অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় - বাংলা
সাহিত্যের বিশিষ্ট ইতিবৃত্তকার, অধ্যাপক ও
গবেষক ছিলেন। তিনি জন্মগ্রহণ করেন উত্তর
চব্বিশ পরগণা জেলার, বনগাঁ অন্তর্গত নকফুল
গ্রামে। তাঁদের পরিবার ১৯২৫ সাল থেকে
হাওড়ায় বসবাস করেছেন। কবির পিতা
অক্ষয়কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতা চারুবালা দেবী। হাওড়া গার্লস কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপিকা বিনীতা
গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন। বিনীতা দেবীও ঐতিহসিক উপন্যাস, গল্প, ভ্রমণ কাহিনি
ইত্যাদি লিখেছেন “সুকন্যা" ছদ্মনামে।
কবি অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্কুল ও কলেজ জীবন - ^^ উপরে ফেরত
১৯৩৮ সালে হাওড়া জেলা স্কুল থেকে তিনি বাংলায় ৭৭% নম্বর পেয়ে জেলায় বাংলায় প্রথম হয়ে ম্যাট্রিক
পাশ করেন। কলেজ জীবনে অধুনা রিপন কলেজ (বর্তমানে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) থেকে আই.এ. পরীক্ষায়
বাংলা ও অসমের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর তিনি বাংলা সাহিত্য নিয়ে
বি.এ. এবং এম.এ. পরীক্ষায়, ১৯৪৫ সালে, প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক লাভ করেন।
কবি অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্ম জীবন - ^^ উপরে ফেরত
কলেজে পড়তে পড়তেই ১৯৪১-৪২ সালে তাঁর, সাইগন থেকে সুভাষচন্দ্র বসুর বেতার বক্তৃতার বঙ্গানুবাদ,
ফরওয়ার্ড পত্রিকায় প্রকাশিত হতো। ছাত্রাবস্থাতেই তাঁর গল্প “দেশ” ও অদ্বৈত মল্লবর্মণের “নবশক্তি”
পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১৯৪৫ সালে এম.এ. পাশ করে তিনি অধ্যাপনা শুরু করেন নবদ্বীপ বিদ্যাসাগর
কলেজে। এরপরে পড়ান কলকাতার রিপন (সুরেন্দ্রনাথ) কলেজে। ১৯৫৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের
বাংলা বিভাগে যোগ দেন এবং ১৯৮৫ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানীয়
“শরৎচন্দ্র” অধ্যাপক ছিলেন।
কবি অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা সম্ভার - ^^ উপরে ফেরত
তাঁর রচনা সম্ভারে রয়েছে ৯ খণ্ডে “বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত” (১৯৫৯), যা তাঁর সাহিত্য সাধনার শ্রেষ্ঠ
কীর্তি। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে “চিন্তা বিচিত্রা” (১৯৯৫), “বাংলা সাহিত্যের সম্পূর্ণ
ইতিবৃত্ত”, “বাংলা সাহিতোর সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত, “উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ ও বাংলা সাহিত্য" (১৯৫৯),
“বাংলা সাহিত্যে বিদ্যাসাগর", “সাহিত্য জিজ্ঞাসায় রবীন্দ্রনাথ", “হাওড়া শহরের ইতিহাস” ২ খণ্ডে, তাঁর
আত্মজীবনী “স্মৃতি বিস্মৃতির দর্পণে”, “স্মৃতির উজানে”, “History of Modern Bengali Literature" (১৯৮৬)
প্রভৃতি।
সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “শ্রেষ্ঠ গল্প শ্রেষ্ঠ লেখক”, “জীবনের গল্প গল্পের জীবন”, “সত্যেন্দ্র রচনাবলী”,
“বিদ্যাসাগর রচনাবলী', “সঞ্জীব রচনাবলী”, বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায়ের সহযোগে “রাখালদাস রচনাবলী” ২ খণ্ডে,
সাহিত্য আকাদেমি থেকে ১৯৯৩ তে প্রকাশিত “বাংলা কবিতা সমুচ্চয় ১৯৪১-১৯৮৫” ২য় খণ্ড, প্রভৃতি।
তাঁর অনুবাদ গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে সারস্বত বেদান্ত প্রকাশন সংগঠন থেকে প্রকাশিত, অধ্যাপক ড. বেদ
প্রকাশ উপাধ্যায় দ্বারা হিন্দীতে ১৯৬০ সালে রচিত “कल्कि अवतार और मुहम्मद साहब ” এর বাংলা অনুবাদ “কল্কি
অবতার এবং মোহাম্মদ সাহেব”।
কবি অসিতকুমার বন্দোপ্যাধ্যায়ের প্রাপ্ত সম্মাননা - ^^ উপরে ফেরত
দেশ-বিদেশের অসংখ্য ছাত্র ও শিক্ষক তাঁর অধীনে গবেষণা করেছেন। তাঁর স্নেহধন্য ছাত্রদের মধ্যে
রয়েছেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক শঙ্কর। কবি, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন
করেছেন। কবি, অন্নদাশঙ্কর রায়ের পরে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির সভাপতি নির্বাচিত হন।
এশিয়াটিক সোসাইটিতে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের "বঙ্কিমচন্দ্র চটোপাধ্যায় গবেষক" ছিলেন।
১৯৮১ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি আন্তর্জাতিক বুদ্ধভাববাদ মহাসম্মেলনে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে
অ্যরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে ভাষণ দেন।
তিনি চিন্তাবিদ ও গবেষক হিসেবে একাধিক পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন।
কবি অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা - ^^ উপরে ফেরত
মিলনসাগরে আমরা মনে করি যে বাঙালী হয়ে পৃথিবীতে এলেই, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তার সাথে আসে একটি
কবিসত্তা, একটি অকর্তিত বা আন্-কাট্ হীরের মতো! এবার, এই আন্-কাট্ হীরের মত কবিসত্তাটিকে যে
যতটা ঘষা-মাজা করে, তাঁর কবিসত্তা ততটা উজ্জ্বলতার সঙ্গে চারিদিক উদ্ভাসিত করে। কথাটি মোটেই
অসত্য-ভাষণ নয় কারণ বাংলার ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও মনীষীদের ক্ষেত্রে আমরা তা দীর্ঘকাল ধরে সত্য
বলে দেখে আসছি। অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ও বাঙালীর জন্মসূত্রে পাওয়া, সেই কবিসত্তা থেকে
বাদ পড়েন নি!
তিনি ১৯৩৮ সালে ম্যাট্রিক পাশ ক’রে রিপন কলেজে ভর্তি হন। অঞ্জলি বসু সম্পাদিত “সংসদ বাঙালি
চরিতাভিধান” থেকে জানা যায় যে ছাত্রাবস্থাতেই তাঁর গল্প “দেশ” ও অদ্বৈত মল্লবর্মণের “নবশক্তি” পত্রিকায়
প্রকাশিত হয়। আমরা ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত “দেশ” এবং “রামধনু” পত্রিকায় তাঁর লেখা কবিতা পেয়েছি।
প্রথমটি, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য্য ও ক্ষিতীন্দ্র নারায়ণ ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত, “রামধনু” পত্রিকার বৈশাখ ১৩৪৬
(এপ্রিল ১৯৩৯) সংখ্যায় এবং দ্বিতীয়টি বঙ্কিমচন্দ্র সেন সম্পাদিত, “দেশ” পত্রিকার ৬ই শ্রাবণ ১৩৪৬
(২ জুলাই ১৯৩৯) সংখ্যায় প্রকাশিত। ১৯৩৯ সালে কবি, রিপন কলেজের আই.এ.-র ছাত্র ছিলেন।
অর্থাৎ আরও অনেক বাঙালী লেখক-সাহিত্যিকের মতো তিনিও কবিতা দিয়েই সাহিত্য জীবনে প্রবেশ
করেছিলেন। ধীরে ধীরে তাঁর মেধা গদ্য-সাহিত্য ও গবেষণার স্রোতে প্রবাহিত হতে থাকে।
বাংলার কবিদের তো এখানে তোলা হচ্ছেই। বাংলার ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও মনীষীদেরও আমরা
মিলনসাগরে তাঁদের কবিতার মধ্য দিয়ে তুলে চলেছি। বাংলা কবিতার কালানুক্রমিক সূচীতে এই কবিদের
জীবনীর মধ্য দিয়েই আমরা পাচ্ছি বাঙালীর ইতিহাস!
শনিবারের চিঠি পত্রিকার কবি অসিত কুমার - ^^ উপরে ফেরত
“অসিত কুমার” নামে এক কবির পাঁচটি কবিতা আমরা কবি সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত "শনিবারের চিঠি"
পত্রিকার ১৯৪৮-১৯৫০ সালের সংখ্যাগুলির মধ্যে প্রকাশিত পেয়ে, সেই নামের কবির পাতা প্রকাশিত
করেছিলাম মিলনসাগরে ২০১৬ সালে। সেই কবি সম্বন্ধে আমরা কিছুই জানতে পারিনি।
মনে প্রশ্ন জাগে --- এই কবি অসিত কুমার কি পদবী ছাড়া কবি অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়? যদি তাই হয়
তো আমরা আশ্চর্য হবো না। এ বিষয়ে কেউ কোনো নতুন তথ্য দিলে আমরা উপকৃত হবো।
মিলনসাগরে কবি অসিত কুমারের কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .।