কবি আর্যতীর্থর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
দায়ভার
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
কিছু জয়লাভে মনে আনন্দ জাগেনা
বরঞ্চ মন কাঁপে তীব্র বিষাদে,
প্রতিশোধ আর তত মধুর লাগেনা,
জিহ্বা জ্বলতে থাকে স্থুল কটু স্বাদে।
মনে ফেরে বারবার ওত পেতে থাকা
নারী ছিঁড়েখুঁড়ে খাওয়া ধর্ষক খুনী
লজ্জার স্মৃতি যত কালো রঙ মাখা
দিল্লী শহর থেকে গ্রাম কামদুনি।
প্রতিবার শুনে গেছি এক সংলাপ
ফাস্ট ট্র্যাক আদালত, কত হেনাতেনা,
সালিশীর সভা তবু ডেকে যায় খাপ,
নারীধর্ষণে তারা দোষ দেখেনা।
ধর্ষিতা কিশোরী আজও সত্যিটা জানে
কিভাবে বদলে যায় পড়শির চোখ,
কেমন নিপুণভাবে পুলিশী বয়ানে
ঘটনা হারায় তার দাঁত আর নখ।
এখনো বিচার চেয়ে মাথা কুটে মরে,
প্রায় নির্ভয়া হওয়া শ'য়ে শ'য়ে মেয়ে,
ক্ষত খুঁটে ঘা করা আইনি আঁচড়ে
রোজ ভাবে মরা ভালো ছিলো এর চেয়ে।
নির্ভয়া পশুদের হয়েছে বিচার
রাতঘুম নিরাপদ তবু কি সুজন?
দেশ কাল সময়ের রোজনামচার
একটাও দিন নেই বিনধর্ষণ।
যদি বলো এ লাজের দায়ভার কার,
শাসককে দোষারোপ কেন শুধু করো
টিজিং না-দেখা করে ঘুরিয়েছি ঘাড়,
এমন হওয়ার দায় তোমার আমারও।
আমরা বালিতে যদি মুখ রাখি গুঁজে
প্রতিবাদ অন্যের কাজ বলে ভাবি
জ্বলা মোমবাতি যাবে দপ করে বুজে,
আঁধার হুমকি দেবে 'কোথায় পালাবি?
রক্তে আগুন যদি জ্বালে কামদুনি,
মান যদি দিতে চাও নির্ভয়াকে,
তবে যেন টিজিংয়ের প্রতিবাদ শুনি
আটকিও ভিড়ে চোরা অসভ্যতাকে।
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
কিছু জয়লাভে মনে আনন্দ জাগেনা
বরঞ্চ মন কাঁপে তীব্র বিষাদে,
প্রতিশোধ আর তত মধুর লাগেনা,
জিহ্বা জ্বলতে থাকে স্থুল কটু স্বাদে।
মনে ফেরে বারবার ওত পেতে থাকা
নারী ছিঁড়েখুঁড়ে খাওয়া ধর্ষক খুনী
লজ্জার স্মৃতি যত কালো রঙ মাখা
দিল্লী শহর থেকে গ্রাম কামদুনি।
প্রতিবার শুনে গেছি এক সংলাপ
ফাস্ট ট্র্যাক আদালত, কত হেনাতেনা,
সালিশীর সভা তবু ডেকে যায় খাপ,
নারীধর্ষণে তারা দোষ দেখেনা।
ধর্ষিতা কিশোরী আজও সত্যিটা জানে
কিভাবে বদলে যায় পড়শির চোখ,
কেমন নিপুণভাবে পুলিশী বয়ানে
ঘটনা হারায় তার দাঁত আর নখ।
এখনো বিচার চেয়ে মাথা কুটে মরে,
প্রায় নির্ভয়া হওয়া শ'য়ে শ'য়ে মেয়ে,
ক্ষত খুঁটে ঘা করা আইনি আঁচড়ে
রোজ ভাবে মরা ভালো ছিলো এর চেয়ে।
নির্ভয়া পশুদের হয়েছে বিচার
রাতঘুম নিরাপদ তবু কি সুজন?
দেশ কাল সময়ের রোজনামচার
একটাও দিন নেই বিনধর্ষণ।
যদি বলো এ লাজের দায়ভার কার,
শাসককে দোষারোপ কেন শুধু করো
টিজিং না-দেখা করে ঘুরিয়েছি ঘাড়,
এমন হওয়ার দায় তোমার আমারও।
আমরা বালিতে যদি মুখ রাখি গুঁজে
প্রতিবাদ অন্যের কাজ বলে ভাবি
জ্বলা মোমবাতি যাবে দপ করে বুজে,
আঁধার হুমকি দেবে 'কোথায় পালাবি?
রক্তে আগুন যদি জ্বালে কামদুনি,
মান যদি দিতে চাও নির্ভয়াকে,
তবে যেন টিজিংয়ের প্রতিবাদ শুনি
আটকিও ভিড়ে চোরা অসভ্যতাকে।
*********************
ডাক্তার দিবস
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
রোগ জমেছে। শরীরে নয়, মনের ভেতর।
জীবাণুটি বহু প্রাচীন। প্রবেশ অবাধ।
রোগপ্রকোপে খুন হয়েছে। ভেঙেছে ঘর।
ডাক্তার আর রোগীর মাঝে তুলেছে বাঁধ।
খাচ্ছে ঘিলু। ঘুণের মতো। বিষের শ্বাস।
ভুগছে সমাজ। ভুগছে রোগী, চিকিৎসক।
মারণরোগের নামটি চেনা। অবিশ্বাস।
গঞ্জে গ্রামে ছড়িয়ে গেছে। খুব ব্যাপক।
হিংসা বাড়ে। হাসপাতালে। ধুন্ধুমার।
কিছু হলেই লাঠিসোঁটা। দে ধোলাই।
রোজের খবর। কেউ মরলেই সব চুরমার।
পানের থেকে চুন খসলেই বিচার চাই।
চিকিৎসকের দুইখানা হাত।এক মগজ।
মানুষ যে সে। চেষ্টা শুধু করতে পারে।
সব রোগ সে ফেলবে ধরে? এত সহজ?
ব্যর্থ হলেই ব্রেকিং নিউজ। হিংসা বাড়ে।
সবাই কি সৎ? এমন বলে কোন বোকা?
কিছু লোকের বাঁ হাত চলে। ব্যবসাদার।
দালাল ধরা। সাধু সেজে দেয় ধোঁকা।
লোক ঠকানো। সেটাই জেনো ব্যবসা তার।
ভুল করছো। বেশীর ভাগই অমন নয়।
হাসপাতালে আজও কজন রাত জাগে।
পাঞ্জা লড়ে যমের সাথে। আজও হয়।
ভেবে দেখো। হারতে কারো ভাল্লাগে?
পয়লা জুলাই। দিনটা নাকি ডাক্তারের।
এস এম এসে শুভেচ্ছারা পরের পর।
চিন্তা যদি থাকে কোনো উপহারের,
ভরসা, শুধু ভরসা রেখো তার ওপর।
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
রোগ জমেছে। শরীরে নয়, মনের ভেতর।
জীবাণুটি বহু প্রাচীন। প্রবেশ অবাধ।
রোগপ্রকোপে খুন হয়েছে। ভেঙেছে ঘর।
ডাক্তার আর রোগীর মাঝে তুলেছে বাঁধ।
খাচ্ছে ঘিলু। ঘুণের মতো। বিষের শ্বাস।
ভুগছে সমাজ। ভুগছে রোগী, চিকিৎসক।
মারণরোগের নামটি চেনা। অবিশ্বাস।
গঞ্জে গ্রামে ছড়িয়ে গেছে। খুব ব্যাপক।
হিংসা বাড়ে। হাসপাতালে। ধুন্ধুমার।
কিছু হলেই লাঠিসোঁটা। দে ধোলাই।
রোজের খবর। কেউ মরলেই সব চুরমার।
পানের থেকে চুন খসলেই বিচার চাই।
চিকিৎসকের দুইখানা হাত।এক মগজ।
মানুষ যে সে। চেষ্টা শুধু করতে পারে।
সব রোগ সে ফেলবে ধরে? এত সহজ?
ব্যর্থ হলেই ব্রেকিং নিউজ। হিংসা বাড়ে।
সবাই কি সৎ? এমন বলে কোন বোকা?
কিছু লোকের বাঁ হাত চলে। ব্যবসাদার।
দালাল ধরা। সাধু সেজে দেয় ধোঁকা।
লোক ঠকানো। সেটাই জেনো ব্যবসা তার।
ভুল করছো। বেশীর ভাগই অমন নয়।
হাসপাতালে আজও কজন রাত জাগে।
পাঞ্জা লড়ে যমের সাথে। আজও হয়।
ভেবে দেখো। হারতে কারো ভাল্লাগে?
পয়লা জুলাই। দিনটা নাকি ডাক্তারের।
এস এম এসে শুভেচ্ছারা পরের পর।
চিন্তা যদি থাকে কোনো উপহারের,
ভরসা, শুধু ভরসা রেখো তার ওপর।
*********************
বাইশে শ্রাবণ
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
একরাশ মেঘ অশ্রুর মতো বৃষ্টি বুকে নিয়ে ভেসে চলেছে।
আকাশ তাই দেখে অবাক। ব্যাপার কি? এত কান্না নিয়ে মেঘ কোথায় যাচ্ছে?
মাঝবাতাসে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করলো, কার ঘরে আগুন লেগেছে?
শ্রাবণ তো শেষের দিকে, এখন আবার বৃষ্টির তলব কে দিচ্ছে?
মেঘগুলো একটু চুপ করে রইলো। তারপর এক সর্দারগোছের মেঘ বললো 'গেছো ভুলে?'
যে মানুষটা ব্যাপ্তিতে তোমার চেয়েও বিস্তৃত, যাঁর সৃষ্টির রামধনুতে আজও পৃথিবী রঙিন,
একজীবনের বিষাদ মন্থন করে যিনি সবার বাঁচার অমৃতরসদ এনেছেন তুলে,
আজই তো সেই স্বপ্নপথিকের চলে যাওয়ার দিন।
ভুলে গেছো তুমি তা আকাশ?
এমনই এক শ্রাবণসন্ধ্যায় পূর্ণিমাচাঁদ কত ম্লান হয়ে কেঁদেছিলো, মনে নেই তা কি?
বাতাসও সেদিন এক নিদারুণ হাহাকারে শুনেছিলো কোটি হাহুতাশ,
কতটা আঁধার হয়ে শোক নেমেছিলো, সেই কালো রাত তুমি ভুলে গেলে নাকি?
আকাশ স্তব্ধ হলো। তার মনে এলো সেই পরিচিত মুখ,সভ্যতার শেষ ঋষির।
পথ ছেড়ে সে মেঘদের বললো, যাও, পৃথিবীকে দেখাও
কতটা বিষণ্ণ আজও আমাদের মন,
ঈশ্বর হারানোয় আমাদের কান্নারা ঝরুক অঝোরে ধরে রূপ বৃষ্টির,
ভেজা মাঠঘাটবাট, শহর গঞ্জ গ্রাম সবার আসুক মনে আজ সেই বিষাদিয়া বাইশে শ্রাবণ।
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
একরাশ মেঘ অশ্রুর মতো বৃষ্টি বুকে নিয়ে ভেসে চলেছে।
আকাশ তাই দেখে অবাক। ব্যাপার কি? এত কান্না নিয়ে মেঘ কোথায় যাচ্ছে?
মাঝবাতাসে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করলো, কার ঘরে আগুন লেগেছে?
শ্রাবণ তো শেষের দিকে, এখন আবার বৃষ্টির তলব কে দিচ্ছে?
মেঘগুলো একটু চুপ করে রইলো। তারপর এক সর্দারগোছের মেঘ বললো 'গেছো ভুলে?'
যে মানুষটা ব্যাপ্তিতে তোমার চেয়েও বিস্তৃত, যাঁর সৃষ্টির রামধনুতে আজও পৃথিবী রঙিন,
একজীবনের বিষাদ মন্থন করে যিনি সবার বাঁচার অমৃতরসদ এনেছেন তুলে,
আজই তো সেই স্বপ্নপথিকের চলে যাওয়ার দিন।
ভুলে গেছো তুমি তা আকাশ?
এমনই এক শ্রাবণসন্ধ্যায় পূর্ণিমাচাঁদ কত ম্লান হয়ে কেঁদেছিলো, মনে নেই তা কি?
বাতাসও সেদিন এক নিদারুণ হাহাকারে শুনেছিলো কোটি হাহুতাশ,
কতটা আঁধার হয়ে শোক নেমেছিলো, সেই কালো রাত তুমি ভুলে গেলে নাকি?
আকাশ স্তব্ধ হলো। তার মনে এলো সেই পরিচিত মুখ,সভ্যতার শেষ ঋষির।
পথ ছেড়ে সে মেঘদের বললো, যাও, পৃথিবীকে দেখাও
কতটা বিষণ্ণ আজও আমাদের মন,
ঈশ্বর হারানোয় আমাদের কান্নারা ঝরুক অঝোরে ধরে রূপ বৃষ্টির,
ভেজা মাঠঘাটবাট, শহর গঞ্জ গ্রাম সবার আসুক মনে আজ সেই বিষাদিয়া বাইশে শ্রাবণ।
*********************
বিদ্রোহী
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
একদিন, সব প্রতিবাদ জলে ফেলে দিয়ে,
তিল ও তুলসি হাতে নিঃশর্ত বশ্যতা মেনে নেবো।
গাছ আর আগাছার ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে
মাথা নিচু করা ঘাস হবো তোমাদের পায়ের তলায়।
একদিন, বিচার করার ঘিলু মাথা থেকে মুছে ফেলে,
তোমাদের চক্ষুদানশিবিরে গিয়ে বশংবদ অন্ধ হবো।
তোমাদের বেঁধে দেওয়া কথাদের সুরে গেঁথে
স্তাবকের বন্দনা সবাই শুনতে পাবে আমার গলায়।
একদিন, তোমাদের রূপকথা ইতিহাস বলে মেনে
তর্ক জুড়বো আমি তখনো সন্দিহান লোকেদের সাথে।
তোমাদের দেওয়া ম্যাপে পথ খুঁজে চলে যাবো সেই সব
স্থানে, যেখানে দাঙ্গার নামই শোনেনি কোনো লোকে।
একদিন, তোমাদেরই দেওয়া রঙে ছুপিয়ে নেবো অন্তর্বাস,
মাথার চুল, পায়ের নখ; আর কিছু ভাববো না অগ্রে পশ্চাতে।
তোমরা বলাবে যেটা, সেটাই বাক্য হবে, তোমরা দেখাবে যেটা,
তার বেশী কোনো আলো আর এসে পড়বে না পোষ্য দুচোখে।
তবে আজ সেইদিন নয় ; সুতরাং তুমি অত নিশ্চিন্ত নিরাপদ নও।
এখনো সটান খাড়া প্রতিবাদ জড়ো করে, পারো যদি যুদ্ধক্ষেত্রে এসে আমাকে হারাও।
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
একদিন, সব প্রতিবাদ জলে ফেলে দিয়ে,
তিল ও তুলসি হাতে নিঃশর্ত বশ্যতা মেনে নেবো।
গাছ আর আগাছার ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে
মাথা নিচু করা ঘাস হবো তোমাদের পায়ের তলায়।
একদিন, বিচার করার ঘিলু মাথা থেকে মুছে ফেলে,
তোমাদের চক্ষুদানশিবিরে গিয়ে বশংবদ অন্ধ হবো।
তোমাদের বেঁধে দেওয়া কথাদের সুরে গেঁথে
স্তাবকের বন্দনা সবাই শুনতে পাবে আমার গলায়।
একদিন, তোমাদের রূপকথা ইতিহাস বলে মেনে
তর্ক জুড়বো আমি তখনো সন্দিহান লোকেদের সাথে।
তোমাদের দেওয়া ম্যাপে পথ খুঁজে চলে যাবো সেই সব
স্থানে, যেখানে দাঙ্গার নামই শোনেনি কোনো লোকে।
একদিন, তোমাদেরই দেওয়া রঙে ছুপিয়ে নেবো অন্তর্বাস,
মাথার চুল, পায়ের নখ; আর কিছু ভাববো না অগ্রে পশ্চাতে।
তোমরা বলাবে যেটা, সেটাই বাক্য হবে, তোমরা দেখাবে যেটা,
তার বেশী কোনো আলো আর এসে পড়বে না পোষ্য দুচোখে।
তবে আজ সেইদিন নয় ; সুতরাং তুমি অত নিশ্চিন্ত নিরাপদ নও।
এখনো সটান খাড়া প্রতিবাদ জড়ো করে, পারো যদি যুদ্ধক্ষেত্রে এসে আমাকে হারাও।
*********************
স্বাধীনতা
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
স্বাধীনতা। বাতাসের মতো অদৃশ্য, অক্সিজেনের মতো দরকারি।
স্বাধীনতা। নিজের বাড়িতে নিজের রোজগারে ভরপেট ভাত রুটি তরকারি।
স্বাধীনতা। বন্দেমাতরম না বলে জয় হিন্দ বললে যার তফাত হয়না।
স্বাধীনতা। শুধু গেরুয়া নয়, সাদা আর সবুজও যে পতাকার গয়না।
স্বাধীনতা। এল ও সি'র ওপারের গুলিতে ঝাঁঝরা হওয়া সৈনিকের শেষ নিঃশ্বাস।
স্বাধীনতা। পালটাবে একদিন , সোনার স্বপ্ন দেখা কিছু মনে আজও বেঁচে থাকা বিশ্বাস।
স্বাধীনতা। জন গণ মন শুনে বাড়িতে সোফার থেকে সটান দাঁড়ানো।
স্বাধীনতা। কোহলি ,বিজেন্দর, মেরি কম ,দীপাতে আবেগের উচ্ছাসে তেরঙ্গা ওড়ানো।
নাগরিক কি খাবে শাসকের বেঁধে দেওয়া মাংস আইনে। স্বাধীনতা নয়।
বাড়িতে আনাজ নেই, পাঁচশো হাজার নিয়ে আবালবৃদ্ধ সব দাঁড়ানো লাইনে। স্বাধীনতা নয়।
প্রশাসনী বেনজরে কোথাও পুজোতে বাধা , কোথাও নমাজে।
স্বাধীনতা নয়।
সত্তর সাল গেলো, তবু জাতপাত লেগে সমাজের ভাঁজে।
স্বাধীনতা নয়।
ফেসবুকে ওগড়ানো আনাপসানাপ যত বিদ্বেষবমি। স্বাধীনতা নয়।
ফিসফিস গুজবের বিষ কানে ঢেলে দিয়ে যত্নে তৈরী করা দাঙ্গার জমি। স্বাধীনতা নয়।
ঋণদুখী কৃষকের জীবন ফুরিয়ে যাওয়া আজও ফলিডলে।
স্বাধীনতা নয়।
ধর্ষিতা রমণীর চরিতমানস ঘাঁটা জেরা করা ছলে। স্বাধীনতা নয়।
স্বাধীনতা। কিছুটা এসেছো পথ , আরো যে হাঁটতে হবে, জানো নিশ্চয়।
সকালে পতাকা তুলে বিকেলে মাতাল হওয়া দস্তুর হতে পারে। স্বাধীনতা নয়।
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
স্বাধীনতা। বাতাসের মতো অদৃশ্য, অক্সিজেনের মতো দরকারি।
স্বাধীনতা। নিজের বাড়িতে নিজের রোজগারে ভরপেট ভাত রুটি তরকারি।
স্বাধীনতা। বন্দেমাতরম না বলে জয় হিন্দ বললে যার তফাত হয়না।
স্বাধীনতা। শুধু গেরুয়া নয়, সাদা আর সবুজও যে পতাকার গয়না।
স্বাধীনতা। এল ও সি'র ওপারের গুলিতে ঝাঁঝরা হওয়া সৈনিকের শেষ নিঃশ্বাস।
স্বাধীনতা। পালটাবে একদিন , সোনার স্বপ্ন দেখা কিছু মনে আজও বেঁচে থাকা বিশ্বাস।
স্বাধীনতা। জন গণ মন শুনে বাড়িতে সোফার থেকে সটান দাঁড়ানো।
স্বাধীনতা। কোহলি ,বিজেন্দর, মেরি কম ,দীপাতে আবেগের উচ্ছাসে তেরঙ্গা ওড়ানো।
নাগরিক কি খাবে শাসকের বেঁধে দেওয়া মাংস আইনে। স্বাধীনতা নয়।
বাড়িতে আনাজ নেই, পাঁচশো হাজার নিয়ে আবালবৃদ্ধ সব দাঁড়ানো লাইনে। স্বাধীনতা নয়।
প্রশাসনী বেনজরে কোথাও পুজোতে বাধা , কোথাও নমাজে।
স্বাধীনতা নয়।
সত্তর সাল গেলো, তবু জাতপাত লেগে সমাজের ভাঁজে।
স্বাধীনতা নয়।
ফেসবুকে ওগড়ানো আনাপসানাপ যত বিদ্বেষবমি। স্বাধীনতা নয়।
ফিসফিস গুজবের বিষ কানে ঢেলে দিয়ে যত্নে তৈরী করা দাঙ্গার জমি। স্বাধীনতা নয়।
ঋণদুখী কৃষকের জীবন ফুরিয়ে যাওয়া আজও ফলিডলে।
স্বাধীনতা নয়।
ধর্ষিতা রমণীর চরিতমানস ঘাঁটা জেরা করা ছলে। স্বাধীনতা নয়।
স্বাধীনতা। কিছুটা এসেছো পথ , আরো যে হাঁটতে হবে, জানো নিশ্চয়।
সকালে পতাকা তুলে বিকেলে মাতাল হওয়া দস্তুর হতে পারে। স্বাধীনতা নয়।
*********************
অনাবাসী
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
ওড়ার ডানায় জোর দিয়েছো, শিকড় আবার কি প্রয়োজন?
এখন তুমি বদলে গেছো, মেঘ হয়েছে তোমার আপন।
এমেঘ সে মেঘ ঘুরে বেড়াও , অনেক নিচে ভিটের মাটি,
নিচের দিকে দাও ছুঁড়ে দাও, তাৎক্ষণিকের ঠিকানাটি।
মাটি সেটাই আঁকড়ে ধরে, গর্ব করে মহল্লাতে,
ঝাপট মারো ডানায় জোরে, স্মৃতিই শুধু মাটির খাতে।
মাঝে মাঝে কৃপার বশে, ফেরো বটে জীর্ণ ঘরে,
দুচারখানা পালক খসে, চঞ্চু নাড়াও কষ্ট করে।
নজর পড়ে মাটির ধুলো, আশেপাশের দৈন্য দশা
ময়লা দেখায় ডানাগুলো, তার ওপরে মাছি মশা।
তড়িঘড়ি ফেরত যেতে, ঘড়ির কাঁটা ছোটাও দ্রুত,
আবার আসা না হয় যাতে, পক্ষে সাজাও ঢালাও ছুতো।
মেঘমুলুকে রান্নাবাটি, তোমার আবার ভাবনা কি হে,
দূরে পড়ে ভিটের মাটি, ফাটল ধরা ব্যর্থ স্নেহে।
মেঘ আসলে কুয়াশা যে, ব্যস্ত জলের কণার আকর,
পাখী যতই উড়ুক কাজে, আসলে সে মেঘের চাকর।
ভিটের সাকিন পাখি ভোলে,মেঘের কিন্তু আছে মনে,
পরিস্থিতির ভোলবদলে, ঝড় এসে যায় ঈশান কোণে।
পাখি তখন ঝাপটে ডানা, দিশাহীনের উড়ান লাগায়,
মেঘমুলুকে তার ঠিকানা, হঠাৎ যেন ভীতি জাগায়।
বিজলিহানার সে সন্ত্রাসে ,পাখি তখন কি আর করে,
ভগ্নডানায় ফেরত আসে , ভুলে যাওয়া সেই শেকড়ে।
উড়তে যতই লাগুক ভালো, আকাশ খাতে শূন্য লেখা,
ভুলেও যদি নোঙর তোলো, বাঁচতে হবে তোমায় একা।
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
ওড়ার ডানায় জোর দিয়েছো, শিকড় আবার কি প্রয়োজন?
এখন তুমি বদলে গেছো, মেঘ হয়েছে তোমার আপন।
এমেঘ সে মেঘ ঘুরে বেড়াও , অনেক নিচে ভিটের মাটি,
নিচের দিকে দাও ছুঁড়ে দাও, তাৎক্ষণিকের ঠিকানাটি।
মাটি সেটাই আঁকড়ে ধরে, গর্ব করে মহল্লাতে,
ঝাপট মারো ডানায় জোরে, স্মৃতিই শুধু মাটির খাতে।
মাঝে মাঝে কৃপার বশে, ফেরো বটে জীর্ণ ঘরে,
দুচারখানা পালক খসে, চঞ্চু নাড়াও কষ্ট করে।
নজর পড়ে মাটির ধুলো, আশেপাশের দৈন্য দশা
ময়লা দেখায় ডানাগুলো, তার ওপরে মাছি মশা।
তড়িঘড়ি ফেরত যেতে, ঘড়ির কাঁটা ছোটাও দ্রুত,
আবার আসা না হয় যাতে, পক্ষে সাজাও ঢালাও ছুতো।
মেঘমুলুকে রান্নাবাটি, তোমার আবার ভাবনা কি হে,
দূরে পড়ে ভিটের মাটি, ফাটল ধরা ব্যর্থ স্নেহে।
মেঘ আসলে কুয়াশা যে, ব্যস্ত জলের কণার আকর,
পাখী যতই উড়ুক কাজে, আসলে সে মেঘের চাকর।
ভিটের সাকিন পাখি ভোলে,মেঘের কিন্তু আছে মনে,
পরিস্থিতির ভোলবদলে, ঝড় এসে যায় ঈশান কোণে।
পাখি তখন ঝাপটে ডানা, দিশাহীনের উড়ান লাগায়,
মেঘমুলুকে তার ঠিকানা, হঠাৎ যেন ভীতি জাগায়।
বিজলিহানার সে সন্ত্রাসে ,পাখি তখন কি আর করে,
ভগ্নডানায় ফেরত আসে , ভুলে যাওয়া সেই শেকড়ে।
উড়তে যতই লাগুক ভালো, আকাশ খাতে শূন্য লেখা,
ভুলেও যদি নোঙর তোলো, বাঁচতে হবে তোমায় একা।
*********************
বাইনারি
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
আদম ইভের কোনো অলিখিত পূণ্যে
সন্ততি মেতে আছে একে আর শূন্যে।
কবিতা ছবি বা গান, মন থাক যেটাতে
সব কিছু তোলা যায় বাইনারি ডেটাতে।
এক আর শূন্যেই আধুনিক পৃথিবী,
দরকারে তুলে নে এর থেকে যা নিবি।
প্রিয় হিরো সমাচার, হিরোইন ভঙ্গী
বিশদে ভাঙলে সব বুলিয়ান ঢঙ্গী।
টরে টরে টক্কারা ঠাঁই পেলো অতীতে
লাইভ ভিডিও যায় তড়িতের গতিতে।
ওয়াই ফাই ব্লুটুথে হুসহুস তথ্য,
শূন্য ও এক নিয়ে খেলাধুলা সব তো।
এত যে শক্তি ধরে বাইনারি নাম্বার
চীনের প্রাচীর আছে তারও কিছু থামবার।
মায়ের আদর নয় বাইনারি লিখিত,
( রোবটের স্নেহ নেই, জানে লোক ঠিকই তো।)
প্রেয়সীর ভালোবাসা বিরহ বা অভিমান
সেইখানে ফেল মারে যাবতীয় বুলিয়ান।
কবির মগজে ঢুকে বাইনারি বন্ধ
শূন্য বা একে নেই মনছোঁয়া ছন্দ।
জীবনকে বাইনারি করে ফেলা হুজুগে
অযন্ত্র আবেগরা নিপাত্তা এযুগে।
এক চোখ আনচোখে যে ভরসা খুঁজবে
কোনোদিন তার ভাষা বাইনারি বুঝবে?
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
আদম ইভের কোনো অলিখিত পূণ্যে
সন্ততি মেতে আছে একে আর শূন্যে।
কবিতা ছবি বা গান, মন থাক যেটাতে
সব কিছু তোলা যায় বাইনারি ডেটাতে।
এক আর শূন্যেই আধুনিক পৃথিবী,
দরকারে তুলে নে এর থেকে যা নিবি।
প্রিয় হিরো সমাচার, হিরোইন ভঙ্গী
বিশদে ভাঙলে সব বুলিয়ান ঢঙ্গী।
টরে টরে টক্কারা ঠাঁই পেলো অতীতে
লাইভ ভিডিও যায় তড়িতের গতিতে।
ওয়াই ফাই ব্লুটুথে হুসহুস তথ্য,
শূন্য ও এক নিয়ে খেলাধুলা সব তো।
এত যে শক্তি ধরে বাইনারি নাম্বার
চীনের প্রাচীর আছে তারও কিছু থামবার।
মায়ের আদর নয় বাইনারি লিখিত,
( রোবটের স্নেহ নেই, জানে লোক ঠিকই তো।)
প্রেয়সীর ভালোবাসা বিরহ বা অভিমান
সেইখানে ফেল মারে যাবতীয় বুলিয়ান।
কবির মগজে ঢুকে বাইনারি বন্ধ
শূন্য বা একে নেই মনছোঁয়া ছন্দ।
জীবনকে বাইনারি করে ফেলা হুজুগে
অযন্ত্র আবেগরা নিপাত্তা এযুগে।
এক চোখ আনচোখে যে ভরসা খুঁজবে
কোনোদিন তার ভাষা বাইনারি বুঝবে?
*********************
ক্যাশলেস
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
নীরব বিজয় মেহুল সবাই
যে যার মতো পগারপার,
তোমার আমার জমায় জমে,
চক্রবৃদ্ধি অন্ধকার।
ব্যাঙ্কে রোজই সুদ কমে যায়
এফ ডি রিটার্ন ছুচ্ছে ভুঁই,
বাজার গেলেই লাগছে ছ্যাঁকা
হাতের নাগাল নেই কিছুই।
মিউচুয়ালে রাখতে জমা
বিজ্ঞাপণে খুব বলে,
সাবজেক্ট টু মার্কেট রিস্ক
মানে টাকা ডুবজলে।
শেয়ারবাজার ডগমগে বেশ
সেনসেক্স তো মগডালে
আমরা জাহাজ খবর দেখি
আদা বেচার ফাঁকতালে।
রোজগারে রোজ লাগছে রাহু
তুঙ্গে ওঠে বাজারদর,
ফি বাজেটে লাগছে দেখি
করের ওপর আবার কর।
কাজেই এখন জমায় ঢুঁঢুঁ,
ব্যাঙ্কে টাকা শূন্যতে,
পাচ্ছি খেতে দুইবেলা কোন
বাপ পিতেমো’র পূণ্যতে।
ভর্তুকি তো কবেই গেছে
নেই কো সুযোগ করছাড়ের,
সামলাবো যে কি করে আর
লাগামছাড়া খরচাদের!
দেখতে হবে সুদিন কেমন
আগামীতে আসলে সে,
মানিব্যাগটি পাল্টেছে আজ
সত্যিকারের ক্যাশলেসে।
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
নীরব বিজয় মেহুল সবাই
যে যার মতো পগারপার,
তোমার আমার জমায় জমে,
চক্রবৃদ্ধি অন্ধকার।
ব্যাঙ্কে রোজই সুদ কমে যায়
এফ ডি রিটার্ন ছুচ্ছে ভুঁই,
বাজার গেলেই লাগছে ছ্যাঁকা
হাতের নাগাল নেই কিছুই।
মিউচুয়ালে রাখতে জমা
বিজ্ঞাপণে খুব বলে,
সাবজেক্ট টু মার্কেট রিস্ক
মানে টাকা ডুবজলে।
শেয়ারবাজার ডগমগে বেশ
সেনসেক্স তো মগডালে
আমরা জাহাজ খবর দেখি
আদা বেচার ফাঁকতালে।
রোজগারে রোজ লাগছে রাহু
তুঙ্গে ওঠে বাজারদর,
ফি বাজেটে লাগছে দেখি
করের ওপর আবার কর।
কাজেই এখন জমায় ঢুঁঢুঁ,
ব্যাঙ্কে টাকা শূন্যতে,
পাচ্ছি খেতে দুইবেলা কোন
বাপ পিতেমো’র পূণ্যতে।
ভর্তুকি তো কবেই গেছে
নেই কো সুযোগ করছাড়ের,
সামলাবো যে কি করে আর
লাগামছাড়া খরচাদের!
দেখতে হবে সুদিন কেমন
আগামীতে আসলে সে,
মানিব্যাগটি পাল্টেছে আজ
সত্যিকারের ক্যাশলেসে।
*********************
ঈশ্বরের আগে
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
জুরাসিক যুগ। এতটা স্থবির নয় তখনও পৃথিবী।
হিমালয় ছোটোখাটো পাথুরিলা ঢিবি,
নদীরা বাধ্য নয়, দিক পাল্টিয়ে ফেলে খেয়ালের বশে,
মেঘছোঁয়া গাছডালে রোজ টেরোডাক্টিল ডানা মুড়ে বসে অভাগা ডায়নোসরি মাংস চেবায়।
নিচে মাঝে মাঝে এসে টিরানোসরাস রেক্স গাছ আঁচড়ায়।
অস্থির ভূমিতে ব্রন্টোসরাসের এক শিশু বড় হয়।
মা বাপ মস্ত বড়, টলোমলো পায়ে চলে তাদের নকলে সে সড়গড় হয়।
চিনে গেছে কোনখানে মৃত্যু লুকিয়ে, চোরাবালি কোনখানে চুপচাপ পড়ে থাকে সব গিলে নিয়ে,
কোন গাছে স্বাদু পাতা, কোথায় কাঁটার বিষে জ্বালা ধরে জিভে,
কোথায় জ্বালামুখী নিভে গিয়ে হ্রদ হয়ে গেছে,
সব তার জানা।
তবে তাকে বড় টানে টিমটিম তারাভরা রাতের আকাশখানা।
ছোটো মনে নানবিধ প্রশ্নও আসে।
মা যখন মুখ দেয় অতিকায় ঘাসে,
তখন সে পিছুপিছু নানা কথা বলে তার ব্রন্টো ভাষায়
( বিজ্ঞান নয় এটা, কল্পকাহিনী, কিছু মিছেকথা হলে কি আসে যায়!)
রাত আকাশে সে যখন তারাদের দেখে,
নদী ও পাহাড় থেকে অদ্ভুত শব্দেরা আঁধারকে কত রূপ দেয় ,
আদিম বাতাস মেখে অধুনা লুপ্ত ফুল, তার নাকে রাতভর সুবাস ছড়ায়।
একদিন বাপ মা কে ডেকে, খুদেটা ব্যক্ত করে তার এক সওয়াল,
এই তারা, ওই নদী, টিরানোসরাস আর টেরোডাক্টিলপাল কার সৃষ্টি,
কেউ কি আছেন নাকি সব কিছু ঘটমানে যার দৃষ্টি?
সংক্ষেপে, কেউ কি আছেন যার নাম ভগবান?
ডাইনো বাবা হেসে মা’র দিকে চান,
তারপর বলে যান ব্রন্টো ভাষায়, ‘বাচ্চা তোমার দেখি বড় দ্রুত ভাবীকালে যায়।’
তারপর খুদেটাকে মৃদু ঠেলা দিয়ে কন 'এত তাড়াতাড়ি কেন ঈশ্বর নিয়ে উন্মুখ?
এখনো জন্মাননি তিনি, তাঁকে যে বানাবে, আগামীতে আগে তো সে মানুষ আসুক!’
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
জুরাসিক যুগ। এতটা স্থবির নয় তখনও পৃথিবী।
হিমালয় ছোটোখাটো পাথুরিলা ঢিবি,
নদীরা বাধ্য নয়, দিক পাল্টিয়ে ফেলে খেয়ালের বশে,
মেঘছোঁয়া গাছডালে রোজ টেরোডাক্টিল ডানা মুড়ে বসে অভাগা ডায়নোসরি মাংস চেবায়।
নিচে মাঝে মাঝে এসে টিরানোসরাস রেক্স গাছ আঁচড়ায়।
অস্থির ভূমিতে ব্রন্টোসরাসের এক শিশু বড় হয়।
মা বাপ মস্ত বড়, টলোমলো পায়ে চলে তাদের নকলে সে সড়গড় হয়।
চিনে গেছে কোনখানে মৃত্যু লুকিয়ে, চোরাবালি কোনখানে চুপচাপ পড়ে থাকে সব গিলে নিয়ে,
কোন গাছে স্বাদু পাতা, কোথায় কাঁটার বিষে জ্বালা ধরে জিভে,
কোথায় জ্বালামুখী নিভে গিয়ে হ্রদ হয়ে গেছে,
সব তার জানা।
তবে তাকে বড় টানে টিমটিম তারাভরা রাতের আকাশখানা।
ছোটো মনে নানবিধ প্রশ্নও আসে।
মা যখন মুখ দেয় অতিকায় ঘাসে,
তখন সে পিছুপিছু নানা কথা বলে তার ব্রন্টো ভাষায়
( বিজ্ঞান নয় এটা, কল্পকাহিনী, কিছু মিছেকথা হলে কি আসে যায়!)
রাত আকাশে সে যখন তারাদের দেখে,
নদী ও পাহাড় থেকে অদ্ভুত শব্দেরা আঁধারকে কত রূপ দেয় ,
আদিম বাতাস মেখে অধুনা লুপ্ত ফুল, তার নাকে রাতভর সুবাস ছড়ায়।
একদিন বাপ মা কে ডেকে, খুদেটা ব্যক্ত করে তার এক সওয়াল,
এই তারা, ওই নদী, টিরানোসরাস আর টেরোডাক্টিলপাল কার সৃষ্টি,
কেউ কি আছেন নাকি সব কিছু ঘটমানে যার দৃষ্টি?
সংক্ষেপে, কেউ কি আছেন যার নাম ভগবান?
ডাইনো বাবা হেসে মা’র দিকে চান,
তারপর বলে যান ব্রন্টো ভাষায়, ‘বাচ্চা তোমার দেখি বড় দ্রুত ভাবীকালে যায়।’
তারপর খুদেটাকে মৃদু ঠেলা দিয়ে কন 'এত তাড়াতাড়ি কেন ঈশ্বর নিয়ে উন্মুখ?
এখনো জন্মাননি তিনি, তাঁকে যে বানাবে, আগামীতে আগে তো সে মানুষ আসুক!’
*********************
গান্ধারী কুন্তী সংবাদ
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
গান্ধারী :
তোর তো তবু পাঁচই আছে, একশো আমার শেষ
হিংসা দিলো শ্মশান করে একটা গোটা দেশ।
যেদিক তাকাই চোখে পড়ে চেনা চিতার খাক,
কৃষ্ণ শুধু বাজান বসে ধর্মজয়ের ঢাক।
তোর তো এখন পাঁচই আছে, রাজার মা তুই আজ,
তবে কেন তুলিস গায়ে বাণপ্রস্থের সাজ?
কুন্তী :
যুদ্ধ আনে ধ্বংস ভয়াল , কে না জানে দিদি
মানুষ কেন লড়াই করে, কারণ জানেন বিধি।
এ যুদ্ধে সব যোদ্ধা ছিলেন এই বিষয়ে জ্ঞাত,
তবুও কই, লড়াইটা কেউ থামিয়ে দিলোনা তো!
বেঁচে আছে পাঁচটি ছেলে, নাতিরা যমঘরে,
সিংহাসন কি স্বজনহারার দুঃখকে কম করে?
গান্ধারী :
তাই বলে তুই ছাড়বি প্রাসাদ, এমন ভাবিস কেন,
জীবন জুড়ে কষ্ট তোকে আঁকড়ে আছে যেন।
স্বামীর সোহাগ বঞ্চিত তুই মুনির অভিশাপে,
বাকি জীবন ঝলসে গেলি বিবাদী উত্তাপে
পুত্র যুধিষ্ঠিরের মাথায় এখন মুকুট রাজার,
সুখের থেকে পালিয়ে বেড়াস তবে কেন আজ আর?
কুন্তী :
কক্ষগুলোয় কান্না কেবল, অলিন্দ্য আজ ফাঁকা
গবাক্ষে নেই রঙের ছোঁয়া, শোকের সাদায় ঢাকা।
জীবিতরাও মৃত’র মতন ঘুরছে আশেপাশে,
যেখানে যাই, কান্নারা ঠিক পিছু পিছু আসে।
এতটা শোক বইতে দিদি আর যে পারি না,
মর্মে বেঁধে , বললে শুধু পাঁচটা ছেলের মা।
গান্ধারী :
কর্ণ ছিলো জ্যেষ্ঠ যে তোর, বলিসনি তা আগে,
সবটা খুলে বলতি যদি, যুদ্ধ কি আর লাগে?
যুধিষ্ঠির তো সরেই যেতো, ধর্মতে তার মন,
মেনে নিতো রাজা তাকে আমার দুর্যোধন।
এ রক্তপাত, ধ্বংস এবং স্বজনক্ষয়ের মূল,
তোরই জিভের আড়ষ্টতা, লজ্জা করার ভুল।
কুন্তী :
মানছি আমি ভুল করেছি , জিভ বেঁধেছে লাজে,
শুধু তাকেই করলে দায়ী, ঠিক তা হবে না যে।
অন্ধরাজার পত্নী তুমি, একশো ছেলের দায়,
দিদি,তোমার চোখ বাঁধবার বিলাস শোভা পায়?
দৃষ্টি হলে দেখতে পেতে যায় বিপথে দুর্যোধন,
মায়ের শাসন অনেক আগে করতো তাকে সংশোধন।
গান্ধারী :
ঠিক বলেছিস হয়তো ছোটো, আমরা দুজন দায়ী,
অতীত ভুলের মাসুল নিলো যুদ্ধ রক্তপায়ী।
মা’রা যদি করেন তাদের দায়-কে অস্বীকার,
যুগে যুগে নামবে দেশে এমন হাহাকার।
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
গান্ধারী :
তোর তো তবু পাঁচই আছে, একশো আমার শেষ
হিংসা দিলো শ্মশান করে একটা গোটা দেশ।
যেদিক তাকাই চোখে পড়ে চেনা চিতার খাক,
কৃষ্ণ শুধু বাজান বসে ধর্মজয়ের ঢাক।
তোর তো এখন পাঁচই আছে, রাজার মা তুই আজ,
তবে কেন তুলিস গায়ে বাণপ্রস্থের সাজ?
কুন্তী :
যুদ্ধ আনে ধ্বংস ভয়াল , কে না জানে দিদি
মানুষ কেন লড়াই করে, কারণ জানেন বিধি।
এ যুদ্ধে সব যোদ্ধা ছিলেন এই বিষয়ে জ্ঞাত,
তবুও কই, লড়াইটা কেউ থামিয়ে দিলোনা তো!
বেঁচে আছে পাঁচটি ছেলে, নাতিরা যমঘরে,
সিংহাসন কি স্বজনহারার দুঃখকে কম করে?
গান্ধারী :
তাই বলে তুই ছাড়বি প্রাসাদ, এমন ভাবিস কেন,
জীবন জুড়ে কষ্ট তোকে আঁকড়ে আছে যেন।
স্বামীর সোহাগ বঞ্চিত তুই মুনির অভিশাপে,
বাকি জীবন ঝলসে গেলি বিবাদী উত্তাপে
পুত্র যুধিষ্ঠিরের মাথায় এখন মুকুট রাজার,
সুখের থেকে পালিয়ে বেড়াস তবে কেন আজ আর?
কুন্তী :
কক্ষগুলোয় কান্না কেবল, অলিন্দ্য আজ ফাঁকা
গবাক্ষে নেই রঙের ছোঁয়া, শোকের সাদায় ঢাকা।
জীবিতরাও মৃত’র মতন ঘুরছে আশেপাশে,
যেখানে যাই, কান্নারা ঠিক পিছু পিছু আসে।
এতটা শোক বইতে দিদি আর যে পারি না,
মর্মে বেঁধে , বললে শুধু পাঁচটা ছেলের মা।
গান্ধারী :
কর্ণ ছিলো জ্যেষ্ঠ যে তোর, বলিসনি তা আগে,
সবটা খুলে বলতি যদি, যুদ্ধ কি আর লাগে?
যুধিষ্ঠির তো সরেই যেতো, ধর্মতে তার মন,
মেনে নিতো রাজা তাকে আমার দুর্যোধন।
এ রক্তপাত, ধ্বংস এবং স্বজনক্ষয়ের মূল,
তোরই জিভের আড়ষ্টতা, লজ্জা করার ভুল।
কুন্তী :
মানছি আমি ভুল করেছি , জিভ বেঁধেছে লাজে,
শুধু তাকেই করলে দায়ী, ঠিক তা হবে না যে।
অন্ধরাজার পত্নী তুমি, একশো ছেলের দায়,
দিদি,তোমার চোখ বাঁধবার বিলাস শোভা পায়?
দৃষ্টি হলে দেখতে পেতে যায় বিপথে দুর্যোধন,
মায়ের শাসন অনেক আগে করতো তাকে সংশোধন।
গান্ধারী :
ঠিক বলেছিস হয়তো ছোটো, আমরা দুজন দায়ী,
অতীত ভুলের মাসুল নিলো যুদ্ধ রক্তপায়ী।
মা’রা যদি করেন তাদের দায়-কে অস্বীকার,
যুগে যুগে নামবে দেশে এমন হাহাকার।
*********************
