ওরা সবাই দাঁড়িয়ে রইলো নিঃশ্চুপ মধুর সব দিনগুলোকে ঘুম পাড়িয়ে আমার যাত্রা শুরু হলো আবার ফিরে যেতে যেতে বার-বার মনে হচ্ছিল প্রশান্ত অদূরে একলা পাহাড়ের কাছে একবার যাই শিহরিত সবুজ পাতায় চুমু খেয়ে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসি I
ওরা সবাই দাঁড়িয়ে রইলো নিঃশ্চুপ আমার চূড়ান্ত প্রেমিকের সবুজ আঁচল আজ অনেকটা গুটিয়ে গেছে বুনোফুলের উপরে স্থির বসে প্রজাপতি বুনো জিনিয়ার পাপড়ি ছুঁয়ে দেখি সামনের নাক্কি ঝিলের এক পাশে অনেকটা একলা হয়ে যাচ্ছে টোড রক অর্বুদা দেবীর মন্দির থেকে ক্রমাগতঃ ভেসে আসছে ঘন্টা ধ্বনি সবাইকে ছেড়ে ফিরে যাচ্ছি আমি I গোধুলিতে অবনত সূর্যের সামনেই একলা হয়ে যাচ্ছে ওরা একলা হয়ে যাচ্ছি আমিও I
ফিরে যাচ্ছি স্মৃতির চাদর গায়ে নিয়ে ! ওদের সাথে আবার দেখা হবে কি না জানিনা , বৃদ্ধ সময়ের কাছে ওদের রেখে ফিরে যাচ্ছি I ফিরে যাচ্ছি উষ্ণ পৃথিবীর দিকে ! সবুজ পাতার কম্পন হয়ত আর তেমন দেখতে পাবনা মাথার উপরের উন্মুক্ত আকাশের নীচে ধোঁয়ার মাঝে লুকিয়ে পড়বে আমার প্রিয় তারাটি I
আবু রেলওয়ে স্টেশন ওয়েটিং হল ....রাজস্থান ....৩০/০৯/২০১৮
বাদামী কাঠের ক্রুশের কাছে দাঁড়িয়ে আছি I রাতের চাদরে নাগালের বাইরে অসংখ্য জোনাকি জোনাকি আর আমার মধ্যে আলোকবর্ষ দুরত্ব এরই মাঝে আমি তোমাকে খুঁজি খুঁজতে থাকি আর শুধু খুঁজতেই থাকি I আমার দৃঢ় বিশ্বাস আলোরা জেগে উঠলে আধবোজা চোখ খুলে দেখতে পাব নিশ্চিত শিল্পিত প্রতিমার মতন কিছু একটা I
আহ !!! সমুদ্রের নোনা বুকের উল্টোদিকে মানবিক দিনের অন্তিম সীমারেখায় এখনো দাঁড়িয়ে আছি I বাদামী কাঠের ক্রুশের কাছে এখনো দাঁড়িয়ে আছি তোমার বয়স্ক পদচিহ্নের কাছে I
হে ঈশ্বর তুমি তো জানই ! আমার শরীরে বিদ্ধ তীরের ফলার অসহ্য যন্ত্রণা সব যন্ত্রণা দূরীভূত করতে চিত্কার করে ডাকি মা নামের ঈশ্বর কে I
হে অদৃশ্য ঈশ্বর আমার ! তোমার রাজনৈতিক কুশলতার ভারে নুঁয়ে গেছি এবার শোকের ছায়া সরিয়ে দাও নক্ষত্রের গর্ভে জন্ম দাও ফুলের জীবন দাও মা নামের ঈশ্বরকে ছুঁতে চাই
বেনামী বন্দরে নোঙ্গর করেছে আমার ক্লান্ত ডিঙ্গি , রাত ঘনিয়ে এসেছে সবে আকাশের বুকে একলা রুপালি থালা ঘিরে অসংখ্য জোনাকি , যারা আগামী সকালে আলোর স্ফুলিঙ্গের সামনে লুকিয়ে পড়বে আমিও আর তাদের কাউকে দেখতে পাবনা I
এমন সময়ে আমার সাহিত্যের পাতা জুড়ে তুমি এলে ডিঙ্গির শরীরে আমার নির্জীব শরীর এলিয়ে দেখি তোমার চুলের সম্ভারে জেগে উঠছে উঁচু নীচু পৃথিবীর বেলেল্লাপনা তোমার চাপা কন্ঠস্বর জুড়ে মাতাল হাওয়া বয়ে চলেছে তোমার চিবুক জুড়ে অসংখ্য রক্ত গোলাপ তোমার উন্নত বক্ষে চাতকের ভীড় ইথারীয় তরঙ্গে শরতের প্রেমালাপে মগ্ন পৃথিবী I
তবে কি জানো হে মানবী ! এত কিছুর মাঝে আমি শুধু তোমার চোখ দেখি I খুব ভালো করে জানি , আমার নিপুন শব্দের ভেলায় চড়ে তোমার দৃষ্টি-গৃহের চোরাপথ বেয়ে ছড়িয়ে যাব তোমার ভিতর থেকে আরও ভিতরে I তোমার রক্ত স্রোতে , অস্থি মজ্জায় ছড়িয়ে দেব আমার নামের নেশা ওদিকে বাইরে তখন তোমার রক্তস্রাব জুড়ে ভন ভন করবে অজস্র সাধারণ কঙ্কালের সার সার ছায়া অতিষ্ঠ হয়ে তুমি আমাকে ছুঁতে চাইবে অথচ বুঝতেও পারবে না তোমার ভিতরে আমি কিভাবে বাসা বেঁধে ফেলেছি I
আহা !!! বিরল এই ভুবনে এখন তারাদের দখলে আকাশ সাংকেতিক চিহ্নের সামনে ছড়ানো আশ্বিনের রাত্রি কুয়াশার আদরে আর্দ্র বৃক্ষের দেহে কবিতার মত জেগে উঠছ তুমি I অথচ এমন রোমান্টিক মুহুর্তে আমার দিকে চেয়ে থাকা দেওয়ালের ভিতর টেবিলের বই-ঘরে ব্যস্ততা বেড়ে উঠছে যতসব উদ্ভট অক্ষরগুলোর সামনে আমিও ছাত্র হয়ে উঠেছি বিশ্বাস কর , সব প্রতিযোগিতার শেষে অনিবার্যভাবে ঘরে ফিরে যেতে চায় এই উদাসীন বাউল I
পাগলি চল যাই পালিয়ে ! রক্তিম জীবনের গালিচা পেরিয়ে স্বর্ণ প্রভাতের খোঁজে চল যাই পালিয়ে I তোর পায়ের ছাপ আঁকা উঠোনে এখন আর যমজ পায়রা আসেনা চৌকাঠবিহীন ঘরের দেওয়ালগুলো নিঃসঙ্গতার মাঝে রংহীন হয়ে পড়েছে এক কঠিন ভগ্নস্তুপের সামনে দাঁড়িয়ে দেখি এখন আর প্রজাপতি আসেনা অতিথি হয়ে খুব ভাবি , ভাবতে ভাবতে একেকটা দিনের কবর সাজাই I
পাগলি চল যাই পালিয়ে তুই তো জানিস ! কতটা রুক্ষতা ছেয়ে আছে ঠোঁটের বন্দরে কতটা পানসে দৃষ্টিজাল আমার চোখের কন্দরে চল না পাগলি চল যাই হারিয়ে তোর আঁচলের ছায়ায় এঁকে দেব প্রাচীন সকালের সব হারানো সুখের দিন তোর ঠোঁটের কাছে রেখে যাব লাল গোলাপ তোর চুলের বর্ণনায় কাটাব একটা জীবন I
পাগলি চল যাই পালিয়ে আমার ধমনীর রক্তস্রোতে তুই-ময় অনুভূতি জাগিয়ে রেখে হারিয়ে যেতে চাই তোর সাথে বাউল শহরের থেকে অনেক দুরে যেখানে তুই নামের দ্বীপে আমার লেখা কোনো কবিতা অমর হয়ে যাবে I
জঙ্গল থেকে বেরিয়ে কষ্ট হলো খুব নষ্ট জীবনের সব গানকে শুয়ে যেতে বলেছি ভীমালয় পাহাড়ের কোলে জাগিয়ে রাখতে চাইনা তোমার স্মৃতিমুখর কবিতার স্তবক I
বুঝলে হে মানবী ! কষ্ট হলো খুব ! তবু এই বার বার ফিরে আসা তবু অশনি সংকেতের তীব্র ডাকে এই পথ চলা I অদ্রিশ অথবা নীলময় বাঙ্ময় পুর্বস্মৃতি মনে রেখোনা হে মানবী তুমিই বল , বরফে আর কতটুকু আগুন জ্বলে ! জঙ্গলে আর কতটা বাঁচার হ্রদের বিস্তার ! সস্তা বুনো ফুলের সম্ভারে সকাল কতটুকুই বা সাজে ? তাই বার বার বলে যাই সেইসব রুক্ষ কৃষ্ণপথে নিষাদের ক্রুর প্রহার সয়ে বাঁচিয়ে রাখো তীব্র ঘৃনা অথবা আঘাতের রেশ I
কষ্ট হলো খুব এই ভেবে যে , তুমি এখনো জেগে আছ , জাগিয়ে রেখেছ প্রথম বেঞ্চের স্মৃতি , জাগিয়ে রেখেছ জাতিস্মরের বুকে অসুস্থতার বিগত কবিতাদের I ভুলে যেও হে মানবী তোমার একাকী সময়ের ভিনদেশী তারা-কথা I সব নীলকথা মনে রাখতে নেই আর মনে রেখোনা হে মানবী নীল আকাশের কথা কোনো মঞ্চেই আসবনা কোনদিন , বুঝলে হে মানবী ! কবিতাও হয়ত তেমন লিখতে পারবনা যেমন লিখতে পারলে আমি মেঘ হয়ে উঠতে পারি আর তুমি হয়ে উঠতে পার পাখি I
হে মানবী , খুব কষ্ট হলো বুঝে ও না বুঝে যতটুকু সাজিয়ে রেখেছ তীব্র চাহিদার উড়ান-খটলা সেই সবকিছুর বিসর্জন হোক বিসর্জিত হোক সময়ের চাপা কান্নার শব্দ বিসর্জিত হোক সময়ের ভারে বয়ে চলা নদীর তীরের সব কাব্যকথা বিসর্জিত হোক আমার নামের কতিপয় সকাল আর নেমে আসুক তীব্র শোকের ঘনিষ্ট মুহূর্ত I
কখনো বলিনি , আমার পাশে পাশে হাঁট আমি শুধু বলেছি অন্ততঃ আমাকে তোমার পাশে রেখো যাতে জীবনের কাছাকাছি আলোর দিকে আরও একটু এগোতে পারি I
কখনো বলিনি , কার্পন্যহীন ভালোবেসে কাঙ্গাল হও আমি শুধু চেয়েছি একটু ভালোবেসে ভালোবাসো আমায় যাতে ভালোবাসাময় পৃথিবীতে ভালবাসার কারণ খুঁজে পাই I
কখনো বলিনি , তোমার তুমিকে বিসর্জন করে আমার মত করে নিজেকে তৈরী কর এইসব কখনই বলিনি আমি শুধু চেয়েছি আমার জন্য একটু অপেক্ষা কোর যাতে তোমার কাছে আসার কারণ খুঁজে পাই তোমার মত করে আমি অন্য আমি হয়ে উঠতে পারি I
সুজাতা কোনো মেয়ের নাম নয় সুজাতা তেমন কেউ নয় যার জন্য স্কুল কলেজে ছুটি হতে পারে যার জন্য দোকান পাট বন্ধ করে খুশি মানানো যেতে পারে যার নামে কোনো রাস্তা তৈরী হতে পারে I না , তেমন কেউ নয় সুজাতা আমাদের সুজাতা নির্ভিক সৈনিক যে লড়াই করে বাঁচে যার রথের চাকায় নিশ্চিহ্ন হয়েছে প্রতিবন্ধকের ছদ্মবেশে জীবনের দুঃসময় I
সুজাতা কোনো মেয়ের নাম নয় সুজাতা তেমন কেউই নয় যার জন্য পার্লামেন্টে সবাই উঠে দাঁড়াবে যার জন্য গোলাপ নিয়ে কেউ অপেক্ষা করবে ! সুজাতা তেমন কেউই নয় , সুজাতা ঠিক নিজের মতন যার আঙ্গুল বেয়ে নেমে আসে প্রতিদিনের সকালে সূর্য ওঠার ছবি যার জ্বলন্ত গিটারের তারে লেগে থাকে বেঁচে থাকার গান I
সুজাতা কোনো মেয়ের নাম নয় ব্যাধিগ্রস্ত সমাজের বুকে সব বাধা কে নিহত করে এগিয়ে চলার আরেক নাম সুজাতা I
ওভাবে চলে যেওনা হে পথিক মুক্তির প্রচ্ছদপটে দেখে যাও পৃথিবীর গুদামঘরে থরে থরে সাজানো রক্তে রাঙানো আসাদের শার্ট I মৃত্যু উপত্যকায় শুন্য মাতৃক্রোড় দেখে জেনে নাও , যে দেশে বিপ্লবীরা জন্মায় বারে বারে সেখানে একুশে ফেব্রুয়ারী স্বাভিমানতার দিন I
হে পথিক , চলে যেওনা এভাবে কি এক অসহ্য আবেগে ঝলসে উঠেছিল বরকত লিয়াকত আরসাদেরা I ভাষার তাগিদে জ্বলে উঠেছিল বাংলার গ্রাম গঞ্জ শহর I সবুজের মাঝে রক্তের জয়টিকা দেখে জেনে নাও , যে দেশে খিদে জেগে থাকে আজন্ম কাল সেখানে একুশে ফেব্রুয়ারী ভাষার জন্মদিন I
হে পথিক , চলে যাবার আগে ফিরে দ্যাখো এই ঝুলন্ত গ্রহে ভাষার প্রেমে কত ফুল অকালে গ্যাছে মুর্ছে I
ভ্যালেন্টাইন হতে চেয়ে ফুল দিয়েছিলে বলেছিলে এই জন্ম অমর হোক সুবর্ণ শহরের বুকে ফুটে উঠুক অসংখ্য গোলাপ I
এসবের কোনটাই হয়নি চন্দ্রা বস্তুতঃ চেয়েও হতে পারিনি তেমন I তৃষ্ণার্ত সময়ের কাছে ভ্যালেন্টাইন হতে চেয়ে বার বার ফিরে গেছি খিদের পাহাড়ের নীচে তোমার আঁখিপল্লবের ছায়ায় মৃত্যুর মত শীতল প্রেমের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে বার বার দূরে চলে এসেছি I
ক্ষমা কোর চন্দ্রা ! গভীর বৃত্তের মাঝে ঘুমিয়ে পড়ছি ধীরে ধীরে অসংখ্য প্রজাপতির নরম ছোঁয়া অনুভব করতে করতে নৈঃশব্দের মাঝে জমানো হলুদ আলার কাছে পৌঁছে অসংখ্য চুম্বনের সাথে আলিঙ্গন করে ফেলছি আমার ভ্যালেন্টাইনকে তোমরা যাকে দেশ বলে ডাকো .............