*
*
*
কবি তুষার রায়ের কবিতা
*
মা কি ডাকছে
কবি তুষার রায়
কবিতাটি
কবি তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় টাইপ করে পাঠিয়েছেন।


লাল আলোর সিগন্যালটা ডাউন
.                   তারপরে আপ
আইঃ ....... ব্বাপ
ঘচাং করে ঘ্যাচ
তারপরে প্যাচ্ প্যাচ্ রক্তে হড়কে
চলে গেল বাহান্নটা কামরা।

আরে ইয়ার----
ফর্দা ফাঁই জীবনখানা অল ক্লিয়ার
মুচকি হাসলুম দেখে নিজের‌ই কাটা মুণ্ড
স্থির রেল লাইনে
.                 কেন না হাতির শুণ্ড কিংবা
টিকটিকির লেজ নয় যে লাফাবে।
ভারী বায়বীয় আরাম একখানা যাকে বলে
তিন তুড়িতে ফাঁকি দিয়ে পাওনা কাবলি
.        রক্তে যৌন ধিকি ধিকি
কোর্ট পেয়াদা কোন্ শাঃ ধরবে ধরুক দিকি
তবু মুখটা দেখে মনে হল ওর কি মনে পড়ে যাচ্ছে
মায়ের কথা ?
.                 রান্নাঘর কুটনো বাটনা
দিদির বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল পাটনায়,
.         মা কি ডাকছে ?

.         ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেখে নেবেন
কবি তুষার রায়
কবিতাটি
কবি তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় টাইপ করে পাঠিয়েছেন।


বন্ধুগণ, গনগনে আঁচের মধ্যে  
শুয়ে এই শিখার রুমাল নাড়া
.       নিভে গেলে ,ছাই ঘেঁটে দেখে নেবেন
.                                পাপ ছিল কিনা।

এখন আমার কোনো কষ্ট নেই
.                   অক্সিজেনের অভাবে
কেন না আমি জেনে গিয়েছি দেহ মানে
ক্ষুধা ও যৌনতা ছাড়া কিছু অনিবার্য পরম্পরা
দেহ কখনো প্রদীপ সলতে ঠাকুর-ঘর
তবু তোমরা বিশ্বাস করো নি
বারবার বুক চিরে দেখিয়েছি প্রেম
বারবার দেখাতে শিরা পেশী অ্যানাটমি মশায়
আমি গেঞ্জি খোলার মতো খুলেছি চামড়া
নিজের‌ই শরীর থেকে টেনে


তারপর হার মেনে, বিদায় বন্ধুগণ,
গনগনে আঁচের মধ্যে শুয়ে এই
.                  শিখার রুমাল নাড়ছি
নিভে গেলে ছাই ঘেঁটে দেখে নেবেন
.                               পাপ ছিল কিনা।

.         ****************       

কবিতাটির পাণ্ডুলিপির পাঠ এখানে গ্রহণ করা হয়েছে।---
কবি তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়

.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
পাঁচ তারিখে
কবি তুষার রায়
কবিতাটি
কবি তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় টাইপ করে পাঠিয়েছেন।

আমি অকস্মাৎ পাঁচ তারিখে মরে যাব ভেবে
.      এই পশ্চিমের বারান্দায় ঝুঁকে আছি দ্যাখো

দূর বনে খটাখট কুড়ুল চলছে,চিতার কাঠ
ফুল ফুটবে শেষ মালাটার জন্যে, আমি কী ভাবে শোবো
.             ভাবতে ভাবতে ডান পাশ বাঁ পাশ
.                       ওপর নিচ
ব্রিজ নদী  খুব চাপা ঘুঘু ডাকলে খোলা আকাশ,
মোষের র‌ঙ মেঘ, কবিতা ও আমার
.            মায়ের কথা
ভাবতে ভাবতে এখন পশ্চিমের বারান্দায়
.      অকস্মাৎ পাঁচ তারিখে মরে যাব ভেবে......।
আমি আসলে কাঁটা দিয়ে হারানো দিন সুর আর
.     সুখগুলোকে তুলতে তুলেছি মরণ,
পাঁচ তারিখে তাই অতএব কথা রইল সবান্ধবে
.        না না বালাই ষাট
একলা পশ্চিমের বারান্দায় ঝুঁকে থাকব দেখো।

.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
হনিমুনে বাঘ ডাকে
কবি তুষার রায়
পার্থ ঘোষ ও অনীশ ঘোষ সম্পাদিত ২০১২ সালে প্রকাশিত  “বড়োদের আবৃত্তির কবিতা
সমগ্র” কবিতা সংকলন  থেকে নেওয়া।

শাল পিয়ালের সঙ্গে জারুলে জটিল বন
.        জ্যোত্স্না ও কুটির গন্ধে ভরা টিলা
তোমার সিঁথির মতো বীথিপথে টানা ড্রাইভে এখানে এলাম
মণিকা তোমায় নিয়ে হনিমুনে, মণি তুমি-তুমি
একটু হেলাও গ্রীবা রেণু রেণু জমে-ওঠা ঘাম নেবো চুমি
টপ গিয়ারেতে দ্যাখো স্টিয়ারিং ছাড়ে আমি জড়িয়ে ধরেছি
এখন আবেশ নিয়ে বেল এয়ার যায় যদি খাদে চলে যাক
অতল আঁধারে যদি এই প্রেম পেট্রোলে যায় জ্বলে যাক
.        হঠাৎ ঝর্না দেখে তুমি নেবে গেলে

গলে গলে ঝরে পড়ছে চাঁদ, এসময় ডেকে উঠলো
.        বিবাগী সম্বর কোনো, আর ঠিক সে সময়ে
জেগে উঠলো দূরের পাহাড় থেকে বিরহী বাঘের ডাক গম্ভীর
কে খুঁজছে বাঘ না বাঘিনী, কাকে মণিকা, না আমি
কে কার যোগ্য ভাবি বাঘের মণিকা, নাকি আমি বাঘিনীর

বনের গভীরে চলো, মণি তুমি যাও বাঘের যোগ্য তুমি
আমারো ইচ্ছে হয় ছুটে যাই, গুহার গভীরে গিয়ে
.        বাঘিনীর রোমশ শরীর মেঘে শুই।

.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
দুঃখের অভাবে
কবি তুষার রায়
অনুপকুমার মহাপাত্র সম্পাদিত ২০০৩ সালে প্রকাশিত  “সহজ পাঠের কবিতা” কবিতা
সংকলন  থেকে নেওয়া |

একজিন আনন্দের কাছাকাছি গিয়ে
দুঃখের অভাবে ফিরে আসা
সেই ভালোবাসা, তুমি
.        নিয়েছো ফিরিয়ে
তুমি যা দিয়েছো ফিরিয়ে
তুমি যা দিয়েছো তার অভেমান এই
এই তার মূল্য ধরে---আমি নই জেনো
আমি শুধু ভালোবাসা দিয়ে
অপমান কিনে ফিরে আসি

ফিরে যাই কারণবিহীন দূর টিটলা গড়ের দিকে
ফিরে আসি কেয়াতলে রোড ধরে
মার্লিন পার্কের কাছে---যে কোনো নারীর মধ্যে তুমি
যে কোনো কুকুর তুমি ভালোবাসো
.        যে কোনো মানুষ

যে কোনো ফানুষ আমি ওড়াতে চাই
কেননা শূন্যমনে তারপর ফিরে আসা যায়।

.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুধুই তুষার ঝরছে
কবি তুষার রায়
উত্তম দাশ ও মৃত্যুঞ্জয় সেন সম্পাদিত ১৯৯১ সালে প্রকাশিত “আধুনিক প্রজন্মের কবিতা”
কবিতা সংকলন থেকে নেওয়া।

সকলেই নেমে যায় নীচে বিখ্যাত পাকজণ্ডী রেলপথ বেয়ে
শীতের মেঘলা দিনে ছেড়ে দার্জিলিং
কোলাহল শান্ত, শুধু গোম্ফার ডং ডিং ঘন্টাধ্বনি বাজে
আর তুহিন বাতাসে ভাসে তুষার ও হিম, সুরেখা
আমি ও নিখিল সুধু রহে গেছি মুনলাইট গ্রোভে
স্টোভে শুধু কেটলির সোঁ-সোঁ শব্দ নীলগিরি কফি
টেবিলে স্টিল লাইফ ওল্ড মঙ্ক রামের বোতল
ফায়ার প্লেসের কাঁপা কাঠের আগুনে কাঁপছে
.                                হাইলাইট বোতল ও গ্লাসে
সাপঘুম ইচ্ছে করে দীর্ঘ বেলা ধরে, চলো তবে
পরস্পর তিনজনে শুই---আমি ও নিখিল মধ্যে
স্যাণ্ডউইচ সুরেখা সান্যাল
এরকমই শর্ত ছিল আমাদের---আছে, বা থাকবে
ঘুমের ভেতরে হবে বৃষ্টিপাত, তুষার ঝরবে ফার
পাইনের বনের ওপরে---তুহিন শীতের রাত ক্রমান্বয়ে
.                                আরো হিম হবে, আর
আচম্বিতে ঘুম ভেঙে গেলে দেখি কেউ নেই নিখিল বা
.                                সুরেখা সান্যাল, শুধু জং
বাহাদুর কফির পেয়ালা হাতে, আর ডিং ডং
ঘন্টার শব্দ শুধু ভেসে আসছে তিব্বতী গোম্ফার,
ব্যস আর কেউ নয়, কুছু নয় শুধুই তুষার, শুধু
ধূ ধূ প্রান্তরে বনে কেবলই তুষার ঝরছে, শুধুই তুষার

.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আত্মহননের গান
কবি তুষার রায়
উত্তম দাশ ও মৃত্যুঞ্জয় সেন সম্পাদিত ১৯৯১ সালে প্রকাশিত “আধুনিক প্রজন্মের কবিতা”
কবিতা সংকলন থেকে নেওয়া।

একটুখানি ভালোবাসা তারপরেতে মরা
বিপুল স্বাস্থে চাঞ্চল্যে হঠাৎ ঝিরি
আপনি ঝরাকৃষ্ণচূড়া বীথি পথে হারাকিরি
রেল রাস্তায় ফ্লাই ওবারে অযূত হাজার
রনন ঝনন আত্মহনন সম্মেলন উদাত্ত গান

তা নাহলে অশ্লীল আর অশিক্ষিত
মারহাব্বা মহান মন্ত্রে একই পঙ্গে যে দীক্ষিত
হয়ে ভাবে হাম্বড়া হাম হ্যায় মারুতি
বেহতরিন বহোতাচ্ছা যেন এজ্ঞে ভবভূতি

বৃদ্ধি হবার জন্য আশী বছর বাস থাকবে
হর বছরে এঁচোড় হবে ফের কিলিয়ে নিজে পাকবে
ছিঃ ছিঃ লজ্জা---এতো শিশু সরল চোথে চেয়ে তখন
মনে ভাববে---এ লোকটা যে যাবে, একি ছিরি

তার চেয়ে চল সম্মিলিত আওয়াজ তুলে হারাকিরি।

.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হাসপাতালের কবিতা
কবি তুষার রায়
উত্তম দাশ ও মৃত্যুঞ্জয় সেন সম্পাদিত ১৯৯১ সালে প্রকাশিত “আধুনিক প্রজন্মের কবিতা”
কবিতা সংকলন থেকে নেওয়া।

১.
হাসপাতাল ভালো লাগে না।
ডেটল ওষুধ হাওয়াকে আসতে দেয় না।
সিস্টার ঘড়ির কাঁটা ঘুরিয়ে দিন,
বাইরে থেকে ঘুরে আসব---
খুব দূরে নয় নদীর কাছে---কাছাকাছি
চলাচলের রাস্চার পাশে
প্রতিদিন যেখানে মানুষেরা কাঁদে হাসে
সেতুর ওপর ছায়া---সান্ত্বনা
তার তলায় আমি কিছুক্ষণ বসব
সিস্টার আমায় নিয়ে যান
সেখানে দিনের শুরু।

৫.
সাদা বিছানায় আমার শরীর যেন
সমুদ্রের ঢেউয়ের মাথায় অমলকী
আমি ভেসে যাই।

একদিন ঠিকঠাক সেখানে ভাষা শিখে নেব
তবু ভয় আমাকে ঘিরে
নিয়মের যত ব্যকরণের।
আমি কি সেই দেশের ভাষা শিখতে পারব
সিস্টার তুমি জান যদি বলে দাও এই ভাষা।

৭.
মাঝে মাঝে উদাসীন খুব সারাদিন
মাঝে মাঝে অভিমানী রাগ হয়
.                        মৃত্যুর ওপর।
আসছি এখনি বলে চলে গেছে সে ঘুর পথে

বসে বসে বেলা যায় তার রেখে যাওয়া
.                        ছাতার তলায়

একদিন আসবে রাতে
যখন থাকবো গভীর ঘুমে।

১০.
এইবার গোড়া থেকে শুরু করব জীবন
এইবার জীবনকে পাটে-পাটে সাজাব

অনেক দিন তার দিকে ফিরে দেখিনি
তার বায়নাক্কার পাত্তা দেইনি
.                        তাচ্ছিল্য করেছি অনেক
চোখের জলের দাগ মুছিয়ে দিইনি
তাই তার এই প্রতিশোধ---
একা একা দিন গোনা

এইবার জীবনকে অতি সযত্নে সাজাব
ঘুম হাসপাতালের থেকে বেরিয়ে
আমাকে আরো একবার সুযোগ দাও হে নাথ।

.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর