কবি আর্যতীর্থর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
। কুরুক্ষেত্রের পরে।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১৯.৭.২০২১
এসো হে কেশব, বসো এসে এই মহাবৃক্ষের মূলে।
এসো বসি দুইজনে বেদীর ওপর,
কী গাছ এটা?
অশ্বত্থ মনে হয়, শতহস্তব্যাপী কাণ্ড,
পাতারা উঁচুতে এত, দেখা দুষ্কর।
দেখো, সন্ধ্যা নামছে তীরে,
জাহ্নবী বয়ে চলে নিস্পৃহ স্রোত হয়ে সাগরের দিকে,
আঠারো অক্ষৌহিনী মানুষ নিহত হলো আঠারোটা দিনে,
সংখ্যাটা কিছু নয় কালের নিরিখে,
আগেও ঘটেছে কত, ঘটবে আবারও।
এসো হে বন্ধু প্রিয়, এসো বাসুদেব,
এদিকে বসলে যাবে আড়ালে চিতারা
বিপরীতমুখী বায়ু দুর্বাস চাপা দেবে নর-মাংসের,
শোকের বিলাপী স্বর করবেনা কানে এসে মন দিশাহারা,
পাখিরা কুলায় ফেরে,
দূরে বনে শোনো ওই মিলনের ডাক দেয় কামাতুর মৃগ,
আমাদের সব গেছে ,
পূর্বজ আত্মজ আত্মীয় সকলেই শব।
তবু বাকি পৃথিবীর যায় আসে কি গো?
হয়তো এটাই তুমি বোঝাতে চেয়েছো,
যুদ্ধারম্ভকালে বিপক্ষে আত্মীয়সুহৃদ দেখে গাণ্ডীব কেঁপেছে যখন,
মানুষের জয় পরাজয়ে বিশ্বের কিছু নয়,
সময়ের ফুৎকারে কুটো হয়ে উড়ে যায় ইতিহাস জুড়ে সব রাজার কথন।
হে দ্বারকাপতি,
প্রজন্মভূক এই গৃহযু্দ্ধে রক্তলোলুপ মহাআয়ুধের সমাহারে
যদিও নিরস্ত্র সারথী সেজেছো,
তবুও আমার মতন কেউ সত্য জানেনা ,
প্রতিটি হত্যার পরে জয়নির্ঘোষে তুমিই পাঞ্চজন্য হয়ে বেজেছো।
ধনঞ্জয় যুদ্ধ থামালে,
থেমে যেতো তাবত উন্মাদমনা আত্মীয়ক্ষয় চাওয়া মনের প্রলাপ,
যে অসংখ্য চিতা জ্বলে ভূভারতে আজ,
তাদের নাশের ক্লেদ মন থেকে মুছবে না কোনো অনুতাপ,
এসো হে প্রাণের সখা, এসো হে মাধব,
একবার পাশে বসে পুনরায় আশ্বাসে বোঝাও আমাকে,
দুপক্ষে এত লক্ষ মৃত বীরদের এই নরমেধে কী প্রয়োজন ছিলো।
ধর্ম কোথায় আছে এ শোণিতপাঁকে ?
কোটি বিধবার অশ্রু ,
লক্ষ মাতার বক্ষ বিদীর্ণ করা হাহাকার যে অমঙ্গলের কথা করছে ঘোষণা,
তাতে কোন কল্যাণময় আগামীর সন্ধান লেখা,
সে কথা শুনতে চাই
দেবকীনন্দন।
এসো পাশে বোসো , শুরু করো আলোচনা।
জয়ী হয়ে তবু সর্বহারা যুদ্ধে মানুষ,
সে শিক্ষাটার বড় দরকার ছিলো, তৃতীয় পাণ্ডব।
মৃত্যু যে থমকেছে কে বলেছে?
যারা বেঁচে আছে, ধ্বংসের স্মৃতি বুকে তারাও যে জীবন্ত শব,
বেঁচে থাকা আজ নিষ্ফলা।
ধর্ম যুদ্ধে নেই, রক্তের ক্ষয়ে নেই,
ধর্মের লেশ নেই সাম্রাজ্যবিজয়ে,
অস্ত্রের সংঘাতে শান্তি আসেনা।
আমাদের এ কাহিনী সে সরল শিক্ষার যাবে বীজ বয়ে,
যদিও ভালোই জানি,
মানুষ শিখবে না কিছু মোটে এর থেকে। যুদ্ধের শেষ নেই হে সব্যসাচী,
আগামীর অস্ত্ররা আরো ভয়ঙ্কর,
ভাবীকালে হিংস্রতা তীব্রতর হবে।
তবুও সে আশা নিয়ে আছি,
আঁধার পেরিয়ে গিয়ে পৌঁছাবে মানুষ সেই অমল আলোতে,
যেখানে যুদ্ধেরা অতীতের ভুল ছাড়া কিছু নয়।
সেদিন কৃষ্ণ যদি সারথির ছদ্মতে বলে পার্থকে,
তুমি তো নিমিত্তমাত্র,
আমার শরণে এসে অস্ত্র ধরো , হে ধনঞ্জয়,
নতশিরে প্রত্যাখ্যান করে বিনয়ের সাথে সেই ছাত্র জানাবে,
ক্ষমা করো হে প্রভু, হত্যাতে নেই কোনো ধর্ম নিহিত,
পুনরায় সংলাপে যুদ্ধ থামানো হোক।
ইতিহাস জেনে গেছে,
অশান্তি অগ্নিকে দাবানল করে দেয় হিংসার ঘৃত।
অর্জুন, প্রিয় সখা, বাধ্য ছাত্র আমার,
ধ্বংসের প্ররোচনা সৃষ্টি করে না,
আমাদের দিয়ে হলো পুনঃপ্রমাণিত।
এ শিক্ষা যদি কেউ না নেয় গীতার থেকে,
জীবন সায়াহ্নে আমি সেই ভয়ে ভীত।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১৯.৭.২০২১
এসো হে কেশব, বসো এসে এই মহাবৃক্ষের মূলে।
এসো বসি দুইজনে বেদীর ওপর,
কী গাছ এটা?
অশ্বত্থ মনে হয়, শতহস্তব্যাপী কাণ্ড,
পাতারা উঁচুতে এত, দেখা দুষ্কর।
দেখো, সন্ধ্যা নামছে তীরে,
জাহ্নবী বয়ে চলে নিস্পৃহ স্রোত হয়ে সাগরের দিকে,
আঠারো অক্ষৌহিনী মানুষ নিহত হলো আঠারোটা দিনে,
সংখ্যাটা কিছু নয় কালের নিরিখে,
আগেও ঘটেছে কত, ঘটবে আবারও।
এসো হে বন্ধু প্রিয়, এসো বাসুদেব,
এদিকে বসলে যাবে আড়ালে চিতারা
বিপরীতমুখী বায়ু দুর্বাস চাপা দেবে নর-মাংসের,
শোকের বিলাপী স্বর করবেনা কানে এসে মন দিশাহারা,
পাখিরা কুলায় ফেরে,
দূরে বনে শোনো ওই মিলনের ডাক দেয় কামাতুর মৃগ,
আমাদের সব গেছে ,
পূর্বজ আত্মজ আত্মীয় সকলেই শব।
তবু বাকি পৃথিবীর যায় আসে কি গো?
হয়তো এটাই তুমি বোঝাতে চেয়েছো,
যুদ্ধারম্ভকালে বিপক্ষে আত্মীয়সুহৃদ দেখে গাণ্ডীব কেঁপেছে যখন,
মানুষের জয় পরাজয়ে বিশ্বের কিছু নয়,
সময়ের ফুৎকারে কুটো হয়ে উড়ে যায় ইতিহাস জুড়ে সব রাজার কথন।
হে দ্বারকাপতি,
প্রজন্মভূক এই গৃহযু্দ্ধে রক্তলোলুপ মহাআয়ুধের সমাহারে
যদিও নিরস্ত্র সারথী সেজেছো,
তবুও আমার মতন কেউ সত্য জানেনা ,
প্রতিটি হত্যার পরে জয়নির্ঘোষে তুমিই পাঞ্চজন্য হয়ে বেজেছো।
ধনঞ্জয় যুদ্ধ থামালে,
থেমে যেতো তাবত উন্মাদমনা আত্মীয়ক্ষয় চাওয়া মনের প্রলাপ,
যে অসংখ্য চিতা জ্বলে ভূভারতে আজ,
তাদের নাশের ক্লেদ মন থেকে মুছবে না কোনো অনুতাপ,
এসো হে প্রাণের সখা, এসো হে মাধব,
একবার পাশে বসে পুনরায় আশ্বাসে বোঝাও আমাকে,
দুপক্ষে এত লক্ষ মৃত বীরদের এই নরমেধে কী প্রয়োজন ছিলো।
ধর্ম কোথায় আছে এ শোণিতপাঁকে ?
কোটি বিধবার অশ্রু ,
লক্ষ মাতার বক্ষ বিদীর্ণ করা হাহাকার যে অমঙ্গলের কথা করছে ঘোষণা,
তাতে কোন কল্যাণময় আগামীর সন্ধান লেখা,
সে কথা শুনতে চাই
দেবকীনন্দন।
এসো পাশে বোসো , শুরু করো আলোচনা।
জয়ী হয়ে তবু সর্বহারা যুদ্ধে মানুষ,
সে শিক্ষাটার বড় দরকার ছিলো, তৃতীয় পাণ্ডব।
মৃত্যু যে থমকেছে কে বলেছে?
যারা বেঁচে আছে, ধ্বংসের স্মৃতি বুকে তারাও যে জীবন্ত শব,
বেঁচে থাকা আজ নিষ্ফলা।
ধর্ম যুদ্ধে নেই, রক্তের ক্ষয়ে নেই,
ধর্মের লেশ নেই সাম্রাজ্যবিজয়ে,
অস্ত্রের সংঘাতে শান্তি আসেনা।
আমাদের এ কাহিনী সে সরল শিক্ষার যাবে বীজ বয়ে,
যদিও ভালোই জানি,
মানুষ শিখবে না কিছু মোটে এর থেকে। যুদ্ধের শেষ নেই হে সব্যসাচী,
আগামীর অস্ত্ররা আরো ভয়ঙ্কর,
ভাবীকালে হিংস্রতা তীব্রতর হবে।
তবুও সে আশা নিয়ে আছি,
আঁধার পেরিয়ে গিয়ে পৌঁছাবে মানুষ সেই অমল আলোতে,
যেখানে যুদ্ধেরা অতীতের ভুল ছাড়া কিছু নয়।
সেদিন কৃষ্ণ যদি সারথির ছদ্মতে বলে পার্থকে,
তুমি তো নিমিত্তমাত্র,
আমার শরণে এসে অস্ত্র ধরো , হে ধনঞ্জয়,
নতশিরে প্রত্যাখ্যান করে বিনয়ের সাথে সেই ছাত্র জানাবে,
ক্ষমা করো হে প্রভু, হত্যাতে নেই কোনো ধর্ম নিহিত,
পুনরায় সংলাপে যুদ্ধ থামানো হোক।
ইতিহাস জেনে গেছে,
অশান্তি অগ্নিকে দাবানল করে দেয় হিংসার ঘৃত।
অর্জুন, প্রিয় সখা, বাধ্য ছাত্র আমার,
ধ্বংসের প্ররোচনা সৃষ্টি করে না,
আমাদের দিয়ে হলো পুনঃপ্রমাণিত।
এ শিক্ষা যদি কেউ না নেয় গীতার থেকে,
জীবন সায়াহ্নে আমি সেই ভয়ে ভীত।
আর্যতীর্থ
*********************
। শোকসংবাদ।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১৯.৭.২০২১ দুপুরে।
ভীষণরকম শোকাহত , খুব ব্যথিত হচ্ছে হৃদয়
আপনাদের এই খবর দিতে,
বেশ কিছুদিন ভোগার পরে সবার-জন্য-শিক্ষা বাবু
সবার থেকে বিদায় নিলেন আজ নিভৃতে।
শরীর খারাপ আগেই ছিলো,
কোভিড মারী বিষম হয়ে মারলো তাঁকে,
তাঁর যে ছেলে, অনলাইন ক্লাস,
পাত্তা মোটেই দিতো না সে তার বাবাকে।
সেই পুরনো ব্ল্যাকবোর্ড চক,
পচাধসা ক্লাসে বসে শিক্ষকদের পড়া বোঝা,
বাতিল সে সব কবেই হলো,
ক্লিক করলেই ঘরের ভেতর আসে এখন শিক্ষা সোজা।
সবার-জন্য- শিক্ষা বাবু এই কথাটা মানতে চাননি,
ভীষণ রকম একগুঁয়েমি আঁকড়ে ধরে,
মুখের ওপর বলে দিতেন,
স্মার্টফোনহীন এত্ত কোটি গরীবগুলো পড়বে তবে কেমন করে?
এমনতর বুড়োর কথায় লজ্জা পেতো ভীষণ ছেলে,
গরীব হলে পড়ার আবার দরকার কি বলো দেখি,
‘শিক্ষা’ থেকে এফিডেবিট করে সে যে ‘ক্লাস’ হয়েছে,
পয়সা বিনা ফালতু এমন গরীবসেবার জন্য সে কি?
আজকে ছেলের ব্যবসা বিশাল ,
করোনা তার পসারটাকে তুঙ্গে তুলে দিচ্ছে রোজই জুম গুগুলে,
স্মার্টফোন নেই যাদের ঘরে, শিক্ষা ধুয়ে কি জল খাবে,
মিড ডে খাবার মিলছে তো ঠিক বন্ধ স্কুলে।
এই কথাটাই সবার-জন্য-শিক্ষা বুড়ো ঠ্যাঁটার মতো বোঝেনইনি,
শিক্ষা নাকি উচিৎ যাওয়া সবারই ঘর,
কর্পোরেটে দেশ কিনেছে , ওনার মাথায় ঘুরতো তবু
ডেভিড হেয়ার, ফুলে এবং বিদ্যাসাগর।
শিক্ষা বলো স্বাস্থ্য বলো সবখানেতেই ফেললে কড়ি
তবেই জোটে তৈল এখন মাখার মতন,
সস্তা রেশন পাচ্ছে খেতে, ওইটুকুতেই তুষ্ট থাকুক,
খামোখা ফ্রি লেখাপড়ায় মিলবেটা কি অরূপরতন?
অনলাইন ক্লাস রাষ্ট্রপ্রেমিক, বাপের মতো গোঁ ধরে নেই
সবার কাছে পৌঁছে দেবে মগজ খোলার চাবি,
গরীব যদি শিক্ষিত হয়, ভীষণ প্রলয় আসতে পারে,
খুব মুশকিল রেশন দিয়ে দাবিয়ে রাখা দাবী।
যাহোক এবার চিন্তাটি নেই, ধিনতা নাচুন দেশপ্রেমিক,
সবার-জন্য- শিক্ষা বুড়ো মরলো অবশেষে,
উন্নয়নের জোয়ার খালি, চোখের যত ঝুরো বালি
অনলাইনের প্রবল ঠেলায় এবার যাবে ভেসে।
শ্রাদ্ধ কবে নেই তা জানা, ওঁ গঙ্গা কার্ডটা পেলে
পায়ের ধুলো দয়া করে দিয়ে যাবেন এসে।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১৯.৭.২০২১ দুপুরে।
ভীষণরকম শোকাহত , খুব ব্যথিত হচ্ছে হৃদয়
আপনাদের এই খবর দিতে,
বেশ কিছুদিন ভোগার পরে সবার-জন্য-শিক্ষা বাবু
সবার থেকে বিদায় নিলেন আজ নিভৃতে।
শরীর খারাপ আগেই ছিলো,
কোভিড মারী বিষম হয়ে মারলো তাঁকে,
তাঁর যে ছেলে, অনলাইন ক্লাস,
পাত্তা মোটেই দিতো না সে তার বাবাকে।
সেই পুরনো ব্ল্যাকবোর্ড চক,
পচাধসা ক্লাসে বসে শিক্ষকদের পড়া বোঝা,
বাতিল সে সব কবেই হলো,
ক্লিক করলেই ঘরের ভেতর আসে এখন শিক্ষা সোজা।
সবার-জন্য- শিক্ষা বাবু এই কথাটা মানতে চাননি,
ভীষণ রকম একগুঁয়েমি আঁকড়ে ধরে,
মুখের ওপর বলে দিতেন,
স্মার্টফোনহীন এত্ত কোটি গরীবগুলো পড়বে তবে কেমন করে?
এমনতর বুড়োর কথায় লজ্জা পেতো ভীষণ ছেলে,
গরীব হলে পড়ার আবার দরকার কি বলো দেখি,
‘শিক্ষা’ থেকে এফিডেবিট করে সে যে ‘ক্লাস’ হয়েছে,
পয়সা বিনা ফালতু এমন গরীবসেবার জন্য সে কি?
আজকে ছেলের ব্যবসা বিশাল ,
করোনা তার পসারটাকে তুঙ্গে তুলে দিচ্ছে রোজই জুম গুগুলে,
স্মার্টফোন নেই যাদের ঘরে, শিক্ষা ধুয়ে কি জল খাবে,
মিড ডে খাবার মিলছে তো ঠিক বন্ধ স্কুলে।
এই কথাটাই সবার-জন্য-শিক্ষা বুড়ো ঠ্যাঁটার মতো বোঝেনইনি,
শিক্ষা নাকি উচিৎ যাওয়া সবারই ঘর,
কর্পোরেটে দেশ কিনেছে , ওনার মাথায় ঘুরতো তবু
ডেভিড হেয়ার, ফুলে এবং বিদ্যাসাগর।
শিক্ষা বলো স্বাস্থ্য বলো সবখানেতেই ফেললে কড়ি
তবেই জোটে তৈল এখন মাখার মতন,
সস্তা রেশন পাচ্ছে খেতে, ওইটুকুতেই তুষ্ট থাকুক,
খামোখা ফ্রি লেখাপড়ায় মিলবেটা কি অরূপরতন?
অনলাইন ক্লাস রাষ্ট্রপ্রেমিক, বাপের মতো গোঁ ধরে নেই
সবার কাছে পৌঁছে দেবে মগজ খোলার চাবি,
গরীব যদি শিক্ষিত হয়, ভীষণ প্রলয় আসতে পারে,
খুব মুশকিল রেশন দিয়ে দাবিয়ে রাখা দাবী।
যাহোক এবার চিন্তাটি নেই, ধিনতা নাচুন দেশপ্রেমিক,
সবার-জন্য- শিক্ষা বুড়ো মরলো অবশেষে,
উন্নয়নের জোয়ার খালি, চোখের যত ঝুরো বালি
অনলাইনের প্রবল ঠেলায় এবার যাবে ভেসে।
শ্রাদ্ধ কবে নেই তা জানা, ওঁ গঙ্গা কার্ডটা পেলে
পায়ের ধুলো দয়া করে দিয়ে যাবেন এসে।
আর্যতীর্থ
*********************
। ধুত্তেরি।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২০.৭.২০২১।
বুঝেছেন সরকার , আড়ি পাতা দরকার,
আরে বাবা জানা ভালো, ষড় করে ঘর কার।
ঘুঁটে পোরা মগজে, ঢুকবে না সহজে,
বুঝে নিতে হয় আগে কত বাঁও দহ যে,
কোনখানে ঘূর্ণী, নৌকাটা দূর নি,
যেই মাঝি বোঝে, তার বিপদটা শূন্যি।
রাজনীতি দাবাতে, চালটাল ভাবাতে,
বিরোধীর প্ল্যান যদি এসে যায় থাবাতে,
তবে নেই চিন্তা, নেচে যাও ধিন তা,
কিস্তিটি দেওয়া যাবে যে কোনো দিন তা।
ফোন হ্যাকে দোষ কি, দেখো কোনো রোষ কি,
ঢোঁড়া বাদে কেউটেরা কেউ করে ফোঁস কি?
জেনেছেন সরকার, লোক নেই লড়বার,
ক্ষমতাই নেই আজ কারো কিছু করবার।
যত সব সংবাদ, আসলে তো সঙ নাদ,
তিলেক ধমক দিলে হবে সব ঢং বাদ।
আড়ি ঝারি যাই হোক, চিরে দিক বাঘনখ
মুশকিল খোলা খুব আইনের বোজা চোখ।
সুতরাং চটো না, কত ঘটে ঘটনা
জীবনের মটো মোটে মালা দেওয়া ফটো না।
আমাদের ফুটো হাঁড়ি, নড়বড়ে ভিতে বাড়ি
ভাঙা দরজাতে আর কে পাতে বলো আড়ি!
আঁটি রেখে চোষো শাঁস, ফুটো খুঁজে দাও বাঁশ,
আমরা কাগজ বুকে তবু থাকি বিন্দাস!
খায় না মাথায় দেয় কে জানে পেগাসাস।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২০.৭.২০২১।
বুঝেছেন সরকার , আড়ি পাতা দরকার,
আরে বাবা জানা ভালো, ষড় করে ঘর কার।
ঘুঁটে পোরা মগজে, ঢুকবে না সহজে,
বুঝে নিতে হয় আগে কত বাঁও দহ যে,
কোনখানে ঘূর্ণী, নৌকাটা দূর নি,
যেই মাঝি বোঝে, তার বিপদটা শূন্যি।
রাজনীতি দাবাতে, চালটাল ভাবাতে,
বিরোধীর প্ল্যান যদি এসে যায় থাবাতে,
তবে নেই চিন্তা, নেচে যাও ধিন তা,
কিস্তিটি দেওয়া যাবে যে কোনো দিন তা।
ফোন হ্যাকে দোষ কি, দেখো কোনো রোষ কি,
ঢোঁড়া বাদে কেউটেরা কেউ করে ফোঁস কি?
জেনেছেন সরকার, লোক নেই লড়বার,
ক্ষমতাই নেই আজ কারো কিছু করবার।
যত সব সংবাদ, আসলে তো সঙ নাদ,
তিলেক ধমক দিলে হবে সব ঢং বাদ।
আড়ি ঝারি যাই হোক, চিরে দিক বাঘনখ
মুশকিল খোলা খুব আইনের বোজা চোখ।
সুতরাং চটো না, কত ঘটে ঘটনা
জীবনের মটো মোটে মালা দেওয়া ফটো না।
আমাদের ফুটো হাঁড়ি, নড়বড়ে ভিতে বাড়ি
ভাঙা দরজাতে আর কে পাতে বলো আড়ি!
আঁটি রেখে চোষো শাঁস, ফুটো খুঁজে দাও বাঁশ,
আমরা কাগজ বুকে তবু থাকি বিন্দাস!
খায় না মাথায় দেয় কে জানে পেগাসাস।
আর্যতীর্থ
*********************
। ফুল।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২১.৭.২০২১।
ফুলগাছটা দুলছিলো, তাতে অনেক ফুল ছিলো।
চোখ কচলে দেখলে আবার, দেখবে দেখায় ভুল ছিলো।
ফুল তো আছেই , সন্দেহ নেই, গুচ্ছ থোকা সব ডালেতেই
পাপড়ি মেলা রঙের মেলায় কিছু ফুলের শুঁড় ছিলো,
প্রজাপতি অনেকগুলো, বসছিলো আর উড়ছিলো।
একটা কোণে বাগান মালিক ছবি ফোনে তুলছিলো।
প্রজাপতির গাছের সাথে, দারুণ জমে সখ্যতাতে,
প্রজন্মকে রাখবে কোথায়, আলোচনার মূল ছিলো।
ডিম তো পাতার ওপর দেবে, গাছই পালক সেই হিসেবে
সেই এলাহি সবুজ খানায়, লার্ভাগুলো ফুলছিলো।
আর তো কদিন , মাত্র কদিন, তারপরে সব পিউপা স্বাধীন,
কিন্তু বাগান শুধুই ফুলের, ভীষণ কড়া রুল ছিলো।
দেখতে পেলে পাতাখাকি, মালিক কি ঠিক থাকে নাকি,
মারতে পোকা ওষুধ হাতে ভীষণ বেগে ঘুরছিলো,
পিউপাগুলোর ডানা মেলায় আরো সময় দূর ছিলো।
ফুলগাছটা দুলছিলো, তাতে কিছু ফুল ছিলো,
ভোরের আলোয় নাইবে বলে, পাপড়িগুলো খুলছিলো।
প্রজাপতি দেখলে বুঝো , দেখায় তোমার ভুল ছিলো।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২১.৭.২০২১।
ফুলগাছটা দুলছিলো, তাতে অনেক ফুল ছিলো।
চোখ কচলে দেখলে আবার, দেখবে দেখায় ভুল ছিলো।
ফুল তো আছেই , সন্দেহ নেই, গুচ্ছ থোকা সব ডালেতেই
পাপড়ি মেলা রঙের মেলায় কিছু ফুলের শুঁড় ছিলো,
প্রজাপতি অনেকগুলো, বসছিলো আর উড়ছিলো।
একটা কোণে বাগান মালিক ছবি ফোনে তুলছিলো।
প্রজাপতির গাছের সাথে, দারুণ জমে সখ্যতাতে,
প্রজন্মকে রাখবে কোথায়, আলোচনার মূল ছিলো।
ডিম তো পাতার ওপর দেবে, গাছই পালক সেই হিসেবে
সেই এলাহি সবুজ খানায়, লার্ভাগুলো ফুলছিলো।
আর তো কদিন , মাত্র কদিন, তারপরে সব পিউপা স্বাধীন,
কিন্তু বাগান শুধুই ফুলের, ভীষণ কড়া রুল ছিলো।
দেখতে পেলে পাতাখাকি, মালিক কি ঠিক থাকে নাকি,
মারতে পোকা ওষুধ হাতে ভীষণ বেগে ঘুরছিলো,
পিউপাগুলোর ডানা মেলায় আরো সময় দূর ছিলো।
ফুলগাছটা দুলছিলো, তাতে কিছু ফুল ছিলো,
ভোরের আলোয় নাইবে বলে, পাপড়িগুলো খুলছিলো।
প্রজাপতি দেখলে বুঝো , দেখায় তোমার ভুল ছিলো।
আর্যতীর্থ
*********************
। আড়ি।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২২.৭.২০২১।
যুদ্ধের বিবরণে কী লাভ বলো তো? ঘটমান হলেও তা অতীত মূলত,
বদলানো কোনোভাবে সম্ভব নয়, অন্তিমে এক থাকে জয় পরাজয়।
দিব্যদৃষ্টি তবে লাগলো কি কাজে, আগামীকে না যদি দেখা যায় আজ-এ,
বরঞ্চ সঞ্জয় পারলে গোপনে, বিচরণ করে এসো রথীদের মনে।
ভীম ও যুধিষ্ঠির মিললো কি মতে, বাসুদেব রথ নেবে কাল কোন পথে,
অর্জুন ঘটোৎকচ কী করলো শলা, কাল ব্যুহ রচনায় কার ছলাকলা,
কর্ণ কি সত্যিই এপক্ষে আছে, পাণ্ডব ভজে কারা আনাচে কানাচে,
সে সব রহস্যগুলো জানা চাই আজই, নিশ্চিত জয়ে তবে ধরা যাবে বাজি।
যে ক্ষমতা পেয়েছো, তার ফাঁক খোঁজো। আড়ি পাতা উপকারী কতটা তা বোঝো,
পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে ঘটনাতে। পাশা খেলা অনেকটা দৈবের হাতে,
যত মহারথী হও, হারতেও পারো। সংবাদ আগে পাওয়া তাই দরকারও,
জেনে গেলে চলছে যা শত্রুর ঘরে, লক্ষ্য অবর্থ্য হয় সন্ধানী শরে,
বুঝবে না শত্রুরা মরবার আগে, কৌশলে জেনে গেছি চাল আগেভাগে।
মানুষ পুতুল স্রেফ নিয়তির হাতে, এই আপ্তটা আজ চাই বদলাতে,
সুতরাং সঞ্জয়, জানতেই হবে। আলোচনা কোনখানে কাদের ও কবে,
দিব্যদৃষ্টি দিয়ে সেটা জানো যদি, টিকে যেতে পারে তবে অন্ধেরও গদি,
রাজ্যে রয়েছে আজ আমারই দখল, আগামীও চাই হোক অনড় অচল।
শুধু ধারাবিবরণী শোনালে কেবল,
সঞ্জয়, অন্তিমে সবই নিষ্ফল।
চিরকাল আড়ি পাতে রাজাদের দল..
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২২.৭.২০২১।
যুদ্ধের বিবরণে কী লাভ বলো তো? ঘটমান হলেও তা অতীত মূলত,
বদলানো কোনোভাবে সম্ভব নয়, অন্তিমে এক থাকে জয় পরাজয়।
দিব্যদৃষ্টি তবে লাগলো কি কাজে, আগামীকে না যদি দেখা যায় আজ-এ,
বরঞ্চ সঞ্জয় পারলে গোপনে, বিচরণ করে এসো রথীদের মনে।
ভীম ও যুধিষ্ঠির মিললো কি মতে, বাসুদেব রথ নেবে কাল কোন পথে,
অর্জুন ঘটোৎকচ কী করলো শলা, কাল ব্যুহ রচনায় কার ছলাকলা,
কর্ণ কি সত্যিই এপক্ষে আছে, পাণ্ডব ভজে কারা আনাচে কানাচে,
সে সব রহস্যগুলো জানা চাই আজই, নিশ্চিত জয়ে তবে ধরা যাবে বাজি।
যে ক্ষমতা পেয়েছো, তার ফাঁক খোঁজো। আড়ি পাতা উপকারী কতটা তা বোঝো,
পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে ঘটনাতে। পাশা খেলা অনেকটা দৈবের হাতে,
যত মহারথী হও, হারতেও পারো। সংবাদ আগে পাওয়া তাই দরকারও,
জেনে গেলে চলছে যা শত্রুর ঘরে, লক্ষ্য অবর্থ্য হয় সন্ধানী শরে,
বুঝবে না শত্রুরা মরবার আগে, কৌশলে জেনে গেছি চাল আগেভাগে।
মানুষ পুতুল স্রেফ নিয়তির হাতে, এই আপ্তটা আজ চাই বদলাতে,
সুতরাং সঞ্জয়, জানতেই হবে। আলোচনা কোনখানে কাদের ও কবে,
দিব্যদৃষ্টি দিয়ে সেটা জানো যদি, টিকে যেতে পারে তবে অন্ধেরও গদি,
রাজ্যে রয়েছে আজ আমারই দখল, আগামীও চাই হোক অনড় অচল।
শুধু ধারাবিবরণী শোনালে কেবল,
সঞ্জয়, অন্তিমে সবই নিষ্ফল।
চিরকাল আড়ি পাতে রাজাদের দল..
আর্যতীর্থ
*********************
।অরণ্যের স্বপ্ন।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২২.৭.২০২১ বিকেল।
বীজতলা জুড়ে লাখো কচি চারা মাথা তুলেছে।
এইবার আলো জল হাওয়া পেলে ওরা বেড়ে উঠবে,
সার ও কীটনাশকের সঠিক প্রয়োগে অচিরেই গাছ হবার যোগ্য হবে।
তখন ওদের অন্য জায়গায় পোঁতা হবে,
আর এই শুকনো সবুজখেকো দেশটা ভরে উঠবে অনুপম অভয়ারণ্যে।
অন্তত, রাজামশাই সেরকমই বলেন।
রাজামশাইকে চেনো তো?
ওই বীজতলা থেকে অরণ্যের স্বপ্ন দেখা পাথুরিলা জমি,
সবটার তিনিই অধীশ্বর।
সার, কীটনাশক আর জলের সব উৎস তাঁরই অধীন,
মালি তাঁর আদেশ ব্যতিরেকে খুরপি ধরে না,
ভিস্তি তার ইশারা না পেলে জল দেয় না,
শ্রমিক তাঁর সম্মতি পেলে তবেই গাছের চারদিকে বেড়া বাঁধে।
এমনকি জমাদারেরাও তিনি যেটা আবর্জনা মনে করেন,
কেবল সেটাই সাফ করে।
মন্দ লোকে বলে এ দেশের আলো আর বাতাসও নাকি তাঁর গোলাম,
সত্যিমিথ্যে জানিনা।
চারাগুলোর সবকটার বাড় সমান নয় ।
কারো পাতা হলদেটে,
কারো কাণ্ড নিজে দাঁড়াতে অক্ষম,
কোনোটার আবার শেকড়ই ভীষণ পাতলা।
সেই মতো ওষুধ দেওয়া প্রয়োজন,
নয়তো বড় হলে এরা নিষ্ফলা গাছ হবে।
আবার বিপরীতে,
কিছু শিশুগাছ বাকিদের চেয়ে অনেক এগিয়ে,
তরতর করে বাড়ছে,
তাদের পাতারা যেমন সবুজ, তেমনি ঘন।
মালিরা সেই মতো রাজার কাছে আবেদন করেছিলো,
চারাদের ভাগ করা হোক।
ভালো চারারা যেন একটু আলাদা হয় বাকিদের থেকে,
দুর্বল চারাদের অপুষ্টির কারণ খুঁজে সেই মতো প্রতিষেধক দেওয়া হোক।
রাজামশাইয়ের সেই এক উত্তর।
সব গাছ সমান ।
যা দেওয়া হচ্ছে, সবাইকে দাও।
কে ভালো আর কে ধুঁকছে দেখা তোমাদের কাজ না।
বেশ কিছু চারা পোকার আক্রমণে বিপর্যস্ত,
চিকিৎসা না করলে নির্ঘাত তারা বৃক্ষ হবে না।
ওদের আলাদা ওষুধ দিলে হয়তো ভালো হয়ে যেতো ।
রাজামশাই দিতে দিলেন না।
নির্দিষ্ট দিনে ঘোষণা হোল,
গাছেরা অরণ্যে যাওয়ার মতো বড় হয়ে গেছে।
অমনি ধনী ব্যবসায়ীরা এসে তাদের ব্যক্তিগত উদ্যানের জন্য বর্ধিষ্ণু চারাদের কিনে নিলো,
বেশ কিছু চালান গেলো বিদেশেও ।
রাজা টুঁ শব্দটি করলেন না।
শেষ অবধি যে কটা চারা পড়ে রইলো,
তাদের প্রত্যেকেরই আরো পরিচর্যা দরকার।
মালিরা হাতজোড় করে বললো,
‘মহারাজ যদি কিছুদিন এদের রক্ষণাবেক্ষণ করেন,
তাহলে এরাই একদিন মহীরূহ হবে’
রাজামশাই চোখ পাকিয়ে বললেন
‘এতদিন বড় করে দিয়েছি,
এবার ওদের ব্যবস্থা ওদের নিজেই করতে হবে।
মাটিতে পুঁতে দাও গে!’
সেই মতো পোঁতা হলো।
সেই দেশে গেলে দেখবে,
দু চারটে বৃক্ষের মাঝে অসংখ্য ছোটো বড় মৃত গাছের সারি।
ধনী ব্যবসায়ীদের মালিকানায়
এখন সেই দেশের সমস্ত অরণ্য।
রাজামশাই অবশ্য দিব্যি আছেন ।
এই বছর ভাষণেও উনি বনসৃজনের কথা ঘোষণা করেছেন।
নাগরিকেরা তাঁকে ভোট দিয়ে চলে সেই স্বপ্নের অরণ্যের জন্য।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২২.৭.২০২১ বিকেল।
বীজতলা জুড়ে লাখো কচি চারা মাথা তুলেছে।
এইবার আলো জল হাওয়া পেলে ওরা বেড়ে উঠবে,
সার ও কীটনাশকের সঠিক প্রয়োগে অচিরেই গাছ হবার যোগ্য হবে।
তখন ওদের অন্য জায়গায় পোঁতা হবে,
আর এই শুকনো সবুজখেকো দেশটা ভরে উঠবে অনুপম অভয়ারণ্যে।
অন্তত, রাজামশাই সেরকমই বলেন।
রাজামশাইকে চেনো তো?
ওই বীজতলা থেকে অরণ্যের স্বপ্ন দেখা পাথুরিলা জমি,
সবটার তিনিই অধীশ্বর।
সার, কীটনাশক আর জলের সব উৎস তাঁরই অধীন,
মালি তাঁর আদেশ ব্যতিরেকে খুরপি ধরে না,
ভিস্তি তার ইশারা না পেলে জল দেয় না,
শ্রমিক তাঁর সম্মতি পেলে তবেই গাছের চারদিকে বেড়া বাঁধে।
এমনকি জমাদারেরাও তিনি যেটা আবর্জনা মনে করেন,
কেবল সেটাই সাফ করে।
মন্দ লোকে বলে এ দেশের আলো আর বাতাসও নাকি তাঁর গোলাম,
সত্যিমিথ্যে জানিনা।
চারাগুলোর সবকটার বাড় সমান নয় ।
কারো পাতা হলদেটে,
কারো কাণ্ড নিজে দাঁড়াতে অক্ষম,
কোনোটার আবার শেকড়ই ভীষণ পাতলা।
সেই মতো ওষুধ দেওয়া প্রয়োজন,
নয়তো বড় হলে এরা নিষ্ফলা গাছ হবে।
আবার বিপরীতে,
কিছু শিশুগাছ বাকিদের চেয়ে অনেক এগিয়ে,
তরতর করে বাড়ছে,
তাদের পাতারা যেমন সবুজ, তেমনি ঘন।
মালিরা সেই মতো রাজার কাছে আবেদন করেছিলো,
চারাদের ভাগ করা হোক।
ভালো চারারা যেন একটু আলাদা হয় বাকিদের থেকে,
দুর্বল চারাদের অপুষ্টির কারণ খুঁজে সেই মতো প্রতিষেধক দেওয়া হোক।
রাজামশাইয়ের সেই এক উত্তর।
সব গাছ সমান ।
যা দেওয়া হচ্ছে, সবাইকে দাও।
কে ভালো আর কে ধুঁকছে দেখা তোমাদের কাজ না।
বেশ কিছু চারা পোকার আক্রমণে বিপর্যস্ত,
চিকিৎসা না করলে নির্ঘাত তারা বৃক্ষ হবে না।
ওদের আলাদা ওষুধ দিলে হয়তো ভালো হয়ে যেতো ।
রাজামশাই দিতে দিলেন না।
নির্দিষ্ট দিনে ঘোষণা হোল,
গাছেরা অরণ্যে যাওয়ার মতো বড় হয়ে গেছে।
অমনি ধনী ব্যবসায়ীরা এসে তাদের ব্যক্তিগত উদ্যানের জন্য বর্ধিষ্ণু চারাদের কিনে নিলো,
বেশ কিছু চালান গেলো বিদেশেও ।
রাজা টুঁ শব্দটি করলেন না।
শেষ অবধি যে কটা চারা পড়ে রইলো,
তাদের প্রত্যেকেরই আরো পরিচর্যা দরকার।
মালিরা হাতজোড় করে বললো,
‘মহারাজ যদি কিছুদিন এদের রক্ষণাবেক্ষণ করেন,
তাহলে এরাই একদিন মহীরূহ হবে’
রাজামশাই চোখ পাকিয়ে বললেন
‘এতদিন বড় করে দিয়েছি,
এবার ওদের ব্যবস্থা ওদের নিজেই করতে হবে।
মাটিতে পুঁতে দাও গে!’
সেই মতো পোঁতা হলো।
সেই দেশে গেলে দেখবে,
দু চারটে বৃক্ষের মাঝে অসংখ্য ছোটো বড় মৃত গাছের সারি।
ধনী ব্যবসায়ীদের মালিকানায়
এখন সেই দেশের সমস্ত অরণ্য।
রাজামশাই অবশ্য দিব্যি আছেন ।
এই বছর ভাষণেও উনি বনসৃজনের কথা ঘোষণা করেছেন।
নাগরিকেরা তাঁকে ভোট দিয়ে চলে সেই স্বপ্নের অরণ্যের জন্য।
আর্যতীর্থ
*********************
।আপাতত।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৩.৭.২০২১।
ভালোবাসি সেটা আমি বলতে পারিনা।
এ যেন বীজমন্ত্র, প্রকাশ্যে উচ্চারণ হলে নিষ্ফলা হবে,
অথবা মগজে লুকিয়ে রাখা যুদ্ধকালীন টপসিক্রেট,
নির্দিষ্ট সময়ে শুধুমাত্র কমান্ডারের নজরে আনবো
এবং সেটা একবারই।
শত্রুরা জেনে গেলে বিপদ ভীষণ,
জেনে নিতে আড়ি পাতে চারদিকে শত বিভীষণ।
বেঁকা হেসে উপহাসে বলতেই পারো , ‘ছাই!
আসলে কিছুই নেই, মৌনতা সর্বদা সম্মতি নয়,
শূন্যতা ঢেকে রাখা পর্দাবিশেষ।
বাকি সব কিছু বলো,
সাপ ব্যাঙ পৃথিবীতে ঘটছে কোথায়,
বদনাম নেই কোনো মিতভাষী বলে।
শুধু ভালোবাসি বলতেই জ্বর যদি গায়ে,
বাসো কিনা বুঝে নেবো কিভাবে তাহলে?
সত্যি কি শব্দের প্রয়োজন?
জানাতেই হবে মন ঠোঁট জিভ কন্ঠের যৌথপ্রয়াসে?
মনে রেখো,
মিথ্যাও বলে ওরা ভারী অনায়াসে।
সেভাবে দেখলে তাই উচ্চারণের দর তত উঁচু নয়,
আমরাই ডেকে হেঁকে নিলামে চড়িয়ে তাকে
টঙে তুলে দিই,
যেন প্রেম হয়ে গেলে চেঁচিয়ে বলতে হবে
‘ভলোবাসি - এক, ভালোবাসি-দুই..
তিন বলে ফেললেই আজীবন মালিকানা পাবো,
ডাইরিতে সেই মতো লেখা হবে বিষাদ আর সুখের হিসাবও।
আমার ডাইরি জুড়ে আপাতত একটাই নাম,
জানো সেটা কার।
আপাতত- কথাটা আপত্তিকর,
এক্ষুণি সেটা বলে বসবে তা জানি।
তবু ভেবে দেখো,
পৃথিবীর সব ভালোবাসা শুধু আজ নিয়ে বাঁচে,
আগামী অজানা দেশ , অতীত স্মৃতির স্থান,
দুটোতেই তুমি ঠিক আজকের তুমি নও ,
আমিও ক্রমাণ্বয়ে হচ্ছি বদল।
কালকে হতাশ স্মৃতি আজ যা সফল, সে ঘটনা দেখা যায় আশেপাশে কত,
সমস্ত বন্ধনে ‘আপাতত’ লেগে থাকে লেজুড়ের মতো।
ভালোবাসি হয়তো বলি না,
তবু প্রাণপণে চাই, ধারণার বিপরীতে হেঁটে যাবো এই একবার অন্তত,
রোজ প্রার্থনা থাকে , এ জীবনে আপাতত হোক শাশ্বত।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৩.৭.২০২১।
ভালোবাসি সেটা আমি বলতে পারিনা।
এ যেন বীজমন্ত্র, প্রকাশ্যে উচ্চারণ হলে নিষ্ফলা হবে,
অথবা মগজে লুকিয়ে রাখা যুদ্ধকালীন টপসিক্রেট,
নির্দিষ্ট সময়ে শুধুমাত্র কমান্ডারের নজরে আনবো
এবং সেটা একবারই।
শত্রুরা জেনে গেলে বিপদ ভীষণ,
জেনে নিতে আড়ি পাতে চারদিকে শত বিভীষণ।
বেঁকা হেসে উপহাসে বলতেই পারো , ‘ছাই!
আসলে কিছুই নেই, মৌনতা সর্বদা সম্মতি নয়,
শূন্যতা ঢেকে রাখা পর্দাবিশেষ।
বাকি সব কিছু বলো,
সাপ ব্যাঙ পৃথিবীতে ঘটছে কোথায়,
বদনাম নেই কোনো মিতভাষী বলে।
শুধু ভালোবাসি বলতেই জ্বর যদি গায়ে,
বাসো কিনা বুঝে নেবো কিভাবে তাহলে?
সত্যি কি শব্দের প্রয়োজন?
জানাতেই হবে মন ঠোঁট জিভ কন্ঠের যৌথপ্রয়াসে?
মনে রেখো,
মিথ্যাও বলে ওরা ভারী অনায়াসে।
সেভাবে দেখলে তাই উচ্চারণের দর তত উঁচু নয়,
আমরাই ডেকে হেঁকে নিলামে চড়িয়ে তাকে
টঙে তুলে দিই,
যেন প্রেম হয়ে গেলে চেঁচিয়ে বলতে হবে
‘ভলোবাসি - এক, ভালোবাসি-দুই..
তিন বলে ফেললেই আজীবন মালিকানা পাবো,
ডাইরিতে সেই মতো লেখা হবে বিষাদ আর সুখের হিসাবও।
আমার ডাইরি জুড়ে আপাতত একটাই নাম,
জানো সেটা কার।
আপাতত- কথাটা আপত্তিকর,
এক্ষুণি সেটা বলে বসবে তা জানি।
তবু ভেবে দেখো,
পৃথিবীর সব ভালোবাসা শুধু আজ নিয়ে বাঁচে,
আগামী অজানা দেশ , অতীত স্মৃতির স্থান,
দুটোতেই তুমি ঠিক আজকের তুমি নও ,
আমিও ক্রমাণ্বয়ে হচ্ছি বদল।
কালকে হতাশ স্মৃতি আজ যা সফল, সে ঘটনা দেখা যায় আশেপাশে কত,
সমস্ত বন্ধনে ‘আপাতত’ লেগে থাকে লেজুড়ের মতো।
ভালোবাসি হয়তো বলি না,
তবু প্রাণপণে চাই, ধারণার বিপরীতে হেঁটে যাবো এই একবার অন্তত,
রোজ প্রার্থনা থাকে , এ জীবনে আপাতত হোক শাশ্বত।
আর্যতীর্থ
*********************
। মিথ্যের মিথ।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৩.৭.২০২১ সন্ধ্যা, মিলনসাগরে প্রকাশ ২৪.৭.২০২১ সকাল।
একদিন যদি হঠাৎ করে পৃথিবীর থেকে মিথ্যে মুছে যায়,
মুহূর্তে ধ্বজভঙ্গ ঘটবে সমস্ত বিজ্ঞাপনের।
রাজনৈতিক বক্তা এবং ধর্মপ্রচারকদের
বাকি আয়ু মুখে কুলুপ এঁটে কাটাতে হবে,
অন্তত তিন চতুর্থাংশ প্রেমের মৃত্যু ঘটবে তৎক্ষণাৎ।
দুম করে অমন একটা সব্বোনাশ ঘটে গেলে,
বিশ্বের সবকটা রাষ্ট্রযন্ত্রের জ্বালানি খতম হয়ে যাবে।
শাসকের স্বার্থহীন দেশপ্রেম যে একটা কুৎসিৎ অক্সিমোরন,
সেই সত্যিটা বেআব্রু হয়ে গেলে,
গণ, সমাজ রাজ বা ধর্ম, সমস্ত তন্ত্রের বাজনদারেরা সুরের খেই হারিয়ে ফেলবেন,
নাগরিকের স্বপ্নের বেলুনে হাইড্রোজেন হিলিয়াম কিছুই ঢুকবে না,
প্রচারের দোকানগুলো ঝাঁপ বন্ধ করে স্থায়ী লকআউটে যাবে।
মিথ্যে মুছে গেলে
শেয়ার বাজারের ওঠাপড়া জলের মতো বোধগম্য হবে,
নব্বই শতাংশ উকিল এবং একশো শতাংশ জ্যোতিষীরা বেকার হয়ে যাবেন।
কূটনৈতিক বলে পেশাটার অস্তিত্ব বিপন্ন হবে,
বস্তুত, কূটনীতি কথাটাই হয়তো অভিধান থেকে উধাও করে দিতে হবে।
এসবের থেকেও বিপজ্জনক সম্ভাবনা,
চেপে রাখা মন্দ আবেগগুলো
তাদের গোপন আস্তানা থেকে বেরিয়ে
হড়পা বানের মতো এমন লক্ষ লক্ষ মানুষের সেতু ভাসিয়ে দিতে পারে,
যারা ছোটো মাঝারি ও বড় মিথ্যের ওপর টিকে আছে।
বরং ভাবতে হবে,
খাদহীন সত্যের প্রয়োজন আছে কিনা মানুষের কাছে।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৩.৭.২০২১ সন্ধ্যা, মিলনসাগরে প্রকাশ ২৪.৭.২০২১ সকাল।
একদিন যদি হঠাৎ করে পৃথিবীর থেকে মিথ্যে মুছে যায়,
মুহূর্তে ধ্বজভঙ্গ ঘটবে সমস্ত বিজ্ঞাপনের।
রাজনৈতিক বক্তা এবং ধর্মপ্রচারকদের
বাকি আয়ু মুখে কুলুপ এঁটে কাটাতে হবে,
অন্তত তিন চতুর্থাংশ প্রেমের মৃত্যু ঘটবে তৎক্ষণাৎ।
দুম করে অমন একটা সব্বোনাশ ঘটে গেলে,
বিশ্বের সবকটা রাষ্ট্রযন্ত্রের জ্বালানি খতম হয়ে যাবে।
শাসকের স্বার্থহীন দেশপ্রেম যে একটা কুৎসিৎ অক্সিমোরন,
সেই সত্যিটা বেআব্রু হয়ে গেলে,
গণ, সমাজ রাজ বা ধর্ম, সমস্ত তন্ত্রের বাজনদারেরা সুরের খেই হারিয়ে ফেলবেন,
নাগরিকের স্বপ্নের বেলুনে হাইড্রোজেন হিলিয়াম কিছুই ঢুকবে না,
প্রচারের দোকানগুলো ঝাঁপ বন্ধ করে স্থায়ী লকআউটে যাবে।
মিথ্যে মুছে গেলে
শেয়ার বাজারের ওঠাপড়া জলের মতো বোধগম্য হবে,
নব্বই শতাংশ উকিল এবং একশো শতাংশ জ্যোতিষীরা বেকার হয়ে যাবেন।
কূটনৈতিক বলে পেশাটার অস্তিত্ব বিপন্ন হবে,
বস্তুত, কূটনীতি কথাটাই হয়তো অভিধান থেকে উধাও করে দিতে হবে।
এসবের থেকেও বিপজ্জনক সম্ভাবনা,
চেপে রাখা মন্দ আবেগগুলো
তাদের গোপন আস্তানা থেকে বেরিয়ে
হড়পা বানের মতো এমন লক্ষ লক্ষ মানুষের সেতু ভাসিয়ে দিতে পারে,
যারা ছোটো মাঝারি ও বড় মিথ্যের ওপর টিকে আছে।
বরং ভাবতে হবে,
খাদহীন সত্যের প্রয়োজন আছে কিনা মানুষের কাছে।
আর্যতীর্থ
*********************
। অ-কারণ।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৪.৭.২০২১।
অক্সিজেনের অফ সিজনে মরলো কিছু মানুষজন,
রাজামশাই দিলেন বলে , মোটেই সেটা নয় কারণ।
গ্যারান্টি কই বাঁচতো ওরা লাগিয়ে দিলে অক্সিজেন?
ভাগ্যে ওদের মরাই ছিলো, অক্সি তো স্রেফ প্রক্সি দেন।
সবাই জানে , বাতাস জুড়ে অক্সিজেনের রমরমা,
শ্বাস টানলেই হুস করে তা ফুসফুসময় হয় জমা।
সামান্য এই সহজ কাজই পারলো না যেই বোকার দল
মরাই তাদের ঠিক হয়েছে, যেমন কর্ম তেমনি ফল।
কিছু লোকে ঠ্যাঁটার মতো সহজ ব্যাখ্যা বুঝছে না,
দেশদ্রোহের কায়দা এসব রাজার লোকের খুব চেনা।
যা কিছু হয় সবকিছুতেই দেখবে ওরা রাজার দোষ,
এমন ব্যাপক হ্যাটা করে , নাম যেন তাঁর নন্দ ঘোষ।
বিশ্ব মাঝে এ দেশ সেরা পিটছে ঢেঁড়া সবদিকে,
দেশপ্রেমের কোরাস ধুয়োয় বাকি সবার রব ফিকে
সব বরাহ বলছে তবু সরবরাহ কম নাকি,
অক্সিজেনের অভাব হয়েই বেরিয়ে গেছে দম বাকি।
পোস্টমর্টেম বললো কোথাও অক্সিবিহীন মরলো কেউ?
শবের সাথে প্রমাণগুলোও সব নিয়েছে নদীর ঢেউ।
প্রমাণ যদি না থাকে তো দোষটা কেন দাও শুনি?
পেয়াদা ওই তৈরি আছে, ডাকবো নাকি এক্ষুণি?
তোমরা যারা ভাবছো কেন হুড়োতাড়ায় অক্সি প্ল্যান্ট,
তলিয়ে তারা ভাবছো না কেউ, ভীষণ বোকা ইগনোরান্ট।
ওসব ছিলো আগে থেকেই নিখুঁত পরিকল্পনায়,
হিংসুটে আর দুষ্টুরা ঝাল মশলা ঢালে গল্পটায়।
পাঁচ হাজারের সিলিন্ডারের উঠলো যে দাম চল্লিশে,
সবই গুজব, মন্দলোকের গুলের যত জল মিশে।
অক্সিজেনের অভাব হওয়ার গল্পগুলো সব ঝুটো
শুনলে দিও কানে আঙুল, পড়লে বোজো চোখদুটো।
গঙ্গা বেয়ে শবের সারি? ধ্যাত্তেরি, ও খড়কুটো…
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৪.৭.২০২১।
অক্সিজেনের অফ সিজনে মরলো কিছু মানুষজন,
রাজামশাই দিলেন বলে , মোটেই সেটা নয় কারণ।
গ্যারান্টি কই বাঁচতো ওরা লাগিয়ে দিলে অক্সিজেন?
ভাগ্যে ওদের মরাই ছিলো, অক্সি তো স্রেফ প্রক্সি দেন।
সবাই জানে , বাতাস জুড়ে অক্সিজেনের রমরমা,
শ্বাস টানলেই হুস করে তা ফুসফুসময় হয় জমা।
সামান্য এই সহজ কাজই পারলো না যেই বোকার দল
মরাই তাদের ঠিক হয়েছে, যেমন কর্ম তেমনি ফল।
কিছু লোকে ঠ্যাঁটার মতো সহজ ব্যাখ্যা বুঝছে না,
দেশদ্রোহের কায়দা এসব রাজার লোকের খুব চেনা।
যা কিছু হয় সবকিছুতেই দেখবে ওরা রাজার দোষ,
এমন ব্যাপক হ্যাটা করে , নাম যেন তাঁর নন্দ ঘোষ।
বিশ্ব মাঝে এ দেশ সেরা পিটছে ঢেঁড়া সবদিকে,
দেশপ্রেমের কোরাস ধুয়োয় বাকি সবার রব ফিকে
সব বরাহ বলছে তবু সরবরাহ কম নাকি,
অক্সিজেনের অভাব হয়েই বেরিয়ে গেছে দম বাকি।
পোস্টমর্টেম বললো কোথাও অক্সিবিহীন মরলো কেউ?
শবের সাথে প্রমাণগুলোও সব নিয়েছে নদীর ঢেউ।
প্রমাণ যদি না থাকে তো দোষটা কেন দাও শুনি?
পেয়াদা ওই তৈরি আছে, ডাকবো নাকি এক্ষুণি?
তোমরা যারা ভাবছো কেন হুড়োতাড়ায় অক্সি প্ল্যান্ট,
তলিয়ে তারা ভাবছো না কেউ, ভীষণ বোকা ইগনোরান্ট।
ওসব ছিলো আগে থেকেই নিখুঁত পরিকল্পনায়,
হিংসুটে আর দুষ্টুরা ঝাল মশলা ঢালে গল্পটায়।
পাঁচ হাজারের সিলিন্ডারের উঠলো যে দাম চল্লিশে,
সবই গুজব, মন্দলোকের গুলের যত জল মিশে।
অক্সিজেনের অভাব হওয়ার গল্পগুলো সব ঝুটো
শুনলে দিও কানে আঙুল, পড়লে বোজো চোখদুটো।
গঙ্গা বেয়ে শবের সারি? ধ্যাত্তেরি, ও খড়কুটো…
আর্যতীর্থ
*********************
। রান্না।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৪.৭.২০২১ সন্ধ্যা।
শিক্ষায় চিরকালই শাসকের কুন্ঠা, একবার জ্বেলে দিলে জ্ঞানের উনুনটা,
রাঁধবে যে কী সেটা বোঝা বড় শক্ত, চোখে চোখ রাখে কাল আজকে যে ভক্ত,
পাখি পড়া করে তাকে যে মশলা শেখানো, বুদ্ধিতে ধোঁয়া গেলে মুশকিল টেকানো,
যত বলো ঝাঁঝ হবে ধর্মের তড়কায়, ভিন্ন রকম স্বাদ হালালে ও ঝটকায়,
ওষ্ঠ উল্টে বলে শিক্ষিত রাঁধুনি, মানুষকে বাদ দিলে সবই লাগে আলুনি।
যে খানা পাকানো হয় রাষ্ট্রের কিচেনে, ভাষা জাতি বর্ণের নানাবিধ ভিয়েনে,
সেখানে শিক্ষা ভারী বেয়াদপ খুন্তি, অন্ধ স্তাবক পালে কমে যায় গুনতি,
শেখালেও শিখবে না ঘৃণা আঁচে ভাপানো, ভালোবাসা ঢেলে বলে আরো পাঁচ কাপ আনো,
কেটে নিতে যেই বলে বিভাজন ছুরিতে, মানুষকে ওরা গোটা রেখে দেয় ঝুড়িতে,
কাবাব করতে যদি হিংসার শিক চায়, কিছুতে না পোড়ে যেন তাই দেখে শিক্ষায়।
সুতরাং বড়জোর সাক্ষরই লক্ষ্য, রাষ্ট্রের সাথে নেই শিক্ষার সখ্য,
সাক্ষর যেই ক্রমে স্বাক্ষরে বদলায়, চোখ থেকে পটি খুলে নাগরিক হক চায়।
খুব কষে আঁটা চাই শাসনের বাঁধুনি, ফস্কা গেরোতে বাঁধে শিক্ষিত রাঁধুনি,
শিক্ষার ভ্রমে রাখো ঢেলে দিয়ে নম্বর, না শিখিয়ে ছোটো থেকে ভিত করো কমজোর,
পাশ করা লোক যেন দেশে হয় বাড়তি, নম্বরে চাপা পড়ে শিক্ষার আর্তি,
সত্যিই শিক্ষিত করে দিলে লোককে, মানুষের থেকে নেই রাষ্ট্রের রক্ষে।
উসকিয়ে দিয়ে তাই নম্বরি ঝোঁককে, শাসকেরা বেঁধে রাখে ভাবনার চোখকে।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৪.৭.২০২১ সন্ধ্যা।
শিক্ষায় চিরকালই শাসকের কুন্ঠা, একবার জ্বেলে দিলে জ্ঞানের উনুনটা,
রাঁধবে যে কী সেটা বোঝা বড় শক্ত, চোখে চোখ রাখে কাল আজকে যে ভক্ত,
পাখি পড়া করে তাকে যে মশলা শেখানো, বুদ্ধিতে ধোঁয়া গেলে মুশকিল টেকানো,
যত বলো ঝাঁঝ হবে ধর্মের তড়কায়, ভিন্ন রকম স্বাদ হালালে ও ঝটকায়,
ওষ্ঠ উল্টে বলে শিক্ষিত রাঁধুনি, মানুষকে বাদ দিলে সবই লাগে আলুনি।
যে খানা পাকানো হয় রাষ্ট্রের কিচেনে, ভাষা জাতি বর্ণের নানাবিধ ভিয়েনে,
সেখানে শিক্ষা ভারী বেয়াদপ খুন্তি, অন্ধ স্তাবক পালে কমে যায় গুনতি,
শেখালেও শিখবে না ঘৃণা আঁচে ভাপানো, ভালোবাসা ঢেলে বলে আরো পাঁচ কাপ আনো,
কেটে নিতে যেই বলে বিভাজন ছুরিতে, মানুষকে ওরা গোটা রেখে দেয় ঝুড়িতে,
কাবাব করতে যদি হিংসার শিক চায়, কিছুতে না পোড়ে যেন তাই দেখে শিক্ষায়।
সুতরাং বড়জোর সাক্ষরই লক্ষ্য, রাষ্ট্রের সাথে নেই শিক্ষার সখ্য,
সাক্ষর যেই ক্রমে স্বাক্ষরে বদলায়, চোখ থেকে পটি খুলে নাগরিক হক চায়।
খুব কষে আঁটা চাই শাসনের বাঁধুনি, ফস্কা গেরোতে বাঁধে শিক্ষিত রাঁধুনি,
শিক্ষার ভ্রমে রাখো ঢেলে দিয়ে নম্বর, না শিখিয়ে ছোটো থেকে ভিত করো কমজোর,
পাশ করা লোক যেন দেশে হয় বাড়তি, নম্বরে চাপা পড়ে শিক্ষার আর্তি,
সত্যিই শিক্ষিত করে দিলে লোককে, মানুষের থেকে নেই রাষ্ট্রের রক্ষে।
উসকিয়ে দিয়ে তাই নম্বরি ঝোঁককে, শাসকেরা বেঁধে রাখে ভাবনার চোখকে।
আর্যতীর্থ
*********************
