কবি আর্যতীর্থর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
বিকর্ণ
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
যাজ্ঞসেনীর খুলছে শাড়ি, টানছে ধরে দুঃশাসন,
দায় ছিলো যার গর্জে ওঠার! নিচু মাথায় সে পাঁচজন।
দুর্যোধনের নগ্ন ঊরু, ইঙ্গিতে তার ধর্ষকাম,
হস্তিনাপুর দেখছে বসে, ধ্বস্ত হতে তার সুনাম।
অন্ধরাজা সিংহাসনে, আর্ত চেঁচান বৌমা তার,
নিজের দলের নির্যাতনে, সব রাজা হন নির্বিকার।
কর্ণ বসে হাসছে হা হা, রাজার দলের লোক তো সে
শর্তবিহীন সমর্থনেই, তাবত আরামসুখ বসে।
ভীষ্ম দ্রোণ কৃপ নীরব, সরকারী লোক হাজার হোক
রাজার কথাই তোমার কথা, তুমি যখন রাজার লোক।
খল শকুনি দেখছে সবই, বস্তুত সে ধ্বংস চায়,
ঘরের মাটি লাল হয়ে যাক, দেশবিভাগের যন্ত্রণায়।
সুশীল সভায় ঘটছে যখন, রাজঅপরাধ জঘন্য,
ঠিক তখনই তার বিরোধে, চেঁচিয়ে ওঠেন বিকর্ণ।
বিকর্ণ নন কেউকেটা লোক, একশো ভাইয়ের একজনা
তেমন করে এর আগে কেউ, তার কথাটাই জানতো না।
জতুগৃহে কাড়েননি রা, অন্তত তা নেই লেখা,
ভীমকে যখন বিষ খাওয়ালো, তখনও তাঁর নেই দেখা।
কিন্তু যখন প্রকাশ্যতেই কাড়ছে নারীর আব্রু কেউ,
স্তব্ধ জিভের চুপসাগরে, বিকর্ণ হন একলা ঢেউ।
চেঁচিয়ে ওঠেন রাজার কুমার, যুবরাজের বিরুদ্ধেই,
মহাবলী পান্ডবেরও, তখন গলায় সে সুর নেই।
রাজাও যখন নীরব থেকে, সায় দিয়ে যায় ধর্ষণে,
ঠিক তখনই সমস্ত যুগ, বিকর্ণদের স্বর শোনে।
আমরা যারা কিচ্ছুটি নই, একটি মোটে ভোট কেবল,
অত্যাচারের সামনে এলে, সঙ্গী শুধু চোখের জল
পোষ্যভাবে জাবনা চেবাই, অন্ধ এবং নি-কর্ণ,
প্রার্থনা থাক আমরা যেন, একবার হই বিকর্ণ।
মরার আগে হতেই হবে, রাজার সভায় বিকর্ণ।
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
যাজ্ঞসেনীর খুলছে শাড়ি, টানছে ধরে দুঃশাসন,
দায় ছিলো যার গর্জে ওঠার! নিচু মাথায় সে পাঁচজন।
দুর্যোধনের নগ্ন ঊরু, ইঙ্গিতে তার ধর্ষকাম,
হস্তিনাপুর দেখছে বসে, ধ্বস্ত হতে তার সুনাম।
অন্ধরাজা সিংহাসনে, আর্ত চেঁচান বৌমা তার,
নিজের দলের নির্যাতনে, সব রাজা হন নির্বিকার।
কর্ণ বসে হাসছে হা হা, রাজার দলের লোক তো সে
শর্তবিহীন সমর্থনেই, তাবত আরামসুখ বসে।
ভীষ্ম দ্রোণ কৃপ নীরব, সরকারী লোক হাজার হোক
রাজার কথাই তোমার কথা, তুমি যখন রাজার লোক।
খল শকুনি দেখছে সবই, বস্তুত সে ধ্বংস চায়,
ঘরের মাটি লাল হয়ে যাক, দেশবিভাগের যন্ত্রণায়।
সুশীল সভায় ঘটছে যখন, রাজঅপরাধ জঘন্য,
ঠিক তখনই তার বিরোধে, চেঁচিয়ে ওঠেন বিকর্ণ।
বিকর্ণ নন কেউকেটা লোক, একশো ভাইয়ের একজনা
তেমন করে এর আগে কেউ, তার কথাটাই জানতো না।
জতুগৃহে কাড়েননি রা, অন্তত তা নেই লেখা,
ভীমকে যখন বিষ খাওয়ালো, তখনও তাঁর নেই দেখা।
কিন্তু যখন প্রকাশ্যতেই কাড়ছে নারীর আব্রু কেউ,
স্তব্ধ জিভের চুপসাগরে, বিকর্ণ হন একলা ঢেউ।
চেঁচিয়ে ওঠেন রাজার কুমার, যুবরাজের বিরুদ্ধেই,
মহাবলী পান্ডবেরও, তখন গলায় সে সুর নেই।
রাজাও যখন নীরব থেকে, সায় দিয়ে যায় ধর্ষণে,
ঠিক তখনই সমস্ত যুগ, বিকর্ণদের স্বর শোনে।
আমরা যারা কিচ্ছুটি নই, একটি মোটে ভোট কেবল,
অত্যাচারের সামনে এলে, সঙ্গী শুধু চোখের জল
পোষ্যভাবে জাবনা চেবাই, অন্ধ এবং নি-কর্ণ,
প্রার্থনা থাক আমরা যেন, একবার হই বিকর্ণ।
মরার আগে হতেই হবে, রাজার সভায় বিকর্ণ।
*********************
কোষাধ্যক্ষ
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
স্তব্ধ আজকে আজবনগরে রাজার সভাকক্ষ
চাবিটি গছিয়ে খানিক আগেই গিয়েছেন কোষাধ্যক্ষ।
দোষের মধ্যে রাজা চেয়েছেন কোষাগার থেকে টাকা
তুচ্ছ ও ব্যাটা বলে কিনা ওতে জনগণধন রাখা!
রেগে টং হয়ে রাজা বলেছেন ‘নতুন জিনিষ জানছি
কোথায় খরচ করবে মালিক বলে দেবে খাজাঞ্চি!
আমারই তো ধন, প্রজারা আমাকে খাজনা দিয়েছে যত
খরচ করবো স্বাভাবিকভাবে নিজের খেয়ালমতো,
সে ব্যাপারে তুই ব্যাগড়া বাঁধালি, কোথাকার হরিদাস,
রাজার নমক খেয়ে আজ তার দাড়ি ওপড়াতে চাস!
কোষাধ্যক্ষ, ভালো চাস তো তোর সিন্দুক খুলে রাখ,
আমি বলে দেবো কোন মাছটাকে ভালো ঢাকে কোন শাক।’
কোষা ব্যাটা তবু ছাড়েনি তো জমি, নড়েনি সে একচুল,
বারবার বলে ‘ভাঁড়ারে এখন মুদ্রা অপ্রতুল।
খেয়ালখুশীতে খরচা বাড়ালে ধসবে অর্থনীতি’
রাজা বলে ‘ওরে, তোর নেই তো রে গদি হারাবার ভীতি।
আগুন বাজার, প্রজাদের আজ কুলায় না খরচাতে,
কিছুটা প্রলেপ দিতে হবে বাপ, ভোট আসে দরজাতে।’
শুনে কোষাপতি বলে ‘হে নৃপতি, খুরেতে দন্ডবৎ,
আমি কোনোকালে বাজাতে পারিনি ভোট ঢোল সহরত।
এই নাও চাবি, তোমার দাবিটি শুনুক পরের লোকে,
আমি পারবো না প্রজাদের ক্ষতি দেখতে নিজের চোখে।’
এসব অতীত, আপাতত চলো দেখি গে বর্তমান,
আজবনগরে মহারাজ আজ কোষাগার সামলান।
কোষাধ্যক্ষ লাগবে যে এক, তেমনই আইনে বলে,
কাকে দেন ভার, ভেবে একাকার, রাজা ভারী দোলাচলে।
মন্ত্রীকে ডেকে বললেন রাজা, ভার নেবে নাকি তুমি হে?
মন্ত্রী তখন পাগড়ি আড়ালে ছিলেন হাল্কা ঘুমিয়ে।
ধড়মড় করে উঠে বললেন হুজুর রাজ্য সামলাই,
অষ্টপ্রহর ভাবনা বাড়ায় কত বিচিত্র মামলাই।
তার ওপরে যদি কোষাগার দেখি রুটিনটি যাবে ভড়কে,
এত দিকে যদি চোখ দিতে হয় দেখবো কি করে চোরকে?
রাজা বললেন , সেনাপতি তবে তুমি নেবে এর দায়টা?
সেনাপতি কন, দেখি বাহিনীর কুচকাওয়াজের কায়দা।
অস্ত্রশস্ত্র কিছু বুঝি বটে, টাকা খরচের কি জানি,
হয়তো কিনবো সব খালি করে ফরাসী যুদ্ধবিমানই।
রাজা বললেন , কোষাগারে তবে তুমি ভার নাও পাত্র,
কাচুমাচু মুখে পাত্র বলেন ‘ডাহা ফেল করা ছাত্র!
অঙ্কে আমার লাল কালি ছিলো ওয়ানের থেকে ক্লাস টেন,
রাজা বললেন গুরু মহারাজ, আপনিই যদি ভার নেন।
গুরু বলে দেন, মন্দির হলে তবে ভাবতাম অন্য,
আমি তো দেখছি তুমি লোক খোঁজো ভোটে জেতাবার জন্য।
আমার দাবীকে দাবিয়ে রেখেছো দাওনি পাদ্য অর্ঘ্য,
এখন আবার এই ভার নিলে মিডিয়া ট্রায়ালে মরবো!
রাজা হাঁকলেন ওহে বৈদ্য, তুমি তবে নাও কোষাগার,
বৈদ্য বলেন হাত জোড় করে, রোজ পাবলিক দেয় মার।
কোষাগার নিলে হাড়গুলো যাবে, প্লাস্টার হবে সারা গা-য় বরং হুজুর ট্রান্সফার দিন, চলে যাই দূর পাড়াগাঁয়।
রাজা বললেন অমাত্য ওহে, তুমি কোষাগারে বসবে,
অমাত্য কন তাই যদি হবে, ভোটের ছক কে কষবে?
রাজা চুলকান বসে মাথা তার, কে ধরবে আজ তাঁর হাল,
হঠাৎ নজর যায় দরজাতে, দাঁড়িয়ে রয়েছে দ্বারপাল।
মুষকো জোয়ান, অমিত শক্তি, বিশ্বাসী লোক মস্ত,
রাজা হেঁকে কন, কাল থেকে তুই কোষাগারে গিয়ে বস তো।
দ্বারপাল বলে হে আমার প্রভু, আজ্ঞা নিলাম মাথাতে,
যেমন বলেন কোষাগারে বসে সেটাই লিখবো খাতাতে।
চারদিক থেকে ফুলের বৃষ্টি, সভায় ধন্য ধন্য,
আজবনগরে অবশেষে আজ খাজাঞ্চি পেলো অন্য।
মন্দ লোকেরা ভাবতেই পারে সন্দেহ জাগে গন্ধে,
কাহিনী এসব পুরো মনগড়া, বলে দিই মুখবন্ধে।
*********************
কবি আর্যতীর্থ
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
স্তব্ধ আজকে আজবনগরে রাজার সভাকক্ষ
চাবিটি গছিয়ে খানিক আগেই গিয়েছেন কোষাধ্যক্ষ।
দোষের মধ্যে রাজা চেয়েছেন কোষাগার থেকে টাকা
তুচ্ছ ও ব্যাটা বলে কিনা ওতে জনগণধন রাখা!
রেগে টং হয়ে রাজা বলেছেন ‘নতুন জিনিষ জানছি
কোথায় খরচ করবে মালিক বলে দেবে খাজাঞ্চি!
আমারই তো ধন, প্রজারা আমাকে খাজনা দিয়েছে যত
খরচ করবো স্বাভাবিকভাবে নিজের খেয়ালমতো,
সে ব্যাপারে তুই ব্যাগড়া বাঁধালি, কোথাকার হরিদাস,
রাজার নমক খেয়ে আজ তার দাড়ি ওপড়াতে চাস!
কোষাধ্যক্ষ, ভালো চাস তো তোর সিন্দুক খুলে রাখ,
আমি বলে দেবো কোন মাছটাকে ভালো ঢাকে কোন শাক।’
কোষা ব্যাটা তবু ছাড়েনি তো জমি, নড়েনি সে একচুল,
বারবার বলে ‘ভাঁড়ারে এখন মুদ্রা অপ্রতুল।
খেয়ালখুশীতে খরচা বাড়ালে ধসবে অর্থনীতি’
রাজা বলে ‘ওরে, তোর নেই তো রে গদি হারাবার ভীতি।
আগুন বাজার, প্রজাদের আজ কুলায় না খরচাতে,
কিছুটা প্রলেপ দিতে হবে বাপ, ভোট আসে দরজাতে।’
শুনে কোষাপতি বলে ‘হে নৃপতি, খুরেতে দন্ডবৎ,
আমি কোনোকালে বাজাতে পারিনি ভোট ঢোল সহরত।
এই নাও চাবি, তোমার দাবিটি শুনুক পরের লোকে,
আমি পারবো না প্রজাদের ক্ষতি দেখতে নিজের চোখে।’
এসব অতীত, আপাতত চলো দেখি গে বর্তমান,
আজবনগরে মহারাজ আজ কোষাগার সামলান।
কোষাধ্যক্ষ লাগবে যে এক, তেমনই আইনে বলে,
কাকে দেন ভার, ভেবে একাকার, রাজা ভারী দোলাচলে।
মন্ত্রীকে ডেকে বললেন রাজা, ভার নেবে নাকি তুমি হে?
মন্ত্রী তখন পাগড়ি আড়ালে ছিলেন হাল্কা ঘুমিয়ে।
ধড়মড় করে উঠে বললেন হুজুর রাজ্য সামলাই,
অষ্টপ্রহর ভাবনা বাড়ায় কত বিচিত্র মামলাই।
তার ওপরে যদি কোষাগার দেখি রুটিনটি যাবে ভড়কে,
এত দিকে যদি চোখ দিতে হয় দেখবো কি করে চোরকে?
রাজা বললেন , সেনাপতি তবে তুমি নেবে এর দায়টা?
সেনাপতি কন, দেখি বাহিনীর কুচকাওয়াজের কায়দা।
অস্ত্রশস্ত্র কিছু বুঝি বটে, টাকা খরচের কি জানি,
হয়তো কিনবো সব খালি করে ফরাসী যুদ্ধবিমানই।
রাজা বললেন , কোষাগারে তবে তুমি ভার নাও পাত্র,
কাচুমাচু মুখে পাত্র বলেন ‘ডাহা ফেল করা ছাত্র!
অঙ্কে আমার লাল কালি ছিলো ওয়ানের থেকে ক্লাস টেন,
রাজা বললেন গুরু মহারাজ, আপনিই যদি ভার নেন।
গুরু বলে দেন, মন্দির হলে তবে ভাবতাম অন্য,
আমি তো দেখছি তুমি লোক খোঁজো ভোটে জেতাবার জন্য।
আমার দাবীকে দাবিয়ে রেখেছো দাওনি পাদ্য অর্ঘ্য,
এখন আবার এই ভার নিলে মিডিয়া ট্রায়ালে মরবো!
রাজা হাঁকলেন ওহে বৈদ্য, তুমি তবে নাও কোষাগার,
বৈদ্য বলেন হাত জোড় করে, রোজ পাবলিক দেয় মার।
কোষাগার নিলে হাড়গুলো যাবে, প্লাস্টার হবে সারা গা-য় বরং হুজুর ট্রান্সফার দিন, চলে যাই দূর পাড়াগাঁয়।
রাজা বললেন অমাত্য ওহে, তুমি কোষাগারে বসবে,
অমাত্য কন তাই যদি হবে, ভোটের ছক কে কষবে?
রাজা চুলকান বসে মাথা তার, কে ধরবে আজ তাঁর হাল,
হঠাৎ নজর যায় দরজাতে, দাঁড়িয়ে রয়েছে দ্বারপাল।
মুষকো জোয়ান, অমিত শক্তি, বিশ্বাসী লোক মস্ত,
রাজা হেঁকে কন, কাল থেকে তুই কোষাগারে গিয়ে বস তো।
দ্বারপাল বলে হে আমার প্রভু, আজ্ঞা নিলাম মাথাতে,
যেমন বলেন কোষাগারে বসে সেটাই লিখবো খাতাতে।
চারদিক থেকে ফুলের বৃষ্টি, সভায় ধন্য ধন্য,
আজবনগরে অবশেষে আজ খাজাঞ্চি পেলো অন্য।
মন্দ লোকেরা ভাবতেই পারে সন্দেহ জাগে গন্ধে,
কাহিনী এসব পুরো মনগড়া, বলে দিই মুখবন্ধে।
*********************
রাজতন্ত্র
কবি আর্যতীর্থ
রচনা - ২৯.৩.২০১৯। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
যাকে ভোট দেবো ভালোবেসে, সে মানুষ দাঁড়াবে কি ভোটে,
অটোতে যে বসে পাশ ঘেঁষে , বাস এলে পা মিলিয়ে ছোটে,
সবজিতে ঘোর দরাদরি, মিছিলে আটকে ফেরে রাতে,
তাকে যদি প্রতিনিধি ধরি, কোনো দল দেবে কি দাঁড়াতে?
যেই চাষী মাটি-ঘ্রাণে বাঁচে, ঘাম যার রোজকার ব্রত,
প্রাসাদের আনাচে কানাচে, তারা গেলে বড় ভালো হতো।
ডিগ্রীকে তাকে তুলে রেখে, যে যুবক হকারি ধরেছে,
কখনো কি যাবে দেশ দেখে, কেউ তাকে প্রার্থী করেছে?
ভোট এলে দেখি চারপাশে , তারকারা আশা ফেরি করে
যে কখনো দেয়নি পা ঘাসে, একহাঁটু মাটি মেখে ঘোরে।
সিন্দুকে টাকা যার কোটি, সে-ও করে গরীবীর শোক
এরই নাম হয়তো প্রগতি , নেতা নয় সাধারণ লোক।
অবশ্য ইতিহাস বলে , আমাদেরও দোষ আছে বহু,
যা চলতো বাদশা আমলে, কপি পেস্ট করছি হুবহু।
রাজা কেউ রুটি ছুঁড়ে দিলে, সাবড়াই প্রসাদের জ্ঞানে
হাঁটছে যে রোজের মিছিলে, কে তাকে নেতা বলে মানে?
এক রাজা গিয়ে আর রাজা, আমাদের ভোট বয়ে আনে . . .
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা - ২৯.৩.২০১৯। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৯.৩.২০১৯।
যাকে ভোট দেবো ভালোবেসে, সে মানুষ দাঁড়াবে কি ভোটে,
অটোতে যে বসে পাশ ঘেঁষে , বাস এলে পা মিলিয়ে ছোটে,
সবজিতে ঘোর দরাদরি, মিছিলে আটকে ফেরে রাতে,
তাকে যদি প্রতিনিধি ধরি, কোনো দল দেবে কি দাঁড়াতে?
যেই চাষী মাটি-ঘ্রাণে বাঁচে, ঘাম যার রোজকার ব্রত,
প্রাসাদের আনাচে কানাচে, তারা গেলে বড় ভালো হতো।
ডিগ্রীকে তাকে তুলে রেখে, যে যুবক হকারি ধরেছে,
কখনো কি যাবে দেশ দেখে, কেউ তাকে প্রার্থী করেছে?
ভোট এলে দেখি চারপাশে , তারকারা আশা ফেরি করে
যে কখনো দেয়নি পা ঘাসে, একহাঁটু মাটি মেখে ঘোরে।
সিন্দুকে টাকা যার কোটি, সে-ও করে গরীবীর শোক
এরই নাম হয়তো প্রগতি , নেতা নয় সাধারণ লোক।
অবশ্য ইতিহাস বলে , আমাদেরও দোষ আছে বহু,
যা চলতো বাদশা আমলে, কপি পেস্ট করছি হুবহু।
রাজা কেউ রুটি ছুঁড়ে দিলে, সাবড়াই প্রসাদের জ্ঞানে
হাঁটছে যে রোজের মিছিলে, কে তাকে নেতা বলে মানে?
এক রাজা গিয়ে আর রাজা, আমাদের ভোট বয়ে আনে . . .
*********************
চাঁদমারি
কবি আর্যতীর্থ
রচনা - ২৭.৩.২০১৯ তারিখে করা অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল পরীক্ষার পর প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা নিয়ে রচিত। মিলনসাগরে প্রকাশ - ১.৪.২০১৯।
নকীব চেঁচালো একদিন ভোরে, ‘জড়ো হও সব জনগণ,
যে যেখানে আছো কাজ ছেড়ে আজ এইদিকে ঢালো তনুমন।
সুখবর আছে মস্ত সে এক, সকলের কানে যাক তা
প্রগতির দিকে চলেছে যে দেশ, আগামী এনেছে বার্তা।
অলিন্দে রাখো চোখ সব্বাই, হবে মহারাজ দর্শন,
হতে পারে আজ স্বর্গের থেকে পারিজাত ফুল বর্ষণ।
নিজের মুখেই বলবেন রাজা, কত এ মহান কীর্তি,
বিরোধীর যত প্রশ্নের ঢিলে এটা পাটকেল ফিরতি।
শুনে চাষী ভাবে এতদিনে তবে সুরাহা হয়েছে শস্যের
এতদিন এক সের দাম দিয়ে ফড়েরা নিয়েছে দশ সের।
নির্ঘাত রাজা করেছেন কিছু , প্রগতির তুলি বুলিয়ে
মহাজন দেবে ন্যায্য মূল্য ভান্ডারে ধান তুলিয়ে।
খিদের শেকল আজীবন পরে দাদনের ক্রীতদাস,
রাজার ঘোষণা শুনে সে আশায়, খেতে পাবে বারোমাস।
শ্রমজীবী ভাবে এবারে খুলবে কারখানাদের তালা,
চাকরী হারিয়ে কঠিন জোটানো দুবেলা ভাতের থালা।
আজকে ঘোষণা নির্ঘাত বান-জোয়ার আনবে শিল্পে
ঘাম দিয়ে গড়া কামের ইনাম এতদিনে ঠিক মিলবে।
স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরে বেকারি যাদের গ্লানি,
(অনশনে কেউ কত সাড়া দেয় সকলেই সেটা জানি)
তারা বুক বাঁধে নতুন আশায়, হয়তো চাকরি জুটবে
ম্লান হয়ে থাকা শিক্ষিত মুখে অবশেষে হাসি ফুটবে।
রোগীরা ভাবছে হয়তো এবারে বাজেট বাড়বে স্বাস্থ্যে,
উড়িয়ে দেবে না ব্যাঙের আধুলি কর্পোরেটের কাস্তে।
সরকারি যত হাসপাতালের যন্ত্র এবং যন্ত্রী,
এত ঠিক হবে, শরীর খারাপে ভর্তি হবেন মন্ত্রী।
চিটে ঠকা লোক ভাবে অবশেষে আসছে বিশেষ ঘোষণা,
(এতদিন বলা হয়েছে ঘুরিয়ে বুড়ো আঙুলটি চোষো না)
ধরা পড়ে যাবে সবকটা ঠগ, পর্দা আড়ালে কালো হাত,
এই আশা বুকে শুরু করে তারা ‘জয় জয়’ বলে কালোয়াত।
অবশেষে এলো মাহেন্দ্রক্ষণ, সামনে এলেন নৃপতি
(বীরবাহু তিনি, টক্করে তার পিছু হটে সব বিপদই)।
জলদমন্দ্র কন্ঠতে রাজা বেছে বেছে কন শব্দ,
বরাবরই তার তীক্ষ্ণ ভাষণে বিরোধী হয়েছে জব্দ।
রাজা হাঁকলেন, মহাশূন্যতে দেশ দিলো আজ পাড়ি,
ইচ্ছে করলে গোলাগুলি আজ চাঁদেও চালাতে পারি।
আগামীতে যদি চন্দ্রপৃষ্ঠে কখনো যুদ্ধ লাগে,
জেনে রাখো তবে, সেই চাঁদমারি আমাদের জয়ভাগে।
জনতার মাঝে কে যেন চেঁচালো, ‘পেটে বড় খিদে জাগে . . .’
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা - ২৭.৩.২০১৯ তারিখে করা অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইল পরীক্ষার পর প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা নিয়ে রচিত। মিলনসাগরে প্রকাশ - ১.৪.২০১৯।
নকীব চেঁচালো একদিন ভোরে, ‘জড়ো হও সব জনগণ,
যে যেখানে আছো কাজ ছেড়ে আজ এইদিকে ঢালো তনুমন।
সুখবর আছে মস্ত সে এক, সকলের কানে যাক তা
প্রগতির দিকে চলেছে যে দেশ, আগামী এনেছে বার্তা।
অলিন্দে রাখো চোখ সব্বাই, হবে মহারাজ দর্শন,
হতে পারে আজ স্বর্গের থেকে পারিজাত ফুল বর্ষণ।
নিজের মুখেই বলবেন রাজা, কত এ মহান কীর্তি,
বিরোধীর যত প্রশ্নের ঢিলে এটা পাটকেল ফিরতি।
শুনে চাষী ভাবে এতদিনে তবে সুরাহা হয়েছে শস্যের
এতদিন এক সের দাম দিয়ে ফড়েরা নিয়েছে দশ সের।
নির্ঘাত রাজা করেছেন কিছু , প্রগতির তুলি বুলিয়ে
মহাজন দেবে ন্যায্য মূল্য ভান্ডারে ধান তুলিয়ে।
খিদের শেকল আজীবন পরে দাদনের ক্রীতদাস,
রাজার ঘোষণা শুনে সে আশায়, খেতে পাবে বারোমাস।
শ্রমজীবী ভাবে এবারে খুলবে কারখানাদের তালা,
চাকরী হারিয়ে কঠিন জোটানো দুবেলা ভাতের থালা।
আজকে ঘোষণা নির্ঘাত বান-জোয়ার আনবে শিল্পে
ঘাম দিয়ে গড়া কামের ইনাম এতদিনে ঠিক মিলবে।
স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরে বেকারি যাদের গ্লানি,
(অনশনে কেউ কত সাড়া দেয় সকলেই সেটা জানি)
তারা বুক বাঁধে নতুন আশায়, হয়তো চাকরি জুটবে
ম্লান হয়ে থাকা শিক্ষিত মুখে অবশেষে হাসি ফুটবে।
রোগীরা ভাবছে হয়তো এবারে বাজেট বাড়বে স্বাস্থ্যে,
উড়িয়ে দেবে না ব্যাঙের আধুলি কর্পোরেটের কাস্তে।
সরকারি যত হাসপাতালের যন্ত্র এবং যন্ত্রী,
এত ঠিক হবে, শরীর খারাপে ভর্তি হবেন মন্ত্রী।
চিটে ঠকা লোক ভাবে অবশেষে আসছে বিশেষ ঘোষণা,
(এতদিন বলা হয়েছে ঘুরিয়ে বুড়ো আঙুলটি চোষো না)
ধরা পড়ে যাবে সবকটা ঠগ, পর্দা আড়ালে কালো হাত,
এই আশা বুকে শুরু করে তারা ‘জয় জয়’ বলে কালোয়াত।
অবশেষে এলো মাহেন্দ্রক্ষণ, সামনে এলেন নৃপতি
(বীরবাহু তিনি, টক্করে তার পিছু হটে সব বিপদই)।
জলদমন্দ্র কন্ঠতে রাজা বেছে বেছে কন শব্দ,
বরাবরই তার তীক্ষ্ণ ভাষণে বিরোধী হয়েছে জব্দ।
রাজা হাঁকলেন, মহাশূন্যতে দেশ দিলো আজ পাড়ি,
ইচ্ছে করলে গোলাগুলি আজ চাঁদেও চালাতে পারি।
আগামীতে যদি চন্দ্রপৃষ্ঠে কখনো যুদ্ধ লাগে,
জেনে রাখো তবে, সেই চাঁদমারি আমাদের জয়ভাগে।
জনতার মাঝে কে যেন চেঁচালো, ‘পেটে বড় খিদে জাগে . . .’
*********************
