কবি আর্যতীর্থর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি আর্যতীর্থর পরিচিতির পাতায় . . .

।তেমন বাড়েনি।
কবি আর্যতীর্থ
৫ই জুলাই ২০২১ তারিখে কবি আর্যতীর্থর ফেসবুক হ্যাক করা হয়। সেদিন থেকে লেখা কবিতা তিনি অনুমতি দিয়েছেন মিলন সেনগুপ্তর ফেসবুকের পাতায় তুলে দেবার। আমরা সেই সব কবিতা এখানেও তুলে দিচ্ছি। রচনা ৪.৭.২০২১॥

দাঙ্গাটা তেমন বাড়েনি।
এদিকের পাঁচ আর ওদিকের তিন,
মোটে আটখানা লাশ,
বারোটা দোকান ঘর,
একটা গুদাম আর গোটা দুই অস্থায়ী বসতি পুড়ে গেছে,
তাও পুরো নয়,
সরকারি তহবিলে ক্ষত আর কত হবে ক্ষতিপূরণে!
মুখ্যমন্ত্রী, বিরোধী নেতা এবং পুলিশের বড়কর্তারা একযোগে ঘোষণা করেছেন,
দাঙ্গাটা বাড়েনি তেমন।
ওই দোকানগুলোর একটা ছিলো বৃন্দাবনের।
ওর সস্তা ফার্নিচার আশেপাশে বেশ বিক্রি হতো,
আর যৎকিঞ্চিৎ লাভের টাকা চারটে প্রদেশ পেরিয়ে চলে যেতো বহুদূর এক ছোটো গাঁয়ে,
যেখানে ওর আরো দুই ভাই ,
একটু একটু করে তাদের মাটির ভিটে পাকা করছে।
সে কাজ আপাতত স্থগিত, হয়তো বা অনন্তকালের জন্য।
বৈধ কাগজহীন ওই পোড়াদোকানের জন্য বৃন্দাবন একটি পয়সাও পাবে না।
ওর সম্তান ভাঙা খাটিয়ায় ঘরের আকাশে তারা দেখতে দেখতে হয়তো ভাববে,
দাঙ্গাটা তেমন বাড়েনি।
আরেকটা দোকান ফারুকের।
ওই ধ্বংসাবশেষ থেকে তার কাঁচের চুড়ির সম্ভারের কিছুটা বাঁচানোর জন্য প্রাণপণ খুঁজে
চলেছে , খুঁজেই চলেছে।
কিন্তু কাঁচ যে, ভেঙে গেলে কোনো কাজেই আসেনা।
ওর বাড়ি যেতে পাক্কা আড়াইদিন লাগে, সেখানে ওর আম্মির দিল’এর অসুখ,
বড় হাসপাতালে অপারেশনের জন্য টাকা জমছিলো তিল তিল করে, সব শেষ।
আম্মিটা এবার মরে যাবে।
মোবাইলের ওইপাশে আব্বুর ফোঁপানো আওয়াজ শুনতে শুনতে ফারুক হয়তো ভাবছিলো,
দাঙ্গাটা বাড়েনি তেমন।
লাশ হয়ে শুয়ে আছে যে মালতী,
ওর নিবাস পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন ঘেঁষা কোনো গ্রামে।
ওখানে ওর মেধাবী মেয়ে দুটো প্রাণপণ পড়ে চলে,
বাপ ছেড়ে যাওয়া সংসারে মায়ের একটাই স্বপ্ন ছিলো,
ঠিকে কাজে যেন মেয়েদের নামতে না হয়।
লাশ শনাক্ত করতে অনাথ কিশোরীদুটো আসতে পারবে কিনা জানিনা,
তবে ভাগ্য যে পড়াশোনায় ছিটকিনি দিয়ে দিয়েছে সেটা নিশ্চিত।
কে জানে, গতর খাটানো আগামীর ঘাম মুছে মেয়েদুটো বুঝতে পারবে কিনা,
দাঙ্গাটা তেমন বাড়েনি।
ওই মৃতদেহটা আরিফের।
কেরালার ছেলে, ওর ওখানে থাকবারই কথা না।
মধ্যবিত্তের ব্যাটা ডাক্তারি পড়তে এসেছিলো শহরে,
এ মহল্লায় আসা স্রেফ সিগারেট কিনতে।
একটা গোটা পরিবারের ওপরে ওঠার সিঁড়ি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে গেছে।
খবর পেয়ে এখনো বিশ্বাস না করা মা
আর বাবার অনেক চিন্তার মধ্যে
কোত্থাও দাঙ্গা তেমন না বাড়ার নিশ্চিন্ত আশ্রয় নেই।
গুদামটার মালিক হরবিন্দর সিং।
মফস্বলের বাড়ি বন্ধক রেখে কেনা ওই স্টোরহাউজে যা মাল ছিলো,
স্বাভাবিক ভারতীয়তায় তার কোনোটাই বীমা করা নেই।
এখানে মুখের কথা বেশি চলে,
অতীত বর্তমান পেরিয়ে অনাগত আগামীতেও এর পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই।
সে হিসেবে ধারদেনা শোধ করতে সঞ্চয় যাবে,
অদূর ভবিষ্যতে হরবিন্দরের গুদাম আর বাড়ির মালিকানা বদল প্রায় নিশ্চিত।
ওর নিচুমুখ চেহারার কাঁধে হাত রেখে কেউ বলবার সাহস পাচ্ছে না,
দাঙ্গাটা তেমন বাড়েনি।
এই ভাবে,
দাঙ্গায় বিধ্বস্ত বিন্দুগুলো জুড়তে জুড়তে তৈরি করে নেয় আসমুদ্রহিমাচল ভারতবর্ষের
ম্যাপ।
ভঙ্গুর মাটির সেই মানচিত্র জুড়ে ছড়িয়ে আছে
হতাশার চোরাবালি,
ভাঙা স্বপ্নের পাহাড়
আর যাবতীয় সুখ থেকে দূরে রাখার মতো দিগন্তবিস্তৃত কান্নার সমুদ্র।
ক্ষতি ও ক্ষত ছড়িয়ে যায়
কাশ্মীর থেকে মণিপুর,
কেরালা থেকে পশ্চিম বঙ্গ
গুজরাট থেকে উড়িষ্যা।
অথচ , ওই দেখুন,
গর্বিত স্বরে দেশের ধারক ও বাহকরা ঘোষণা করছেন,
দাঙ্গাটা তেমন বাড়েনি।
আর কত বাড়বে বলুন তো?
আর্যতীর্থ

*********************









*

। গণনা।
কবি আর্যতীর্থ
৫ই জুলাই ২০২১ তারিখে কবি আর্যতীর্থর ফেসবুক হ্যাক করা হয়। সেদিন থেকে লেখা কবিতা তিনি অনুমতি দিয়েছেন মিলন সেনগুপ্তর ফেসবুকের পাতায় তুলে দেবার। আমরা সেই সব কবিতা এখানেও তুলে দিচ্ছি। রচনা ৪.৭.২০২১॥

ভারতবাবু রোজ খবরের কাগজে গোনেন কত হলো।
না না সেনসেক্স নয়,
বোরোলিন মাখার সুবাদে জি ডি পির ওঠা পড়া তার গায়েই লাগে না ছাই,
পেট্রোলের দরও নয়, যাহা আটানব্বই , তাহাই একশো,
উহাতে আর কোনো অনুক্ত চমক নাই।
ইউরোর গোল, ডলারে টাকার দাম,
আদানি আম্বানির সম্পত্তির দৈনিক বৃদ্ধি
বা লাভজেহাদে গ্রেপ্তার কোন প্রদেশে কজন,
এইসবে ভারতবাবুর লবডংকা।
চার লাখ ছুঁই হতভাগ্যদের ক্যালেন্ডারে কোন তারিখে কত সংযোজন,
তিনি দেখেন শুধু সেই কোভিড শিকারের সংখ্যা।
নখের ডগায় হিসেব আছে তাঁর ,
কুড়ির জুলাই বা একুশের এপ্রিলে
কত প্রাণ গেছে ভাইরাসের গ্রাসে,
নির্ভুল বলে দেন ঢেউয়ের ঢেঁকুরে
কটা লাশের গন্ধ ছিলো অমুক প্রদেশ জুড়ে কবে কোন মাসে।
ইদানিং মনে তার লেগে একটা সাংঘাতিক খটকা,
যেটার শুরু হয়েছিলো নতুন সব্জিওয়ালাটার থেকে।
আলাপে জেনেছিলেন,
এখন যে ঠেলা নিয়ে বাড়ি বাড়ি উচ্ছে পটল মুলো বলে যায় হেঁকে,
আদতে সে কলেজ-পড়ুয়া।
বলা ভালো, প্রাক্তন ছাত্র, বাবার কাজটা গেছে কারখানা লক হয়ে লকডাউনে,
বাড়িতে রয়েছে ভাই, ক্লাস এইট সে। কিছুদিন আগেও স্বচ্ছল সংসারে
জ্বালানি জোগানো শক্ত এখন উনুনে ,
কাজেই সে ছেলে আজ সবজি চিনে, পাইকারে কিনে ভ্রাম্যমান সবজী-দোকানি।
ভারতবাবু ভাবছেন, এই ছেলেটার সর্বনাশের জন্য দায়ী কে। শিকারের মানে সবসময় যে নয় জীবনের হানি,
ব্যাপারটা অবশেষে তাঁর মাথায় ঢুকেছে
এবং তাতে তাঁর হিসেবী মন গুলিয়ে গেছে একেবারে,
সেভাবে যদি কোভিডের শিকারের সংখ্যা গোনা হয়,
আন্দাজ পাচ্ছেন না সেটা কোথায় যেতে পারে।
ভারতবাবু গুনছেন,
কত কোটি স্থানান্তরী শ্রমিক
নিজের দেশে পরিযায়ী বলে গালি খেয়ে
দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে হেঁটে গেছে আশ্রয়ের খোঁজে।
বারো বছুরে জামলো মকদমের মতো
আরো কত মানুষ মুছে গেছে পথে,
ওরা যে জ্বরে মরে নি।
পরিসংখ্যান তাই উহ্য দিয়েছে রেখে কত সহজে।
কতজন প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়া
অক্ষরের সিঁড়ি থেকে পিছলে পড়ে গেলো আজন্ম অন্ধকয়েদে,
ওয়ার্ক ফ্রম হোম করা কতজনকে
ইমেইলে ‘ আর প্রয়োজন নেই’ বলে কোম্পানি চিঠি দিলো সবিনয় খেদে,
কতজন মহিলার জীবনে গার্হস্থ্য অত্যাচার ও বৈবাহিক ধর্ষণ
আরো নির্মম ও বিরামবিহীন হয়ে দাঁড়ালো,
আর কতজন বেঁচে থেকেও
জ্বরের হাতে পরিবারের স্তম্ভগুলো হারিয়ে বস্তুত সবই হারালো,
নানা খবরে, বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে
আর আশেপাশে শুনতে পাওয়া দীর্ঘশ্বাসের হাহাকারে
সেসব ছড়িয়ে আছে।
কিন্তু কি আশ্চর্য,
শিকারের তালিকায় ওরা কোত্থাও নেই ।
ব্যাপারটা ভীষণ অদ্ভুত লাগে ভারতবাবুর কাছে।
ইদানিং,
কোভিডের শিকারের সংখ্যা জানতে চাইলে
ভারতবাবু ফ্যালফ্যাল করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন।
তারপর মোবাইল বের করে
সেভ করে রাখা আসমুদ্রহিমাচল ভারতবর্ষের ম্যাপ দেখিয়ে দেন।
খবরের কাগজে পরিসংখ্যান দেখা উনি ছেড়ে দিয়েছেন।
আর্যতীর্থ

*********************









*

। পরাজিত।
কবি আর্যতীর্থ
৫ই জুলাই ২০২১ তারিখে কবি আর্যতীর্থর ফেসবুক হ্যাক করা হয়। সেদিন থেকে লেখা কবিতা তিনি অনুমতি দিয়েছেন মিলন সেনগুপ্তর ফেসবুকের পাতায় তুলে দেবার। আমরা সেই সব কবিতা এখানেও তুলে দিচ্ছি। রচনা ৫.৭.২০২১॥

দান ফেলো সমকাল,
দেখি আর কী কী তুমি জিতে নিতে পারো।
খোয়াবো জেনেও নেই উপায় আমারও,
দান ফেলে যেতে হবে যদি তুমি হারো।
প্রতিটি হারের সাথে হা হা করে হেসে ওঠে
তোমার দলের লোক,
রাজনীতি ধর্ম আর সদ্য রাজত্ব পাওয়া সোশ্যাল মিডিয়া,
তোমাদের চোখে লোভ,
একটু একটু করে দখল করতে থাকো আমার দুনিয়া,
সঞ্চয় নিয়ে নিলে লুটেপুটে গোটা দুই ঢেউ তোলা দানে।
দিশাহীন আমি চাকরিটা বাজি রেখে
এবারে জিতবো বলে পাশা ছক ফেললাম যেই মাঝখানে,
হো হো হেসে খপ করে সেটাকেও খেলে।
ধরালে আমার হাতে কঠিন শব্দে লেখা খারিজের চিঠি,
‘দুঃখিত’ কথাটা যে এত কর্কশ, বুঝিনি তা আগে।
উঠতে দেয়না তবু এ করাল পাশা,
দান দাও , দান দাও , তারিখেরা হাঁকে।
কোনোদিন জিতে যাবো,
খুঁচিয়ে জিয়োনো থাকে সে মলিন আশা,
আমি দেখি,
আমারই ভাইয়েরা আজ শর্তহীন ক্রীতদাস তোমাদের দলে,
দরকারে খুন করে, ধর্ষণও জলভাত,
গণপিটুনিতে মারে বিরোধী মানুষ তারা যেই প্রভু বলে,
আমি দেখি, দানে আমি ভাইদের হেরে গেছি অনেক আগেই । সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ওগড়ানো বিষ,
তাদের লিখিত তবু তাদের সৃষ্ট নয়। ফেরাবো আমার ঘরে আশা করা সার,
আগামী দেয় না কোনো পথের হদিস,
ঘড়ি শুধু ফিসফিস করে কানে বলে যায় ,
দান ফেলো, পাশা খেলে যাও,
এখনো রয়েছে বাকি সম্ভ্রম, শিরদাঁড়া , আরো কত কী!
দেখি এইবার চালে কোনটা হারাও।
শেষ দেওয়া দানটায় হারিয়েছি প্রেয়সী আমার,
হতভাগা বেকারের সাথে আর কোন বাপ মেয়ের দেয় বিয়ে,
আগামী ফাল্গুনে সে বরমালা দিয়ে দেবে অন্য গলায়।
প্রচলিত গল্পটা এখন মেলে না আর আধুনিকে গিয়ে,
এখন বেইজ্জতি আমার আর শুধুই আমার।
আমিই ফুরিয়ে যাই , রোজ দান ফেলি আর মেনে নিই হার,
একে একে সমস্ত গেছে,
স্বপ্ন অ্যাম্বিশন বন্ধুতা ভালোবাসা,
থিতু ছাদে টিমটিমে ভিতু রোজগার
হারিয়ে ফেলেছি সব ।
আমি জানি এরপরও চলবে খেলাটা,
কাড়তে থাকবে তুমি ততদিন,
যতদিনে সবকিছু হারি,
আমি জানি শেষ দানে চাইবে রাখবো বাজী শিরদাঁড়াটাই,
বাকি আয়ু যেন হই কেন্নো ভিখারী।
কিন্তু মনে রেখো হে প্রাচীন শত্রু আমার,
অন্তিমে কুরুক্ষেত্র ঘটাতেও পারি।
আর্যতীর্থ

*********************









*

। শয়তান।
কবি আর্যতীর্থ


ভগবান আছেন কিনা জানিনা, তবে শয়তান নিশ্চিত আছে।
অবোধ্য হিংস্রতা ছড়িয়ে রয়েছে এত আনাচে কানাচে,
পুরোটাই মানবিক হলে নিজেকে মানুষ বলে ভাবাটা কঠিন।
শয়তান জাগ্রত, ভক্তরা বলি দেয় পায়ে প্রতিদিন।

ওই ধর্ষকের ছবি দেখেছো কাগজে? টানাটানা মায়াময় চোখ,
মনেই হবে না কোনো তিনবছুরেকে ছিঁড়েকুটে নামানো নরক
ঘটে গেছে ওরই হাতে, নিজের বাড়িতে বা বাসের পাশের সিটে
অমন চেহারাকে রোজই দেখছো। ওই নাকি ক্ষুদে দেহ থেঁতলেছে ইঁটে,
কোলে তুলে ভুলিয়েভালিয়ে শিশু নিয়ে গেছে কোনো নির্জন কোণে
বলো দেখি, তন্নতন্ন খুঁজে মানুষের কিছু পেলে ওর আচরণে?
পাবেনা যে জানা কথা, আসলে মানুষ সাজা ও যে অনুচর,
কার সেটা বলতে হবে না। ওই শোনো আরো কারো কান্নার স্বর…

ওই লোকটাকে দেখো, প্রত্যাখ্যানে মুখে মেরেছে অ্যাসিড সে,
মেয়েটা গিয়েছে জ্বলে। দখলে না এলে তাকে মেরে দাও বিষে,
তাকে তুমি নিশ্চিত প্রেম বলবে না। সাথী নয়, প্রেমিক তো আরো না,
প্রভু হতে চেয়েছিলো শরীর মনের। আমার না হলে সে কারো না,
তেমন ধারণা করা অমানুষী শয়তানি ছাড়া আর কি হতে পারে?
তবু মানুষের গ্রামে ও শহরে, চুপিসাড়ে অ্যাসিডের বিক্রয় বাড়ে..

যে মানুষ অম্লানবদনে পড়শীর বাচ্চাকে কিডন্যাপ করে নিলো,
দুই পাঁচ লাখ পেতে ‘ কাকু গো মেরো না’ গলা টিপে মেরে দিলো,
সে যদি মানুষ হয় , আয়নায় দেখা যাওয়া তুমিও কি তাই?
পরমধার্মিক সেজে রাম খোদা নাম নিয়ে যে করছে মানুষ জবাই,
মানব তন্তু তার দেহটি গড়েছে বটে, তবুও কতটা সে মানুষ আসলে?
চিনতে পারোনি তুমি ,নরকের হিংস্রতা ভেতরে ফুঁসছে তার মানুষী আদলে।

এভাবেই আমাদের আশেপাশে, কাছে দূরে শহরে ও গ্রামে,
শয়তান চারা পুঁতে যায়, সার জল পায় তারা মানুষের নামে।
তারা চায় ভালো আলো মুছে যাক, কিছুই বাঁচেনা যেন স্বার্থের হিংস্রতা ছাড়া,
তারা চায় দুনিয়ার প্রভু হোক ছয়খানা রিপু, আঁধারে আনত হোক সব শিরদাঁড়া।

ভগবান আছে কিনা জানিনা এখনো, তবে বুঝি শয়তান পুজো করে কারা।

*********************









*

। আইনানুগ।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৭.৭.২০২১।

বুঝলে হে, যা কিছু হচ্ছে সবই আইন মোতাবেক,
কোত্থাও ফাঁক নেই কোনো। তোমাদের অভিযোগ শুনছি অনেক,
কিভাবে অমুক পচে মরে গেলো জেলে, তমুক নিমেষে ছাড়া পেয়ে গেলো বেলে,
আরে বাবা, দুটোই হয়েছে ও হচ্ছে আইনের পথে রীতিমতো,
রাষ্ট্র জানেনা কিচ্ছুটি। শুনবে না ফালতু ও বাজে কথা যত।

গোঁসা করো কেন বাবা স্রেফ সন্দেহবশে কেউ গ্রেপ্তার হলে?
টেঁটিয়া ঘেঁটিদের ওপরে ডেমোক্লিসের তরোয়াল যে ঝোলে,
নতুন খবর নয় তা তো। সহজ সমাধানও সকলেরই জ্ঞাত,
মূক হবে মুখ আর নত হবে চোখ, তুলো গুঁজে ঘুম যাবে কানও,
পেয়াদারা আড়ি বলে আসবে না বাড়ি, এটুকু নিয়ম যদি মানো।
আরে বাবা, যাদেরকে তুলে নিয়ে গেছে রাতের আঁধারে এসে পুলিশের ভ্যান,
তারা যে দুষ্টুলোক, মানতে কি হয়! কি করেছিলো তা নিয়ে কেন ঘ্যানঘ্যান?

আইনের পথ ছাড়া কিচ্ছু হয়না জেনো ডেমোক্রেসিতে,
তর্কের খাতিরে ধরা যাক, কাউকে শত্রু ভেবে চাও বাঁশ দিতে,
জাপটিয়ে ধরো তাকে আইনের জালে। একবার সে কুমীর এসে গেলে খালে,
কত যে গভীর জলে ঠ্যাঙ ধরে নিয়ে যাবে সে বেচারি পাবেই না টের,
তারিখ পে তারিখে হাততালি দেওয়া ছাড়া করনীয় আর কিছু নেই রাষ্ট্রের।

ফ্যাঁকড়া তুলো না যেন রাষ্ট্রই সেই সব আইনের হোতা,
পরীক্ষার হলে কে কবে আর দেখে, কার সাপ্লাই দেওয়া চোথা।
ল অফ দ্য ল্যান্ডে হ্যান্ড ল্যান্ডওনারের, কেউ যদি খোঁচা দাও সেই সত্যের,
তাহলে উপায় নেই, শর্ত ভেঙেছো তুমি, বন্ধ রাখোনি মুখ কান চোখকে,
এবারে তৈরি থাকো পেয়াদা আসবে কবে, ঝড় থেকে তোমার আর নেই রক্ষে।

সবটাই কিন্তু পুরো আইনকে মেনে চলে। আর কিছু বুঝিওনা যেন লোককে।

*********************









*

। মরার সময়।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৭.৭.২০২১।

ঠিক কখন মরেছে মানুষটা?
চার ঘন্টা পরে নাড়ি কনীনিকা দেখে ডাক্তার যখন
নথি লিখলেন, তখন?
শেষ শ্বাস টেনে যখন দুই চোখ চিরতরে স্থির হলো, তখন?
ডাক্তার মাথা নেড়ে আর কিচ্ছু করার নেই বলে জবাব দিয়ে যখন চলে গেলেন, তখন?
নাকি অসুখেরও আগে, অনেক অনেক আগে,
পুরোনো বাতিল আসবাবের মতো
ঘর জুড়ে পড়ে ছিলো মায়াহীন দৈনিক অবহেলা সয়ে,
তখনই?
ঠিক কখন মানুষেরা মরে যায়, বলতে পারো?

সন্ধ্যা নামলে কত মানুষেরা চলে যায় অপ্রেম আঁধারের দিকে।
বেঁচে থাকে, শ্বাস নেয়,
খাওয়াদাওয়া হয়তো বা জোটে নিয়মিত,
শুধু তার সুখ বা কান্নাতে আর কারো কিছু যায় আসে না।
সংসারী সিদ্ধান্ত সব তাকে বাদ দিয়ে,
কালকের বাজার বা সামনের সপ্তাহে দীঘা ট্রিপ,
দুটোতেই সে প্রশ্নবিহীন আব্বুলিশ।
মাঝে মাঝে মুখ ফুটে বলে ফেলে
‘বাজারের থেকে আজ একটু আড়মাছ আনিস, কতদিন খাইনি!’
বাজারু বিড়বিড় করে ‘ আড়ের দাম জানো, এমনিই এখন মাস চালানো কঠিন’,
আড়ালে আরেক কণ্ঠ অস্ফুটে হিসহিস করে,
‘বুড়ো হলো, নোলা গেলো না!’
দুপুরের রোদ্দুর চিলতে জানলার ফাঁক গলে চুপিসাড়ে দেখে,
বিষণ্ণ মানুষটা ম্লান হেসে মুখে তোলে ভাতের গরাস,
থালাটার এক কোণে কুণ্ঠিত হয়ে পড়ে এক ফালি পোনা।
সাক্ষী আসবাবেরা সময়ের কাছে বলে ,
এই তো হয়েই এলো,
দিন পড়ে আছে আর কটা হাতে গোনা।

সত্যি কি দিন আছে?
খায় দায় বলেই সে মরে নি এখনো?
ভোট ছাড়া আর কোনো মতামত নেই,
স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা কবেই ফেলেছে লোকে জঞ্জালে ছুঁড়ে,
বহুকাল, বহু বহু কাল, তার পাশ ঘেষে বসে কেউ বলেনি,
আমাদের কাছে আজও ভীষণ মূল্যবান স্পর্শ তোমার।
(হয়তো বা বলেওছে সেটা,
তবে ছবি দিয়ে সোস্যাল মিডিয়াতে,
আমরা যে কত ঠগ ভারচ্যুয়ালে,
বাস্তব ধরে ফেলে সেটা হাতেনাতে)

তাকে নিয়ে নতুন স্মৃতি আর তৈরি হয়না,
তারও স্মৃতিতে নেই নতুন সংযোজন ,
বস্তুত সে আর সমকালে নেই।
অতীত হাতড়ে চলে সারাদিন মন।

এইবারে ভেবে বলো, সত্যি সে মানুষটা মরলো কখন?
আর্যতীর্থ

*********************









*

। মহাপ্রস্থানের আগে।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৯.৭.২০২১।

সায়াহ্নে নিভৃত কক্ষে একা কৃষ্ণা শুধু।
বাতায়ন জুড়ে জ্বলে সন্ধ্যাপ্রদীপ, দূরে শাঁখে ফুঁ দিলো এখনো সীমন্তিনী কোনো কূলবধূ,
অহো ভাগ্য, সিন্দুরমতী থাকা বিরল ঘটনা, কুরুক্ষেত্রের পরে হস্তিনাপুর যেন বিধবানগরী,
কোথাও আনন্দ নেই, স্মৃতির কান্নাভেজা সব প্রহরই।

দ্রৌপদী অপেক্ষারতা। সেই পুরুষের প্রতীক্ষায় তিনি,
আবৈবাহিক কাল যিনি তাঁর থেকে দূরে। বিরহের কারাগারে চিরবন্দিনী,
অথচ দেখতে গেলে, তাঁকে ছেড়ে চার পতি ছিলো কাছে তাঁর সর্বদা ,
শান্ত যুধিষ্ঠির, দুই বাধ্য অশ্বীনেয়,
মহাবলী বৃকোদর প্রেমে তত মনোযোগী যতটা কুশলী তিনি চালনায় গদা,
তবু অর্জুন, প্রিয় ফাল্গুন , কখনো পাননি রাণী সান্নিধ্য তাঁর,
সেই যে নিলেন জিতে পাখি-চোখ বিঁধে, দাম্পত্যে তারপরে খোঁজ নেই আর।

দুয়ারে টোকার শব্দ। ওই তিনি এলেন বোধহয়।
ত্বরা করো হে প্রার্থিত পুরুষ আমার, শীঘ্র না এলে আর হবে না সময়,
মহাপ্রস্থানে যেতে তৈরি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মহারাজ প্রথম পাণ্ডব,
আর কিছুদিন পরে কঠিন হিমেল শৈত্যে শব্দবিহীন হবে এ নারীর শব,
তার আগে , অন্তত একদিন মন খুলে কথা বলে যাই, সময়ের কাছে পাতি সেই ঝুলি ভিক্ষার,
প্রাণপণ প্রার্থনা পাণ্ডবঘরণীর। দরজায় করাঘাত। এসেছেন অর্জুন কাছে কৃষ্ণার।

ঘরে জ্বলা দীপশিখা কেঁপে ওঠে সাময়িক উচ্ছলতায়।
অনিমেষ দুটো চোখ দয়িতের দিকে আজও তেমনই তাকায়,
পাখির নয়ন বেঁধা সুঠাম যুবকটিকে প্রথম সমর্পণের চিঠি যেমন পাঠিয়েছিলো কুমারীর আঁখি,
পরিচয়পূর্বেই ঘটিত প্রণয়ে। তখনো বোঝেননি যাজ্ঞসেনী,
নিভৃত আশ্লেষে কাঙ্খিত যুগল মুহূর্ত আসবেনা দুজনের ভাগে কোনোদিনই,
শারীরিকে এসে যাবে আরো চারজন, ধনঞ্জয়েরও হবে বধূসমাগম,
তখনো অজ্ঞাত তাঁর, সময় কাহিনীখানি লিখে রেখে গেছে পুরো অন্যরকম।

আমাকে ডেকেছো কেন রাণী? হাসলেন অর্জুন,
বার্ধক্যে অমলিন অমোঘ সে রূপ। যদ্যপি আজ খালি অক্ষয় তূণ,
গাণ্ডীবে হাত কাঁপে, তবু জানেন পাঞ্চালী, তৃতীয় পতিটি চিররমণীমোহন।
হাত ধরে বসালেন পালঙ্কে তাঁকে, অস্ফুটে বললেন ‘ বসো কিছুখন,
তারপরে কথা হবে। আপাতত এই নিস্তব্ধ সন্ধাতে পিতামাতা হয়ে,
দুজনে স্মরণ করি শ্রুতকর্মাকে। আমরা বিলীন হলে সেও মিলাবে সময়ে,
যেমন লুপ্ত হয় কীর্তিহীন সাধারণ লোক, চাপা পড়ে আগামী পলিতে।
এসো , প্রথম ও শেষবার, দুজনে স্মরণ করি পুত্র নিভৃতে।

বসলেন ধনঞ্জয়। কিছু কি পড়েছে তার চোখে?
নইলে হঠাৎ কেন অশ্রুসজল ,ক্ষত্রিয় ঢাকে শোক বীর- নির্মোকে,
কেন আজ কাঠিন্য ঠেলে একে একে নাম মনে পড়ে, অভিমন্যু, শ্রুতকর্মা, ঘটোৎকচ,প্রতিবিন্ধ্য, শতানীক..
এ যুদ্ধ তাদের ছিলো না। যে পিতারা বেঁচে আছে, তাদেরকে ধিক।
দুজনে বিজনে একা, চওড়া বুকের কাছে কাঁচাপাকা মাথা,
নায়ক নায়িকা নয়, বিজয়ী পাণ্ডব নয় , সন্তান হারানো তাঁরা শুধু পিতামাতা।
অবশেষে বিষণ্ণ নৈঃশব্দ ভেঙে, ফিসফিসে বললেন দ্রৌপদী সে কথা,
যা বলতে চেয়েছেন এতদিন ধরে। কণ্ঠতে বেঁচে নেই কোনো আকুলতা,
সব আবেগ নিঃশেষে যেমন অকম্প হয় সমাপ্তি নিশ্চিত জানা মানুষের স্বর,
তেমনি নিস্পৃহভাবে শুধোলেন দ্রৌপদী ‘ যতই করিনা পাঁচ পুরুষের ঘর,
ভালোবাসা পুরোটাই দিয়েছি তোমাকে, হে স্বয়ংম্বরজয়ী সব্যসাচী,
একবার শুনে যেতে চাই জীবন নেভার আগে, তোমার মনেও আমি কোথাও কি আছি?’

কোথাও ফাটলো যেন আগ্নেয়গিরি, লাভাস্রোত নামে বুঝি পাহাড়ের গা দিয়ে বেয়ে,
‘ভালোবাসা? কতটুকু জানো তুমি দ্রুপদনন্দিনী? এ জীবন গেছে শুধু তোমাকেই চেয়ে।
ভ্রাতাদের মুখে গোপন ছিলোনা মোটে ঈর্ষা লালসামেশা পাওয়ার বাসনা,
দেখেই বুঝেছিলেন মাতা কুন্তীও । তাই বন্টন হলো আমার প্রেয়সী,
যেমন দস্যু ভাগ করে নেয় সোনা,
সেই ক্ষোভে বরাবর রয়ে গেছি দূরে। ইচ্ছায় শর্ত ভেঙে দেশভ্রমণে গেছি প্রায়শ্চিত্তের ভানে,
ফিরেছি সুভদ্রাকে নিয়ে, যেন তুমি দূরে থাকো সেই অপমানে,
তোমাকে আমারই মতো আরও চারজন ছোঁবে, তা রুখতে অক্ষম আমি নিজেকেই করে গেছি ঘৃণা,
এ ব্যথা জানতো শুধু সখা বাসুদেব। আজকে শুধোও তুমি হে প্রিয়তমা,
অর্জুন কৃষ্ণাকে ভালোবাসে কিনা?’

মহাপ্রস্থানে যাওয়া আগামী প্রভাতে। রাত কেটে যায় আর কোনো কথা বিনা।

আর্যতীর্থ

*********************









*

। এদিক ওদিক।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১০.৭.২০২১।

বলছো বটে এদিক যেতে, গেলে হবে ওদিক কী?
স্বপ্ন ধরার সম্ভাবনা এদিক গেলেই অধিক কি?
বোঝাও আমায়, ধাক্কা দিয়ে মুখ ঘোরালে এইদিকে,
সুযোগ পেলেই ঘুরবো আবার নিষেধ যাওয়া যেই দিকে।

যে পথ দিয়ে চলতে বলো, তা ছাড়া যে পথ আছে,
উচ্চগলায় যে মত ফলাও, তার ব্যতিরেক মত আছে,
এই কথাটা মানাই ভালো, ঢাকলে বাকি জোর করে,
অবাধ্য কেউ নিতেই পারে ভিন্ন আলোর ভোর গড়ে।

বুঝিয়ে বলো চাইছো কেন এদিক পানেই চাই আমি,
কি যায় আসে আলগা হয়ে ওদিক যদি যাই আমি?
বুঝতে হবে তোমার ভালোয় আমার আছে কোন ভালো,
ভেড়ার মতো হ্যাট তাড়ালে সন্দেহে হয় মন কালো।

হয়তো তুমি সেটাই ভাবো, মানুষ ভেড়ায় তফাৎ নেই,
অন্যদিকে চলবে যে লোক ধরণীতল পপাত সেই।
কিন্তু তাদের সেই পড়াটা নেহাতই কি দিকের ভ্রম?
তোমার ল্যাংয়েই ঠ্যাং ভেঙেছে, খবর কিন্তু সেইরকম।

বলছো বটে এদিক গেলে মুড়বে আমার দিন সোনায়,
ওদিক গেলে নয় কেন তা জবাবটা তার ক্ষীণ শোনায়।
হুকুম যদি চাবুক মেরে বলছি বলেই এদিক যা,
উল্টোপথে হাঁটবে যে কেউ সময় দেবে সে শিক্ষা।

তারচে’ বরং ভালো হবে দেখতে দিলে ওদিকটা।

আর্যতীর্থ

*********************









*

। স্কেপগোট।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১০.৭.২০২১।

মহা নাজেহাল হয়ে প্যান্ডেমিকে, আজবনগরে সব খুশি হলো ফিকে।
রাজাও ভীষণ চাপে, ভাষণে তালির থেকে বেশি জোটে গালি ইদানিং,
যদিও হয়েছে ভাঙা ফাঁক পেলে গুঁতোবার সবকটা শিং,
বেয়াদপি খুঁজে বার করে ফেলে ঠিক তাঁর পোষা যত হায়না,
তবুও আগামীতে কখন কি হয় কিচ্ছু বলা যায় না।

কিছু যে করতে হবে এটার ব্যাপারে,
টের পেয়েছেন রাজা সেটা হাড়ে হাড়ে।
রাজতন্ত্র যদিও চালু প্রথা, তবু নিতে হয় গণতন্ত্রের নিপাট ছদ্মবেশ,
শিকার সহজলভ্য নেকড়েরা যদি সাজে নিরামিষ মেষ,
নানা রূপকথা ঘেঁটে সেই কথা নেওয়া গেছে শিখে,
অবশ্য শেষটা মেলে না। রাক্ষস জিতে যায় আজ চারিদিকে।

নেভাতে এ জনরোষে ধিকি ধিকি আঁচ,
পানি বিনা ছুঁয়ে তবে ধরা চাই মাছ।
একখানা কাঁধ চাই, যার ওপর দোষ দিয়ে পার হওয়া যাবে সব ঢেউ,
কেন শুধু সে-ই দায়ী, সে সওয়াল এই দেশে করবে না কেউ,
বড় দাম দিতে হয় প্রতিকুল বার্তাতে নড়ে যদি ঠোঁট,
সুতরাং চাই শুধু নিঃসাড়ে সরে যাওয়া কোনো স্কেপগোট।

সেইমতো খুঁজে নিয়ে গোবেচারি এক সভাসদ,
রাজসভা দেগে দিলো ‘এই ব্যাটা বদ’।
সর্বদা হ্যাঁ বলা সে লোকটা এখানেও না বলতে পারলো না মোটে,
বললেও শুনছে কে, স্কেপগোট চিরকাল কাজে লাগে ভোটে,
আসল দায়ীর দিকে কখনো ওঠে না যেন আরোপী আঙুল,
যতদিন গদি থাকে, ততদিন সব রাজা থাকে নির্ভুল।

নতুন এক স্কেপগোট সব দায় কাঁধে নিয়ে নাড়ায় লাঙুল।

আর্যতীর্থ

*********************









*

। খোকা খুকু।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১০.৭.২০২১।

শোন রে খোকা, বড় হয়ে কী হবি সেই প্রশ্নে,
জবাব দেওয়ার আগেই বলি , মোটেই বড় হোস নে।
খুকুমণি , তোমার জন্য উল্টো পরামর্শ,
বালিকাদের জন্য এখন নয় এ ভারতবর্ষ।

খোকা রে তুই রাখ বাঁচিয়ে ছোট্ট শিশুর মনকে,
মান দিয়ে যাস সবার মেয়েকে, যেমন মা বা বোনকে।
যৌন খিদে সামলে সে মন কক্ষনো না ভোলে,
শিশু চেনে সব বড়দের আগে মানুষ বলে।

খুকুমণি , শিশুর থেকে মহিলা হও শিগগির,
নরক নেওয়ার পথে এখন পোকার মতো থিক ভিড়।
কোনটা যে কীট, কোনটা মানুষ বুঝতে শেখো কন্যা,
সুযোগ নেওয়ার ধান্দা খোঁজা ভুল পুরুষে মন না।

মা বলে যা , বড় হয়েও খোকা ভুলিস না রে
‘আমার ছেলে কখনো কি এমন করতে পারে!’
সে ভরসাটা বর্ম করে নাহয় পরিস অঙ্গে,
মায়ের কথা থাকুক মনে যখন নারীর সঙ্গে।

খুকুমণি , বলতে শেখো ওই কাকুটা মন্দ,
চিনতে শেখো দূরের থেকে পিডোফিলের গন্ধ।
আধোবুলির সোনামণি কারোর কোলে গিয়ে,
বলতে পারে চেঁচিয়ে যেন করছে দেখো কি এ।

পুরুষ থাকুক খোকা আর খুকুরা হোক নারী,
হয়তো তখন বদলে যাবে সমাজ তাড়াতাড়ি।

গভীর রাতে একলা হেঁটে ফিরবে মেয়েরা বাড়ি…
আর্যতীর্থ

*********************