কবি অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা
*
ডাক
কবি অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য্য ও ক্ষিতীন্দ্র নারায়ণ ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত, “রামধনু” পত্রিকার বৈশাখ ১৩৪৬ (এপ্রিল
১৯৩৯) সংখ্যায় প্রকাশিত।

ডাক এসেছে আজকে রে ভাই, বনের সীমানায়,
নদীর পারে জলার ধারে আয় রে চলে আয়।
ফাগুন হাসে জলে-স্থলে,
আমের বউল গাছের তলে
গন্ধ ছড়ায় চতুর্দ্দিকে নীল আকাশের গায়।

পড়ার পুঁথি বন্ধ ক’রে বাইরে যাবি কে?
কুলুঙ্গিতে পাত্‌তাড়ি বই গুছিয়ে রেখে দে।
দেখ্ না দূরে বকুল-শাখে
সকাল থেকেই কোকিল ডাকে,
অপরাজিতা, কনকচাঁপা সবাই জেগেছে ।

ভ্রমর ওড়ে মধুর রবে গোলাপ-শাখাতে,
সৌরভেতে মত্ত পাখা পরাগ মাখাতে।
শাখায় শাখায়, লতায়, গাছে
নতুন ঋতুর ছন্দ নাচে,
সবুজ প্রাণের স্পন্দ জাগে সবুজ পাতাতে ।

আকাশ-বাতাস, বিশ্ব-জগৎ দিচ্ছে তোদের ডাক,
এমন দিনে ঘরের কোণে থাকিস নে নির্ব্বাক্।
বার্ত্তা নিয়ে নতুন প্রাণে
কাঁপিয়ে দিয়ে ঐকতানে
দুঃখ যত, দৈন্য যত আজকে ভুলে থাক্‌।

.                         ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ব্যথা শতদল
কবি অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
বঙ্কিমচন্দ্র সেন সম্পাদিত, “দেশ” পত্রিকার ৬ই শ্রাবণ ১৩৪৬ (২ জুলাই ১৯৩৯) সংখ্যায়
প্রকাশিত।

আমার আকাশেতে নামল কালো মেঘ আজ হে,
বেদনা-বিদায় অট্ট-রবে চলে ধাবি হে।
.                আঁধার ঘনায়েছে নদীর দুই তীরে,
.                হতাশ-আশ্বাস আমারে ফেলে ঘিরে
কোথায় কতদূরে আসিছ তুমি মোর মাঝি হে।

ডুবিছে রবিদেব, কেহ হে পারে নাই বসিয়া,---
বিরহ হুতাশনে পবন বহি চলে শ্বসিয়া।
.                আমার আঁখি মাঝে ভরিয়া আসে জল,
.                নিশাস বাহিরায় ভেদিযা হৃদিতল,
আসিবে পুন তুমি কে যেন কয় বুকে পশিয়া।

আমার ভাঙ্গা ঘরে নরক-মাঝে তুমি আসিবে,
আমার পাপে ভরা বুকের কালিমারে নাশিবে।
.                পরাণে বসি মোর যে করে কানাকানি,
.                তাহার কানে দিবে তোমার শুভ-বাণী,
আবার সারাদেহে শরৎ ফুটি উঠে হাসিবে।

.                         ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর