আর্যতীর্থ - জন্মগ্রহণ করেন কলকাতায়। পিতা চিররঞ্জন ভট্টাচার্য ও মাতা দীপ্তি দেবী। পিতা ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি চাকুরে এবং মা শিক্ষিকা কিন্তু তিনি ছেলেদের জন্য চাকরী ছেড়ে দিয়েছিলেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে কবিই বড়। তাঁরা ছিলেন দুর্গাপুরের বাসিন্দা। ১৯৯৫ সালে কবি, সুমিত্রা দেবীর সঙ্গে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন। তাঁদের এক কন্যা কনয়া। কবির ভাল নাম তীর্থঙ্কর ভট্টাচার্য। কবির বন্ধুরাই তাঁর ছদ্মনাম রেখেছিলেন “আর্যতীর্থ”!

কবির শিক্ষাজীবন শুরু হয় দুর্গাপুরের সেন্ট মাইকেলস স্কুলে। সেই স্কুলের, কোনো বোর্ডের স্বীকৃতি না থাকায়, কবি স্কুল বদলে দুর্গাপুর থার্মাল পাওয়ার স্টেশন স্কুলের (DVC DTPS School) ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে, সেখান থেকেই ১৯৮৪ সালে মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হন। ১৯৮৬ সালে তিনি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় ৫৭ স্থান অধিকার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়া শুরু করেন। ১৯৯২ সালে তিনি মেডিক্যালে স্নাতক হয়ে MBBS ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি অর্থোপেডিক সার্জারিতে স্নাতকোত্তর MS (Ortho) ডিগ্রী লাভ করেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকেই ১৯৯৮ সালে।

কবি একজন ব্যায়ামবীরও বটে। ১১ ক্লাস থেকেই তিনি নিয়মিত শরীরচর্চা করে আসছে যা এখনও, এই ব্যস্ততার জীবনেও বন্ধ হয়নি। কলেজে পড়ার সময়ে তিনি মেডিক্যাল কলেজের ফুটবল দলের সদস্য ছিলেন। ফুটবলের ব্যাকী হিসেবে তার সুনাম ছিল। তিনি গর্ব করে বলেন যে ব্যাকী হিসেবে তিনি হলুদ কার্ডও দেখেছিলেন! কিছু কাল পূর্বে তিনি কোরিয়ার মার্শাল আর্ট “হাপকিদো”-র প্রশিক্ষণ লাভ করে ব্ল্যাক-বেল্টের অধিকারী হয়েছেন। A sound mind in a sound body কথাটির তিনি এক জলজ্যান্ত উদাহরণ!

কবি কর্মজীবন শুরু করেন রূপনারায়ণপুরে অবস্থিত হিন্দুস্থান কেবলস্-এ চিকিত্সক হিসেবে। বর্তমানে তিনি একজন প্রথিতযশা অর্থপেডিক সার্জেন হিসেবে কলকাতায় প্র্যাকটিস করছেন। তিনি দক্ষিণ কলকাতার APEX Hospital এর সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে যুক্ত আছেন। রোগীদের স্বার্থে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত ওয়েবসাইট www.tirthankarortho.com

কবি আর্যতীর্থর কবিতা - কবির জীবনে কবিতার বিশেষ স্থান। তিনি রোগী দেখার এবং দুরূহ তথা জটিল সব শল্যচিকিত্সার ফাঁকে ফাঁকেও কবিতা লিখে চলেন তাঁর চলভাষে! দিনের শেষে তাঁর পেশাগত পড়াশোনার পরে অবসর সময়ে নিয়মিত পড়েন কবিতা।

তাঁর কবিতার বিষয় বিস্তৃত। প্রেম, রাজনীতি, আধুনিক ও প্রাচীন সাহিত্য, ইতিহাস, মানবিক সম্পর্ক, সামাজিক সচেতনতা, মূল্যবোধ সব কিছুই তাঁর কবিতায় ঘুরে ফিরে আসে। তিনি বলেন যে তাঁর কবিতায় ব্যক্তিগত স্তরে কাউকে আক্রমণ তিনি করেন না কারণ আজকাল মানুষ, সমালোচনা আর নিন্দের মধ্যে তফাতটা বুঝে উঠতে পারেন না। তা সত্ত্বেও তাঁর লেখনী যথেষ্ট বলিষ্ঠ, দৃঢ় ও সময়োপযোগী তাতে কোনও সন্দেহ নেই। সম্ভবত সেটাই তাঁর কবিতার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।

তাঁর অনেক কবিতায় আসে অন্যান্য পেশা ও জীবিকার মানুষের জীবনের কথা। সে সব লেখার আগে তিনি সেই মানুষদের জীবন নিয়ে পড়াশুনা করেন এবং তারপর নিজেকে তাঁদের জায়গায় বসিয়ে লেখেন কবিতা। তাঁর “নাবিক” শিরোনামের কবিতাটি সেরকম একটি অনবদ্য লেখা। এরকম আরও অনেক কবিতা আছে।

তাঁর লেখা কথায় রচিত হয়েছে তাঁর DTPS School স্কুলের গীত। তিনি ২০১৬ সালের মে মাস থেকে, প্রখ্যাত বাংলা কবিতার ওয়েবসাইট www.bangla-kobita.com এ নিজের কবিতা তুলে আসছেন। মিলনসাগরে এই পাতা শুরু করার সময় সেখানে কবিতার সংখ্যা ছিল ৯৮৫টি। তাঁর কবিতা ফেসবুক, হোয়াট্সঅ্যাপের মতো সোশিয়াল মিডিয়ায় অত্যান্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

আধুনিক এবং বিভিন্ন রকমের ছন্দের কবিতায় তিনি সিদ্ধহস্ত। কোনও কাজই তিনি হাল্কাভাবে করে সন্তুষ্ট থাকেন না। প্রতিটি বিষয় তিনি গভীরতার সঙ্গে অধ্যয়ন করে প্রয়োগ করেন। কবিতার ভাষা ও ছন্দ নিয়েও তিনি নিজেকে প্রশিক্ষিত করেছেন স্বনামধন্য অধ্যাপিকা ডঃ শিপ্রা ঘোষের কাছে।

তাঁর প্রিয়তম কবি সুকুমার রায় আর তাঁর কাছে রবীন্দ্রনাথ হলেন স্বয়ং ঈশ্বর!

কবির প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে কলকাতা বইমেলা ২০১৯ এ সাতকাহন প্রকাশনী থেকে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “প্রজাদের লোক”, কলকাতা বইমেলা ২০২৩ এ আমাদের পদক্ষেপ প্রকাশনী থেকে "শুকনো পাতায় আগুন" প্রভৃতি।

তেমন কোনও বড় পুরস্কারে এই কবি এখনও ভূষিত হননি। তেমন কোনও খবর পেলে আমরা এখানে তা অবশ্যই উল্লেখ করবো। তাঁর জনপ্রিয়তাই তাঁর সর্বোচ্চ পুরস্কার।

কবি নিয়মিত, নিজেই তাঁর কবিতা, বাংলায় টাইপ করে ইনটারনেটে তুলে থাকেন। আমরা কৃতজ্ঞ কবির কাছে কারণ তিনি আমাদেরও তা পাঠিয়ে মিলনসাগরে তোলার অনুমতি দিয়েছেন।

আমরা কবির কাছে আরও কৃতজ্ঞ এই কারণে যে ২০২১ সালের জুলাই মাসে, যখন কিছু দিনের জন্য তাঁর ফেসবুক পাতাটি হ্যাক্ড হয়ে গিয়েছিল, তিনি আমাদেরই দায়িত্ব দিয়েছিলেন তাঁর কবিতা মিলন সেনগপ্তর ফেসবুকে নিয়মিত তুলে দেবার।

মিলনসাগরে কবি আর্যতীর্থ-এর কবিতা তোলার অনুমতি পেয়ে আমরা আনন্দিত।


কবি আর্যতীর্থর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


কবির সঙ্গে যোগাযোগ -
কবির চলভাষ : ৯১৯৯৪৩৩০২৮৩৩১
রোগীদের জন্য চিকিৎসা সংক্রান্ত যোগাযোগ :
ডঃ তীর্থঙ্কর ভট্টাচার্য - ৯১৯৮৩১০৯২১২৬
কবির কবিতার সম্ভার : www.bangla-kobita.com/tirtha123/

কবির ফেসবুক - আর্য উবাচ

https://www.facebook.com/profile.php?id=100069285862389



উৎস :
  • কবি আর্যতীর্থর সঙ্গে ২৭.৩.২০১৯ তারিখে নেওয়া একটি সাক্ষাৎকার। মিলনসাগরের তরফে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন মিলন সেনগুপ্ত।
  • কবির বাংলা-কবিতা.কম ওয়েবসাইট এর পাতা।




         
আমাদের ই-মেল
: srimilansengupta@yahoo.co.in
হোয়াটসঅ্যাপ
: +৯১ ৯৮৩০৬৮১০১৭       



বিভিন্ন সময়ে মিলনসাগরের বিভিন্ন বিষয়ের দেয়ালিকাগুলিতে কবির শতাধিত কবিতার ধারাবাহিক সংযোজন হয়ে চলেছে।
৪২টি কবিতা নিয়ে এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২৯.৩.২০১৯
এই পাতার পরিবর্ধিত মোবাইল স্যাভ্যি সংস্করণ - ২১.৮.২০২৩
^^ উপরে ফেরত