞ্জাল ঝেঁটিয়ে বিদেয় করো।
সমান তালে একসাথে মেলাও পা,
বাঁচার জন্য জোরসে চলো!

.         ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অবেলা কালবেলা
কবি সুনীতি দেবনাথ

আমার দেহকে ঘিরেছে লকলকে নীলাভ
আগুনের শিখা খোলা ময়দানে
ধীরে ধীরে আমি পঙ্গু হয়ে যাই
পায়ের নীলচে শিরাগুলো জট পাকিয়ে
পলায়নের শক্তি অপহৃত হয়
মেরুদণ্ড বেঁকেচুরে কিম্ভুতকিমাকার
আমার সমগ্র অস্তিত্ব বিশ্বাসঘাতক
এই আগুনে খেলায় কালবোশেখী ঝড়
মাতাল উদ্দাম হয়ে ওঠে
বহুকালের পৈত্রিক বসত ভিটে নড়বড়ে
দাপুটে ঝড়ে ভেঙ্গে পড়ে
ভিটেমাটি থরথর কেঁপে ওঠে
মৃত্যুর করাল উপস্থিতি
বহুদূরে পালিয়ে খলখল হাসে
উঠোন ফাটলে একটি দোলনচাঁপার ঝাড়
এলোমেলো কাঁপে
সাদা সাদা ফুলগুলো দুমড়ে মুচড়ে
বিকট গন্ধে হা হা অট্টহাসি হাসে
পেছনে গড়িয়ে পালাতে চাই
অতীতের পিতা মাতা দুবাহু মেলে
বড় ক্ষিধে এক দলা
পচাগলা ভাত নাহয় দে
অত্যন্ত স্নেহের সন্তান তুই এতো স্বার্থপর
সামনে তাকিয়ে স্তম্ভিত
হাড় জিরজিরে আমার সন্তানেরা
এলুমিনিয়ামের ভাঙ্গা থালা চাটছে কেবলই
কষ্ বেয়ে রক্তধারা মেঘনার স্রোতে মেশে
আকাশ পিঙ্গলবর্ণ তার মাঝে
বিকলাঙ্গ আমার স্বপ্ন সব হাহাকার করে
এই অবেলায় কালবেলায় বারুদগন্ধী
আণবিক বোমাটাই ভীষণ আক্রোশে ফাটুক

.         ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কনসেনট্রেশন ক্যাম্প
কবি সুনীতি দেবনাথ

অনেক কিছু বোধের অন্তরালে মায়াবী ছায়ার মত
ঝিম ধরে শুয়ে থাকে।
কিছু কিছু বলে ফেলতে ইচ্ছে করে শব্দ দিয়ে
কবিতার মত উচ্চারণ করে।
এই সেদিন অনুভবে যা এলো
ঠিক স্বচ্ছ স্পষ্ট স্ফটিক স্ফুলিঙ্গ হয়ে
তোমাদের দিকে তাকিয়ে
নিঃসঙ্গ উচ্চারণে বলে ফেলবো ভাবছিলাম,
বিশ্বাস করো সত্যিই ভাবছিলাম

দেশটা আমার এখনো অনেক দেশ থেকে ভালো,
বলার আগে মক্সো করছিলাম ঠিক কিভাবে বলবো।
তারপর
মনের ভেতরে চৌখুপি এক ঘরে কথা নিঃশব্দে সাজি
য়ে ফেললাম
পরিষ্কার এবার দেশের পেটের ভেতরকার
বিদেশের গোপন ব্যাংক নম্বর থেকে
সকল কালো টাকা ঘুষের টাকা ' মার ঝাড়ু মার
ঝাড়ু মেরে ঝেটিয়ে বিদেয় কর '...
বলার জন্য উসখুস করছি,  কিন্তু
রাত পোশাকে ডিমনিটাইজেশন
উল্লসিত প্লাবিত জনগণ
স্বচ্ছ ভারত খেলিবে মৃদু পবনে,
আমার বলার আগে এরপর কি হলো
খোলা বইয়ের পাতা
অনলাইনের বিজলী চমক বিনা বেতনে
মাসের পর মাস যা আগে দেখিনি
চলছে চলবে কবিতা নাচবে কত বলবো?
আশ্চর্য প্ল্যানিং কাশ্মীর পাকিস্তানের সঙ্গে
যুদ্ধ লেগেই গেলো, লাগলো না।
হিসেবটা রাখতে পারিনি মৃতদের মধ্যে
জঙ্গি বেশি না জওয়ান
জয় ভারত বলবোই ... আর কিছু  তো বলা হলো না,

আমার ভেতরে এক কনসেনট্রেশন ক্যাম্প,
বাইরে বিশাল আরেক।

.         ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কী লিখি?
কবি সুনীতি দেবনাথ

বহুকাল নিস্তরঙ্গ যাপন কবিতার নির্বাসিত বিবরে
বর্ষা শরৎ হেমন্ত শীতের সকাল বিকেল আকাশের অলিন্দে ভ্রমণ
পৃথিবীর মাটির সন্তান আরণ্যক উন্মাতাল
উথালপাথাল ঝড়
আকাশে নীল সমুদ্র কখনো কৃষ্ণ মেঘের স্তুপ  
আসমানী সফেদ তুলোর তরঙ্গ এন্টার্কটিকা
এবার গর্ভবতী হয়েছে সলাজ নারীর মতন প্রথম
ঘাসের সবুজ কচিমুখে আকাশ দেখছে
মরুভূমি আণবিক গবেষণার সূতিকাগার আরো কত
কিছু মেরু মরু সঙ্গমে যুযুধান মানুষ রঙ্গকেলি করে
ক্লান্ত আমি হে শরতের পুরুষ্টু নদীর ছবি এঁকে এঁকে
মৎস্যগন্ধা পূর্ণ গর্ভবতী নদীর বুকে ভাসে গয়নার নাও
নাইহর যাবে গাঁয়ের শ্যামলী বধূটি পাশে ঘোরাঘুরি করে
কাগজের নৌকোয় ভরা কুরচি ফুল টুপটাপ ডুবে যায়
বৌ হাসে মাঝি হাসে ওই পারে কাশবনে দোলা ওঠে
একটি কবিতা প্রসব হতে হতে ঢেউয়ের হুমকিতে কাঁদে
কি নিয়ে কবিতা হবে সবই তো লেখা হয়ে গেছে
ত্রিশূল পর্বতের তিনটি শৃঙ্গ নিয়েও
গাঁয়ের পোয়াতি বৌ নির্জন দুপুরে লাজে আধখানা
মুখ ঢেকে কলসী ভরে ঘরে ফেরে
মানুষের সংসার মানসিক জগতের ঘূর্ণির মাতন
যুগ যুগ কবিতার কার্ণিশে শব্দ দিয়ে চিত্রকলা এঁকেছে
সমুদ্রের কাছে গেলাম ঝিনুকের কঙ্কালে নতুন শব্দ
বানিয়ে নতুন কবিতা লিখতে
কঙ্কালের অন্দরে  মাংস ছিলো ছিলো সঙ্গমের বনিয়াদ
ওসব হারিয়ে গেছে সমুদ্রের ঢেউয়ে এখন কঙ্কালের
খোলস শুধু একান্ত ক্রীড়ায়
চিত্রিত কারুকার্যখচিত শঙ্খ শামুকের খোলশ কঙ্কালে
কামগন্ধ শুধু দেবশিশু আইলানের নিষ্পাপ দেহটি
ঢেউয়ের কোলেও প্রস্তর প্রতিমা
পৃথিবীকে বুকে নিয়ে এটলাসের মত হাজারো কবিতার
জন্মতো দিয়েই ফেলেছে
উঁচুতে থাকা দৈত্য দানো মাটির গা ঘেঁষাদের
ঘাড় মটকে রক্ত শুষে খেয়েছে খাচ্ছে
এসবও লেখা হয়ে গেছে কী বলবে কবিতা
আলো : শেষ নিশ্বাসের কিছু আগে
কবিতার উষ্ণতা  হয়ে ত্রিলোকে ছড়িয়ে যাও
কবিতা :পুরনো সব ঝেড়ে মুছে নতুন শব্দে
আঙ্গিকে বচনে আগামী প্রজন্মের
দরোজায় নতুনের পতাকা উড়াও

.         ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ফিরে আসা
কবি সুনীতি দেবনাথ

শেষ রাতে প্রতিটি নক্ষত্র থেকে
ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে আসে অনাদিকালের
মৃত মানু
ষেরা পৃথিবীর উপকূলে
নক্ষত্রে বসবাস কালে
নাক্ষত্রিক কিছু আলো  
চূর্ণ হয়ে ওদের আনুবীক্ষণীক দেহে
একদম রেণুর মত জমা হয়েছিলো
পৃথিবীতে অবতরণ কালে ওরা সব
মৃত জোনাকির মত মৃত কবিতার মত
বিষাদিত সূক্ষ্ম অবয়বে সমুদ্র কিনারে
পর্বতের সানুদেশে কিছুক্ষণ চলে
কিছু অশ্রুপাত করে
কেন করে তাওতো জানেনা
ভাবেনা
হয়তো বা নক্ষত্রের সংসারের চেয়ে
পৃথিবীর যাপিত জীবন মাটির ঘ্রাণ
বড় মধুর মনে হয়
নিদ্রাচ্ছন্ন শেষ রাত নিরিবিলি
ভ্রমণের নিশ্চিত অবসর
কত হিংসা দ্বেষ হানাহানি
আক্রোশ চলেছে এখানে
কত প্রাণ হয়েছে বিনাশ পাপেপুণ্যে
হিসেবের অন্তরালে
কত বিদ্রোহ বিপ্লব দ্রোহকাল
অতীতে বিলুপ্ত
তবু এ পৃথিবী প্রিয় বড় প্রিয়
তাই ফিরে ফিরে আসা ভালোবাসা

.         ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর