কবি চৈতন্যদাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
নন্দ আদি গোপ গোপী হইলা বিকল
নন্দ আদি গোপ গোপী হইয়া বিকল
কবি চৈতন্য দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য়খণ্ড,
৩য় শাখা, ২৩শ পল্লব, গোবর্দ্ধন-লীলা, ১২৪৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

নন্দ আদি গোপ গোপী হইলা বিকল।
দেখিয়া জানিলা কৃষ্ণ ইন্দ্র করে বল॥
এতেক ভাবিয়া কৃষ্ণ নন্দের নন্দন।
এক হস্তে তুলিয়া ধরিলা গোবর্দ্ধন॥
কন্দুকের প্রায় গিরি ধরিয়া কৌতুকে।
সভারে ডাকেন আর জননী জনকে॥
আইস আইস সভে শিশু বত্সগণ লৈয়া।
এই গর্ত্তে থাক আসি নির্ভয় হইয়া॥
গোপগণ বলে কৃষ্ণ শুন হে বচন।
হাত হৈতে তোমার যদি পড়ে গোবর্দ্ধন॥
সকল গোকুল-পুরী যাবে রসাতলে।
কিসে হৈতে রক্ষা তায় পাইব সকলে॥
কান্দিয়া যশোদা দেবী কহে গোপগণে।
একাকী পর্ব্বত কৃষ্ণ ধরিব কেমনে॥
কোথা রে কৃষ্ণের প্রিয় শ্রীদাম সুদাম।
সভে মেলি গোবর্দ্ধন ধর বলরাম॥
চৈতন্যদাসেতে কহে শুন যশোমতি।
গোকুল রাখিতে তুয়া সহায় শ্রীপতি॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৭৮০-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

নন্দ আদি গোপ গোপী হইলা বিকল।
দেখিয়া জানিলা কৃষ্ণ ইন্দ্র করে বল॥
এতেক ভাবিয়া কৃষ্ণ নন্দের নন্দন।
এক হস্তে তুলিয়া ধরিলা গোবর্দ্ধন॥
কন্দুকের প্রায় গিরি ধরিয়া কৌতুকে।
সভারে ডাকেন আর জননী জনকে॥
আইস আইস সভে শিশু বত্সগণ লৈয়া।
আমার নিকটে সভে থাকহ আসিয়া॥
গোপগণ বলে কৃষ্ণ শুন হে বচন।
হাত হৈতে তোমার যদি পড়ে গোবর্দ্ধন॥
সকল গোকুল-পুরী যাবে রসাতলে।
কিসে হবে রক্ষা তবে পাইবে সকলে॥
কান্দিয়া যশোদা রাণী কহে গোপগণে।
একাকী পর্ব্বত কৃষ্ণ ধরিবে কেমনে॥
কোথায় কৃষ্ণের প্রিয় শ্রীদাম সুদাম।
সভে মেলি গোবর্দ্ধন ধর বলরাম॥
চৈতন্যদাসেতে কহে শুন যশোমতি।
গোকুল রাখিতে তুয়া সহায় শ্রীপতি॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোবর্দ্ধন যাত্রা।
॥ শ্রীরাগ॥

নন্দ আদি গোপগোপী হইয়া বিকল। দেখিয়া জানিল কৃষ্ণ ইন্দ্র করে বল॥
এতেক ভাবিয়া কৃষ্ণ নন্দের নন্দন। এক হস্তে তুলিয়া ধরিলা গোবর্দ্ধন॥
কন্দুকের প্রায় গিরি ধরিয়া কৌতুকে। সভারে ডাকেন আর জননী জনকে॥
আইস আইস সভে শিশু বত্সগণ লইয়া। এই গর্ত্তে থাক আসি নির্ভয় হইয়া॥
গোপগণে বলে কৃষ্ণ শুন হে বচন। হাতে হৈতে তোমার যদি পড়ে গোবর্দ্ধন॥
সকল গোকুলপুরী যাবে রসাতলে। কিসে হৈতে রক্ষা তায় পাইবে সকলে॥
কান্দিয়া যশোদা দেবী কহে গোপগণে। একাকী পর্ব্বত কৃষ্ণ ধরেছে কেমনে॥
কোথারে কৃষ্ণের প্রিয় শ্রীদাম সুদাম। সবে মেলি গোবর্দ্ধন ধর বলরাম॥
চৈতন্য দাসেতে কহে শুন যশোমতি। গোকুল রাখিতে তুয়া সহায় শ্রীপতি॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

নন্দ আদি গোপ-গোপী হইলা বিকল।
দেখিয়া জানিলা কৃষ্ণ ইন্দ্র করে বল॥
এতেক ভাবিয়া কৃষ্ণ নন্দের নন্দন।
এক হস্তে তুলিয়া ধরিল গোবর্দ্ধন॥
কন্দুকের প্রায় গিরি ধরিয়া কৌতুকে।
সভারে ডাকেন আর জননী জনকে॥
আইস আইস সভে শিশু বত্সগণ লৈয়া।
এই গর্ত্তে থাক আসি নির্ভয় হইয়া॥
গোপগণে বলে কৃষ্ণ শুন হে বচন।
হাত হৈতে তোমার যদি পড়ে গোবর্দ্ধন॥
সকল গোকুল-পুরী যাবে রসাতলে।
কিসে হৈতে রক্ষা তায় পাইব সকলে॥
কান্দিয়া যশোদা দেবী কহে গোপগণে।
একাকী পর্ব্বত কৃষ্ণ ধরিবে কেমনে॥
কোথা রে কৃষ্ণের প্রিয় শ্রীদাম সুদাম।
সভে মেলি গোবর্দ্ধন ধর বলরাম॥
চৈতন্য দাসেতে কহে শুন যশোমতি।
গোকুল রাখিতে তুয়া সহায় শ্রীপতি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোবর্দ্ধনলীলা
॥ তথা রাগ॥

নন্দ আদি গোপ গোপী হইলা বিকল।
দেখিয়া জানিলা কৃষ্ণ ইন্দ্র করে বল॥
এতেক ভাবিয়া কৃষ্ণ নন্দের নন্দন।
এক হস্তে তুলিয়া ধরিলা গোবর্দ্ধন॥
কন্দুকের প্রায় গিরি ধরিয়া কৌতুকে।
সভারে ডাকেন আর জননী জনকে॥
আইস আইস সভে শিশু বত্সগণ লৈয়া।
এই গর্ত্তে থাক আসি নির্ভয় হইয়া॥
গোপগণ বলে কৃষ্ণ শুন হে বচন।
হাত হৈতে তোমার যদি পড়ে গোবর্দ্ধন॥
সকল গোকুলপুরী যাবে রসাতলে।
কিসে হইতে রক্ষা তায় পাইব সকলে॥
কান্দিয়া যশোদা দেবী কহে গোপগণে।
একাকী পর্ব্বত কৃষ্ণ ধরিব কেমনে॥
কোথা রে কৃষ্ণের প্রিয় শ্রীদাম সুদাম।
সভে মেলি গোবর্দ্ধন ধর বলরাম॥
চৈতন্যদাসেতে কহে শুন যশোমতি।
গোকুল রাখিতে তুয়া সহায় শ্রীপতি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২০৯-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নন্দ আদি গোপ গোপী হইলা বিকল।
দেখিয়া জানিলা কৃষ্ণ ইন্দ্র করে বল॥
এতেক ভাবিয়া কৃষ্ণ নন্দের নন্দন।
এক হস্তে তুলিয়া ধরিলা গোবর্দ্ধন॥
কন্দুকের প্রায় গিরি ধরিয়া কৌতূকে।
সভারে ডাকেন আর জননী জনকে॥
আইস আইস সভে শিশু বত্সগণ লৈয়া।
এই গর্ত্তে থাক আসি নির্ভয় হইয়া॥
গোপগণ বলে কৃষ্ণ শুন হে বচন।
হাত হৈতে তোমার যদি পড়ে গোবর্দ্ধন॥
সকল গোকুলপুরী যাবে রসাতলে।
কিসে হইতে রক্ষা তায় পাইব সকলে॥
কান্দিয়া যশোদা দেবী কহে গোপগণে।
একাকী পর্ব্বত কৃষ্ণ ধরিব কেমনে॥
কোথা রে কৃষ্ণের প্রিয় শ্রীদাম সুদাম।
সভে মেলি গোবর্দ্ধন ধর বলরাম॥
চৈতন্যদাসেতে কহে শুন যশোমতি।
গোকুল রাখিতে তুয়া সহায় শ্রীপতি॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
হেন কালে সখী মেলে রাই-কনক-গিরি
হেন কালে সখী মেলি রাই-কনক গিরি
কবি চৈতন্য দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য়খণ্ড,৩য় শাখা, ২৩শপল্লব ,গোবর্দ্ধন-লীলা,
১২৪৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

হেন কালে সখী মেলে                    রাই-কনক-গিরি
আচম্বিতে দরশন দিলা।
দাড়াঞা রূপের ভরে                  ধরি সহচরী-করে
মুখ জিনি শশী ষোলকলা॥
রাই নব সুমেরু-সুঠান।
স্মিত-সুরধুনী-ধারে                     রসের ঝরণা ঝরে
হেরি হেরি তৃষিত নয়ান॥
নব অনুরাগ-বাতে                 স্থির নাহি বান্ধে চিতে
পাসরিলা নিজ মরিযাদ।
কাঁপে তনু থরহরে                  পর্ব্বত ডোলয়ে করে
গোয়ালে গণিল পরমাদ॥
লগুড় লইয়া করে               কেহো কেহো গিরি ধরে
উদার ব্রজের গোপগণ।
ললিতা দেবী যে হাসি              দাণ্ডাইলা আগে আসি
রাইরে করিলা অদর্শন॥
ভাব সম্বরিয়া হরি                   রাখিল গোকুল-পুরী
ইন্দ্রেরে করিয়া পরাজয়।
চৈতন্যদাসের বাণী                    ত্রিভুবনে জয়-ধ্বনি
গোবর্দ্ধন-লীলা রসময়॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৭৮১-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

হেন কালে সখী মিলি                    রাই-কনক-গিরি
আচম্বিতে দরশন দিলা।
দাড়াঞা রূপের ভরে                  ধরি সহচরী-করে
মুখ যে জিনিয়া শশিকলা॥
রাই নব সুমেরু-সুঠান।
স্মিত-সুরধুনী-ধারে                    রসের ঝরণা ঝরে
হেরি হেরি তৃষিত নয়ান॥
নব অনুরাগ-বাতে                 স্থির নাহি বান্ধে চিতে
পাসরিলা নিজ মরিযাদ।
কাঁপে তনু থরহরে                  পর্ব্বত তোলয়ে করে
গোয়ালে গণিল পরমাদ॥
লগুড় লইয়া করে               কেহো কেহো গিরি ধরে
উদার ব্রজের গোপগণ।
ললিতা দেবী যে হাসি              দাণ্ডাইলা আগে আসি
রাইয়েরে করিলা অদর্শন॥
ভাব সম্বরিয়া হরি                   রাখিল গোকুল-পুরী
ইন্দ্রেরে করিয়া পরাজয়।
চৈতন্যদাসের বাণী                    ত্রিভুবনে জয়-ধ্বনি
গোবর্দ্ধন-লীলা রসময়॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

গোবর্দ্ধন যাত্রা।
॥ শ্রীরাগ॥

হেন কালে সখী মেলি, রাই কনক গিরি, আচম্বিতে দরশন দিলা। দাঁড়াঞা
রূপের ভরে, ধরি সহচরী করে, মুখজিনি শশী ষোলকলা॥ রাই নব সুমেরু
সুঠাম। স্মিত সুরধুনী ধারে, রসের ঝরণা ঝরে, হেরি হেরি তৃপিত নয়ান॥ নব
অনুরাগ বাতে, স্থির নাহি বান্ধে চিতে, পাসরিলা নিজ মরিযাদ। কাঁপে তনু
থরহরে, পর্ব্বত ডোলয়ে করে, গোয়ালে গণিল পরমাদ॥ লগুড় লইয়া করে,
কেহ কেহ গিরি ধরে, উদার ব্রজের গোপগণ। ললিতা দেবী হাসি, দাঁড়াইল
আগে আসি, রাইয়েরে করিয়া অদর্শন॥ ভাব সম্বরিয়া হরি, রাখিয়া গোকুলপুরী,
ইন্দ্র করিয়া পরাজয়। চৈতন্য দাসের বাণী, ত্রিভুবনে জয়ধ্বনি, গোবর্দ্ধন-লীলার
সময়॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

হেন কালে সখী মেলে,                    রাই কনক গিরি,
আচম্বিতে দরশন দিলা।
দাড়াঞা রূপের ভরে,                  ধরি সহচরী করে,
মুখ জিনি শশী ষোলকলা॥
রাই নব সুমেরু সুঠাম।
স্মিত-সুরধুনী-ধারে,                   রসের ঝরণা ঝরে,
হেরি হেরি তৃপত নয়ান॥
নব অনুরাগ বাতে,                 স্থির নাহি বান্ধে চিতে,
পাসরিলা নিজ মরিযাদ।
কাঁপে তনু থর হরে,                 পর্ব্বত তোলয়ে করে,
গোয়ালে গণিল পরমাদ॥
লগুড় লইয়া করে,                   কেহ কেহ গিরি ধরে,
উদার ব্রজের গোপগণ।
ললিতা দেবী হাসি,                  দাঁড়াইলা আগে আসি,
রাইয়ের করিয়া অদর্শন॥
ভাব সম্বরিয়া হরি,                    রাখিল গোকুলপুরী,
ইন্দ্রেরে করিয়া পরাজয়।
চৈতন্যদাসে বাণী,                     ত্রিভুবনে জয়-ধ্বনি,
গোবর্দ্ধন-লীলার সময়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোবর্দ্ধনলীলা
॥ তথা রাগ॥

হেন কালে সখী মেলে                    রাইকনকগিরি
আচম্বিতে দরশন দিলা।
দাড়াঞা রূপের ভরে                  ধরি সহচরী-করে
মুখ জিনি শশী ষোলকলা॥
রাই নব সুমেরু সুঠান।
স্মিত সুরধুনীধারে                     রসের ঝরণা ঝরে
হেরি হেরি তৃষিত নয়ান॥
নব অনুরাগ বাতে                 স্থির নাহি বান্ধে চিতে
পাসরিলা নিজ মরিযাদ।
কাঁপে তনু থরহরে                  পর্ব্বত ডোলয়ে করে
গোয়ালে গণিল পরমাদ॥
লগুড় লইয়া করে                 কেহো কেহো গিরি ধরে
উদার ব্রজের গোপগণ।
ললিতা দেবী যে হাসি              দাণ্ডাইলা আগে আসি
রাইরে করিলা অদর্শন॥
ভাব সম্বরিয়া হরি                   রাখিল গোকুল-পুরী
ইন্দ্রেরে করিয়া পরাজয়।
চৈতন্যদাসের বাণী                   ত্রিভুবনে জয়-ধ্বনি
গোবর্দ্ধনলীলা রসময়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২১১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হেন কালে সখী মেলে রাইকনকগিরি                        
আচম্বিতে দরশন দিলা।
দাড়াঞা রূপের ভরে ধরি সহচরী করে                     
মুখ জিনি শশী ষোলকলা॥
রাই নব সুমেরু সুঠান।                                      
স্মিত সুরধুনীধারে রসের ঝরণা ঝরে                        
হেরি হেরি তৃষিত নয়ান॥
নব অনুরাগ বাতে স্থির নাহি বান্ধে                        
চিতে পাসরিলা নিজ মরিযাদ।
কাঁপে তনু থরহরে পর্ব্বত ডোলয়ে করে                    
গোয়ালে গণিল পরমাদ॥
লগুড় লইয়া করে কেহো কেহো গিরি                        
ধরে উদার ব্রজের গোপগণ।
ললিতা দেবী যে হাসি দাণ্ডাইলা আগে                        
আসি রাইরে করিলা অদর্শন॥
ভাব সম্বরিয়া হরি রাখিল গোকুল পুরী                        
ইন্দ্রেরে করিয়া পরাজয়।
চৈতন্যদাসের বাণী ত্রিভুবনে জয় ধ্বনি                        
গোবর্দ্ধনলীলা রসময়॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
জয় জয় ব্রজেন্দ্র-নন্দন
কবি চৈতন্য দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা, ২৩শপল্লব, গোবর্দ্ধন-লীলা, ১২৪৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

জয় জয় ব্রজেন্দ্র-নন্দন।
ব্রজের জীবন প্রাণ-ধন॥ ধ্রু॥
পরিবার সহ ব্রজ-বাসী।
গর্ত্ত হৈতে উঠিলা হরষি॥
সেইখানে লীলায় শ্রীহরি।
স্থাপিলেন গোবর্দ্ধন গিরি॥
নন্দ আদি যত গোপগণে।
আশীর্ব্বাদ করে কায়মনে॥
কেহো কেহো করে আলিঙ্গন।
স্বর্গে স্তুতি করে দেবগণ॥
যশোদা রোহিণী হর্ষ পাঞা।
চাঁদ-মুখ চুম্বয়ে চাপিয়া॥
আনন্দেতে নাচে বিদ্যাধরী।
পুষ্প বর্ষে অপ্সরা কিন্নরী॥
দেবরাজ পাঞা পরাভব।
কর যুড়ি করে নানা স্তব॥
নিজ অপরাধ ক্ষেমাইয়া।
গেলা আপনার গণ লৈয়া॥
চৈতন্যদাসেতে ইহা গায়।
যুগে যুগে ভক্তের সহায়॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৭৮২-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

জয় জয় ব্রজেন্দ্র-নন্দন।
ব্রজের জীবন প্রাণ-ধন॥ ধ্রু॥
পরিবার সহ ব্রজ-বাসী।
গর্ত্ত হৈতে উঠিলা হরষি॥
সেইখানে লীলায় শ্রীহরি।
স্থাপিলেন গোবর্দ্ধন গিরি॥
নন্দ আদি সব গোপগণে।
আশীর্ব্বাদ করে কায়মনে॥
কেহো কেহো করে আলিঙ্গন।
স্বর্গে স্তুতি করে দেবগণ॥
যশোদা রোহিণী হর্ষ পাঞা।
চাঁদ-মুখ চুম্বয়ে চাপিয়া॥
আনন্দেতে নাচে বিদ্যাধরী।
পুষ্প বর্ষে অপছরি কিন্নরী॥
দেবরাজ পাঞা পরাভব।
কর যুড়ি করে নানা স্তব॥
নিজ অপরাধ ক্ষেমাইয়া।
গেলা আপনার গণ লৈয়া॥
চৈতন্যদাসেতে ইহা গায়।
যুগে যুগে ভক্তের সহায়॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোবর্দ্ধন যাত্রা।
॥ শ্রীরাগ॥

জয় জয় ব্রজেন্দ্র নন্দন। ব্রজের জীবন প্রাণধন॥ পরিবার সহ ব্রজবাসী। গর্ত্তে
হৈতে উঠিলা হরষি॥ সেইখানে লীলায় শ্রীহরি। স্থাপিলেন গোবর্দ্ধন গিরি॥ নন্দ
আদি যত গোপগণে। আশীর্ব্বাদ করে কায়মনে॥ কেহ কেহ করে আলিঙ্গন।
স্বর্গে স্তুতি করে দেবগণ॥ যশোদা রোহিণী হর্ষ পাঞা। চাঁদমুখ চুম্বয়ে
চাপিয়া॥ আনন্দে নাচে বিদ্যাধরী। পুষ্প বর্ষে অপ্সরা কিন্নরী॥ দেবরাজ
পাঞা পরাভব। কর যোড়ে করে নানা স্তব॥ নিজ অপরাধ ক্ষেমাইয়া। গেলা
আপনার গণ লৈয়া॥ চৈতন্য দাসেতে ইহা গায়। যুগে যুগে ভক্তের সহায়॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জয় জয় ব্রজেন্দ্র-নন্দন।
ব্রজের জীবন প্রাণধন॥
পরিবার সহ ব্রজবাসী।
গর্ত্ত হৈতে উঠিলা হরষি॥
সেই খানে লীলায় শ্রীহরি।
স্থাপিলেন গোবর্দ্ধন-গিরি॥
নন্দ আদি যত গোপগণে।
আশীর্ব্বাদ করে কায়মনে॥
কেহ কেহ করে আলিঙ্গন।
স্বর্গে স্তুতি করে দেবগণ॥
যশোদা রোহিণী হর্ষ পাঞা।
চাঁদ-মুখ চুম্বয়ে চাপিয়া॥
আনন্দেতে নাচে বিদ্যাধরী।
পুষ্প বর্ষে অপ্সরা কিন্নরী॥
দেবরাজ পাঞা পরাভব।
করযোড়ে করে নানা স্তব॥
নিজ অপরাধ ক্ষেমাইয়া।
গেলা আপনার গণ লৈয়া॥
চৈতন্যদাসেতে ইহা গায়।
যুগে যুগে ভক্তের সহায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোবর্দ্ধনলীলা
॥ তথা রাগ॥

জয় জয় ব্রজেন্দ্র-নন্দন।
ব্রজের জীবন প্রাণধন॥ ধ্রু॥
পরিবার সহ ব্রজ-বাসী।
গর্ত্ত হৈতে উঠিলা হরষি॥
সেইখানে লীলায় শ্রীহরি।
স্থাপিলেন গোবর্দ্ধন গিরি॥
নন্দ আদি যত গোপগণে।
আশীর্ব্বাদ করে কায়মনে॥
কেহো কেহো করে আলিঙ্গন।
স্বর্গে স্তুতি করে দেবগণ॥
যশোদা রোহিণী হর্ষ পাঞা।
চাঁদ-মুখ চুম্বয়ে চাপিয়া॥
আনন্দেতে নাচে বিদ্যাধরী।
পুষ্প বর্ষে অপ্সরা কিন্নরী॥
দেবরাজ পাঞা পরাভব।
কর যুড়ি করে নানা স্তব॥
নিজ অপরাধ ক্ষেমাইয়া।
গেলা আপনার গণ লৈয়া॥
চৈতন্যদাসেতে ইহা গায়।
যুগে যুগে ভক্তের সহায়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২০৮-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জয় জয় ব্রজেন্দ্রনন্দন।
ব্রজের জীবন প্রাণধন॥
পরিবার সহ ব্রজ বাসী।
গর্ত্ত হৈতে উঠিলা হরষি॥
সেইখানে লীলায় শ্রীহরি।
স্থাপিলেন গোবর্দ্ধন গিরি॥
নন্দ আদি যত গোপগণে।
আশীর্ব্বাদ করে কায়মনে॥
কেহো কেহো করে আলিঙ্গন।
স্বর্গে স্তুতি করে দেবগণ॥
যশোদা রোহিণী হর্ষ পাঞা।
চাঁদ মুখ চুম্বয়ে চাপিয়া॥
আনন্দেতে নাচে বিদ্যাধরী।
পুষ্প বর্ষে অপ্সরা কিন্নরী॥
দেবরাজ পাঞা পরাভব।
কর যুড়ি করে নানা স্তব॥
নিজ অপরাধ ক্ষেমাইয়া।
গেলা আপনার গণ লৈয়া॥
চৈতন্যদাসেতে ইহা গায়।
যুগে যুগে ভক্তের সহায়॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
হে হরে মাধুর্য্য-গুণে হরিলে যে নেত্র মনে
কবি চৈতন্য দাস / চৈতন্য
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৫ম পল্লব, অর্দ্ধ-বাহ্য দশায়
প্রলাপ, ১৬৬০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

হে হরে মাধুর্য্য-গুণে        হরিলে যে নেত্র মনে
মোহন মুরতি দরশাই।
হে কৃষ্ণ আনন্দ-ধাম          মহা-আকর্ষক ঠাম
তুয়া বিনে দেখিতে না পাই॥
হে হরে ধৈরজ হরি         গুরু-ভয় আদি করি
কুলের ধরম কৈলা চূর।
হে কৃষ্ণ বংশীর স্বনে       আকর্ষিয়া আনি বনে
দেহ গেহ স্মৃতি কৈলা দূর॥
হে কৃষ্ণ কর্ষিতা আমি        কঞ্চুলি কর্ষহ তুমি
তা দেখি চমক মোহে লাগে।
হে কৃষ্ণ বিবিধ ছলে           উরজ কর্ষহ বলে
থির নহ অতি অনুরাগে॥
হে হরে আমারে হরি      লৈয়া পুষ্প-তল্পোপরি
বিলাসের লালসে কাকুতি।
হে হরে গুপতে বস্ত্র         হরিয়া সে ক্ষণমাত্র
ব্যক্ত কর মনের আকুতি॥
হে হরে বসন-হর          তাহাতে যে হেন কর
অন্তরের হর যত বাধা।
হে রাম রমণ-অঙ্গ            নানা বৈদগধি-রঙ্গ
প্রকাশি পূরহ মনের সাধা॥
হে হরে হরিতে বলী          নাহি হেন কুতূহলী
সভার সে বাম্য না রাখিলা।
হে রাম রমণরত            তাহা প্রকটিয়া কত
কি না রসাবেশে ভাসাইলা॥
হে রাম রমণ প্রেষ্ঠ              মন-রমণীর শ্রেষ্ঠ
তুয়া সুখে আপনা না জানি।
হে রাম রমণ ভাগে        ভাবিতে মরমে জাগে
সে রস-মূরতি তনুখানি॥
হে হরে হরণ তোর           তাহার নাহিক ওর
চেতন হরিয়া কর ভোর।
হে হরে আমার লক্ষ          হর সিংহ প্রায় দক্ষ
তোমা বিনে কেহ নাহি মোর॥
তুমি সে আমার প্রাণ      তোমা বিনে নাহি জান
ক্ষণেকে কলপ শত যায়।
সে তুমি অনত গিয়া           রহ উদাসীন হৈয়া
কহ দেখি কি করি উপায়॥
ওহে নবঘন-শ্যাম            কেবল রসের ধাম
কৈছে রহ করি মন ঝুরে।
চৈতন্য বোলয়ে যায়           হেন অনুরাগ পায়
তারে বন্ধু মিলয়ে অদূরে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৮৮৩-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ সুহই॥

হে হরে মাধুর্য্য-গুণে        হরিলে যে নেত্র মনে
মোহন মুরতি দরশাই।
হে কৃষ্ণ আনন্দ-ধাম          মহা-আকর্ষক ঠাম
তুয়া বিনে দেখিতে না পাই॥
হে হরে ধৈরজ হরি         গুরু-ভয় আদি করি
কুলের ধরম কৈলা চূর।
হে কৃষ্ণ বংশীর স্বরে      আকর্ষিয়া আনি বলে
দেহ গেহ স্মৃতি কৈলা দূর॥
হে কৃষ্ণ কর্ষিতা আমি        কঞ্চুলি কর্ষহ তুমি
তা দেখি চমক মোহে লাগে।
হে কৃষ্ণ বিবিধ ছলে           উরজ কর্ষহ বলে
থির নহ অতি অনুরাগে॥
হে হরে আমারে হরি      লৈয়া পুষ্প-তল্পোপরি
বিলাসের লালসে কাকুতি।
হে হরে গুপতে বস্ত্র         হরিয়া সে ক্ষণমাত্র
ব্যক্ত কর মনের আকুতি॥
হে হরে বসন-হর         তাহাতে যে হেন কর
অন্তরের হর যত বাধা।
হে রাম রমণ-অঙ্গ           নানা বৈদগধি-রঙ্গ
প্রকাশি পূরহ নিজ সাধা॥
হে হরে হরিতে বলী          নাহি হেন কুতূহলী
সভার সে বাম্য না রাখিলা।
হে রাম রমণরত           তাহাতে প্রকটি কত
কি না রসাবেশে ভাসাইলা॥
হে রাম রমণ প্রেষ্ঠ             মন-রমণীর শ্রেষ্ঠ
তুয়া সুখে আপনা না জানি।
হে রাম রমণ ভাগে        ভাবিতে মরমে জাগে
সে রস-মূরতি তনুখানি॥
হে হরে হরণ তোর           তাহার নাহিক ওর
চেতন হরিয়া কর ভোরা।
হে হরে আমার লক্ষ          হর সিংহ প্রায় দক্ষ
তোমা বিনে কেহ নাহি মোরা॥
তুমি সে আমার প্রাণ      তোমা বিনে নাহি জান
ক্ষণেকে কলপ শত যায়।
সে তুমি আনত গিয়া        রহু উদাসীন হৈয়া
কহ দেখি কি করি উপায়॥
ওহে নবঘন-শ্যাম            কেবল রসের ধাম
কৈছে রহ করি মন ঝুরে।
চৈতন্য বোলয়ে যায়           হেন অনুরাগ পায়
তবে বন্ধু মিলয়ে অদূরে॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার,
১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী সুহই॥

হে হরি মাধুর্য্য গুণে হরিলে যে নেত্র মনে মোহন মুরূতি দরসাই।
হে কৃষ্ণ আনন্দ ধাম হাহা আকর্ষক ঠাম তুয়া বিনে দেখিতে না পাই॥
হে হরি ধৈরজ হরি গুরুভয় আদি করি কুলের রমণী কৈলে চূর।
হে কৃষ্ণ বংশীর সনে আকর্ষিয়া আন বনে দেহ গৃহস্মৃতি কৈলে দূর॥
হে কৃষ্ণ কশিতা আমি কঞ্চুলি কর্ষহ তুমি তা দেখি চমক মোহে লাগে।
হে কৃষ্ণ বিশেষ ছলে উরজ কর্ষহ বলে স্থির নহ অতি অনুরাগে॥
হে হরি আমারে লয়া পুষ্প তল্পোপরি বিলাসের লালসে কাকুতি।
হে হরে গোপত বস্তু হরি আশে ক্ষণমাত্র ব্যক্ত কর মনের কাকুতি॥
হে হরে বসন হর তাহা তেজে হেন কর অন্তরের হর জত বাধা।
হে রাম রমণ অঙ্গ নানা বৈদগধি রঙ্গ প্রকাশি পূরহ নিজ সাধা॥
হে হরে হরিতে বলি নাহি জেন কুতুহলী স্বভাবে বাম্য না রাখিলা।
হে রাম রমণরত তাহা প্রকটিআ কত কিনা রস আবেশ ভাসাইলা॥
হে রাম রমণ প্রেষ্ঠ মন রমণীয় শ্রেষ্ঠ তুয়া সুখে আপনা না জানি।
হে রাম রমণ ভাবে ভাবিতে মরম জাগে সে রস মূরূতি তনুখানি॥
হে হরে রমণ ভোর তার হরে নাহি জোর চৈতন্য হরিআ কর ভোরা।
হে হরে আমারে লক্ষ হর শিশু প্রায় দক্ষ তোমা বিনু কেহু নাহি মোরা॥
তোসিতে আমার প্রাণ তোমা বিনে নাহি জান অনেক কল্প শত জায়।
সে তোমি অন্যতে গিয়া রহ উদাসিনী হঞা কহ দেখি কি করি উপায়॥
তুমি নবঘন শ্যাম কেবল রসের ধাম কৈছে বহু করি মন ঝুরে।
চৈতন্য বলয়ে জায় হেন অনুরাগ পায় তাহে বন্ধু মিলয়ে অদূরে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অর্দ্ধ-বাহ্যদশায় প্রলাপ
॥ সুহই॥

হে হরে মাধুর্য্যগুণে        হরিলে যে নেত্র মনে
মোহন মুরতি দরশাই।
হে কৃষ্ণ আনন্দধাম          মহাআকর্ষক ঠাম
তুয়া বিনে দেখিতে না পাই॥
হে হরে ধৈরজ হরি         গুরুভয় আদি করি
কুলের ধরম কৈলা চূর।
হে কৃষ্ণ বংশীর স্বনে     আকর্ষিয়া আনি বনে
দেহ গেহ স্মৃতি কৈলা দূর॥
হে কৃষ্ণ কর্ষিতা আমি        কঞ্চুলি কর্ষহ তুমি
তা দেখি চমক মোহে লাগে।
হে কৃষ্ণ বিবিধ ছলে         উরোজ কর্ষহ বলে
থির নহ অতি অনুরাগে॥
হে হরে আমারে হরি      লৈয়া পুষ্প তল্পোপরি
বিলাসের লালসে কাকুতি।
হে হরে গুপতে বস্ত্র          হরিয়া সে ক্ষণমাত্র
ব্যক্ত কর মনের আকুতি॥
হে হরে বসন হর          তাহাতে যে হেন কর
অন্তরের হর যত বাধা।
হে রাম রমণঅঙ্গ            নানা বৈদগধি-রঙ্গ
প্রকাশি পূরহ মনের সাধা॥
হে হরে হরিতে বলী          নাহি হেন কুতূহলী
সভার সে বাম্য না রাখিলা।
হে রাম রমণরত          তাহা প্রকটিয়া কত
কি না রসাবেশে ভাসাইলা॥
হে রাম রমণ প্রেষ্ঠ             মন রমণীয় শ্রেষ্ঠ
তুয়া সুখে আপনা না জানি।
হে রাম রমণ ভাগে         ভাবিতে মরমে জাগে
সে রসমূরতি তনুখানি॥
হে হরে হরণ তোর         তাহার নাহিক ওর
চেতন হরিয়া কর ভোর।
হে হরে আমার লক্ষ        হর সিংহ প্রায় দক্ষ
তোমা বিনে কেহ নাহি মোর॥
তুমি সে আমার প্রাণ     তোমা বিনে নাহি জান
ক্ষণেকে কলপশত যায়।
সে তুমি অনত গিয়া        রহ উদাসীন হৈয়া
কহ দেখি কি করি উপায়॥
ওহে নবঘনশ্যাম            কেবল রসের ধাম
কৈছে রহ করি মন ঝুরে।
চৈতন্য বোলয়ে যায়           হেন অনুরাগ পায়
তারে বন্ধু মিলয়ে অদূরে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

হে হরে মাধুর্য্যগুণে হরিলে যে নেত্র                  
মনে মোহন মুরতি দরশাই।
হে কৃষ্ণ আনন্দধাম মহাআকর্ষক ঠাম                
তুয়া বিনে দেখিতে না পাই॥
হে হরে ধৈরজ হরি গুরুভয় আদি করি                
কুলের ধরম কৈলা চূর।
হে কৃষ্ণ বংশীর স্বনে আকর্ষিয়া আনি                
বনে দেহ গেহ স্মৃতি কৈলা দূর॥
হে কৃষ্ণ কর্ষিতা আমি কঞ্চুলি কর্ষহ                   
তুমি তা দেখি চমক মোহে লাগে।
হে কৃষ্ণ বিবিধ ছলে উরোজ কর্ষহ বলে                
থির নহ অতি অনুরাগে॥
হে হরে আমারে হরি লৈয়া পুষ্প                       
তল্পোপরি বিলাসের লালসে কাকুতি।
হে হরে গুপতে বস্ত্র হরিয়া সে ক্ষণমাত্র                
ব্যক্ত কর মনের আকুতি॥
হে হরে বসন হর তাহাতে যে হেন কর                
অন্তরের হর যত বাধা।
হে রাম রমণঅঙ্গ নানা বৈদগধি রঙ্গ                   
প্রকাশি পূরহ মনের সাধা॥
হে হরে হরিতে বলী নাহি হেন কুতূহলী                
সভার সে বাম্য না রাখিলা।
হে রাম রমণরত তাহা প্রকটিয়া কত                 
কি না রসাবেশে ভাসাইলা॥
হে রাম রমণ প্রেষ্ঠ মন রমণীয় শ্রেষ্ঠ                   
তুয়া সুখে আপনা না জানি।
হে রাম রমণ ভাগে ভাবিতে মরমে জাগে             
সে রসমূরতি তনুখানি॥
হে হরে হরণ তোর তাহার নাহিক ওর                
চেতন হরিয়া কর ভোর।
হে হরে আমার লক্ষ হর সিংহ প্রায় দক্ষ                
তোমা বিনে কেহ নাহি মোর॥
তুমি সে আমার প্রাণ তোমা বিনে নাহি                
জান ক্ষণেকে কলপশত যায়।
সে তুমি অনত গিয়া রহ উদাসীন হৈয়া                
কহ দেখি কি করি উপায়॥
ওহে নবঘনশ্যাম কেবল রসের ধাম                   
কৈছে রহ করি মন ঝুরে।
চৈতন্য বোলয়ে যায় হেন অনুরাগ পায়                
তারে বন্ধু মিলয়ে অদূরে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
পুন যব মুরছলি গোরি
ভণিতা বিন্দু / চৈতন্য
কবি চৈতন্য দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ৬ষ্ঠ পল্লব, বাহ্য দশায় প্রলাপ, ১৬৬৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
গ্রন্থের পদসূচীতে এই পদটি “বিন্দু”র ভণিতায় হলেও পদকর্তার সূচীতে তা “বিন্দু” এবং
“চৈতন্যদাসের” নামে রয়েছে।

॥ সুহিনী॥

পুন যব মুরছলি গোরি।
সখিগণ ভেল বিভোরি॥
ধনি-মুখ-চান্দ নেহারি।
রোয়ত কুন্তল ফারি॥
হা বৃষভানু-কুমারি।
হা হা কুসুম-সুকুমারি॥
চৌদিগে বেঢ়িয়া রাই।
রোয়ত ধরণি লোটাই॥
সখিগণ ভেল উনমাদ।
ছোড়ল কুল-মরিযাদ॥
বাউরি সম কোই ধায়।
কোই ভূমে পড়ি মুরছায়॥
কো কহে প্রাণ-পিয়ারি।
নীছিয়ে জিবন হমারি॥
সহচরি বাউরি ভেল।
বিন্দু পরবোধিতে গেল॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৮৯০-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ সুহিনী॥

পুন যব মুরছলি গোরি।
সখিগণ ভেল বিভোরি॥
ধনি-মুখ-চান্দ নেহারি।
রোয়ত কুন্তল ফারি॥
হা বৃষভানু-কুমারি।
হা হা কুসুম-সুকুমারি॥
চৌদিগে বেঢ়িয়া রাই।
রোয়ত ধরণি লোটাই॥
সখিগণ ভেল উনমাদ।
ছোড়ল কুল-মরিযাদ॥
বাউরি সম কোই ধায়।
কোই ভূমে পড়ি মুরছায়॥
কো কহে প্রাণ-পিয়ারি।
নিছিয়ে জীবন হমারি॥
সহচরি বাউরি ভেল।
বিন্দু পরবোধিতে গেল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে পদটি চৈতন্য
ভণিতায় রয়েছে।

অর্দ্ধ-বাহ্যদশায় প্রলাপ
॥ সুহিনী॥

পুন যব মুরছলি গোরি।
সখিগণ ভেল বিভোরি॥
ধনিমুখচান্দ নেহারি।
রোয়ত কুন্তল ফারি॥
হা বৃষভানুকুমারি।
হা হা কুসুমসুকুমারি॥
চৌদিগে বেঢ়িয়া রাই।
রোয়ত ধরণি লোটাই॥
সখিগণ ভেল উনমাদ।
ছোড়ল কুলমরিযাদ॥
বাউরি সম কোই ধায়।
কোই ভূমে পড়ি মুরছায়॥
কো কহে প্রাণপিয়ারি।
নীছিয়ে জিবন হামারি॥
সহচরী বাউরি ভেল।
চৈতন্যবোধিতে গেল॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পুন যব মুরছলি গোরি।
সখিগণ ভেল বিভোরি॥
ধনিমুখচান্দ নেহারি।
রোয়ত কুন্তল ফারি॥
হা বৃষভানুকুমারি।
হা হা কুসুমসুকুমারি॥
চৌদিগে বেঢ়িয়া রাই।
রোয়ত ধরণি লোটাই॥
সখিগণ ভেল উনমাদ।
ছোড়ল কুলমরিযাদ॥
বাউরি সম কোই ধায়।
কোই ভূমে পড়ি মুরছায়॥
কো কহে প্রাণপিয়ারি।
নীছিয়ে জিবন হামারি॥
সহচরী বাউরি ভেল।
চৈতন্যবোধিতে গেল॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
আরে মোর গৌর কিশোর
আলো মোর গৌর কিশোর
কবি চৈতন্য দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্ররায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য়খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ১২শপল্লব, সমৃদ্ধিমান সম্ভোগ , ১৯৮৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ সমৃদ্ধিমান্ সম্ভোগঃ।
তত্র শ্রীমহাপ্রভুর্যথা।
॥ সুহই॥

আরে মোর গৌর কিশোর।
পুরব প্রেম-রসে ভোর॥
দু নয়নে আনন্দ-লোর।
রহে পহুঁ হইয়া বিভোর॥
পাওলুঁ বরজ-কিশোর।
সব দুখ দুরে গেও মোর॥
চির দিন পায়লুঁ পরাণ।
যৈছন অমিয়া-সিনান॥
হেরি সহচরগণ হাস।
গাওই চৈতন্য দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গৌরচন্দ্র॥ রাগিণী সুহই॥ তাল সমুচিত॥

আরে মোর গৌরকিশোর। পুরূব প্রেমরসে ভোর॥
দু নয়নে আনন্দলোর। কহে পহু হইয়া বিভোর॥
পাওলু বরজকিশোর। সব দুখ দূরে গেও মোর॥
চিরদিনে আওলু পরাণ। জৈছন অমিয়াসীনান॥
হেরি সহচরগণ হাস। গাওই চৈতন্যদাস॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৫ম তরঙ্গ, ৫ম উচ্ছ্বাস,
অন্ত্যলীলা. ২৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই।

আরে মোর গৌরকিশোর।        পুরুব প্রেম-রসে ভোর॥
দুনয়নে আনন্দ লোর।             কহে পহুঁ হইয়া বিভোর॥
পাওলুঁ বরজকিশোর।              সব দুখ দূরে গেও মোর॥
চিরদিনে পাওলুঁ পরাণ।            যৈছন অমিয়া সিনান॥
হেরি সহচর গণ-হাস।              গাওই চৈতন্য দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ দিব্যোন্মাদ
শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ সুহই।

আলো মোর গৌর কিশোর।
পুরব প্রেমরসে ভোর॥
দু নয়নে আনন্দলোর।
রহে পহুঁ হইয়া বিভোর॥
পাওলুঁ বরজকিশোর।
সব দুখ দুরে গেও মোর॥
চির দিনে পায়লুঁ পরাণ।
যৈছন অমিয়াসিনান॥
হেরি সহচরগণ হাস।
গাওই চৈতন্যদাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২০৭-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আলো মোর গৌর কিশোর।
পুরব প্রেমরসে ভোর॥
দু নয়নে আনন্দলোর।
রহে পহুঁ হইয়া বিভোর॥
পাওলুঁ বরজকিশোর।
সব দুখ দুরে গেও মোর॥
চির দিনে পায়লুঁ পরাণ।
যৈছন অমিয়াসিনান॥
হেরি সহচরগণ হাস।
গাওই চৈতন্যদাস॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
কি বলিব বিধাতারে এ দুঃখ সহায়
কি বলিব বিধাতারে এ দুখ সহায়
কবি চৈতন্য দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছ্বাস,
ভাবাবেশ ও প্রলাপ, ১৭৯পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরাবতারের ঐশ্বর্য্য ও মাধুর্য্য
॥ সুহিনী॥

কি বলিব বিধাতারে এ দুঃখ সহায়।
গোরামুখ হেরি কেনে পরাণ না যায়॥
মলিন বদনে বসি আঁখিযুগ ঝরে।
আকাশ-গঙ্গার ধারা সুমেরুশিখরে॥
ক্ষণে মুখ শির ঘসে ক্ষণে উঠি ধার@।
অতি দুরবল ভূমে পড়ি মুরছায়॥
নাসায় নাহিক শ্বাস দেখি সব কাঁদে।
চৈতন্যদাসের হিয়া থির নাহি বাঁধে॥

@ - ধায় হবে। সম্ভবত মুদ্রণ প্রমাদ।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ দিব্যোন্মাদ
॥ সুহিনী॥

কি বলিব বিধাতারে এ দুখ সহায়।
গোরামুখ হেরি কেনে পরাণ না যায়॥
মলিন বদনে বসি আঁখি যুগ ঝরে।
আকাশগঙ্গার ধারা সুমেরুশিখরে॥
ক্ষণে মুখ শির ঘসে ক্ষণে উঠি ধায়।
অতি দুরবল ভূমে পড়ি মুরছায়॥
নাসায় নাহিক শ্বাস দেখি সভে কান্দে।
চৈতন্য দাসের হিয়া থির নাহি বান্ধে॥

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ১১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দিব্যোন্মাদ
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ শ্রী - একতালা॥

কি বলিব বিধাতারে এ দুখ সহায়।
গোরামুখ হেরি কেন পরাণ না যায়॥
মলিন বদনে বসি আঁখিযুগ ঝরে।
আকাশ গঙ্গার ধারা সুমেরু শিখরে॥
ক্ষণে মুখ শির ঘসে ক্ষণে উঠি ধায়।
অতি দুরবলে ভূমে পড়ি মুরছায়॥
নাসায় নাহিক শ্বাস দেখি সভে কাঁদে।
চৈতন্য দাসের হিয়া থির নাহি বাঁধে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২০৭-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি বলিব বিধাতারে এ দুখ সহায়।
গোরামুখ হেরি কেনে পরাণ না যায়॥
মলিন বদনে বসি আঁখি যুগ ঝরে।
আকাশগঙ্গার ধারা সুমেরুশিখরে॥
ক্ষণে মুখ শির ঘসে ক্ষণে উঠি ধায়।
অতি দুরবল ভূমে পড়ি মুরছায়॥
নাসায় নাহিক শ্বাস দেখি সভে কান্দে।
চৈতন্য দাসের হিয়া থির নাহি বান্ধে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
ভালিয়ে নাচে রে মোর শচীর দুলাল
কবি চৈতন্য দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৫ম তরঙ্গ, ১ম উচ্ছ্বাস, দ্বাদশমাসিক লীলা. ২১৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

ভালিয়ে নাচে রে মোর শচীর দুলাল।
চঞ্চল বালক মেলি                        সুরধুনীতীরে কেলি
হরিবোল দিয়া করতাল॥ ধ্রু॥
উভ ঝুটি শোভে শিরে                   বদনে অমিঞা ঝরে
রূপ জিনি সোনা শত বাণ।
যতন করিয়া মায়                        ধড়া পরাঞাছে তায়
কাজরে উজোর দু-নয়ান॥
করে শোভে তাড়বালা                     গলে মুকুতার মালা
কর পদ কোকনদ জিনি।
সবে কহে মরি মরি                        সাগরে কামনা করি
হেন সুত পাইল শচী রাণী॥
পরিকরগণ সাথে                           সবার পাঁচনি হাতে
বাম হাতে ছাদনের দড়ি।
কহিছে চৈতন্যদাসে                        রাখালরাজের বেশে
থাক ও হৃদয়ে গৌরহরি॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
কৃষ্ণের আদেশ পাঞা ইন্দ্র যজ্ঞ নিবারিয়া
ভণিতাহীন পদ
কবি চৈতন্য দাস
এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৫৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ভণিতাহীন হলেও পদটি এই গ্রন্থে চৈতন্যদাসের পদাবলীর অন্তর্ভক্ত
করা হয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

কৃষ্ণের আদেশ পাঞা,                        ইন্দ্র যজ্ঞ নিবারিয়া,
নন্দ আদি যত গোপগণ।
নানা উপহার লৈয়া,                          সকলে একত্র হৈয়া,
আইলেন যথা গোবর্দ্ধন॥
সহস্র সহস্র জন,                                রান্ধে অন্ন ব্যঞ্জন,
এক ঠাঞি লৈয়া করে রাশি।
দধি-দুগ্ধ-সরোবর,                          রোটী-রাশি থরে থর,
হরিষে না খায় ব্রজবাসী॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর