কবি অন্য আমির কবিতা
*
পৃথিবীর ডাস্টবিন থেকে বলছি
কবি অন্য আমি ...

পৃথিবীর ডাস্টবিন থেকে বলছি ,
উড়তে উড়তে অনেক দুরে চলে গেছ শিবাঙ্গি
যেখান থেকে আমার পৃথিবী অনেক ছোট তোমার কাছে
তবে একটা কথা শুধোতে চাই
হৃদয়ের কি কোনো সীমানা নেই ?
এভাবে বাধ্য পশু হয়ে ছুঁতে পেরেছ শিখর ?
আঁচলের সব রং নিঃশেষ হলে অবশেষ কি থাকবে ?

জানি তোমার নীরবতা হবে এর শ্রেষ্ঠ উত্তর I

অনেক দুরে চলে গেছ শিবাঙ্গি
যতটা দুরে গেলে পৃথিবী আর আকাশের মাঝে
আলোকবর্ষ দুরত্ব গড়ে ওঠে অজান্তেই I
বিশ্বাসের অপমৃত্যু ঘটে আড়ালে I


জশপুর ...ছত্তিসগড় ...১৫/০২/২০১৮

.         ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আড়াই তলার ঘর
কবি অন্য আমি ...

তোমার আড়াই তলার ঘরের জানালা আজ বন্ধ I
ঘরের দেওয়ালের গায়ে মাকড়সার জাল
কিচেনের সিঙ্কের নলের মুখ থেকে
পড়তে থাকা জলের টুপটাপ শব্দ
ঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে দিচ্ছে মাঝে মাঝে I
সদর দরজার সামনে অভুক্ত স্ট্রে ডগের কান্না
গলির ভিতরে প্রতিধ্বনিত হয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে শুন্যে I

এক কাঙ্খিত ভ্রমনের উদ্যেশ্যে পাড়ি দিতে
শ্রমের পৃথিবীতে মায়ার খোলস ছেড়ে
আলগা আলিঙ্গন সেরে
ছোট বাবু রওনা দিয়েছে মহা গোলার্ধের দিকে I
তোমার নিস্ফল প্রার্থনা সরিয়ে রাখো
ওর বন্ধ চোখের ভিতরে এখন অন্য পৃথিবী I

পৃথিবীর মধুবনের শেষ সীমানায় পৌঁছে
তোমার নিথর চোখের চাহুনি দেখে
শেষবার বলেছিল ....ভালোবাসি I

অতিথিদের দেওয়া ফুলের মালার সুগন্ধ নিঃশেষ হয়ে
এবার বিবর্ণ হতে শুরু করেছে I
ধীরে ধীরে জানালা খোলো হে কবি
তোমার কলমের নীরবতা ভঙ্গ করে
সাদা কাগজে এঁকে দাও ছোটবাবুর আত্মা
অস্ফুট স্বরে শেষ বার বলে যাওয়া
ভালবাসার শব্দদের বাঁচিয়ে তোলো
তোমার আড়াই তলার ঘরে I


জশপুর ...ছত্তিসগড় ...১৮/০২/২০১৮

.         ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
উপলব্ধির ডাইরি থেকে
কবি অন্য আমি ...

জ্যামিতিক জীবনে সবাই সামিল হয়ে
এ এক ঘুমন্ত শহরের বুকে হেঁটে চলেছি I
মুখোশের আড়ালে দেখি মিথ্যে প্রতিশ্রুতি
দেখি , খিদের আগুনে পুড়ে নিঃশেষ বাঁচার আর্তি  
এরপরেও নির্মল পৃথিবী গড়ার উবাচ ভাষণ !
আশ্চর্য ! এ কোন সভ্যতা গড়েছি অকারণ ?

জেনে রেখো সময়ের চাকা ঘুরছে
নিঃশব্দে পরিবর্তনের ঝড় উঠছে
হিসেবের খাতা খুলে বসে আছেন ভগবান
ব্যর্থ যাবেনা দুর্বলদের এই নিত্য বলিদান I

জশপুর ...ছত্তিসগড় ...১৯/০২/২০১৮

.         ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভুলে যেও
কবি অন্য আমি ...

হে বন্ধু দয়া করে ভুলে যাও আমায় I
তোমাদের আলো আর শব্দের দুনিয়া থেকে
দয়া করে আমাকে মুক্ত কর I
আমি চাই শেষবারের মত ভুল কর
ভুল করে ভুলে যাও আমায়
ভুলে যাও পাথরে অশ্বক্ষুরের চিহ্ন
ভুলে যাও অরণ্যের মাঝে কবিতার কুঁড়ে ঘর
যেখানে একসময় প্রজাপতি খেলা করত
এইসব তোমরা ভুলে যেও I

ভুলে যেও হে বন্ধু
বয়স্ক দেওয়ালের গায়ে লেগে থাকা খিদের আর্তি
অনুর্বর জমিতে গড়ে ওঠা শিল্প নগরীতে
কিভাবে হাটের মাঝে মানুষেরা দেখেছিল
আগামী দিনে আলোময় শহরের স্বপ্ন
যে স্বপ্নের শহরে কখনো ছিল
অজস্র প্রাকৃতিক বন্দর
আর নাবিকের প্রানখোলা হাসি
এইসব কিছু ভুলে যেও I

ভুলে যেও হে বন্ধু
মানুষ কিভাবে হারিয়েছে সবুজাভ দিন
কিভাবে পাথরের মাঝে বন্দী হয়েছে
আদিম সভ্যতার ধংসাবশেষ
যে ধংসাবশেষের উপর অজস্র শিশুরা
উড়িয়ে দিয়েছে ধুসর রঙের ঘুড়ি I

হে বন্ধু ভুলেও জানতে পারনি
কিভাবে শকুনের দখলে চলে গেছে আকাশ I
কিভাবে আলগা হয়েছে
নদীর তীরে একলা গাছের শিকড় ,
কিভাবে ভেসে গেছে গাছের পাতায় লেখা
ছোটবেলার রূপকথার রাজা রানীর গল্প I
কিভাবে নদীর গতিপথ পাল্টেছে
কিভাবে নদীর তলদেশে আজন্মকাল
পাথরের বুক ভেঙ্গে বালিকণা জন্ম নিয়েছে I

হে বন্ধু ভুলে যেও আমায়
প্রতিক্ষায় থেকো না ,
সূর্য আর চাঁদ ছাড়া আর কাউকে ফিরে আসতে দেখিনি I
পৃথিবীতে সন্ধ্যেরা আরও নিবিড় হবে
আমার মত তুমিও একদিন কুয়াশায় মিলিয়ে যাবে I

ঋতু পরিবর্তনের অমোঘ নিয়মে
শান্ত শীতের রাত্রে অজস্র পাতার নিঃশব্দে মৃত্যুবরণ
কে মনে রেখেছে বলতে পারো ?
ভুলে যেও বন্ধু ভুলে যেও I

জশপুর ...ছত্তিসগড় ...১৯/০২/২০১৮

.         ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বঙ্গবন্ধু শুনে যাও
কবি অন্য আমি ...

হে বঙ্গবন্ধু শুনে যাও ,
আজ তোমায় সবাই মনে করবে
প্রতিকৃতিতে মালা পরাবে
রঙিন পাঞ্জাবী আর শাড়িতে
বাঙালিয়ানা বেঁচে উঠবে আজ I

হে বঙ্গবন্ধু
সীমানায় দাঁড়িয়ে দেখছি
ওপারে প্রভাত ফেরি
এপারেও তাবৎ কবিতার জলকেলি
আমার ইউনিফর্ম জুড়ে কালো বসন্ত এখানে I
অবশ্য আমি এসব নিয়ে ভাবছিনা
আমি ভাবছি কালকের ঘটনা নিয়ে
যা তুমি জানতেও পারবে না ,
কারণ তুমি এখন আর দেখতে পাওনা
শুনতে পাওনা বুঝতেও পারোনা I  
মুখ ঢেকোনা বঙ্গবন্ধু !
শুনে যাও ,
কাল সুমনা কান্নার আগে বাংলায় বলেছিল
“আমাকে তোমরা ছেড়ে দাও
ও বাবু , পায়ে পড়ি আমায় ছেড়ে দাও”
ওরা কেউ ছাড়েনি সুমনা কে
যৌনাঙ্গের রাস্তা দিয়ে দেশের মানচিত্র বার করে
সোল্লাসে চিত্কার করে বলেছিল
দ্যাখ , মেদিনীর সবটুকু আমাদের দখলে I
ওদের কথা সুমনা আর শুনতে পায়নি
নিদ্রায় যাবার আগে যিশুর মত
ওদের ক্ষমা করার কথাও আর বলতে পারেনি I

হে বঙ্গবন্ধু , লজ্জিত হও না
ধর্ষক আর ধর্ষিতা সবাই বাঙালি ছিল
শুধু সেখানে মানুষ ছিল না I .......জশপুর ...ছত্তিসগড় ...২০/০২/২০১৮
পারলে একটিবার তার হাত ধর
কবি অন্য আমি ...

শুন্যতায় ঘেরা মহাকাশের দিকে
যে অতিদ্রুত এগিয়ে চলেছে মৃত্যুর দিকে
পারলে একটিবার তার হাত ধর।
জীবনসাগর ছুঁয়ে দেখার ব্যর্থতা নিয়ে
যে যুবকটি ক্ষিদের জন্য অসৎ হয়েছে
পারলে একটিবার তার হাত ধর।
যে গৃহহীন বাগদাদী শিশুটি
মাতৃহারা হয়ে পরম একলা
পারলে একটিবার তার হাত ধর।
যে সুন্দরী রমনীটি দুষ্ট ভালবাসার ছোবলে
এক বুক অন্ধকার নিয়ে বসে আছে একলা
পারলে একটিবার তার হাত ধর।
যে বৃদ্ধ পিতাটি পুত্র বিয়োগে শোকাহত
সময়ের অভিশাপে ক্ষত বিক্ষত
পারলে একটিবার তার হাত ধর।
যে ছাত্রটি এই মাত্র অসফল হয়ে জীবনবিমুখ
হ্রদের ধারে ম্রিয়মান বসন্তের মত ঝরে যেতে চাইছে
পারলে একটিবার তার হাত ধর।

জশপুর ...ছত্তিসগড় ...২২/০২/২০১৮

.         ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বৃষ্টি পড়লে
ধ্রুবতারা ...

বৃষ্টি পড়লে মৌমিনাময় শব্দেরা জীবন্ত হয়ে ওঠে
কলমের সচলতায় টেবিলের শুন্যতা দুর হয় !
মনে মনে ভাবি ,
বৃষ্টির দিনে উঠোনের জলে মৌমিনার খালি পা ছুঁয়ে
বৃষ্টির জলেরা জলজ যন্ত্রণা ভুলে অমরত্ব লাভ করছে।
মৌমিনার ভেজা চুলের সুবাসে বাতাসের শরীর
মাতালের মত দুলতে দুলতে ফুলের বাগানের দিকে চলে যাচ্ছে।
মৌমিনার মায়াবী চোখের পাতা ছুঁয়ে
নীচের দিকে নেমে যাওয়া বৃষ্টির অগুনতি জলের ফোঁটা  
কোথাও যেন স্বপ্নের অনুভূতি জাগায় অবিরাম।
মৌমিনার হাতের কাঁকনের শব্দে
পৃথিবীর বুকে লুকিয়ে থাকা বীজ সুপ্তাবস্থা কাটিয়ে
মাটি ভেদ করে মাথা নাড়িয়ে উঠে
মৌমিনাকে দেখে নিচ্ছে অক্লেশে।

বৃষ্টি পড়লে মৌমিনা অন্যভাবে চিত্রিত হয়ে ওঠে
মনে হয় মৌমিনা এখনো ঠিক তেমনি
যেমন ছিল কলেজের দিনে
যেমন থাকলে বাঁচার কারণ খুঁজে পাওয়া যায়
যেমন থাকলে কবিতার মত সুন্দর হয়ে ওঠে ধুসর দিন।

অথচ জানালা খুলে দিলেই বুঝতে পারি
মৌমিনা এখন খন্ডিত হয়েছে
মৌমিনার মাথার মাঝ বরাবর সূর্যের নাম লেখা
গোলাপী আভার দুই হাতে আমি নেই কোথাও
মৌমিনার পায়ের নিক্কনের শব্দ কারারুদ্ধ কারো জীবনে !
বিষম হতাশার মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে ফিরে আসি স্বস্থানে ,
বুঝতে পারি মৌমিনার রুহ ছাড়া আর কিছুই নেই আমার কাছে
মৌমিনা এখন বৃক্ষের মত বাধা পড়েছে শেকড়ের টানে
ঘাত প্রতিঘাতে , তাপে সন্তাপে মৌমিনার ঠিকানা অনড় এখন।

জশপুর ...ছত্তিসগড় ...২৪/১০/২০১৯

.         ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর