কাল শেষ রাতে আকাশ মাতিয়ে একটি নক্ষত্রের পতন হলো চমকে উঠেছিল পৃথিবী সসাগরা মানুষের সব ঘরবাড়ি প্রকৃতির ঘর এভাবেই নক্ষত্রের পতন হয় গোলাপ বাগানে ঝরে যায় গোলাপ
গগনে গগনে নক্ষত্রের ব্যাকুল কান্না অকাল বর্ষণে ভাসালো আকাশ আঙিনা ভেসে গেলো আমাদের ঘরবাড়ি মাঠের ফসল নদী হলো খরস্রোতা সমুদ্র ফোঁসে উঠলো গভীর বেদনায় এভাবেই নক্ষত্রের পতন হয় জেনে গেছি
অন্তরে আমার শুধু ভাঙ্গনের শোরগোল আমি মৃত্তিকার মত কোমল হতে চাই আমি মৃত্তিকার মত সহিষ্ণু হতে চাই আমার নক্ষত্র সব যখন একে একে গ্যালাক্সির পথে চূর্ণ চূর্ণ হয়ে পড়ে মহাকাশ মহাবিশ্ব বিপন্নতায় ডুব দেয়
আমি চাই বসরাই গোলাপের মদির সুগন্ধ শান্তির বাতাবরণ গড়ে তুলুক বিশ্ব চরাচরে
অস্তিত্ব জুড়ে মাতন তুলেছে ঘূর্ণিপাক ঘুরছে জগৎ ঘুরছো তুমি ঘুরছি আমি। আমরা কি বদলে যাবো? বলো বদলে যাওয়া কি এতোই সহজ? বিশ্বাস তো হয়না বিশ্বাস তো হয় না! তোমার সবুজ প্রাণের প্রতিটি বিন্দু কণা সবুজ ক্লোরোফিল, আমার মৃত কোষে ঝড়ের দুন্দুভি বাজিয়ে মত্ত বোশেখীর কাল বোশেখীর অদ্ভুত নাচন জাগাতো ভুলে যেতাম আছে দুঃখ আছে সুখ মৃত্যুর মৃদুল হাতের অনিবার্য ছোঁয়া। পুরোনো আস্তানা ছেড়ে অন্য বসতির অন্য এক নতুন পথ হাতছানি দিতো। সব কিছু মিথ্যাচার মনে তো হয় না, তবু ঘূর্ণির ঘূর্ণন ওঠে অস্তিত্ব জুড়ে।
সুখের মিহিন আঁচল আমার ঘরদোরে কোনদিনই আলতো আহ্লাদে উড়েনি সে তুমিও জেনেছিলে বলিনি যদিও দুঃখের আদিগন্ত পশরা আমার তুমি নিতে চেয়েছিলে ঝেড়ে পুছে কি করে উজাড় করে দিই বলো? সুখ নেই দুঃখ নেই থাকে শুধু শূন্য অনুভূতির দ্রোহহীন দাহহীন অন্তহীন বিবর্ণ আকাশের বিস্তীর্ণ প্রসার আমাকে এমন নিঃস্ব করে দেবে তুমি? তুমি সব বিষ কণ্ঠে নিয়ে নীলকণ্ঠ পাখি তাও কি হতে পারে, হয় কোনদিন? জানি তুমি মুক্ত ছন্দ আন্দোলিত ঝড় পুরোনোকে ভেঙ্গেচুরে গড়ে নিতে চাও নতুন আরেক পৃথিবী, নষ্টদের নত করে আরেক আকাশে মেলে দেবে সৃষ্টির উদ্দাম ডানা, সবল উড়ালে মেঘেদের ঘরবাড়ি পেরিয়ে সন্ধ্যা এলে যাবে নক্ষত্রের আলোর নিশানায় সারারাত আলোর ভাষায় কথা বলে পুবের ভোরালি রোদ গায়ে মেখে মুঠোভরা রোদ নিয়ে আমার জানালায় হাসির ফোয়ারা ঝরিয়ে কুশল শুধোবে।
আজ এই দ্রোহকালে, আজ এই প্রমত্ত ঝড়ের আদিগন্ত আক্রোশের ঘূর্ণির উদ্ভ্রান্ত সময়ে, আলোর পাখি তুমি গান থামিয়ো না, মন্দ্র ভৈরবের তান প্রবল বন্যার মত ছড়িয়ে দাও মাটিতে আকাশে বাতাসে ঊর্ধ্বে মহাকাশে। আমি মৃত্তিকার কন্যা আলো আলো চোখ মেলে সব ভুলে তোমাকে দেখে সুখ দুঃখ যাপিত জীবনের গ্লানি ভুলে সব ভুলে বিস্ময়ের হাসি হেসে যাবো ।
অনেক কিছু বোধের অন্তরালে মায়াবী ছায়ার মত ঝিম ধরে শুয়ে থাকে। কিছু কিছু বলে ফেলতে ইচ্ছে করে শব্দ দিয়ে কবিতার মত উচ্চারণ করে। এই সেদিন অনুভবে যা এলো ঠিক স্বচ্ছ স্পষ্ট স্ফটিক স্ফুলিঙ্গ হয়ে তোমাদের দিকে তাকিয়ে নিঃসঙ্গ উচ্চারণে বলে ফেলবো ভাবছিলাম, বিশ্বাস করো সত্যিই ভাবছিলাম
দেশটা আমার এখনো অনেক দেশ থেকে ভালো, বলার আগে মক্সো করছিলাম ঠিক কিভাবে বলবো। তারপর মনের ভেতরে চৌখুপি এক ঘরে কথা নিঃশব্দে সাজিয়ে ফেললাম পরিষ্কার এবার দেশের পেটের ভেতরকার বিদেশের গোপন ব্যাংক নম্বর থেকে সকল কালো টাকা ঘুষের টাকা ' মার ঝাড়ু মার ঝাড়ু মেরে ঝেটিয়ে বিদেয় কর '... বলার জন্য উসখুস করছি, কিন্তু রাত পোশাকে ডিমনিটাইজেশন উল্লসিত প্লাবিত জনগণ স্বচ্ছ ভারত খেলিবে মৃদু পবনে, আমার বলার আগে এরপর কি হলো খোলা বইয়ের পাতা অনলাইনের বিজলী চমক বিনা বেতনে মাসের পর মাস যা আগে দেখিনি চলছে চলবে কবিতা নাচবে কত বলবো? আশ্চর্য প্ল্যানিং কাশ্মীর পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ লেগেই গেলো, লাগলো না। হিসেবটা রাখতে পারিনি মৃতদের মধ্যে জঙ্গি বেশি না জওয়ান জয় ভারত বলবোই ... আর কিছু তো বলা হলো না,
আমার ভেতরে এক কনসেনট্রেশন ক্যাম্প, বাইরে বিশাল আরেক।
শেষ রাতে প্রতিটি নক্ষত্র থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে আসে অনাদিকালের মৃত মানুষেরা পৃথিবীর উপকূলে নক্ষত্রে বসবাস কালে নাক্ষত্রিক কিছু আলো চূর্ণ হয়ে ওদের আনুবীক্ষণীক দেহে একদম রেণুর মত জমা হয়েছিলো পৃথিবীতে অবতরণ কালে ওরা সব মৃত জোনাকির মত মৃত কবিতার মত বিষাদিত সূক্ষ্ম অবয়বে সমুদ্র কিনারে পর্বতের সানুদেশে কিছুক্ষণ চলে কিছু অশ্রুপাত করে কেন করে তাওতো জানেনা ভাবেনা হয়তো বা নক্ষত্রের সংসারের চেয়ে পৃথিবীর যাপিত জীবন মাটির ঘ্রাণ বড় মধুর মনে হয় নিদ্রাচ্ছন্ন শেষ রাত নিরিবিলি ভ্রমণের নিশ্চিত অবসর কত হিংসা দ্বেষ হানাহানি আক্রোশ চলেছে এখানে কত প্রাণ হয়েছে বিনাশ পাপেপুণ্যে হিসেবের অন্তরালে কত বিদ্রোহ বিপ্লব দ্রোহকাল অতীতে বিলুপ্ত তবু এ পৃথিবী প্রিয় বড় প্রিয় তাই ফিরে ফিরে আসা ভালোবাসা