কবি আর্যতীর্থর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
। রোলিং স্টোন।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৭.৮.২০২১।
বাসতে ভালো চাইনা আমি, থামিয়ে দেবো এ পাগলামি
কিন্তু আমায় ভালোবাসা বন্ধ করার কারণ দাও,
লাভ আর ক্ষতির ঘোর হিসেবে, লাভকে জানি জিরো দেবে,
সেই খতিয়ান যতই শোনাও, শুনতে নারাজ বারণ তাও।
ভালোবাসায় অনেক হ্যাপা, লালের সামনে ষণ্ড খ্যাপা
ঢুঁসিয়ে দিলে ছেতরে হৃদয় কেতরে পড়ে মন,
বন্ধু স্বজন বোঝায় খুলে, আঠারো ঘা প্রেমে ছুঁলে,
কেষ্ট রাধার যুগের থেকেই জ্বলছে বৃন্দাবন ।
আমায় নিয়ে কি যে করি, যখন তখন প্রেমে পড়ি,
কাদের ঝি সে খোঁজখবরে ঢেউ তুলে দিই বিশ্বে,
পাত্তা যদি সে না দিলো, অশ্রু ঝরাই কয়েক কিলো,
পরের দিনই ঠিক করে নিই, প্রেম মোটে না বিষ সে।
বন্ধু বলেন বোকার মরণ, অশান্তিকে করিস স্মরণ,
দিব্যি আছিস রাজার হালে প্রেম কারো না পেয়ে,
কেউ যদি যায় রাজি হয়ে, বাঁচবি তখন দুঃখ সয়ে,
সারা জীবন পেছন পেছন ঘোরাবে সেই মেয়ে।
মন তবু তা শুনতে নারাজ, ভালোবাসাই তার যেন কাজ
একজনে যেই মুখ ঘোরালো বাছছি আরেকজনকে,
পাত্তা যদি না পাই কারো, উল্টে বরং পোয়া বারো,
সামনে আরো ভালোর আশায় সামলিয়ে নিই মনকে।
গোলেমালে হরিবোলে , দুম করে কেউ রাজি হলে,
করবো কী যে সেটাই ভেবে পাই না আমি জানো,
প্রেমে পড়াই কাজ যে আমার, প্রেম করাটার অন্য গ্রামার
লোকে বলে এখন নাকি নেই সে ব্যাকরণও ।
কাজ কি আমার প্রেমিকাতে, সমস্ত প্রেম একের খাতে,
সে ভুল করে প্রেমে পড়াই থামিয়ে দেবো কেন?
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৭.৮.২০২১।
বাসতে ভালো চাইনা আমি, থামিয়ে দেবো এ পাগলামি
কিন্তু আমায় ভালোবাসা বন্ধ করার কারণ দাও,
লাভ আর ক্ষতির ঘোর হিসেবে, লাভকে জানি জিরো দেবে,
সেই খতিয়ান যতই শোনাও, শুনতে নারাজ বারণ তাও।
ভালোবাসায় অনেক হ্যাপা, লালের সামনে ষণ্ড খ্যাপা
ঢুঁসিয়ে দিলে ছেতরে হৃদয় কেতরে পড়ে মন,
বন্ধু স্বজন বোঝায় খুলে, আঠারো ঘা প্রেমে ছুঁলে,
কেষ্ট রাধার যুগের থেকেই জ্বলছে বৃন্দাবন ।
আমায় নিয়ে কি যে করি, যখন তখন প্রেমে পড়ি,
কাদের ঝি সে খোঁজখবরে ঢেউ তুলে দিই বিশ্বে,
পাত্তা যদি সে না দিলো, অশ্রু ঝরাই কয়েক কিলো,
পরের দিনই ঠিক করে নিই, প্রেম মোটে না বিষ সে।
বন্ধু বলেন বোকার মরণ, অশান্তিকে করিস স্মরণ,
দিব্যি আছিস রাজার হালে প্রেম কারো না পেয়ে,
কেউ যদি যায় রাজি হয়ে, বাঁচবি তখন দুঃখ সয়ে,
সারা জীবন পেছন পেছন ঘোরাবে সেই মেয়ে।
মন তবু তা শুনতে নারাজ, ভালোবাসাই তার যেন কাজ
একজনে যেই মুখ ঘোরালো বাছছি আরেকজনকে,
পাত্তা যদি না পাই কারো, উল্টে বরং পোয়া বারো,
সামনে আরো ভালোর আশায় সামলিয়ে নিই মনকে।
গোলেমালে হরিবোলে , দুম করে কেউ রাজি হলে,
করবো কী যে সেটাই ভেবে পাই না আমি জানো,
প্রেমে পড়াই কাজ যে আমার, প্রেম করাটার অন্য গ্রামার
লোকে বলে এখন নাকি নেই সে ব্যাকরণও ।
কাজ কি আমার প্রেমিকাতে, সমস্ত প্রেম একের খাতে,
সে ভুল করে প্রেমে পড়াই থামিয়ে দেবো কেন?
আর্যতীর্থ
*********************
। পথ।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৭.৮.২০২১ দুপুর।
পাশের কোনো দেশে জনতা উগ্র হিংস্রতাতে একটা মন্দির ভেঙে ফেললো।
আমরা এখন দুটো কাজ করতে পারি।
সংখ্যাগুরুর ঔদ্ধত্যে পাঁচটা মসজিদ ভেঙে গর্জন করে উঠতে পারি ‘দেখ কেমন লাগে!’
অথবা কোনো উপাসনালয় আঁচড় না লাগে যেন,
সেটার ব্যবস্থা করে তৃপ্তির হাসি হেসে বলতে পারি,
‘আমরা ওরকম নয়।’
প্রথমটার ইচ্ছে স্বাভাবিক,
দ্বিতীয়টা করতে বড় ধৈর্য আর সংযম লাগে,
প্রথমটা করাও সহজ,
সারা দুনিয়ার মিডিয়া কভারেজে দেখা যাবে গরিলার মতো বুক বাজানো ধ্বংসাত্মক উন্মাদনা,
দ্বিতীয়টাতে প্রচার পাওয়া কঠিন,
কারণ শান্তি ও সহাবস্থানের গলার স্বর কখনো উঁচু হয় না,
চারদিকে অজস্র যুদ্ধ ও ছায়াযুদ্ধের মধ্যে বসে থাকা সভ্যতা
কেন জানিনা শান্তিকেই স্বাভাবিক স্থিতাবস্থা ভাবে।
আর স্থিতাবস্থা কখনো ব্রেকিং নিউজ হয়না, সংবাদে সেটা কেউ কেন বা দেখাবে।
ইতিহাস নিস্পৃহ চোখে দেখছে এখন, স্বদেশ আজ কোন পথে যাবে।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৭.৮.২০২১ দুপুর।
পাশের কোনো দেশে জনতা উগ্র হিংস্রতাতে একটা মন্দির ভেঙে ফেললো।
আমরা এখন দুটো কাজ করতে পারি।
সংখ্যাগুরুর ঔদ্ধত্যে পাঁচটা মসজিদ ভেঙে গর্জন করে উঠতে পারি ‘দেখ কেমন লাগে!’
অথবা কোনো উপাসনালয় আঁচড় না লাগে যেন,
সেটার ব্যবস্থা করে তৃপ্তির হাসি হেসে বলতে পারি,
‘আমরা ওরকম নয়।’
প্রথমটার ইচ্ছে স্বাভাবিক,
দ্বিতীয়টা করতে বড় ধৈর্য আর সংযম লাগে,
প্রথমটা করাও সহজ,
সারা দুনিয়ার মিডিয়া কভারেজে দেখা যাবে গরিলার মতো বুক বাজানো ধ্বংসাত্মক উন্মাদনা,
দ্বিতীয়টাতে প্রচার পাওয়া কঠিন,
কারণ শান্তি ও সহাবস্থানের গলার স্বর কখনো উঁচু হয় না,
চারদিকে অজস্র যুদ্ধ ও ছায়াযুদ্ধের মধ্যে বসে থাকা সভ্যতা
কেন জানিনা শান্তিকেই স্বাভাবিক স্থিতাবস্থা ভাবে।
আর স্থিতাবস্থা কখনো ব্রেকিং নিউজ হয়না, সংবাদে সেটা কেউ কেন বা দেখাবে।
ইতিহাস নিস্পৃহ চোখে দেখছে এখন, স্বদেশ আজ কোন পথে যাবে।
আর্যতীর্থ
*********************
। অরাজনৈতিক।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা রচনা ৭.৮.২০২১ রাত্রি।
বোশেখের পঁচিশ বা শ্রাবণের বাইশে,
ক্ষমতা কাঁকড় মেশে কবিতার রাইসে।
সারাদিন কেটে যায় সেই ভাত গলাতে,
কামড়ালে দাঁতে লাগে, গিলে নিলে গলাতে,
পদ্যের ভোজে তাই বেছে বেছে খাই সে।
এই দুটো দিন শুধু থাক গান কবিতা
ক্ষমতার রাজনীতি বাদ যাক সবই তা।
নেতাদের বড় ছবি, রবি রন ক্ষুদে-তে
বাঙালী ভরাবে পেট বিদুরের খুদেতে
কথা সুর ভুল হলে মানবেন রবি তা।
রাজনীতি বাদ দিয়ে আজ কিছু হয় না,
মণীষীরা পোস্টারে প্রতীকের গয়না।
রবি নিয়ে এত রব, রবি কিছু না পড়ে
ক্ষমতা নৃত্য করে দেখো কিছু না পরে
যত ভুল কন নেতা, কেউ কিছু কয় না।
শ্রাবণের বাইশ আর বোশেখের পঁচিশে
যার গলা শোনা যায়, রাজনীতি অছি সে।
এত কষে রবি ঘিরে প্যাঁচানো সে রশি কে,
হাঁসফাঁস করে ওঠে কবিতার রসিকে,
কোন নেতা কত বড় হয় কচকচি সে।
আজ তাই চাই এই শ্রাবণের বাইশে,
মানা হোক কবি নন রাজনীতি চাঁই সে।
পোস্টারে রবি নয়, অনুরোধ সবিনয়
ক্ষমতার তাঁবেদারি জীবনের সবই নয়
অন্তত এ দুদিন না পাক লাই সে।
রাজনীতিহীনভাবে রবিগান গাই সে।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা রচনা ৭.৮.২০২১ রাত্রি।
বোশেখের পঁচিশ বা শ্রাবণের বাইশে,
ক্ষমতা কাঁকড় মেশে কবিতার রাইসে।
সারাদিন কেটে যায় সেই ভাত গলাতে,
কামড়ালে দাঁতে লাগে, গিলে নিলে গলাতে,
পদ্যের ভোজে তাই বেছে বেছে খাই সে।
এই দুটো দিন শুধু থাক গান কবিতা
ক্ষমতার রাজনীতি বাদ যাক সবই তা।
নেতাদের বড় ছবি, রবি রন ক্ষুদে-তে
বাঙালী ভরাবে পেট বিদুরের খুদেতে
কথা সুর ভুল হলে মানবেন রবি তা।
রাজনীতি বাদ দিয়ে আজ কিছু হয় না,
মণীষীরা পোস্টারে প্রতীকের গয়না।
রবি নিয়ে এত রব, রবি কিছু না পড়ে
ক্ষমতা নৃত্য করে দেখো কিছু না পরে
যত ভুল কন নেতা, কেউ কিছু কয় না।
শ্রাবণের বাইশ আর বোশেখের পঁচিশে
যার গলা শোনা যায়, রাজনীতি অছি সে।
এত কষে রবি ঘিরে প্যাঁচানো সে রশি কে,
হাঁসফাঁস করে ওঠে কবিতার রসিকে,
কোন নেতা কত বড় হয় কচকচি সে।
আজ তাই চাই এই শ্রাবণের বাইশে,
মানা হোক কবি নন রাজনীতি চাঁই সে।
পোস্টারে রবি নয়, অনুরোধ সবিনয়
ক্ষমতার তাঁবেদারি জীবনের সবই নয়
অন্তত এ দুদিন না পাক লাই সে।
রাজনীতিহীনভাবে রবিগান গাই সে।
আর্যতীর্থ
*********************
। বর্শা।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৮.৮.২০২১।
বর্শা তুলে ছুঁড়লো সে, সবার আগে উড়লো সে,
জনগণ’র সুরের জাদু বাজলো শোনো ভিন দেশে।
একশো বছর অপেক্ষায়, একশো বছর উপেক্ষায়,
দেড়শো কোটির স্বপ্নকে আজ সোনার সুতোয় জুড়লো সে।
সুবেহদারের হাত ধরে, নতুন সুবাহ ফুটলো রে,
ফিরলো যারা শূন্য হাতে জীবন দিয়ে খুব লড়ে,
আজকে তাদের ক্লান্ত গা’য়, সোনার হাতের সান্ত্বনায়
ভবিষ্যতের স্বপ্নগুলো জয়ের দিকে ছুটলো রে।
বর্শা জোগায় ভরসা তার, জাগতে পারে দেশ এবার
চতুর্থতে থমকে যাওয়া হয়তো হবে শেষ এবার
সোনার উড়ান জ্যাভলিনের, আস্কারা দেয় সেই দিনের
জনগণ’ উঠবে বেজে শেষ হবে যেই রেস আবার।
নীরজ এলে বর্ষাকাল, অতীত মুছে ভরসা কাল,
প্রজন্মদের নতুন ফসল ছুঁড়বে আবার বর্শা কাল।
লক্ষ্য হবে ফের সোনা, চতুর্থে হার মানবো না,
চোপড়া নীরজ সুরজ হয়ে করবে আলো রোজ সকাল।
দেখো যেন নেভে না আর জ্বাললো নীরজ যেই মশাল।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৮.৮.২০২১।
বর্শা তুলে ছুঁড়লো সে, সবার আগে উড়লো সে,
জনগণ’র সুরের জাদু বাজলো শোনো ভিন দেশে।
একশো বছর অপেক্ষায়, একশো বছর উপেক্ষায়,
দেড়শো কোটির স্বপ্নকে আজ সোনার সুতোয় জুড়লো সে।
সুবেহদারের হাত ধরে, নতুন সুবাহ ফুটলো রে,
ফিরলো যারা শূন্য হাতে জীবন দিয়ে খুব লড়ে,
আজকে তাদের ক্লান্ত গা’য়, সোনার হাতের সান্ত্বনায়
ভবিষ্যতের স্বপ্নগুলো জয়ের দিকে ছুটলো রে।
বর্শা জোগায় ভরসা তার, জাগতে পারে দেশ এবার
চতুর্থতে থমকে যাওয়া হয়তো হবে শেষ এবার
সোনার উড়ান জ্যাভলিনের, আস্কারা দেয় সেই দিনের
জনগণ’ উঠবে বেজে শেষ হবে যেই রেস আবার।
নীরজ এলে বর্ষাকাল, অতীত মুছে ভরসা কাল,
প্রজন্মদের নতুন ফসল ছুঁড়বে আবার বর্শা কাল।
লক্ষ্য হবে ফের সোনা, চতুর্থে হার মানবো না,
চোপড়া নীরজ সুরজ হয়ে করবে আলো রোজ সকাল।
দেখো যেন নেভে না আর জ্বাললো নীরজ যেই মশাল।
আর্যতীর্থ
*********************
। বিষাদ সুখ।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৮.৮.২০২১ সন্ধ্যা।
শ্রাবণের মেঘে শুধু বৃষ্টি থাকে না,
আকাশের অশ্রুও তাতে মিশে আছে ,
সেই যে গেছেন রাজা তারিখ বাইশে,
সে শোকের ছিটে আজও আনাচে কানাচে।
অন্য মাসেরা তবু ঠারেঠোরে বলে,
ওই শোক বুকে রেখে তুই যে অমর,
ইংরাজি মাস খেলো আমাদের গিলে,
বাইশে বাঙালী ঠিক নাম নেবে তোর।
শ্রাবণ ফুঁপিয়ে বলে থাম থাম থাম,
কে চায় এমনভাবে অমরতাকে,
যার ইচ্ছে হয় এসে নে না বিষাদ,
আনন্দ বসে আছে সব বৈশাখে।
বৈশাখ তাই শুনে খুব হেসে বলে,
মানছি রাজার আসা পঁচিশে আমার,
দেখ না মন্থন করে অমৃত সাগর,
কোন মাস বেশি আসে সৃষ্টিতে তাঁর।
তোকে যে ভীষণ ভালোবাসতেন রাজা,
ছড়িয়ে প্রমাণ তার কবিতা ও গানে,
হয়তো ইচ্ছে ছিলো বিদায়ের ক্ষণে,
ঘুমাবো শাঁওন আমি তোমার এখানে।
আমি তো সাক্ষী সেই নবজাতকের,
বহু পরে যে নেবে রাজার আসন,
যার কোলে ঘুম যান কবিদের রাজা,
সে পরম ভাগ্য যে তোর রে, শ্রাবণ।
ভালোবাসা পূত হয় অশ্রুছোঁয়াতে,
অমর বাইশে রয় সে বিষাদ মিশে
তুই ঠিক ততখানি রবীন্দ্রময় ,
যতখানি রবি বসে আমার পঁচিশে ।
বাকি মাস হেসে বলে ঠিক ঠিক ঠিক,
বিষাদ সুখের থেকে কম হলো কী সে?
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৮.৮.২০২১ সন্ধ্যা।
শ্রাবণের মেঘে শুধু বৃষ্টি থাকে না,
আকাশের অশ্রুও তাতে মিশে আছে ,
সেই যে গেছেন রাজা তারিখ বাইশে,
সে শোকের ছিটে আজও আনাচে কানাচে।
অন্য মাসেরা তবু ঠারেঠোরে বলে,
ওই শোক বুকে রেখে তুই যে অমর,
ইংরাজি মাস খেলো আমাদের গিলে,
বাইশে বাঙালী ঠিক নাম নেবে তোর।
শ্রাবণ ফুঁপিয়ে বলে থাম থাম থাম,
কে চায় এমনভাবে অমরতাকে,
যার ইচ্ছে হয় এসে নে না বিষাদ,
আনন্দ বসে আছে সব বৈশাখে।
বৈশাখ তাই শুনে খুব হেসে বলে,
মানছি রাজার আসা পঁচিশে আমার,
দেখ না মন্থন করে অমৃত সাগর,
কোন মাস বেশি আসে সৃষ্টিতে তাঁর।
তোকে যে ভীষণ ভালোবাসতেন রাজা,
ছড়িয়ে প্রমাণ তার কবিতা ও গানে,
হয়তো ইচ্ছে ছিলো বিদায়ের ক্ষণে,
ঘুমাবো শাঁওন আমি তোমার এখানে।
আমি তো সাক্ষী সেই নবজাতকের,
বহু পরে যে নেবে রাজার আসন,
যার কোলে ঘুম যান কবিদের রাজা,
সে পরম ভাগ্য যে তোর রে, শ্রাবণ।
ভালোবাসা পূত হয় অশ্রুছোঁয়াতে,
অমর বাইশে রয় সে বিষাদ মিশে
তুই ঠিক ততখানি রবীন্দ্রময় ,
যতখানি রবি বসে আমার পঁচিশে ।
বাকি মাস হেসে বলে ঠিক ঠিক ঠিক,
বিষাদ সুখের থেকে কম হলো কী সে?
আর্যতীর্থ
*********************
। চাহিদা।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৮.৯.২০২১ সন্ধ্যা।
জীবন, আমি করছি না খোঁজ গুরুর
শিষ্য মানে কারোর পিছু যাওয়া,
ভোঁ বাজাবে যখন যাত্রাশুরুর,
সামনে এগো, ধমক দেবে হাওয়া,
কোথায় যাবো সামনে অনিশ্চিতে,
যখন মনে জাগবে সে জিজ্ঞাসা,
প্রদীপ ঘরে জ্বলছে যে নিভৃতে,
তাতেই যখন মশাল জ্বলার আশা,
যখন লোকে বলছে আমায় ডেকে
অমুককে ধর, ওই দেখাবে পথ,
যখন সময় কপাল জুড়ে লেখে
জানি না যা কি তোর ভবিষ্যৎ,
তখন আমায় বন্ধু দিও বরং,
কাঁধ ঠেকিয়ে ভরসাতে যে বলে,
আঁধার করুক ভয় দেখানোর ভড়ং
দেখ না দূরে লাইটহাউস জ্বলে।
চলতে গিয়ে হুমড়ি খাবি ঠিকই,
ভুলভুলাইয়া কোথাও দেবে ধোঁকা
হোঁচট খেয়েই সবাই চলা শিখি,
হতাশ হয়ে থামিস না রে বোকা।
আমি যদি সঙ্গী হতে বলি
সে বন্ধুটা বলবে আমায় হেসে,
ও রাস্তা তোর একার যে কেবলই,
আমি কেন ভিড় বাড়াবো এসে?
থাকবো পাশে বন্ধু হয়ে ঠিক,
তার মানে নই কিন্তু সহযাত্রী
তুই হেঁটৈ যাস তোর লক্ষ্যের দিক
অন্য স্বপ্ন আমার পথের ধাত্রী।
তাই বলে তুই কক্ষনো নোস একা
আমিও জানি তুই রয়েছিস পাশে
শনির যদি দৃষ্টি পড়েই ব্যাঁকা,
থাকবে সাথী তেমন সর্বনাশে।
চাইনা আমি কোনো গুরুর দেখা,
জীবন, যদি বন্ধু তেমন আসে।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৮.৯.২০২১ সন্ধ্যা।
জীবন, আমি করছি না খোঁজ গুরুর
শিষ্য মানে কারোর পিছু যাওয়া,
ভোঁ বাজাবে যখন যাত্রাশুরুর,
সামনে এগো, ধমক দেবে হাওয়া,
কোথায় যাবো সামনে অনিশ্চিতে,
যখন মনে জাগবে সে জিজ্ঞাসা,
প্রদীপ ঘরে জ্বলছে যে নিভৃতে,
তাতেই যখন মশাল জ্বলার আশা,
যখন লোকে বলছে আমায় ডেকে
অমুককে ধর, ওই দেখাবে পথ,
যখন সময় কপাল জুড়ে লেখে
জানি না যা কি তোর ভবিষ্যৎ,
তখন আমায় বন্ধু দিও বরং,
কাঁধ ঠেকিয়ে ভরসাতে যে বলে,
আঁধার করুক ভয় দেখানোর ভড়ং
দেখ না দূরে লাইটহাউস জ্বলে।
চলতে গিয়ে হুমড়ি খাবি ঠিকই,
ভুলভুলাইয়া কোথাও দেবে ধোঁকা
হোঁচট খেয়েই সবাই চলা শিখি,
হতাশ হয়ে থামিস না রে বোকা।
আমি যদি সঙ্গী হতে বলি
সে বন্ধুটা বলবে আমায় হেসে,
ও রাস্তা তোর একার যে কেবলই,
আমি কেন ভিড় বাড়াবো এসে?
থাকবো পাশে বন্ধু হয়ে ঠিক,
তার মানে নই কিন্তু সহযাত্রী
তুই হেঁটৈ যাস তোর লক্ষ্যের দিক
অন্য স্বপ্ন আমার পথের ধাত্রী।
তাই বলে তুই কক্ষনো নোস একা
আমিও জানি তুই রয়েছিস পাশে
শনির যদি দৃষ্টি পড়েই ব্যাঁকা,
থাকবে সাথী তেমন সর্বনাশে।
চাইনা আমি কোনো গুরুর দেখা,
জীবন, যদি বন্ধু তেমন আসে।
আর্যতীর্থ
*********************
। মায়োপিক।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১০.৯.২০২১ প্রভাত।
বায়োপিক মায়োপিক হয়। তাতে শুধু পদকের নানা গুনগান,
সে ঘরে যায় না ক্যামেরা, পদকের ঝুলি যার ফাঁকা শুনশান।
খুন ঘাম এক করে লড়ে তবু হেরে যদি গিয়ে থাকো শেষে
মিশে যাও জনতায়, ছবি কেউ চিনবেনা তোমার স্বদেশে।
এটাই নিয়তি এই রিয়েলিটি শো’য়ে। যে বিজয়ী সব নেবে সে-ই,
মিলিয়ন ফলোয়ারে তার নামে দেশ জুড়ে ট্যুইটের নাচাকোঁদা ধেই।
যে হেরে গেছে তার ঘর্ম বেকার, দুঃখের বোঝা নিয়ে ফিরে যাক ঘরে,
পদকেই থিতু শুধু লক্ষ্মীর ঝাঁপি । বাকিদের ভিতু ভিত চির-নড়বড়ে।
খেলুড়ের শৈশবে রুপো দূরে থাক, চামচই জোটেনা। ভরাপেট বিরল ঘটনা,
খেলার পাগল কোনো মানুষ না সলতে পাকালে, সে প্রদীপে আলো জ্বলতো না।
গ্রাম থেকে জেলাতে, জেলা থেকে প্রদেশে, নানা লাল ফিতে ফাঁস খুলে খুলে সে,
সবার সামনে আসে। ন্যাশনালে জিতে কিছু সংবাদে মৃদু ঢেউ দেয় অবশেষে।
অপুষ্ট কৈশোর সঙ্গী এদেশে প্রায় সব খেলুড়ের। প্রাদেশিক রাজনীতি, জাতপাতও আছে,
সঠিক কাঠামো নেই, ফিজিওর লোক নেই, তবু এত কিছু সয়ে প্রতিভারা বাঁচে।
তারা ছোটে, তারা ছোঁড়ে, ভল্ট দেয়, ঘুঁষি মারে, তুলে ফেলে শরীরের দ্বিগুন ওজন,
চারাদের প্রয়োজন যেই সার জল, সেসব না দিয়ে তবু ফল হলে উৎসব হয় আয়োজন।
মায়োপিক বায়োপিক হেরে যাওয়া লড়াইয়ের গল্প বলে না।
অবশ্য বললেও দেখবে কজন?
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১০.৯.২০২১ প্রভাত।
বায়োপিক মায়োপিক হয়। তাতে শুধু পদকের নানা গুনগান,
সে ঘরে যায় না ক্যামেরা, পদকের ঝুলি যার ফাঁকা শুনশান।
খুন ঘাম এক করে লড়ে তবু হেরে যদি গিয়ে থাকো শেষে
মিশে যাও জনতায়, ছবি কেউ চিনবেনা তোমার স্বদেশে।
এটাই নিয়তি এই রিয়েলিটি শো’য়ে। যে বিজয়ী সব নেবে সে-ই,
মিলিয়ন ফলোয়ারে তার নামে দেশ জুড়ে ট্যুইটের নাচাকোঁদা ধেই।
যে হেরে গেছে তার ঘর্ম বেকার, দুঃখের বোঝা নিয়ে ফিরে যাক ঘরে,
পদকেই থিতু শুধু লক্ষ্মীর ঝাঁপি । বাকিদের ভিতু ভিত চির-নড়বড়ে।
খেলুড়ের শৈশবে রুপো দূরে থাক, চামচই জোটেনা। ভরাপেট বিরল ঘটনা,
খেলার পাগল কোনো মানুষ না সলতে পাকালে, সে প্রদীপে আলো জ্বলতো না।
গ্রাম থেকে জেলাতে, জেলা থেকে প্রদেশে, নানা লাল ফিতে ফাঁস খুলে খুলে সে,
সবার সামনে আসে। ন্যাশনালে জিতে কিছু সংবাদে মৃদু ঢেউ দেয় অবশেষে।
অপুষ্ট কৈশোর সঙ্গী এদেশে প্রায় সব খেলুড়ের। প্রাদেশিক রাজনীতি, জাতপাতও আছে,
সঠিক কাঠামো নেই, ফিজিওর লোক নেই, তবু এত কিছু সয়ে প্রতিভারা বাঁচে।
তারা ছোটে, তারা ছোঁড়ে, ভল্ট দেয়, ঘুঁষি মারে, তুলে ফেলে শরীরের দ্বিগুন ওজন,
চারাদের প্রয়োজন যেই সার জল, সেসব না দিয়ে তবু ফল হলে উৎসব হয় আয়োজন।
মায়োপিক বায়োপিক হেরে যাওয়া লড়াইয়ের গল্প বলে না।
অবশ্য বললেও দেখবে কজন?
আর্যতীর্থ
*********************
। ঘর।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১০.৯.২০২১ সকাল।
অমুক শহর তমুক গলি ওই বাড়ি নম্বর
যেই ঠিকানায় চিঠি আসে , ওটাই তবে ঘর?
ঘর মানে কি ছড়িয়ে যেসব নানান নথি জুড়ে,
হোটেলরা যার প্রমাণ দেখে কোথাও গেলে দূরে,
ঘর মানে কি ফটোর সাথে আধারে যা লেখা
কোথায় থাকেন করলে জিগেস বলতে যেটা শেখা?
তাই যদি হয় , একই দেওয়াল এক পুরোনো ছাদে,
আজন্ম কেউ থেকেও কেন ঘরের জন্য কাঁদে?
থাকুক যতই বাকি সবাই , হোক ভরা সংসার,
কেন বালিশ ফাঁকায় বাড়ি ঘর লাগে না আর?
দূর বিদেশে কিচ্ছুটি নেই, ভাড়ার ঘরে থাকা,
একজন কেউ চৌকাঠে যেই, ঘর হয়ে যায় আঁকা।
ইট বালি আর সিমেন্ট জেনো ঘর বানাতে ঠুঁটো,
ঘরের মানে রোজ জমানো ভালোবাসার কুটো।
চোখ বোজো আর ঘরকে ভাবো, বলো কিসের ছবি
কদিন বাদেই বি এইচ কে থ্রি, বদলে নেবে সবই,
আজ যেখানে আছো সেটায় বৃষ্টি হলেই জল ,
পড়শী তেমন নয় সুবিধার, টিপটিপানো কল।
কিন্তু দেখো , ঘর বললেই আসবে মনে চলে,
ঠিকানা যা ঠিক করেছো ছেড়ে যাবে বলে।
কারণ খুবই সহজ এবং সরল জলের পারা,
বাড়িকে ঘর বানায় তোমার সঙ্গে থাকে যারা।
বি এইচ কে থ্রি কিংবা কোনো দশ ফুট বাই দশে,
সঙ্গী হলে মনের মতন ঘর সেখানে বসে।
তা না হলে যতই কেনো বাড়ি হাজার খানা,
ঘর না হয়ে সেসব কেবল নাম লেখা ঠিকানা।
ঘর কারে কয় আধার দেখে যায়না সেটা জানা।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১০.৯.২০২১ সকাল।
অমুক শহর তমুক গলি ওই বাড়ি নম্বর
যেই ঠিকানায় চিঠি আসে , ওটাই তবে ঘর?
ঘর মানে কি ছড়িয়ে যেসব নানান নথি জুড়ে,
হোটেলরা যার প্রমাণ দেখে কোথাও গেলে দূরে,
ঘর মানে কি ফটোর সাথে আধারে যা লেখা
কোথায় থাকেন করলে জিগেস বলতে যেটা শেখা?
তাই যদি হয় , একই দেওয়াল এক পুরোনো ছাদে,
আজন্ম কেউ থেকেও কেন ঘরের জন্য কাঁদে?
থাকুক যতই বাকি সবাই , হোক ভরা সংসার,
কেন বালিশ ফাঁকায় বাড়ি ঘর লাগে না আর?
দূর বিদেশে কিচ্ছুটি নেই, ভাড়ার ঘরে থাকা,
একজন কেউ চৌকাঠে যেই, ঘর হয়ে যায় আঁকা।
ইট বালি আর সিমেন্ট জেনো ঘর বানাতে ঠুঁটো,
ঘরের মানে রোজ জমানো ভালোবাসার কুটো।
চোখ বোজো আর ঘরকে ভাবো, বলো কিসের ছবি
কদিন বাদেই বি এইচ কে থ্রি, বদলে নেবে সবই,
আজ যেখানে আছো সেটায় বৃষ্টি হলেই জল ,
পড়শী তেমন নয় সুবিধার, টিপটিপানো কল।
কিন্তু দেখো , ঘর বললেই আসবে মনে চলে,
ঠিকানা যা ঠিক করেছো ছেড়ে যাবে বলে।
কারণ খুবই সহজ এবং সরল জলের পারা,
বাড়িকে ঘর বানায় তোমার সঙ্গে থাকে যারা।
বি এইচ কে থ্রি কিংবা কোনো দশ ফুট বাই দশে,
সঙ্গী হলে মনের মতন ঘর সেখানে বসে।
তা না হলে যতই কেনো বাড়ি হাজার খানা,
ঘর না হয়ে সেসব কেবল নাম লেখা ঠিকানা।
ঘর কারে কয় আধার দেখে যায়না সেটা জানা।
আর্যতীর্থ
*********************
। প্রায়শ্চিত্ত।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১২.৯.২০২১ সকাল।
‘কে দাঁড়িয়ে ওখানে? চোখের ওপর এসে ছায়া পড়ে কার?
পায়ের নিকটে এসো, যায় না অন্যদিকে দৃষ্টি আমার।
যুদ্ধ হয়েছে শেষ, একাদশ মহারথী মোটে বেঁচে আছে,
ছায়ার দৈর্ঘ্য দেখে লাগছে পুরুষই। কে এসেছো এ বুড়োর কাছে?’
পায়ের কাছে এসে দাঁড়ালেন অর্জুন সারথী কৃষ্ণ করজোড়ে।
সময়ের সেরা যোদ্ধা সহস্র শরে বিঁধে ছাপ্পান্ন দিন ধরে রয়েছেন পড়ে,
আর দুই দিন পরে সূর্য উত্তরায়নে এলে ছাড়বেন ইহলোক তিনি।
কেশব জানান প্রণতি । যুদ্ধের ফলাফলে পাণ্ডব তাঁর কাছে ঋণী।
‘প্রণাম পিতামহ। জ্ঞানী মুনি ঋষিগণ বসে রন আপনাকে ঘিরে,
একান্তে কথা বলা মহাদুষ্কর , সুযোগ যায় না পাওয়া সারাদিন ভিড়ে,
আজ সায়াহ্নকালে কিছু অবকাশ পাওয়া গেছে অবশেষে নির্জনে,
প্রহরীরা দূরে আছে, মুনিরা হস্তিনাপুর সম্রাট যুধিষ্ঠিরের নিমন্ত্রণে।
বহুদিন ধরে দুরূহ প্রহেলিকা এক মনকে ধন্দে রেখে চলে নিরন্তর,
বাসুদেব চায় হোক সমাধান তার।আশা করি আজ পাবো সেই উত্তর।’
‘কি এমন প্রশ্ন যা তোমায় ভাবায় হে গীতার প্রণেতা? ত্রিভূবনে সমস্ত জ্ঞাত,
দুইদিন পরে মরে যাবে যেই বুড়ো, তার কাছে এলে কেন বোঝা গেলো না তো!’
‘সমস্ত জ্ঞাত বলে তাই জানি পিতামহ, আপনাকে স্পর্শ করেনি কখনো কোনো পাপ,
তবু কেন এই অসহ্য বেদনা সওয়া এতদিন ধরে? কিসের জন্য তবে এই অনুতাপ?
হে প্রাজ্ঞ পুণ্যাত্মা, আপনার লাগে নাকি কোনো শুভক্ষণ , নিশ্চিত স্বর্গ যেখানে,
মৃত্যু ইচ্ছাধীন তবু তাকে ডাকা নয় আটান্ন দিন। আমাকে বোঝান এই কষ্টের মানে।’
‘বাসুদেব, জানোই তো আমি যোদ্ধা। আজীবন করে গেছি অরি-সংহার,
তবুও রাজত্ব রক্ষাতে বার বার হেরে গেছি রিপুদের কাছে। স্খালন করতে হবে সে পাপ আমার।’
‘রিপুদের কাছে পরাজয়? পিতামহ , আপনি ব্রহ্মচারী ও ব্রহ্মজ্ঞানী, ইন্দ্রিয়বিজেতা,
কেন তবে অকারণ আত্মনিপীড়ন? অঘটিত অপরাধে ব্যথা নেওয়া বৃথা?’
‘শোনো তবে হে কৃষ্ণ, শোনো সেই কথা, আজীবন পরাজিত ভীষ্ম কোথায়,
আর মোটে দুটো দিন অপেক্ষা শুধু, মৃত্যু প্রলেপ দেবে সেই লজ্জায়।’
‘পিতা রাজা শান্তনু তাঁর বৃদ্ধ বয়েসে সত্যবতীকে পেতে যখন পাগল
বন্যার মতো কামে লোপ পেলো স্বাভাবিক বোধ, যুক্তিও তখন বিকল,
সেই কাম প্রেম বলে ভেবে দেবব্রতের থেকে বদলে গেলাম ভীষ্মতে,
উচিৎ হয় নি সে কাজ। কুরুকে বাঁচাতে বাঁধ দেওয়া প্রয়োজন ছিলো সেই স্রোতে।’
‘তখন নবীন বয়েস আপনার, পিতামহ। মানছি, পিতার কাম হলে সংযত,
এ কাহিনী আরম্ভ হতো না, সিংহাসনে বসতেন রাজা দেবব্রত।
প্রথম যৌবনের সে বিচার পিতার প্রতি কর্তব্য ও সম্মানপ্রদানে অনন্য,
আপনাকে ছোঁয়নি সে রিপু। তবু কেন প্রায়শ্চিত্ত সে পাপের জন্য?’
‘কেশব, নেতৃত্বে যে থাকে, বাকিদের রিপুদোষ তাকে হবে সামলাতে,
নচেৎ সে নেতা নয়। আগামী বদলে যায় বিশেষ সময়ে তার হ্যাঁ কিংবা না’তে।
আমি তো জানতাম বলো, কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস ভয়াল ও কুৎসিতদর্শন
কোমলস্বভাবা অম্বিকা অম্বালিকার বস্তুত ধর্ষণ মনে হবে শরীরী মিলন,
স্বভাবত মহাঋষি বুঝবেন সেই দ্বিধা, ক্রুদ্ধ হবেন সেই ইচ্ছাবিহীন সঙ্গমের অসম্মানে,
আমার তো জানা ছিলো এরকমই হবে। তবুও যাইনি আমি আর কারো সন্ধানে,
ভেবে গেছি ঠিক হবে সব। ব্যাসের ক্রোধের কোপে বংশজ অন্ধ এবং পাণ্ডুর
সে দায় আমারই বাসুদেব। আশু সমাধান চেয়ে ভাবিনি এ বিষ যাবে কতখানি দূর।’
‘তখন বিবশ আপনি, সিংহাসন খালি রেখে বিচিত্রবীর্য গিয়েছেন চলে ক্ষয়রোগে,
শুনেছি সত্যবতী বলেন ব্যাসের নাম। বৃথাই কষ্ট পান মিছে অভিযোগে।’
‘তাও মেনে নিতে পারি বাসুদেব, বিপদের মুখে ভ্রংশ বুদ্ধির প্রবোধে,
কিন্তু ধৃতরাষ্ট্রের লোভ ক্রমাগত পথ যে বানিয়ে দিলো শকুনির প্রতিশোধে,
তা প্রত্যক্ষ করেও আমি চেয়ে থেকেছি অন্য দিকে, বোঝাইনি তাকে,
লোভের আগুনে যে বংশগ্রাসী দাবানল জ্বলে, নিজেও পুড়বে সেই খাকে।
এ পাপের বোঝা আমি রাখবো কোথায় এই ইহলোকে, বোঝাও মাধব,
অন্ধ সে পুত্রের লোভের অন্ধতা ঘোচাবার দায় ছিলো এই কাঁধে সব।’
‘তাত ধৃতরাষ্ট্র শিশু ছিলেন না পিতামহ, না বুঝে তো করেননি লোভ,
অদৃষ্টকে গড়ে নিজেই মানুষ। অনুচিত আপনার নিজের ওপরে করা ক্ষোভ।’
‘ধৃতরাষ্ট্রের মোহ পুত্রের প্রতি, অন্যায় ও অন্যায্যকে সমর্থন করেছে বারংবার,
আমি শুধু মূক দর্শক। কখনো বলিনি এই মোহে আগামীতে নামে অন্ধকার,
ঈর্ষার মুখোমুখি হয়ে হুংকারে বলতে পারিনি ভাই ভাইয়ে ভেদাভেদে বংশের ক্ষতি,
যে ভীষণ যোদ্ধাকে পৃথিবী চিনেছে, নিশ্চুপে দেখেছে সে সম্পর্কের ক্রম-অধোগতি,
শ্রেষ্ঠ হওয়ার মদে আচ্ছন্ন দুর্যোধনের ভ্রম সংশোধন ছিলো কর্তব্য আমার ,
আমি , মহাবীর গঙ্গাদত্ত কুরুর রক্ষক, ঠেকাতে পারিনি সেই রিপু-বিস্তার।
আঠারো অক্ষৌহিনী আজ যে নিহত, কুরুকুল আজকে যে প্রায় নিঃশেষ,
বাসুদেব, আমার সে দোষ। ভীষ্মকে হারিয়েছে রিপু থেকে জন্মানো এই বিদ্বেষ।’
‘না পিতামহ, এই সবে আপনার অংশ ছিলো না। নিয়তি নিয়েছে গিয়ে ওদের সে পথে,
যতদিন থাকবে মানুষ, ধ্বংসের ভার নেবে কাম ক্রোধ লোভ মোহ মদ ঈর্ষাতে।
যেহেতু সমস্ত জানি, তাই জ্ঞাত হে ভীষ্ম, এসব কারণ নয় আপনার প্রায়শ্চিত্ত এই শরশয্যাতে,
বস্ত্রহরণে ছিলেন নির্বাক দর্শক , আমি জানি, নিজেকে শাস্তি দেন সেই লজ্জাতে।’
বৃদ্ধের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। সত্যের দায়ভার সেই কান্নাতে।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১২.৯.২০২১ সকাল।
‘কে দাঁড়িয়ে ওখানে? চোখের ওপর এসে ছায়া পড়ে কার?
পায়ের নিকটে এসো, যায় না অন্যদিকে দৃষ্টি আমার।
যুদ্ধ হয়েছে শেষ, একাদশ মহারথী মোটে বেঁচে আছে,
ছায়ার দৈর্ঘ্য দেখে লাগছে পুরুষই। কে এসেছো এ বুড়োর কাছে?’
পায়ের কাছে এসে দাঁড়ালেন অর্জুন সারথী কৃষ্ণ করজোড়ে।
সময়ের সেরা যোদ্ধা সহস্র শরে বিঁধে ছাপ্পান্ন দিন ধরে রয়েছেন পড়ে,
আর দুই দিন পরে সূর্য উত্তরায়নে এলে ছাড়বেন ইহলোক তিনি।
কেশব জানান প্রণতি । যুদ্ধের ফলাফলে পাণ্ডব তাঁর কাছে ঋণী।
‘প্রণাম পিতামহ। জ্ঞানী মুনি ঋষিগণ বসে রন আপনাকে ঘিরে,
একান্তে কথা বলা মহাদুষ্কর , সুযোগ যায় না পাওয়া সারাদিন ভিড়ে,
আজ সায়াহ্নকালে কিছু অবকাশ পাওয়া গেছে অবশেষে নির্জনে,
প্রহরীরা দূরে আছে, মুনিরা হস্তিনাপুর সম্রাট যুধিষ্ঠিরের নিমন্ত্রণে।
বহুদিন ধরে দুরূহ প্রহেলিকা এক মনকে ধন্দে রেখে চলে নিরন্তর,
বাসুদেব চায় হোক সমাধান তার।আশা করি আজ পাবো সেই উত্তর।’
‘কি এমন প্রশ্ন যা তোমায় ভাবায় হে গীতার প্রণেতা? ত্রিভূবনে সমস্ত জ্ঞাত,
দুইদিন পরে মরে যাবে যেই বুড়ো, তার কাছে এলে কেন বোঝা গেলো না তো!’
‘সমস্ত জ্ঞাত বলে তাই জানি পিতামহ, আপনাকে স্পর্শ করেনি কখনো কোনো পাপ,
তবু কেন এই অসহ্য বেদনা সওয়া এতদিন ধরে? কিসের জন্য তবে এই অনুতাপ?
হে প্রাজ্ঞ পুণ্যাত্মা, আপনার লাগে নাকি কোনো শুভক্ষণ , নিশ্চিত স্বর্গ যেখানে,
মৃত্যু ইচ্ছাধীন তবু তাকে ডাকা নয় আটান্ন দিন। আমাকে বোঝান এই কষ্টের মানে।’
‘বাসুদেব, জানোই তো আমি যোদ্ধা। আজীবন করে গেছি অরি-সংহার,
তবুও রাজত্ব রক্ষাতে বার বার হেরে গেছি রিপুদের কাছে। স্খালন করতে হবে সে পাপ আমার।’
‘রিপুদের কাছে পরাজয়? পিতামহ , আপনি ব্রহ্মচারী ও ব্রহ্মজ্ঞানী, ইন্দ্রিয়বিজেতা,
কেন তবে অকারণ আত্মনিপীড়ন? অঘটিত অপরাধে ব্যথা নেওয়া বৃথা?’
‘শোনো তবে হে কৃষ্ণ, শোনো সেই কথা, আজীবন পরাজিত ভীষ্ম কোথায়,
আর মোটে দুটো দিন অপেক্ষা শুধু, মৃত্যু প্রলেপ দেবে সেই লজ্জায়।’
‘পিতা রাজা শান্তনু তাঁর বৃদ্ধ বয়েসে সত্যবতীকে পেতে যখন পাগল
বন্যার মতো কামে লোপ পেলো স্বাভাবিক বোধ, যুক্তিও তখন বিকল,
সেই কাম প্রেম বলে ভেবে দেবব্রতের থেকে বদলে গেলাম ভীষ্মতে,
উচিৎ হয় নি সে কাজ। কুরুকে বাঁচাতে বাঁধ দেওয়া প্রয়োজন ছিলো সেই স্রোতে।’
‘তখন নবীন বয়েস আপনার, পিতামহ। মানছি, পিতার কাম হলে সংযত,
এ কাহিনী আরম্ভ হতো না, সিংহাসনে বসতেন রাজা দেবব্রত।
প্রথম যৌবনের সে বিচার পিতার প্রতি কর্তব্য ও সম্মানপ্রদানে অনন্য,
আপনাকে ছোঁয়নি সে রিপু। তবু কেন প্রায়শ্চিত্ত সে পাপের জন্য?’
‘কেশব, নেতৃত্বে যে থাকে, বাকিদের রিপুদোষ তাকে হবে সামলাতে,
নচেৎ সে নেতা নয়। আগামী বদলে যায় বিশেষ সময়ে তার হ্যাঁ কিংবা না’তে।
আমি তো জানতাম বলো, কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস ভয়াল ও কুৎসিতদর্শন
কোমলস্বভাবা অম্বিকা অম্বালিকার বস্তুত ধর্ষণ মনে হবে শরীরী মিলন,
স্বভাবত মহাঋষি বুঝবেন সেই দ্বিধা, ক্রুদ্ধ হবেন সেই ইচ্ছাবিহীন সঙ্গমের অসম্মানে,
আমার তো জানা ছিলো এরকমই হবে। তবুও যাইনি আমি আর কারো সন্ধানে,
ভেবে গেছি ঠিক হবে সব। ব্যাসের ক্রোধের কোপে বংশজ অন্ধ এবং পাণ্ডুর
সে দায় আমারই বাসুদেব। আশু সমাধান চেয়ে ভাবিনি এ বিষ যাবে কতখানি দূর।’
‘তখন বিবশ আপনি, সিংহাসন খালি রেখে বিচিত্রবীর্য গিয়েছেন চলে ক্ষয়রোগে,
শুনেছি সত্যবতী বলেন ব্যাসের নাম। বৃথাই কষ্ট পান মিছে অভিযোগে।’
‘তাও মেনে নিতে পারি বাসুদেব, বিপদের মুখে ভ্রংশ বুদ্ধির প্রবোধে,
কিন্তু ধৃতরাষ্ট্রের লোভ ক্রমাগত পথ যে বানিয়ে দিলো শকুনির প্রতিশোধে,
তা প্রত্যক্ষ করেও আমি চেয়ে থেকেছি অন্য দিকে, বোঝাইনি তাকে,
লোভের আগুনে যে বংশগ্রাসী দাবানল জ্বলে, নিজেও পুড়বে সেই খাকে।
এ পাপের বোঝা আমি রাখবো কোথায় এই ইহলোকে, বোঝাও মাধব,
অন্ধ সে পুত্রের লোভের অন্ধতা ঘোচাবার দায় ছিলো এই কাঁধে সব।’
‘তাত ধৃতরাষ্ট্র শিশু ছিলেন না পিতামহ, না বুঝে তো করেননি লোভ,
অদৃষ্টকে গড়ে নিজেই মানুষ। অনুচিত আপনার নিজের ওপরে করা ক্ষোভ।’
‘ধৃতরাষ্ট্রের মোহ পুত্রের প্রতি, অন্যায় ও অন্যায্যকে সমর্থন করেছে বারংবার,
আমি শুধু মূক দর্শক। কখনো বলিনি এই মোহে আগামীতে নামে অন্ধকার,
ঈর্ষার মুখোমুখি হয়ে হুংকারে বলতে পারিনি ভাই ভাইয়ে ভেদাভেদে বংশের ক্ষতি,
যে ভীষণ যোদ্ধাকে পৃথিবী চিনেছে, নিশ্চুপে দেখেছে সে সম্পর্কের ক্রম-অধোগতি,
শ্রেষ্ঠ হওয়ার মদে আচ্ছন্ন দুর্যোধনের ভ্রম সংশোধন ছিলো কর্তব্য আমার ,
আমি , মহাবীর গঙ্গাদত্ত কুরুর রক্ষক, ঠেকাতে পারিনি সেই রিপু-বিস্তার।
আঠারো অক্ষৌহিনী আজ যে নিহত, কুরুকুল আজকে যে প্রায় নিঃশেষ,
বাসুদেব, আমার সে দোষ। ভীষ্মকে হারিয়েছে রিপু থেকে জন্মানো এই বিদ্বেষ।’
‘না পিতামহ, এই সবে আপনার অংশ ছিলো না। নিয়তি নিয়েছে গিয়ে ওদের সে পথে,
যতদিন থাকবে মানুষ, ধ্বংসের ভার নেবে কাম ক্রোধ লোভ মোহ মদ ঈর্ষাতে।
যেহেতু সমস্ত জানি, তাই জ্ঞাত হে ভীষ্ম, এসব কারণ নয় আপনার প্রায়শ্চিত্ত এই শরশয্যাতে,
বস্ত্রহরণে ছিলেন নির্বাক দর্শক , আমি জানি, নিজেকে শাস্তি দেন সেই লজ্জাতে।’
বৃদ্ধের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। সত্যের দায়ভার সেই কান্নাতে।
আর্যতীর্থ
*********************
। ঘুরছে কিশোর।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১২.৯.২০২১ রাত্রি।
বোমা হাতে ঘুরছে কিশোর।
বড়রা দিয়েছে বলে এ দায়িত্ব তোর,
অমুককে মারলেই দেশ জাতি ধর্মের হবে উদ্ধার,
বৃহৎ কারণে তোর তুচ্ছ জীবনখানা দে উপহার।
টগবগে উৎসাহে ফুটছে কিশোর,
শহীদের তালিকায় নাম যাবে ওর,
বড়রা বলেছে মার বোমা ছুঁড়ে যা রে,
আগামীর ভর দেওয়া তোর কচি ঘাড়ে,
সে তাই খুশি মনে হাতে তোলে বোমা,
বিদায়ের ক্ষণে বলে ঘুরে আসি গো মা,
চোখে তার সোনা মোড়া আগামীর ঘোর।
বোমা হাতে ঘুরছে কিশোর।
কিশোরের বাড়ি কই?
নানা দেশে আছে মই,
গাছে তুলে কেড়ে নেয় বড়দের দল,
রোজ কত লাশ দেয় শহীদের কল।
সিরিয়া নাইজেরিয়া, ভারত পাকিস্তান,
ইজম আর ধর্মেরা কৈশোর বলি চান,
বড়রা পালিশ করে রেখে দেয় হাড়িকাঠ,
পাখিপড়া করা দেওয়া বোমার সহজ পাঠ,
সহজেই ধুয়ে দেয় সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব,
অন্ধ কিশোর খোঁজে শত্রুর গন্ধ,
‘প্রবেশিল অভিমন্যু চক্রব্যুহের ভেতর..’
বোমা হাতে ঘুরছে কিশোর।
বড়রা পাল্টি মেরে,
নিরাপদে বাড়ি ফেরে,
মুচলেকা দিয়ে তারা ঘর করে ফের,
কিশোরেরা লাশ হয় সব যুদ্ধের।
দায়েশ বা মাওবাদী, জাইশ বা বোকোতে,
কিশোরের তাজা খুন মিলে যায় ফোকটে,
এ তরফে শহীদ আর ওই দিকে জঙ্গী,
দুনিয়ায় সব দেশে এক থাকে ভঙ্গী,
সন্ধান চাই বলে পথে সাঁটা পোস্টার,
ভাবতে নারাজ কেউ সত্যিতে দোষ কার,
ধরপাকড়ের চলে জোর তোড়জোড়।
মরবেই কোনোভাবে জেনেও অনড়,
বোমা হাতে দেশে দেশে ঘুরছে কিশোর।
বড়রা মগজ জুড়ে ঢালে বিষ ওর..
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১২.৯.২০২১ রাত্রি।
বোমা হাতে ঘুরছে কিশোর।
বড়রা দিয়েছে বলে এ দায়িত্ব তোর,
অমুককে মারলেই দেশ জাতি ধর্মের হবে উদ্ধার,
বৃহৎ কারণে তোর তুচ্ছ জীবনখানা দে উপহার।
টগবগে উৎসাহে ফুটছে কিশোর,
শহীদের তালিকায় নাম যাবে ওর,
বড়রা বলেছে মার বোমা ছুঁড়ে যা রে,
আগামীর ভর দেওয়া তোর কচি ঘাড়ে,
সে তাই খুশি মনে হাতে তোলে বোমা,
বিদায়ের ক্ষণে বলে ঘুরে আসি গো মা,
চোখে তার সোনা মোড়া আগামীর ঘোর।
বোমা হাতে ঘুরছে কিশোর।
কিশোরের বাড়ি কই?
নানা দেশে আছে মই,
গাছে তুলে কেড়ে নেয় বড়দের দল,
রোজ কত লাশ দেয় শহীদের কল।
সিরিয়া নাইজেরিয়া, ভারত পাকিস্তান,
ইজম আর ধর্মেরা কৈশোর বলি চান,
বড়রা পালিশ করে রেখে দেয় হাড়িকাঠ,
পাখিপড়া করা দেওয়া বোমার সহজ পাঠ,
সহজেই ধুয়ে দেয় সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব,
অন্ধ কিশোর খোঁজে শত্রুর গন্ধ,
‘প্রবেশিল অভিমন্যু চক্রব্যুহের ভেতর..’
বোমা হাতে ঘুরছে কিশোর।
বড়রা পাল্টি মেরে,
নিরাপদে বাড়ি ফেরে,
মুচলেকা দিয়ে তারা ঘর করে ফের,
কিশোরেরা লাশ হয় সব যুদ্ধের।
দায়েশ বা মাওবাদী, জাইশ বা বোকোতে,
কিশোরের তাজা খুন মিলে যায় ফোকটে,
এ তরফে শহীদ আর ওই দিকে জঙ্গী,
দুনিয়ায় সব দেশে এক থাকে ভঙ্গী,
সন্ধান চাই বলে পথে সাঁটা পোস্টার,
ভাবতে নারাজ কেউ সত্যিতে দোষ কার,
ধরপাকড়ের চলে জোর তোড়জোড়।
মরবেই কোনোভাবে জেনেও অনড়,
বোমা হাতে দেশে দেশে ঘুরছে কিশোর।
বড়রা মগজ জুড়ে ঢালে বিষ ওর..
আর্যতীর্থ
*********************
