কবি চৈতন্যদাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
স্বরূপ ভজিবে স্বরূপ যজিবে
কবি চৈতন্য দাস
ভণিতা শ্রীচৈতন্যদাস
এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, মণীন্দ্রমোহন বসু সম্পাদিত “সহজিয়া সাহিত্য”, ৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

স্বরূপ ভজিবে                        স্বরূপ যজিবে
স্বরূপ করিবে সার।
স্বরূপ সঙ্গে                             রহিবে রঙ্গে
হইয়া বেদেরি পার॥
স্বরূপ আকৃতি                        কেমন প্রকৃতি
কোন্ স্থানে তাঁর স্থিতি।
স্বরূপ চিনিব                        তবে সে ভজিব
হয়ে তাঁর অনুগতি॥
প্রেমে পুলকিত                      ভাবে বিভাবিত
ডগমগ দুটি আখি।
রসের সাগরে                        সদাই সাঁতারে
রস্ লাগি ধক্ধকি॥
এই সব রস                        যাঁহাতে প্রকাশ
স্বরূপ তাঁহার দেহে।
তাঁহারে ভজিবে                        স্বরূপ পাইবে
শ্রীচৈতন্যদাস কহে॥

মন্তব্য - স্বরূপে আরোপ করিতে হইবে, ইহা সহজিয়া সাধনার মূল কথা। স্বরূপ-লক্ষণ-বিশিষ্ট লোকের
বিশেষত্ব কি,তাহাই এই পদে বিবৃত হইয়াছে। এইরূপ লোক পাইলে তাহাকে আরোপ করিয়া সাধনা
করিতে হইবে, ইহা এই পদে বলা হইল।

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
রাগের ভজন যাজন কঠিন
কবি চৈতন্য দাস
ভণিতা শ্রীচৈতন্যদাস
এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, মণীন্দ্রমোহন বসু সম্পাদিত “সহজিয়া সাহিত্য”, ৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

রাগের ভজন                        যাজন কঠিন
আচার বিষম হয়।
বেদবিধি ছাড়ে                     কুল পরিহরে
তবে হয় প্রেমোদয়॥
প্রেম কোথা থাকে              কেবা তাকে দেখে
কিসে হয় উত্পত্তি।
কারে সুধাইবে                     সুধাইলে পাবে
শুনহ তাহার যুগতি॥
সহজ আকৃতি                        সহজ প্রকৃতি
যে জনা জানয়ে সার।
সেই সে রসিক                       পরম ধার্ম্মিক
অনুগত হবে তাঁর॥
ভঙ্গিবে যজিবে                   তাঁহারে সেবিবে
দেহ সমর্পণ করি।
শ্রীচৈতন্যদাস                       কহে এই ভাষ
তবে পাবে ব্রজপুরী॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
রসের সায়র মোহন নাগর
কবি চৈতন্য দাস
ভণিতা শ্রীচৈতন্যদাস
এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, মণীন্দ্রমোহন বসু সম্পাদিত “সহজিয়া সাহিত্য”, ৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

রসের সায়র                        মোহন নাগর
রসের নাগরী সঙ্গে।
রস আলাপন                        রস আকর্ষণ
সদা থাকে রস রঙ্গে॥
রসিক রসিকা                     রসের দায়িকা
রসের চাতুরী সদা।
রস-তরঙ্গে                           ডুবেছে রঙ্গে
তেজিয়ে কুলেরি বাঁধা॥
রস-সম্পদ্                            পাইয়া প্রমদ
কত উন্মাদ হয়।
সেই সে জানয়ে                     রাখয়ে হৃদয়ে
যার হয় প্রমোদয়॥
যুগল পীরিতি                        যুগল মূরতি
সদা ভাবে যেই মনে।
শ্রীচৈতন্যদাস                        কহে এই ভাষ
সেই সে পীরিতি জানে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
সহজ পীরিতি কেমন মূরতি
কবি চৈতন্য দাস
ভণিতা শ্রীচৈতন্যদাস
এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, মণীন্দ্রমোহন বসু সম্পাদিত “সহজিয়া সাহিত্য”, ৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

সহজ পীরিতি                        কেমন মূরতি
সহজ জানয়ে কে।
এ তিন অক্ষর                    যে জনা জানয়ে
তিনের বাহির সে॥
তাহার করণ                          ভজন যজন
অন্য লোকে কেবা জানে।
প্রেম-শতধার                        বেদবিধি-পার
কে করিবে অনুমানে॥
সহজ করণ                            সহজ ভজন
সহজ যজন তার।
সহজ মানুষ-                        সঙ্গে কার বাস
সহজ করেছে সার॥
সহজ গ্রামেতে                        সহজ মনেতে
সহজ আনন্দে রয়।
সহজ সঙ্গে                               সহজ রঙ্গে
শ্রীচৈতন্যদাস কয়॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর