কবি বিশ্বজিৎ হালদারের কবিতা
*
কে জিতেছে?
কবি বিশ্বজিৎ হালদার

সবাই বলছিল আমি হেরে গেছি,
ফুটপাতের গোলাপী আলো যাদেরকে জায়গা দেয়নি!
আমার জীর্ণ কুঁড়েঘরে ওরা মানুষ।
হয়তো দুধে-ভাতে দিন কাটেনি তাদের,
কিন্তু অনাহারের আঁচ  তারা কখনো পায়নি
আজ সবাই বড় চাকরি করে
সুন্দরী স্ত্রী , ছেলে মেয়েরা বড় স্কুলে পড়াশো করে
সুখে আছে ওরা।

সবাই বলেছিলো আমি হেরে গেছি
আজ চাঁদ নামেছে মাটির বুকে
যেমন ছিল অন্ধকারে আলোর ঝিলিক লুকিয়ে
হ্যাঁ আমি একটা চাকরি করি,
ওদের মত মোটা মাইনে হয়তো আসেনা।
কিন্তু ভালোবাসার শতাংশে কে এগিয়ে
কে জিতেছে বলতে পারো?

প্রতিবছর সবাই  আমাকে নিজের পছন্দের
নতুন পাওয়ারের চশমা দিয়ে যায়।
পথে আচমকা দেখা হলে, সবাই পা ছুঁতে চাই
কেউবা বুকে জড়িয়ে ভালোবাসা বিনিময় করে
ভির ট্রেনে নিপুন ভদ্রতায় আমার জন্য জায়গা ছেড়ে দেয়
২২ বছরের একটা ছেলেকে
যখন জ্যেষ্ঠ দাদা মাস্টারমশাই বলে সম্মান করে
তখন হিসেব করি হেরে যাবার সংজ্ঞাটা।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ইতি অমৃতা
কবি বিশ্বজিৎ হালদার

বন্ধ ঘরে  জানালার এপার থেকে, পৃথিবীকে দেখতে হয়!
শৈশব পেরিয়ে সামান্য কৈশোরে পথচলা শুরু,
আচমকা বৃষ্টির উল্কার মতো নরম নদীটা মরুভূমি প্রায়!
সবুজ দুর্বার রঙ নিয়ে যার জন্ম হয়েছিলো,
জীবনের প্রাঞ্জল, উল্লাস হারিয়ে
আজ সে শুকনো পর্ণমোচী।

১১ বছর বয়সে সত্যিই সেদিন যদি
ক্যান্সারে আমার মৃত্যু হতো , এতটাও দুঃখ পেতাম  না,
কিছু মানুষের চোখে জল আসতো।
অন্তত আজ আমি উপভোগের বস্তু হতাম না ।

ঈশ্বর ভুল করে আমায় কেন সুন্দর বানিয়েছেন জানিনা,
গোলাপি রং হয়েও, আমি আজ আঁস্তাকুড়ে!
আমার নূপুর নিক্কনে, অন্ধ ঠাকুমা পথ খুঁজে পেত,
দাদু বলতো মন দিয়ে পড়াশোনা কর দিদিভাই,
তোকে অনেকবড় ডাক্তারহতে হবে।
কি জানি সেই  স্টেথোস্কোপ পৃথিবীর কোন জঞ্জালেরস্তুপে।
সভ্যতার রাজশাহী লালসায়,
অনিমা ,মন্টি, আর পায়েলের মত আজ আমিও
কাগজের পাতায়  একটা শিরোনাম,
সবাই একটা নাম রেখেছে . . . . খারাপ মেয়ে ।

সেদিন যদি মায়ের কথা শুনে,
স্কুলের শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান শেষে একটু রাত করে বাড়ি না ফিরতাম,
তবে হয়তো আমিও বন্ধুদের সাথে কলেজে যেতাম,
মন খারাপ হলে পাশের বাড়ির আবিরের সাথে ঘুরতে যেতাম,
যে প্রতিদিন আমার বাড়ির সামনে দিয়ে
সাইকেলের বেল  বাজিয়ে যেত,
বন্ধুত্ব অতিক্রম করে কখনো বলতে পারিনি তোকে ভালোবাসি অমৃতা।

আজও সে প্রতিদিন আমার বাড়ির সামনে দিয়ে যায়,
অথচ বলতে পারিনা, জানি রে পাগল,,
কারণ সবাই বলে, আমার তুহিন শরীরটা
আজ নর্দমার আবর্জনা !

বৃষ্টির উল্কার মতো আমি চলে যাব!
সেদিন আকাশের প্রত্যেকটা তাঁরা কে জিজ্ঞেস করে দেখো
যদি কখনো ইচ্ছে হয়
খুঁজতে চাও  আমায় ভালো মেয়ে বলে  ডেকো।
আজন্ম মৃত্যুর পরেও প্রতিটি স্পন্দনে আমি শতদলের মুকুল হয়ে বাঁচবো,
সেই ছোট্ট আমির মধ্যে, ইতি . . . .   
সেই মেয়েটা অমৃতা

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
তোমার অহংকার
কবি বিশ্বজিৎ হালদার

উদাসী হাওয়ার জন্য মন ছুটেছে,
ভাঙা জানালায় পাতাদের ছাওয়া
জোনাকি ছড়ানো আকাশকে ছোট করে ;
আমার ভাবনার পৃথিবী কে দিয়েছে আবরণ।
বিশুদ্ধ যন্ত্রণায় সে বলে তুমি সখার জন্য কাঁদছো?
আজ উদ্বাস্তু আমাদের সেই পরিচয়!

বিনা নুপুরে হাঁটছে সময় একলা আঁধারে
মিষ্টি আলোর ঢেউ ছড়িয়ে দিচ্ছে রোদ্দুর
এক পশলা বৃষ্টির অভাবে নরম নদী মরুভূমি প্রায়!
তবু মুখস্থ অভ্যাসে দিন কাটে
সোনার ধরে বড় হওয়া একটা মৃন্ময়ী
একটু একটু কর ক্ষয়ে গেছে
কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল না তো
তোমার অহংকারের দাবানলে
একটা মিষ্টি সম্পর্কে ভাঁটা নেমেছে
কিছু অভ্যেসী আদরের শেষে ক্লান্তির সকালে
হয়তো বা কোন অস্বস্তিতে মনে পরবে
সেই খারাপ ছেলেটার কথা
হঠাৎ যদি শুনতে পাও আমি আর নেই
কেমন হবে তোমার অনুভূতি
ভিষন জানতে ইচ্ছে করে তোমার চোখে কতটা জল আসবে
কতটা অসুস্থ হয়েছে তোমার অহংকার
কিছু স্মৃতি মরীচিকা আজ!
কি হারিয়েছি আমি?

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
স্বপ্ন দেখি
কবি বিশ্বজিৎ হালদার

মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় , অনেকটা দূর পালিয়ে যায়. . . .
না না পদ্ম দীঘির ঘাটে না,
আমার কল্পনার এক পৃথিবীতে।
সবুজ মরুভূমি আর শুকনো সমুদ্রের পাশ দিয়ে
একটা গলিপথ ।
মিষ্টি আলোর ঢেউ ছড়িয়ে দিচ্ছে রোদ্দুর,
বাতাসের নরম শরীরে -অনেকগুলো চেনা গন্ধ . . . .
জোনাকিরা আলো অন্ধকারের সাথে ,
অন্য সাজে খেলা করে....
অন্ধ বাউলের মেঠোসু রের মোহে ;
দিশেহারা পথ চলা সুখ নেই, দুঃখ নেই ।
সে এক অন্যরকম জীবন .... শুধু স্বপ্ন বোনার সকাল ।
আমায় তো আর বলবে না কেউ ,
এই খোকন বই গুলোকে সরিয়ে রাখতো !!
সংসারের হাল ধরার সময় এসেছে !!
ঠিক তখনই
আমার ভেজা চোখের ক্যানভাসে দেখতে পায়------
আমার ফেলে আসা নরম শৈশবটা,
কেমন দুরন্ত মেজাজে এখনো খেলছে . . . .
এমন সময় যদি পাশে পেতাম ,
প্রিয় সখা রূপালেখা আর আমার টিয়া পপিকে ।
আমার কবিতা শুনিয়ে,সময় কে ঘুম পাড়িয়ে রাখবো
এই ছোট্ট অবসরেও ভাবী,
পৃথিবীটা এক আকাশ ড্রইং খাতা,সময়ের কোন বাঁধন নেই !
আমার ইচ্ছে হলে মনের তুলিতে পৌঁছে যাব ছবির দেশে---আমার ক্লান্তিতে ,
সমগ্র পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়বে !
আমি চোখ খুললে সবাই নতুন সুরে বেঁচে উঠবো হিসেবগুলো মিলল কই??
স্বপ্ন দেখছি এখনও ..... হাজার শতাংশে অপূর্ণ !!
আচমকা জীবন অলিন্দে ..
আমি যেন নীল আকাশের লাল ঘুড়ি!!!
একটা স্বপ্ন দেখা চোখ
বাস্তবে আজ কাগজের ঘুড়ির মতো !!
উদার আকাশে বিলিয়ে দিলেও.... নিচে লাটাই হাতে
প্রখর বাস্তব আমাকে বেঁধে রেখেছে !!!
তবুও স্বপ্ন দেখি॥

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
হাতটা ধরিস দীপু
কবি বিশ্বজিৎ হালদার

স্মৃতির বেলকনি থেকে দেখছি পুরনো পৃথিবীটা
আজও মাঝরাতে প্রতিদিনই রেডিওর পাশে বসে থাকি
তোর কবিতা শোনার জন্য।
সেদিন ভিড় ট্রেনে দেখলাম, জানলার পাশে  
গীতবিতান নিয়ে বসে আছিস,
নরম প্রকৃতি তোকে আগলে রেখেছে
সেদিনের সেই বইপাগল ছেলেটি, আজ  সেলিব্রিটি
কত মানুষ তোকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে,
একটা অটোগ্রাফ নেবে তাই,
চোখে চৌকো ফ্রেমের চশমা, গাল বোঝায় দাড়ি
তোকে এতটা সুন্দর আমার কখনও মনে হয়নি
হঠাৎ যদি  বলি কেমন আছিস দিপু
তুই কি চিনতে পারবি
সালোয়ার-কামিজ পরা মেয়েটা গোলাপি শাড়ি ঘোমটাতে
আমার ভীষণ লজ্জা করছে রে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে
বাবা সেদিন বলেছিল তুই নাকি বেকার ছেলে ।
শুনলাম বড় কলেজে অধ্যাপনা করছিস
হিংসা  হয়নি শুধু আমার ছোট ছেলেকে ছুঁয়ে
কাঁদছিলাম, আজ যদি তোর ঔরসে ওর জন্ম হতো
খুঁজে পেতাম ওর মধ্যে তোর পাগলামিটা  

ক্লাসের ফার্স্ট বয় মাঝে মাঝে উঁকি দিত
পাশের ঘরে ইরাবতীর দিকে, বোকা ছেলেটা
প্রতিবার বকা শুনতো , আমি হাসতাম।
তবুও কখনো সে বলতে পারেনি
তোকে খুব ভালোবাসি রে ইরাবতী।

ছুটির দিনে আচমকা চিরকুট লেখা  তৈরি থাকিস
আজ আমরা দুজন মিলে আবার যাবো রূপসা নদীর
কাছে সেখানে একটা মেলা বসেছে
তোর পছন্দের সব পাওয়া যায় , দুঃখ বিক্রি হয়
সুখ কেনা যায় কোনো পয়সা লাগে না
আমাকে আজ একবার নিয়ে যাবি দিপু
আমার সব দুঃখ গুলো বিক্রি করে দেব সুখ বলতে হাতটা ধরবো
সেদিনও যেমন তোর ডাকে সুরভি মেঘ ছুটে এসেছিল,
দুরন্ত সমুদ্রের ঢেউ টা কেমন বাচ্চা শিশুর মত
তোর কাছে মাথা নোয়ালো তোর গল্প সোনার লোভে,
শালবাগান এর পাশে যে অনাথ শিশুরাদাঁড়িয়ে থাকতো
তুই প্রতিদিন খাবার কিনে দিতিস
আজও দেখা হলে সে আমাকে বলে তোর কথা জিজ্ঞেস
করে আমরা কেমন আছি।
ওদের নরম ঠোঁটে হাসির কুসুম দেখব বলে মিথ্যে কথা বলি।

কলেজ  থেকে ফেরার পথে,পড়ন্ত বিকেলে, বৃষ্টির উঠানে
সেই প্রথম  আমাদের বৃষ্টি ভিজা দুপুর।
আচমকা তুই বলেছিলি ফুচকা খাবি।
সেই প্রথম রাস্তার পাশে সামান্য একটা ফুচকা খাওয়ার নেশায়
পেয়েছিলাম একখণ্ড কফি হাউস হাজার মনের কথা।
কিন্তু সামান্য পরিচয় সেদিনও তুই বলিস নি
বোকা তো আমিও। বাবা বলেছিল ছেলে বড় ইঞ্জিনিয়ার,
জানি বাবা ভীষণ রাগি, সেদিন যদি একটিবার বলতাম
তোর হাত ধরে বাঁচতে চাই।

প্রতি রাতে আমার উদ্বাস্তু শরীরটা উপভোগের শিকার হয় তবে
legally
প্রতিমুহূর্তে আমি সময়ের কাছে হেরে যাচ্ছি
অনিচ্ছার নিপুন নিয়মে কোন রকম বেঁচে থাকা
যদি ফিরে আসি গ্রহণ করবি আমাকে,
হয়তো সেদিনের মতোই বলবি গ্রহণ করার তো কিছু নেই,
তোমার অমন রূপে কিবা দাম আছে আমার কাছে।
জানি আজও সেই কথাটাই বলবি নউজানে বিলাইছো যে দান সারা পৃথিবীর তা নাই
নইলেকি আর দাতা আসে গ্রহীতার  দ্বারে প্রেম ভিক্ষার লাগি
আমার কোনো আবদার নেই
নাইবা হলাম এক দুয়ারের অতিথি
সুযোগ পেলে শুধু আমার হাতটা ধরিস দিপু

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ইতি পুনশ্চ বলে ডেকো
কবি বিশ্বজিৎ হালদার

আজন্ম মৃত্যুর পরেও দিনটার কথা ভুলে যওয়া সম্ভব নয়।  অনাগত বৃষ্টিরা উল্কার মতো
রেখে গেল, হাজার জলীয় বাষ্প, কিন্ত আমাদের একতলার ছাদে তার কোন ছাপ নেই!
দুজনে দেখছিলাম আমাদের চেনা আকাশ , বাবা হঠাৎ  বলেছিলেন আজ থেকে খুককে
জল আনতে পাঠাবো না,প্রশ্ন করেছিলাম কেন? বাবা রেগে গিয়ে বলেছিলেন , দেখতে
পাসনা প্রতিদিন খবরের কাগজে পাতায় তোর হাজার বোনের রক্ত মাখা নগ্ন শরীর... না
আর মুখে আনতে পারছি না ,ওই বিভিষিকা উপভোগের . . . .!
একটা সর্বহারার কাছে নিয়ে গিয়ে বলেছিল ওই দেখ, মানুষটা আবর্জনা থেকে
একটা একটা করে ভাত নিয়ে রাখছে আর বলছে, এটা আমার দীপার জন্য, এটা আমার
সোমার  জন্য. . . আর বুঝতে অসুবিধা হয়নি। অধ্যাপক বাবার ইসারা,,,
যখন আবার কলেজ যাওয়ার কথা , আমি তখন সমাজের জঞ্জাল পরিষ্কারে ব্যস্ত।
প্রতিমুহূর্তে মৃত্যু আমার কাঁধ ছুঁয়ে থাকে,
হয়তো তোমাকে শেষ চিঠি লিখছি মা ।   আমার খেলনা স্টেথোস্কোপ ,সাধের কৃষ্ণচূড়া
কেমন আছে মা।
তুমি আমার জন্য ভেবোনা . . . . একটা দাগ রেখে যাবো,,,সারা পৃথিবী তোমাদের মনে
রাখবে।
রূপরেখা কে বলবে তোমার খারাপ ছেলেটা
তাকে খুব ভালোবাসে।
আমি যদি না ফিরি ,নিশ্চিন্তে খেলতে যাওয়া বালিকা কে জিজ্ঞেস করলে ,তোমার বাবাই
এর কথা বলে যাবে  ;আমি ওদের আনন্দে বেঁচে থাকবো।
আর কখনো যদি ভীষণ মন খারাপ হয়,
তবে ডেকো আমি আসবো ।
ইতি তোমার খারাপ ছেলে কিংবা পুনশ্চ. . . .

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ওরাই তো ভদ্রলোক
কবি বিশ্বজিৎ হালদার

শুভ আলপনায় সাজিয়ে ছিলেন সৃষ্টিকর্তা
এই সমাজ সংসার তনুধর
সুখ কলরব নীল আকাশের আবরণে  
সমাকীর্ণ রবে এই উপনিবেশে
মৃদু সমীরণ তৃপ্ত সৌরভ সুখ বসন্ত দেবে
দিশেহারা শিহরণ কিন্তু কুলষিত আজ সেই সুরভী
ওনাদের সান্নিধ্যে ওরা আঁটোসাঁটো পোশাকে ভদ্রলোক ভির বাসে কাদামাখা পোশাকের পরসে
নাক সিঁটকে বলে সর সর
মজদূরের হাই তোলা গন্ধ পেয়ে নাকে রুমাল চেপে ধরে মাঝ রাতে বাড়ি ফিরে টলতে টলতে
মুখে গোজা সিগরেটে
পণের টাকা না পেয়ে পুড়িয়ে মারে ঘরের বধূকে
ওদের লালসার বহ্ণি উপহার দেয়
পথে মাঠে পড়ে থাকা আমার হাজার বোনের
রক্ত মাখা নগ্ন শরীর
কেউ শোনেনি চিৎকার কিংবা করেনি প্রতিবাদ
ওই বিভীষিকা উপভোগের
বিচারকের বাণি বলে অবাঞ্চিত ওরা  ,ওরা খারাপ মেয়ে আর ওনারা সবাই ভদ্রলোক !

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
এই সকালে
কবি বিশ্বজিৎ হালদার

তুমিও তো বলেছিলে মাগো
ভাঙ্গা ঘাড়ে সদ্য জ্বলে ওঠা প্রদীপ আমি
শান্ত বাতাস হয়ে ছিলে পাশে
আমার অনেক কষ্ট জেনেও আঘাত কেন দিলে?
আমিও না জানতেম কখন হারাবো জীবন
রাতের আকাশে যখন চাঁদ উঠবে
খোলা জানালার কাছে আমাকে দেখতে না পেয়ে
খুঁজতে যাবে মেঘেদের কাছে
ওরা বৃষ্টি হয়ে কেঁদে কেঁদে বলবে
তোমার বাছা যে আর নেয়!
আমরা কার কাছে গল্প করবো
রাতের আকাশে যখন তারারা জেগে উঠবে
তখনও বুঝি খুঁজবে আমাকে
ঘুম পাড়ানি গান গাইবে যখন দেখবে
আমি নেয় তোমার কোলে
শীতের ভোরে,পড়ার ঘড়ে আমার শব্দ যখন শুনতে পাবে না
ভাববে বুঝি ঘুমিয়ে আছি আমি
সেই সকালে যখন তোমার মানিক - সোনা ডাকেও
আমি সাড়া দিতে পারব না
তখনও কি তেমনই ভাববে তুমি
বেলা অনেক গড়িয়ে গেল
আমার শেষ প্রশ্বাস দাঁড়িয়েছিল তোমার অপেক্ষায়
আমার শীতল কায়ার পরশে
তুমি অবাক হয়ে বুকের কাছে মাথা রেখে দেবে
আমার স্পন্দন থেমে গেছে
তখন তোমার কেমন কান্না পাবে মাগো
সবাই বুঝি আসবে আমার শেষর দেখা দেখতে
তুমি আমার পা জড়িয়ে কাঁদলেও
দেখো - আমি সুরসুরি পাবো না মাগো
থাকবে পাখির কলরব, ফুলের সৌরভ
নদীর প্রবাহ আর বাতাসের গন্ধ
তবু আমি ছন্দ গড়বো না
মন খারাপের গল্প নিয়ে যখন তুমি ব্যস্ত হবে
তোমার কাছে আমি হয়ে আসলে বুঝি
বকবে অনেক আমাকে
আমি সুখের আদরে তোমার ঘুম পাড়িয়ে বলব
আসি মাগো শেষের দেখা দিলেম তোমায়
এই সকালে….

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
পারমিতার জন্য একদিন
কবি বিশ্বজিৎ হালদার

সেদিনও বৃষ্টি নামেনি... স্মৃতির কপাট আলগা করে, দেখেছিলাম রোদের শরীর ছুঁয়ে
কুয়াশারা নেমে আসছে... ওরা বৃষ্টির রঙ হয়ে চেনা অক্ষরে লিখে গেল-
আজ পারমিতা আসবে....।
এই প্রথম সেলফিতে বারবার দেখছিলাম
চৌকো ফ্রেমের চশমা আর নতুন গাল বোঝায় দাড়িতে আমাকে কেমন দেখতে লাগছে ।
পাঞ্জাবি ছেড়ে, আজ প্রথম জিন্স আর শার্ট পড়েছি,
শরীর জুড়ে একটা মিষ্টি পারফিউম এর গন্ধ,,,,
আজ পারমিতা আসবে।
গতরাতে মেসেজে বলেছিল ,
ভিক্টোরিয়ার গেটে দেখা হবে আমাদের,
মেঘ মুলুকে জোনাকিরা রাতের শরীরে যেভাবে চুমু আঁকে
অতটা সাহস হয়তো হয়ে উঠবে না
আমাদের অভিমানি বসন্তের চিহ্ন রেখে যাবো
অনাগত শীতের কাছে,
আমার আবছা দৃষ্টির আড়ালে লুকিয়ে রাখা কুয়াশাদের ছড়িয়ে দবো, একটা নরম
পৃথিবীতে,
শেষ বিকেলেও মনে হবে সকাল শুরু হলো।

২০ বছরের একটা ছেলে বলেছিলো এই কৃষ্ণচূড়ার মালাটা নেবে ,এর কী দোষ ..
হলুদ রঙে ভালোই ছিল,
আমার কাজে আসেনি....অনিমা এবারেও এলোনা।
আমিও ভয় পেয়েছিলাম ......

ট্রেনের সাইরেন বারবার ডেকে বলছিল চলে আয় উজান।
পারু আজও আসবেনা,
নিদারুণ কাঙালের মতো ঘরে ফেরা!
নিপুণ অন্ধকারটা রেলগাড়ির জানালার ওপাশ থেকে,
ভনিতা করে বলছিল,
বলেছিলামনা ওগুলো আসলে কুয়াশা নয়,
পড়ন্ত বিকেলে পারমিতার শরীর বেয়ে নেমে  আসা ঘাম!
প্রজাপতির রং ভেবে এখনো কোন মোহের পিছে ছুটছো?
বাচ্চাদের মতো একটু কেঁদে বলেছিলাম
খুব ভালোবাসি পাগলি মেয়েটা কে,
এবারও এলোনা পারমিতা।

ঘরে না ফিরতেই হাতে একটা চিঠি এলো  ,
তোমাকে লিখছি  উজান, ২২ শে জুলাই আমার বিয়ে;
আবিরের রঙটা আরো ফিকে হলো জানি।
ব্যস্ত কলকাতার দুরন্ত ট্রাম ,
লোহার কঠিন রাস্তাকে যেভাবে পিষে যায় ঘন্টার পর ঘন্টা,
আমিও সময়ের দাবানলের শিকার।
অভিমান ভুলে আবার  এসো নতুন রাঙা এক বসন্তের বিকেলবেলা,
সেদিন নাহয় নতুন করে ভালোবাসা দিও।
প্রথম সকালে দেখা কুয়াশাদের বলি,
এবার যদি বৃষ্টি হয়ে ভিজিয়ে দিতে চিঠির অক্ষর গুলো,
তাহলে হয়তো আরও একটা দিন কাটত পারমিতার জন্য,,

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আবার বিরহ
কবি বিশ্বজিৎ হালদার

জানালার পাশে বসে ডায়রির ফেলে আসা কথা
কখন চোখ ভিজিয়েছে জানিনা ৷
বাতাসের নরম গন্ধ ,হৃদয়ের ক্লান্ত আকাশ জুড়ে
স্পষ্ট চোখের জ্যামিতিতে ভেসে আসছে
প্রিয় সাথীর সাথে কেটে যাওয়া
সুখ দুঃখের ছবি তার রোদেলা আবদার ,
মেঘলা অভিমান,আঁখি পল্লব কখন থেমেছে জানিনা ।
আমরা আজ দুই মেরুতে॥

........ বাইরে কলিং বেল বেজে উঠলো।
তখনও রোদের অনাদার ঝিলিক
আমাদের অলিন্দ অলংকৃত করেনি ;
খেলনা স্টেথোস্কোপটা নিয়ে বসে আছি
শিউলি তলায়  বেসুরো শালিকের গুঞ্জনে  ক্লান্ত আমি,
মা পিয়নের হাত থেকে বাঁশপাতা কাগজে মোড়া
একটি চিঠি নিয়ে এলো,
পোস্ট অফিসের সাধারন এক কর্মীর নিয়োগপত্র
আমার ঠিকানায়,মায়ের চোখে সান্ত্র অশ্রু -
বাবার মুখে মৃদু হাসি....
কিন্তু আমার কথা তো কেউ জিজ্ঞাসা করল না
আমি খুশি কিনা ?

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর