কবি আর্যতীর্থর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
লাইটহাউস
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
তোদের জন্য ভয় করে খুব , প্রজন্ম রে।
আকাশ এত বদলে গেলে বাঁচবি কেমন করে!
রামধনু রঙ দেশটা এখন আজব ঢংয়ে বাঁচে
বর্ণালী তার সত্ত্ব বিকায় অন্ধকারের কাছে।
ইতিহাসের পাতায় পাতায় আমরা ওরা’র কালি
কোন রাজাটি দেশপ্রেমিক কোনটি চোখের বালি।
প্রজন্ম তুই জানবি না আর দিল্লী রাজস্থান,
মধ্যে লাইন, এদিক হিন্দু, ওদিক মুসলমান।
পি ডি এফ-য়ে যায় কি পাওয়া লালন সাঁইয়ের গীত?
কে বোঝাবে আল্লাহ হরি দুই থানে তোর ভিত!
নজরুল কি পড়বি তোরা ওই কটা গান বাদে?
জাতের নামে বজ্জাতি আজ মসনদি আহ্লাদে।
রূপকথাদের রাজত্বে আজ তথ্য অনেক দূর
জানতে গেলে পেরোতে হয় ভয়ের সমুদ্দুর।
তুই করবি কাকে মাঝি বাছা সত্যি খুঁজে পেতে
সারেং সাজা লোকগুলো যে আসলে বোম্বেটে!
প্রজন্ম রে, ভয় করে তোর আঁধার যাবে সয়ে
পথের দিশা কে দেখাবে লাইটহাউস হয়ে?
চুঁইয়ে পড়া ক্ষত বাঁধি এই আশাপ্রলেপে
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখন আছেন পি ডি এফে।
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
তোদের জন্য ভয় করে খুব , প্রজন্ম রে।
আকাশ এত বদলে গেলে বাঁচবি কেমন করে!
রামধনু রঙ দেশটা এখন আজব ঢংয়ে বাঁচে
বর্ণালী তার সত্ত্ব বিকায় অন্ধকারের কাছে।
ইতিহাসের পাতায় পাতায় আমরা ওরা’র কালি
কোন রাজাটি দেশপ্রেমিক কোনটি চোখের বালি।
প্রজন্ম তুই জানবি না আর দিল্লী রাজস্থান,
মধ্যে লাইন, এদিক হিন্দু, ওদিক মুসলমান।
পি ডি এফ-য়ে যায় কি পাওয়া লালন সাঁইয়ের গীত?
কে বোঝাবে আল্লাহ হরি দুই থানে তোর ভিত!
নজরুল কি পড়বি তোরা ওই কটা গান বাদে?
জাতের নামে বজ্জাতি আজ মসনদি আহ্লাদে।
রূপকথাদের রাজত্বে আজ তথ্য অনেক দূর
জানতে গেলে পেরোতে হয় ভয়ের সমুদ্দুর।
তুই করবি কাকে মাঝি বাছা সত্যি খুঁজে পেতে
সারেং সাজা লোকগুলো যে আসলে বোম্বেটে!
প্রজন্ম রে, ভয় করে তোর আঁধার যাবে সয়ে
পথের দিশা কে দেখাবে লাইটহাউস হয়ে?
চুঁইয়ে পড়া ক্ষত বাঁধি এই আশাপ্রলেপে
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখন আছেন পি ডি এফে।
*********************
সন্ধান
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
নতজানু হয়ে বসবো বলে একজন ঈশ্বর খুঁজছি।
যিনি সোনাদানা বা প্রাণীর রক্তের উৎকোচ ঘেন্না করেন,
যাঁর প্রার্থনার কোনো তিথি , ক্ষণ, প্রকার বা দিক নেই।
বস্তুত প্রার্থনা শুনলেই যিনি ঈষৎ পাগলাটে গলায় বিরক্তিতে বলে ওঠেন,
‘মাথার ওপরে আকাশ দিয়েছি, পায়ের নিচে মাটি দিয়েছি,
বুক ভরে টানার জন্য বাতাস দিয়েছি, নদী দিয়েছি, পাহাড় সমুদ্র অরণ্য দিয়েছি,
আর দিয়েছি তোকে স্বাধীন কল্পনা, স্বপ্ন এবং ইচ্ছে।
আর কি চাই রে তোর হতভাগা?’
অথচ যেখানেই যাই, ঈশ্বর সেনানায়কের মতো ব্যুহ সাজিয়ে নিয়মের যুদ্ধে ব্যস্ত।
অমুক দিনে অমুক সময়ে জমায়েত হয়ে ডাকতে হবে,
তমুক বইয়ের শব্দগুলো তোতাপাখির মতো আওড়াতে হবে,
একটু এদিক থেকে ওদিক হলেই কর্নেল ক্যাপ্টেনরা রে রে করে তেড়ে আসবেন!
যিনি নিজেই নিয়মের নাগপাশে বাঁধা,
তেমন প্রতিবন্ধী ইষ্টদেবতা আমায় মুক্তির স্বাদ দেবেন কেমন করে?
আমি এক সীমাহীন ঈশ্বরকে খুঁজছি, যিনি মানুষের নিয়মের হাতে বন্দী নন,
যিনি বনসৃজনকে উপাসনা বলেন,
হঠাৎ মনে গুনগুনানো গানের কলিকে মন্ত্র বলে স্বীকার করেন,
এবং নিজের প্রতি সৎ থাকা সকলকেই পৌরোহিত্যের অধিকার দিয়েছেন।
যাঁর কোনো দেবালয় নেই অথচ অযুত উপসনাস্থল আছে,
যাঁর কোনো উপঢৌকন নেই,
কিন্তু নিত্য অকুন্ঠ ভালোবাসার অঞ্জলি আছে অজস্র ভালো কাজে।
সেই ঈশ্বরের সন্ধানে আছি, যিনি প্রেমের অপরাধে শাস্তি দেননা,
কিন্তু নারীর অসম্মানে যাঁর তৃতীয় নয়ন জ্বলে ওঠে।
যিনি ব্যাংকব্যালেন্স এবং রাজনৈতিক পতাকার ক্ষমতাকে
তাঁর চেয়েও বেশি শক্তিমান মনে করেননা,
যিনি শ্রান্ত মনের আশ্রয়, কারো বিচারক বা সংশোধনাগার নন।
সারা দুনিয়া চষে ফেলেও তাঁকে আমি খুঁজে পাচ্ছি না,
তবে কি মানুষ তাঁকে পৃথিবীর বাইরে কোথাও নির্বাসন দিলো?
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
নতজানু হয়ে বসবো বলে একজন ঈশ্বর খুঁজছি।
যিনি সোনাদানা বা প্রাণীর রক্তের উৎকোচ ঘেন্না করেন,
যাঁর প্রার্থনার কোনো তিথি , ক্ষণ, প্রকার বা দিক নেই।
বস্তুত প্রার্থনা শুনলেই যিনি ঈষৎ পাগলাটে গলায় বিরক্তিতে বলে ওঠেন,
‘মাথার ওপরে আকাশ দিয়েছি, পায়ের নিচে মাটি দিয়েছি,
বুক ভরে টানার জন্য বাতাস দিয়েছি, নদী দিয়েছি, পাহাড় সমুদ্র অরণ্য দিয়েছি,
আর দিয়েছি তোকে স্বাধীন কল্পনা, স্বপ্ন এবং ইচ্ছে।
আর কি চাই রে তোর হতভাগা?’
অথচ যেখানেই যাই, ঈশ্বর সেনানায়কের মতো ব্যুহ সাজিয়ে নিয়মের যুদ্ধে ব্যস্ত।
অমুক দিনে অমুক সময়ে জমায়েত হয়ে ডাকতে হবে,
তমুক বইয়ের শব্দগুলো তোতাপাখির মতো আওড়াতে হবে,
একটু এদিক থেকে ওদিক হলেই কর্নেল ক্যাপ্টেনরা রে রে করে তেড়ে আসবেন!
যিনি নিজেই নিয়মের নাগপাশে বাঁধা,
তেমন প্রতিবন্ধী ইষ্টদেবতা আমায় মুক্তির স্বাদ দেবেন কেমন করে?
আমি এক সীমাহীন ঈশ্বরকে খুঁজছি, যিনি মানুষের নিয়মের হাতে বন্দী নন,
যিনি বনসৃজনকে উপাসনা বলেন,
হঠাৎ মনে গুনগুনানো গানের কলিকে মন্ত্র বলে স্বীকার করেন,
এবং নিজের প্রতি সৎ থাকা সকলকেই পৌরোহিত্যের অধিকার দিয়েছেন।
যাঁর কোনো দেবালয় নেই অথচ অযুত উপসনাস্থল আছে,
যাঁর কোনো উপঢৌকন নেই,
কিন্তু নিত্য অকুন্ঠ ভালোবাসার অঞ্জলি আছে অজস্র ভালো কাজে।
সেই ঈশ্বরের সন্ধানে আছি, যিনি প্রেমের অপরাধে শাস্তি দেননা,
কিন্তু নারীর অসম্মানে যাঁর তৃতীয় নয়ন জ্বলে ওঠে।
যিনি ব্যাংকব্যালেন্স এবং রাজনৈতিক পতাকার ক্ষমতাকে
তাঁর চেয়েও বেশি শক্তিমান মনে করেননা,
যিনি শ্রান্ত মনের আশ্রয়, কারো বিচারক বা সংশোধনাগার নন।
সারা দুনিয়া চষে ফেলেও তাঁকে আমি খুঁজে পাচ্ছি না,
তবে কি মানুষ তাঁকে পৃথিবীর বাইরে কোথাও নির্বাসন দিলো?
*********************
পাঞ্চজন্য নয়
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
ভেবেছে কৃষ্ণ সব শঙ্খই পাঞ্চজন্য হবে,
ফুঁ দিলে তাতে আহা ঘন ঘন হরিনাম ফুকরাবে।
বেয়াড়া শঙ্খ কানুর প্রতাপ পাত্তা দেয়নি মোটে,
বেসুর ডাকায় ঘুম ভেঙে তাই কৃষ্ণ গেছেন চটে।
রাখাল কৃষ্ণ মাঠেঘাটে ঘুরে ঘাস আর গরু চেনে,
দিন চলে গেছে ‘রবীন্দ্রনাথ’ কষ্টে বানান জেনে।
বীরভূমি জুড়ে যদিও দাপট, বাঘে গরু একঘাটে,
ছন্দের কথা বলতে শোনেনি তাকে কেউ তল্লাটে।
অনুতে অনুতে সেবা ব্রত ভরে কৃষ্ণ আজকে রাজা,
বিরোধী দেখলে হুংকার দেন ‘ওরে কেউ ঢাক বাজা!’
চড়াম চড়াম সে ঢাকের স্বর পৌঁছায় প্রতি ঘাসে,
ভয়ের জীবাণু ছড়িয়ে পড়েছে নারকীয় সন্ত্রাসে . . .
চুপ সব্বাই, কবি ও গায়ক, সকলে রাজার দলে,
শঙ্খধ্বনিতে রাজসভা কাঁপে , বিদ্রোহ কথা বলে।
বশংবদ যে পাঞ্চজন্য, এ আওয়াজ তার নয়,
দলিত মথিত না বলা দাবীরা হয়ে ওঠে বাঙ্ময়।
এত যে শাসানি, উন্নয়নের নামে যে হুমকি চাপা,
শঙ্খের ধ্বনি বিদ্রুপ করে দেখায় তা কত ফাঁপা।
শুনেছে কৃষ্ণ শঙ্খের মাঝে সাগরের ঘোষণাকে
হয়তো এবার বদলাবে ঘাস ফের মুষলের ঝাঁকে।
ওই শোনো গণতন্ত্র ফেরাতে শঙ্খ আবার ডাকে . . .
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
ভেবেছে কৃষ্ণ সব শঙ্খই পাঞ্চজন্য হবে,
ফুঁ দিলে তাতে আহা ঘন ঘন হরিনাম ফুকরাবে।
বেয়াড়া শঙ্খ কানুর প্রতাপ পাত্তা দেয়নি মোটে,
বেসুর ডাকায় ঘুম ভেঙে তাই কৃষ্ণ গেছেন চটে।
রাখাল কৃষ্ণ মাঠেঘাটে ঘুরে ঘাস আর গরু চেনে,
দিন চলে গেছে ‘রবীন্দ্রনাথ’ কষ্টে বানান জেনে।
বীরভূমি জুড়ে যদিও দাপট, বাঘে গরু একঘাটে,
ছন্দের কথা বলতে শোনেনি তাকে কেউ তল্লাটে।
অনুতে অনুতে সেবা ব্রত ভরে কৃষ্ণ আজকে রাজা,
বিরোধী দেখলে হুংকার দেন ‘ওরে কেউ ঢাক বাজা!’
চড়াম চড়াম সে ঢাকের স্বর পৌঁছায় প্রতি ঘাসে,
ভয়ের জীবাণু ছড়িয়ে পড়েছে নারকীয় সন্ত্রাসে . . .
চুপ সব্বাই, কবি ও গায়ক, সকলে রাজার দলে,
শঙ্খধ্বনিতে রাজসভা কাঁপে , বিদ্রোহ কথা বলে।
বশংবদ যে পাঞ্চজন্য, এ আওয়াজ তার নয়,
দলিত মথিত না বলা দাবীরা হয়ে ওঠে বাঙ্ময়।
এত যে শাসানি, উন্নয়নের নামে যে হুমকি চাপা,
শঙ্খের ধ্বনি বিদ্রুপ করে দেখায় তা কত ফাঁপা।
শুনেছে কৃষ্ণ শঙ্খের মাঝে সাগরের ঘোষণাকে
হয়তো এবার বদলাবে ঘাস ফের মুষলের ঝাঁকে।
ওই শোনো গণতন্ত্র ফেরাতে শঙ্খ আবার ডাকে . . .
*********************
রবি ঠাকুর
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
মেজাজ সবার বিগড়েছে আজ, ফুটছে মানুষ দারুণ রাগে
তুচ্ছ কথায় কপালে ভাঁজ, যখন তখন লড়াই লাগে।
দাপট এখন যাপন জুড়ে, বোম বন্দুক ছুরি চাকু’র
সুর ফেরাতে এই বেসুরে, আসুন ফিরে রবি ঠাকুর।
হন্তদন্ত ব্যস্ত সবাই, চলছে আঙুল মুঠোফোনে,
কাছের লোকের সময় জবাই, ফ্রেন্ডলিস্টে কজন গোনে।
বদলিয়ে যাক এমন স্বভাব, ভারচুয়ালে হাঁকুপাকু’র
মিটিয়ে দিয়ে বন্ধু অভাব, সাথে থাকুন রবি ঠাকুর।
ধর্ম প্রবল রক্তচোখে, মানুষ মানুষ প্রাচীর বানায়,
আলো এখন কমই ঢোকে, অধর্মীরা অস্ত্র শানায়।
দিনে দিনে বাড়ছে আঁধার, গন্ধ ছড়ায় এ আস্তাকুঁড়,
সঠিক পথে ফিরতে আবার, দেখান আলো রবি ঠাকুর।
রাজনীতি আজ জোঁকের মতো, শুষছে দেশের অগ্রগতি,
দগদগে হয় জাতের ক্ষত, ভোটের লাভে দেশের ক্ষতি
আর কত দিন কান পচাবে, নেতার ঢাকের নাক্কু নাকুর
এ দেশ কেন পথ হারাবে, যার বাতিঘর রবি ঠাকুর?
শুভ কেন হারতে যাবে, আছেন যখন রবি ঠাকুর?
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
মেজাজ সবার বিগড়েছে আজ, ফুটছে মানুষ দারুণ রাগে
তুচ্ছ কথায় কপালে ভাঁজ, যখন তখন লড়াই লাগে।
দাপট এখন যাপন জুড়ে, বোম বন্দুক ছুরি চাকু’র
সুর ফেরাতে এই বেসুরে, আসুন ফিরে রবি ঠাকুর।
হন্তদন্ত ব্যস্ত সবাই, চলছে আঙুল মুঠোফোনে,
কাছের লোকের সময় জবাই, ফ্রেন্ডলিস্টে কজন গোনে।
বদলিয়ে যাক এমন স্বভাব, ভারচুয়ালে হাঁকুপাকু’র
মিটিয়ে দিয়ে বন্ধু অভাব, সাথে থাকুন রবি ঠাকুর।
ধর্ম প্রবল রক্তচোখে, মানুষ মানুষ প্রাচীর বানায়,
আলো এখন কমই ঢোকে, অধর্মীরা অস্ত্র শানায়।
দিনে দিনে বাড়ছে আঁধার, গন্ধ ছড়ায় এ আস্তাকুঁড়,
সঠিক পথে ফিরতে আবার, দেখান আলো রবি ঠাকুর।
রাজনীতি আজ জোঁকের মতো, শুষছে দেশের অগ্রগতি,
দগদগে হয় জাতের ক্ষত, ভোটের লাভে দেশের ক্ষতি
আর কত দিন কান পচাবে, নেতার ঢাকের নাক্কু নাকুর
এ দেশ কেন পথ হারাবে, যার বাতিঘর রবি ঠাকুর?
শুভ কেন হারতে যাবে, আছেন যখন রবি ঠাকুর?
*********************
শিরদাঁড়া হারানোর পালা
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
রাত তখন কটা? ঘড়ি নেই, চাঁদও নেই আকাশে।
ওরা দাঁড়িয়েছে ভাঙাচোরা বাড়িটার সামনে এসে।
ভেতরে নিরীহ প্রবীণ দার্শনিক, তাঁকে ধরতে এত পদাতিক?
সৌম্য বৃদ্ধ এলেন বেরিয়ে। রক্ষীপ্রধানকে বললেন, যেখানে ইচ্ছে চলো নিয়ে।
প্রধান শোনালেন, গ্রেপ্তারের হুকুম আছে আপনাকে।
পক্ককেশ বললেন, বলে দাও তোমার রাজাকে, আমার বাণী শাশ্বত সত্য, বদলানোর সম্ভাবনাই নেই কোনো।
অকথ্য গাল দিয়ে উঠলো সৈনিকদের মধ্যে কেউ, ঘুম ভালো করে ছাড়েনি এখনো।
ঘুম? সারা শহরে বাকি বুদ্ধিজীবিরা তখন নিঃসাড়ে চোখ বুজে আছেন,
দেখতে তো হবে, যাতে তারা বেশিদিন বাঁচেন!
তাছাড়া বৃদ্ধের কথাবার্তা বড় বেয়াড়া, সিংহাসনের ভয়ডরহীন,
বিচার ও যুক্তি হলে এহেন স্বাধীন, তাঁকে দাবাতেই হয়।
নিষিদ্ধ করতে হয় বই, কেড়ে নিতে হয় তাঁর বিষয়আশয়,
ভুল বিচারে সাজানো সাক্ষী ডেকে প্রমাণ করতেই হয়, তিনি অপরাধী, দোষ রাজদ্রোহিতা, রাজানুগামীরা অতি উৎসাহে জ্বালিয়ে দেয় তাবত বাণী ও কবিতা,
আর বাকি মগজোপজীবিরা হাত সেঁকতে সেঁকতে জলহাওয়ার নিরাপদ আলোচনা সারে।
তারা জানে, রাজকোপ বেশি পড়ে উঁচু হওয়া ঘাড়ে।
ইতিহাস দেখেছে ‘শিরদাঁড়া কেড়ে নেওয়া পালা’টার অভিনয় লক্ষ রজনী
যুগ আর স্থান দেখে নাম পাল্টেছে শুধু, বাদবাকি কিছু আর বদল হয়নি।
সক্রেটিস ব্রুনো হয়ে পুড়ে যান হিংসুটে আগুনে ধর্মের হাতে,
ব্রুনো লোরকা নাম নিয়ে দাঁড়ান ফায়ারিং স্কোয়াডে,
নাৎসি জার্মানিতে লোরকাই দেস্তোভনিক কাজু’তে অবয়ব পান,
রাশিয়ার আখমাতোভা মীরপুরের মেহেরুন্নিসা হয়ে ফের শাসকের সামনে দাঁড়ান।
যুগে যুগে কলমকে ভয় পায় বন্দুক,
তাই মাঝরাত্রে একাকী লেখককে ঘিরতে পল্টনের পর পল্টন পুলিশ আসে,
কি জানি, কখন বিদ্রোহ বারুদ প্রবল বিস্ফোরণে ছড়িয়ে যায় বশংবদ বাতাসে!
শুনেছি এই দেশেও নাকি ‘শিরদাঁড়া হারানোর পালা’ মঞ্চস্থ হতে পারে আজ,
নামভূমিকায় রাও, ফেরেরা, গনসালভেজ, গৌতম নওলাখা, সুধা ভরদ্বাজ।
এখনো ঘুমাবে নাকি নাকে তেল দিয়ে, রোজ বুলি কপচানো সুশীল সমাজ??
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
রাত তখন কটা? ঘড়ি নেই, চাঁদও নেই আকাশে।
ওরা দাঁড়িয়েছে ভাঙাচোরা বাড়িটার সামনে এসে।
ভেতরে নিরীহ প্রবীণ দার্শনিক, তাঁকে ধরতে এত পদাতিক?
সৌম্য বৃদ্ধ এলেন বেরিয়ে। রক্ষীপ্রধানকে বললেন, যেখানে ইচ্ছে চলো নিয়ে।
প্রধান শোনালেন, গ্রেপ্তারের হুকুম আছে আপনাকে।
পক্ককেশ বললেন, বলে দাও তোমার রাজাকে, আমার বাণী শাশ্বত সত্য, বদলানোর সম্ভাবনাই নেই কোনো।
অকথ্য গাল দিয়ে উঠলো সৈনিকদের মধ্যে কেউ, ঘুম ভালো করে ছাড়েনি এখনো।
ঘুম? সারা শহরে বাকি বুদ্ধিজীবিরা তখন নিঃসাড়ে চোখ বুজে আছেন,
দেখতে তো হবে, যাতে তারা বেশিদিন বাঁচেন!
তাছাড়া বৃদ্ধের কথাবার্তা বড় বেয়াড়া, সিংহাসনের ভয়ডরহীন,
বিচার ও যুক্তি হলে এহেন স্বাধীন, তাঁকে দাবাতেই হয়।
নিষিদ্ধ করতে হয় বই, কেড়ে নিতে হয় তাঁর বিষয়আশয়,
ভুল বিচারে সাজানো সাক্ষী ডেকে প্রমাণ করতেই হয়, তিনি অপরাধী, দোষ রাজদ্রোহিতা, রাজানুগামীরা অতি উৎসাহে জ্বালিয়ে দেয় তাবত বাণী ও কবিতা,
আর বাকি মগজোপজীবিরা হাত সেঁকতে সেঁকতে জলহাওয়ার নিরাপদ আলোচনা সারে।
তারা জানে, রাজকোপ বেশি পড়ে উঁচু হওয়া ঘাড়ে।
ইতিহাস দেখেছে ‘শিরদাঁড়া কেড়ে নেওয়া পালা’টার অভিনয় লক্ষ রজনী
যুগ আর স্থান দেখে নাম পাল্টেছে শুধু, বাদবাকি কিছু আর বদল হয়নি।
সক্রেটিস ব্রুনো হয়ে পুড়ে যান হিংসুটে আগুনে ধর্মের হাতে,
ব্রুনো লোরকা নাম নিয়ে দাঁড়ান ফায়ারিং স্কোয়াডে,
নাৎসি জার্মানিতে লোরকাই দেস্তোভনিক কাজু’তে অবয়ব পান,
রাশিয়ার আখমাতোভা মীরপুরের মেহেরুন্নিসা হয়ে ফের শাসকের সামনে দাঁড়ান।
যুগে যুগে কলমকে ভয় পায় বন্দুক,
তাই মাঝরাত্রে একাকী লেখককে ঘিরতে পল্টনের পর পল্টন পুলিশ আসে,
কি জানি, কখন বিদ্রোহ বারুদ প্রবল বিস্ফোরণে ছড়িয়ে যায় বশংবদ বাতাসে!
শুনেছি এই দেশেও নাকি ‘শিরদাঁড়া হারানোর পালা’ মঞ্চস্থ হতে পারে আজ,
নামভূমিকায় রাও, ফেরেরা, গনসালভেজ, গৌতম নওলাখা, সুধা ভরদ্বাজ।
এখনো ঘুমাবে নাকি নাকে তেল দিয়ে, রোজ বুলি কপচানো সুশীল সমাজ??
*********************
নাগরিক
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
যে ছেলেটা চা-দোকানে খেটে চলে ফাইফরমাস,
স্বাধীনতা তার কাছে পাড়ার ক্লাবের দেওয়া ভালো প্রাতরাশ।
গুনগুন তার গানে ফুটে ওঠে শীলা কি জওয়ানি,
মাইকে তারস্বরে আঁখ মে ভরলো পানি’র মানে তার কাছে কিছু বেশি খদ্দের আর বাড়া খাটনিও,
কাপডিশ ভেঙে গেলে পনেরো আগস্ট বলে ক্ষমা পাবে কি ও?
ইঁটভাটা জুড়ে কাজ, চলছে ও চলবেই, আগস্ট পনেরো তো কি?
মাথায় ইঁটের বোঝা, সিঁড়ি বায় কিশোরী, ওর কথা কেউ বলছো কি?
চুলে জট, চামড়ার তামাটে বরণে অপুষ্টি প্রবল,
কিছু দূরে রাজপথ জুড়ে যাওয়া সুবেশ তেরঙাধারী পড়ুয়ার দল কোনো প্রভাব ফেলেনা তার রুটিনে,
কেউ জানো ওর ঘরে স্বাধীনতা কবে যাবে ঝুপড়িকে চিনে?
ওদিকে বসে যে লোক, পাঁইটের লোভে সে বেচেছিলো ভোট,
ভাতহীন সংসারে আজ বউ মুখ করে দিলো খুব একচোট।
একশো দিনের কাজ ভাঁটিখানা শুঁষে নিলো কবে,
যতটা সহজ মদ, পেটভরে ডালভাত তত অনায়াসে ঠিক পাওয়া যাবে কবে, সেটা যদি তেরঙা না জানে,
আগস্ট পনেরো তবে তার সংসারে কোন মানে বয়ে আনে?
আর সেই গৃহবধূ, মেয়ে হয়েছে বলে একবিংশতে যে অচ্ছুতসমা,
স্বাধীনতা, বলে দাও আরো কত লাঞ্ছনা তার ভাগে জমা।
শুক্রের দায়িত্ব আজীবন বহন করে চলেছে জরায়ু,
কবে সেই সংস্কারী বদনামে শেষ হবে আয়ু, সেটা আগে বলে তারপর বলো ছেলে মেয়ের সমান,
সাতটা দশক গেলো, কন্যা বাঁচাতে তবু ভরসা স্লোগান।
ঘুমিয়েছে স্বাধীনতা, স্বপ্ন চলেছে দেখে অনাবিল আগামীকে ভেবে,
আগস্ট পনেরো এলে এইসব নাগরিক যেদিন মিছিল খুঁজে নেবে।
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
যে ছেলেটা চা-দোকানে খেটে চলে ফাইফরমাস,
স্বাধীনতা তার কাছে পাড়ার ক্লাবের দেওয়া ভালো প্রাতরাশ।
গুনগুন তার গানে ফুটে ওঠে শীলা কি জওয়ানি,
মাইকে তারস্বরে আঁখ মে ভরলো পানি’র মানে তার কাছে কিছু বেশি খদ্দের আর বাড়া খাটনিও,
কাপডিশ ভেঙে গেলে পনেরো আগস্ট বলে ক্ষমা পাবে কি ও?
ইঁটভাটা জুড়ে কাজ, চলছে ও চলবেই, আগস্ট পনেরো তো কি?
মাথায় ইঁটের বোঝা, সিঁড়ি বায় কিশোরী, ওর কথা কেউ বলছো কি?
চুলে জট, চামড়ার তামাটে বরণে অপুষ্টি প্রবল,
কিছু দূরে রাজপথ জুড়ে যাওয়া সুবেশ তেরঙাধারী পড়ুয়ার দল কোনো প্রভাব ফেলেনা তার রুটিনে,
কেউ জানো ওর ঘরে স্বাধীনতা কবে যাবে ঝুপড়িকে চিনে?
ওদিকে বসে যে লোক, পাঁইটের লোভে সে বেচেছিলো ভোট,
ভাতহীন সংসারে আজ বউ মুখ করে দিলো খুব একচোট।
একশো দিনের কাজ ভাঁটিখানা শুঁষে নিলো কবে,
যতটা সহজ মদ, পেটভরে ডালভাত তত অনায়াসে ঠিক পাওয়া যাবে কবে, সেটা যদি তেরঙা না জানে,
আগস্ট পনেরো তবে তার সংসারে কোন মানে বয়ে আনে?
আর সেই গৃহবধূ, মেয়ে হয়েছে বলে একবিংশতে যে অচ্ছুতসমা,
স্বাধীনতা, বলে দাও আরো কত লাঞ্ছনা তার ভাগে জমা।
শুক্রের দায়িত্ব আজীবন বহন করে চলেছে জরায়ু,
কবে সেই সংস্কারী বদনামে শেষ হবে আয়ু, সেটা আগে বলে তারপর বলো ছেলে মেয়ের সমান,
সাতটা দশক গেলো, কন্যা বাঁচাতে তবু ভরসা স্লোগান।
ঘুমিয়েছে স্বাধীনতা, স্বপ্ন চলেছে দেখে অনাবিল আগামীকে ভেবে,
আগস্ট পনেরো এলে এইসব নাগরিক যেদিন মিছিল খুঁজে নেবে।
*********************
বয়েস
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
বয়েস বয়েস করে মরিস,
বয়েস আবার কি?
সময়টা তোর বয়েস বলে
মারছে ইয়ারকি।
ইচ্ছে হলে খোকা হব
ইচ্ছে হলে বুড়ো
সময়টা কোন লাটের বেটা,
বলবে আমায় ফুরো?
ইচ্ছে মত যাচ্ছি বেঁচে
ইচ্ছে হলে উঠব নেচে,
ইচ্ছে হলে একশো হব
ইচ্ছে হলে জিরো।
সময়টা কোন লাটের বেটা
বলবে আমায় ফুরো?
শরীরে নয় বাত ধরেছে
রক্তে বাড়ে চিনি
লাভের গুড়ে পিঁপড়ে ঘোরে
চলছে বিকিকিনি।
তবু মাঝে লুকিয়ে মা কে
চাটবো দুধের গুঁড়ো,
সময়টা কোন লাটের বেটা
বলবে আমায় ফুরো?
চুলে আমার পাক ধরেছে
মন পাকল কই?
এখনো তো চাঁদ দেখিলে
অবাক হয়ে রই।
এখনো তো ফুচকা চাখি
কামড়াই কামরাঙ্গা
রাতের ছাতে নিজের সাথে
খেলি কুমীরডাঙা।
কি যায় আসে পাড়ার ছেলে
বললে জেঠু খুড়ো?
সময়টা কোন লাটের বেটা
বলবে আমায় ফুরো?
এমনভাবেই থাকবো আমি
এমনি কেঁদে হেসে
জীবনটাকে জাপটে ধরে
দারুন ভালোবেসে।
থামবো তখন মরন যখন
বলবে আমায় জিরো।
সময়টা কোন লাটের বেটা
বলবে আমায় ফুরো?
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
বয়েস বয়েস করে মরিস,
বয়েস আবার কি?
সময়টা তোর বয়েস বলে
মারছে ইয়ারকি।
ইচ্ছে হলে খোকা হব
ইচ্ছে হলে বুড়ো
সময়টা কোন লাটের বেটা,
বলবে আমায় ফুরো?
ইচ্ছে মত যাচ্ছি বেঁচে
ইচ্ছে হলে উঠব নেচে,
ইচ্ছে হলে একশো হব
ইচ্ছে হলে জিরো।
সময়টা কোন লাটের বেটা
বলবে আমায় ফুরো?
শরীরে নয় বাত ধরেছে
রক্তে বাড়ে চিনি
লাভের গুড়ে পিঁপড়ে ঘোরে
চলছে বিকিকিনি।
তবু মাঝে লুকিয়ে মা কে
চাটবো দুধের গুঁড়ো,
সময়টা কোন লাটের বেটা
বলবে আমায় ফুরো?
চুলে আমার পাক ধরেছে
মন পাকল কই?
এখনো তো চাঁদ দেখিলে
অবাক হয়ে রই।
এখনো তো ফুচকা চাখি
কামড়াই কামরাঙ্গা
রাতের ছাতে নিজের সাথে
খেলি কুমীরডাঙা।
কি যায় আসে পাড়ার ছেলে
বললে জেঠু খুড়ো?
সময়টা কোন লাটের বেটা
বলবে আমায় ফুরো?
এমনভাবেই থাকবো আমি
এমনি কেঁদে হেসে
জীবনটাকে জাপটে ধরে
দারুন ভালোবেসে।
থামবো তখন মরন যখন
বলবে আমায় জিরো।
সময়টা কোন লাটের বেটা
বলবে আমায় ফুরো?
*********************
কাশ্মীরকথা
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
একদিনের জন্য চলেছি কাশ্মীর
আয়োজক ভুলে কেউকেটা ঠাউরেছে
আলোচনা সভা, বিষয় সুগম্ভীর
বক্তা হিসাবে নামখানা আউরেছে
খবর শুনেই গিন্নি বেজায় চটে
জিভখানি যেন শান দেওয়া খরগে
অতি বেরসিক পতিটি কপালে জোটে
পরিবার ছেড়ে চলেছে ভূস্বর্গে।
মায়ের চিন্তা নিয়েছে অন্য পথ
স্বর্গ এখন স্বর্গে যাওয়ার ভূমি
স্বাধীনতা নিয়ে বিরুদ্ধ মতামত
সেখানে যাওয়ার কেন এ গোয়ার্তুমি
ভাবনায় আসে সৈনিক যুবা কোনো
রুটিনমাফিক ডিউটিতে কাশ্মীরে
অবসর পেলে মনে জাগে দোনোমনো
একলা ঘোরা কি উচিৎ ডালের তীরে?
প্রেয়সী যে তার বহুদূর এক গাঁয়ে
শীর্ণ নদীর পাড়ে বসে কত কথা
অবসরে বসে চিনার গাছের ছায়ে
ডালের জলেতে প্রেমিকের কথকতা।
ওদিকে আরেক তরতাজা কাশ্মীরী
কিশোর বয়সে বন্দুক নিল হাতে
তারও মন চায় নিজের গাঁয়েতে ফিরি
পাহাড় যেখানে রুপো হয় জোছনাতে
মনে পড়ে তার ডাগর হরিন চোখ
হিজাবআড়ালে গান হয়ে যাওয়া হাসি
চুপি চুপি দেখা,পাছে দেখে ফেলে লোক
চোখের ভাষাতে বলে দেওয়া ভালোবাসি
বেলাশেষে রোদ ছায়ার সঙ্গে খেলে
মায়াবী আলোর ঝিকিমিকি ডাল লেকে
হিমেল বাতাসে চিনার পাতারা হেলে
কোকিল হঠাৎ ডেকে ওঠে কোথা থেকে
কাল মুখোমুখি হবে বুঝি বন্দুকে
আজকে রয়েছে পাশাপাশি বসে পাড়ে
স্মৃতিতে মেদুর বিষন্ন দুটো বুকে
লেকের জলটা ছলাৎ ছলাৎ করে।
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
একদিনের জন্য চলেছি কাশ্মীর
আয়োজক ভুলে কেউকেটা ঠাউরেছে
আলোচনা সভা, বিষয় সুগম্ভীর
বক্তা হিসাবে নামখানা আউরেছে
খবর শুনেই গিন্নি বেজায় চটে
জিভখানি যেন শান দেওয়া খরগে
অতি বেরসিক পতিটি কপালে জোটে
পরিবার ছেড়ে চলেছে ভূস্বর্গে।
মায়ের চিন্তা নিয়েছে অন্য পথ
স্বর্গ এখন স্বর্গে যাওয়ার ভূমি
স্বাধীনতা নিয়ে বিরুদ্ধ মতামত
সেখানে যাওয়ার কেন এ গোয়ার্তুমি
ভাবনায় আসে সৈনিক যুবা কোনো
রুটিনমাফিক ডিউটিতে কাশ্মীরে
অবসর পেলে মনে জাগে দোনোমনো
একলা ঘোরা কি উচিৎ ডালের তীরে?
প্রেয়সী যে তার বহুদূর এক গাঁয়ে
শীর্ণ নদীর পাড়ে বসে কত কথা
অবসরে বসে চিনার গাছের ছায়ে
ডালের জলেতে প্রেমিকের কথকতা।
ওদিকে আরেক তরতাজা কাশ্মীরী
কিশোর বয়সে বন্দুক নিল হাতে
তারও মন চায় নিজের গাঁয়েতে ফিরি
পাহাড় যেখানে রুপো হয় জোছনাতে
মনে পড়ে তার ডাগর হরিন চোখ
হিজাবআড়ালে গান হয়ে যাওয়া হাসি
চুপি চুপি দেখা,পাছে দেখে ফেলে লোক
চোখের ভাষাতে বলে দেওয়া ভালোবাসি
বেলাশেষে রোদ ছায়ার সঙ্গে খেলে
মায়াবী আলোর ঝিকিমিকি ডাল লেকে
হিমেল বাতাসে চিনার পাতারা হেলে
কোকিল হঠাৎ ডেকে ওঠে কোথা থেকে
কাল মুখোমুখি হবে বুঝি বন্দুকে
আজকে রয়েছে পাশাপাশি বসে পাড়ে
স্মৃতিতে মেদুর বিষন্ন দুটো বুকে
লেকের জলটা ছলাৎ ছলাৎ করে।
*********************
এখনো আশা আছে
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
দাদা একটু শুনবেন? পেছন থেকে কে চেঁচায়?
দোহারা ময়লা ছেলে, হাতের মোবাইলটা আমারই
'এটা ফেলে এসছিলেন বাসে তাড়াহুড়ায়,
নেমে পড়লাম, যদি পৌঁছে দিতে পারি'
মোবাইলটা দিয়েই একছুট্টে পরের বাস ধরে নিল
কাজে যেতে তারও দেরী হচ্ছিল বোধহয়,
বিনা কারণে অচেনা লোকের জন্য নেমেছিল
যুগটা তাহলে ঠিক ততটা খারাপ নয়।
ফেরত পাওয়া মোবাইলটাকে নিয়ে বুকের কাছে
ফিসফিসিয়ে আস্তে বলি 'এখনো তবে আশা আছে'!
মেয়েটা গেছে টিউশনে, আজ আর ওর মা যায়নি সাথে
হঠাৎ কোনো প্রতিবাদে বন্ধ হল বাস অটো ইত্যাদি
আমারও উপায় নেই, জনতা পুলিশ খন্ডযুদ্ধ পথে
মেয়েটা আমার চিনবে কি পথ, বাপের সে যে বড্ড আহ্লাদী।
হঠাৎ পুলিশের গাড়ির সাইরেন একদম বাড়ির সামনেই
একটু বাদেই ঢুকলো ঘরে মেয়ে একগাল হেসে
ভালো কাজ করার জন্য পুলিশের নাকি নাম নেই
এই তো কেমন পৌঁছে দিলো পুলিশ বাড়িতে এসে।
মিডিয়া এখন মুড়কি খোঁজে না, গতে বাঁধা সব মুড়ির ছাঁচে
মেয়েকে আমার বুকে ধরে ভাবি এখনো তবে আশা আছে।
বুড়িমায়ের হাঁপের ব্যামো, সেদিন তো প্রায় মরো মরো
চটজলদি নিয়ে গেলাম কাছের সরকারী হাসপাতালে।
এমনিতে তো তোমরা সবাই হাসপাতালের নিন্দে করো
আমিও তো চাইনি নিতে ওসব জায়গায় কোনোকালে।
সেদিন উপায় ছিল না। কি আশ্চর্য, মাঝরাত্তিরে ডাক্তার এলেন
অথচ আমার কোনো মুরুব্বি নেই চেনা
মা একটু ঠিক না হওয়া অবধি থেকেও গেলেন,
দামী কোনো ওষুধও তো সেদিন হয় নি কেনা।
মা ভালো হবার পর একবার গিয়েছিলাম ডাক্তারবাবুর কাছে
ক্লান্ত হাসিতে বুঝে নিলাম এখনো তবে আশা আছে।
‘রোজ কত কি ঘটে যাহা তাহা', খারাপগুলোই বলছে কাগজগুলো
পড়েই ভাবি গোল্লায় দেশ, মানুষ এবার কেমন করে বাঁচে
রোজনামচার পাতা উল্টিও স্মৃতি থেকে ঝেড়ে ধুলো
প্রতিদিন কত ছোটো ঘটনায় আশা আজও বেঁচে আছে।
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
দাদা একটু শুনবেন? পেছন থেকে কে চেঁচায়?
দোহারা ময়লা ছেলে, হাতের মোবাইলটা আমারই
'এটা ফেলে এসছিলেন বাসে তাড়াহুড়ায়,
নেমে পড়লাম, যদি পৌঁছে দিতে পারি'
মোবাইলটা দিয়েই একছুট্টে পরের বাস ধরে নিল
কাজে যেতে তারও দেরী হচ্ছিল বোধহয়,
বিনা কারণে অচেনা লোকের জন্য নেমেছিল
যুগটা তাহলে ঠিক ততটা খারাপ নয়।
ফেরত পাওয়া মোবাইলটাকে নিয়ে বুকের কাছে
ফিসফিসিয়ে আস্তে বলি 'এখনো তবে আশা আছে'!
মেয়েটা গেছে টিউশনে, আজ আর ওর মা যায়নি সাথে
হঠাৎ কোনো প্রতিবাদে বন্ধ হল বাস অটো ইত্যাদি
আমারও উপায় নেই, জনতা পুলিশ খন্ডযুদ্ধ পথে
মেয়েটা আমার চিনবে কি পথ, বাপের সে যে বড্ড আহ্লাদী।
হঠাৎ পুলিশের গাড়ির সাইরেন একদম বাড়ির সামনেই
একটু বাদেই ঢুকলো ঘরে মেয়ে একগাল হেসে
ভালো কাজ করার জন্য পুলিশের নাকি নাম নেই
এই তো কেমন পৌঁছে দিলো পুলিশ বাড়িতে এসে।
মিডিয়া এখন মুড়কি খোঁজে না, গতে বাঁধা সব মুড়ির ছাঁচে
মেয়েকে আমার বুকে ধরে ভাবি এখনো তবে আশা আছে।
বুড়িমায়ের হাঁপের ব্যামো, সেদিন তো প্রায় মরো মরো
চটজলদি নিয়ে গেলাম কাছের সরকারী হাসপাতালে।
এমনিতে তো তোমরা সবাই হাসপাতালের নিন্দে করো
আমিও তো চাইনি নিতে ওসব জায়গায় কোনোকালে।
সেদিন উপায় ছিল না। কি আশ্চর্য, মাঝরাত্তিরে ডাক্তার এলেন
অথচ আমার কোনো মুরুব্বি নেই চেনা
মা একটু ঠিক না হওয়া অবধি থেকেও গেলেন,
দামী কোনো ওষুধও তো সেদিন হয় নি কেনা।
মা ভালো হবার পর একবার গিয়েছিলাম ডাক্তারবাবুর কাছে
ক্লান্ত হাসিতে বুঝে নিলাম এখনো তবে আশা আছে।
‘রোজ কত কি ঘটে যাহা তাহা', খারাপগুলোই বলছে কাগজগুলো
পড়েই ভাবি গোল্লায় দেশ, মানুষ এবার কেমন করে বাঁচে
রোজনামচার পাতা উল্টিও স্মৃতি থেকে ঝেড়ে ধুলো
প্রতিদিন কত ছোটো ঘটনায় আশা আজও বেঁচে আছে।
*********************
সেলফি
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
এই নেশা বড় নেশা বাকি নেশা নস্যি
ভালো লাগে খচাখচ তুলতে নিজস্বী
আধপেটা খাই যদি সেটা তবু সইবো
হাতে ইয়া বড় বড় মুঠোফোন বইবো।
ধনে মনে যাই হই ফোন হওয়া চাই স্মার্ট
আজকে একটা কিনে কাল দেখি ফ্লিপকার্ট।
ছবি ছাবা তুলে ফেলি দেখো বিনা হেল্পই
সব কাজ ফেলে রেখে রোজ তুলি সেল্ফি।
সকালে পিচুটি চোখে দাঁতটাত মাজছো
ছাদকোণে আনমনে ভেরেন্ডা ভাজছো
কিংবা বন্ধুসাথে মলে খুব ঘুরিতং
ছুটিতে বেড়াতে গিয়ে পাখি হয়ে উড়িতং
সবকিছু তোলা চাই সেলফিতে স্পষ্ট
ঠিকঠাক ছবি বিনা মেজাজটা নষ্ট।
নয়া মুঠোফোন দেখে প্রশ্নরা নিশপিশ
ফ্রন্টক্যামেরা দাদা ঠিক কত মেগাপিক্স
ফোন করা যাবে কিনা প্রশ্ন অবান্তর
মোবাইল অধুনা শুধু সেলফির যন্তর।
আয়নাতে মুখ দেখা? আরে রামো, সেকেলে
চাস যদি গোটা দশ সেলফিতে দেখেনে।
ঝগড়াটে বান্ধবী গালি দেয় ধরে খুব?
সেলফি তুলতে গেলে অমনি সে হেসে চুপ।
ট্রেনের সামনে করে সেলফির চেষ্টা
গোটা ছয় সাত ছেলে মারা গেলো শেষটা।
তবু কি বিরাম নেবে সেলফিরা সহজে
নিজস্বী গেঁথে গেছে আধুনিক মগজে।
ছয় থেকে সেলফিরা পৌঁছেছে ষাটেতেও
সেলফি উঠছে নাকি শ্মশানের ঘাটেতেও।
এবারে দেখবো বুঝি মরণের শয্যায়
আত্মীয় পরিজন অন্ত সেলফি চায়।
এই নেশা বড় নেশা বাকি নেশা ফক্কা
জোরদার রোজ খাও সেলফির ধাক্কা।
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
এই নেশা বড় নেশা বাকি নেশা নস্যি
ভালো লাগে খচাখচ তুলতে নিজস্বী
আধপেটা খাই যদি সেটা তবু সইবো
হাতে ইয়া বড় বড় মুঠোফোন বইবো।
ধনে মনে যাই হই ফোন হওয়া চাই স্মার্ট
আজকে একটা কিনে কাল দেখি ফ্লিপকার্ট।
ছবি ছাবা তুলে ফেলি দেখো বিনা হেল্পই
সব কাজ ফেলে রেখে রোজ তুলি সেল্ফি।
সকালে পিচুটি চোখে দাঁতটাত মাজছো
ছাদকোণে আনমনে ভেরেন্ডা ভাজছো
কিংবা বন্ধুসাথে মলে খুব ঘুরিতং
ছুটিতে বেড়াতে গিয়ে পাখি হয়ে উড়িতং
সবকিছু তোলা চাই সেলফিতে স্পষ্ট
ঠিকঠাক ছবি বিনা মেজাজটা নষ্ট।
নয়া মুঠোফোন দেখে প্রশ্নরা নিশপিশ
ফ্রন্টক্যামেরা দাদা ঠিক কত মেগাপিক্স
ফোন করা যাবে কিনা প্রশ্ন অবান্তর
মোবাইল অধুনা শুধু সেলফির যন্তর।
আয়নাতে মুখ দেখা? আরে রামো, সেকেলে
চাস যদি গোটা দশ সেলফিতে দেখেনে।
ঝগড়াটে বান্ধবী গালি দেয় ধরে খুব?
সেলফি তুলতে গেলে অমনি সে হেসে চুপ।
ট্রেনের সামনে করে সেলফির চেষ্টা
গোটা ছয় সাত ছেলে মারা গেলো শেষটা।
তবু কি বিরাম নেবে সেলফিরা সহজে
নিজস্বী গেঁথে গেছে আধুনিক মগজে।
ছয় থেকে সেলফিরা পৌঁছেছে ষাটেতেও
সেলফি উঠছে নাকি শ্মশানের ঘাটেতেও।
এবারে দেখবো বুঝি মরণের শয্যায়
আত্মীয় পরিজন অন্ত সেলফি চায়।
এই নেশা বড় নেশা বাকি নেশা ফক্কা
জোরদার রোজ খাও সেলফির ধাক্কা।
*********************
