কবি চৈতন্যদাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
মোহে বিহি বিপরীত ভেল         
কবি চৈতন্য দাস                
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১মখণ্ড,
২য় শাখা, ১৫শপল্লব,  কলহান্তরিতা, ৪৬৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

মোহে বিহি বিপরীত ভেল।
অভিমানে মোহে উপেখি পহুঁ গেল॥
কি করিব কহ না উপায়।
কেমনে পাইব সেই মোর গোরা রায়॥
কি করিতে কি না জানি হৈল।
পরাণ-পুতলি গোরা মোরে ছাড়ি গেল॥
কে জানে যে এমন হইবে।
আঁচলে বান্ধিতে ধন সায়রে পড়িবে॥
চৈতন্যদাসের সেই হৈল।
পাইয়া গৌরাঙ্গচান্দ না ভজি তেজিল॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৬৫২-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ সুহই॥

মোহে বিহি বিপরীত ভেল।
অভিমানে মোহে উপেখি পহুঁ গেল॥
কি করিব কহ না উপায়।
কেমনে পাইব সেই মোর গোরা রায়॥
কি করিতে কি না জানি হৈল।
পরাণ-পুতলি গোরা মোরে ছাড়ি গেল॥
কে জানে যে এমন হইবে।
আঁচলে বান্ধিতে ধন সায়রে পড়িবে॥
চৈতন্যদাসের সেই সে হৈল।
পাইয়া গৌরাঙ্গচান্দ না ভজি তেজিল॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তত্র শ্রীমতী উক্তি উত্কণ্ঠা তদুচিত মহাপ্রভু।
॥ সুহই॥

মোহে বিহি বিপরীত ভেল। অভিমানে মোহে উপেখি পহুঁ গেল॥
কি করিব কহ না উপায়। কেমনে পাইব সেই মোর গোরারায়॥
কি করিতে কি না জানি হৈল। পরাণ পুথলী গোরা মোরে ছাড়ি গেল॥
কে জানে জে এমন হইবে। আঁচলে বান্ধিতে ধন সায়রে পড়িবে॥
চৈতন্য দাসের সেই হইল। পাইএ গৌরাঙ্গ চাঁদ না ভজি তেজল॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ৬ষ্ঠ উচ্ছ্বাস,
খণ্ডিতা, মান. কলহান্তরিতা, ২০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরাবতারের ঐশ্বর্য্য ও মাধুর্য্য
॥ সুহই॥

মোহে বিহি বিপরীত ভেল।
অভিমানে মোহে উপেখি পহুঁ গেল॥
কি করিব কহ না উপায়।
কেমনে পাইব সেই মোর গোরা রায়॥
কি করিতে কি না জানি হৈল।
পরাণ-পুতলি গোরা মোরে ছাড়ি গেল॥
কে জানে যে এমন হইবে।
আঁচলে বাঁধিতে ধন সায়রে পড়িবে॥
চৈতন্য দাসের সেই হৈল।
পাইয়া গৌরাঙ্গচাঁদ না ভজি পাইল॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

মোহে বিহি বিপরীত ভেল।
অভিমানে মোহে উপেখি পহুঁ গেল॥
কি করব কহ না উপায়।
কেমনে পাইব সেই মোর গোরা রায়॥
কি করিতে কি না জানি হৈল।
পরাণ পুতলী গোরা মোরে ছাড়ি গেল॥
কে জানে যে এমন হইবে।
আঁচলে বান্ধিতে ধন সাগরে পড়িবে॥
চৈতন্য দাসের সেই হৈল।
পাইয়া গৌরাঙ্গ চাঁদ না ভজি তেজিল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরচন্দ্র (কলহান্তরিতা)
॥ সুহই॥

মোহে বিহি বিপরীত ভেল।
অভিমানে মোহে উপেখি পহুঁ গেল॥
কি করিব কহ না উপায়।
কেমনে পাইব সেই মোর গোরা রায়॥
কি করিতে কি না জানি হৈল।
পরাণ-পুতলি গোরা মোরে ছাড়ি গেল॥
কে জানে যে এমন হইবে।
আঁচলে বান্ধিতে ধন সায়রে পড়িবে॥
চৈতন্যদাসের সেই হৈল।
পাইয়া গৌরাঙ্গচান্দ না ভজি তেজিল॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ২৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পুনশ্চ কলহান্তরিতা।
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ সুহই - মধ্যম দশকুশী॥

মোহে বিহি বিপরীত ভেল।
অভিমানে মোহে উপেখি পহুঁ গেল॥
কি করব কহ না উপায়।
কেমনে পাইব সই মোর গোরা রায়॥
কি করিতে কি না জানি হৈল।
পরাণ পুতলী গোরা মোরে ছাড়ি গেল॥
কে জানে যে এমন হইবে।
আঁচলে বান্ধিতে ধন সায়রে পড়িবে॥
চৈতন্য দাসের সেই সে হৈল।
পাইয়া গৌরাঙ্গচাঁদ না ভজি তেজিল॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২১০-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মোহে বিহি বিপরীত ভেল।
অভিমানে মোহে উপেখি পহুঁ গেল॥
কি করিব কহ না উপায়।
কেমনে পাইব সেই মোর গোরা রায়॥
কি করিতে কি না জানি হৈল।
পরাণ-পুতলি গোরা মোরে ছাড়ি গেল॥
কে জানে যে এমন হইবে।
আঁচলে বান্ধিতে ধন সায়রে পড়িবে॥
চৈতন্যদাসের সেই হৈল।
পাইয়া গৌরাঙ্গচান্দ না ভজি তেজিল॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
এ ধনি এ ধনি বচন শুন         
কবি চৈতন্য দাস                
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড,
২য় শাখা, ২২শ পল্লব, কারণাভাস মান, ৫৯৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

এ ধনি এ ধনি বচন শুন।
মাধব মিলয়ে বহুত পুণ॥
এত পরিহার করয়ে যে।
তাহারে সুন্দরি বঞ্চয়ে কে॥
দোষ নাহি কছু নয়ানে চাহ।
আপন সরস পরশ দেহ॥
হাসিয়া সুন্দরী চাহল ফিরি।
ও কর কমল ধরল হরি॥
দুহুঁক পূরল মনের আশ।
বিজন বিজই চৈতন্যদাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৭৭৮-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

এ ধনি এ ধনি বচন শুন।
মাধব মিলয়ে বহুত পুণ॥
এত পরিহার করয়ে যে।
তাহারে সুন্দরি বঞ্চয়ে কে॥
দোষ নাহি কছু নয়ানে চাহ।
আপন সরস পরশ দেহ॥
হাসিয়া সুন্দরী চাহল ফেরি।
ও কর কমল ধরল হরি॥
দুহুঁক পূরল মনের আশ।
বিজই বিজই চৈতন্যদাস॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ২১|১০১-
পদ-সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশ্রী॥

এ ধনি এ ধনি বচন শুন।
মাধব মিলনে বহুত গুণ॥
এত পরিহার করয়ে যে।
তাহারে সুন্দরি বঞ্চয়ে কে॥
দোষ পরিহরি নয়ানে চাহ।
আপন সরস পরশ দেহ॥
হেন মান কভু দেখিয়ে নাই।
মিছা অভিমান তেজহ রাই॥
হাসিয়া সুন্দরী দেখহ ফিরি।
ও চরণ কমল ধরল হরি॥
দুহুঁক পূরল মনক আশ।
বীজন বীজই চৈতন্যদাস॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

এ ধনি এ ধনি বচন সুন। মাধব মিলএ বহুত পুন॥
এত পরিহার করএ জে। তাহারে সুন্দরী বঞ্চএ কে॥
দোষ নাহি কিছু নয়নে চাহ। আপন সরস পরস দেহ॥
হাসিএ সুন্দরী চাহলি ফেরি। ও কমল হৃদি ধয়ল হরি॥
দুহক পুরল মনের আশ। বিজন বিজয়ী চৈতন্যদাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কারণাভাস মান
॥ তথা রাগ॥

এ ধনি এ ধনি বচন শুন।
মাধব মিলয়ে বহুত পুণ॥
এত পরিহার করয়ে যে।
তাহারে সুন্দরি বঞ্চয়ে কে॥
দোষ নাহি কছু নয়ানে চাহ।
আপন সরস পরশ দেহ॥
হাসিয়া সুন্দরী চাহল ফিরি।
ও কর কমল ধরল হরি॥
দুহুঁক পূরল মনের আশ।
বিজন বিজই চৈতন্যদাস॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৪৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মানপ্রকরণ।
॥ সুহিনী - একতালা॥

এ ধনি এ ধনি বচন শুন।
মাধব মিলয়ে বহুত পুণ॥
এত পরিহার করয়ে যে।
তাহারে সুন্দরি বঞ্চয়ে কে॥
দোষ নাহি কছু নয়ানে চাহ।
আপন সরস পরশ দেহ॥
হাসিয়া সুন্দরি চাহল ফিরি।
ও কর-কমল ধরল হরি॥
দুহুঁক পূরল মনের আশ।
বিজন বিজই চৈতন্য দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২০৭-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

এ ধনি এ ধনি বচন শুন।
মাধব মিলয়ে বহুত পুণ॥
এত পরিহার করয়ে যে।
তাহারে সুন্দরি বঞ্চয়ে কে॥
দোষ নাহি কছু নয়ানে চাহ।
আপন সরস পরশ দেহ॥
হাসিয়া সুন্দরী চাহল ফিরি।
ও কর কমল ধয়ল হরি॥
দুহুঁক পূরল মনের আশ।
বিজন বিজই চৈতন্যদাস॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
মহাভুজ নাচে চৈতন্য রায়
মহাভুজ নাচত চৈতন্য রায়
মহাপ্রভু নাচত চৈতন্য রায়
কবি চৈতন্য দাস / বাসুদেব ঘোষ
এই পদ টি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  ৪২৬ গৌরাব্দে
(১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ১২শ তরঙ্গ, ৯৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ গীতে যথা - সুহই॥

মহাভুজ নাচে চৈতন্য রায়। কে জানে কত কত, ভাব
শত শত, সোনার বরণ গায়॥ ধ্রু॥
শুনিয়া নিজগুণ, নাম শ্রীসঙ্কীর্ত্তন, বিহরে নটবর রঙ্গে।
নদিয়া-পুর-লোক, খণ্ডিল দুঃখ শোক, ডুবিল প্রেমতরঙ্গে॥
প্রেমে  ঢল ঢল, অঙ্গ নিরমল, পুলক-অঙ্কুর শোভা। আর কি
কহিব, অশেষ অনুভব, হেরি জগমন লোভা॥ করুণা নিরি-
খনে, অমিয়া বরিষণে, অখিল ভুবন সিঞ্চিত। চৈতন্যদাস
গানে, অতুল প্রেমদানে, মুই সে হইনু বঞ্চিত॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য়খণ্ড,৩য় শাখা, ৪র্থপল্লব , রসোদ্গার,
৬৬৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ রসোদ্গারঃ।
তদুচিত-পূর্ব্বাপর-কীর্ত্তনানুসারেণ
শ্রীমদ্গৌরচন্দ্রঃ।
॥ বিভাষ॥

মহাভুজ নাচত চৈতন্য রায়।
কে জানে কত কত               ভাব শত শত
সোণার বরণ গোরা-রায়॥ ধ্রু॥
প্রেমে  ঢর ঢর                     অঙ্গ নিরমল
পুলক-অঙ্কুর-শোভা।
আর কি কহব                  অশেষ অনুভব
হেরইতে জগ-মন-লোভা॥
শুনিয়া নিজ-গুণ                      নাম-কীর্ত্তন
বিভোর নটন-বিভঙ্গ।
নদিয়া-পুর-লোক            পাসরিল দুখ শোক
ভাসল প্রেম-তরঙ্গ॥
রতন বিতরণ                  প্রেম-রস বরিখণ
অখিল ভুবন সিঞ্চিত।
চৈতন্যদাস গানে                অতুল প্রেম-দানে
মুঞি সে হইলুঁ বঞ্চিত॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১১৩৯-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ বিভাষ॥

মহাপ্রভু নাচত চৈতন্য রায়।
কে জানে কত কত                 ভাব শত শত
সোণার বরণ গোরা-রায়॥ ধ্রু॥
প্রেমে  ঢর ঢর                        অঙ্গ নিরমল
পুলক-অঙ্কুর-শোভা।
আর কি কহব                       অশেষানুভব
হেরইতে জগ-মন-লোভা॥
শুনিয়া নিজ-গুণ                        নাম-কীর্ত্তন
বিভোর নটন-বিভঙ্গ।
নদিয়া-পুর-লোক              পাসরিল দুখ শোক
ভাসল প্রেম-তরঙ্গ॥
রতন বিতরণ                    প্রেম-রস বরিখণ
অখিল ভুবন সঞ্চিত।
চৈতন্যদাস গানে                অতুল প্রেম-দানে
মুঞি সে হইলুঁ বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ১৩|২৩-পদসংখ্যায়,
বাসিদেব ঘোষের ভণিতায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ বিভাষ॥

মহাভুজ নাচত চৈতন্য রায়।
কে জানে কত কত                  ভাব শত শত
সোণার বরণ গায়॥ ধ্রু॥
প্রেমে  ঢর ঢর                         অঙ্গ নিরমল
পুলক-অঙ্গের-শোভা।
আর কি কহব                     বিশেষ অনুভব
হেরইতে জগ-মন-লোভা॥
শুনিয়া নিজ-গুণ                      নাম-সংকীর্ত্তন
লুটত বিভোর অঙ্গে।
নদিয়ার সব লোক             পাসরিল দুখ শোক
ভাসল প্রেম-তরঙ্গে॥
করুণা নিরখনে                     অমিয়া বরিখনে
অখিল ভুবন সিঞ্চিত।
বাসুদেব ঘোষ                 তুলনা নাহিক আনে
মুঞি মাত্র হইলুঁ বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ২য় উচ্ছ্বাস, মহাপ্রভুর নৃত্য ও সংকীর্ত্তন,
১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মহাপ্রভুর নৃত্য ও সংকীর্ত্তন
॥ বিভাস॥

মহাভুজ নাচত চৈতন্যরায়।
কে জানে কত কত               ভাব শত শত
সোণার বরণ গোরারায়॥ ধ্রু॥
প্রেমে  ঢর ঢর                     অঙ্গ নিরমল
পুলক-অঙ্কুরশোভা।
আর কি কহিব                 অশেষ অনুভব
হেরইতে জগমন লোভা॥
শুনিয়া নিজগুণ                       নাম কীর্ত্তন
বিভোর নটন বিভঙ্গ।
নদিয়াপুর-লোক             পাশরিল দুঃখ সুখ
ভাসল প্রেমতরঙ্গ॥
রতন বিতরণ                   প্রেমরস বরিখণ
অখিল ভুবন সিঞ্চিত।
চৈতন্যদাস গানে                অতুল প্রেমদানে
মুঞি সে হইলুঁ বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

মহাভুজ নাচত চৈতন্য রায়।
কে জানে কত কত,               ভাব শত শত,
সোণার বরণ গোরা-গায়॥
প্রেমে  ঢর ঢর,                     অঙ্গ নিরমল,
পুলক-অঙ্কুর শোভা।
আর কি কহব,                 অশেষ অনুভব,
হেরইতে জগ-মন-লোভা॥
শুনিয়া নিজ গুণ,                      নাম কীর্ত্তন,
বিভোর নটন বিভঙ্গ।
নদিয়া-পুর-লোক,          পাসরিল দুখ শোক,
ভাসল প্রেম-তরঙ্গ॥
রতন বিতরণ,                প্রেম-রস বরিখণ,
অখিল ভুবন সিঞ্চিত।
চৈতন্যদাস গানে,             অওল প্রেম-দানে,
মুঞি সে হইনু বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৫২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীচৈতন্যের নৃত্য
॥ বিভাস॥

মহাভুজ নাচত চৈতন্য রায়।
কে জানে কত কত                  ভাব শতশত
সোনার বরণ গোরা গায়॥ ধ্রু॥
প্রেমে  ঢর ঢর-                        অঙ্গ নিরমল
পুলকঅঙ্কুরশোভা।
আর কি কহব                     অশেষ অনুভব
হেরইতে জগমনলোভা॥
শুনিয়া নিজগুণ                          নামকীর্ত্তন
বিভোর নটনবিভঙ্গ।
নদিয়াপুরলোক                পাসরিল দুখ শোক
ভাসল প্রেমতরঙ্গ॥
রতন বিতরণ                     প্রেমরস বরিখণ
অখিলভুবন সিঞ্চিত।
চৈতন্যদাস গানে                অতুল প্রেম-দানে
মুঞি সে হইলুঁ বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৫৯৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার।
॥ বিভাস - বড় সমতাল॥

মহাভুজ নাচত চৈতন্য রায়।
কে জানে কত কত                 ভাব শত শত
সোণার বরণ গোরা-রায়॥ ধ্রু॥
প্রেমে  ঢর ঢর                        অঙ্গ নিরমল
পুলক অঙ্কুর শোভা।
আর কি কহব                    অশেষ অনুভব
হেরইতে জগমন লোভা॥
শুনিয়া নিজ-গুণ                        নাম কীর্ত্তন
বিভোর গটন বিভঙ্গ।
নদিয়া পুরলোক              পাশরিল দুখ শোক
ভাসল প্রেম তরঙ্গ॥
রতন বিতরণ                   প্রেম- রস বরিখণ
অখিল ভুবন সিঞ্চিত।
চৈতন্যদাস গানে                অতুল প্রেম-দানে
মুঞি সে হইলুঁ বঞ্চিত॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

মহাভুজ নাচত চৈতন্য রায়।                    
কে জানে কত কত ভাব শতশত                
সোনার বরণ গোরা গায়॥
প্রেমে  ঢর ঢর অঙ্গ নিরমল                     
পুলকঅঙ্কুরশোভা।
আর কি কহব অশেষ অনুভব                  
হেরইতে জগমনলোভা॥
শুনিয়া নিজগুণ নামকীর্ত্তন                        
বিভোর নটনবিভঙ্গ।
নদিয়াপুরলোক পাসরিল দুখ শোক              
ভাসল প্রেমতরঙ্গ॥
রতন বিতরণ প্রেমরস বরিখণ                   
অখিলভুবন সিঞ্চিত।
চৈতন্যদাস গানে অতুল প্রেম দানে                
মুঞি সে হইলুঁ বঞ্চিত॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
গৌরাঙ্গ-চান্দের মনে কি ভাব উঠিল
গৌরাঙ্গ চাঁদের মনে কি ভাব উঠিল
গৌরাঙ্গ চন্দের মনে কি ভাব উঠিল
কবি চৈতন্য দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য়খণ্ড,
৩য় শাখা, ২০শপল্লব , গোষ্ঠাষ্টমী-যাত্রা, ১১৬৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

গৌরাঙ্গ-চান্দের মনে কি ভাব উঠিল।
পুরুব-চরিত্র বুঝি মনেতে পড়িল॥
গৌরীদাস-মুখ হেরি উলসিত হিয়া।
আনহ ছান্দন ডুরি বোলে ডাক দিয়া॥
আজি শুভ দিন চল গোঠেরে যাইব।
আজি হৈতে গো-দোহন আরম্ভ করিব॥
ধবলী সাঙলী কোথা শ্রীদাম সুদাম।
দোহনের ভাণ্ড মোর হাতে দেহ রাম ॥
ভাবাবেশে বেয়াকুল শচীর নন্দন।
নিত্যানন্দ আসি কোলে করে সেই ক্ষণ॥
চৈতন্যদাসেতে বলে ছান্দনের দড়ি।
হারাইল গৌরীদাস গোপী কৈল চুরি॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৭০০-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ভূপালী॥

গৌরাঙ্গ-চান্দের মনে কি ভাব উঠিল।
পুরুব-চরিত্র বুঝি মনেতে পড়িল॥
গৌরীদাস-মুখ হেরি উলসিত হিয়া।
আনহ ছান্দন ডুরি বোলে ডাক দিয়া॥
আজি শুভ দিন চল গোঠেরে যাইব।
আজি হৈতে গো-দোহন আরম্ভ করিব॥
ধবলী সাঙলী কোথা শ্রীদাম সুদাম।
দোহনের ভাণ্ড মোর হাতে দেহ রাম ॥
ভাবাবেশে বেয়াকুল শচীর নন্দন।
নিত্যানন্দ আসি কোলে করে সেই ক্ষণ॥
চৈতন্যদাসেতে বলে ছান্দনের ডুরি।
হারাইল গৌরীদাস গোপী কৈল চুরি॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গাভীদোহন।
॥ শ্রীরাগ॥

গৌরাঙ্গ চাঁদের মনে কি ভাব উঠিল। পূরব চরিত্র কিছু মনেতে পড়িল॥
গৌরীদাস মুখ হেরি উল্লসিত হিয়ে। আনহ ছাঁদন ডুরি বোলে ডাক দিয়ে॥
আজি শুভ দিন চল গোঠেতে যাইব। আজ হতে গোদোহন আরম্ভ করিব॥
ধবলী শ্যামলী কোথা শ্রীদাম সুদাম। দোহনের ভাণ্ড মোর হাতে দেহ রাম ॥
ভাবাবেশে ব্যাকুল শচীর নন্দন। নিত্যানন্দ আসি কোলে কৈল সেইক্ষণ॥
চৈতন্য দাস বলে ছাঁদনের ডুরি। হারাইলা গৌরীদাস গোপী কৈল চুরি॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৫ম তরঙ্গ, ১ম উচ্ছ্বাস,
দ্বাদশমাসিক লীলা. ২১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দ্বাদশমাসিক লীলা
॥ ভূপালী॥

গৌরাঙ্গ-চান্দের মনে কি ভাব উঠিল।
পুরব চরিত্র বুঝি মনেতে পড়িল॥
গৌরীদাসমুখ হেরি উলসিত হিয়া।
আনহ ছাঁদন ডুরি বলে ডাক দিয়া॥
আজি শুভ দিন চল গোষ্ঠেরে যাইব।
আজি হৈতে গো-দোহন আরম্ভ করিব॥
ধবলী সাঙলী কোথা ছিদাম সুদাম।
দোহনের ভাণ্ড মোর হাতে দেহ রাম ॥
ভাবাবেশে বেয়াকুল শচীর নন্দন।
নিত্যানন্দ আসি কোলে করে সেইক্ষণ॥
চৈতন্যদাস বোলে ছাঁদনের ডুড়ি।
হারাইলা গৌরীদাস গোপী কৈলা চুরি॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

গৌরাঙ্গ চন্দের মনে কি ভাব উঠিল।
পুরুব চরিত্র বুঝি মনেতে পড়িল॥
গৌরীদাস মুখ হেরি উল্লসিত হিয়া।
আনহ ছান্দন ডুরি বোলে ডাক দিয়া॥
আজি শুভদিন চল গোষ্ঠেরে যাইব।
আজি হৈতে গো-দোহন আরম্ভ করিব॥
ধবলী সাঙ্ লী কোথা শ্রীদাম সুদাম।
দোহনের ভাণ্ড মোর হাতে দেহ রাম॥
ভাবাবেশে বেয়াকুল শচীর নন্দন।
নিত্যানন্দ আসি কোলে করে সেই ক্ষণ॥
চৈতন্যদাসেতে বলে ছান্দনের দড়ি।
হারাইলা গৌরীদাস গোপী কৈল চুরি॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্টাষ্টমী।
॥ বেলোয়ার - মধ্যম একতালা॥

গৌরাঙ্গ চান্দের মনে কি ভাব উঠিল।
পুরুব চরিত্র বুঝি মনেতে পড়িল॥
গৌরীদাস মুখ হেরি উল্লাসিত হিয়া।
আনহ ছান্দন ডুরি বলে ডাক দিয়া॥
আজি শুভদিন চল গোষ্ঠেরে যাইব।
আজি হৈতে গোদোহন আরম্ভ করিব॥
ধবলী শাঙলী কোথা শ্রীদাম সুদাম।
দোহনের ভাণ্ড মোর হাতে দেহ রাম॥
ভাবাবেশে বেয়াকুল শচীর নন্দন।
নিত্যানন্দ আসি করে কোলে সেই ক্ষণ॥
চৈতন্য দাসেতে বলে ছান্দনের দড়ি।
হারাইলা গৌরীদাস গোপী কৈল চুরি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র
ভূপালী।

গৌরাঙ্গচান্দের মনে কি ভাব উঠিল।
পুরুবচরিত্র বুঝি মনেতে পড়িল॥
গৌরীদাসমুখ হেরি উলসিত হিয়া।
আনহ ছান্দন ডুরি বোলে ডাক দিয়া॥
আজি শুভ দিন চল গোঠেরে যাইব।
আজি হৈতে গো দোহন আরম্ভ করিব॥
ধবলী সাঙলী কোথা শ্রীদাম সুদাম।
দোহনের ভাণ্ড মোর হাতে দেহ রাম ॥
ভাবাবেশে বেয়াকুল শচীর নন্দন।
নিত্যানন্দ আসি কোলে করে সেই ক্ষণ॥
চৈতন্যদাসেতে বলে ছান্দনের দড়ি।
হারাইল গৌরীদাস গোপী কৈল চুরি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২০৭-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরাঙ্গচান্দের মনে কি ভাব উঠিল।
পুরুবচরিত্র বুঝি মনেতে পড়িল॥
গৌরীদাসমুখ হেরি উলসিত হিয়া।
আনহ ছান্দন ডুরি বোলে ডাক দিয়া॥
আজি শুভ দিন চল গোঠেরে যাইব।
আজি হৈতে গো দোহন আরম্ভ করিব॥
ধবলী সাঙলী কোথা শ্রীদাম সুদাম।
দোহনের ভাণ্ড মোর হাতে দেহ রাম ॥
ভাবাবেশে বেয়াকুল শচীর নন্দন।
নিত্যানন্দ আসি কোলে করে সেই ক্ষণ॥
চৈতন্যদাসেতে বলে ছান্দনের দড়ি।
হারাইল গৌরীদাস গোপী কৈল চুরি॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
নন্দের মন্দিরে আজু বড়ই আনন্দ
কবি চৈতন্য দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা, ২০শ পল্লব, গোষ্ঠাষ্টমী-যাত্রা, ১১৭০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

নন্দের মন্দিরে আজু বড়ই আনন্দ।
রাম-কৃষ্ণ-হাতে দিব গোদোহন-ভাণ্ড॥
প্রভাতে উঠিয়া নন্দ লৈয়া গোপগণ।
পাত্র মিত্র সহিতে বসিলা সভা-জন॥
যত্ন করি যতেক ব্রাহ্মণ মুণিগণে।
আনাইলা নন্দঘোষ করি নিমন্ত্রণে॥
পাদ্য অর্ঘ দিয়া নন্দ পূজে মুনিগণে।
রাম কৃষ্ণ বন্দিলেন মুনির চরণে॥
মুনিগণে কহে শুন নন্দ মহামতি।
আজি শুভ দিন হয় শুক্লাষ্টমী তিথি॥
পুত্র-হস্তে দেহ গোদোহন-ভাণ্ড আজ।
গোষ্ঠপূজা মহোত্সব কর মহারাজ॥
পাইয়া মুনির আজ্ঞা নন্দ মহাশয়।
মহামহোত্সবে করে আনন্দ হৃদয়॥
চৈতন্যদাসের মনে পরম উল্লাস।
দেখিব নয়নে গাবী-দোহন বিলাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৭০১-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ভাটিয়ারি॥

নন্দের মন্দিরে আজু বড়ই আনন্দ।
রাম-কৃষ্ণ-হাতে দিব গোদোহন-ভাণ্ড॥
প্রভাতে উঠিয়া নন্দ লৈয়া গোপগণ।
পাত্র মিত্র সহিতে বসিলা সভা-জন॥
যত্ন করি যতেক ব্রাহ্মণ মুণিগণে।
আনাইলা নন্দঘোষ করি নিমন্ত্রণে॥
পাদ্য অর্ঘ দিয়া নন্দ পূজে মুনিগণে।
রাম কৃষ্ণ বন্দিলেন মুনির চরণে॥
মুনিগণে কহে শুন নন্দ মহামতি।
আজি শুভ দিন হয় শুক্লাষ্টমী তিথি॥
পুত্র-হস্তে দেহ গোদোহন-ভাণ্ড আজ।
গোষ্ঠপূজা মহোত্সব কর মহারাজ॥
পাইয়া মুনির আজ্ঞা নন্দ মহাশয়।
মহামহোত্সবে করে আনন্দ হৃদয়॥
চৈতন্যদাসের মনে পরম উল্লাস।
দেখিব নয়নে গাভী-দোহন বিলাস॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গাভীদোহন।
॥ শ্রীরাগ॥

নন্দের মন্দিরে আজু বড়ই আনন্দ। রামকৃষ্ণ হাতে দিব গোদোহন ভাণ্ড॥
প্রভাতে উঠিয়া নন্দ লৈয়া গোপগণ। পাত্র মিত্র সহিতে বসিলা সভাজন॥
যত্ন করি জাতক ব্রাহ্মণ মুণিগণে। আনাইলা নন্দঘোষ করি নিমন্ত্রণে॥ পাদ্য
অর্ঘ দিয়া নন্দ পূজে মুনিগণে। রামকৃষ্ণ বন্দিলেন মুনির চরণে॥ মুনিগণ
কহে শুন নন্দ মহামতি। আজি শুভ দিন হয় গোষ্টাষ্টমী তিথি॥ পুত্রহস্তে দেহ
গোদোহন ভাণ্ড আজ। গোষ্ঠ পূজা মহোত্সব কর মহারাজ॥ পাইয়া মুনির
আজ্ঞা নন্দ মহাশয়। মহোত্সব করে আনন্দ হৃদয়॥ চৈতন্য দাসের মনে
পরম উল্লাস। দেখিব নয়নে গাভী দোহন বিলাস॥

এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

নন্দের মন্দিরে আজু বড়ই আনন্দ।
রামকৃষ্ণ-হাতে দিব গো-দোহন ভাণ্ড॥
প্রভাতে উঠিয়া নন্দ লৈয়া গোপগণ।
পাত্র মিত্র সহিতে বসিলা সভা-জন॥
যত্ন করি যতেক ব্রাহ্মণ মুণিগণে।
আনাইলা নন্দঘোষ করি নিমন্ত্রণে॥
পাদ্য অর্ঘ দিয়া নন্দ পূজে মুনিগণে।
রাম কৃষ্ণ বন্দিলেন মুনির চরণে॥
মুনিগণে কহে শুন নন্দ মহামতি।
আজি শুভ দিন হয় শুক্লাষ্টমী তিথি॥
পুত্রহস্তে দেহ গোদোহন-ভাণ্ড আজ।
গোষ্ঠপূজা মহোত্সব কর মহারাজ॥
পাইয়া মুনির আজ্ঞা নন্দ মহাশয়।
মহামহোত্সব করে আনন্দ হৃদয়॥
চৈতন্যদাসের মনে পরম উল্লাস।
দেখিব নয়নে গাভী-দোহন বিলাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠাষ্টমী যাত্রা
॥ ভাটিয়ারি॥

নন্দের মন্দিরে আজু বড়ই আনন্দ।
রামকৃষ্ণহাতে দিব গো দোহনভাণ্ড॥
প্রভাতে উঠিয়া নন্দ লৈয়া গোপগণ।
পাত্র মিত্র সহিতে বসিলা সভাজন॥
যত্ন করি যতেক ব্রাহ্মণ মুণিগণে।
আনাইলা নন্দঘোষ করি নিমন্ত্রণে॥
পাদ্য অর্ঘ দিয়া নন্দ পূজে মুনিগণে।
রাম কৃষ্ণ বন্দিলেন মুনির চরণে॥
মুনিগণে কহে শুন নন্দ মহামতি।
আজি শুভ দিন হয় শুক্লাষ্টমী তিথি॥
পুত্র-হস্তে দেহ গো দোহনভাণ্ড আজ।
গোষ্ঠপূজা মহোত্সব কর মহারাজ॥
পাইয়া মুনির আজ্ঞা নন্দ মহাশয়।
মহামহোত্সবে করে আনন্দ হৃদয়॥
চৈতন্যদাসের মনে পরম উল্লাস।
দেখিব নয়নে গাবীদোহনবিলাস॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্টাষ্টমী।
॥ ধানশী - একতালা॥

নন্দের মন্দিরে আজু বড়ই আনন্দ।
রাম কৃষ্ণ হাতে দিব গোদোহন ভাণ্ড॥
প্রভাতে উঠিয়া নন্দ লৈয়া গোপগণ।
পাত্র মিত্র সহিতে বসিলা সভাজন॥
যত্ন করি যতেক ব্রাহ্মণ মুণিগণে।
আনাইলা নন্দঘোষ করি নিমন্ত্রণে॥
পাদ্য অর্ঘ্য দিয়া নন্দ পূজে মুনিগণে।
রামকৃষ্ণ বন্দিলেন মুনির চরণে॥
মুনিগণে কহে শুন নন্দ মহামতি।
আজি শুভ দিন হয় শুক্লাষ্টমী তিথি॥
পুত্র হস্তে দেহ গো-দোহন ভাণ্ড আজ।
গোষ্ঠ পূজা মহোত্সব কর মহারাজ॥
পাইয়া মুনির আজ্ঞা নন্দ মহাশয়।
মহামহোত্সব করে আনন্দ হৃদয়॥
চৈতন্য দাসের মনে পরম উল্লাস।
দেখিব নয়নে গাভী-দোহন বিলাস॥ 

ই পদটি ১৯৮৫ সালে, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২১০-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নন্দের মন্দিরে আজু বড়ই আনন্দ।
রামকৃষ্ণহাতে দিব গো দোহনভাণ্ড॥
প্রভাতে উঠিয়া নন্দ লৈয়া গোপগণ।
পাত্র মিত্র সহিতে বসিলা সভাজন॥
যত্ন করি যতেক ব্রাহ্মণ মুণিগণে।
আনাইলা নন্দঘোষ করি নিমন্ত্রণে॥
পাদ্য অর্ঘ দিয়া নন্দ পূজে মুনিগণে।
রাম কৃষ্ণ বন্দিলেন মুনির চরণে॥
মুনিগণে কহে শুন নন্দ মহামতি।
আজি শুভ দিন হয় শুক্লাষ্টমী তিথি॥
পুত্র হস্তে দেহ গো দোহনভাণ্ড আজ।
গোষ্ঠপূজা মহোত্সব কর মহারাজ॥
পাইয়া মুনির আজ্ঞা নন্দ মহাশয়।
মহামহোত্সবে করে আনন্দ হৃদয়॥
চৈতন্যদাসের মনে পরম উল্লাস।
দেখিব নয়নে গাবীদোহনবিলাস॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
ডাকিয়া তখন নিজ প্রজাগণ
কবি চৈতন্য দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য়খণ্ড, ৩য় শাখা, ২০শপল্লব, গোষ্ঠাষ্টমী-যাত্রা,
১১৭১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ জয়জয়ন্তী॥

ডাকিয়া তখন                      নিজ প্রজাগণ
আজ্ঞা দিল ব্রজ-রাজ।
বস্ত্র অলঙ্কার                     নানা উপহার
করহ গোষ্ঠের সাজ॥
শুনি গোপী যত                   আনন্দিত-চিত
যৌতুক থালীতে ভরি।
নন্দের ভবনে                      দিলা দরশনে
দিব্য বাস ভূষা পরি॥
নন্দের গৃহিণী                  যশোদা, রোহিণী
অম্বা কিলিন্বাদি সঙ্গে।
হরিদ্রা কুঙ্কুম                        গন্ধ উদ্বর্ত্তন
দিলা রাম-কৃষ্ণ-অঙ্গে॥
সুবাসিত জলে                    ধান্য দূর্ব্বাদলে
স্নান সমাপন করি।
পরিয়া বসন                        মণি-অভরণ
গোষ্ঠেতে চলিলা হরি॥
নন্দ মহামতি                     মুনির সংহতি
সভাসদ-গণে লৈয়া।
নানা বাদ্য বাজে                  মঙ্গল সুসাজে
গোষ্ঠে প্রবেশিলা যাঞা॥
যশোদা রোহিণী                  গোপিনী সঙ্গিনী
মঙ্গল-দ্রব্য সহিতে।
নানা উপহারে                     বস্ত্র অলঙ্কারে
গোষ্ঠে হৈলা উপনীতে॥
দিব্য আলিপনে                   অগোর চন্দনে
স্থান কৈলা পরিস্কার।
দিব্য চন্দ্রাতপ                     নিবারি আতপ
উপরে বান্ধিল তার॥
স্থাপিল কদলী                      জল ঘট ভরি
সহিত আম্রের দল।
রত্ন-পীঠোপরি                     বৈসে রাম হরি
হৈল মহা কোলাহল॥
স্বর্ণ-সূত্রে করি                       ছান্দনের ডুরি
রত্নের দোহন-ভাণ্ড।
মুনি-আজ্ঞামতে                  রাম-কৃষ্ণ-হাতে
আনন্দে দিলেন নন্দ॥
বেদ পাঠ করি                     ব্রাহ্মণ সকলি
করে আশীর্ব্বাদ-ধ্বনি।
নর্ত্তক গায়ক                       ভট্টাদি যাচক
শব্দ চতুর্দ্দিকে শুনি ॥
স্বর্গে সুরগণ                         পুষ্প বরিষণ
করিয়া সুখেতে ভাসে।
ত্রিভুবন ভরি                    আনন্দ সভারি
কহয়ে চৈতন্যদাসে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৭০২-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ আহিরী॥

ডাকিয়া তখন                      নিজ প্রজাগণ
আজ্ঞা দিল ব্রজ-রাজ।
বস্ত্র অলঙ্কার                     নানা উপহার
করহ গোষ্ঠের সাজ॥
শুনি গোপী যত                    আনন্দিত-চিত
যৌতুক থালীতে ভরি।
নন্দের ভবনে                      দিলা দরশনে
দিব্য বাস ভূষা পরি॥
নন্দের গৃহিণী                  যশোদা, রোহিণী
অম্বা কিলন্বাদি সঙ্গে।
হরিদ্রা কুঙ্কুম                        গন্ধ উদ্বর্ত্তন
দিলা রাম-কৃষ্ণ-অঙ্গে॥
সুবাসিত জলে                    ধান্য দূর্ব্বাদলে
স্নান সমাপন করি।
পরিয়া বসন                       মণি-অভরণ
গোষ্ঠেতে চলিলা হরি॥
নন্দ মহামতি                     মুনির সংহতি
সভাসদ-গণে লৈয়া।
নানা বাদ্য বাজে                   মঙ্গল সুসাজে
গোষ্ঠে প্রবেশিলা যাঞা॥
যশোদা রোহিণী                  গোপিনী সঙ্গিনী
মঙ্গল-দ্রব্য সহিতে।
নানা উপহারে                     বস্ত্র অলঙ্কারে
গোষ্ঠে হৈলা উপনীতে॥
দিব্য আলিপনে                    অগোর চন্দনে
স্থান কৈলা পরিস্কার।
দিব্য চন্দ্রাতপ                    নিবারি আতপ
উপরে বান্ধিল তার॥
স্থাপিল কদলী                      জল ঘট ভরি
সহিত আম্রের দল।
রত্ন-পিড়ি পরি                    বৈসে রাম হরি
হৈল মহা কোলাহল॥
স্বর্ণ-ছাত্র করি                       ছান্দনের ডুরি
রত্নের দোহন-ভাণ্ড।
মুনি-আজ্ঞামতে                  রাম-কৃষ্ণ-হাতে
আনন্দে দিলেন নন্দ॥
বেদ পাঠ করি                      ব্রাহ্মণ সকলি
করে আশীর্ব্বাদ-ধ্বনি।
নর্ত্তক গায়ক                       ভট্টাদি যাচক
শব্দ চতুর্দ্দিকে শুনি ॥
স্বর্গে সুরগণ                        পুষ্প বরিষণ
করিয়া সুখেতে ভাসে।
ত্রিভুবন ভরি                    আনন্দ সভারি
কহয়ে চৈতন্যদাসে॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

গাভীদোহন।
॥ জয়জয়ন্তী । দশকুশী তাল॥

ডাকিয়া তখন নিজ প্রজাগণ আজ্ঞা দিল ব্রজরাজ। বস্ত্র অলঙ্কার, নানা
উপহার, করহ গোষ্ঠের সাজ॥ গোপ গোপী যত, আনন্দিত চিত, যৌতুক
থালিতে ভরি। নন্দের ভবনে, দিল দরশনে, দিব্য বেশ ভূষা পরি॥ নন্দের
গৃহিণী, যশোদা রোহিণী অম্বা কিলিন্বাদি সঙ্গে। হরিদ্রা কুঙ্কুম, গন্ধ উত্তম,
দিলা রামকৃষ্ণ অঙ্গে॥ সুবাসিত জলে, ধান্য দূর্ব্বাদলে, স্নান সমাপন করি।
পরিয়া বসন, মণি অভরণ, গোষ্ঠেতে চলিলা হরি॥ নন্দমহামতি, মুনির সংহতি
সভাসদগণ লঞা। নানা বাদ্য বাজে, মঙ্গল সুসাজে, গোষ্ঠে প্রবেশিলা ধাঞা॥
যশোদা রোহিণী, গোপিনী সঙ্গিনী, মঙ্গল দ্রব্য সহিতে। নানা উপহারে,
বস্ত্র অলঙ্কারে, গোষ্ঠে হৈলা উপনীতে॥ দিব্য আলিপনে, অগৌর চন্দনে, স্থান
কৈল পরিস্কার। দিব্য চন্দ্রাতপ, নিবারি আতপ, উপরে বান্ধিল তার॥
স্থাপিল কদলী, জলঘট ভরি, সহিত আম্রের দল। রত্নপীঠপরি, বৈসে রাম
হরি, হৈল মহা কোলাহল॥ স্বর্ণ সূত্রে করি, ছান্দনের ডুরি, রত্নের দোহন ভাণ্ড।
মুনি-আজ্ঞামতে, রামকৃষ্ণ-হাতে, আনন্দে দিলেন নন্দ॥ বেদ পাঠ করি, ব্রাহ্মণ
সকলি, করে আশীর্ব্বাদ ধ্বনি। নর্ত্তক গায়ক, ভট্টাদি যাচক, শব্দ চতুর্দ্দিকে
শুনি॥ স্বর্গে সুরগণ, পুষ্পবরিষণ, করিয়া সুখেতে ভাসে। ত্রিভুবন ভরি,
আনন্দ সভারি, কহয়ে চৈতন্য দাসে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ জয়জয়ন্তী॥

ডাকিয়া তখন,                     নিজ প্রজাগণ,
আজ্ঞা দিল ব্রজ-রাজ।
বস্ত্র অলঙ্কার,                     নানা উপহার,
করহ গোষ্ঠের সাজ॥
শুনি গোপী যত,                  আনন্দিত চিত,
যৌতুক থালীতে ভরি।
নন্দের ভবনে,                      দিলা দরশনে,
দিব্য বাস ভূষা পরি॥
নন্দের গৃহিণী,                  যশোদা রোহিণী,
অম্বা কিলিন্বাদি সঙ্গে।
হরিদ্রা কুঙ্কুম,                        গন্ধ মনোরম,
দিলা রামকৃষ্ণ অঙ্গে॥
সুবাসিত জলে,                    ধান্য দূর্ব্বাদলে,
স্নান সমাপন করি।
পরিয়া বসন,                       মণি-অভরণ,
গোষ্ঠেতে চলিলা হরি॥
নন্দ মহামতি,                     মুনির সংহতি,
সভাসদগণে লৈয়া।
নানা বাদ্য বাজে,                  মঙ্গল সুসাজে,
গোষ্ঠে প্রবেশিলা যাঞা॥
যশোদা রোহিণী,                  গোপিনী সঙ্গিনী,
মঙ্গল দ্রব্য সহিতে।
নানা উপহারে,                     বস্ত্র অলঙ্কারে,
গোষ্ঠে হৈলা উপনীতে॥
দিব্য আলিপনে,                   অগোর চন্দনে,
স্থান কৈলা পরিস্কার।
দিব্য চন্দ্রাতপ,                   নিবারি আতপ,
উপরে বান্ধিল তার॥
স্থাপিল কদলী,                      জল ঘট ভরি,
সহিত আম্রের দল।
রত্ন-পীঠোপরি,                   বৈসে রাম হরি,
হৈল মহা কোলাহল॥
স্বর্ণ-সূত্রে করি,                    ছান্দনের ডুরি,
রত্নের দোহন-ভাণ্ড।
মুনি-আজ্ঞামতে,                  রামকৃষ্ণ হাতে,
আনন্দে দিলেন নন্দ॥
বেদ পাঠ করি,                      ব্রাহ্মণ সকলি,
করে আশীর্ব্বাদ-ধ্বনি।
নর্ত্তক গায়ক,                       ভট্টাদি যাচক,
শব্দ চতুর্দ্দিকে শুনি॥
স্বর্গে সুরগণ,                        পুষ্প বরিষণ,
করিয়া সুখেতে ভাসে।
ত্রিভুবন ভরি,                      আনন্দ সবারি,
কহয়ে চৈতন্যদাসে॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের গোষ্টাষ্টমী।
॥ জয়জয়ন্তী - দুঠুকী॥

ডাকিয়া তখন,                      নিজ প্রজাগণ,
আজ্ঞা দিল ব্রজরাজ।
বস্ত্র অলঙ্কার,                       নানা উপহার,
করহ গোষ্ঠের সাজ॥
শুনি গোপী যত,                  আনন্দিত চিত,
যৌতুক থালীতে ভরি।
নন্দের ভবনে,                      দিলা দরশনে,
দিব্যবাস ভূষা পরি॥
নন্দের গৃহিণী,                  যশোদা, রোহিণী,
অম্বা কিলিন্বাদি সঙ্গে।
হরিদ্রা কুঙ্কুম,                       গন্ধ মনোরম,
দিলা রামকৃষ্ণ অঙ্গে॥
সুবাসিত জলে,                    ধান্য দূর্ব্বাদলে,
স্নান সমাপন করি।
পরিয়া বসন,                       মণি অভরণ,
গোষ্ঠেতে চলিলা হরি॥
নন্দ মহামতি,                     মুনির সংহতি
সভাসদ গণে লৈয়া।
নানা বাদ্য বাজে,                  মঙ্গল সুসাজে,
গোষ্ঠে প্রবেশিলা যাঞা॥
যশোদা রোহিণী,                 গোপিনী সঙ্গিনী,
মঙ্গল দ্রব্য সহিতে।
নানা উপহারে,                     বস্ত্র অলঙ্কারে,
গোষ্ঠে হৈলা উপনীতে॥
@
দিব্য চন্দ্রাতপ,                   নিবারি আতপ,
উপরে বান্ধিল তার।
স্থাপিল কদলী,                       জল ঘট ভরি,
সহিত আম্রের দল।
রত্নপীঠোপরি,                   বৈসে রাম হরি,
হৈল মহাকোলাহল॥
স্বর্ণসূত্রে করি,                     ছান্দনের ডুরি,
রত্নের দোহন ভাণ্ড।
মুনি আজ্ঞামতে,                  রামকৃষ্ণ হাতে,
আনন্দে দিলেন নন্দ॥
বেদপাঠকরি,                       ব্রাহ্মণ সকলি,
করে আশীর্ব্বাদ ধ্বনি।
নর্ত্তক গায়ক,                      ভট্টাদি যাচক,
শব্দ চতুর্দ্দিকে শুনি॥
স্বর্গে সুরগণ,                      পুষ্প বরিষণ,
করিয়া সুখেতে ভাসে।
ত্রিভুবন ভরি,                    আনন্দ সবারি,
কহয়ে চৈতন্য দাসে॥

@ - এখানে “দিব্য আলিপনে অগোর চন্দনে স্থান কৈলা পরিস্কার” কলিটি দেয়া নেই।
সম্ভবত বাদ পড়ে গেছে।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৫২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠাষ্টমী যাত্রা
॥ জয়জয়ন্তী।

ডাকিয়া তখন                      নিজ প্রজাগণ
আজ্ঞা দিল ব্রজরাজ।
বস্ত্র অলঙ্কার                     নানা উপহার
করহ গোষ্ঠের সাজ॥
শুনি গোপী যত                    আনন্দিত-চিত
যৌতুক থালীতে ভরি।
নন্দের ভবনে                      দিলা দরশনে
দিব্য বাস ভূষা পরি॥
নন্দের গৃহিণী                  যশোদা রোহিণী
অম্বা কিলিন্বাদি সঙ্গে।
হরিদ্রা কুঙ্কুম                        গন্ধ উদ্বর্ত্তন
দিলা রামকৃষ্ণঅঙ্গে॥
সুবাসিত জলে                    ধান্য দূর্ব্বাদলে
স্নান সমাপন করি।
পরিয়া বসন                       মণি-আভরণ
গোষ্ঠেতে চলিলা হরি॥
নন্দ মহামতি                     মুনির সংহতি
সভাসদগণে লৈয়া।
নানা বাদ্য বাজে                   মঙ্গল সুসাজে
গোষ্ঠে প্রবেশিলা যাঞা॥
যশোদা রোহিণী                 গোপিনী সঙ্গিনী
মঙ্গলদ্রব্য সহিতে।
নানা উপহারে                     বস্ত্র অলঙ্কারে
গোষ্ঠে হৈলা উপনীতে॥
দিব্য আলিপনে                   অগোর চন্দনে
স্থান কৈলা পরিষ্কার।
দিব্য চন্দ্রাতপ                   নিবারি আতপ
উপরে বান্ধিল তার॥
স্থাপিল কদলী                       জল ঘট ভরি
সহিতে আম্রের দল।
রত্ন পীঠোপরি                   বৈসে রাম হরি
হৈল মহাকোলাহল॥
স্বর্ণসূত্রে করি                      ছান্দনের ডুরি
রত্নের দোহনভাণ্ড।
মুনিআজ্ঞামতে                     রামকৃষ্ণহাতে
আনন্দে দিলেন নন্দ॥
বেদ পাঠ করি                      ব্রাহ্মণ সকলি
করে আশীর্ব্বাদ ধ্বনি।
নর্ত্তক গায়ক                      ভট্টাদি যাচক
শব্দ চতুর্দ্দিকে শুনি ॥
স্বর্গে সুরগণ                       পুষ্প বরিষণ
করিয়া সুখেতে ভাসে।
ত্রিভুবন ভরি                    আনন্দ সভারি
কহয়ে চৈতন্যদাসে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

ডাকিয়া তখন নিজ প্রজাগণ                        
আজ্ঞা দিল ব্রজরাজ।
বস্ত্র অলঙ্কার নানা উপহার                        
করহ গোষ্ঠের সাজ॥
শুনি গোপী যত আনন্দিত চিত                    
যৌতুক থালীতে ভরি।
নন্দের ভবনে দিলা দরশনে                        
দিব্য বাস ভূষা পরি॥
নন্দের গৃহিণী যশোদা রোহিণী                     
অম্বা কিলিন্বাদি সঙ্গে।
হরিদ্রা কুঙ্কুম গন্ধ উদ্বর্ত্তন                            
দিলা রামকৃষ্ণঅঙ্গে॥
সুবাসিত জলে ধান্য দূর্ব্বাদলে                      
স্নান সমাপন করি।
পরিয়া বসন মণি আভরণ                           
গোষ্ঠেতে চলিলা হরি॥
নন্দ মহামতি মুনির সংহতি                        
সভাসদগণে লৈয়া।
নানা বাদ্য বাজে মঙ্গল সুসাজে                     
গোষ্ঠে প্রবেশিলা যাঞা॥
যশোদা রোহিণী গোপিনী সঙ্গিনী                     
মঙ্গলদ্রব্য সহিতে।
নানা উপহারে বস্ত্র অলঙ্কারে                        
গোষ্ঠে হৈলা উপনীতে॥
দিব্য আলিপনে অগোর চন্দনে                      
স্থান কৈলা পরিষ্কার।
দিব্য চন্দ্রাতপ নিবারি আতপ                       
উপরে বান্ধিল তার॥
স্থাপিল কদলী জল ঘট ভরি                         
সহিতে আম্রের দল।
রত্ন পীঠোপরি বৈসে রাম হরি                        
হৈল মহাকোলাহল॥
স্বর্ণসূত্রে করি ছান্দনের ডুরি                        
রত্নের দোহনভাণ্ড।
মুনিআজ্ঞামতে রামকৃষ্ণহাতে                        
আনন্দে দিলেন নন্দ॥
বেদ পাঠ করি ব্রাহ্মণ সকলি                         
করে আশীর্ব্বাদ ধ্বনি।
নর্ত্তক গায়ক ভট্টাদি যাচক                           
শব্দ চতুর্দ্দিকে শুনি॥
স্বর্গে সুরগণ পুষ্প বরিষণ                           
করিয়া সুখেতে ভাসে।
ত্রিভুবন ভরি আনন্দ সভারি                        
কহয়ে চৈতন্যদাসে

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
তবে নন্দ শীঘ্র আনাইলা দুই গাই
তবে নন্দ শীঘ্র আনাইল দুই গাই
কবি চৈতন্য দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য়খণ্ড,
৩য় শাখা, ২০শপল্লব ,গোষ্ঠাষ্টমী-যাত্রা, ১১৭২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

তবে নন্দ শীঘ্র আনাইলা দুই গাই।
ধবলী সাঙলী বত্স সহিত তথাই॥
সুরভি-সন্ততি সেই মহা দুগ্ধবতী।
স্বর্ণযুক্ত শৃঙ্গ খুর নবীন যুবতী॥
দুই গাই দুই ভাই ছান্দনে ছান্দিয়া।
দোহন করিলা গাবী আনন্দিত হৈয়া॥
দোঁহাকার দুই ভাণ্ড ক্ষণেকে পূরিল।
প্রথম দোহন দুগ্ধ ব্রাহ্মণেরে দিল॥
চৈতন্যদাসেতে কহে গাবীর দোহন।
দেখি ব্রজবাসিগণের জুড়াইল মন॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৭০৩-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ আহিরী॥

তবে নন্দ শীঘ্র আনাইলা দুই গাই।
ধবলী সাঙলী বচ্ছ সহিত তথাই॥
সুরভি-সন্ততি সেই মহা দুগ্ধবতী।
স্বর্ণযুক্ত দুই খুর নবীন যুবতী॥
দুই গাই দুই ভাই ছান্দনে ছান্দিয়া।
দোহন করিলা গাবী আনন্দিত হৈয়া॥
দোঁহাকার দুই ভাণ্ড ক্ষণেকে পূরিল।
প্রথম দোহন দুগ্ধ ব্রাহ্মণেরে দিল॥
চৈতন্যদাসেতে কহে গাবীর দোহন।
দেখি ব্রজবাসিগণের জুড়াইল মন॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গাভীদোহন।
॥ ভাটিয়ারী রাগ॥

তবে নন্দ শীঘ্র আনাইল দুই গাই। ধবলী সাওলী বত্স সহিত তথাই॥
সুরভি সন্ততি সেই মহা দুগ্ধবতী। স্বর্ণযুক্ত শৃঙ্গখুর নবীন যুবতী॥ দুই গাই
দুই ভাই ছান্দনে ছান্দিয়া। দোহন করিল গাই আনন্দিত হৈয়া॥ দোঁহাকার
দুই ভাণ্ড ক্ষণেকে পূরিল। প্রথম দোহন দুগ্ধ ব্রাহ্মণেরে দিল॥ চৈতন্য দাসেতে কহে গাবীর
দোহন। দেখি ব্রজবাসীগণের জুড়াইল মন॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

তবে নন্দ শীঘ্র আনাইলা দুই গাই।
ধবলী সাঙলী বত্স সহিত তথাই॥
সুরভি সন্ততি সেই মহা দুগ্ধবতী।
স্বর্ণযুক্ত শৃঙ্গ খুর নবীন যুবতী॥
দুই গাই দুই ভাই ছান্দনে ছান্দিয়া।
দোহন করিলা গাভী আনন্দিত হৈয়া॥
দোঁহাকার দুই ভাণ্ড ক্ষণেকে পূরিল।
প্রথম দোহন-দুগ্ধ ব্রাহ্মণেরে দিল॥
চৈতন্যদাসেতে কহে গাভীর দোহন।
দেখি ব্রজ-বাসিগণের জুড়াইল মন॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের গোষ্টাষ্টমী।
॥ বিভাস - জপতাল॥

তবে নন্দ শীঘ্র আনাইলা দুই গাই।
ধবলী শাঙলী বত্স সহিত তথাই॥
সুরভি-সন্ততি সেই মহা দুগ্ধবতী।
স্বর্ণযুক্ত শৃঙ্গ খুর নবীন যুবতী॥
দুই গাই দুই ভাই ছান্দনে ছান্দিয়া।
দোহন করিলা গাভী আনন্দিত হৈয়া॥
দোঁহাকার দুই ভাণ্ড ক্ষণেকে পূরিল।
প্রথম দোহন দুগ্ধ ব্রাহ্মণেরে দিল॥
চৈতন্য দাসেতে কহে গাভীর দোহন।
দেখি ব্রজ-বাসিগণের জুড়াইল মন॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠাষ্টমী যাত্রা
॥ তথা রাগ॥

তবে নন্দ শীঘ্র আনাইলা দুই গাই।
ধবলী সাঙলী বত্স সহিত তথাই॥
সুরভিসন্ততি সেই মহাদুগ্ধবতী।
স্বর্ণযুক্ত শৃঙ্গ খুর নবীন যুবতী॥
দুই গাই দুই ভাই ছান্দনে ছান্দিয়া।
দোহন করিলা গাবী আনন্দিত হৈয়া॥
দোঁহাকার দুগ্ধ ভাণ্ড ক্ষণেকে পূরিল।
প্রথম দোহন দুগ্ধ ব্রাহ্মণেরে দিল॥
চৈতন্যদাসেতে কহে গাবীর দোহন।
দেখি ব্রজবাসিগণের জুড়াইল মন॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২০৯-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তবে নন্দ শীঘ্র আনাইলা দুই গাই।
ধবলী সাঙলী বত্স সহিত তথাই॥
সুরভিসন্ততি সেই মহাদুগ্ধবতী।
স্বর্ণযুক্ত শৃঙ্গ খুর নবীন যুবতী॥
দুই গাই দুই ভাই ছান্দনে ছান্দিয়া।
দোহন করিলা গাবী আনন্দিত হৈয়া॥
দোঁহাকার দুগ্ধ ভাণ্ড ক্ষণেকে পূরিল।
প্রথম দোহন দুগ্ধ ব্রাহ্মণেরে দিল॥
চৈতন্যদাসেতে কহে গাবীর দোহন।
দেখি ব্রজবাসিগণের জুড়াইল মন॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
আইলা সকলে নন্দের মহলে
কবি চৈতন্য দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য়খণ্ড,৩য় শাখা, ২০শপল্লব ,গোষ্ঠাষ্টমী-যাত্রা, ১১৭৩-
পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

আইলা সকলে                   নন্দের মহলে
নন্দ আনন্দিত-মন।
প্রথমে পূজিল                   ব্রাহ্মণ সকল
দিলেন অনেক ধন॥
সুবর্ণ রজত                গাবী বত্স কত
লক্ষাধিক পরিমাণ।
অলঙ্কার যত                   দক্ষিণা সহিত
ব্রাহ্মণে করয়ে দান॥
নর্ত্তক গায়ক                   ভট্টাদি বাদক
গোধনে তুষিল সভে।
নানা মিষ্ট-অন্ন                  করাই ভোজন
বিদায় করিলা তবে॥
কৃষ্ণ বলরাম                   সখাগণ বাম
করিল ভোজন-কেলি।
নন্দ যশোমতী                 করিল আরতি
গোপ-গোপীগণ মেলি॥
ধন্য ব্রজ জন                 ধন্য সে ব্রাহ্মণ
ধন্য সে গোকুলপুর।
ধন্য গাবীগণ                    যমুনা-পুলিন
এ দাস চৈতন্য ফুর॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৭০৪-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ আহিরী॥

আইলা সকলে                   নন্দের মহলে
নন্দ আনন্দিত-মন।
প্রথমে পূজিল                   ব্রাহ্মণ সকল
দিলেন অনেক ধন॥
সুবর্ণ রজত                গাবী বত্স কত
লক্ষাধিক পরিমাণ।
অলঙ্কার যত                   দক্ষিণা সহিত
ব্রাহ্মণে করয়ে দান॥
নর্ত্তক গায়ক                   ভট্টাদি বাদক
গোধনে তুষিল সভে।
নানা মিষ্ট-অন্ন                  করাই ভোজন
বিদায় করিলা তবে॥
কৃষ্ণ বলরাম                   সখাগণ রাম
করিল ভোজন-কেলি।
নন্দ যশোমতী                 করিল আরতি
গোপ-গোপীগণ মেলি॥
ধন্য ব্রজ জন                 ধন্য সে ব্রাহ্মণ
ধন্য সে গোকুলপুর।
ধন্য গাবীগণ                    যমুনা-পুলিন
এ দাস চৈতন্য ফুর॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

আইলা সকলে,                   নন্দের মহলে,
নন্দ আনন্দিত মন।
প্রথমে পূজিল,                   ব্রাহ্মণ সকল,
দিলেন অনেক ধন॥
সুবর্ণ রজত,                গাবী বত্স কত,
লক্ষাধিক পরিমাণ।
অলঙ্কার যত,                   দক্ষিণা সহিত,
ব্রাহ্মণে করয়ে দান॥
নর্ত্তক গায়ক,                   ভট্টাদি বাদক,
গোধনে তুষিল সবে।
নানা মিষ্ট অন্ন,                করাইল ভোজন,
বিদায় করিলা তবে॥
কৃষ্ণ বলরাম,                      সখাগণ বাম,
করিল ভোজন কেলি।
নন্দ যশোমতী,                 করিল আরতি,
গোপ গোপীগণ মেলি॥
ধন্য ব্রজ-জন,                   ধন্য সে ব্রাহ্মণ,
ধন্য সে গোকুলপুর।
ধন্য গাভীগণ,                     যমুনা-পুলিন,
এ দাস চৈতন্য ফুর॥

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের গোষ্টাষ্টমী।
॥ শ্রীরাগ - জপতাল॥

আইলা সকলে,                   নন্দের মহলে,
নন্দ আনন্দিত মন।
প্রথমে পূজিল,                   ব্রাহ্মণ সকল,
দিলেন অনেক ধন॥
সুবর্ণ রজত,                গাভী বত্স কত,
লক্ষাধিক পরিমাণ।
অলঙ্কার যত,                   দক্ষিণা সহিত
ব্রাহ্মণে করয়ে দান॥
নর্ত্তক গায়ক,                   ভট্টাদি বাদক,
গোধনে তুষিল সবে।
নানা মিষ্ট অন্ন                  করাই ভোজন,
বিদায় করিলা তবে॥
কৃষ্ণ বলরাম,                   সখাগণ বাম,
করিল ভোজন কেলি।
নন্দ যশোমতী,                 করিল আরতি,
গোপ গোপীগণ মেলি॥
ধন্য ব্রজজন,                 ধন্য সে ব্রাহ্মণ
ধন্য সে গোকুল পুর।
ধন্য গাভীগণ,                    যমুনা পুলিন,
এদাস চৈতন্য ফুর॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৫২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠাষ্টমী যাত্রা
॥ তথারাগ॥

আইলা সকলে                   নন্দের মহলে
নন্দ আনন্দিতমন।
প্রথমে পূজিল                   ব্রাহ্মণসকল
দিলেন অনেক ধন॥
সুবর্ণ রজত                গাবী বত্স কত
লক্ষাধিক পরিমাণ।
অলঙ্কার যত                   দক্ষিণা সহিত
ব্রাহ্মণে করয়ে দান॥
নর্ত্তক গায়ক                   ভট্টাদি বাদক
গোধনে তুষিল সভে।
নানা মিষ্টঅন্ন                  করাই ভোজন
বিদায় করিলা তবে॥
কৃষ্ণ বলরাম                   সখাগণ বাম
করিল ভোজনকেলি।
নন্দ যশোমতী                 করিল আরতি
গোপগোপীগণ মেলি॥
ধন্য ব্রজ জন                 ধন্য সে ব্রাহ্মণ
ধন্য সে গোকুলপুর।
ধন্য গাবীগণ                    যমুনা-পুলিন
এ দাস চৈতন্য ফুর॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২০৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

আইলা সকলে নন্দের মহলে                        
নন্দ আনন্দিতমন।
প্রথমে পূজিল ব্রাহ্মণসকল                          
দিলেন অনেক ধন॥
সুবর্ণ রজত গাবী বত্স কত                        
লক্ষাধিক পরিমাণ।
অলঙ্কার যত দক্ষিণা সহিত                        
ব্রাহ্মণে করয়ে দান॥
নর্ত্তক গায়ক ভট্টাদি বাদক                        
গোধনে তুষিল সভে।
নানা মিষ্টঅন্ন করাই ভোজন                        
বিদায় করিলা তবে॥
কৃষ্ণ বলরাম সখাগণ বাম                           
করিল ভোজনকেলি।
নন্দ যশোমতী করিল আরতি                       
গোপগোপীগণ মেলি॥
ধন্য ব্রজ জন ধন্য সে ব্রাহ্মণ                        
ধন্য সে গোকুলপুর।
ধন্য গাবীগণ যমুনা পুলিন                           
এ দাস চৈতন্য ফুর॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গ-বিলাস
কবি চৈতন্য দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৩শ পল্লব, গোবর্দ্ধন-লীলা,
১২৪২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীগান্ধার॥

দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গ-বিলাস।
পুন গিরি-ধারণ                     পুরব লীলা-ক্রম
নবদ্বীপে করিলা প্রকাশ॥ ধ্রু॥
শুদ্ধ ভক্তি গোবর্দ্ধন              পূজা কর জগ-জন
এই বিধি দিলা কলি মাঝে।
শ্রবণাদি নব অঙ্গ                কল্পতরুময় শৃঙ্গ
পঞ্চ-রস ফল তাহে সাজে॥
পুলক-অঙ্কুর শোভা          অশ্রু-জল মনোলোভা
মন্দ বায়ু বেপথু সুন্দর।
নিজেন্দ্রিয়-উপচারে           সেব সেই গিরিবরে
প্রেম-মণি পাবে ইষ্ট-বর॥
দেখিয়া লোকের গতি             কলিযুগ-সুরপতি
কোপে তনু কম্পিত হইল।
অধরম-ঐরাবতে              কুমতি-ইন্দ্রাণী সাথে
সসৈন্যেতে সাজিয়া আইল॥
কাম-মেঘ বরিষণে            ক্রোধ-বজ্র নিক্ষেপণে
লোকের হইল বড় ডর।
লোভ-মোহ-শিলাঘাতে        মাত্সর্য্যাদি-খর-বাতে
ধৈর্য্য ধর্ম্ম উড়ে নিরন্তর॥
জানিয়া জীবের ভয়            শ্রীগৌরাঙ্গ দয়াময়
উপায় চিন্তিলা মনে মনে।
ভক্ত-ভাব-সারোদ্ধার          নিজে করি অঙ্গীকার
ভক্তি-গিরি করিলা ধারণে॥
তাহার আশ্রয়ে লোক         পাসরিল দুঃখ শোক
কলি-ভয় খণ্ডিল সকলে।
তবে কলি-দেবরাজ           পাঞা পরাভব-লাজ
স্তুতি করে চরণ-কমলে॥
অপরাধ ক্ষমাইয়া             কহে কিছু দীন হৈয়া
যত জীব প্রভুর আশ্রয়।
যেবা তব গুণ গায়          তাহে মোর নাহি দায়
এই সত্য করিল নিশ্চয়॥
প্রভু তারে দয়া কৈল           ধন্য কলি নাম থুইল
অদ্যাপিহ ঘোষয়ে সংসার।
চৈতন্যদাসেতে বলে           গোবর্দ্ধন-লীলা-ছলে
যুগে যুগে জীবের উদ্ধার॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৭৭৬-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গ-বিলাস।
পুন গিরি-ধারণ                     পুরব লীলা-ক্রম
নবদ্বীপে করিলা প্রকাশ॥ ধ্রু॥
শুদ্ধ ভক্তি গোবর্দ্ধন              পূজা কর জগ-জন
এই বিধি দিলা কলি মাঝে।
শ্রবণাদি নব অঙ্গ                কল্পতরুময় অঙ্গ
পঞ্চ-রস ফল তাহে সাজে॥
পুলক-অঙ্কুর শোভা          অশ্রু-জল মনোলোভা
মন্দ বায়ু বেপথু সুন্দর।
নিজেন্দ্রিয়-উপচারে           সেব সেই গিরিবরে
প্রেম-মণি পাবে ইষ্ট-বর॥
দেখিয়া লোকের গতি             কলিযুগ-সুরপতি
কোপে তনু কম্পিত হইল।
অধরম-ঐরাবতে             কুমতি-ইন্দ্রাণী সাথে
সসৈন্যেতে সাজিয়া আইল॥
কাম-মেঘ বরিষণে           ক্রোধ-বজ্র নিক্ষেপণে
লোকের হইল মহা ডর।
লোভ-মোহ-শিলাঘাতে        মাত্সর্য্যাদি-খর-বাতে
ধৈর্য্য ধর্ম্ম উড়ে নিরন্তর॥
জানিয়া জীবের ভয়            শ্রীগৌরাঙ্গ দয়াময়
উপায় চিন্তিলা মনে মনে।
ভক্ত-ভাব-সারোদ্ধার          নিজে করি অঙ্গীকার
ভক্তি-গিরি করিলা ধারণে॥
তাহার আশ্রয়ে লোক          পাসরিল দুঃখ শোক
কলি-ভয় খণ্ডিল সকলে।
তবে কলি-দেবরাজ           পাঞা পরাভব-লাজ
স্তুতি করে চরণ-কমলে॥
অপরাধ ক্ষমাইয়া            কহে কিছু দীন হৈয়া
যত জীব প্রভুর আশ্রয়।
যেবা তব গুণ গায়          তাহে মোর নাহি দায়
এই সত্য করিল নিশ্চয়॥
প্রভু তারে দয়া কৈল           ধন্য কলি নাম থুইল
অদ্যাপিহ ঘোষয়ে সংসার।
চৈতন্যদাসেতে বলে             গোবর্দ্ধন-লীলা-ছলে
যুগে যুগে জীবের উদ্ধার॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

গোবর্দ্ধন যাত্রা।
॥ শ্রীরাগ॥

গৌরচন্দ্র। দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গবিলাস। পুন গিরি ধারণ,
পূরব লীলাক্রম, নবদ্বীপে করিলা প্রকাশ॥ শুদ্ধভক্তি গোবর্দ্ধন, পূজা কর
জগজন, এই বিধি দিলা কলিমাঝে। শ্রবণাদি নব অঙ্গ, কল্পতরুময় অঙ্গ, পঞ্চ
রস ফল তাহে সাজে॥ পুলক অঙ্কুর শোভা, অশ্রুজল মনোলোভা, মন্দবায়ু বেপথু সুন্দর। নিজেন্দ্রিয়
উপচারে, সেব সেই গিরিবরে, প্রেমমণি পাবে ইষ্টবর॥
দেখিয়া লোকের গতি, কলিযুগ সুরপতি, কোপে তনু কম্পিত হইল। অধরম
ঐরাবতে, কুমতি ইন্দ্রাণী সাথে, সসৈন্যেতে সাজিয়া আইল॥ কাম মেঘ বরিষণে,
ক্রোধ বজ্র নিক্ষেপণে, লোকের হইল বড় ডর। লোহ মোহ শিলাঘাতে, মাৎ-
সর্য্যাদি খরবাতে, ধৈর্য্য ধর্ম্ম উরে নিরন্তর॥ জানিয়া জীবের ভয়, শ্রীগৌরাঙ্গ
দয়াময়, উপায় চিন্তিলা মনে মনে। ভক্ত ভাব সারোদ্ধার, নিজে করি অঙ্গীকার,
ভক্তি-গিরি করিলা ধারণে॥ তাহার আশ্রয়ে লোক, পাসরিল দুখ শোক, কলি
ভার খণ্ডিল সকলে। তবে কলি দেবরাজ, পাঞা পরাভব লাজ, স্তুতি করে
চরণকমলে॥ অপরাধ ক্ষমাইয়া, কহে কিছু দীন হৈয়া, যত জীব প্রভুর আশ্রয়।
যেবা তব গুণ গায়, তাহু মোর নাহি দায়, এই সত্য করিল নিশ্চয়॥ প্রভু
তারে দয়া কৈল, ধন্য কলি নাম থুইল, অদ্যাপিহ ঘোষয়ে সংসার। চৈতন্য দাসেতে
বলে, গোবর্দ্ধন লীলাছলে, যুগে যুগে জীবের উদ্ধার॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছ্বাস, গৌরাবতারের ঐশ্বর্য্য ও মাধুর্য্য,
১৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরাবতারের ঐশ্বর্য্য ও মাধুর্য্য
॥ ধানশী॥

দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গবিলাস।
পুন গিরিধারণ                     পূরব লীলাক্রম
নবদ্বীপে করিলা প্রকাশ॥ ধ্রু॥
শুদ্ধ ভক্তি গোবর্দ্ধন            পূজা কর জগজ্জন
এই বিধি দিলা কলি মাঝে।
শ্রবণাদি নব অঙ্গ              কল্পতরুময় অঙ্গ
পঞ্চরস ফলে তাহা সাজে॥
পুলক অঙ্কুর শোভা          অশ্রু জনমনোলোভা
মন্দ বায়ু বেপথু সুন্দর।
নিজেন্দ্রিয় উপচারে           সেব সেই গিরিবরে
প্রেমমণি পাবে ইষ্ট বর॥
দেখিয়া লোকের গতি           কলি-যুগ-সুরপতি
কোপে তনু কম্পিত হইল।
অধরম ঐরাবতে              কুমতি ইন্দ্রাণী সাথে
সসৈন্যেতে সাজিয়া আইল॥
কামমেঘ-বরিষণে              ক্রোধবজ্র-নিক্ষেপণে
লোকের হইল বড় ডর।
লোভমোহ-শিলাঘাতে         মাত্সর্য্যাদি খরবাতে
ধৈর্য্যধর্ম্ম উড়ে নিরন্তর॥
জানিয়া জীবের দায়            শ্রীগৌরাঙ্গ দয়াময়
উপায় চিন্তিল মনে মনে।
ভক্তভাব সারোদ্ধার          নিজে করি অঙ্গীকার
ভক্তি-গিরি করিলা ধারণে॥
তাহার আশ্রয়ে লোক          পাসরিল দুঃখশোক
কলিভয় খণ্ডিল সকলে।
তবে কলিদেবরাজ           পেয়ে পরাভব লাজ
স্তুতি করে চরণকমলে॥
অপরাধ ক্ষমাইয়া            কহে কিছু দীন হৈয়া
যত জীব প্রভুর আশ্রয়।
যেবা তব গুণ গায়          তাহে মোর নাহি দায়
এই সত্য করিনু নিশ্চয়॥
প্রভু তারে দয়া কৈল           ধন্য কলি নাম হৈল
অদ্যাপিও ঘোষয়ে সংসারে।
চৈতন্যদাসেতে বলে           গোবর্দ্ধন লীলাছলে
যুগে যুগে জীবের উদ্ধারে॥

ব্যাখ্যা -
পদকত্তা অতি আশ্চর্য্যরূপে গোবর্দ্ধনলীলার রূপকচ্ছলে মহাপ্রভুর পাতকি-উদ্ধার-বৃত্তান্ত বর্ণন করিয়াছেন।
সংক্ষেপে রূপকটী এইঃ---  মহাপ্রভু জীবগণকে কহিলেন, আর ইন্দ্রাদি ঐশ্বর্য্যশালী দেবতার পূজা করিতে
হইবে না। ভগবানের মাধুর্য্যের উপাসনা ভিন্ন উদ্ধারের উপায় নাই। শ্রবণাদি নবধা অঙ্গে ও
শান্তদাস্যাদিরূপ পঞ্চ ফলে, সাত্ত্বিকভাবাদি উপকরণে, স্বীয় ইন্দ্রিয়গ্রাম বলিদানপূর্ব্বক শুদ্ধভক্তিরূপ
গোবর্দ্ধনগিরির পূজা কর ; অর্থাৎ শুদ্ধভক্তির পথই ভগবৎপ্রাপ্তির একমাত্র পথ। ঐ গিরির পূজা করিলে
প্রেমমণিরূপ ইষ্টবর লাভ করিবে। ইহাতে কলিরূপ ইন্দ্র কুপিত হইয়া কুমতিরূপা শচীসহ অধর্ম্মরূপ
ঐরাবতে আরোহণপূর্ব্বক কামরূপ মেঘবর্ষণ, ক্রোধরূপ বর্জ্রনিক্ষেপ ও লোভরূপ শিলাবৃষ্টি করিতে লাগিলেন
। মদমাত্সর্য্যরূপ প্রবল ঝড় উত্থিত হইল। তাহাতে লোকের ধৈর্য্য ধর্ম্ম উড়িয়া যাইতে অর্থাৎ বিদূরিত
হইতে লাগিল। বস্তুতঃ কলির প্রভাবে ষড়্ রিপুর প্রাবল্যে লোকের ধর্ম্মচ্যুতি হইতে লাগিল। জীবের দুর্গতি
দেখিয়া, ভগবান্ চৈতন্যদেব স্বয়ং ভক্তভাব অঙ্গীকার করিয়া ভক্তিরূপ গোবর্দ্ধন ধারণপূর্ব্বক, অর্থাৎ
শুদ্ধভক্তির শ্রেষ্ঠতা জগতে প্রচার করিয়া জীব সকলকে রক্ষা করিলেন। জীব ভক্তি-শৈলের আশ্রয়ের
নিরাপদ হইল ; অর্থাৎ ভক্তির পথ অবলম্বন করিয়া নিষ্পাপ হইল। কলি-ইন্দ্র পরাভূত ও লজ্জিত হইয়া
প্রতিজ্ঞা করিল যে, “যে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের গুণগান করিবে, তাহার উপর আমার অধিকার থাকিবে না।” তখন
মহাপ্রভু তাহার উপর সন্তুষ্ট হইয়া, তাহাকে “ধন্য কলি” উপাধি দান করিলেন। এইক্ষণ জিগ্যাস্য হইতে পারে
যে, মহাপ্রভু ভক্তভাব অঙ্গীকার করিলেন কেন? উত্তর, তিনি নবরূপে অবতীর্ণ, তখন সামান্য মানবের ন্যায়
আচরণ করিয়া ভক্তি শিক্ষা দানই তাঁহার পক্ষে উচিত। কারণ, নিজে ভক্ত না হইলে, সুচারুরূপে অন্যকে
ভক্তি সাধন শিক্ষা দেওয়া যায় না ; এই জন্যই চরিতামৃতকার কহিয়াছেন, “আপনি আচরি ধর্ম্ম জীবেবে
শিখায়।” কলিকে ধন্য বলিবার তাত্পর্য্য কি? কারণ, নামগ্রহণরূপ সহজ সাধন কেবল এই কলিকালের
অল্পপ্রাণ জীবের জন্য। এরবার বদন ভরিয়া “হরে কৃষ্ণ” নাম উচ্চারণ কর, আর শমনের ভয় থাকিবে না।
জন্ম-জন্মার্জ্জিত পাপরাশি তৃণের ন্যায় ভস্মীভূত হইবে। আহা! একবার হরিনামে যত পাপ হরে। পাপীর
কি সাধ্য বল তত পাপ করে? সুতারং কলিকাল যথার্থই ধন্য, কলির জীবও ধন্য।--- জগবন্ধু ভদ্র
সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীগান্ধার॥

দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গ-বিলাস।
পুন গিরিধারণ,                     পুরব লীলা ক্রম,
নবদ্বীপে করিলা প্রকাশ॥
শুদ্ধ ভক্তি গোবর্দ্ধন,            পূজা কর জগজন,
এই বিধি দিলা কলি মাঝে।
শ্রবণাদি নব অঙ্গ,              কল্পতরুময় অঙ্গ,
পঞ্চরস ফল তাহে সাজে॥
পুলক-অঙ্কুর শোভা,          অশ্রুজল মনোলোভা,
মন্দ বায়ু বেপথু সুন্দর।
নিজেন্দ্রিয়-উপচারে           সেব সেই গিরিবরে,
প্রেম-মণি পাবে ইষ্টবর॥
দেখিয়া লোকের গতি,           কলিযুগ-সুরপতি,
কোপে তনু কম্পিত হইল।
অধরম-ঐরাবতে,            কুমতি-ইন্দ্রাণী সাথে,
সসৈন্যেতে সাজিয়া আইল॥
কামমেঘ বরিষণে             ক্রোধবজ্র নিক্ষেপণে,
লোকের হইল বড় ডর।
লোভমোহ শিলাঘাতে         মাত্সর্য্যাদি খরবাতে
ধৈর্য্য ধর্ম্ম উড়ে নিরন্তর॥
জানিয়া জীবের ভয়,            শ্রীগৌরাঙ্গ দয়াময়,
উপায় চিন্তিলা মনে মনে।
ভক্তভাব-সারোদ্ধার,          নিজে করি অঙ্গীকার,
ভক্তিগিরি করিলা ধারণে॥
তাহার আশ্রয়ে লোক,          পাসরিল দুঃখ শোক,
কলিভয় খণ্ডিল সকলে।
তবে কলি-দেবরাজ,           পাঞা পরাভব লাজ,
স্তুতি করে চরণ-কমলে॥
অপরাধ ক্ষমাইয়া,            কহে কিছু দীন হৈয়া.
যত জীব প্রভুর আশ্রয়।
যেবা তব গুণ গায়,          তাহে মোর নাহি দায়,
এই সত্য করিল নিশ্চয়॥
প্রভু তারে দয়া কৈল,           ধন্য কলি নাম থুইল,
অদ্যাপিহ ঘোষয়ে সংসার।
চৈতন্যদাসেতে বলে,           গোবর্দ্ধন-লীলা-ছলে,
যুগে যুগে জীবের উদ্ধার॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৫২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোবর্দ্ধনলীলা
॥ শ্রীগান্ধার॥

দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গবিলাস।
পুন গিরিধারণ                     পুরব লীলাক্রম
নবদ্বীপে করিলা প্রকাশ॥ ধ্রু॥
শুদ্ধ ভক্তি গোবর্দ্ধন            পূজা কর জগ-জন
এই বিধি দিলা কলি মাঝে।
শ্রবণাদি নব অঙ্গ              কল্পতরুময় শৃঙ্গ
পঞ্চরস ফল তাহে সাজে॥
পুলকঅঙ্কুর শোভা          অশ্রুজল মনোলোভা
মন্দ বায়ু বেপথু সুন্দর।
নিজেন্দ্রিয় উপচারে           সেব সেই গিরিবরে
প্রেমমণি পাবে ইষ্টবর॥
দেখিয়া লোকের গতি            কলিযুগ সুরপতি
কোপে তনু কম্পিত হইল।
অধরম ঐরাবতে            কুমতি ইন্দ্রাণী সাথে
সসৈন্যেতে সাজিয়া আইল॥
কামমেঘ বরিষণে             ক্রোধবজ্র নিক্ষেপণে
লোকের হইল বড় ডর।
লোভ মোহ শিলাঘাতে      মাত্সর্য্যাদি খরবাতে
ধৈর্য্যধর্ম্ম উড়ে নিরন্তর॥
জানিয়া জীবের ভয়            শ্রীগৌরাঙ্গ দয়াময়
উপায় চিন্তিলা মনে মনে।
ভক্তভাব সারোদ্ধার          নিজে করি অঙ্গীকার
ভক্তিগিরি করিলা ধারণে॥
তাহার আশ্রয়ে লোক          পাসরিল দুঃখ শোক
কলিভয় খণ্ডিল সকলে।
তবে কলিদেবরাজ             পাঞা পরাভবলাজ
স্তুতি করে চরণকমলে॥
অপরাধ ক্ষমাইয়া            কহে কিছু দীন হৈয়া
যত জীব প্রভুর আশ্রয়।
যেবা তব গুণ গায়          তাহে মোর নাহি দায়
এই সত্য করিল নিশ্চয়॥
প্রভু তারে দয়া কৈল           ধন্য কলি নাম থুইল
অদ্যাপিহ ঘোষয়ে সংসার।
চৈতন্যদাসেতে বলে           গোবর্দ্ধন লীলা ছলে
যুগে যুগে জীবের উদ্ধার॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গবিলাস।                
পুন গিরিধারণ পুরব লীলাক্রম                        
নবদ্বীপে করিলা প্রকাশ॥
শুদ্ধ ভক্তি গোবর্দ্ধন পূজা কর জগ জন                
এই বিধি দিলা কলি মাঝে।
শ্রবণাদি নব অঙ্গ কল্পতরুময় শৃঙ্গ                
পঞ্চরস ফল তাহে সাজে॥
পুলকঅঙ্কুর শোভা অশ্রুজল                        
মনোলোভা মন্দ বায়ু বেপথু সুন্দর।               
নিজেন্দ্রিয় উপচারে সেব সেই গিরিবরে            
প্রেমমণি পাবে ইষ্টবর॥
দেখিয়া লোকের গতি কলিযুগ
সুরপতি কোপে তনু কম্পিত হইল।                
অধরম ঐরাবতে কুমতি ইন্দ্রাণী সাথে             
সসৈন্যেতে সাজিয়া আইল॥
কামমেঘ বরিষণে ক্রোধবজ্র নিক্ষেপণে              
লোকের হইল বড় ডর।
লোভ মোহ শিলাঘাতে মাত্সর্য্যাদি                  
খরবাতে ধৈর্য্যধর্ম্ম উড়ে নিরন্তর॥
জানিয়া জীবের ভয় শ্রীগৌরাঙ্গ দয়াময়              
উপায় চিন্তিলা মনে মনে।
ভক্তভাব সারোদ্ধার নিজে করি অঙ্গীকার            
ভক্তিগিরি করিলা ধারণে॥
তাহার আশ্রয়ে লোক পাসরিল দুঃখ                  
শোক কলিভয় খণ্ডিল সকলে।
তবে কলিদেবরাজ পাঞা পরাভবলাজ                
স্তুতি করে চরণকমলে॥
অপরাধ ক্ষমাইয়া কহে কিছু দীন হৈয়া              
যত জীব প্রভুর আশ্রয়।
যেবা তব গুণ গায় তাহে মোর নাহি                  
দায় এই সত্য করিল নিশ্চয়॥
প্রভু তারে দয়া কৈল ধন্য কলি নাম                  
থুইল অদ্যাপিহ ঘোষয়ে সংসার।
চৈতন্যদাসেতে বলে গোবর্দ্ধন লীলা                   
ছলে যুগে যুগে জীবের উদ্ধার॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
যত গোপগণ পূজে গোবর্দ্ধন
কবি চৈতন্য দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,৩য় শাখা, ২৩শ পল্লব, গোবর্দ্ধন-লীলা, ১২৪৫-
পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

যত গোপগণ                      পূজে গোবর্দ্ধন
না কৈল ইন্দ্রের পূজা।
পাই অপমান                    কোপে কম্পমান
সাজিলা দেবের রাজা॥
মহা অহঙ্কারে                   কৃষ্ণ-নিন্দা করে
অজ্ঞানে মোহিত হৈয়া।
কহে গোপ-পুরী                      মহাবৃষ্টি করি
আজি ডুবাইব যাঞা॥
ডাকি মেঘগণে                      যতেক পবনে
আজ্ঞা দিলা সুর-পতি।
শিলা-বৃষ্টি করি                     ভাঙ্গ ব্রজ-পুরী
যাহ যাহ শীঘ্র-গতি॥
আপনে তখনে                      চড়িয়া বারণে
বজ্র হস্তে দেবরাজ।
সঙ্গে সেনাগণ                           ছাইয়া গগন
আইল গোকুল মাঝ॥
চতুর্দিগে মেঘে                      ধায় বায়ু-বেগে
দিনে হৈল অন্ধকার।
খর বরিষণে                        বজ্রের ক্ষেপণে
ভাঙ্গিল ঘর দুয়ার॥
প্রলয়ের হেন                         বৃষ্টি-ধারা ঘন
ঝঞ্ঝণা চিকুর পড়ে।
হাহাকার করি                       পথাপথ ছাড়ি
ব্রজবাসী সব নড়ে॥
পড়িয়া সঙ্কটে                        কৃষ্ণের নিকটে
আইলা গোকুল-বাসী।
ধেনুগণ যত                         যূথে যূথে কত
দাঁড়াইল নিকটে আসি॥
কৃষ্ণ মহামতি                       গোকুলের পতি
কর পরিত্রাণ বোলে।
চৈতন্যের দাস                        করি এই আশ
এবার রাখ গোকুলে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৭৭৯-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

যত গোপগণ                      পূজে গোবর্দ্ধন
না কৈল ইন্দ্রের পূজা।
পাই অপমান                    কোপে কম্পবান
সাজিলা দেবের রাজা॥
মহা অহঙ্কারে                   কৃষ্ণ-নিন্দা করে
অজ্ঞানে মোহিত হৈয়া।
কহে গোপ-পুরী                      মহাবৃষ্টি করি
আজি ডুবাইব যাঞা॥
ডাকি মেঘগণে                      যতেক পবনে
আজ্ঞা দিলা সুর-পতি।
শিলা-বৃষ্টি করি                     ভাঙ্গ ব্রজ-পুরী
যাহ যাহ শীঘ্র-গতি॥
আপনে তখনে                     চড়িয়া বিমানে
বজ্র হস্তে দেবরাজ।
সঙ্গে সেনাগণ                           ছাইয়া গগন
আইল গোকুল মাঝ॥
চতুর্দিগে মেঘে                        ধায় বহু-বেগে
দিনে হৈল অন্ধকার।
খর বরিষণে                        বজ্রের ক্ষেপণে
ভাঙ্গিল ঘর দুয়ার॥
প্রলয়ের হেন                         বৃষ্টি-ধারা ঘন
ঝঞ্ঝণা চিক্ষুর পড়ে।
হাহাকার করি                       পথাপথ ছাড়ি
ব্রজবাসী সব লড়ে॥
পড়িয়া সঙ্কটে                       কৃষ্ণের নিকটে
আইলা গোকুল-বাসী।
ধেনুগণ যত                          যূথ যূথ কৃত
দাঁড়াইল নিকটে আসি॥
কৃষ্ণ মহামতি                       গোকুলের পতি
কর পরিত্রাণ বোলে।
চৈতন্যের দাস                        করি এই আশ
এবার রাখ গোকুলে॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

গোবর্দ্ধন যাত্রা।
॥ শ্রীরাগ॥

যত গোপগণ, পূজে গোবর্দ্ধন, না কৈল ইন্দ্রের পূজা। পাই অপমান, ক্রোধে
কম্পমান, সাজিলা দেবের রাজা॥ মহা অহংকারে, কৃষ্ণ নিন্দা করে, অজ্ঞানে
মোহিত হৈয়া। কহে গোপপুরীস মহা বৃষ্টি করি, আজি ডুবাইব যাঞা॥ ডাকি
মেঘগণে, যতেক পবনে, আজ্ঞা দিল সুরপতি। শিলা বৃষ্টি করি, ভাঙ্গ ব্রজপুরী,
যাহ যাহ শীঘ্র গতি॥ আপনি তখনে, চড়িয়া বাহনে, বজ্র হস্তে দেবরাজ। সঙ্গে
সেনাগণ, ছাইয়া গগন, আইল গোধনমাঝ॥ চতুর্দ্দিকে মেঘে, ধায় বায়ু
বেগে, দিনে হইল অন্ধকার। খর বরিষণে, বজ্রের ক্ষেপণে, ভাঙ্গিল ঘরদুয়ার॥
প্রলয়ের হেন, বৃষ্টিধারা ঘন, ঝঞ্ঝণা চিকুর পড়ে। হাহাকার করি, পথাপথ
ছাড়ি, ব্রজবাসী সব নড়ে॥ পড়িয়া সঙ্কটে, কৃষ্ণের নিকটে, আইলা গোকুলবাসী।
ধেনুগণ যত, যূথে যূথে কত, দাণ্ডাইল নিকটে আসি॥ কৃষ্ণ মহামতি, গোকুলের
পতি, কর পরিত্রাণ বোলে। চৈতন্যের দাস, করি এহি আশ, এবার রাখ গোকুলে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

যত গোপগণ,                     পূজে গোবর্দ্ধন,
না কৈল ইন্দ্রের পূজা।
পাই অপমান,                    কোপে কম্পমান,
সাজিলা দেবের রাজা॥
মহা অহঙ্কারে,                   কৃষ্ণনিন্দা করে,
অজ্ঞানে মোহিত হৈয়া।
কহে গোপ-পুরী,                      মহাবৃষ্টি করি,
আজি ডুবাইব যাঞা॥
ডাকি মেঘগণে,                      যতেক পবনে,
আজ্ঞা দিলা সুর-পতি।
শিলা-বৃষ্টি করি.                     ভাঙ্গ ব্রজ-পুরী.
যাহ যাহ শীঘ্র গতি॥
আপনি তখনে,                      চড়িয়া বাহনে,
বজ্র হস্তে দেবরাজ।
সঙ্গে সেনাগণ,                           ছাইয়া গগন,
আইল গোকুল মাঝ॥
চতুর্দ্দিগে মেঘে,                     ধায় বায়ু-বেগে,
দিনে হৈল অন্ধকার।
খর বরিষণে,                        বজ্রের ক্ষেপণে,
ভাঙ্গিল ঘর দুয়ার॥
প্রলয়ের হেন,                         বৃষ্টি-ধারা ঘন,
ঝঞ্ঝণা চিকুর পড়ে।
হাহাকার করি,                       পথাপথ ছাড়ি,
ব্রজবাসী সব নড়ে॥
পড়িয়া সঙ্কটে,                       কৃষ্ণের নিকটে,
আইলা গোকুলবাসী।
ধেনুগণ যত,                        যূথে যূথে কত,
দাঁড়াইল নিকটে আসি॥
কৃষ্ণ মহামতি,                       গোকুলের পতি,
কর পরিত্রাণ বোলে।
চৈতন্যেরদাস,                        করি এই আশ,
এবার রাখ গোকুলে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোবর্দ্ধনলীলা
॥ তথা রাগ॥

যত গোপগণ                    পূজে গোবর্দ্ধন
না কৈল ইন্দ্রের পূজা।
পাই অপমান                  কোপে কম্পমান
সাজিলা দেবের রাজা॥
মহা অহঙ্কারে                   কৃষ্ণনিন্দা করে
অজ্ঞানে মোহিত হৈয়া।
কহে গোপপুরী                      মহাবৃষ্টি করি
আজি ডুবাইব যাঞা॥
ডাকি মেঘগণে                      যতেক পবনে
আজ্ঞা দিলা সুরপতি।
শিলাবৃষ্টি করি                     ভাঙ্গ ব্রজপুরী
যাহ যাহ শীঘ্রগতি॥
আপনে তখনে                     চড়িয়া বারণে
বজ্র হস্তে দেবরাজ।
সঙ্গে সেনাগণ                         ছাইয়া গগন
আইল গোকুল মাঝ॥
চতুর্দিগে মেঘে                    ধায় বায়ু-বেগে
দিনে হৈল অন্ধকার।
খর বরিষণে                        বজ্রের ক্ষেপণে
ভাঙ্গিল ঘর দুয়ার॥
প্রলয়ের হেন                         বৃষ্টিধারা ঘন
ঝঞ্ঝণা চিকুর পড়ে।
হাহাকার করি                       পথাপথ ছাড়ি
ব্রজবাসী সব নড়ে॥
পড়িয়া সঙ্কটে                       কৃষ্ণের নিকটে
আইলা গোকুলবাসী।
ধেনুগণ যত                         যূথে যূথে কত
দাঁড়াইল নিকটে আসি॥
কৃষ্ণ মহামতি                       গোকুলের পতি
কর পরিত্রাণ বোলে।
চৈতন্যের দাস                        করি এই আশ
এবার রাখ গোকুলে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২১১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যত গোপগণ পূজে গোবর্দ্ধন                  
না কৈল ইন্দ্রের পূজা।
পাই অপমান কোপে কম্পমান                
সাজিলা দেবের রাজা॥
মহা অহঙ্কারে কৃষ্ণনিন্দা করে                
অজ্ঞানে মোহিত হৈয়া।
কহে গোপপুরী মহাবৃষ্টি করি                
আজি ডুবাইব যাঞা॥
ডাকি মেঘগণে যতেক পবনে                
আজ্ঞা দিলা সুরপতি।
শিলাবৃষ্টি করি ভাঙ্গ ব্রজপুরী                
যাহ যাহ শীঘ্রগতি॥
আপনে তখনে চড়িয়া বারণে                
বজ্র হস্তে দেবরাজ।
সঙ্গে সেনাগণ ছাইয়া গগন                   
আইল গোকুল মাঝ॥
চতুর্দিগে মেঘে ধায় বায়ু বেগে                
দিনে হৈল অন্ধকার।
খর বরিষণে বজ্রের ক্ষেপণে                  
ভাঙ্গিল ঘর দুয়ার॥
প্রলয়ের হেন বৃষ্টিধারা ঘন                   
ঝঞ্ঝণা চিকুর পড়ে।
হাহাকার করি পথাপথ ছাড়ি                
ব্রজবাসী সব নড়ে॥
পড়িয়া সঙ্কটে কৃষ্ণের নিকটে                
আইলা গোকুলবাসী।
ধেনুগণ যত যূথে যূথে কত                
দাঁড়াইল নিকটে আসি॥
কৃষ্ণ মহামতি গোকুলের পতি                
কর পরিত্রাণ বোলে।
চৈতন্যের দাস করি এই আশ                
এবার রাখ গোকুলে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর