| কবি অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধির কবিতা |
| প্রয়াণ কবি অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধি পণ্ডিত রাধিকানাথ গোস্বামী ও কেদারনাথ দত্ত ভক্তিবিনোদ সম্পাদিত, “শ্রীশ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া” পাক্ষিক পত্রিকার, ৪১৩ গৌরাব্দ (১৯০০ খৃষ্টাব্দ), ভাদ্র, ৮ম সংখ্যায়, ৩৬৯-পৃষ্ঠায় হারাধন দত্ত ভক্তিনিধির পরলোক গমনের সংবাদ পরিবেশিত হয়। সেই সাথে প্রকাশিত হয় এই কবিতাটিও। (১) কি! কি! কি! দারুণ বার্ত্তা শুনিনু হঠাৎ ; আকাশ ভাঙ্গিয়া শীরে পড়ে অকস্মাৎ{ শরীর অবশ হল, এ চিত চঞ্চল ভেল, য়থার্থই বিনা মেঘে য়েন বজ্রাঘাত{ (২) স্থাবর জঙ্গম আদি সুস্থির সবে ; নিঃশবদ অচঞ্চল সকলই এ ভবে। বহিল সে ঝঞ্ঝাবাত, নিদারুণ অকস্মাৎ, বিশাল ন্যগ্রোধে আহা! ভাঙ্গিল নিরবে। (৩) যে তরুর ঘন স্নিগ্ধ ছায়াতলে হায়! বসি শ্রান্ত পান্থগণ শীতলিত কায়। নাই সেই তরুবর, নাই ছায়া স্নিগ্ধকর, শ্রান্ত পান্থগণ আর দাঁড়াবে কোথায়? (৪) ভক্তশ্রেষ্ঠ হারাধন ভক্তিনিধি হায়! কি শুনিনু? পত্রী-মুখে, নাই এ ধরায়! শ্রীরাধা-অষ্টমী দিনে, ত্যজিলা বান্ধবগণে, কথা কইতে কইতে মরি! লইলা বিদায়! (৫) আর না শুনিব তাঁর মধুর বচন! সুধামাখা রসময় প্রীতি সম্বোধন। এত দয়া দীন জনে, আত্মীয়তা বন্ধুগণে, হেরিব না, শুনিব না, বুঝি বা কখন! (৬) ভক্তিপূর্ণ তাঁর কৃত সুসন্দর্ভগণ ; শ্রীপত্রিকা অঙ্কে আর না হবে শোভন! ভক্তগণ হর্ষভরে, আর না পড়িবে তারে, আর না শুনিবে সেই সিদ্ধান্ত বচন! (৭) যাও, যাও, ভক্তবর! গৌরাঙ্গ সদনে ; তোমায় লইয়া যিনি কৃপা আকর্ষণে। ভকতবত্সল গোরা, তুমি প্রেমে মাতোয়ারা, অবশ্য পেয়েছ স্থান শীতল চরণে। (৮) ছিড়িয়া আত্মীয়দের স্নেহের বন্ধন ; অনিত্য হইতে নিত্যে করেছ গমন। নাই তথা দুঃখ শোক, সদানন্দ সর্ব্বলোক, তথা গৌর-প্রেমার্ণবে সবে নিমগন। (৯) পূরুব পুরুষ তব দত্ত উদ্ধারণ ; অপর অপর যত গৌর-ভক্তগণ ; বাসুদেব রামানন্দ, গদাই জগদানন্দ, করিবে তোমাকে সবে কৃপা বরিষণ। (১০) যাও, যাও, নিত্যধামে ; যাও ভক্তবর! সুখে উপভোগ কর গৌরাঙ্গ সুন্দর। গৌরাঙ্গের শ্রীচরণ, একমাত্র সারধন, বুঝেছিলে ; পাইয়াছ ; ---হয়েছ কিঙ্কর। (১১) ধন্য সে. যে এইরূপ কাটায় জীবন ; নামে প্রেমে মত্ত,-সদা কৃষ্ণ সংকীর্ত্তন। বন্য সেই নরকুলে রাধাকৃষ্ণে যে না ভুলে ; ধন্য ধন্য ধন্য তুমি দেব হারাধন! . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |