কবি আর্যতীর্থর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি আর্যতীর্থর পরিচিতির পাতায় . . .

। পাগলটা।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১৩.৮.২০২১ রাত্রি।

অভিমন্যুকে মেরে কিস্যু হবে না।
দুর্যোধনকে পেলে বলে দিস ওকে,
ফালতু খোয়াবে এগারো অক্ষৌহিনী সেনা,
মারলে মারতে হবে আগে কৃষ্ণকে।

এই বলে পাগলটা হাঁটা দিলো হনহন করে।
হঠাৎই এমন শুনে হতভম্ব আমি,
আর কোনো লোক নেই শুনশান মোড়ে,
সাবধান করে গেলো, নাকি পাগলামি?

আমি এই মোড়ে খাড়া পুলিশ ট্রাফিক।
কত কী যে শুনে যাই রোজ রাস্তাতে,
এখানে না দাঁড়ালে কেউ বুঝবে না ঠিক,
অবশ্য যেচে কে নেবে বাঁশ হাতে!

আশেপাশে কারা নড়ে চড়ে, ছায়াময়।
রাস্তার লাইটের বৃত্তের পরিধি এড়িয়ে,
খসখস শব্দে এগোচ্ছে যারা তারা ছায়া নয়,
ওই তো পড়েছে চারধার ঘিরে বেরিয়ে।

ওরা সাতজন। মুখে মাস্ক, হাতে বন্দুক,
ওরা কারা লাগবে না সেটা বলে দিতে,
সাতখানা রাইফেল তাক করে বুক,
‘সব ঠিক হ্যায়?’ প্রশ্ন আসলো ভেসে ওয়াকিটকিতে।

হিসহিস ফিসফিসে আসে নির্দেশ,
বলে দে এখানে সব ঠিক বিলকুল।
ওরা বলে এটা নাকি ওদের স্বদেশ,
আমাদের দিতে হবে থাকার মাসুল।

আপাতত আমাদের নয়, স্রেফ আমাকেই।
ঠিক হ্যায় সব বলে কাটলাম টকি।
কেন যে মারবে ওরা সেটা জানা নেই,
আমিও তো ঊর্দিতে খেটে খাওয়া লোকই।

সাতখানা বন্দুক, আঙুল ট্রিগারে।
আছে মা, বউ আর হামা দেওয়া মেয়ে।
বাপ ছাড়া একা একা বড় হোস মা রে,
লাশ হবো এক্ষুণি সাত গুলি খেয়ে।

অভিমন্যুকে মেরে কি হবে খামোখা?
পাগলটা গর্জায়, এলো কোথা থেকে?
কৃষ্ণকে না মারলে জিতবি না বোকা!
ভয় নেই খ্যাপাটার বন্দুক দেখে।

মুখোশেরা থমকায়, এর ওর দিকে চায়।
একজন বলে ওঠে, সহি বাত বোলা।
সাতজন ধীরে ধীরে আঁধারে মিলায়।
জীবিত রয়েছি আমি আর সে পাগলা।

কে আপনি সাধুবাবা? বলি কোনোমতে,
রাস্তার আলো তার গায়ে এসে পড়ে,
মাথা তার ভরে আছে দগদগে ক্ষতে,
আগুন জ্বলছে যেন চোখের ভেতরে।

লাভ নেই ভাইয়ে ভাইয়ে লড়ে এই ভাবে।
পারলে সবাই মিলে সংঘাত থামা।
অন্তিমে ফল গিয়ে শূন্যে দাঁড়াবে।
কিভাবে থামাবি সেটা, তাতে মাথা ঘামা।

এ কথা আমার থেকে কে ভালো বোঝাবে!
আমি সে ধ্বংসসাক্ষী, আমি অশ্বত্থামা!

আর্যতীর্থ

*********************









*

। নাগরিক।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১৪ই অগাস্ট ২০২১ প্রভাত।

যে ছেলেটা চা-দোকানে খেটে চলে ফাইফরমাস,
স্বাধীনতা তার কাছে পাড়ার ক্লাবের দেওয়া ভালো প্রাতরাশ।
গুনগুন তার গানে ফুটে ওঠে শীলা কি জওয়ানি,
মাইকে তারস্বরে আঁখ মে ভরলো পানি’র মানে
তার কাছে কিছু বেশি খদ্দের আর বাড়া খাটনিও,
কাপডিশ ভেঙে গেলে পনেরো আগস্ট বলে ক্ষমা পাবে কি ও?

ইঁটভাটা জুড়ে কাজ, চলছে ও চলবেই, আগস্ট পনেরো তো কি?
মাথায় ইঁটের বোঝা, সিঁড়ি বায় কিশোরী, ওর কথা কেউ বলছো কি?
চুলে জট, চামড়ার তামাটে বরণে অপুষ্টি প্রবল,
কিছু দূরে রাজপথ জুড়ে যাওয়া সুবেশ তেরঙাধারী পড়ুয়ার দল
কোনো প্রভাব ফেলেনা তার রুটিনে,
কেউ জানো ওর ঘরে স্বাধীনতা কবে যাবে ঝুপড়িকে চিনে?

ওদিকে বসে যে লোক, পাঁইটের লোভে সে বেচেছিলো ভোট,
ভাতহীন সংসারে আজ বউ মুখ করে দিলো খুব একচোট।
একশো দিনের কাজ ভাঁটিখানা শুঁষে নিলো কবে,
যতটা সহজ মদ, পেটভরে ডালভাত তত অনায়াসে
ঠিক পাওয়া যাবে কবে, সেটা যদি তেরঙা না জানে,
আগস্ট পনেরো তবে তার সংসারে কোন মানে বয়ে আনে?

আর সেই গৃহবধূ, মেয়ে হয়েছে বলে একবিংশতে যে অচ্ছুতসমা,
স্বাধীনতা , বলে দাও আরো কত লাঞ্ছনা তার ভাগে জমা।
শুক্রের দায়িত্ব আজীবন বহন করে চলেছে জরায়ু,
কবে সেই সংস্কারী বদনামে শেষ হবে আয়ু,
সেটা আগে বলে তারপর বলো ছেলে মেয়ের সমান,
সাতটা দশক গেলো, কন্যা বাঁচাতে তবু ভরসা স্লোগান।

ঘুমিয়েছে স্বাধীনতা, স্বপ্ন চলেছে দেখে অনাবিল আগামীকে ভেবে,
আগস্ট পনেরো এলে এইসব নাগরিক যেদিন মিছিল খুঁজে নেবে।

আর্যতীর্থ

*********************









*

। নাচ।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১৪ই অগাস্ট ২০২১ সকাল।

এই যে স্বাধীন তাক ধিনা ধিন দেশাত্মবোধ তুড়ুক নাচন,
নিমের পাচন মুখ করে সব ফেরত যাওয়া অতীত গানে,
পতাকাটা উঠিয়ে দিয়েই লাইন লাগাই কষাইখানায় ,
এই যে সে দিন যেদিন ঘরে ভালো রাংয়ের মাংস আনে,
ক্যালেন্ডারের লাল তারিখে দেশের পুজো সকালবেলায়,
এই যে সেদিন নেতাজি আর ক্ষুদিরামের ফটোয় মালা
আজকাল তো সিডিও না, গান পাওয়া যায় ইউটিউবে,
এই যে সেদিন স্বদেশ জুড়ে ভালো আছি’র নাট্যশালা..

এসব থেকে বেরিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করাই খুব বোকামি,
ভালো আছির মানে কানার মুখে তালা কানেও কালা।

এই যে সেদিন ঘুষ নেবো না বললো না তো একটি লোকও,
জমির জবরদখল নিতে সবল সফল অনায়াসে,
ধর্ষিতা মেয়ে ফিরলো ঘরে, এফ আই আরও যায়নি করা,
এই যে সেদিন, ওই পুকুরে সে ধর্ষিতার শরীর ভাসে।
এই তো স্বাধীন, ধর্মভেদে মানুষ ঘিরে মারছে মানুষ,
ভীষণরকম দাঙ্গা হলো দলিত ছেলের গোঁফ রাখাতে,
ওই কোণে দেয় গলায় দড়ি বেকার যুবক উচ্চজাতের,
এই যে সেদিন, জাতের ভ্রমে খুন হলো মেয়ে বাপের হাতে..

এসব থেকে ফেরাও আলো, আঁধার জুড়ে আতশ দেখো
মাংসটা হোক জমিয়ে রাঁধা, রাত্রে খাবো মদের সাথে।

দেশদ্রোহীর তকমা তাকে, নাচছে না যে এ ধিন তা’তে।

আর্যতীর্থ

*********************









*

। কেন মাঝরাতে।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১৪ই অগাস্ট ২০২১ রাত্রি।

মাঝরাতে কেন শুরু বোঝোনি এখনো?
ভোর হয়ে গেছে কেউ না ভাবে যেন,
কালিমা রয়েছে ছেয়ে তখনো যে গাঢ়,
আলো হতে আছে দেরি বহুকাল আরো,
পনেরো আগস্ট হওয়া মাঝরাত্তিরে,
স্বাধীন তেরঙা এক মাথা তোলে ধীরে,
বুক চিরে কাঁটাতার চলে গেছে তার,
ব্রিটিশ গিয়েছে ছেড়ে নিকষ আঁধার।

তাহলে কি এতদিনে হয়ে গেছে ভোর?
আরে ধুর, রাত এখন আড়াই প্রহর,
মশালের আলো দেখে বুঝতে পারো না?
স্বাধীন ভাবতে পারে দুই চার জনা,
বাকি সব নেতাদের প্রভু বলে ভাবে,
ভক্তিবহর দেখে ব্রিটিশ পিছাবে,
ধনী আজও আইনকে রেখেছে পকেটে,
গরীবের চলে দিন চক্কর কেটে,
জাতপাত আজও দেশে কাটছে মানুষ,
ধিকিধিকি পুড়ে চলে ধর্মের তুষ,
স্বাধীনতা নেই আজও ভালোবাসবার,
মাঝরাত নয় বটে, তবুও আঁধার।

মাঝরাত থেকে শুরু স্বাধীনতা তাই
এখনো অনেক বাকি আসা রোশনাই।
চাঁদের আলোকে যদি ভোর বলে ভাবো,
নিশাচর প্রাণীদের তাতে বেশ লাভও,
আঁধারে ভয়াল লাগে শেয়ালের দল,
দাবিয়ে রাখতে শুধু ভয় সম্বল,
একটু একটু করে ফুরাবেই রাত,
একদিন পাবো ঠিক নতুন প্রভাত।
সে সকালে সকলেই স্রেফ ভারতীয়,
যেমন গজব আলি, তেমন আমিও।
সেখানে দলিত নেই, নেই উঁচু জাত,
ভালোবাসা হলে কেউ বলে না জেহাদ,
সেইখানে নেই কোনো শ্রেণী সংগ্রাম,
দাম পায় ঠিক ঠিক সকলের ঘাম,
খোয়ারি নয় এ জেনো কোনো নেশা করে,
একদিন এইদেশ পৌঁছাবে ভোরে,
কে জানে তুমি আমি যাবো কি তা দেখে,
স্বপ্ন জ্বালাই মনে যেন প্রত্যেকে।

শুরু যার সেই কবে মাঝরাত থেকে..

আর্যতীর্থ

*********************









*

। আ জা দি।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১৫ই অগাস্ট ২০২১ সকাল।

আ -য়ে আক্রমণ, আ-য়ে আগ্নেয়াস্ত্র, আ -তে আর্তনাদ,
আতংক, আশঙ্কা, আততায়ী, সবই বড় ভয়ানক আ।
অমন আ’দের মুখে আগুন জ্বেলে, আকাশের মতো অন্য আ’দের চাই,
ওরা’র আগল ভেঙে, আ মানে এসো হই শুধু আমরাই।

জা-তে জামাত, জা তে জানকীপতি, জা তে জালি ধর্মের জাল,
স্মৃতিতে কালিমা মেখে জালিম ওই জা দিয়ে জালিয়ান বাগ,
ওসব যাক না আজ, জা মানে জাগৃতি, জনতার জাগরণ হোক,
জানলা কপাট খুলে সব ঘরে পৌঁছাক জাতমোছা জাদুর আলোক..

দি তে দ্বিখণ্ডিত, দি তে দ্বিধান্বিত, দি তে দিকভোলা যুবদের ঢল,
দি মানে রাজাদের প্রথাগত দ্বিরাচারও, দি তে মনের দীনতা
আমাদের দি মানে অন্য বোঝাও কেউ, ওই সব মানে দূরে যাক,
দি বললে সব্বাই কান পেতে শুনুক না এই কালো দিনগুলো বদলের ডাক।

আ জা দি। প্রতি অক্ষরে তার দুনিয়ার সব লোক স্বপ্ন মেশাক।

আর্যতীর্থ

*********************









*

। কাঁটাতার।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা রচনা ১৭ই অগাস্ট ২০২১ সকাল।

ধর্মের হাতে বন্দুক দিলে ধার্মিকতার চরম বিকারে,
ভাগ হয়ে যায় মানুষ তখন কেবল শিকারী এবং শিকারে।
সাত খুন মাফ আর খুন ঘটা লাশময় কোনো ঘরের ভেতর
তফাৎ কেবল কার পরিবার কিভাবে ডেকেছে কোন ঈশ্বর।

নরমেধ হতে ইজমই জরুরি, ভগবান স্রেফ চেনা অজুহাত,
আমার প্রিজমে তুমি কালো হলে তোমার ওপরে নামবে আঘাত।
ঈশ্বরহীন চীন ও রাশিয়া দায়েশের থেকে আগে হত্যাতে
ধর্ম ভাষা বা জাতির দোহাই বারবার ঘটে একই ঘটনাতে।

ধ্বংস করাটা ভীষণ সহজ, শতাব্দী ভাঙে কয়েক প্রহরে,
পরিচয় মোছে মানুষের দল বেদখল হওয়া গ্রাম ও শহরে।
ফুজিয়ান লাসা কাবুলে কী ছিলো, অথবা অতীতে বাংলার বুকে,
দয়াহীন পথ সব ঢেকে দিয়ে ধুলোতে নামায় উদ্বাস্তুকে।

প্রতি প্রজন্মে লাশের পাহাড় অলঙ্ঘ্য হয় ঠিক কোনো দেশে,
বিজয়ী অস্ত্র ইতিহাস লেখে হত্যাকে ঢেকে ভারী অক্লেশে।
বাকি পৃথিবীর দিন কেটে যায় কোত্থাও কিছু হয়নি’র ভানে,
কাঁটাতার আছে প্রহরায় খাড়া, ঝামেলা ঢোকে না তাদের ওখানে।

তারের এপাশে আসবে না কেউ, দেশধর্ষক তালিবান জানে।

আর্যতীর্থ

*********************









*

। ও আফগানি।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১৮ই অগাস্ট ২০২১ সকাল।

এই তালিবান সেই তালিবান নয়।
ও আফগানি, আর পেয়ো না ভয়,
এমন করেই কান মুলেছে আঙ্কল স্যাম নাকি,
শুনবে না আর এদেশ জুড়ে কোতল করার হাঁকই,
এখন ওরা লক্ষ্মী ছেলে,
দিন কাটাবে হেসে খেলে ,
সুশীল, সুবোধ আর যা যা সু হয়,
সব তালিবান এখন সেটা, আর পেয়ো না ভয়।

শর্ত আছে একটা শুধু, বাধ্য হয়ে থেকো,
মেয়েরা যাতে ভেতর থাকে, সবাই সেটা দেখো।
দরকার কী পড়াশোনার, চাকরি করা নারীর?
বাচ্চা দেবে, দায়িত্ব তার চুলোর ওপর হাঁড়ির,
তার বেশি আর কিছু করা ধর্মে অসঙ্গত,
আরে বাবা, বাঁচতে তাদের দিচ্ছে তো অন্তত।
দাড়ি, বাড়ি, নারী, হাঁড়ি সব নিয়মে গাঁথা,
এদিক থেকে ওদিক হলেই ধুলোয় গড়ায় মাথা,
বেচাল যেন না হয় কোথাও, সেটা খেয়াল রেখো,
বাঁচতে গেলে শর্ত শুধু, বাধ্য হয়ে থেকো।

আশেপাশের দেশকে দেখো, কেমন বাঁচায় গা,
ও আফগানি, আজকে তোমার নেই কোনো জায়গা।
ইউ এন-এর আজ মুখে কুলুপ,
ন্যাটোর ঘেটো বিলকুল চুপ,
তোমার লড়াই লড়বে না কেউ,খরচখাতায় তুমি,
পদে পদে মৃত্যু সাজায় জন্ম দেওয়া ভূমি।
এখন তুমি মেনে নিয়ে বলতে পারো যাক গে,
তালিবানই আছে যখন পোড়া দেশের ভাগ্যে,
তালি দিয়ে বরং বলি ওরাই ভীষণ ভালো,
দেশটা গেলে রসাতলে আমার কি আর বলো!
এমনভাবেই অত্যাচারের গায়ে লাগে গত্তি,
দেশের মানুষ যখন ভাবে, অন্ধকারই সত্যি।
দেশটা কিন্তু তোমার এবং তোমারই জায়গা,
বাইরে থেকে বন্ধু এসে কাউকে বাঁচায় না ।

এই তালিবান সেই তালিবান নয়।
নিজের ওপর আনবে না আর টেনে বিপর্যয়,
আমেরিকা ইউরোপে আর জঙ্গী পাঠাবে না,
কাজেই তোমার সাহায্যে আর নেই সে ন্যাটোর সেনা।
দেশের ভেতর হোক না নরক,
ব্রীজ ফ্লাই ওভার পাকা সড়ক,
বানায় যারা বানিয়ে যাবে ঝুটঝামেলা ছাড়া,
আফগানিরা কেমন আছে ভাববে কেন তারা?
আগের ভুলের থেকে শিখে ব্যাপক বুদ্ধিমান,
আফগানিস্তান না হয় যাতে উগ্রবাদীর স্থান,
তেমন খেয়াল রাখবে এবার তালিবানি শাসন,
দেশের ভেতর কোতল করে বাইরে মিঠে ভাষণ,
সেটাই এবার তালিবানের নতুন পরিচয়,
এই তালিবান সেই তালিবান নয়।

ও আফগানি, ভয়ে থাকো, ভীষণ ভীষণ ভয়…

আর্যতীর্থ

*********************