ছবির মত কিছু সংলাপ যন্ত্রনাকে তীব্র করে! অনাবিল রোদ্রের ভাঁজে দিনের কুসুম আড়াল হয়, আর বেকারত্বের ঘাম ভিজিয়ে দেয় সার্টিফিকেট!! কলেজ পাশ করা গ্রাজুয়েট ডিগ্রিটা আমার কাজে লাগলো না; স্কুলে প্রথম হওয়া বইপাগল ছেলেটি, গোলাপি আলোর উঠানে বই এর করিডোরে, রাত জাপন নিয়মিত, চোখে আজ মোটা পাওয়ারের চশমা। চাষীর শিক্ষিত ছেলে শেখেনি চাষ মেধার কোন দাম নেই, নোটের গন্ধে ফুসফুসে প্রদাহ কলম ধরা হাতে সিগারেট! বেকারত্বের দাবানলে পুড়ে ছাই হচ্ছে, অংকে ১০০ পাওয়া হাজার দলিল না না সরকারি কিছু কাগজ! জানো মা হিয়ার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, পাত্র স্কুল মাস্টার; পাগলি মেয়েটা বলতে পারেনি বেকার ছেলেটাকে ভালোবাসে। পাশের বাড়ির কোনরকম মাধ্যমিক পাস ছেলেটি পুলিশের চাকরি করে। বাবাকে বলেছিলাম নতুন একটা ফ্রম এসেছে আমাকে ২০০ টাকা দেবে? বাবা বলেছিল না আমি আর পয়সা দিতে পারব না; আলমারিতো ভরে গেছে অ্যাপ্লিকেশনে! আমার আছে রেলগাড়ি! মরচে পড়া টেবিল ল্যাম্পটা সব কিছুর সাক্ষী; দুর্ভাগ্যের নিপুণ পরিহাসে হাজার সুইসাইড নোট! পৃথিবীর কোন ডাক পিয়ন তার ঠিকানা পাবে না!
পাথরের শরীর নিংড়ে যতটুকু জল পায়, একটা মৃত দেহকে স্নান করিয়ে, বৃষ্টির রঙে কিছু অক্ষরের চিরকুট , পাঁজরের আড়ালে দিয়ে বলেছি , পৌঁছে দিও আমার মায়ের কাছে।
তখন আমার বয়স মাত্র ১১ বছর , আশ্বিনের এক বিকেল বেলা সেই যে চার জনাতে মাকে নিয়ে গেল, মা আর আসেনি! মা এখন ফ্রেমে বন্দী কাঁচের কারাগারে!
তোমার দৃষ্টি দূরত্বে রেখে যাবো, অসংখ্য পোস্ট অফিস ; পথের প্রতি বাঁকে আমার এক একটা অবয়ব, যারা চিরকাল কাঙালের মতো চেয়ে থাকবে ঠিকানা পাঠিয়ো আমার মায়ের . . . .।
দোতলার বারান্দায় নির্জনে পড়ে থাকা হুইল চেয়ারটা ভিষন একা ! তিমির অন্ধকারের সাথে পাল্লা দিয়ে ঠাকুরদার গল্প বলা মুখটা ভেসে আসে এখনোও। মৃত্যুকে প্রথম ছুঁয়ে দেখা। শেষ বিকেলে রৌদ্র যেভাবে পালিয়ে যাই ভিনদেশে পর-প্রাতে ফিরে আসে আবার নতুন নাম নিয়ে। ঠাকুরদা আর আসেনি তাঁর শেষ-প্রশ্বাসের স্তব্ধতা আজও একটা ঘোরের মধ্যে আমাদের বেঁধে রেখেছে কলেজ থেকে যখন বাড়ি ফিরি দাদা ,ভাই ,দিদি ,সবাই এমনকি জেঠু ,কাকামনি ,বাবা সবাই এসে জড়ো হতো আমাদের দোতালার বারান্দায়। আর প্রধান অতিথির আসন ভরিয়ে রাখত দাদু -ঠাম্মা সে এক পরিণত চাঁদের হাট। তাঁর উচ্চারণের ঘ্রাণে আমরা খুঁজে পেতাম গীতবিতান এর প্রতিটি অক্ষর। পড়ন্ত বিকেল বেলা আমাদের দুয়ারে লাল- হলুদ কৃষ্ণচূড়ার মেলা বসতো আন্ত বৃষ্টির পর ভেজা বকুলের গন্ধ ভেসে আসত আমাদের সেই ছোট্ট পৃথিবীতে পেতাম প্রিয় শান্তিনিকেতন।
ঠাকুরদার বড় সাধ ছিল আরাম কেদারায় বসে, রেডিওতে কানপেতে রাখবে সারাবেলা। মাঝে মাঝে একটা উৎসবের সময় তাকে সবাই ঘিরে থাকবে তেমনটাই হয়েছিল। চাকরিতে প্রথম মাসের মাইনা পেয়ে বাবা দাদুর জন্য কিনেছিলেন আরাম কেদারা। ইচ্ছে হলেই আমাদের সেই চেনা পৃথিবীতে তেলেভাজা কিংবা সামান্য খিচুড়ির বনভোজন। বৃষ্টির উল্কার মতো সে সকাল গুলো হারিয়ে গেল! ঠাকুরদা মৃত্যুর পর আমরা সবাই হলাম অনাথ ,অভিভাবকহীন। ঠাকুরমা ভালোবেসে আরামকেদারার নাম রেখেছিলেন হুইল চেয়ার আজ আর চাঁদের হাট বসে না, আপন মনে কেউ গান করে না, কবিতা বলে না দোতালার বারান্দার রাস্তাটা ভুলে গেছি আমরা কিন্তু প্রতিদিনই ঠাকুমা একা একা এখনো সেই ফেলে আসা ঘ্রাণ গুলো খোঁজেন, যে অবয়বের কোন বাস্তবতা নেই শুধু বিপুল সত্তা। ঠাকুরমা তার নরম দৃষ্টিতে হুইলচেয়ারটা ছুঁয়ে ১৭ বছর বয়সে এক পিঁড়িতে বসে থাকা হলুদ পাঞ্জাবির প্রথম পুরুষ কে এখনো খোঁজেন।
নীরবতা এখানে একা নয়, যতটা একা ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা আমি। অন্ধকারেরও একটা নিজস্ব রঙ আছে যেটুকু দ্যূতি আমার নেই এত নির্জনতায় যদি দাঁড়াবার একটু জায়গা পেতাম!
আমার অবহেলা সহ্য হয়ে গেছে;চলে যাচ্ছি! ঠোঁটের কোণে সত্যিটা লোকানো থাক;সুখে আছি, ঘুম নেই , খুধা নেই! আমার উস্কো চুলে হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও অনেক কাজ বাকি . . . .
মেঘের কাছে যেতে হবে মরুভূমির ভীষণ তৃষ্ণা! রেললাইনে বিশ্রাম করছে বেকার ছেলেটা, রাস্তার পাশে নির্যাতিতা খারাপ মেয়েটা পরে আছে! মোখোস পরা কুকুর গুলো নাকে রুমাল চেপে আছে, লম্পটদের চক্রবহূ ভাঙতে হবে আমি ভিষন একা, তোমার মা, বোন ভালো আছে তাইতো ব্যস্ত তুমি ! আমার অনেক কাজ. . . . . .
জীবনের এপারে দাঁড়িয়ে আছি! শূণ্য ক্যানভাসে একটা বিলুপ্তপ্রায় অক্ষর, কি জানি কি রেখে গেলাম? মরা চাঁদ টিপ দিয়ে যেত রাতের কপালে , আমি তখনও পড়ার টেবিলে; পাশে রেডিওতে ভেসে আসত কবিতা, বিশ্রামের কপাট বন্ধ করে, আমাকে নেহায় মাতিয়ে রাখতো। মাঝরাতে যখন সুরের ঝংকার নিভে যেত, আমি ক্লান্তির অবসরে তুমি যে কবে আমার চার অক্ষরের নামটা ভুলে ; ভালোবেসে নাম ধরে ডাকবে।
হাজার নক্ষত্রের মধ্যে তোমাকে যখন দেখি আমার বড্ড লোভ হয় , তুমি যে কৃষ্ণচূড়া ছুঁয়েছিলে তার হলুদ রঙ হতে নয় , মিষ্টি গন্ধ হতে নয় , বিশ্বাস কর ভীষণ লোভ হয় - যদি তার শুকনো বাকল হতে পারতাম, আমার কর্কশ শরীরে তোমার পরশ, ভাবতেই শরীরটা কেমন শিহরিত হয়ে ওঠে। যার উচ্চারণের রিংটনে ঘুম ভাঙাতো, ফ্রেমে বন্দী কাচের কারাগার থেকে- যদি একটি বারের জন্য তোমাকে ছুঁতে পারতাম।
একখণ্ড বারুদ জ্বালিয়ে দিক দাবানলকে, তবুও আমাদের ভালবাসা বেঁচে থাক। হাজার পশলা বৃষ্টি ভিজিয়ে দিক শুকনো সমুদ্র, তবুও আমাদের ভালোবাসা বেঁচে থাক। মেঘ তুমি নিয়ে এসো গভীর প্লাবন, সুনামি, ভূমিকম্প তোমরা ওলট পালট করে দাও পৃথিবীটা, তবুও আমাদের ভালবাসা বেঁচে থাক। আকাশ তুমি বিশাল পরিবার নিয়ে , বিকলাঙ্গ করে দাও মলিন ভূখণ্ড, তবুও আমাদের ভালবাসা বেঁচে থাক। লুকিয়ে থাকা দুঃখ ও জরাজীর্ণ এসো । হ্যাঁ তোমরাও এসো লাখো পিশাচের দল, পৃথিবীর যত শত্রু সবাই মহামারি নিয়ে। বিশাল সূর্য তুমি আরও প্রকাণ্ড হয়ে ছারখার করে দাও,, এই পৃথিবীর ভগবান তোমাকে বলছি- শুধু একখন্ড ভূমি বাঁচিয়ে রেখো, আমাদের ভালবাসার পরিনতির জন্য,,, আমরা ইভ আর আদমের মত একটা প্রজন্মের সৃষ্টি করে, জন্ম দেব একটা নতুন সভ্যতার। যন্ত্রণা নেই এমন একটা আকাশ, হাসির কল্লোল আর আলতা রাঙা পায়ের নুপুরের নিক্কনে সারা পৃথিবী জেগে থাকবে , তখন বলব না আমাদের ভালোবাসা বেঁচে থাক বলবো ভালোবাসা বেঁচে থাক ভালোবাসা বেঁচে থাক………..
আজ অফিস ছুটি, দোতলার বারান্দায় বসে আছি একা, ভীষণ রকমের একা! ডাইরির পাতায় খুঁজছি আমার অমল নামটা এখন আমি বড় কলেজে অধ্যাপনা করি পরিচয় ডক্টর অমল কান্তি চট্টোপাধ্যায়
সারাদিন পর একটা হকার যখন বাড়ি ফেরে ছোট্ট মেয়ে ভেজা গামছা দিয়ে ক্লান্ত শরীরটা মুছিয়ে দেয়, সুন্দরী স্ত্রী দরজার পাশে উঁকি দিয়ে ভালোবাসা রেখে যায় মা থালা ভরে ভাত খেতে দেয়।
ভাঙ্গা কুঁড়ে ঘরে সুখের যে মেলা বসেছিল আমার দোতালার বারান্দায় তার সামান্যটুকু নেই তখন নিজেকে সুখি জীবনে ভিখিরি মনে হয়। ছেলেবেলায় স্কুল থেকে যখন প্রগতি পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরতাম সবাই সুনাম করত ভালোবাসা দিতো
আজ মাস গেলে যখন মাইনার টাকা পায় সবাই আবদারে কাছে আসে শুধু মা বলে নিজের জন্য কিছু রাখিস এ বিভুঁই যেন হিংস্র বিমাতা মাঝ রাতে যখন একা থাকি আমাকে ছুঁয়ে যায় বলে আমিও ভীষণ রকম একা শূন্যস্থানের হাত ছুঁয়ে খুঁজি সুখ কোথায়?
আমি কখনই নিজেকে আলাদা করে দেখিনা। কেও বলে বই পাগল, আবার কেও খারাপ ছেলে, আমি ওসব নিয়ে ভাবিনা, আমিতো সেলিব্রিটি নয় . . . . . আমার নিচুতলা ভুলে যাবো আমার শৈশব . . . . ময়ের সাথে আধ পেটে খিদে মেটানো প্রিয় বন্ধুর সাথে বৃষ্টি ভেজাদুপুর।
প্রিতিদিন সকালে খবরের কাগজ পরতে ভয় হয় যদি শুনি আমার প্রিয় তারকার প্রয়ান হয়েছে!! মৃত্যু হোক তাদের অহমিকার. . . .যন্ত্রণার বেচে থাক তাদের শিল্প
রাতের আকাশে মিটমিটে তারারা যখন ক্লান্ত হতো আমি শব্দের সাথে কথা বলতাম কখনওবা উদাস মনে চেয়ে থাকতাম আমার প্রিয় তারকাদের দিকে মা আচমকা পিঠে থাবা দিয়ে বলতো কাঁদছিস কেন খোকন তুইতো আমার চেনা প্রিয় সেলিব্রিটি যে নিপুণ স্বপ্নের আদর ভুলে মায়ের অম্লান চোখে হাসির কুসুম ফোটাতে ভাঙা সংসারের হাল ধরেছে সেই তুই তো আমার শ্রেষ্ঠ সেলিব্রিটি।
আমি যখন প্রিয় তারকাদের খুঁজতাম www. এ মা তখন আমার কবিতায় তার প্রিয় তারকা কে খুঁজতো
আমি যেমন রেডিওতে কান পেতে রাখতাম সোতিনাথ, মুন দি, আর রাজা দার কবিতা শনার জন্য তেমনই একালা মা ছোটো মেগাজিনে আমার প্রকাশিত কবিতা সবাইকে বারবার দেখিয়ে বলতো এই দেখ আমার খোকন কত বড় কবি হয়ে গেছে আমি চোখ মুছতাম আর দেখতাম মায়ের হাসি বলছে আমিও সেলিব্রিটি আমার সবথেকে বড় পৃথিবীতে . . . . .।
তিমির হৃরণময়ে বন্দী আমি ; তোর হাজার উপভোগের উদ্বাস্তু উপহার আমার সহকারি বন্ধু,ভির করে প্রতিনিয়ত! টিকে থাকার প্রতিযোগিতায় আমার রক্ত মাংসের নরম শরীরটা ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয় প্রতিমুহূর্তে আমি ভীষণ কান্না করি লুকিয়ে দেখতে পাই আমার মতো শতশত রক্তপিণ্ড নেমে আসছে তোর উদরের পৃথিবীতে । কান্নার শব্দ দূষণে দম বন্ধ হয়ে আসে আমার। হয়তো একই যন্ত্রণার স্বীকার ওরা আমরা তো ধর্মঘট করতে পারিনা, আমাদের কোন সংগঠন নেই; সবাই একটু বাঁচতে চাই! জানিনা পৃথিবীটা কেমন ? আমি শুধু দেখতে চাই, হয়তো আমি কুৎসিত কোন স্নেহ চুম্বন লাগবেনা? তবে শুনতে পায় কেউ বলছে শিকড় থেকে উপড়ে ফেলো !
উত্তর খুঁজছিলাম . . . . এই পৃথিবীর যত পুস্তক, শিক্ষিত মানুষ আছে সবাইকে জিজ্ঞেস করেছি ওরা বলছিল তুমি নাকি খারাপ মেয়ে ; আর আমাকে পৃথিবীর আলো দেখতে দেবেনা! বিশ্বাস কর আমার কোনো পরিচয় লাগবেনা, পৃথিবীর কেও জানবেনা তোমার নোংরা লালসায় আমায় জন্ম দিয়েছো আমি জানি না আকাশ কত বড়? কতটুকু হাত বাড়ালে তাকে ধরা যায়, আমি জানিনা অন্ধকারের কেমন রঙ, আমি জানিনা চোখের জলের কেমন স্বাদ, আমি জানিনা সুখ কেমন দেখতে? আমি তোমার ভ্রুণ আমাকে বাঁচতে দাও।
প্রদীপ নিভলে অম্লান আলো ঘুমিয়ে পড়ে, ঠিক যেভাবে স্মৃতির অধ্যায় আরাল হয় সময়ের স্তব্ধতায়। বিদায় বলে কিছু নেই,শুধু নিয়মের দাস হয়ে ; জীবনের এক একটা অক্ষর মেনে চলা। বিজয়া সে তো উৎসবের একটা সহেলী রং, পান্থশালার নতুন উদাহরণ প্রতিটি মন্ডপ।
বিজয়া বলতে মনে পড়ে, ৭ বছর বয়সে বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম মা কোথায়?বাবা বলেছিল মা আকাশের তারা হয়ে গেছে ,আর আসেনি!
বিজয়া বলতে মনে পড়ে, রূপলেখার কথা, কলেজ বেলায় বলেছিলো আসবি কিন্তু, আমার বিয়েতে তার ভেজা ঠোঁটে, চোখের কোনে অনেক কথা লুকিয়ে ছিল এত দিন কেটে গেল তবুও ডাকবাক্সে কোন চিঠি আসেনি
বিজয়া বলতে মনে পড়ে, ছোট বোনের কথা দুচোখে হাজার স্বপ্ন, হাসতো -খেলতো উঠান জুড়ে ভাইফোঁটা ,রাখি পূর্ণিমায় কত আবদার . . . আমার দুহাতে রাখি , কপাল জুড়ে জোম তাড়ানো ফোঁটা । নরপিচাশদের লালসায় জানিনা কোন মৃত্যুর দেশে হারিয়ে গেল ,,,,,, সোনা বোনটি আর ফেরেনি !
পঞ্জিকার নতুন তিথি নিয়ে আবার আসবে শারদীয়া । প্রজাপতি রং এর মত স্মৃতির অধ্যায়ে কেমন যেন বসন্ত লুকিয়ে পড়ে ; কিন্ত আমার ফেলে আসা বিজয়া প্রহর আসবে কি পুরোনো সে রঙ নিয়ে?