কবি আর্যতীর্থর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
। সেকেলে।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৬.৭.২০২১।
একটা যদি শিক্ষা বলো পেলাম যেটা কোভিডকালে,
বলবো আমি, ডাক্তারিটা যায় না করা ভার্চুয়ালে।
রোগীর কথা সামনে শোনা, ছুঁয়ে দেখা গলদ কোথায়,
আজও রাখি স্রোতের আশা সেই সেকেলে মরাসোঁতায়।
রোগী ঘরে ঢোকার থেকে ঘরের থেকে যখন বেরোন,
পুরো সময় ডাক্তারি মন খুঁজতে থাকে রোগের কারণ।
সেরেফ কিছু সওয়াল জবাব এদিক ওদিক দুটো স্ক্রিনে,
হাতে গরম প্রেসক্রিপশন অমনি পাবে প্রিন্টমেশিনে,
বিজ্ঞাপনের হিসেব মতন চমকটা বেশ চটকদারও ,
এগোচ্ছে দেশ ডিজিটালে, এই কথাটাও ভাবতে পারো,
কিন্তু জেনো ডাক্তারিতে ওষুধ দিলেই হয়না সফল,
গুগল তোমায় বলতে পারে ওসব ওষুধ ঠিক অবিকল,
কিংবা পাড়ার ওষুধ দোকান, চেনা বাবাই স্বপন বাপি
বাতলে দেবে বললে গিয়ে, ফি’জও দেওয়ার নেই যে পাপই।
চোখের সাথে চোখ মিলিয়ে ভরসা দেওয়া আছি পাশেই,
অনলাইনের ওপার থেকে ওষুধ বলায় এটাই যে নেই।
চেনা হলে চলবে তবু, সেতু যখন তৈরি আগে,
প্রথম দেখাই ভারচুয়ালে হলে কেমন আজব লাগে।
একই রোগের ভুক্তভোগীর সূক্ষ্ম অনেক ফারাক থাকে,
চেষ্টা করেও পেস্ট কপিতে যায়না টোকা চিকিৎসাকে।
রোগীর শরীর ছুঁয়ে শুনে যা বোঝা যায় অভিজ্ঞতায়
হয়না সেটার পূরণ হাজার টেস্ট করানোর চালু প্রথায়।
আজও রাখি স্রোতের আশা, সেই সেকেলে মরাসোঁতায়।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৬.৭.২০২১।
একটা যদি শিক্ষা বলো পেলাম যেটা কোভিডকালে,
বলবো আমি, ডাক্তারিটা যায় না করা ভার্চুয়ালে।
রোগীর কথা সামনে শোনা, ছুঁয়ে দেখা গলদ কোথায়,
আজও রাখি স্রোতের আশা সেই সেকেলে মরাসোঁতায়।
রোগী ঘরে ঢোকার থেকে ঘরের থেকে যখন বেরোন,
পুরো সময় ডাক্তারি মন খুঁজতে থাকে রোগের কারণ।
সেরেফ কিছু সওয়াল জবাব এদিক ওদিক দুটো স্ক্রিনে,
হাতে গরম প্রেসক্রিপশন অমনি পাবে প্রিন্টমেশিনে,
বিজ্ঞাপনের হিসেব মতন চমকটা বেশ চটকদারও ,
এগোচ্ছে দেশ ডিজিটালে, এই কথাটাও ভাবতে পারো,
কিন্তু জেনো ডাক্তারিতে ওষুধ দিলেই হয়না সফল,
গুগল তোমায় বলতে পারে ওসব ওষুধ ঠিক অবিকল,
কিংবা পাড়ার ওষুধ দোকান, চেনা বাবাই স্বপন বাপি
বাতলে দেবে বললে গিয়ে, ফি’জও দেওয়ার নেই যে পাপই।
চোখের সাথে চোখ মিলিয়ে ভরসা দেওয়া আছি পাশেই,
অনলাইনের ওপার থেকে ওষুধ বলায় এটাই যে নেই।
চেনা হলে চলবে তবু, সেতু যখন তৈরি আগে,
প্রথম দেখাই ভারচুয়ালে হলে কেমন আজব লাগে।
একই রোগের ভুক্তভোগীর সূক্ষ্ম অনেক ফারাক থাকে,
চেষ্টা করেও পেস্ট কপিতে যায়না টোকা চিকিৎসাকে।
রোগীর শরীর ছুঁয়ে শুনে যা বোঝা যায় অভিজ্ঞতায়
হয়না সেটার পূরণ হাজার টেস্ট করানোর চালু প্রথায়।
আজও রাখি স্রোতের আশা, সেই সেকেলে মরাসোঁতায়।
আর্যতীর্থ
*********************
। বড়রা শুনবেন।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৬.৭.২০২১।
মাসিমা ও মেসোমশাইগণ,
থুড়ি থুড়ি ,কাকু ও কাকিমারা,
এক্সট্রিমলি সরি, এক্সকিউজ মি, আঙ্কলস অ্যান্ড আন্টিস,
আমরা, মানে ক্লাস দশ আর বারো
দুহাজার একুশে দিলাম যারা,
আপনাদের কিছু বলতে চাই।
ইমপর্টান্ট, সো লিসন টু দিস, প্লিজ।
উই ডিডন’ট চুজ কোভিড।
না, আমরা বাছিনি অতিমারীকে,
আপনাদের মতো আমরাও জ্বরের ভয়ে ঘরের ভেতরে কেঁপেছি।
আচমকা স্কুল যাওয়া ছেড়ে
মোবাইলে ক্লাস করা নিতে হলো শিখে,
মা বাবার হাসিমুখ ক্রমশ বিষণ্ণ হতে আমরা বাড়িতে বসে দেখেছি।
আমাদের হাতে শুধু পড়াশোনা ছিলো,
কিভাবে চলবে সেটা নয়।
ভোটের প্রচার চালু, অথচ বন্ধ স্কুল,
এ নিয়ম করেছেন বড়দেরই সরকার,
আমাদের মতামত কেউ চায়নি।
টিচারদেরও কেউ জিজ্ঞেস করেননি
কি করলে ঠিক হয়,
উই ওয়্যার জাস্ট টোল্ড টু ফলো।
‘এটা অতিমারী, সকলের ঘরে থাকা দরকার।’
আপনারা সান্ত্বনা দেবেন, অনলাইন ক্লাস চালু ছিলো।
প্লিজ ভাবুন, রিমেমবার ইয়োর স্কুল ডে’জ,
শুধু কি পড়াশোনার জন্য স্কুল?
বন্ধুত্ব, খেলাধুলা, খুনসুটি, টিনএজ লাভ,সব, সব ওখানে
আমাদের পুরো কৈশোরকাল ঘরের ভেতরে শেষ হয়ে গেলো,
নেভার টু রিটার্ন উই গেস,
মেমরিজ বলতে কী থাকলো বলুন তো?
নেক্সজেন বুঝবে কি স্কুল ডে’জ মানে?
এটা ওয়ার। ভীষণ যুদ্ধ।
অ্যান্ড লাইক অল ওয়ারস, চিলড্রেন আর অন দি লুজিং সাইড।
কারোর বাবা মা নেই, থাকলেও রোজগারে টান,
জ্বর খায় ছোটোবেলা আজ সব ঘরে,
আমরা কোথায় যাবো, কোথায় পালাবো, দেয়ার ইজ অ্যাবসোলিউটলি নো হোয়্যার টু হাইড,
ভারচুয়ালের এই শিক্ষার বোঝা নিয়ে
রিয়েল ওয়ার্লডে গিয়ে লড়বো কি করে?
এত কিছু হারিয়ে ফেলেছি, ফেলছি ও ফেলবো আগামী সময়ে।
উই আর ইন আ আনচার্টার্ড লেন,
হুইচ ইজ ডার্ক অ্যান্ড ডেঞ্জারাজ টু।
পরীক্ষা ছাড়া এই মার্কশিটয়ের সুবিধাটা এর সাথে পুওরেস্ট বার্গেন।
আঙ্কলস অ্যান্ড আন্টিস,
এক্সামলেস রেজাল্ট নিয়ে মিম করবার আগে,
প্লিজ এই কথাগুলো ভেবে দেখবেন।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৬.৭.২০২১।
মাসিমা ও মেসোমশাইগণ,
থুড়ি থুড়ি ,কাকু ও কাকিমারা,
এক্সট্রিমলি সরি, এক্সকিউজ মি, আঙ্কলস অ্যান্ড আন্টিস,
আমরা, মানে ক্লাস দশ আর বারো
দুহাজার একুশে দিলাম যারা,
আপনাদের কিছু বলতে চাই।
ইমপর্টান্ট, সো লিসন টু দিস, প্লিজ।
উই ডিডন’ট চুজ কোভিড।
না, আমরা বাছিনি অতিমারীকে,
আপনাদের মতো আমরাও জ্বরের ভয়ে ঘরের ভেতরে কেঁপেছি।
আচমকা স্কুল যাওয়া ছেড়ে
মোবাইলে ক্লাস করা নিতে হলো শিখে,
মা বাবার হাসিমুখ ক্রমশ বিষণ্ণ হতে আমরা বাড়িতে বসে দেখেছি।
আমাদের হাতে শুধু পড়াশোনা ছিলো,
কিভাবে চলবে সেটা নয়।
ভোটের প্রচার চালু, অথচ বন্ধ স্কুল,
এ নিয়ম করেছেন বড়দেরই সরকার,
আমাদের মতামত কেউ চায়নি।
টিচারদেরও কেউ জিজ্ঞেস করেননি
কি করলে ঠিক হয়,
উই ওয়্যার জাস্ট টোল্ড টু ফলো।
‘এটা অতিমারী, সকলের ঘরে থাকা দরকার।’
আপনারা সান্ত্বনা দেবেন, অনলাইন ক্লাস চালু ছিলো।
প্লিজ ভাবুন, রিমেমবার ইয়োর স্কুল ডে’জ,
শুধু কি পড়াশোনার জন্য স্কুল?
বন্ধুত্ব, খেলাধুলা, খুনসুটি, টিনএজ লাভ,সব, সব ওখানে
আমাদের পুরো কৈশোরকাল ঘরের ভেতরে শেষ হয়ে গেলো,
নেভার টু রিটার্ন উই গেস,
মেমরিজ বলতে কী থাকলো বলুন তো?
নেক্সজেন বুঝবে কি স্কুল ডে’জ মানে?
এটা ওয়ার। ভীষণ যুদ্ধ।
অ্যান্ড লাইক অল ওয়ারস, চিলড্রেন আর অন দি লুজিং সাইড।
কারোর বাবা মা নেই, থাকলেও রোজগারে টান,
জ্বর খায় ছোটোবেলা আজ সব ঘরে,
আমরা কোথায় যাবো, কোথায় পালাবো, দেয়ার ইজ অ্যাবসোলিউটলি নো হোয়্যার টু হাইড,
ভারচুয়ালের এই শিক্ষার বোঝা নিয়ে
রিয়েল ওয়ার্লডে গিয়ে লড়বো কি করে?
এত কিছু হারিয়ে ফেলেছি, ফেলছি ও ফেলবো আগামী সময়ে।
উই আর ইন আ আনচার্টার্ড লেন,
হুইচ ইজ ডার্ক অ্যান্ড ডেঞ্জারাজ টু।
পরীক্ষা ছাড়া এই মার্কশিটয়ের সুবিধাটা এর সাথে পুওরেস্ট বার্গেন।
আঙ্কলস অ্যান্ড আন্টিস,
এক্সামলেস রেজাল্ট নিয়ে মিম করবার আগে,
প্লিজ এই কথাগুলো ভেবে দেখবেন।
আর্যতীর্থ
*********************
। অনামিকা।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৭.৭.২০২১।
চারটে দশক আগের স্মৃতি, আয়না তবু বায়না ধরে,
কিশোরবেলার সড়ক খুঁজে হাঁটতে যেতে তার ভেতরে।
ফিরতে বলে ক্লাস নাইনের বেড়া বেণীর ঝিলিক চোখে,
ফ্রক পরা মেয়ে বললো ছাদে নিচে খেতে ডাকছে তোকে,
নাম জানি না, ধাম জানি না, হঠাৎ করে তুইতোকারি,
যাবো না যা, ধমক দিতাম, কিন্তু ওটা পিসির বাড়ি,
তার ওপরে অচিন দু চোখ বাণ মেরেছে সটান বুকে,
যাচ্ছি বলি ইশারাতেই, আটকে কথা অসাড় মুখে।
কে মেয়েটা, কে মেয়েটা, ভাবতে ভাবতে কাটছে সময়
প্রথম দেখায় তুই বলে যে , কাল্টিভেট কি না করলে হয়?
কিন্তু কোথায়, নিচে তো নেই, অনেক লোকের খাওয়ার ভিড়ে,
এদিক ওদিক দেখতে দেখে পিসি বলে খুঁজিস কী রে?
কিচ্ছু না তো, বলেই দেখি, ওই তো ঢোকে সেই কিশোরী,
স্নান করেছে, পিঠ ঢাকা চুল, সিঁড়ি বেয়ে নামলো পরী।
আমার দিকে সটান চেয়ে আলতো হেসে পাশ কাটিয়ে,
চলে গেলো অন্য ঘরে, একটুও না পাত্তা দিয়ে।
সেসব সময় মোবাইলবিহীন, মা পিসিদের নজর কড়া,
ঘুণাক্ষরেও টের পেলে কেউ লাল হতো ঠিক কানের গোড়া।
পিসির কেমন আত্মীয় হয়, সেইটুকুনি পেলাম খবর,
ইচ্ছে ছিলো দেখতে পেলে করবো জিগেস নাম কী রে তোর?
দেখতে পেলাম যাওয়ার সময়, হাসলো আবার সটান চেয়ে,
ছাড়লো গাড়ি, হঠাৎ দেখি টা টা করে আমায় সে মেয়ে।
চারটে দশক পেরিয়ে গেছে, কিশোর এখন বুড়োর দলে,
নাম না জানা সে স্বর জেগে লাখো স্মৃতির কোলাহলে।
চোখ বুজলেই ছাদ পিসিদের, বয়েস পেছায় অনেক পিছে
বেড়া বেণী, ফ্রক পরা মেয়ে বলছে ‘তোকে ডাকছে নিচে’।
গল্পটা আর এগোতো কি, আজকে বেকার ভাবনা মিছে..
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৭.৭.২০২১।
চারটে দশক আগের স্মৃতি, আয়না তবু বায়না ধরে,
কিশোরবেলার সড়ক খুঁজে হাঁটতে যেতে তার ভেতরে।
ফিরতে বলে ক্লাস নাইনের বেড়া বেণীর ঝিলিক চোখে,
ফ্রক পরা মেয়ে বললো ছাদে নিচে খেতে ডাকছে তোকে,
নাম জানি না, ধাম জানি না, হঠাৎ করে তুইতোকারি,
যাবো না যা, ধমক দিতাম, কিন্তু ওটা পিসির বাড়ি,
তার ওপরে অচিন দু চোখ বাণ মেরেছে সটান বুকে,
যাচ্ছি বলি ইশারাতেই, আটকে কথা অসাড় মুখে।
কে মেয়েটা, কে মেয়েটা, ভাবতে ভাবতে কাটছে সময়
প্রথম দেখায় তুই বলে যে , কাল্টিভেট কি না করলে হয়?
কিন্তু কোথায়, নিচে তো নেই, অনেক লোকের খাওয়ার ভিড়ে,
এদিক ওদিক দেখতে দেখে পিসি বলে খুঁজিস কী রে?
কিচ্ছু না তো, বলেই দেখি, ওই তো ঢোকে সেই কিশোরী,
স্নান করেছে, পিঠ ঢাকা চুল, সিঁড়ি বেয়ে নামলো পরী।
আমার দিকে সটান চেয়ে আলতো হেসে পাশ কাটিয়ে,
চলে গেলো অন্য ঘরে, একটুও না পাত্তা দিয়ে।
সেসব সময় মোবাইলবিহীন, মা পিসিদের নজর কড়া,
ঘুণাক্ষরেও টের পেলে কেউ লাল হতো ঠিক কানের গোড়া।
পিসির কেমন আত্মীয় হয়, সেইটুকুনি পেলাম খবর,
ইচ্ছে ছিলো দেখতে পেলে করবো জিগেস নাম কী রে তোর?
দেখতে পেলাম যাওয়ার সময়, হাসলো আবার সটান চেয়ে,
ছাড়লো গাড়ি, হঠাৎ দেখি টা টা করে আমায় সে মেয়ে।
চারটে দশক পেরিয়ে গেছে, কিশোর এখন বুড়োর দলে,
নাম না জানা সে স্বর জেগে লাখো স্মৃতির কোলাহলে।
চোখ বুজলেই ছাদ পিসিদের, বয়েস পেছায় অনেক পিছে
বেড়া বেণী, ফ্রক পরা মেয়ে বলছে ‘তোকে ডাকছে নিচে’।
গল্পটা আর এগোতো কি, আজকে বেকার ভাবনা মিছে..
আর্যতীর্থ
*********************
। কোয়াক।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৮.৭.২০২১।
আমি একজন কোয়ালিফাইড কোয়াক।
চমকাবেন না,
এই মুহূর্তে পাশ করা প্রায় সব ডাক্তার তাই,
ডিগ্রী টিগ্রি ইত্যাদি সব যতই লেখা থাক,
করতে কিন্তু কেউ পারিনা, সত্যি যেটা চাই,
যেমন সুরে গাওয়ানো হয়, তেমন করে গাই।
কোয়াক মানে যার কাছে নেই চিকিৎসকের ডিগ্রি।
সেটা যাদের আছে,
তারাও এখন বাধ্যবাধক সে জ্ঞান গিলে ফেলে,
পরিস্থিতির হুকুমমাফিক বদলিয়ে যাই শিগ্রী,
অমুক হলে সস্তা ওষুধ, তমুক হলে ঢেলে,
যুক্তি মাফিক বিশ্লেষণের সুযোগ কমই মেলে।
আমায় এখন দেখতে হবে রোগীর কেমন স্কিম।
লিস্টি সেটার লম্বা,
কেন্দ্র রাজ্য কর্মী কিনা, সাথী কিংবা আয়ুষ্মান..
অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানে হবে ঘোড়ার ডিম,
ওই বাজেটে ঠিক যেটা হয় সেটাই পাবে স্থান,
তফাৎ হটো বিজ্ঞানীমন, জায়গা অকুলান।
কিংবা আমি কর্পোরেটে, মাসামাইনেয় বাঁধা।
ব্যবসায়ীদের বশংবদ,
যেমন তাঁরা বলেন সেটা শুনে চলাই ভালো,
‘এই দুই মাস বেশ কিছু টেস্ট কম লিখেছেন দাদা’
শুনতে পেলে? আমায় এসে ওই কারা চমকালো,
জ্ঞান ফলালে চাকরি খারিজ, সঙ্গে গালাগালও।
আলগা হয়ে এসব থেকে মন দিলে প্র্যাকটিসে?
রেহাই তাতেও নেই,
এক ভিজিটেই না কমলে রোগ রোগী যাবে চলে।
গুচ্ছ খানেক টেস্ট ও ওষুধ তাই তো হিট আর মিসে,
অর্ধেকই যার অদরকারী যুক্তি দিয়ে দেখা হলে।
কিন্তু যদি সে ফাঁক দিয়ে পেশেন্টরা যায় গলে?
দেশ করেছে কোয়াক আমায়,
ডিগ্রিগুলো জিভ ভেঙিয়ে বাইরে শুধু ঝোলে।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৮.৭.২০২১।
আমি একজন কোয়ালিফাইড কোয়াক।
চমকাবেন না,
এই মুহূর্তে পাশ করা প্রায় সব ডাক্তার তাই,
ডিগ্রী টিগ্রি ইত্যাদি সব যতই লেখা থাক,
করতে কিন্তু কেউ পারিনা, সত্যি যেটা চাই,
যেমন সুরে গাওয়ানো হয়, তেমন করে গাই।
কোয়াক মানে যার কাছে নেই চিকিৎসকের ডিগ্রি।
সেটা যাদের আছে,
তারাও এখন বাধ্যবাধক সে জ্ঞান গিলে ফেলে,
পরিস্থিতির হুকুমমাফিক বদলিয়ে যাই শিগ্রী,
অমুক হলে সস্তা ওষুধ, তমুক হলে ঢেলে,
যুক্তি মাফিক বিশ্লেষণের সুযোগ কমই মেলে।
আমায় এখন দেখতে হবে রোগীর কেমন স্কিম।
লিস্টি সেটার লম্বা,
কেন্দ্র রাজ্য কর্মী কিনা, সাথী কিংবা আয়ুষ্মান..
অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানে হবে ঘোড়ার ডিম,
ওই বাজেটে ঠিক যেটা হয় সেটাই পাবে স্থান,
তফাৎ হটো বিজ্ঞানীমন, জায়গা অকুলান।
কিংবা আমি কর্পোরেটে, মাসামাইনেয় বাঁধা।
ব্যবসায়ীদের বশংবদ,
যেমন তাঁরা বলেন সেটা শুনে চলাই ভালো,
‘এই দুই মাস বেশ কিছু টেস্ট কম লিখেছেন দাদা’
শুনতে পেলে? আমায় এসে ওই কারা চমকালো,
জ্ঞান ফলালে চাকরি খারিজ, সঙ্গে গালাগালও।
আলগা হয়ে এসব থেকে মন দিলে প্র্যাকটিসে?
রেহাই তাতেও নেই,
এক ভিজিটেই না কমলে রোগ রোগী যাবে চলে।
গুচ্ছ খানেক টেস্ট ও ওষুধ তাই তো হিট আর মিসে,
অর্ধেকই যার অদরকারী যুক্তি দিয়ে দেখা হলে।
কিন্তু যদি সে ফাঁক দিয়ে পেশেন্টরা যায় গলে?
দেশ করেছে কোয়াক আমায়,
ডিগ্রিগুলো জিভ ভেঙিয়ে বাইরে শুধু ঝোলে।
আর্যতীর্থ
*********************
। খাদের দিকে।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৮.৭.২০২১ বিকেল।
উড়ছে মানুষ, ঘুরছে মানুষ,
আকাশ সাগর পাহাড় মরু,
সবার বাধা ফুঁড়ছে মানুষ,
কিন্তু আদিমকালের মতোই ঘেন্নারাগে পুড়ছে মানুষ,
ধর্ম ভাষা বর্ণ লেজুড় জন্ম থেকে জুড়ছে মানুষ,
ঠাকুর্দাদার ঠাকুর্দাকে কাগজ খুঁজে খুঁড়ছে মানুষ,
হাজার হাজার বছর পেরোয়,
মানুষ কোথাও যাচ্ছে না,
কিছু লোকের ভোজ দুবেলা,
বাকি খেতে পাচ্ছেনা।
যাচ্ছে রাজা, আসছে নেতা,
তফাৎ যে কী, বলবে কে তা
গণ হওয়ার আদিখ্যেতা,
বাক্সতে ভোট পুরছে মানুষ,
প্রতিশ্রুতির কোরানিতে ভাগ্য নিজের কুরছে মানুষ,
কিন্তু নেতা রাজার মতোই অবহেলায় ছুঁড়ছে মানুষ,
যেই গদি পায় তার থেকে যায় হাজার মাইল দূর যে মানুষ,
পার্টি আসে ,পার্টিরা যায়,
যুদ্ধ যেমন রাজায় রাজায়,
খাগড়া উলুর হুলুস্থুলু, হাল তবু কাল ফিরছে না,
বন্দরে সব নেতার জাহাজ,
ভাঙা ডিঙি ভিড়ছে না।
দুনিয়াভরা রহস্যদের সব সমাধান করছে মানুষ,
হোক না অণু পরমাণু, কিংবা ভীষণ জ্বরজীবাণু,
ক্ষুদ্র কত সূত্র খুঁজে সবার সুলুক ধরছে মানুষ,
সাফল্যতে গগন ছুঁয়ে কীর্তিপাহাড় গড়ছে মানুষ,
কিন্তু ভেঙে হাজার দলে আগের মতোই লড়ছে মানুষ,
কারণবিহীন হিংস্রতাতে মাছির মতো মরছে মানুষ,
লাশের ওপর লাশ সাজিয়ে সিঁড়ির মতো চড়ছে মানুষ,
যন্ত্রে শুধু অগ্রগতি ,
মনের বদল হচ্ছে কই,
বেশি মানুষ নামছে নিচে,
কয়েকজনাই চড়ছে মই।
আকাশ ছোঁয়ার অছিলাতে ফেলছি খুঁড়ে খাদ অথই।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৮.৭.২০২১ বিকেল।
উড়ছে মানুষ, ঘুরছে মানুষ,
আকাশ সাগর পাহাড় মরু,
সবার বাধা ফুঁড়ছে মানুষ,
কিন্তু আদিমকালের মতোই ঘেন্নারাগে পুড়ছে মানুষ,
ধর্ম ভাষা বর্ণ লেজুড় জন্ম থেকে জুড়ছে মানুষ,
ঠাকুর্দাদার ঠাকুর্দাকে কাগজ খুঁজে খুঁড়ছে মানুষ,
হাজার হাজার বছর পেরোয়,
মানুষ কোথাও যাচ্ছে না,
কিছু লোকের ভোজ দুবেলা,
বাকি খেতে পাচ্ছেনা।
যাচ্ছে রাজা, আসছে নেতা,
তফাৎ যে কী, বলবে কে তা
গণ হওয়ার আদিখ্যেতা,
বাক্সতে ভোট পুরছে মানুষ,
প্রতিশ্রুতির কোরানিতে ভাগ্য নিজের কুরছে মানুষ,
কিন্তু নেতা রাজার মতোই অবহেলায় ছুঁড়ছে মানুষ,
যেই গদি পায় তার থেকে যায় হাজার মাইল দূর যে মানুষ,
পার্টি আসে ,পার্টিরা যায়,
যুদ্ধ যেমন রাজায় রাজায়,
খাগড়া উলুর হুলুস্থুলু, হাল তবু কাল ফিরছে না,
বন্দরে সব নেতার জাহাজ,
ভাঙা ডিঙি ভিড়ছে না।
দুনিয়াভরা রহস্যদের সব সমাধান করছে মানুষ,
হোক না অণু পরমাণু, কিংবা ভীষণ জ্বরজীবাণু,
ক্ষুদ্র কত সূত্র খুঁজে সবার সুলুক ধরছে মানুষ,
সাফল্যতে গগন ছুঁয়ে কীর্তিপাহাড় গড়ছে মানুষ,
কিন্তু ভেঙে হাজার দলে আগের মতোই লড়ছে মানুষ,
কারণবিহীন হিংস্রতাতে মাছির মতো মরছে মানুষ,
লাশের ওপর লাশ সাজিয়ে সিঁড়ির মতো চড়ছে মানুষ,
যন্ত্রে শুধু অগ্রগতি ,
মনের বদল হচ্ছে কই,
বেশি মানুষ নামছে নিচে,
কয়েকজনাই চড়ছে মই।
আকাশ ছোঁয়ার অছিলাতে ফেলছি খুঁড়ে খাদ অথই।
আর্যতীর্থ
*********************
। কবির জন্ম।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৯.৭.২০২১।
লোকটা ভাবলো কবিতা লিখতে হবে।
বিষয় ভেবে ফেললো।
তাজা, টগবগে, লোকের খাওয়ার মতো।
ছোটোবেলার প্রবন্ধের মতো লেখা হলো ভূমিকা,
বিস্তার, উপসংহার,
তবে সবই কবিতার আঙ্গিকে।
ছন্দ মেনে, মাত্রা গুনে,
মিল বা অমিলে কোথাও কোনো ভুল নেই।
স্তবক হলো ,শিরোনাম হলো,
যতি চিহ্ন, ডট ডট ডট, সব হলো।
খুশিতে ডগমগ হয়ে প্রকাশ করতে গিয়ে লোকটা দেখলো,
সর্বাঙ্গে কাটা দাগ আর সেলাইয়ের চিহ্ন নিয়ে
একটা আত্মাহীন অবয়ব তার দিকে ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে আছে।
শিউরে উঠে লোকটা প্রায় চিৎকার করে বললো,
‘ফ্রাংকেনস্টাইন!’
লোকটা ভাবে। লেখে।
ছন্দ গাঁথে, মাত্রা গোনে, স্তবক ভাগ করে।
কিন্তু যখনই কবিতা খোঁজে , তখনই সে দেখে,
সারি দিয়ে শুয়ে আছে কথার কাঠামো শুধু,
মৃতদেহের মতো নিথর,
অন্ধকারের মতো একা ,
বাজে পুড়ে যাওয়া গাছের মতো নিরস।
সেসব বৈয়াকরণ আর ছান্দসিকেরা পড়ে বাহ বাহ করে ওঠে।
লোকটা নিয়মিত আগামীকালের কবরে
আজকের সৃষ্টিকে সময়ের পলি চাপা দেয়।
একদিন হঠাৎই,
লোকটা ঠিক করলো কিচ্ছু নিয়ম মানবে না।
কলমকে সে শিকল খুলে কথাদের মধ্যে ছেড়ে দিলো,
অথচ কি আশ্চর্য ,
সে স্বেচ্ছাচারী হলো না মোটেই।
শিল্পী যেমন প্রাণহীন রঙের থেকে
জন্ম দেন অনন্তযৌবনা ছবির,
স্থপতি যেমন নিরেট পাথর কেটে
বানিয়ে দেন অসেচনক ভাস্কর্য,
তেমনি কলম ভাবনা আর কথা দিয়ে
বানালো অদ্ভুত একটা আয়না,
যে দেখে, তারই নিজস্ব প্রতিবিম্ব সেখানে ঝলমল করে ওঠে।
লোকটা দেখলো,
চারদিক থেকে কথারা ভিড় করে আসছে তার কাছে,
কিন্তু নিয়মের তালে কুচকাওয়াজ করতে নয়,
ইচ্ছে মতো ভাবনার রঙে সাজতে।
লোকটা শুনলো,
কারা যেন বলছে,
বন্ধ ঘরের সমস্ত দরজা খুলে
উৎসবের আয়োজন করি চলো,
আজ যে এক নতুন কবির জন্ম হলো!
শুধু ছান্দসিক আর বৈয়াকরণরা
এইসব অনাচার দেখে ভীষণ মুখ বেঁকালো।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৯.৭.২০২১।
লোকটা ভাবলো কবিতা লিখতে হবে।
বিষয় ভেবে ফেললো।
তাজা, টগবগে, লোকের খাওয়ার মতো।
ছোটোবেলার প্রবন্ধের মতো লেখা হলো ভূমিকা,
বিস্তার, উপসংহার,
তবে সবই কবিতার আঙ্গিকে।
ছন্দ মেনে, মাত্রা গুনে,
মিল বা অমিলে কোথাও কোনো ভুল নেই।
স্তবক হলো ,শিরোনাম হলো,
যতি চিহ্ন, ডট ডট ডট, সব হলো।
খুশিতে ডগমগ হয়ে প্রকাশ করতে গিয়ে লোকটা দেখলো,
সর্বাঙ্গে কাটা দাগ আর সেলাইয়ের চিহ্ন নিয়ে
একটা আত্মাহীন অবয়ব তার দিকে ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে আছে।
শিউরে উঠে লোকটা প্রায় চিৎকার করে বললো,
‘ফ্রাংকেনস্টাইন!’
লোকটা ভাবে। লেখে।
ছন্দ গাঁথে, মাত্রা গোনে, স্তবক ভাগ করে।
কিন্তু যখনই কবিতা খোঁজে , তখনই সে দেখে,
সারি দিয়ে শুয়ে আছে কথার কাঠামো শুধু,
মৃতদেহের মতো নিথর,
অন্ধকারের মতো একা ,
বাজে পুড়ে যাওয়া গাছের মতো নিরস।
সেসব বৈয়াকরণ আর ছান্দসিকেরা পড়ে বাহ বাহ করে ওঠে।
লোকটা নিয়মিত আগামীকালের কবরে
আজকের সৃষ্টিকে সময়ের পলি চাপা দেয়।
একদিন হঠাৎই,
লোকটা ঠিক করলো কিচ্ছু নিয়ম মানবে না।
কলমকে সে শিকল খুলে কথাদের মধ্যে ছেড়ে দিলো,
অথচ কি আশ্চর্য ,
সে স্বেচ্ছাচারী হলো না মোটেই।
শিল্পী যেমন প্রাণহীন রঙের থেকে
জন্ম দেন অনন্তযৌবনা ছবির,
স্থপতি যেমন নিরেট পাথর কেটে
বানিয়ে দেন অসেচনক ভাস্কর্য,
তেমনি কলম ভাবনা আর কথা দিয়ে
বানালো অদ্ভুত একটা আয়না,
যে দেখে, তারই নিজস্ব প্রতিবিম্ব সেখানে ঝলমল করে ওঠে।
লোকটা দেখলো,
চারদিক থেকে কথারা ভিড় করে আসছে তার কাছে,
কিন্তু নিয়মের তালে কুচকাওয়াজ করতে নয়,
ইচ্ছে মতো ভাবনার রঙে সাজতে।
লোকটা শুনলো,
কারা যেন বলছে,
বন্ধ ঘরের সমস্ত দরজা খুলে
উৎসবের আয়োজন করি চলো,
আজ যে এক নতুন কবির জন্ম হলো!
শুধু ছান্দসিক আর বৈয়াকরণরা
এইসব অনাচার দেখে ভীষণ মুখ বেঁকালো।
আর্যতীর্থ
*********************
। দোষী।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৯.৭.২০২১।
যেমনি দোষী ঈদ-জমায়েত, তেমনি দোষী কুম্ভস্নান,
মরছে মানুষ সাজতে গিয়ে ধর্মমতে পুণ্যবান।
প্রার্থনাতে ভিড় জমানোর ভুলের বহর হয়নি ঠিক,
আল্লাহ রামের ভক্তকে খায় সমানভাবে প্যান্ডেমিক।
ভগবানের জন্য মানুষ, সেই ধারণায় ভুল করে,
রোগ তাড়াবার বিপরীতে হাঁটছে লোকে উল্টো রে।
থাকলে মানুষ তবেই আছেন আল্লাহ জেসাস বুদ্ধ রাম
মানুষ ভরায় সব দেবালয়, মসজিদ বা সংঘারাম।
ঘরের ভেতর প্রার্থনাতে বধির সাজেন ইষ্ট যার,
খুব প্রয়োজন এবার তাঁকে না ডাকবার ধৃষ্টতার।
মন্দির আর মসজিদে ভিড় জমিয়ে যদি ডাকতে হয়,
অতিমারী পার করা এক আগামীতে থাক সে নয়।
নামাজ প্রেয়ার স্নানের ছুতোয় আনছে যারা জ্বর পাড়ায়,
তাদের ওপর ভর করে আজ কোভিড নিজের দর বাড়ায়।
শিক্ষা চরম দেয় করোনা, শিখুক তাবত বিশ্ব রে,
গুলিয়ে ফেলা চলবে না আজ সংস্কার আর ঈশ্বরে।
ভোটের লোভে প্রশাসনও সইছে সবই নিঃস্বরে…
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ২৯.৭.২০২১।
যেমনি দোষী ঈদ-জমায়েত, তেমনি দোষী কুম্ভস্নান,
মরছে মানুষ সাজতে গিয়ে ধর্মমতে পুণ্যবান।
প্রার্থনাতে ভিড় জমানোর ভুলের বহর হয়নি ঠিক,
আল্লাহ রামের ভক্তকে খায় সমানভাবে প্যান্ডেমিক।
ভগবানের জন্য মানুষ, সেই ধারণায় ভুল করে,
রোগ তাড়াবার বিপরীতে হাঁটছে লোকে উল্টো রে।
থাকলে মানুষ তবেই আছেন আল্লাহ জেসাস বুদ্ধ রাম
মানুষ ভরায় সব দেবালয়, মসজিদ বা সংঘারাম।
ঘরের ভেতর প্রার্থনাতে বধির সাজেন ইষ্ট যার,
খুব প্রয়োজন এবার তাঁকে না ডাকবার ধৃষ্টতার।
মন্দির আর মসজিদে ভিড় জমিয়ে যদি ডাকতে হয়,
অতিমারী পার করা এক আগামীতে থাক সে নয়।
নামাজ প্রেয়ার স্নানের ছুতোয় আনছে যারা জ্বর পাড়ায়,
তাদের ওপর ভর করে আজ কোভিড নিজের দর বাড়ায়।
শিক্ষা চরম দেয় করোনা, শিখুক তাবত বিশ্ব রে,
গুলিয়ে ফেলা চলবে না আজ সংস্কার আর ঈশ্বরে।
ভোটের লোভে প্রশাসনও সইছে সবই নিঃস্বরে…
আর্যতীর্থ
*********************
। বিপরীতমুখী।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৩০.৭.২০২১।
এই শেষ বিন্দু , এইখান থেকে তুমি ডানদিকে যাবে, আমি যাবো বামে,
কিংবা উল্টোটা। মোটকথা, দুজনের পথটা আলাদা।
এতদিন একসাথে হাঁটা, স্মৃতির ভাঁড়ার ভরা সফরের নামে,
এবারে ফুরোলা। আবার নতুন করে শুরু বাঁধাছাদা।
আমি যাবো উত্তরে, তুমি দক্ষিণে।সেইটাও আন্দাজী ধারনা কেবল,
তুমি বাছতেই পারো পুব পশ্চিম, অথবা ঈশান বায়ু নৈঋতে যাবে,
আমি কোনদিকে যাবো, সেটুকুই জানি। কল্পনা ছাড়া নেই কিছু সম্বল,
তোমার আগামী পথ জানবো কিভাবে!
এইবারে আমাদের ছাড়াছাড়ি হবে। দুজনে চাইতে পারি জলভরা চোখে,
অথবা বিদ্বেষ ভরে দুচোখের দৃষ্টিতে এতদিন একসাথে কাটানোর খেদে,
সময়ের কিছুতেই যায় আসে না। সে শুধু আলাদা করে পথ দুটোকে,
ভিন্ন বিন্দু এঁকে দুজনের ম্যাপে। আমাদেরই সব দায় এই বিচ্ছেদে।
তাই চলো, হাসিমুখে জানাই বিদায়। স্মৃতি থেকে জড়ো করে রাখি শুধু সুখ,
বিষাদ আড়ালে যাক, ক্ষমা করে দিয়ে যাই আঘাতের ক্ষতি,
প্রলেপ লাগানো হোক সব ক্ষতমুখে। ভালো লাগাগুলো স্রেফ থাক জাগরুক,
যাত্রা ভিন্ন হোক, অতীত সদয় থাক আমাদের প্রতি।
পৃথিবী তো গোলাকার, যত বিপরীতে যাক, আগামীতে মিলে যেতে পারে সব পথই।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৩০.৭.২০২১।
এই শেষ বিন্দু , এইখান থেকে তুমি ডানদিকে যাবে, আমি যাবো বামে,
কিংবা উল্টোটা। মোটকথা, দুজনের পথটা আলাদা।
এতদিন একসাথে হাঁটা, স্মৃতির ভাঁড়ার ভরা সফরের নামে,
এবারে ফুরোলা। আবার নতুন করে শুরু বাঁধাছাদা।
আমি যাবো উত্তরে, তুমি দক্ষিণে।সেইটাও আন্দাজী ধারনা কেবল,
তুমি বাছতেই পারো পুব পশ্চিম, অথবা ঈশান বায়ু নৈঋতে যাবে,
আমি কোনদিকে যাবো, সেটুকুই জানি। কল্পনা ছাড়া নেই কিছু সম্বল,
তোমার আগামী পথ জানবো কিভাবে!
এইবারে আমাদের ছাড়াছাড়ি হবে। দুজনে চাইতে পারি জলভরা চোখে,
অথবা বিদ্বেষ ভরে দুচোখের দৃষ্টিতে এতদিন একসাথে কাটানোর খেদে,
সময়ের কিছুতেই যায় আসে না। সে শুধু আলাদা করে পথ দুটোকে,
ভিন্ন বিন্দু এঁকে দুজনের ম্যাপে। আমাদেরই সব দায় এই বিচ্ছেদে।
তাই চলো, হাসিমুখে জানাই বিদায়। স্মৃতি থেকে জড়ো করে রাখি শুধু সুখ,
বিষাদ আড়ালে যাক, ক্ষমা করে দিয়ে যাই আঘাতের ক্ষতি,
প্রলেপ লাগানো হোক সব ক্ষতমুখে। ভালো লাগাগুলো স্রেফ থাক জাগরুক,
যাত্রা ভিন্ন হোক, অতীত সদয় থাক আমাদের প্রতি।
পৃথিবী তো গোলাকার, যত বিপরীতে যাক, আগামীতে মিলে যেতে পারে সব পথই।
আর্যতীর্থ
*********************
। দেশ।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৩০.৭.২০২১ রাত্রি।
ইয়ামাগুচির শাটল ককটা নেটে আছড়ে পড়তেই লাফিয়ে উঠলো মন্টু।
জিওওওওওওও !
বলে চেঁচিয়ে উঠলো রতন কালুয়া আব্বাস।
কি হলো রে?
তড়িঘড়ি স্ট্যান্ডে অটোটা দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করলো বাবুলাল।
সিন্ধু জিতে গেছে!
হৈ হৈ করে উঠলো অটোওলা ছেলেগুলো।
একটু দূরেই লাইনে দাঁড়িয়ে উশখুশ করা ভিড়টা
হঠাৎ ম্যাজিকে টোকিওর ফাঁকা স্টেডিয়াম ভরানো
উদ্বেল জনতা হয়ে গেলো।
মুখোশ পরা এক মহিলা সম্পূর্ণ অচেনা সামনের প্রৌঢ়কে বললেন,
‘ মেরি কম হেরে যাওয়াতে যা মন খারাপ হয়েছিলো!’
পেছন থেকে রঙচটা ছেঁড়া জিনসে শোভিত এক ছোকরা বলে উঠলো,
‘লাভলিনা কিন্তু জিতেছে। দীপিকা আর অতনুও!’
তাই শুনে হাততালি দিয়ে উঠলো
কাছের দোকানে থামস আপ কিনতে আসা কিশোর কিশোরী।
ওপরের ঘটনাটির অকুস্থল কলকাতা হতে পারে
অথবা শিলিগুড়ি।
আগরতলা দুর্গাপুর বা আসানসোল
হওয়াও অসম্ভব নয়।
ভাষা ও চরিত্রগুলো পালটে দিলে,
একই দৃশ্য ঘটেছে, ঘটছে ও ঘটবে
মনিপালে, ভূবনেশ্বরে, কোটায়,
নাসিকে, পোর্টব্লেয়ার আর ইটানগরে।
জ্বরের কাছে জীবিকা খোয়ানো মানুষের দল,
উপায়বিহীন নদীতে শব বইয়ে দেওয়া মানুষের দল,
গরীব থেকে কপর্দকহীন ভিখিরি হওয়া মানুষের দল,
তাদের সস্তার মোবাইলে দেখছে কতগুলো নিখাদ ভারতীয়
তির ছুঁড়ছে,
ঘুষি মারছে ,
ব্যাডমিন্টনে সপাট স্ম্যাশে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিপক্ষকে।
আবছা হচ্ছে রক্তরুটি মাখা রেললাইনের স্মৃতি,
আবছা হচ্ছে নিজের দেশে হাজার মাইল হাঁটার ক্লান্তি,
আবছা হচ্ছে অক্সিজেন না পেয়ে পরিজন হারানোর শোক,
ডেল্টার আগামী আতংকও যেন এক নিরুপদ্রব বর্তমানের কোলে ঘুমিয়ে নিচ্ছে,
মশালের মতো দেশ জুড়ে জেগে উঠছে কিছু নাম
পি ভি সিন্ধু ..
মেরি কম..
দীপিকা কুমারী..
লাভলিনা বড়গোঁহাই..
মীরাবাই চানু..
অতনু দাস ..
বজরং পুনিয়া
প্রাদেশিক বিবাদ, ভাষাসন্ত্রাস,
দলিত-উচ্চ খুনোখুনির দুধারে থাকা
লোকগুলোর মনে ঝলসে উঠছে একটাই নাম.. ভারতবর্ষ।
এসবের থেকে বহুদূরে
ক্রিকেটের বিনোদন কর্তারা হিসেব করে চলেছেন,
কোন বিদেশী প্লেয়ার কোন দল কত কোটিতে কিনবে..
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ৩০.৭.২০২১ রাত্রি।
ইয়ামাগুচির শাটল ককটা নেটে আছড়ে পড়তেই লাফিয়ে উঠলো মন্টু।
জিওওওওওওও !
বলে চেঁচিয়ে উঠলো রতন কালুয়া আব্বাস।
কি হলো রে?
তড়িঘড়ি স্ট্যান্ডে অটোটা দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করলো বাবুলাল।
সিন্ধু জিতে গেছে!
হৈ হৈ করে উঠলো অটোওলা ছেলেগুলো।
একটু দূরেই লাইনে দাঁড়িয়ে উশখুশ করা ভিড়টা
হঠাৎ ম্যাজিকে টোকিওর ফাঁকা স্টেডিয়াম ভরানো
উদ্বেল জনতা হয়ে গেলো।
মুখোশ পরা এক মহিলা সম্পূর্ণ অচেনা সামনের প্রৌঢ়কে বললেন,
‘ মেরি কম হেরে যাওয়াতে যা মন খারাপ হয়েছিলো!’
পেছন থেকে রঙচটা ছেঁড়া জিনসে শোভিত এক ছোকরা বলে উঠলো,
‘লাভলিনা কিন্তু জিতেছে। দীপিকা আর অতনুও!’
তাই শুনে হাততালি দিয়ে উঠলো
কাছের দোকানে থামস আপ কিনতে আসা কিশোর কিশোরী।
ওপরের ঘটনাটির অকুস্থল কলকাতা হতে পারে
অথবা শিলিগুড়ি।
আগরতলা দুর্গাপুর বা আসানসোল
হওয়াও অসম্ভব নয়।
ভাষা ও চরিত্রগুলো পালটে দিলে,
একই দৃশ্য ঘটেছে, ঘটছে ও ঘটবে
মনিপালে, ভূবনেশ্বরে, কোটায়,
নাসিকে, পোর্টব্লেয়ার আর ইটানগরে।
জ্বরের কাছে জীবিকা খোয়ানো মানুষের দল,
উপায়বিহীন নদীতে শব বইয়ে দেওয়া মানুষের দল,
গরীব থেকে কপর্দকহীন ভিখিরি হওয়া মানুষের দল,
তাদের সস্তার মোবাইলে দেখছে কতগুলো নিখাদ ভারতীয়
তির ছুঁড়ছে,
ঘুষি মারছে ,
ব্যাডমিন্টনে সপাট স্ম্যাশে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিপক্ষকে।
আবছা হচ্ছে রক্তরুটি মাখা রেললাইনের স্মৃতি,
আবছা হচ্ছে নিজের দেশে হাজার মাইল হাঁটার ক্লান্তি,
আবছা হচ্ছে অক্সিজেন না পেয়ে পরিজন হারানোর শোক,
ডেল্টার আগামী আতংকও যেন এক নিরুপদ্রব বর্তমানের কোলে ঘুমিয়ে নিচ্ছে,
মশালের মতো দেশ জুড়ে জেগে উঠছে কিছু নাম
পি ভি সিন্ধু ..
মেরি কম..
দীপিকা কুমারী..
লাভলিনা বড়গোঁহাই..
মীরাবাই চানু..
অতনু দাস ..
বজরং পুনিয়া
প্রাদেশিক বিবাদ, ভাষাসন্ত্রাস,
দলিত-উচ্চ খুনোখুনির দুধারে থাকা
লোকগুলোর মনে ঝলসে উঠছে একটাই নাম.. ভারতবর্ষ।
এসবের থেকে বহুদূরে
ক্রিকেটের বিনোদন কর্তারা হিসেব করে চলেছেন,
কোন বিদেশী প্লেয়ার কোন দল কত কোটিতে কিনবে..
আর্যতীর্থ
*********************
। বর্ম।
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১.৮.২০২১।
ভাইরাস ঠিক মানুষ বুঝে বদলিয়ে নেয় খেলটাকে,
খেয়াল রাখে প্যান্ডেমিকের শিখায় যাতে তেল থাকে।
অবুঝ মানুষ ফেরায় না হুঁশ, মুখোশ পরে বেজায় না-খুশ,
থুতনিতে মাস্ক নামিয়ে গিয়ে ছড়িয়ে বেড়ায় ডেল্টাকে।
প্যান্ডেমিকের দিকেই হেঁটে যাচ্ছে দেখো লোকজনে,
মুর্গী কটা গেলো পাওয়া কোভিড সেটা রোজ গোনে।
কানের থেকে মাস্ক ঝুলিয়ে, আজ যারা যায় রাস্তা দিয়ে
সে পাগলামি আগামী কাল লোক হারানোর শোক শোনে।
রাষ্ট্রেরা সব ভাবেন যখন লক করে সব খালাস দায়,
পৌঁছে গেছে তার ফাঁকে জ্বর সুদান থেকে আলাস্কায়।
লাভ নেই আর ওসবে আজ, বাঁচায় কেবল মাস্ক পরা সাজ,
তাও না করে নিজের হাতেই জীবন কারা জ্বালাস হায়!
চাইছে এ জ্বর ঢেউয়ের গ্রাসে আরো অনেক লাশ পেতে
লকডাউন আজ অস্ত্র ভোঁতা, ধার কিছু নেই খাস এতে।
শামুকমাফিক চলার ধরণ, নিয়েছে আজ টিকাকরণ
সমস্ত লোক পেতে হলে লাগবে অনেক মাস যেতে।
আগ বাড়িয়ে ঝাড়ের থেকে চাইছো কেন বাঁশ খেতে?
বর্ম এখন একটা কেবল, মুখ ঢাকা থাক মাস্কেতে।
আর্যতীর্থ
*********************
কবি আর্যতীর্থ
রচনা ১.৮.২০২১।
ভাইরাস ঠিক মানুষ বুঝে বদলিয়ে নেয় খেলটাকে,
খেয়াল রাখে প্যান্ডেমিকের শিখায় যাতে তেল থাকে।
অবুঝ মানুষ ফেরায় না হুঁশ, মুখোশ পরে বেজায় না-খুশ,
থুতনিতে মাস্ক নামিয়ে গিয়ে ছড়িয়ে বেড়ায় ডেল্টাকে।
প্যান্ডেমিকের দিকেই হেঁটে যাচ্ছে দেখো লোকজনে,
মুর্গী কটা গেলো পাওয়া কোভিড সেটা রোজ গোনে।
কানের থেকে মাস্ক ঝুলিয়ে, আজ যারা যায় রাস্তা দিয়ে
সে পাগলামি আগামী কাল লোক হারানোর শোক শোনে।
রাষ্ট্রেরা সব ভাবেন যখন লক করে সব খালাস দায়,
পৌঁছে গেছে তার ফাঁকে জ্বর সুদান থেকে আলাস্কায়।
লাভ নেই আর ওসবে আজ, বাঁচায় কেবল মাস্ক পরা সাজ,
তাও না করে নিজের হাতেই জীবন কারা জ্বালাস হায়!
চাইছে এ জ্বর ঢেউয়ের গ্রাসে আরো অনেক লাশ পেতে
লকডাউন আজ অস্ত্র ভোঁতা, ধার কিছু নেই খাস এতে।
শামুকমাফিক চলার ধরণ, নিয়েছে আজ টিকাকরণ
সমস্ত লোক পেতে হলে লাগবে অনেক মাস যেতে।
আগ বাড়িয়ে ঝাড়ের থেকে চাইছো কেন বাঁশ খেতে?
বর্ম এখন একটা কেবল, মুখ ঢাকা থাক মাস্কেতে।
আর্যতীর্থ
*********************
