অনির্দিষ্ট কবি চন্দ্রশেখরের বৈষ্ণব পদাবলী
*
আয়ল মধুপুরতে ব্রজমোহন
ভনিতা চন্দ্রশেখর
কবি চন্দ্রশেখর আচার্য্য
ভনিতা চন্দ্রশেখর
কবি চন্দ্রশেখর আচার্য্য / বৈষ্ণবদাস পরবর্তী শশিশেখরের ভ্রাতা চন্দ্রশেখর
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর
ভাবোল্লাস
॥ যথারাগ॥

আয়ল মধুপুরতে                        ব্রজমোহন
যোই কহব ইহ বাত।
অম্বর রতন                      ভূষণ সহ শুন পুন
তাহে করব পরসাদ॥
হরি হরি মঝু দুরদিন কি যাব।
সব ইন্দ্রিয়গণ                    তিরপিত হোয়ব
প্রিয়তম দরশন পাব॥
ব্রজপুর লোক                   শোক সব বিছুরব
শুনিতে সুধাময় বাত।
মৃত যেন জীবন                    পাই পুন ধায়ব
হেরব আনন্দ গাত॥
নন্দরাজ নিজ                    তনয় বদন হেরি
আনন্দ হোয়ব চিত।
আঁচরে অঙ্গ মুছি                    চাঁদ মুখ চুম্বব
গুণীজন গায়ব গীত॥
আরতি সাজি                      রাণী বাহিরায়ব
পুরজন ধায়ব সঙ্গে।
নির্ম্মঞ্ছন করি                     করে ধরি আনব
নিমজব রঙ্গ তরঙ্গে॥
দাম শ্রীদাম                        সুবল মধুমঙ্গল
সকল সখীগণ মেল।
শিঙ্গা বেণুবংশী                   মুরলী রব করব
করব পূরব সম কেল॥
ধেনুগণ উচ্চপুচ্ছ                   করি শিরোপর
হাম্বা রবে নিকখব মুখ।
খগ মৃগ শাখী                      লতাগণ উলসব
সবাকার মীটব দুখ॥
ললিতা আদি                   সকল সহচরী লই
বৈঠব প্রিয়তম সঙ্গ।
চন্দ্রশেখর কব                     ব্রজপুর পায়ব
হেরব দুহুঁ মুখ পুলকিত অঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৯১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আয়ল মধুপুরতে ব্রজমোহন                
যোই কহব ইহ বাত।
অম্বর রতন ভূষণ সহ শুন পুন              
তাহে করব পরসাদ॥
হরি হরি মঝু দুরদিন কি যাব।             
সব ইন্দ্রিয়গণ তিরপিত হোয়ব              
প্রিয়তম দরশন পাব॥
ব্রজপুর লোক শোক সব বিছুরব             
শুনিতে সুধাময় বাত।
মৃত যেন জীবন পাই পুন ধায়ব               
হেরব আনন্দ গাত॥
নন্দরাজ নিজ তনয় বদন হেরি               
আনন্দ হোয়ব চিত।
আঁচরে অঙ্গ মুছি চাঁদ মুখ চুম্বব               
গুণীজন গায়ব গীত॥
আরতি সাজি রাণী বাহিরায়ব                
পুরজন ধায়ব সঙ্গে।
নির্ম্মঞ্ছন করি করে ধরি আনব                
নিমজব রঙ্গ তরঙ্গে॥
দাম শ্রীদাম সুবল মধুমঙ্গল                     
সকল সখীগণ মেল।
শিঙ্গা বেণুবংশী মুরলী রব করব              
করব পূরব সম কেল॥
ধেনুগণ উচ্চপুচ্ছ করি শিরোপর              
হাম্বা রবে নিকখব মুখ।
খগ মৃগ শাখী লতাগণ উলসব                  
সবাকার মীটব দুখ॥
ললিতা আদি সকল সহচরী লই                
বৈঠব প্রিয়তম সঙ্গ।
চন্দ্রশেখর কব ব্রজপুর পায়ব                
হেরব দুহুঁ মুখ পুলকিত অঙ্গ॥

হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এই পদটি চন্দ্রশেখর আচার্যের
পদ বলে উল্লেখ করেছেন। দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে - “চন্দ্রশেখর আচার্য কোমল ও প্রাঞ্জল বাংলা
ভাষায় গৌরাঙ্গ বিষয়ক পদের রচয়িতা”। পদকল্পতরুতে প্রাপ্ত চন্দ্রশেখরের সবকটি পদই তাই।
ব্রজবুলিতে রচিত এই পদটি সেক্ষেত্রে বৈষ্ণবদাস পরবর্তী শশিশেখরের ভ্রাতা চন্দ্রশেখরের পদ হতেও
পারে। এই পদটি পদকল্পতরুতে নেই।
.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
হের দেখসিয়ে নয়ন ভরিয়ে
কবি চন্দ্রশেখর
এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মলীলা
শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ বেহাগমিশ্র কেদার - মধ্যম দশকুশী॥

হের দেখসিয়ে,                        নয়ন ভরিয়ে,
কি আর পুছসি আনে।
নদিয়া নগরে,                        শচীর মন্দিরে,
চাঁদের উদয় গিনে॥ @
সোণা শত বান,                        জিনিয়া বরণ,
অরুণ দীঘল আঁখি।
হেন লয় মনে,                          ওহেন রূপক,
সদাই দেখিতে থাকি॥
কিবা সে ভুরুর,                      ভাঙুর ভঙ্গিম,
নাসা তিলফুল জিনি।
রাতা উপপল,                            চরণ যুগল,
প্রভাতের দিনমণি॥
বুঝি শচী দেবী,                    কোন দেবে সেবি,
অনেক তপের ফলে।
মোহন মূরতি,                        অখিলের পতি,
করিল আপন কোলে॥
ভব বিধি যারে,                      সদা ধ্যান করে,
সে শিশু-মুরতি হইয়ে।
চন্দ্রশেখরে,                           কহয়ে কান্দিয়া,
শচীর চরণে শুয়ে॥

@ - লোচন দাসের একটি পদের আরম্ভে এই দুইটি কলি আছে। অন্য কলিগুলি স্বতন্ত্র।

চন্দ্রশেখর আচার্য্যের সব পদই বাংলা ভাষায় এবং গৌরাঙ্গ বিষয়ক। অপরদিকে বৈষ্ণবদাস পরবর্তী
চন্দ্রশেখরের পদ ব্রজবুলিতে এবং রাধাকষ্ণ বিষয়ক। এই পদটির প্রথম কলিটি কেবল ব্রজবুজি মিশ্রিত
ভাষায়। বাকি পদটি বাংলায় লেখা পদ এবং গৌর বিষয়ক। খগেন্দ্রনাথ মিত্র তাঁর গ্রন্থে এই পদটির
টীকায় লিখেছেন---"লোচন দাসের একটি পদের আরম্ভে এই দুইটি কলি আছে। অন্য কলিগুলি স্বতন্ত্র"।
তাঁর “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ডে চন্দ্রশেখরের পরিচয়-তে স্পষ্ট লিখেছেন যে বৈষ্ণবদাস পরবর্তী চন্দ্রশেখর
ছাড়া কার কেউ পদকর্তা ছিলেন না। প্রাপ্ত পদাবলীর বিষয় ও ভাষা, নির্দেশ করছে যে এটি চন্দ্রশেখর
আচার্য্যের পদ হতে পারে। প্রথম কলিটি লোকমুখে খানিকটা বদলে গেছে অথবা লোচন দাসের পদের
সঙ্গে মিলে গেছে। আবার, চন্দ্রশেখর আচার্য্য ছিলেন শ্রীচৈতন্যের পূর্বাশ্রমের মাসি-পতি। আমরা জানি না
যে চন্দ্রশেখর আচার্য্যের স্ত্রী শচীদেবীর অগ্রজা না অনুজা। যদি অগ্রজার পতি হয়ে থাকেন, শ্রীচৈতন্যের
ভক্ত হওয়া সত্বেও, তিনি কি ভণিতার কলিটি এভাবে লিখবেন?  যদি অনুজা অথবা চৈতন্য পরবর্তী
কোনও পদকর্তা হয়ে থাকেন তাহলে এই কলিটি আশা করা যায় . . .
চন্দ্রশেখরে,                কহয়ে কান্দিয়া,
শচীর চরণে শুয়ে॥
নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না বলে আমরা এটিকে অনিশ্চিত চন্দ্রশেখরের পদ বলে তোলা হলো।
---মিলন সেনগুপ্ত, মিলনসাগর॥


.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
ইয়াদিকির্ধ গুণসমুদ্র শত সাধু রাধা
কবি চন্দ্রশেখর
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার,
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি "শশিশেখর" ভণিতাতেও প্রাপ্ত হয়েছে।

ইয়াদিকির্ধ গুণসমুদ্র শত সাধু রাধা। সুদ্বারস্য সুচরিত্র পূরাহ মনের সাধা॥
তস্য খাতক হরি নায়ক বসতি ব্রজপুরী। কস্যজ করজপত্রমিদং লিখিলাম সুকুমারী॥
ঠামহি তব প্রেম দুল্লভ লইনু করজ করি। ইহার লভ্য পাইবে ভব্য প্রেম অখিল ভরি॥
একুনে তিন বাঞ্ছা করি পরিশোধ কলিযুগে। এহিক বারে করজ লইলাম ইসাদ মঞ্জরী ভাগে॥
ইতি সন দ্বাপর শেষ চন্দ্রশেখর লেখনি। করুণা করি রাধা পেআরী এই খত লিখিলাম আমি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৮৪৭-পৃষ্ঠায়
"চন্দ্রশেখর" ভণিতায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি "শশিশেখর" ভণিতাতেও রয়েছে।

ইয়াদিকির্দ্দ গুণসমুদ্র শত সাধু শ্রীরাধা।
সমুদারস্য চরিত তস্য পূরাহ মম সাধা॥
তস্য খাতক হরি নায়ক বসতি ব্রজপুরী।
কস্য কর্জ্জ পত্রমিদং লিখিনং সুকুমারী॥
ঠামহি তব প্রেম দুর্লভ লইনু কর্জ্জ করি।
ইহার লভ্য পাইবে দিব্য প্রেম অখিল ভরি॥
একুনে তিন বাঞ্ছা পূরণ পরিশোধ কলি যুগে।
ইহার সাক্ষী ললিতা সখী শত মঞ্জরী ভাগে॥
তারিখ তস্য দ্বাপরস্য শশিশেখরে লিখিলাম।
করুণা করহে রাধা প্যারী এই মত লিখি দিলাম॥


.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর