কবি চন্দ্রশেখর আচার্য্যের বৈষ্ণব পদাবলী
*
ক্ষণেক রহিয়া চলিয়া উঠিয়া
ভনিতা চন্দ্রশেখর
কবি চন্দ্রশেখর আচার্য্য
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১০ম পল্লব, নানাবিধ
বিরহ, ১৮৫৪-পদসংখ্যা।

॥ তথা রাগ॥

ক্ষণেক রহিয়া                        চলিয়া উঠিয়া
পণ্ডিত জগদানন্দ।
প্রবেশি নগরে                        দেখে ঘরে ঘরে
লোক সব নিরানন্দ॥
না মেলে পসার                     না করে আহার
কারো মুখে নাহি হাসি।
নগরে নাগরী                        কান্দয়ে গুমরি
থাকয়ে বিরলে বসি॥
দেখিয়া নগর                          ঠাকুরের ঘর
প্রবেশ করল যাই।
আধমরা হেন                        ভূমে অচেতন
পড়িয়া আছেন আই॥
প্রভুর রমণী                          সেহ অনাথিনী
প্রভুরে হইয়া হারা।
পড়িয়া আছেন                           মলিন বসন
মুদল-নয়ানে ধারা॥
দাস দাসী সব                        আছয়ে নীরব
দেখিয়া পথিক-জন।
সোধাইছে তারে                   কহ দেখি মোরে
কোথা হৈতে আগমন॥
পণ্ডিত কহেন                        মোর আগমন
নীলাচলপুর হৈতে।
গৌরাঙ্গ-সুন্দর                     পাঠাইল মোরে
তোমা সবারে দেখিতে॥
শুনিয়া বচন                            সজল নয়ন
শচীরে কহল গিয়া।
আর এক জন                          চলিল তখন
শ্রীবাস-মন্দিরে ধায়্যা॥
শুনিয়া শ্রীবাস                        মালিনী উল্লাস
যত নবদ্বীপ-বাসী।
মরা হেন ছিল                         অমনি ধাইল
পরাণ পাইল আসি॥
মালিনী আসিয়া                      শচী বিষ্ণুপ্রিয়া
উঠাইল যতন করি।
তাহারে কহিল                        পণ্ডিত আইল
পাঠাইল গৌরহরি॥
শুনি শচী আই                        সচকিত চাই
দেখিলেন পণ্ডিতেরে।
কহে তার ঠাই                        আমার নিমাই
আসিয়াছে কত দূরে॥
দেখি প্রেম-সীমা                      স্নেহের মহিমা
পণ্ডিত কান্দিয়া কয়।
সেই গোরা-মণি                     যুগে যুগে জানি
তুয়া প্রেম-বশ হয়॥
হেন নীত রীত                      গৌরাঙ্গ-চরিত
সভাকারে শুনাইয়া।
পণ্ডিত রহিলা                        নদীয়া নগরে
সভাকারে সুখ দিয়া॥
চন্দ্রশেখর                           পশুর সোসর
বিষয়-বিষেতে প্রীত।
গৌরাঙ্গ-চরিত                        পরম অমৃত
তাহাতে না লয় চিত॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

ক্ষণেক রহিয়া                        চলিয়া উঠিয়া
পণ্ডিত জগদানন্দ।
নদীয়ানগরে                        দেখে ঘরে ঘরে
কাহার নাহিক স্পন্দ॥
না মেলে পসার                    না করে আহার
কারো মুখে নাহি হাসি।
নগরে নাগরী                         কাঁদয়ে গুমরি
থাকয়ে বিরলে বসি॥
দেখিয়া নগর                         ঠাকুরের ঘর
প্রবেশ করল যাই।
আধমড়া হেন                    পড়ি আছে যেন
অচেতন শচী আই॥
প্রভুর রমণী                        সেহ অনাথিনী
প্রভুরে হইয়া হারা।
পড়িয়া আছেন                        মলিনবসনে
মুদিত নয়নে ধারা॥
বিশ্বাসী প্রধান                       কিঙ্কর ঈশান
নয়নে শোকাশ্রু ঝরে।
তবু রক্ষা করে                     শাশুড়ী বধূরে
সর্ব্বদা শুশ্রুষা করে॥
দাসদাসী সব                        আছয়ে নীরব
দেখিয়া পথিক জন।
সুধাইছে তারে                     কহ মোসবারে
কোথা হইতে আগমন॥
পণ্ডিত কহেন                        মোর আগমন
নীলাচলপুর হৈতে।
গৌরাঙ্গসুন্দরে                    পাঠাইল মোরে
তোমা সবারে দেখিতে॥
শুনিয়া বচন                           সজল নয়ন
শচীরে কহল গিয়া।
আর একজন                          চলিল তখন
শ্রীবাসমন্দিরে ধাঞা॥
শুনিয়া উল্লাস                       মালিনী শ্রীবাস
যত নবদ্বীপবাসী।
মরা হেন ছিল                        অমনি ধাইল
পরাণ পাইল আসি॥
মালিনী আসিয়া                     শচী বিষ্ণুপ্রিয়া
উঠাইল ত্বরা করি।
বলে চাহি দেখ                     পাঠাইলা লোক
তত্ত্ব লৈতে গৌরহরি॥
শুনি শচী মাই                       সচকিত চাই
দেখিলেন পণ্ডিতেরে।
কহে তার ঠাঁই                     আমার নিমাই
আসিয়াছে কত দূরে॥
দেখি প্রেমসীমা                     স্নেহের মহিমা
পণ্ডিত কাঁদিয়া কয়।
সেই গৌরমণি                      যুগে যুগে জানি
তুয়া প্রেমে বশ হয়॥
গৌরাঙ্গ-চরিত                      হেন নীত রীত
সবাকারে শুনাইয়া।
পণ্ডিত রহিলা                        নদীয়ানগরে
সবাকারে সুখ দিয়া॥
এ চন্দ্রশেখর                        পশুর সোসর
বিষয় বিষেতে প্রীত।
গৌরাঙ্গ-চরিত                        পরম অমৃত
তাহাতে না লয় চিত॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জগদানন্দ পণ্ডিতের নীলাচল হইতে
নবদ্বীপে আগমন
॥ তথা রাগ॥

ক্ষণেক রহিয়া                        চলিয়া উঠিয়া
পণ্ডিত জগদানন্দ।
প্রবেশি নগরে                      দেখে ঘরে ঘরে
লোক সব নিরানন্দ॥
না মেলে পসার                     না করে আহার
কারো মুখে নাহি হাসি।
নগরে নাগরী                        কান্দয়ে গুমরি
থাকয়ে বিরলে বসি॥
দেখিয়া নগর                         ঠাকুরের ঘর
প্রবেশ করল যাই।
আধমরা হেন                        ভূমে অচেতন
পড়িয়া আছেন আই॥
প্রভুর রমণী                        সেই অনাথিনী
প্রভুরে হইয়া হারা।
পড়িয়া আছেন                        মলিন বসনে
মুদল নয়ানে ধারা॥
দাস দাসী সব                        আছয়ে নীরব
দেখিয়া পথিক-জন।
সোধাইছে তারে                   কহ দেখি মোরে
কোথা হৈতে আগমন॥
পণ্ডিত কহেন                        মোর আগমন
নীলাচল পুর হৈতে।
গৌরাঙ্গ সুন্দর                     পাঠাইল মোরে
তোমা সভারে দেখিতে॥
শুনিয়া বচন                            সজল নয়ন
শচীরে কহল গিয়া।
আর এক জন                         চলিল তখন
শ্রীবাস-মন্দিরে ধায়্যা॥
শুনিয়া শ্রীবাদ                       মালিনী উল্লাস
যত নবদ্বীপ-বাসী।
মরা হেন ছিল                        অমনি ধাইল
পরাণ পাইল আসি॥
মালিনী আসিয়া                     শচী বিষ্ণুপ্রিয়া
উঠাইল যতন করি।
তাহারে কহিল                       পণ্ডিত আইল
পাঠাইল গৌরহরি॥
শুনি শচী আই                        সচকিত চাই
দেখিলেন পণ্ডিতেরে।
কহে তার ঠাঁই                        আমার নিমাই
আসিয়াছে কত দূরে॥
দেখি প্রেম-সীমা                       স্নেহের মহিমা
পণ্ডিত কান্দিয়া কয়।
সেই গোরামণি                      যুগে যুগে জানি
তুয়া প্রেমে-বশ হয়॥
হেন নীত রীত                       গৌরাঙ্গ-চরিত
সভাকারে শুনাইয়া।
পণ্ডিত রহিলা                         নদীয়া নগরে
সভাকারে সুখ দিয়া॥
চন্দ্রশেখর                           পশুর  সোসর
বিষয়-বিষেতে প্রীত।
গৌরাঙ্গ চরিত                        পরম অমৃত
তাহাতে না লয় চিত॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৯১২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ক্ষণেক রহিয়া চলিয়া উঠিয়া                
পণ্ডিত জগদানন্দ।
প্রবেশি নগরে দেখে ঘরে ঘরে               
লোক সব নিরানন্দ॥
না মেলে পসার না করে আহার             
কারো মুখে নাহি হাসি।
নগরে নাগরী কান্দয়ে গুমরি                
থাকয়ে বিরলে বসি॥
দেখিয়া নগর ঠাকুরের ঘর                 
প্রবেশ করল যাই।
আধমরা হেন ভূমে অচেতন                
পড়িয়া আছেন আই॥
প্রভুর রমণী সেই অনাথিনী                
প্রভুরে হইয়া হারা।
পড়িয়া আছেন মলিন বসনে                
মুদল নয়ানে ধারা॥
দাস দাসী সব আছয়ে নীরব                
দেখিয়া পথিক জন।
সোধাইছে তারে কহ দেখি মোরে           
কোথা হৈতে আগমন॥
পণ্ডিত কহেন মোর আগমন                
নীলাচল পুর হৈতে।
গৌরাঙ্গ সুন্দর পাঠাইল মোরে              
তোমা সভারে দেখিতে॥
শুনিয়া বচন সজল নয়ন                     
শচীরে কহল গিয়া।
আর এক জন চলিল তখন                  
শ্রীবাস মন্দিরে ধায়্যা॥
শুনিয়া শ্রীবাদ মালিনী উল্লাস                
যত নবদ্বীপ বাসী।
মরা হেন ছিল অমনি ধাইল                
পরাণ পাইল আসি॥
মালিনী আসিয়া শচী বিষ্ণুপ্রিয়া             
উঠাইল যতন করি।
তাহারে কহিল পণ্ডিত আইল                
পাঠাইল গৌরহরি॥
শুনি শচী আই সচকিত চাই                 
দেখিলেন পণ্ডিতেরে।
কহে তার ঠাঁই আমার নিমাই                
আসিয়াছে কত দূরে॥
দেখি প্রেম সীমা স্নেহের মহিমা                
পণ্ডিত কান্দিয়া কয়।
সেই গোরামণি যুগে যুগে জানি                
তুয়া প্রেমে বশ হয়॥
হেন নীত রীত গৌরাঙ্গ চরিত                 
সভাকারে শুনাইয়া।
পণ্ডিত রহিলা নদীয়া নগরে                    
সভাকারে শুখ দিয়া॥
চন্দ্রশেখর পশুর সোসর                       
বিষয় বিষেতে প্রীত।
গৌরাঙ্গ চরিত পরম অমৃত                   
তাহাতে না লয় চিত॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
গৌর বরণ হেরিয়া বিজুরী
ভনিতা চন্দ্রশেখর
কবি চন্দ্রশেখর আচার্য্য
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৮শ পল্লব,
শ্রীগৌরাঙ্গের রূপ প্রভৃতি, ২১৪৮-পদসংখ্যা। এই পদটি পদরসসার পুথির ২২৫৫ সংখ্যক পদ।
॥ তথা রাগ॥

গৌর-বরণ                            হেরিয়া বিজুরী
গগনে বসতি কেল।
ত্রিভুবনে যত                        শোভার বিততি
হারি পরাজিত ভেল॥
দেখ দেখ মদন-মোহন রূপ।
মাঝার শোভায়                        গরব তেজিয়া
পলায়ল গিরি-ভূপ॥ ধ্রু॥
শুনি কবি-বর                            গমন-সঞ্চার
চরণে সোঁপিয়া গেল।
ভয় পাই মনে                          কুরুঙ্গিণীগণে
লোচন-ভঙ্গিমা দিল॥
কেশের শোভায়                        চামরীর গণ
নিজ অহঙ্কার ছাড়ি।
বনে প্রবেশিয়া                        লজ্জিত হইয়া
অভিমানে রহে পড়ি॥
যুবতী-গরব                          তেজিতে গৌর
নদীয়া নগর মাঝে।
চন্দ্রশেখর                             কহয়ে বজর
পড়িল যুবতী-লাজে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

গৌরবরণ                          হেরিয়া বিজুরী
গগনে বসতি কেল।
ত্রিভূবনে যত                     শোভার বিততি
হারি পরাজিত ভেল॥
দেখ দেখ মদনমোহন রূপ।
মাজার শোভায়                    গরব তেজিয়া
পলায়ন গিরিভূপ॥ ধ্রু॥
শুনি করবর                           গমন সঞ্চার
চরণ সোঁপিয়া গেল।
ভয় পাঞা মনে                      কুরঙ্গিণীগণে
লোচন ভঙ্গিমা দেল॥
কেশের শোভায়                     চামরীর গণে
নিজ অহঙ্কার ছাড়ি।
বনে প্রবেশিয়া                      লজ্জিত হইয়া
অভিমানে রহে পড়ি॥
যুবতী গরব                     তেজিতে গৌরব
নদীয়া নাগর মাঝে।
চন্দ্রশেখর কহয়ে বজর পড়িল যুবতী লাজে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌররূপবর্ণন
॥ তথা রাগ॥

গৌর-বরণ                         হেরিয়া বিজুরী
গগনে বসতি কেল।
ত্রিভুবনে যত                    শোভার বিততি
হারি পরাজিত ভেল॥
দেখ দেখ মদন-মোহন রূপ।
মাঝার শোভায়                    গরব তেজিয়া
পলায়ল মৃগ ভূপ॥
শুনি কবিবর                          গমন সঞ্চার
চরণে সঁপিয়া গেল।
ভয় পাই মনে                        কুরুঙ্গিণীগণে
লোচন ভঙ্গিমা দিল॥
কেশের শোভায়                      চমরীর গণে
নিজ অহঙ্কার ছাড়ি।
বনে প্রবেশিয়া                      লজ্জিত হইয়া
অভিমানে রহে পড়ি॥
যুবতী গরব                         নাশিতে গৌর
উদয় নদীয়া মাঝে।
চন্দ্রশেখর                            কহয়ে বজর
পড়িল যুবতী লাজে॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৫৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মানপ্রকরণ
স্বয়ং দৌত্য
॥ কামোদ - মধ্যম দশকুশী॥

গৌর বরণ                        হেরিয়া বিজুরী
গগনে বসতি কেল।
ত্রিভুবনে যত                    শোভার বিততি
হারি পরাজিত ভেল॥
দেখ দেখ মদন মনোহর রূপ।
মাজার শোভায়                    গরব তেজিয়া
,পলায়ল গিরিভূপ॥
শুনি করিবর                        গমন সঞ্চারে,
চরণে সোঁপিয়া গেল।
ভয় পাঞা মনে,                   কুরুঙ্গিণী গণে,
লোচন ভঙ্গিমা দেল॥
কেশের শোভায়,                     চামরীর গণে
নিজ অহঙ্কার ছাড়ি।
বনে প্রবেশিয়া,                      লজ্জিত হইয়া
অভিমানে রহে পড়ি॥
যুবতী গরব,                    তেজিতে গৌরব,
নদীয়া নগর মাঝে।
চন্দ্রশেখর                            কহয়ে বজর
পড়িল যুবতী লাজে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৯১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌর বরণ হেরিয়া বিজুরী                
গগনে বসতি কেল।
ত্রিভুবনে যত শোভার বিততি            
হারি পরাজিত ভেল॥
দেখ দেখ মদনমোহন রূপ।                
মাঝার শোভায় গরব তেজিয়া             
পলায়ল মৃগ ভূপ॥
শুনি কবিবর গমন সঞ্চার                   
চরণে সঁপিয়া গেল।
ভয় পাই মনে কুরুঙ্গিণীগণে                
লোচন ভঙ্গিমা দিল॥
কেশের শোভায় চমরীর গণে              
নিজ অহঙ্কার ছাড়ি।
বনে প্রবেশিয়া লজ্জিত হইয়া              
অভিমানে রহে পড়ি॥
যুবতী গরব নাশিতে গৌর                
উদয় নদীয়া মাঝে।
চন্দ্রশেখর কহয়ে বজর                   
পড়িল যুবতী লাজে॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
কপট চাতুরী চিতে জন-মন ভুলাইতে
ভনিতা চন্দ্রশেখর দাস
কবি চন্দ্রশেখর আচার্য্য
আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ (১৯২৭), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব,
প্রার্থনা, ৩০৩০-পদসংখ্যা।

॥ তথা রাগ॥

কপট চাতুরী চিতে                        জন-মন ভুলাইতে
লইতে তোমার নামখানি।
দাঁড়াইয়া সত্য-পথে                   অসত্য যজিয়ে তাথে
পরিণামে কি হবে না জানি॥
ওহে নাথ মো বড় অধম দুরাচার।
সাধু-শাস্ত্র-গুরু-বাক্য                   না মানিলুঁ মুঞি ধিক
অতয়ে সে না দেখি উদ্ধার॥
লোকে করে সত্য-বুদ্ধি                মোর নাহি নিজ-শুদ্ধি
উদার হইয়া লোকে ভাঁড়ি।
প্রেম-ভাব মোরে করে                নিজ-গুণে তারা তরে
আপনি হইলুঁ ছোঁচ হাঁড়ি॥
চন্দ্রশেখর দাস                           এই মনে অভিলাষ
আর কি এমন দশা হব।
গোরা-পারিষদ সঙ্গে                        সঙ্কীর্ত্তন-রস-রঙ্গে
আনন্দে দিবস গোঙাইব॥
ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ি॥

কপট চাতুরী চিতে                        জন মন ভুলাইতে
বাহ্যে সদা জপি নামখানি।
দাঁড়াইয়া সত্যপথে                  অসত্যে যজিয়ে তাতে
পরিণাম কি হবে না জানি॥
ওহে নাথ মো বড় অধম দুরাচার।
সাধু শাস্ত্র গুরুবাক্য                    না মানিনু মুঞি ধিক্
অভদ্র সে না দেখি উদ্ধার॥ ধ্রু॥
লোকে করে সত্যবুদ্ধি                  মোর নাহি নিজ শুদ্ধি
উদার হইয়া লোকে ভাঁড়ি।
প্রেমভরে মোরে করে                   নিজগুণে তার তরে
আপনি হইনু ছোঁচ হাঁড়ি॥
ভণে চন্দ্রশেখরদাস                       এই মনে অভিলাষ
আর কি এমন দশা হব।
গোরা পারিষদ সঙ্গে                       সংকীর্ত্তন রসরঙ্গে
আনন্দে দিবস গোঙাইব॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ তথা রাগ॥

কপট চাতুরী চিতে                        জন-মন ভুলাইতে
লইতে তোমার নামখানি।
দাঁড়াইয়া সত্য-পথে                  অসত্য যজিয়ে তাথে
পরিণামে কি হবে না জানি॥
ওহে নাথ মো বড় অধম দুরাচার।
সাধু শাস্ত্র গুরু বাক্য                 না মানিলুঁ মুঞি ধিক
অতয়ে সে না দেখি উদ্ধার॥
লোকে করে সত্য বুদ্ধি               মোর নাহি নিজ শুদ্ধি
উদার হইয়া লোকে ভাঁড়ি।
প্রেম-ভাব মোরে করে               নিজ গুণে তারা তরে
আপনি হইলুঁ ছোঁচ হাঁড়ি॥
চন্দ্রশেখর দাস                          এই মনে অভিলাষ
আর কি এমন দশা হব।
গোরা পারিষদ সঙ্গে                      সঙ্কীর্ত্তন রস রঙ্গে
আনন্দে দিবস গোঙাইব॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদসঙ্কলন”, ১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া হয়েছে। এই সংকলনের এই পাতার টীকায় লেখা রয়েছে---
“মর্মস্পর্শী বাংলা পদটি চৈতন্যভক্ত চন্দ্রশেখর আচার্যের প্রার্থনা পদ”।

কপট চাতুরী চিতে                          জন মন ভুলাইতে
লইতে তোমার নাম খানি।
দাঁড়াইয়া সত্যপথে                      অসত্য যজিয়ে তাথে
পরিণামে কি হবে না জানি॥
ওহে নাথ মো বড় অধম দুরাচার।
সাধু-শাস্ত্র-গুরু-বাক্য                     না মানিলুঁ মুঞি ধিক
অতএ সে না দেখি উদ্ধার॥
লোকে করে সত্য-বুদ্ধি                   মোর নাহি নিজ শুদ্ধি
উদার হইয়া লোকে ভাঁড়ি।
প্রেম-ভাব মোরে করে                   নিজ গুণে তারা তরে
আপনি হইলুঁ ছোঁচ হাড়ি॥
চন্দ্রশেখর দাস                              এই মনে অভিলাষ
আর কি এমন দশা হব।
গোরা-পারিষদ সঙ্গে                           সঙ্কীর্ত্তন-রস-রঙ্গে
আনন্দে দিবস গোঙাইব॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৯১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কপট চাতুরী চিতে জন মন ভুলাইতে                     
লইতে তোমার নামখানি।
দাঁড়াইয়া সত্য পথে অসত্য যজিয়ে তাথে                
পরিণামে কি হবে না জানি॥
ওহে নাথ মো বড় অধম দুরাচার।                       
সাধু শাস্ত্র গুরু বাক্য না মানিলুঁ মুঞি                     
ধিক অতয়ে সে না দেখি উদ্ধার॥
লোকে করে সত্য বুদ্ধি মোর নাহি নিজ                   
শুদ্ধি উদার হইয়া লোকে ভাঁড়ি।
প্রেম ভাব মোরে করে নিজ গুণে তারা                    
তরে আপনি হইলুঁ ছোঁচ হাঁড়ি॥
চন্দ্রশেখর দাস এই মনে অভিলাষ                        
আর কি এমন দশা হব।
গোরা পারিষদ সঙ্গে সঙ্কীর্ত্তন রস রঙ্গে                    
আনন্দে দিবস গোঙাইব॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
মোহন যমুনা বনে বিনোদ রাখাল সনে
ভনিতা চন্দ্রশেখর
কবি চন্দ্রশেখর আচার্য্য
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠ
॥ যথারাগ॥

মোহন যমুনা বনে                     বিনোদ রাখাল সনে
মনোহর কানাই বলাই।
পাতিয়া বিনোদ খেলা                  রাখাল হইল ভোলা
দূর বনে গেল সব গাই॥
রাখালে রাখালে মেলি                 করে বাহু ঠেলাঠেলি
কেহু হারে কেহু জিনে তায়।
তাহা দেখি দুটি ভাই                    হাত ধরাধরি যাই
হারে জিনে দেখি সুখ পায়॥
বলরাম হাসি হাসি                       শয়ন করল আসি
সখা অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়া।
শ্রম যুত বলরাম                        দেখি নব ঘনশ্যাম
চরণ চাপয়ে মুখ চেয়া।
শ্রীচন্দ্রশেখর দাস                     সতত করয়ে আশ
আর কবে হেন দশা হব॥
শ্রীব্রজমণ্ডলে যাইয়া                  তাহে গড়াগড়ি দিয়া
রামকৃষ্ণের মুরলী শুনিব॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৯১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মোহন যমুনা বনে বিনোদ রাখাল সনে                
মনোহর কানাই বলাই।
পাতিয়া বিনোদ খেলা রাখাল হইল                    
ভোলা দূর বনে গেল সব গাই॥
রাখালে রাখালে মেলি করে বাহু ঠেলা-                
ঠেলি কেহু হারে কেহু জিনে তায়।
তাহা দেখি দুটি ভাই হাত ধরাধরি যাই              
হারে জিনে দেখি সুখ পায়॥
বলরাম হাসিহাসি শয়ন করল আসি                  
সখা অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়া।
শ্রম যুত বলরাম দেখি নব ঘনশ্যাম                   
চরণ চাপয়ে মুখ চেয়া।
শ্রীচন্দ্রশেখর দাস সতত করয়ে আশ                
আর কবে হেন দশা হব॥
শ্রীব্রজমণ্ডলে যাইয়া তাহে গড়াগড়ি দিয়া            
রামকৃষ্ণের মুরলী শুনিব॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর