| কবি চৈতন্যদাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| হেন কালে সখী মেলে রাই-কনক-গিরি হেন কালে সখী মেলি রাই-কনক গিরি কবি চৈতন্য দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য়খণ্ড,৩য় শাখা, ২৩শপল্লব ,গোবর্দ্ধন-লীলা, ১২৪৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ হেন কালে সখী মেলে রাই-কনক-গিরি আচম্বিতে দরশন দিলা। দাড়াঞা রূপের ভরে ধরি সহচরী-করে মুখ জিনি শশী ষোলকলা॥ রাই নব সুমেরু-সুঠান। স্মিত-সুরধুনী-ধারে রসের ঝরণা ঝরে হেরি হেরি তৃষিত নয়ান॥ নব অনুরাগ-বাতে স্থির নাহি বান্ধে চিতে পাসরিলা নিজ মরিযাদ। কাঁপে তনু থরহরে পর্ব্বত ডোলয়ে করে গোয়ালে গণিল পরমাদ॥ লগুড় লইয়া করে কেহো কেহো গিরি ধরে উদার ব্রজের গোপগণ। ললিতা দেবী যে হাসি দাণ্ডাইলা আগে আসি রাইরে করিলা অদর্শন॥ ভাব সম্বরিয়া হরি রাখিল গোকুল-পুরী ইন্দ্রেরে করিয়া পরাজয়। চৈতন্যদাসের বাণী ত্রিভুবনে জয়-ধ্বনি গোবর্দ্ধন-লীলা রসময়॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৭৮১-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ তথা রাগ॥ হেন কালে সখী মিলি রাই-কনক-গিরি আচম্বিতে দরশন দিলা। দাড়াঞা রূপের ভরে ধরি সহচরী-করে মুখ যে জিনিয়া শশিকলা॥ রাই নব সুমেরু-সুঠান। স্মিত-সুরধুনী-ধারে রসের ঝরণা ঝরে হেরি হেরি তৃষিত নয়ান॥ নব অনুরাগ-বাতে স্থির নাহি বান্ধে চিতে পাসরিলা নিজ মরিযাদ। কাঁপে তনু থরহরে পর্ব্বত তোলয়ে করে গোয়ালে গণিল পরমাদ॥ লগুড় লইয়া করে কেহো কেহো গিরি ধরে উদার ব্রজের গোপগণ। ললিতা দেবী যে হাসি দাণ্ডাইলা আগে আসি রাইয়েরে করিলা অদর্শন॥ ভাব সম্বরিয়া হরি রাখিল গোকুল-পুরী ইন্দ্রেরে করিয়া পরাজয়। চৈতন্যদাসের বাণী ত্রিভুবনে জয়-ধ্বনি গোবর্দ্ধন-লীলা রসময়॥ এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। গোবর্দ্ধন যাত্রা। ॥ শ্রীরাগ॥ হেন কালে সখী মেলি, রাই কনক গিরি, আচম্বিতে দরশন দিলা। দাঁড়াঞা রূপের ভরে, ধরি সহচরী করে, মুখজিনি শশী ষোলকলা॥ রাই নব সুমেরু সুঠাম। স্মিত সুরধুনী ধারে, রসের ঝরণা ঝরে, হেরি হেরি তৃপিত নয়ান॥ নব অনুরাগ বাতে, স্থির নাহি বান্ধে চিতে, পাসরিলা নিজ মরিযাদ। কাঁপে তনু থরহরে, পর্ব্বত ডোলয়ে করে, গোয়ালে গণিল পরমাদ॥ লগুড় লইয়া করে, কেহ কেহ গিরি ধরে, উদার ব্রজের গোপগণ। ললিতা দেবী হাসি, দাঁড়াইল আগে আসি, রাইয়েরে করিয়া অদর্শন॥ ভাব সম্বরিয়া হরি, রাখিয়া গোকুলপুরী, ইন্দ্র করিয়া পরাজয়। চৈতন্য দাসের বাণী, ত্রিভুবনে জয়ধ্বনি, গোবর্দ্ধন-লীলার সময়॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ হেন কালে সখী মেলে, রাই কনক গিরি, আচম্বিতে দরশন দিলা। দাড়াঞা রূপের ভরে, ধরি সহচরী করে, মুখ জিনি শশী ষোলকলা॥ রাই নব সুমেরু সুঠাম। স্মিত-সুরধুনী-ধারে, রসের ঝরণা ঝরে, হেরি হেরি তৃপত নয়ান॥ নব অনুরাগ বাতে, স্থির নাহি বান্ধে চিতে, পাসরিলা নিজ মরিযাদ। কাঁপে তনু থর হরে, পর্ব্বত তোলয়ে করে, গোয়ালে গণিল পরমাদ॥ লগুড় লইয়া করে, কেহ কেহ গিরি ধরে, উদার ব্রজের গোপগণ। ললিতা দেবী হাসি, দাঁড়াইলা আগে আসি, রাইয়ের করিয়া অদর্শন॥ ভাব সম্বরিয়া হরি, রাখিল গোকুলপুরী, ইন্দ্রেরে করিয়া পরাজয়। চৈতন্যদাসে বাণী, ত্রিভুবনে জয়-ধ্বনি, গোবর্দ্ধন-লীলার সময়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। গোবর্দ্ধনলীলা ॥ তথা রাগ॥ হেন কালে সখী মেলে রাইকনকগিরি আচম্বিতে দরশন দিলা। দাড়াঞা রূপের ভরে ধরি সহচরী-করে মুখ জিনি শশী ষোলকলা॥ রাই নব সুমেরু সুঠান। স্মিত সুরধুনীধারে রসের ঝরণা ঝরে হেরি হেরি তৃষিত নয়ান॥ নব অনুরাগ বাতে স্থির নাহি বান্ধে চিতে পাসরিলা নিজ মরিযাদ। কাঁপে তনু থরহরে পর্ব্বত ডোলয়ে করে গোয়ালে গণিল পরমাদ॥ লগুড় লইয়া করে কেহো কেহো গিরি ধরে উদার ব্রজের গোপগণ। ললিতা দেবী যে হাসি দাণ্ডাইলা আগে আসি রাইরে করিলা অদর্শন॥ ভাব সম্বরিয়া হরি রাখিল গোকুল-পুরী ইন্দ্রেরে করিয়া পরাজয়। চৈতন্যদাসের বাণী ত্রিভুবনে জয়-ধ্বনি গোবর্দ্ধনলীলা রসময়॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। হেন কালে সখী মেলে রাইকনকগিরি আচম্বিতে দরশন দিলা। দাড়াঞা রূপের ভরে ধরি সহচরী করে মুখ জিনি শশী ষোলকলা॥ রাই নব সুমেরু সুঠান। স্মিত সুরধুনীধারে রসের ঝরণা ঝরে হেরি হেরি তৃষিত নয়ান॥ নব অনুরাগ বাতে স্থির নাহি বান্ধে চিতে পাসরিলা নিজ মরিযাদ। কাঁপে তনু থরহরে পর্ব্বত ডোলয়ে করে গোয়ালে গণিল পরমাদ॥ লগুড় লইয়া করে কেহো কেহো গিরি ধরে উদার ব্রজের গোপগণ। ললিতা দেবী যে হাসি দাণ্ডাইলা আগে আসি রাইরে করিলা অদর্শন॥ ভাব সম্বরিয়া হরি রাখিল গোকুল পুরী ইন্দ্রেরে করিয়া পরাজয়। চৈতন্যদাসের বাণী ত্রিভুবনে জয় ধ্বনি গোবর্দ্ধনলীলা রসময়॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হে হরে মাধুর্য্য-গুণে হরিলে যে নেত্র মনে কবি চৈতন্য দাস / চৈতন্য এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ৫ম পল্লব, অর্দ্ধ-বাহ্য দশায় প্রলাপ, ১৬৬০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ হে হরে মাধুর্য্য-গুণে হরিলে যে নেত্র মনে মোহন মুরতি দরশাই। হে কৃষ্ণ আনন্দ-ধাম মহা-আকর্ষক ঠাম তুয়া বিনে দেখিতে না পাই॥ হে হরে ধৈরজ হরি গুরু-ভয় আদি করি কুলের ধরম কৈলা চূর। হে কৃষ্ণ বংশীর স্বনে আকর্ষিয়া আনি বনে দেহ গেহ স্মৃতি কৈলা দূর॥ হে কৃষ্ণ কর্ষিতা আমি কঞ্চুলি কর্ষহ তুমি তা দেখি চমক মোহে লাগে। হে কৃষ্ণ বিবিধ ছলে উরজ কর্ষহ বলে থির নহ অতি অনুরাগে॥ হে হরে আমারে হরি লৈয়া পুষ্প-তল্পোপরি বিলাসের লালসে কাকুতি। হে হরে গুপতে বস্ত্র হরিয়া সে ক্ষণমাত্র ব্যক্ত কর মনের আকুতি॥ হে হরে বসন-হর তাহাতে যে হেন কর অন্তরের হর যত বাধা। হে রাম রমণ-অঙ্গ নানা বৈদগধি-রঙ্গ প্রকাশি পূরহ মনের সাধা॥ হে হরে হরিতে বলী নাহি হেন কুতূহলী সভার সে বাম্য না রাখিলা। হে রাম রমণরত তাহা প্রকটিয়া কত কি না রসাবেশে ভাসাইলা॥ হে রাম রমণ প্রেষ্ঠ মন-রমণীর শ্রেষ্ঠ তুয়া সুখে আপনা না জানি। হে রাম রমণ ভাগে ভাবিতে মরমে জাগে সে রস-মূরতি তনুখানি॥ হে হরে হরণ তোর তাহার নাহিক ওর চেতন হরিয়া কর ভোর। হে হরে আমার লক্ষ হর সিংহ প্রায় দক্ষ তোমা বিনে কেহ নাহি মোর॥ তুমি সে আমার প্রাণ তোমা বিনে নাহি জান ক্ষণেকে কলপ শত যায়। সে তুমি অনত গিয়া রহ উদাসীন হৈয়া কহ দেখি কি করি উপায়॥ ওহে নবঘন-শ্যাম কেবল রসের ধাম কৈছে রহ করি মন ঝুরে। চৈতন্য বোলয়ে যায় হেন অনুরাগ পায় তারে বন্ধু মিলয়ে অদূরে॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৮৮৩-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ সুহই॥ হে হরে মাধুর্য্য-গুণে হরিলে যে নেত্র মনে মোহন মুরতি দরশাই। হে কৃষ্ণ আনন্দ-ধাম মহা-আকর্ষক ঠাম তুয়া বিনে দেখিতে না পাই॥ হে হরে ধৈরজ হরি গুরু-ভয় আদি করি কুলের ধরম কৈলা চূর। হে কৃষ্ণ বংশীর স্বরে আকর্ষিয়া আনি বলে দেহ গেহ স্মৃতি কৈলা দূর॥ হে কৃষ্ণ কর্ষিতা আমি কঞ্চুলি কর্ষহ তুমি তা দেখি চমক মোহে লাগে। হে কৃষ্ণ বিবিধ ছলে উরজ কর্ষহ বলে থির নহ অতি অনুরাগে॥ হে হরে আমারে হরি লৈয়া পুষ্প-তল্পোপরি বিলাসের লালসে কাকুতি। হে হরে গুপতে বস্ত্র হরিয়া সে ক্ষণমাত্র ব্যক্ত কর মনের আকুতি॥ হে হরে বসন-হর তাহাতে যে হেন কর অন্তরের হর যত বাধা। হে রাম রমণ-অঙ্গ নানা বৈদগধি-রঙ্গ প্রকাশি পূরহ নিজ সাধা॥ হে হরে হরিতে বলী নাহি হেন কুতূহলী সভার সে বাম্য না রাখিলা। হে রাম রমণরত তাহাতে প্রকটি কত কি না রসাবেশে ভাসাইলা॥ হে রাম রমণ প্রেষ্ঠ মন-রমণীর শ্রেষ্ঠ তুয়া সুখে আপনা না জানি। হে রাম রমণ ভাগে ভাবিতে মরমে জাগে সে রস-মূরতি তনুখানি॥ হে হরে হরণ তোর তাহার নাহিক ওর চেতন হরিয়া কর ভোরা। হে হরে আমার লক্ষ হর সিংহ প্রায় দক্ষ তোমা বিনে কেহ নাহি মোরা॥ তুমি সে আমার প্রাণ তোমা বিনে নাহি জান ক্ষণেকে কলপ শত যায়। সে তুমি আনত গিয়া রহু উদাসীন হৈয়া কহ দেখি কি করি উপায়॥ ওহে নবঘন-শ্যাম কেবল রসের ধাম কৈছে রহ করি মন ঝুরে। চৈতন্য বোলয়ে যায় হেন অনুরাগ পায় তবে বন্ধু মিলয়ে অদূরে॥ এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী সুহই॥ হে হরি মাধুর্য্য গুণে হরিলে যে নেত্র মনে মোহন মুরূতি দরসাই। হে কৃষ্ণ আনন্দ ধাম হাহা আকর্ষক ঠাম তুয়া বিনে দেখিতে না পাই॥ হে হরি ধৈরজ হরি গুরুভয় আদি করি কুলের রমণী কৈলে চূর। হে কৃষ্ণ বংশীর সনে আকর্ষিয়া আন বনে দেহ গৃহস্মৃতি কৈলে দূর॥ হে কৃষ্ণ কশিতা আমি কঞ্চুলি কর্ষহ তুমি তা দেখি চমক মোহে লাগে। হে কৃষ্ণ বিশেষ ছলে উরজ কর্ষহ বলে স্থির নহ অতি অনুরাগে॥ হে হরি আমারে লয়া পুষ্প তল্পোপরি বিলাসের লালসে কাকুতি। হে হরে গোপত বস্তু হরি আশে ক্ষণমাত্র ব্যক্ত কর মনের কাকুতি॥ হে হরে বসন হর তাহা তেজে হেন কর অন্তরের হর জত বাধা। হে রাম রমণ অঙ্গ নানা বৈদগধি রঙ্গ প্রকাশি পূরহ নিজ সাধা॥ হে হরে হরিতে বলি নাহি জেন কুতুহলী স্বভাবে বাম্য না রাখিলা। হে রাম রমণরত তাহা প্রকটিআ কত কিনা রস আবেশ ভাসাইলা॥ হে রাম রমণ প্রেষ্ঠ মন রমণীয় শ্রেষ্ঠ তুয়া সুখে আপনা না জানি। হে রাম রমণ ভাবে ভাবিতে মরম জাগে সে রস মূরূতি তনুখানি॥ হে হরে রমণ ভোর তার হরে নাহি জোর চৈতন্য হরিআ কর ভোরা। হে হরে আমারে লক্ষ হর শিশু প্রায় দক্ষ তোমা বিনু কেহু নাহি মোরা॥ তোসিতে আমার প্রাণ তোমা বিনে নাহি জান অনেক কল্প শত জায়। সে তোমি অন্যতে গিয়া রহ উদাসিনী হঞা কহ দেখি কি করি উপায়॥ তুমি নবঘন শ্যাম কেবল রসের ধাম কৈছে বহু করি মন ঝুরে। চৈতন্য বলয়ে জায় হেন অনুরাগ পায় তাহে বন্ধু মিলয়ে অদূরে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৫৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অর্দ্ধ-বাহ্যদশায় প্রলাপ ॥ সুহই॥ হে হরে মাধুর্য্যগুণে হরিলে যে নেত্র মনে মোহন মুরতি দরশাই। হে কৃষ্ণ আনন্দধাম মহাআকর্ষক ঠাম তুয়া বিনে দেখিতে না পাই॥ হে হরে ধৈরজ হরি গুরুভয় আদি করি কুলের ধরম কৈলা চূর। হে কৃষ্ণ বংশীর স্বনে আকর্ষিয়া আনি বনে দেহ গেহ স্মৃতি কৈলা দূর॥ হে কৃষ্ণ কর্ষিতা আমি কঞ্চুলি কর্ষহ তুমি তা দেখি চমক মোহে লাগে। হে কৃষ্ণ বিবিধ ছলে উরোজ কর্ষহ বলে থির নহ অতি অনুরাগে॥ হে হরে আমারে হরি লৈয়া পুষ্প তল্পোপরি বিলাসের লালসে কাকুতি। হে হরে গুপতে বস্ত্র হরিয়া সে ক্ষণমাত্র ব্যক্ত কর মনের আকুতি॥ হে হরে বসন হর তাহাতে যে হেন কর অন্তরের হর যত বাধা। হে রাম রমণঅঙ্গ নানা বৈদগধি-রঙ্গ প্রকাশি পূরহ মনের সাধা॥ হে হরে হরিতে বলী নাহি হেন কুতূহলী সভার সে বাম্য না রাখিলা। হে রাম রমণরত তাহা প্রকটিয়া কত কি না রসাবেশে ভাসাইলা॥ হে রাম রমণ প্রেষ্ঠ মন রমণীয় শ্রেষ্ঠ তুয়া সুখে আপনা না জানি। হে রাম রমণ ভাগে ভাবিতে মরমে জাগে সে রসমূরতি তনুখানি॥ হে হরে হরণ তোর তাহার নাহিক ওর চেতন হরিয়া কর ভোর। হে হরে আমার লক্ষ হর সিংহ প্রায় দক্ষ তোমা বিনে কেহ নাহি মোর॥ তুমি সে আমার প্রাণ তোমা বিনে নাহি জান ক্ষণেকে কলপশত যায়। সে তুমি অনত গিয়া রহ উদাসীন হৈয়া কহ দেখি কি করি উপায়॥ ওহে নবঘনশ্যাম কেবল রসের ধাম কৈছে রহ করি মন ঝুরে। চৈতন্য বোলয়ে যায় হেন অনুরাগ পায় তারে বন্ধু মিলয়ে অদূরে॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। হে হরে মাধুর্য্যগুণে হরিলে যে নেত্র মনে মোহন মুরতি দরশাই। হে কৃষ্ণ আনন্দধাম মহাআকর্ষক ঠাম তুয়া বিনে দেখিতে না পাই॥ হে হরে ধৈরজ হরি গুরুভয় আদি করি কুলের ধরম কৈলা চূর। হে কৃষ্ণ বংশীর স্বনে আকর্ষিয়া আনি বনে দেহ গেহ স্মৃতি কৈলা দূর॥ হে কৃষ্ণ কর্ষিতা আমি কঞ্চুলি কর্ষহ তুমি তা দেখি চমক মোহে লাগে। হে কৃষ্ণ বিবিধ ছলে উরোজ কর্ষহ বলে থির নহ অতি অনুরাগে॥ হে হরে আমারে হরি লৈয়া পুষ্প তল্পোপরি বিলাসের লালসে কাকুতি। হে হরে গুপতে বস্ত্র হরিয়া সে ক্ষণমাত্র ব্যক্ত কর মনের আকুতি॥ হে হরে বসন হর তাহাতে যে হেন কর অন্তরের হর যত বাধা। হে রাম রমণঅঙ্গ নানা বৈদগধি রঙ্গ প্রকাশি পূরহ মনের সাধা॥ হে হরে হরিতে বলী নাহি হেন কুতূহলী সভার সে বাম্য না রাখিলা। হে রাম রমণরত তাহা প্রকটিয়া কত কি না রসাবেশে ভাসাইলা॥ হে রাম রমণ প্রেষ্ঠ মন রমণীয় শ্রেষ্ঠ তুয়া সুখে আপনা না জানি। হে রাম রমণ ভাগে ভাবিতে মরমে জাগে সে রসমূরতি তনুখানি॥ হে হরে হরণ তোর তাহার নাহিক ওর চেতন হরিয়া কর ভোর। হে হরে আমার লক্ষ হর সিংহ প্রায় দক্ষ তোমা বিনে কেহ নাহি মোর॥ তুমি সে আমার প্রাণ তোমা বিনে নাহি জান ক্ষণেকে কলপশত যায়। সে তুমি অনত গিয়া রহ উদাসীন হৈয়া কহ দেখি কি করি উপায়॥ ওহে নবঘনশ্যাম কেবল রসের ধাম কৈছে রহ করি মন ঝুরে। চৈতন্য বোলয়ে যায় হেন অনুরাগ পায় তারে বন্ধু মিলয়ে অদূরে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ভালিয়ে নাচে রে মোর শচীর দুলাল কবি চৈতন্য দাস এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৫ম তরঙ্গ, ১ম উচ্ছ্বাস, দ্বাদশমাসিক লীলা. ২১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি॥ ভালিয়ে নাচে রে মোর শচীর দুলাল। চঞ্চল বালক মেলি সুরধুনীতীরে কেলি হরিবোল দিয়া করতাল॥ ধ্রু॥ উভ ঝুটি শোভে শিরে বদনে অমিঞা ঝরে রূপ জিনি সোনা শত বাণ। যতন করিয়া মায় ধড়া পরাঞাছে তায় কাজরে উজোর দু-নয়ান॥ করে শোভে তাড়বালা গলে মুকুতার মালা কর পদ কোকনদ জিনি। সবে কহে মরি মরি সাগরে কামনা করি হেন সুত পাইল শচী রাণী॥ পরিকরগণ সাথে সবার পাঁচনি হাতে বাম হাতে ছাদনের দড়ি। কহিছে চৈতন্যদাসে রাখালরাজের বেশে থাক ও হৃদয়ে গৌরহরি॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কৃষ্ণের আদেশ পাঞা ইন্দ্র যজ্ঞ নিবারিয়া ভণিতাহীন পদ কবি চৈতন্য দাস এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৫৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ভণিতাহীন হলেও পদটি এই গ্রন্থে চৈতন্যদাসের পদাবলীর অন্তর্ভক্ত করা হয়েছে। ॥ মঙ্গল॥ কৃষ্ণের আদেশ পাঞা, ইন্দ্র যজ্ঞ নিবারিয়া, নন্দ আদি যত গোপগণ। নানা উপহার লৈয়া, সকলে একত্র হৈয়া, আইলেন যথা গোবর্দ্ধন॥ সহস্র সহস্র জন, রান্ধে অন্ন ব্যঞ্জন, এক ঠাঞি লৈয়া করে রাশি। দধি-দুগ্ধ-সরোবর, রোটী-রাশি থরে থর, হরিষে না খায় ব্রজবাসী॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |