কবি আর্যতীর্থর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
। পুঁজি।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১.৮.২০২১ দুপুর।
বন্ধুর পথে যদি হাত থাকে বন্ধুর,
নিকষ আঁধারে সাথী একফালি রোদ্দুর।
সময় যতই সুখ না করুক মঞ্জুর,
বন্ধুরা সাথে হলে হাসি যাবে কোন দূর?
দীন সে মানুষ যার বন্ধুর দিনেতে
একলা কাটছে দিন বন্ধুর বিনে-তে।
শারীরিক যোগাযোগ যত যাক ক্ষীণেতে
ডি এন এর মতো দোস্ত থিতু থাক জিনেতে।
হাসি মজা হুল্লোড়, রেগে কাঁই ঝগড়া
হেরে গিয়ে ফিরে যায় বিষাদের ঠগরা।
জীবনকে বলি হেসে যত কেন রগড়া,
এ মুলুকে আস্কারা পায় শুধু মগরা।
আত্মীয় পায় লোকে রক্তের ছুতোতে
সুতো ধরে কেউ থাকে আজীবন গুঁতোতে।
বন্ধুতা অমলিন, নেই সেই খুঁত ওতে,
দেখা হলে মন ঘোরে গুপি-বাঘা জুতোতে।
জীবনের কাছে কারো যত থাক বায়না
বন্ধুর চেয়ে দামী আর কিছু পায় না।
নানাদিকে হেরে যদি বিষ লাগে আয়না,
সকলে ছাড়তে পারে, বন্ধুরা যায় না।
দেখো যেন এই পুঁজি কখনো ফুরায় না...
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১.৮.২০২১ দুপুর।
বন্ধুর পথে যদি হাত থাকে বন্ধুর,
নিকষ আঁধারে সাথী একফালি রোদ্দুর।
সময় যতই সুখ না করুক মঞ্জুর,
বন্ধুরা সাথে হলে হাসি যাবে কোন দূর?
দীন সে মানুষ যার বন্ধুর দিনেতে
একলা কাটছে দিন বন্ধুর বিনে-তে।
শারীরিক যোগাযোগ যত যাক ক্ষীণেতে
ডি এন এর মতো দোস্ত থিতু থাক জিনেতে।
হাসি মজা হুল্লোড়, রেগে কাঁই ঝগড়া
হেরে গিয়ে ফিরে যায় বিষাদের ঠগরা।
জীবনকে বলি হেসে যত কেন রগড়া,
এ মুলুকে আস্কারা পায় শুধু মগরা।
আত্মীয় পায় লোকে রক্তের ছুতোতে
সুতো ধরে কেউ থাকে আজীবন গুঁতোতে।
বন্ধুতা অমলিন, নেই সেই খুঁত ওতে,
দেখা হলে মন ঘোরে গুপি-বাঘা জুতোতে।
জীবনের কাছে কারো যত থাক বায়না
বন্ধুর চেয়ে দামী আর কিছু পায় না।
নানাদিকে হেরে যদি বিষ লাগে আয়না,
সকলে ছাড়তে পারে, বন্ধুরা যায় না।
দেখো যেন এই পুঁজি কখনো ফুরায় না...
আর্যতীর্থ
*********************
। চরৈবেতি।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২.৮.২০২১।
ছাড়াছাড়ি হওয়া মানে ভাবতে বসো না,
আগামীর দিন থিতু দুঃখতে মোড়া,
কুশীলব কজনের বদল ঘটিয়ে,
আলাদা প্রবাহস্রোতে বয় গল্পরা।
কেউ যদি চলে যায়, দরজা দিও না,
বরঞ্চ খুলে দাও আরো হাট করে,
নতুন অতিথি কেউ আসলে আসুক,
ঝাড়পোঁছ করে নেওয়া মনের ভেতরে।
না এলেও ক্ষতি কি , বাইরেটা দেখো,
পৃথিবী দাঁড়িয়ে আছে স্বাগত জানাতে,
তার সাথে ভাগ করা যাক না জীবন,
অবয়ব যার দেখো রোজ আয়নাতে।
পথ ভাঙে, পথ জোড়ে নিয়মিত ভাবে,
কাল যেটা মজবুত, আজ ঝুরঝুরে,
দুনিয়া ঘুরলে খুঁজে কাউকে পাবে না,
খাদের কিনারা থেকে আসেনি যে ঘুরে।
কেউ ছেড়ে গেলে হয় সেই পথে কাঁটা,
তার মানে এই নয় ফুরিয়েছে পথ,
কাঁটাতার তুলে দিলে কেউ যাতায়াতে ,
সে সীমার বাইরেও রয়েছে জগৎ।
ছাড়াছাড়ি হওয়া মানে পথেরা আলাদা ,
দুদিকেই বাকি থাকে তবুও জীবন ,
এ বিষাদ স্থায়ী হবে যদি ভুলে ভাবো,
চলা থেমে যেতে পারে তবে অকারণ।
ক্ষতদের খতিয়ান স্মৃতিতে মেলাবে,
ফের পথ খুঁজে পা চালাবে যখন।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২.৮.২০২১।
ছাড়াছাড়ি হওয়া মানে ভাবতে বসো না,
আগামীর দিন থিতু দুঃখতে মোড়া,
কুশীলব কজনের বদল ঘটিয়ে,
আলাদা প্রবাহস্রোতে বয় গল্পরা।
কেউ যদি চলে যায়, দরজা দিও না,
বরঞ্চ খুলে দাও আরো হাট করে,
নতুন অতিথি কেউ আসলে আসুক,
ঝাড়পোঁছ করে নেওয়া মনের ভেতরে।
না এলেও ক্ষতি কি , বাইরেটা দেখো,
পৃথিবী দাঁড়িয়ে আছে স্বাগত জানাতে,
তার সাথে ভাগ করা যাক না জীবন,
অবয়ব যার দেখো রোজ আয়নাতে।
পথ ভাঙে, পথ জোড়ে নিয়মিত ভাবে,
কাল যেটা মজবুত, আজ ঝুরঝুরে,
দুনিয়া ঘুরলে খুঁজে কাউকে পাবে না,
খাদের কিনারা থেকে আসেনি যে ঘুরে।
কেউ ছেড়ে গেলে হয় সেই পথে কাঁটা,
তার মানে এই নয় ফুরিয়েছে পথ,
কাঁটাতার তুলে দিলে কেউ যাতায়াতে ,
সে সীমার বাইরেও রয়েছে জগৎ।
ছাড়াছাড়ি হওয়া মানে পথেরা আলাদা ,
দুদিকেই বাকি থাকে তবুও জীবন ,
এ বিষাদ স্থায়ী হবে যদি ভুলে ভাবো,
চলা থেমে যেতে পারে তবে অকারণ।
ক্ষতদের খতিয়ান স্মৃতিতে মেলাবে,
ফের পথ খুঁজে পা চালাবে যখন।
আর্যতীর্থ
*********************
। বিদায়মালা।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৩.৮.২০২১।
আজকাল প্রয়াণদিবস কেমন ঘটা করে হচ্ছে,
দেখেছো হারাধন?
জন্মদিনের থেকেও বেশি উদ্যোগে
মৃত্যুর তারিখের এই যে স্মরণ,
সেটা কি স্রেফ একটা হুজুগ
নাকি আমাদেরই চাপা পাপবোধ ,
যাদের গলায় মালা,
তাদের কাজের সাথে আমাদের যাপন-বিরোধ,
সে কথা ঢাকতে তাই বেদী করে
পুজো করি নতুন এক দেবতার মতো,
মানুষ না হলে তাঁরা কেন পিছু যাইনি যে,
অজুহাত থাকে কিছু হাতে অন্তত।
হারাধন, মণীষীর সংখ্যাটা কম নয় দেশে,
বরঞ্চ যথেষ্ট বেশি,
মনুষ্য সংখ্যাটা তবু বাড়ে না যে,
রসিকতা বলো দেখি এটা কোনদেশি!
অবশ্য বলতে পারো ,
লোক গুনে আঁতকিয়ে ওঠে প্রতি আদমসুমারি,
নেতারাও ছুতো দেন,
এই জনসংখ্যাকে নিয়ে কী করতে পারি,
সেখানে মানুষ কম,
বলাটা কেমন যেন জ্ঞান দেওয়া আঁতেলের ভানে
হারাধন, বলো দেখি তবে খুব ভালো করে ভেবে,
মনুষ্য কথাটার আছে কোন মানে।
জেনে রাখো চিরকালই অসৎ-য়ের সম্পদ বেশি,
মিথ্যেরই বেসাতি অধিক,
সুদূর অতীত থেকে অনাগত আগামীতে
এ নিয়ম রয়ে যাবে ঠিক।
ঘুষ খাওয়া মানুষের চারতলা বাড়ি হবে,
একই কাজে সৎ যাবে বাসে ঝুলে ঝুলে,
মোটকথা, বাস্তবে বিপরীতই ঘটমান সর্বদা,
ভুলে যাও শিখেছো যা স্কুলে।
তবুও এসব সয়ে যারা সৎ থেকে যায়,
ভালো থাকে স্রেফ ভালো থাকার তাগিদে,
তাদেরই মানুষ বলে ,জানো হারাধন,
অসৎ হয়না যারা পেলেও সুবিধে।
কটা লোক খুঁজে পাবে এরকম বলো
ওই আদমসুমারি হওয়া দেড়শো কোটিতে?
স্বচ্ছন্দে অসৎ হয় সাড়ে চোদ্দ আনা,
মণীষীর বাণী কাজ বইয়ের পাতায় থাকে যতনে নিভৃতে।
হারাধন, জন্মের দিনে নয়,
আমরা যোগ্য তাই প্রয়াণদিবসে ফটো খুঁজে মালা দিতে।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৩.৮.২০২১।
আজকাল প্রয়াণদিবস কেমন ঘটা করে হচ্ছে,
দেখেছো হারাধন?
জন্মদিনের থেকেও বেশি উদ্যোগে
মৃত্যুর তারিখের এই যে স্মরণ,
সেটা কি স্রেফ একটা হুজুগ
নাকি আমাদেরই চাপা পাপবোধ ,
যাদের গলায় মালা,
তাদের কাজের সাথে আমাদের যাপন-বিরোধ,
সে কথা ঢাকতে তাই বেদী করে
পুজো করি নতুন এক দেবতার মতো,
মানুষ না হলে তাঁরা কেন পিছু যাইনি যে,
অজুহাত থাকে কিছু হাতে অন্তত।
হারাধন, মণীষীর সংখ্যাটা কম নয় দেশে,
বরঞ্চ যথেষ্ট বেশি,
মনুষ্য সংখ্যাটা তবু বাড়ে না যে,
রসিকতা বলো দেখি এটা কোনদেশি!
অবশ্য বলতে পারো ,
লোক গুনে আঁতকিয়ে ওঠে প্রতি আদমসুমারি,
নেতারাও ছুতো দেন,
এই জনসংখ্যাকে নিয়ে কী করতে পারি,
সেখানে মানুষ কম,
বলাটা কেমন যেন জ্ঞান দেওয়া আঁতেলের ভানে
হারাধন, বলো দেখি তবে খুব ভালো করে ভেবে,
মনুষ্য কথাটার আছে কোন মানে।
জেনে রাখো চিরকালই অসৎ-য়ের সম্পদ বেশি,
মিথ্যেরই বেসাতি অধিক,
সুদূর অতীত থেকে অনাগত আগামীতে
এ নিয়ম রয়ে যাবে ঠিক।
ঘুষ খাওয়া মানুষের চারতলা বাড়ি হবে,
একই কাজে সৎ যাবে বাসে ঝুলে ঝুলে,
মোটকথা, বাস্তবে বিপরীতই ঘটমান সর্বদা,
ভুলে যাও শিখেছো যা স্কুলে।
তবুও এসব সয়ে যারা সৎ থেকে যায়,
ভালো থাকে স্রেফ ভালো থাকার তাগিদে,
তাদেরই মানুষ বলে ,জানো হারাধন,
অসৎ হয়না যারা পেলেও সুবিধে।
কটা লোক খুঁজে পাবে এরকম বলো
ওই আদমসুমারি হওয়া দেড়শো কোটিতে?
স্বচ্ছন্দে অসৎ হয় সাড়ে চোদ্দ আনা,
মণীষীর বাণী কাজ বইয়ের পাতায় থাকে যতনে নিভৃতে।
হারাধন, জন্মের দিনে নয়,
আমরা যোগ্য তাই প্রয়াণদিবসে ফটো খুঁজে মালা দিতে।
আর্যতীর্থ
*********************
। প্রকৃতি।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৩.৮.২০২১ রাত্রি।
ধরা যাক, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে, অদূরে শুনছো চলে গুলির লড়াই।
মেঘের ওপর ওড়ে বোমারু বিমান, শত্রু না মিত্রের এখনো জানো না।
ধরা যাক, সে সময়, তুমি এক বাসের মালিক, যাতে করে গোটা পঞ্চাশ লোক হাতে গোনা,
পালাতে পারবে কোনো নিরাপদ স্থানে। ভেবে বলো কাকে দেবে সে গাড়িতে ঠাঁই।
সাথী সন্তান আর মা বাবাকে ছাড়া, বন্ধু পড়শি আর প্রিয় পরিজন
ভালো করে ভেবেটেবে, সময় অনেক নিয়ে লিস্টিটা বানাবে যখন,
তখন দেখতে পাবে, যাবতীয় প্রিয় লোক ধরাতে পেরেছো সেই বাসে,
যত বড় লোক হও, আমাদের পৃথিবীটা আসলে আটকে আছে জনা পঞ্চাশে।
চলো এই খেলাটাকে আরেকটু কঠিন করি, শত্রু পড়েছে ঢুকে তোমার শহরে,
এইবেলা না পালালে মরবে সবাই। মুশকিল একটাই, তোমার যে গাড়ি তাতে সিট ছ’টা মোটে,
মনে ডুব দিয়ে ভাবা প্র্যাকটিস করো, বেঁচে থাকা প্রিয় কার ভাগ্যতে জোটে,
সে সিদ্ধান্ত কিন্তু শুধুই তোমার। কাকে ঠাঁই দেবে সেই গাড়ির ভেতরে?
মজাটা দেখবে জানো, এই বারে এসে যাবে হিসেবের মাঝখানে রক্তের টান,
বাবা মা সন্তান সাথীটি তো থাকবেই, নিকটাত্মীয় কেউ পেয়ে যাবে স্থান।
এ এক অদ্ভুত সুতো, ডি এন এর মতো যেটা মনকে পেঁচিয়ে আছে কষে,
বাঁচানোর কথা এলে পড়শি বন্ধু নয়, জিনে মিল আছে যার এসে পড়ে সে।
এবারে কঠিনতম পরীক্ষা দাও। গুড়ুম গুড়ুম চলে গুলি চারদিকে,
শত্রুরা এগোচ্ছে তড়িৎগতিতে, বন্দী নেওয়ার কোনো নেই অর্ডার।
এখনো রয়েছে পথ যা ধরে পালাতে পারো, আর আছে একখানা টুহুইলার,
মগজ চুলকে নিয়ে বলো দেখি ভেবে, একজন কাকে তুলে নেবে সে বাইকে?
কি হলো? থমকে কেন? কে সেই একজন যাকে ছেড়ে একা বাঁচা বৃথা?
কাকে নেবে? প্রিয় বন্ধু বা জীবনের সাথী, সহোদর জননী না পিতা?
জবাবটা আন্দাজ মোটামুটি করা যায়, যত ভালোবাসা থাক বাকিদের প্রতি,
অমন বাছতে হলে ,সমস্ত মানুষের নিশ্চিত চাহিদা হবে বেঁচে যাক তার সন্ততি।
সভ্যতা এগোক না হাজার শতক, প্রকৃতি ঠিক জানে প্রবাহিত রেখে দিতে প্রজাতির গতি।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৩.৮.২০২১ রাত্রি।
ধরা যাক, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে, অদূরে শুনছো চলে গুলির লড়াই।
মেঘের ওপর ওড়ে বোমারু বিমান, শত্রু না মিত্রের এখনো জানো না।
ধরা যাক, সে সময়, তুমি এক বাসের মালিক, যাতে করে গোটা পঞ্চাশ লোক হাতে গোনা,
পালাতে পারবে কোনো নিরাপদ স্থানে। ভেবে বলো কাকে দেবে সে গাড়িতে ঠাঁই।
সাথী সন্তান আর মা বাবাকে ছাড়া, বন্ধু পড়শি আর প্রিয় পরিজন
ভালো করে ভেবেটেবে, সময় অনেক নিয়ে লিস্টিটা বানাবে যখন,
তখন দেখতে পাবে, যাবতীয় প্রিয় লোক ধরাতে পেরেছো সেই বাসে,
যত বড় লোক হও, আমাদের পৃথিবীটা আসলে আটকে আছে জনা পঞ্চাশে।
চলো এই খেলাটাকে আরেকটু কঠিন করি, শত্রু পড়েছে ঢুকে তোমার শহরে,
এইবেলা না পালালে মরবে সবাই। মুশকিল একটাই, তোমার যে গাড়ি তাতে সিট ছ’টা মোটে,
মনে ডুব দিয়ে ভাবা প্র্যাকটিস করো, বেঁচে থাকা প্রিয় কার ভাগ্যতে জোটে,
সে সিদ্ধান্ত কিন্তু শুধুই তোমার। কাকে ঠাঁই দেবে সেই গাড়ির ভেতরে?
মজাটা দেখবে জানো, এই বারে এসে যাবে হিসেবের মাঝখানে রক্তের টান,
বাবা মা সন্তান সাথীটি তো থাকবেই, নিকটাত্মীয় কেউ পেয়ে যাবে স্থান।
এ এক অদ্ভুত সুতো, ডি এন এর মতো যেটা মনকে পেঁচিয়ে আছে কষে,
বাঁচানোর কথা এলে পড়শি বন্ধু নয়, জিনে মিল আছে যার এসে পড়ে সে।
এবারে কঠিনতম পরীক্ষা দাও। গুড়ুম গুড়ুম চলে গুলি চারদিকে,
শত্রুরা এগোচ্ছে তড়িৎগতিতে, বন্দী নেওয়ার কোনো নেই অর্ডার।
এখনো রয়েছে পথ যা ধরে পালাতে পারো, আর আছে একখানা টুহুইলার,
মগজ চুলকে নিয়ে বলো দেখি ভেবে, একজন কাকে তুলে নেবে সে বাইকে?
কি হলো? থমকে কেন? কে সেই একজন যাকে ছেড়ে একা বাঁচা বৃথা?
কাকে নেবে? প্রিয় বন্ধু বা জীবনের সাথী, সহোদর জননী না পিতা?
জবাবটা আন্দাজ মোটামুটি করা যায়, যত ভালোবাসা থাক বাকিদের প্রতি,
অমন বাছতে হলে ,সমস্ত মানুষের নিশ্চিত চাহিদা হবে বেঁচে যাক তার সন্ততি।
সভ্যতা এগোক না হাজার শতক, প্রকৃতি ঠিক জানে প্রবাহিত রেখে দিতে প্রজাতির গতি।
আর্যতীর্থ
*********************
। সিন্ধুস্থান।
কবি আর্যতীর্থ
পূর্বে রচিত একটি কবিতা মিলনসাগরে প্রকাশিত ৪.৮.২০২১।
ইউ এস জি’র পরে কিঞ্চিৎ টাকা গুঁজে দিয়ে
শাশুড়ি বললেন ‘ছেলে না মেয়ে?’
সদ্য গর্ভিনী মেয়েটি দাঁতে দাঁত চেপে বললো,’সিন্ধু!’
চমকিয়ে ডাক্তার ধমকিয়ে উঠলেন,
‘জানেননা এটা বেআইনি?’
মাছের বড় পিসটা
ছেলের থালায় দিতে যাচ্ছিলেন মা।
হাত আটকিয়ে বোনকে দেখিয়ে দাদা চেঁচিয়ে উঠলো, ‘সিন্ধু!’
র্যাকেটের মোক্ষম ব্যাকহ্যান্ডে
প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে চুরমার।
পাড়ার কিশোরীটিকে দেখে
শিষ দিয়ে উঠলো উঠতি মস্তান।
রোজ মুখ নিচু করা মেয়ে
হঠাৎ আজকে বলে উঠলো, ‘সিন্ধু’!
ঘন্টায় একশো মাইল বেগে
শাটল ককের সে ধাক্কা সামলানো ছোকরার কম্মো নয়!
ভালো সম্বন্ধ, সুতরাং পড়াশোনায় ইতি
সদ্য সাবালক মেয়েটির।
একলা কথার সুযোগে পাত্রকে
সে একটা কথাই বলেছিলো,
‘সিন্ধু’।
খবর এসেছে, পাত্র অপেক্ষা করবে ,
সে শিক্ষিত স্বনির্ভর সাথী-প্রত্যাশী।
এমনি করেই,
প্রতি ব্যস্ত মেট্রো থেকে প্রান্তিক জনপদে,
প্রতি খাপ পঞ্চায়েত আর
পুরুষ প্রধান সালিশী সভায়,
ভিড়ে দেহ ছুঁতে চাওয়া মনে,
চোখ দিয়ে ধর্ষণ করা ইচ্ছায়,
প্রতিটি উর্ধ্বতনের কামুক দৃষ্টিপাতের
উদ্যত ফণা’র সামনে
নারীর অস্ত্র আজ উদ্ধত মন্ত্রোচ্চারণ ‘সিন্ধু!’
পৃথিবীর থেকে অনেক উপরে
এক কল্পজগতে বসে,
সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা বিষণ্ণ বৈবস্বত মনুকে ডেকে বললেন,
‘তোমার পুরুষপ্রধান ভারতবর্ষ
যে সিন্ধুস্থান হয়ে গেলো হে!’
স্বর্গের অপ্সরা ও দেবীরা
খিলখিল করে হেসে উঠলেন তাই শুনে।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
পূর্বে রচিত একটি কবিতা মিলনসাগরে প্রকাশিত ৪.৮.২০২১।
ইউ এস জি’র পরে কিঞ্চিৎ টাকা গুঁজে দিয়ে
শাশুড়ি বললেন ‘ছেলে না মেয়ে?’
সদ্য গর্ভিনী মেয়েটি দাঁতে দাঁত চেপে বললো,’সিন্ধু!’
চমকিয়ে ডাক্তার ধমকিয়ে উঠলেন,
‘জানেননা এটা বেআইনি?’
মাছের বড় পিসটা
ছেলের থালায় দিতে যাচ্ছিলেন মা।
হাত আটকিয়ে বোনকে দেখিয়ে দাদা চেঁচিয়ে উঠলো, ‘সিন্ধু!’
র্যাকেটের মোক্ষম ব্যাকহ্যান্ডে
প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে চুরমার।
পাড়ার কিশোরীটিকে দেখে
শিষ দিয়ে উঠলো উঠতি মস্তান।
রোজ মুখ নিচু করা মেয়ে
হঠাৎ আজকে বলে উঠলো, ‘সিন্ধু’!
ঘন্টায় একশো মাইল বেগে
শাটল ককের সে ধাক্কা সামলানো ছোকরার কম্মো নয়!
ভালো সম্বন্ধ, সুতরাং পড়াশোনায় ইতি
সদ্য সাবালক মেয়েটির।
একলা কথার সুযোগে পাত্রকে
সে একটা কথাই বলেছিলো,
‘সিন্ধু’।
খবর এসেছে, পাত্র অপেক্ষা করবে ,
সে শিক্ষিত স্বনির্ভর সাথী-প্রত্যাশী।
এমনি করেই,
প্রতি ব্যস্ত মেট্রো থেকে প্রান্তিক জনপদে,
প্রতি খাপ পঞ্চায়েত আর
পুরুষ প্রধান সালিশী সভায়,
ভিড়ে দেহ ছুঁতে চাওয়া মনে,
চোখ দিয়ে ধর্ষণ করা ইচ্ছায়,
প্রতিটি উর্ধ্বতনের কামুক দৃষ্টিপাতের
উদ্যত ফণা’র সামনে
নারীর অস্ত্র আজ উদ্ধত মন্ত্রোচ্চারণ ‘সিন্ধু!’
পৃথিবীর থেকে অনেক উপরে
এক কল্পজগতে বসে,
সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা বিষণ্ণ বৈবস্বত মনুকে ডেকে বললেন,
‘তোমার পুরুষপ্রধান ভারতবর্ষ
যে সিন্ধুস্থান হয়ে গেলো হে!’
স্বর্গের অপ্সরা ও দেবীরা
খিলখিল করে হেসে উঠলেন তাই শুনে।
আর্যতীর্থ
*********************
। খেয়ালি পোলাও।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৪.৮.২০২১ বিকেল।
এর পরে কি? দশ লাখ বিশ লাখ ইনাম, চাকরিতে এক দুই ধাপ পদোন্নতি,
সংবর্ধনা সভা, দায়সারা কিছু সর্ষের তেল বা হেল্থ ড্রিংকসের বিজ্ঞাপন..
ব্যাস। দায়িত্ব শেষ হলো আমাদের অবশেষে অলিম্পিকবিজয়ীর প্রতি,
তারপর টি ভি জুড়ে আই পি এলের খেলা, নিয়মিত নিশিদিন ক্রিকেটযাপন।
এভাবেই চলেছে, চলবেও বহুকাল বাকি খেলাধুলা। পদক আসুক যত,
ঘরে ফিরে পান্তাই জোটে আগামী চ্যাম্পিয়নের হাড়ভাঙা খাটুনির পরে,
লাভলিনা মীরাবাঈ ওঠে স্রেফ অদম্য জিদে, মাঝপথে থেমে যায় কত,
গরীবের দেশ জুড়ে ক্রিকেটে নিলাম চলে, বিদেশী বিক্রি হয় কোটি টাকা দরে।
শত্রু ক্রিকেট নয়, প্লেয়ারেরা বস্তুত ব্যবসার কাঁচামাল, চাহিদার যন্ত্রে পেষাই,
আমরা শিয়রে তুলি একটা খেলাকে, ক্রিকেটারই শুধু হিরো প্রজন্ম জানে,
বাড়ি গাড়ি নারী দেখে মোহিত মিডল ক্লাস খেয়ালি পোলাওয়ে আরো তৈল মেশাই,
যেখানে মিলবে মধু , স্বভাবত মৌমাছি দলে দলে ভিড়বে সেখানে!
কবে যে সময় হবে ক্রিকেট পেরিয়ে গিয়ে বাকি খেলাগুলোতেও একই মন দিতে,
দেড়শো কোটির দেশে কখানা কাংস্য শুধু , মেরে কেটে এক দুটো রুপো সোনা জোটে,
প্রতিভা রয়েছে কত পৃথিবী দেখতে পেতো অন্য দেশের মতো ঠিক লগ্নীতে,
মন্দির বদলিয়ে কুস্তি তীরন্দাজি সাঁতারের কাঠামোরা কবে যে চাহিদা হবে ভোটে!
স্বপ্ন তবুও দেখি কখনো অলিম্পিকে জন গণ বারবার বাজে আর ত্রিবর্ণ ওঠে,
অবরে সবরে নয়, লাভলিনা সিন্ধু বা মীরাবাঈ চানু, যে সময় নিয়মিত ভাবে যাবে ঘটে।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৪.৮.২০২১ বিকেল।
এর পরে কি? দশ লাখ বিশ লাখ ইনাম, চাকরিতে এক দুই ধাপ পদোন্নতি,
সংবর্ধনা সভা, দায়সারা কিছু সর্ষের তেল বা হেল্থ ড্রিংকসের বিজ্ঞাপন..
ব্যাস। দায়িত্ব শেষ হলো আমাদের অবশেষে অলিম্পিকবিজয়ীর প্রতি,
তারপর টি ভি জুড়ে আই পি এলের খেলা, নিয়মিত নিশিদিন ক্রিকেটযাপন।
এভাবেই চলেছে, চলবেও বহুকাল বাকি খেলাধুলা। পদক আসুক যত,
ঘরে ফিরে পান্তাই জোটে আগামী চ্যাম্পিয়নের হাড়ভাঙা খাটুনির পরে,
লাভলিনা মীরাবাঈ ওঠে স্রেফ অদম্য জিদে, মাঝপথে থেমে যায় কত,
গরীবের দেশ জুড়ে ক্রিকেটে নিলাম চলে, বিদেশী বিক্রি হয় কোটি টাকা দরে।
শত্রু ক্রিকেট নয়, প্লেয়ারেরা বস্তুত ব্যবসার কাঁচামাল, চাহিদার যন্ত্রে পেষাই,
আমরা শিয়রে তুলি একটা খেলাকে, ক্রিকেটারই শুধু হিরো প্রজন্ম জানে,
বাড়ি গাড়ি নারী দেখে মোহিত মিডল ক্লাস খেয়ালি পোলাওয়ে আরো তৈল মেশাই,
যেখানে মিলবে মধু , স্বভাবত মৌমাছি দলে দলে ভিড়বে সেখানে!
কবে যে সময় হবে ক্রিকেট পেরিয়ে গিয়ে বাকি খেলাগুলোতেও একই মন দিতে,
দেড়শো কোটির দেশে কখানা কাংস্য শুধু , মেরে কেটে এক দুটো রুপো সোনা জোটে,
প্রতিভা রয়েছে কত পৃথিবী দেখতে পেতো অন্য দেশের মতো ঠিক লগ্নীতে,
মন্দির বদলিয়ে কুস্তি তীরন্দাজি সাঁতারের কাঠামোরা কবে যে চাহিদা হবে ভোটে!
স্বপ্ন তবুও দেখি কখনো অলিম্পিকে জন গণ বারবার বাজে আর ত্রিবর্ণ ওঠে,
অবরে সবরে নয়, লাভলিনা সিন্ধু বা মীরাবাঈ চানু, যে সময় নিয়মিত ভাবে যাবে ঘটে।
আর্যতীর্থ
*********************
। বার্তা।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৪.৮.২০২১ রাত্রি।
কথার কবর থেকে জেগে ওঠো কবি।
ছন্দের কারুকাজে হাততালি লোভী ও কলম,
এবড়োখেবড়ো পথ ছেড়ে আজ গদীর নরম নেয় খুঁজে
কথা লেখো জনতার নাড়ি বুঝে বুঝে , নেহাত ছলনা
যে কথা ফুঁসছে মনে, তা তো বলো না।
যা কিছু লিখছো তুমি বাঁধাধরা ছাঁচে,
ভক্ত বাহবা দেয়, আহা বলে নাচে, ভালো লাগে কি?
সাবেকি সে নিরাপদ কথা কত মেকি, তুমি সেটা জানো,
নিন্দের কুৎসিৎ দৈত্য বা দানো পাছে খাবলায় এসে,
তাই স্রোত অনুসারে চলে যাও ভেসে, মনকে প্রবোধ দাও,
আজকাল গালাগালি নেই একটাও, তোমারই প্রসাদগুনে,
মঞ্চতে মালা নাও হাততালি শুনে, বক্তৃতা ভাবগম্ভীরে,
স্তাবকেরা ভিড় করে চারদিকে ঘিরে, পুষ্পস্তবক জোটে মেলা,
এসময়ে মৌচাকে কেউ মারে ঢেলা?
পুরস্কারও আজ বহু গেছে জমে,
রোদ্দুর মেখে নেওয়া ক্রমে ক্রমে কমে ,এখন বন্ধ প্রায়,
লেখা থেকে মানুষের গন্ধ হারায়, যেমন কৃত্রিম আলো,
সূর্যের মতো হোক সাজ জমকালো, তবু সে ভেজালই,
তেমনই কথার ভিতে ভরে ঝুরো বালি, নড়বড়ে পদ্যের খাতা,
মানা মুশকিল তুমি বুঝছো না তা। সীমানায় পরিখা কেটেছো,
দরজায় এত জোরে কুলুপ এঁটেছো, নতুনের মুশকিল ঢোকা,
পুরনো পালিশ করে নতুনের ধোঁকা, কতদিন দেবে?
কবিতা থাকে কি বেঁচে অমন হিসেবে?
জাগো কবি, বদলাও , ওঠো নড়েচড়ে,
মৃতবৎ শুয়ে আছো কথার কবরে, খোলো বোজা চোখ,
যে সব কথাকে বুকে চেপে রাখে লোক, হোক তা কবিতা,
নতুনের তেজে জ্বালো পুরনোর চিতা। বেঁচে ওঠো কবি..
খ্যাতনামা কবিটির ঘুম ভেঙে গেলো। স্বপ্ন কি সবই?
দুলে ওঠে ঘরে রবিঠাকুরের ছবি…
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৪.৮.২০২১ রাত্রি।
কথার কবর থেকে জেগে ওঠো কবি।
ছন্দের কারুকাজে হাততালি লোভী ও কলম,
এবড়োখেবড়ো পথ ছেড়ে আজ গদীর নরম নেয় খুঁজে
কথা লেখো জনতার নাড়ি বুঝে বুঝে , নেহাত ছলনা
যে কথা ফুঁসছে মনে, তা তো বলো না।
যা কিছু লিখছো তুমি বাঁধাধরা ছাঁচে,
ভক্ত বাহবা দেয়, আহা বলে নাচে, ভালো লাগে কি?
সাবেকি সে নিরাপদ কথা কত মেকি, তুমি সেটা জানো,
নিন্দের কুৎসিৎ দৈত্য বা দানো পাছে খাবলায় এসে,
তাই স্রোত অনুসারে চলে যাও ভেসে, মনকে প্রবোধ দাও,
আজকাল গালাগালি নেই একটাও, তোমারই প্রসাদগুনে,
মঞ্চতে মালা নাও হাততালি শুনে, বক্তৃতা ভাবগম্ভীরে,
স্তাবকেরা ভিড় করে চারদিকে ঘিরে, পুষ্পস্তবক জোটে মেলা,
এসময়ে মৌচাকে কেউ মারে ঢেলা?
পুরস্কারও আজ বহু গেছে জমে,
রোদ্দুর মেখে নেওয়া ক্রমে ক্রমে কমে ,এখন বন্ধ প্রায়,
লেখা থেকে মানুষের গন্ধ হারায়, যেমন কৃত্রিম আলো,
সূর্যের মতো হোক সাজ জমকালো, তবু সে ভেজালই,
তেমনই কথার ভিতে ভরে ঝুরো বালি, নড়বড়ে পদ্যের খাতা,
মানা মুশকিল তুমি বুঝছো না তা। সীমানায় পরিখা কেটেছো,
দরজায় এত জোরে কুলুপ এঁটেছো, নতুনের মুশকিল ঢোকা,
পুরনো পালিশ করে নতুনের ধোঁকা, কতদিন দেবে?
কবিতা থাকে কি বেঁচে অমন হিসেবে?
জাগো কবি, বদলাও , ওঠো নড়েচড়ে,
মৃতবৎ শুয়ে আছো কথার কবরে, খোলো বোজা চোখ,
যে সব কথাকে বুকে চেপে রাখে লোক, হোক তা কবিতা,
নতুনের তেজে জ্বালো পুরনোর চিতা। বেঁচে ওঠো কবি..
খ্যাতনামা কবিটির ঘুম ভেঙে গেলো। স্বপ্ন কি সবই?
দুলে ওঠে ঘরে রবিঠাকুরের ছবি…
আর্যতীর্থ
*********************
। ফোন আর ফটো।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৫.৮.২০২১।
ফোনের ওপার থাকা মানুষ এখন সাথী চোখের জলে
ফটোর দিকে দৃষ্টি গেলেই অতীত হাজার গল্প বলে।
আড্ডা এবং কাজের কথায় টানলো দাঁড়ি হঠাৎ সময়,
আব্বুলিসের কথা বলে সেই যে গেলো, আর ফেরা নয়।
ফোনের ওপার থাকা মানুষ হাসছে ফটোর ওপার থেকে
নিংড়ে নিয়ে সবার হাসি বিষাদ গেছে এপার রেখে।
টুকরো স্মৃতির ঢেউগুলো আজ ক্রমাগত করায় মনে,
হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাস বদল আর হবে না একটা ফোনে।
আমরা সবাই ধরেই থাকি থাকবে পাশে আছে যারা,
আগামীকাল কেবল জানে আরেকটা দিন বাঁচে কারা।
হয়না বলা যেসব কথা সময় খুঁজে বলবো বলে,
নিরুক্ততেই ঠাঁই পেয়ে যায় পরিস্থিতির ভোলবদলে।
ফোনের মানুষ ফটো হলে সঙ্গী তখন কেবল স্মৃতি
ধমক দিয়ে অতীত বলে একটু যদি সময় দিতি!
ওর বেশি আর নেই উপহার, কাউকে নিজের সময় দেওয়া,
তাড়াহুড়োর সে ভুলগুলো যায়না পরে শুধরে নেওয়া।
করলে সবুর টক থেকে যায় অনেকসময় স্মৃতির মেওয়া,
সবার সময় যাচ্ছে ক্ষয়ে, বলছে ফটোয় ধূপের ধোঁয়া…
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৫.৮.২০২১।
ফোনের ওপার থাকা মানুষ এখন সাথী চোখের জলে
ফটোর দিকে দৃষ্টি গেলেই অতীত হাজার গল্প বলে।
আড্ডা এবং কাজের কথায় টানলো দাঁড়ি হঠাৎ সময়,
আব্বুলিসের কথা বলে সেই যে গেলো, আর ফেরা নয়।
ফোনের ওপার থাকা মানুষ হাসছে ফটোর ওপার থেকে
নিংড়ে নিয়ে সবার হাসি বিষাদ গেছে এপার রেখে।
টুকরো স্মৃতির ঢেউগুলো আজ ক্রমাগত করায় মনে,
হোয়াটসঅ্যাপের স্ট্যাটাস বদল আর হবে না একটা ফোনে।
আমরা সবাই ধরেই থাকি থাকবে পাশে আছে যারা,
আগামীকাল কেবল জানে আরেকটা দিন বাঁচে কারা।
হয়না বলা যেসব কথা সময় খুঁজে বলবো বলে,
নিরুক্ততেই ঠাঁই পেয়ে যায় পরিস্থিতির ভোলবদলে।
ফোনের মানুষ ফটো হলে সঙ্গী তখন কেবল স্মৃতি
ধমক দিয়ে অতীত বলে একটু যদি সময় দিতি!
ওর বেশি আর নেই উপহার, কাউকে নিজের সময় দেওয়া,
তাড়াহুড়োর সে ভুলগুলো যায়না পরে শুধরে নেওয়া।
করলে সবুর টক থেকে যায় অনেকসময় স্মৃতির মেওয়া,
সবার সময় যাচ্ছে ক্ষয়ে, বলছে ফটোয় ধূপের ধোঁয়া…
আর্যতীর্থ
*********************
। স্বাধীন।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৬.৮.২০২১।
দেখো মেয়ে , স্বাধীনতা দিয়েছি তোমাকে।
শিক্ষিত হতে পারো চাও যতখানি,
পাইলট বিচারক পুলিশ সেনানী,
ডাক্তার খেলোয়াড় নেতা বা উকিল,
কোনো কিছু হওয়া আজ নয় মুশকিল,
দেখো, দেখো মেয়ে,
স্বাধীনতা কতখানি দিয়েছি তোমাকে,
মুখ খুলবার আগে মনে যেন থাকে।
মুখ কেন খুলবে? ওমা সে কি কথা,
দেখোনি খবরে ওই ঝামেলা অযথা,
সামান্য ড্রেস নিয়ে আপত্তি হলে,
কত মেয়ে প্রতিবাদে উঁচু গলা তোলে?
আরে বাবা, যতই হোক না কেন মেয়েরা স্বাধীন,
ঠিক কত বড় হলে পোশাক শালীন,
সেটা ঠিক করবে তো পুরুষেরই চোখ,
চারদিকে এই এত বাড়ে ধর্ষক,
আসলে সুবোধ সব, খুব ভালো ছেলে,
ক্লিভেজের দর্শনে কাম পেয়ে গেলে,
করবে কি বেচারিরা বলো তো তখন,
ওদের তো দোষ নেই, দোষী হরমোন।
অবশ্য আজকাল শিশুদেরও ছাড়ছে না ওরা..
সে যাকগে যাক,
পাগল না হয় ভালোমানুষের পো’রা,
সেটা চাই দেখা,
ওসব পোশাক পরে বেরিও না একা,
বিপদে পড়েনা যেই মেয়ে সাবধানী,
আহা, ওইটুকু বাদ দিলে তুমি তো স্বাধীনই।
সামান্য কিছু এতে যোগ করি আরো,
স্বাধীনতা দেয় এনে স্বাধীন বিচারও,
তবুও বাছবে সাথী যখন জীবনে,
সমাজ ও পরিবার থাকে যেন মনে।
আরে বাবা, বংশের মর্যাদা আছে,
মুখ তো দেখাতে হয় সমাজের কাছে,
ধর্ম ও জাতপাত ভীষণ জরুরি,
অন্যের জাত যদি মেয়ে করে চুরি,
তবে সেটা ছেড়ে দেওয়া যায় না কি আর,
প্রতিশোধ কোনোভাবে নেওয়া চাই তার।
তুমি যদি হার্ট করো আমার ফিলিংয়ে,
আমি তবে মন দেবো অনার কিলিংয়ে,
এই শোধবোধ প্রথা বহুকাল চালু,
বেড়া ভেঙে দাও যদি পথ ক্রমে ঢালু,
ক্রমশ নিচের দিকে রসাতলে নেবে।
সুতরাং , মেয়ে তুমি সাথী বেছো ভেবে,
খুশি যেন থাকে সাত পুরুষ তোমার,
আহা ,জীবনসঙ্গী বাছা বিরাট ব্যাপার।
সামান্য এইটুকু নিতে হবে মেনে,
লক্ষ্মণরেখা নাও নিজে থেকে টেনে,
ভুলেও যেও না যেন তার থেকে দূর!
শেকলের ঝনঝন? আরে ধুর ধুর,
স্বাধীনতা নাচে ওটা, বাজছে নূপুর..
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৬.৮.২০২১।
দেখো মেয়ে , স্বাধীনতা দিয়েছি তোমাকে।
শিক্ষিত হতে পারো চাও যতখানি,
পাইলট বিচারক পুলিশ সেনানী,
ডাক্তার খেলোয়াড় নেতা বা উকিল,
কোনো কিছু হওয়া আজ নয় মুশকিল,
দেখো, দেখো মেয়ে,
স্বাধীনতা কতখানি দিয়েছি তোমাকে,
মুখ খুলবার আগে মনে যেন থাকে।
মুখ কেন খুলবে? ওমা সে কি কথা,
দেখোনি খবরে ওই ঝামেলা অযথা,
সামান্য ড্রেস নিয়ে আপত্তি হলে,
কত মেয়ে প্রতিবাদে উঁচু গলা তোলে?
আরে বাবা, যতই হোক না কেন মেয়েরা স্বাধীন,
ঠিক কত বড় হলে পোশাক শালীন,
সেটা ঠিক করবে তো পুরুষেরই চোখ,
চারদিকে এই এত বাড়ে ধর্ষক,
আসলে সুবোধ সব, খুব ভালো ছেলে,
ক্লিভেজের দর্শনে কাম পেয়ে গেলে,
করবে কি বেচারিরা বলো তো তখন,
ওদের তো দোষ নেই, দোষী হরমোন।
অবশ্য আজকাল শিশুদেরও ছাড়ছে না ওরা..
সে যাকগে যাক,
পাগল না হয় ভালোমানুষের পো’রা,
সেটা চাই দেখা,
ওসব পোশাক পরে বেরিও না একা,
বিপদে পড়েনা যেই মেয়ে সাবধানী,
আহা, ওইটুকু বাদ দিলে তুমি তো স্বাধীনই।
সামান্য কিছু এতে যোগ করি আরো,
স্বাধীনতা দেয় এনে স্বাধীন বিচারও,
তবুও বাছবে সাথী যখন জীবনে,
সমাজ ও পরিবার থাকে যেন মনে।
আরে বাবা, বংশের মর্যাদা আছে,
মুখ তো দেখাতে হয় সমাজের কাছে,
ধর্ম ও জাতপাত ভীষণ জরুরি,
অন্যের জাত যদি মেয়ে করে চুরি,
তবে সেটা ছেড়ে দেওয়া যায় না কি আর,
প্রতিশোধ কোনোভাবে নেওয়া চাই তার।
তুমি যদি হার্ট করো আমার ফিলিংয়ে,
আমি তবে মন দেবো অনার কিলিংয়ে,
এই শোধবোধ প্রথা বহুকাল চালু,
বেড়া ভেঙে দাও যদি পথ ক্রমে ঢালু,
ক্রমশ নিচের দিকে রসাতলে নেবে।
সুতরাং , মেয়ে তুমি সাথী বেছো ভেবে,
খুশি যেন থাকে সাত পুরুষ তোমার,
আহা ,জীবনসঙ্গী বাছা বিরাট ব্যাপার।
সামান্য এইটুকু নিতে হবে মেনে,
লক্ষ্মণরেখা নাও নিজে থেকে টেনে,
ভুলেও যেও না যেন তার থেকে দূর!
শেকলের ঝনঝন? আরে ধুর ধুর,
স্বাধীনতা নাচে ওটা, বাজছে নূপুর..
আর্যতীর্থ
*********************
। একটুর জন্য।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৬.৮.২০২১।
আর কতকাল আমরা দুঃখের বদলে আনন্দে চেঁচিয়ে বলবো,
আহা তবুও তো রূপো! তবুও তো ব্রোঞ্জ! ইহাও অনন্য!
আর কতকাল আমরা চতুর্থ নিয়ে হাত কচলিয়ে বলবো,
আরে বাবা, চেষ্টা তো করেছে, ব্যস একটুর জন্য....
কি নেই আমাদের?একশো তিরিশ কোটি মানুষের দেশে,
কোন ভীল সাঁওতাল নেই যার তীর লাগে গিয়ে অব্যর্থ নিশানায়?
নেই কোনো দামাল কিশোর বা কিশোরী, দুদ্দার ছুটে যেতে বাতাসের আগে?
কোনো নুলিয়ার ছেলে নেই উপকুলে,ঝপাঝপ দাঁড় টেনে যেতে নৌকায়?
সব আছে, সব। নেই শুধু সরকারী বরাভয়, নেই শুধু খু্ঁজে নেওয়া সন্ধানী চোখ,
লাল ফিতে বাঁধনটা ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া কোনো হাত নেই,
যে হাত কোষাগার উপুর করে বলবে, ওঠা ধনুক, চালা বন্দুক,
সাঁতার দে, দৌড়া, সাইকেল চালা, চেয়ে দেখ, এই আমি আছি, ঠিক তোর পাশেই।
তাই, মাদারির মেয়ে প্রদুনোভা দেখায় রাস্তার তামাশায়,
তাই, নুলিয়ার ছেলে পয়সা খুঁজতে শুধু সাগরে ঝাঁপায়,
তাই, অব্যর্থ নিশানায় পুলিশ মারতে থাকে মাওবাদী ছেলে,
তাই, অবিরাম ঘুরে চলে নোট দিয়ে মালা পরে বেকার সাইকেলে,
আর আমরা, মোটামুটি রোজগার করা সুখী সংসারী যারা, সোফার সামনে বসা অকর্মন্য,
প্রতি চার বছর অন্তর মাথায় হাত দিয়ে বিড়বিড় করি, ইস, একটুর জন্য.......
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৬.৮.২০২১।
আর কতকাল আমরা দুঃখের বদলে আনন্দে চেঁচিয়ে বলবো,
আহা তবুও তো রূপো! তবুও তো ব্রোঞ্জ! ইহাও অনন্য!
আর কতকাল আমরা চতুর্থ নিয়ে হাত কচলিয়ে বলবো,
আরে বাবা, চেষ্টা তো করেছে, ব্যস একটুর জন্য....
কি নেই আমাদের?একশো তিরিশ কোটি মানুষের দেশে,
কোন ভীল সাঁওতাল নেই যার তীর লাগে গিয়ে অব্যর্থ নিশানায়?
নেই কোনো দামাল কিশোর বা কিশোরী, দুদ্দার ছুটে যেতে বাতাসের আগে?
কোনো নুলিয়ার ছেলে নেই উপকুলে,ঝপাঝপ দাঁড় টেনে যেতে নৌকায়?
সব আছে, সব। নেই শুধু সরকারী বরাভয়, নেই শুধু খু্ঁজে নেওয়া সন্ধানী চোখ,
লাল ফিতে বাঁধনটা ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া কোনো হাত নেই,
যে হাত কোষাগার উপুর করে বলবে, ওঠা ধনুক, চালা বন্দুক,
সাঁতার দে, দৌড়া, সাইকেল চালা, চেয়ে দেখ, এই আমি আছি, ঠিক তোর পাশেই।
তাই, মাদারির মেয়ে প্রদুনোভা দেখায় রাস্তার তামাশায়,
তাই, নুলিয়ার ছেলে পয়সা খুঁজতে শুধু সাগরে ঝাঁপায়,
তাই, অব্যর্থ নিশানায় পুলিশ মারতে থাকে মাওবাদী ছেলে,
তাই, অবিরাম ঘুরে চলে নোট দিয়ে মালা পরে বেকার সাইকেলে,
আর আমরা, মোটামুটি রোজগার করা সুখী সংসারী যারা, সোফার সামনে বসা অকর্মন্য,
প্রতি চার বছর অন্তর মাথায় হাত দিয়ে বিড়বিড় করি, ইস, একটুর জন্য.......
আর্যতীর্থ
*********************
