অষ্টাদশ শতকের কবি চন্দ্রশেখরের বৈষ্ণব পদাবলী
*
হরি হরি দারুণ জৈষ্ঠমাসে
হরি হরি দারুণ জৈঠহি মাসে
কবি চন্দ্রশেখর
এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

হরি হরি দারুণ জৈষ্ঠমাসে। মাঝ-
গগনে আসি, দিনপতি বৈঠল, দশ শত
কিরণ বিকাশে॥ ধূপক ভয়ে, সবজন ঘরে,
পৈঠল, দ্বারহি দেয়ল কপাট। চামর বীজন,
সবজন সেবই, পথিক না চলতহি বাট॥
ঐছন সময়ে, রাই অভিসারণ, কানু মিলন
প্রতি আশে। দেহ মরিজাদ, কিছুই না
রাখল, ছুটল হরি অভিলাষে॥ আগুণি
অধিক, বেণু পরচলইতে, সগধন পদ অর-
বিন্দ। চন্দ্রশেখর কহে, মিলল কলাবতী,
কুঞ্জে শ্যামরচন্দ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী” , ১০০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসারিকা
শ্রীরাধার দিবাভিসার
॥ বরাড়ী॥

হরি হরি দারুণ জৈঠহি মাসে।
মাঝ গগনে আসি              দিন-পতি বৈঠল
দশ দিশি কিরণ বিকাসে॥
ধূপক ভয়ে ঘরে                 সব জন বৈঠল
দ্বারহি দেওল কপাট।
চামর-বীজন                    সব জন সেবই
পথিক না চলতহি বাট॥
ঐছন সময়ে                   রাই অভিসারল
কানু-মিলন প্রতিআশে।
দেহ-মরিযাদ                  কিছুই না রাখল
ছুটল হরি-অভিলাষে॥
আগুনি-অধিক              রেনূ পর চলইতে
দগধল পদ-অরবিন্দ।
চন্দ্রশেখর কহে               মিলল কলাবতি
কুঞ্জে শ্যামরচন্দ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৮৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হরি হরি দারুণ জৈঠহি মাসে।                
মাঝ গগনে আসি দিন পতি বৈঠল             
দশ দিশি কিরণ বিকাসে॥
ধূপক ভয়ে ঘরে সব জন বৈঠল                
দ্বারহি দেওল কপাট।
চামর বীজন সব জন সেবই                   
পথিক না চলতহি বাট॥
ঐছন সময়ে রাই অভিসারল                   
কানু মিলন প্রতিআশে।
দেহ মরিযাদ কিছুই না রাখল                  
ছুটল হরি অভিলাষে॥
আগুনি অধিক রেনূ পর চলইতে             
দগধল পদ অরবিন্দ।
চন্দ্রশেখর কহে মিলল কলাবতি              
কুঞ্জে শ্যামরচন্দ॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
কামিনী নাহি হেরি যামিনী জাগল
কামিনি নাহি হরি যামিনি জাগল
ভণিতা শেখর চন্দ্র / শেখর চন্দ
কবি চন্দ্রশেখর
এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালিকা॥

কামিনী নাহি হেরি, যামিনী জাগল,
সঙ্কেত কাননে যায়ি। নিজগৃহে সুন্দরী,
রজনী উজাগরি, ভয়ে যাইতে নহি পায়ি॥
দেখ দেখ সই সবরি সুবিহানে। কুঞ্জটী
তিমিরে, বেড়ল ব্রজমণ্ডল, অনুকূল দৈব-
বিধানে॥ অলখিতে সুন্দরী, ছল করি
নিকশল, গুরুজন কোই ন জানে। দক্ষিণ
করে এক, শুতে জল ভাজন, চলতহি মাঘ
সিনানে॥ অচিরে কলাবতী, কুঞ্জহি মিলল,
নাগর নিরখি আনন্দ। অমিলন জনিত,
দুহুঁক দুখ দূরে গেল, উলসিত শেখর-
চন্দ্র॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কুজ্ঝটী অভিসার
॥ ভূপালিকা॥

কামিনী নাহি হরি             যামিনি জাগল
সঙ্কেত-কাননে যাই।
নিজ-গৃহে সুন্দরি             রজনি উজাগরি
ভয়ে যাইতে নহি পাই॥
দেখ দেখ সোই শর্ব্বরী বিহানে।
কুজ্ ঝটী তিমিরে           বেঢ়ল ব্রজ-মণ্ডল
অনুকূল দৈব-বিধানে॥ ধ্রু॥
অলখিতে সুন্দরি           ছল করি নিকসল
গুরু-জন কোই ন জানে।
দক্ষিণ-করে এক           শোভে জল-ভাজন
চলতহি মাঘ-সিনানে॥
অচিরে কলাবতি                কুঞ্জহি মিলল
নাগর নিরখি আনন্দ।
অমিলন-জনিত           দুহুঁক দুখ দূরে গেল
উলসিত শেখর চন্দ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৮৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কামিনী নাহি হরি যামিনি জাগল           
সঙ্কেত কাননে যাই।
নিজ গৃহে সুন্দরি রজনি উজাগরি          
ভয়ে যাইতে নহি পাই॥
দেখ দেখ সোই শর্ব্বরী বিহানে।            
কুজ্ ঝটী তিমিরে বেঢ়ল ব্রজ মণ্ডল        
অনুকূল দৈব বিধানে॥
অলখিতে সুন্দরি ছল করি নিকসল         
গুরু জন কোই ন জানে।
দক্ষিণ করে এক শোভে জল ভাজন        
চলতহি মাঘ সিনানে॥
অচিরে কলাবতি কুঞ্জহি মিলল             
নাগর নিরখি আনন্দ।
অমিলন জনিত দুহুঁক দুখ দূরে গেল        
উলসিত শেখর চন্দ॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
বিষম বিধুন্তুদ বদনে পড়ল বিধু
কবি চন্দ্রশেখর
এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল ধানশী॥

বিষম বিধুন্তুদ, বদনে পড়ল বিধু,
বুধগণ বোলত রাম। সবহু বর যজন,
দ্বিজগণে দেয়ত, রতন বসন অনুপম॥
দশদিশে উঠল, জয় জয় রোল, কোই
কোই গায়ত কোই বাজায়ত॥ নিকটে না
শুনিয়ে কোল॥ ঐছন সময়ে, একেশ্বরী
সাজল, হরিসঙ্গম সুখ সাধে। যৌবন দান,
শ্যামধনে দেয়ত, দূরে করি কুল-মরিজাদে॥
কুঞ্জ ভবনে, অনুরাগিণী পৈঠল, কানু সঞে
গলে গলে লাগ। চন্দ্রশেখরে ভণে মঝুমনে
এতিখণে, চান্দে লাগল উপরাগ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।।

চন্দ্রগ্রহণ সময়ে অভিসার
॥ মঙ্গল ধানশী॥

বিষম বিধুন্তুদ                 বদনে পড়ল বিধু
বধুগণ বোলত রাম।
সবহুঁ বরজ-জন                 দ্বিজগণে দেওত
রতন বসন অনুপাম॥
দশদিকে উঠল জয় জয় রোল।
কোই কোই গাওত             কোই বাজাওত
নিকটহি না শুনিয়ে বোল॥ ধ্রু॥
ঐছন সময়ে                    একেশ্বরি সাজল
হরি-সঙ্গম-সুখ সাধে।
যৌবন দান                    শ্যাম-ধনে দেওত
দূর করি কুল-মরিযাদে॥
কুঞ্জ-ভবনে অনু-                 রাগিণি পৈঠল
কানু সঞে গলে গলে লাগ।
চন্দ্রশেখরে ভণে            মঝু মনে এতি খণে
চাঁদে লাগল উপরাগ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৮৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিষম বিধুন্তুদ বদনে পড়ল বিধু           
বধুগণ বোলত রাম।
সবহুঁ বরজ জন দ্বিজগণে দেওত            
রতন বসন অনুপাম॥
দশদিকে উঠল জয় জয় রোল।            
কোই কোই গাওত কোই বাজাওত        
নিকটহি না শুনিয়ে বোল॥
ঐছন সময়ে একেশ্বরি সাজল                
হরি সঙ্গম সুখ সাধে।
যৌবন দান শ্যাম ধনে দেওত                
দূর করি কুল মরিযাদে॥
কুঞ্জ ভবনে অনু রাগিণি পৈঠল              
কানু সঞে গলে গলে লাগ।
চন্দ্রশেখরে ভণে মঝু মনে এতি খণে        
চাঁদে লাগল উপরাগ॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
বেণুর কাকুলী উন্মত্ত পাগলী
বেণু রবাকুলি উনমত পাগলি
কবি চন্দ্রশেখর
এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মাযূরী॥

বেণুর কাকুলী, উন্মত্ত পাগলী, গেহ
নিদেহনি তেজলিরে। হরি  অভিসারলি,
রভস বাড়ায়লি, লোভলিখোভলি সাজ-
লিরে॥ ফুলশরে ফুটলি, গজগতি ছুটলি,
শ্রমজলে প্রতিতনু তিতলিরে। সঙ্গিনি-
গণ মিলি, বহু পর বেশলি, শত শত সঙ্কট
জিতলিরে॥ ব্রজবিধু ভেটলি, গলে গলে
মিললি, জীবন বলিচলি মানিনীরে। হরি-
উরে শুতলি, মদন মতোয়ালি, পঞ্চম
শর হিয়ে হানলিরে॥ মঞ্জির মেখলি,
বিরসি বাজায়লি, না হনু বধমনু তোষ-
ণীরে। পুন উঠি বৈঠলি, নিধুবন পৈঠলি,
চন্দ্রশেখর রসে ভাসলিরে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০০৯ পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চন্দ্রগ্রহণ সময়ে অভিসার
॥ মাযূরী॥

বেণু-রবাকুলি                    উনমত পাগলি
গেহলি দেহলি তেজলি রে।
হরি  অভিসারলি               রভস বঢ়াওলি
লোভলি আউলি সাজলি রে॥
ফুল-শরে ফুটলী                গজ-গতি ছুটলী
শ্রম-জলে প্রতি-তনু তীতলি রে।
সঙ্গিনি-গণ মিলি                 বন পরবেশলি
শত শত সঙ্কট জীতলি রে॥
ব্রজ-পুরে ভেটলি              গলে গলে মীললি
জীবন বলি বলি মানলি রে।
হরি-উরে শূতলি                মদন মতায়লি
পঞ্চম-শর হিয়ে হানলি রে॥
মঞ্জির মেখলি                বিরমি বজাওলি
নাহ লুবধ মন তোষলি রে।
পুন উঠি বৈঠলি               নিধুবনে পৈঠলি
চন্দ্রশেখর রসে ভাসলি রে॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ১৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া হয়েছে।

বেণু রবাকুলি                    উনমত পাগলি
গেহলি দেহলি তেজলি রে।
হরি  অভিসারলি                রভস বাঢ়াওলি
লোভলি আউলি সাজলি রে॥
ফুলশরে ফুটলি                    গজগতি ছুটলি
শ্রমজলে প্রতিতনু তীতলি রে।
সঙ্গিনী-গণ মিলি                   বন পরবেশলি
শত শত সঙ্কট জিতলি রে॥
ব্রজপুরে ভেটলি                গলে গলে মিললি
জীবন বলি বলি মানলি রে।
হরি উরে শূতলি                  মদন মতায়লি
পঞ্চম-শর হিয়ে হানলি রে॥
মঞ্জীর মেখলি                   বিরমি বজাওলি
নাহ লুবধ মন তোষলি রে।
পুন উঠি বৈঠলি                  নিধুবনে পৈঠলি
চন্দ্রশেখর রসে ভাসলি রে॥

টীকা -
পদটি উন্মত্তাভিসারের বর্ণনা।

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৮৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বেণু রবাকুলি উনমত পাগলি                
গেহলি দেহলি তেজলি রে।
হরি অভিসারলি রভস বঢ়াওলি             
লোভলি আউলি সাজলি রে॥
ফুল শরে ফুটলী গজ গতি ছুটলী              
শ্রম জলে প্রতি তনু তীতলি রে।
সঙ্গিনি গণ মিলি বন পরবেশলি               
শত শত সঙ্কট জীতলি রে॥
ব্রজ পুরে ভেটলি গলে গলে মীললি            
জীবন বলি বলি মানলি রে।
হরি উরে শূতলি মদন মতায়লি                
পঞ্চম শর হিয়ে হানলি রে॥
মঞ্জির মেখলি বিরমি বজাওলি                
নাহ লুবধ মন তোষলি রে।
পুন উঠি বৈঠলি নিধুবনে পৈঠলি                
চন্দ্রশেখর রসে ভাসলি রে॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
সঙ্কেত কাননে যাই
কবি চন্দ্রশেখর
এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুভগা॥

সঙ্কেত-কাননে যাই। শেজ বিছায়ল
রাই॥ শ্যাম-মনোমোহন সাধা। বেশ
বনায়ত রাধা॥ চাঁচর চিকুর সঙারি।
বেণী বনায়ল গোরী॥ সিন্দুহি সিন্দুর
লেল। তিমিরে অরুণ উগি গেল॥
সুললিত ঊরুযুগ মাঝে। মৃগমদ পত্র
বিরাজে॥ অঞ্জনে নয়নে উজেল। শ্রুতি
মণিকুণ্ডল দোল॥ নানা শিখরে সুভাতি।
কলয়া ঘটিত গজমোতি॥ চিবুকহি মৃগমদ
বিন্দু। ঝলমল আনন ইন্দু॥ বৈঠলি
কুঞ্জ আবাসে। জগমন মোহন বেশে।
চন্দ্রশেখর অনুমান। আজু ত মোহ
বিকান॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৪৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সঙ্কেত-কাননে যাই।
শেজ বিছায়ল রাই॥
শ্যাম-মন-মোহনী সাধা।
বেশ বনায়ত রাধা॥
চাঁচর চিকুর সঙারি।
বেণী বনায়ল গোরী॥
সীথঁহি সিন্দূর লেল।
তিমিরে অরুণ উগি গেল॥
সুললিত উরুযুগ মাঝে।
মৃগমদ-পত্র বিরাজে॥
অঞ্জনে নয়ন উজোর।
শ্রুতি-মণিকুণ্ডল দোল॥
নাসাশিখরে সুভাতি।
কনয়া ঘটিত গজমোতি॥
চিবুকহি মৃগমদ বিন্দু।
ঝলমল আনন-ইন্দু॥
বৈঠলি কুঞ্জ আবাসে।
জগ-মন মোহন বেশে॥
চন্দ্রশেখর অনুমান।
আজু তোঁহে মোহবি কান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চন্দ্রগ্রহণ সময়ে অভিসার

॥ সুভগা॥

সঙ্কেত-কাননে যাই।
শেজ বিছায়ল রাই॥
শ্যাম-মন-মোহন-সাধা।
বেশ বনায়ত রাধা॥ ধ্রু॥
চাঁচর চিকুর সঙারি।
বেণি বনায়ল গোরি॥
সীথঁহি সিন্দুর দেল।
তিমিরে অরুণ উগি গেল॥
সুললিত কুচ-যুগ মাঝে।
মৃগমদ-পত্র বিরাজে॥
অঞ্জনে নয়ন উজোর।
শ্রুতি মণি-কুণ্ডল দোল॥
নাসা-শিখরে সুভাতি।
কনয়া-ঘটিত গজ-মোতি॥
চিবুকহি মৃগমদ-বিন্দু।
ঝলমল আনন-ইন্দু॥
জগ-মন-মোহিনি বেশে।
বৈঠলি কুঞ্জ-আবাসে॥
চন্দ্রশেখর অনুমান।
আজু ত মোহরি কান॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৮৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সঙ্কেত কাননে যাই।
শেজ বিছায়ল রাই॥
শ্যাম মন মোহন সাধা।
বেশ বনায়ত রাধা॥
চাঁচর চিকুর সঙারি।
বেণি বনায়ল গোরি॥
সীথঁহি সিন্দুর দেল।
তিমিরে অরুণ উগি গেল॥
সুললিত কুচ যুগ মাঝে।
মৃগমদ পত্র বিরাজে॥
অঞ্জনে নয়ন উজোর।
শ্রুতি মণি কুণ্ডল দোল॥
নাসা শিখরে সুভাতি।
কনয়া ঘটিত গজ মোতি॥
চিবুকহি মৃগমদ বিন্দু।
ঝলমল আনন ইন্দু॥
জগ মন মোহিনি বেশে।
বৈঠলি কুঞ্জ আবাসে॥
চন্দ্রশেখর অনুমান।
আজু ত মোহরি কান॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
সঙ্কেত কাননে শেজ বিছাইয়া
ভণিতা শেখর চন্দ্রমা
কবি চন্দ্রশেখর
এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাজ-বিজয়।

সঙ্কেত কাননে, শেজ বিছাইয়া, কিসের
লাগিয়া কান্দ। আমার বচন, শুনি
একক্ষণ, হৃদয়ে ধৈরয বান্ধ॥ রাধে কর-
জোড় করি। বিকলা হইলে কি হয়ে
কিঞ্চিৎ সময় রহিবে ধীরে॥ আসিবার
কাল হইল আসিয়া এখনি আসিব কানু।
শ্রবণ পাতিয়া বসিয়া থাকহ এখনি শুনিবা
বেণু॥ সুমঙ্গল কাজে কাকুল উচিত এ
বুদ্ধি সেখি কথা। শেখর চন্দ্রমা কহে
কর ক্ষমা বদন হইল রাতী॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
৪৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাজ-বিজয়

সঙ্কেত-কাননে                  শেজ বিছাইয়া
কিসের লাগিয়া কান্দ।
আমার বচন                    শুনি এক ক্ষণ
হৃদয়ে ধৈরজ বান্ধ॥
রাধে কর জোড় করি।
বিকলা হইলে               কি হয়ে, কিঞ্চিৎ
সময় রহিবে ধীরে॥
আসিবার কাল                 হইল আসিয়া
এখনি আসিব কানু।
শ্রবণ পাতিয়া                  বসিয়া থাকহ
এখনি শুনিবা বেণু॥
সুমঙ্গল কাজে                  কাকুল উচিত
এ বুঝি সে কি কথা।
শেখর চন্দ্রমা                 কহে কর ক্ষমা
বদন হইল রাতা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।।

রাজ-বিজয়
॥ তথারাগ॥

সঙ্কেত-কাননে                  শেজ বিছাইয়া
কিসের লাগিয়া কান্দ।
আমার বচন                    শুনি এক ক্ষণ
হৃদয়ে ধৈরজ বান্ধ॥
রাধে কর-যোড় করি তোরে
বিকলা হইলে                 কি হয় কিঞ্চিৎ
সময় রহিবে ধীরে॥ ধ্রু॥
আসিবার কাল                 হইল আসিঞা
এখনি আসিবে কানু।
শ্রবণ পাতিঞা                বসিঞা থাকহ
এখনি শুনিবে বেণু॥
সুমঙ্গল-কাজে                কাকু না উচিত
এ বুদ্ধি শিখিলি কোথা।
শেখর চন্দ্রমা                কহে কর ক্ষেমা
বদন হইল রাতা॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৮৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সঙ্কেত কাননে শেজ বিছাইয়া             
কিসের লাগিয়া কান্দ।
আমার বচন শুনি এক ক্ষণ                
হৃদয়ে ধৈরজ বান্ধ॥
রাধে করযোড় করি তোরে                
বিকলা হইলে কি হয় কিঞ্চিৎ              
সময় রহিবে ধীরে॥
আসিবার কাল হইল আসিঞা              
এখনি আসিবে কানু।
শ্রবণ পাতিঞা বসিঞা থাকহ               
এখনি শুনিবে বেণু॥
সুমঙ্গল কাজে কাকু না উচিত               
এ বুদ্ধি শিখিলে কোথা।
শেখর চন্দ্রমা কহে কর ক্ষেমা               
বদন হইল রাতা॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
সঙ্কেত কুঞ্জে আয়ব যব মোহন
কবি চন্দ্রশেখর
এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

সঙ্কেত কুঞ্জে আয়ব যব মোহন, হাসি
হাম যায়ব দূরে। বিদগধনাথ বসনে ধরি
আনব, পীরিতি বিজয় ব্যবহারে॥ সখী
হে কথিত সময় উপনীত। কিসে বুঝি
মাধব, পথে চলি @য়ত, যতনেহ রাখিত
চিত॥ বাম বাহু মূহ ঘন ঘন কন্দই।
সব ধরি তলপ বিছাই॥ করলে তাম্বুল
পিয়ত পুন পুন, বেরি বেরি বদনে উঠাই।
বুঝনু ব্রজপতি-নন্দন সঙ্গে হাম॥ রজনী
গোঁয়াইব সুখে। চন্দ্রশেখর কহে শ্যাম-
রতন মণি হার ধরবি তঁহু বুকে॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।।

রাজ-বিজয়
॥ কামোদ॥

সঙ্কেত-কুঞ্জে আয়ব যব মোহন
.        হসি হম যায়ব দূরে।
বিদগধ নাহ বসনে ধরি আনব
.        পিরীতি-বিনয়-বেবহারে॥
.       সখি হে কথিত সময় উপনীত।
কী বুঝি মাধব পথে চলি পায়ত
.        অতএ সে হরখিত-চীত॥ ধ্রু॥
বাম বাহু মঝু ঘন-ঘন স্পন্দই
.        যবধরি তলপ বিছাই।
কর সঞে তাম্বুল গীরত পুন-পুন
.        বেরি বেরি বদনে উঠাই॥
বূঝলুঁ ব্রজ-পতি-নন্দন সঞে হম
.        রজনি গোঙায়ব সূখে।
চন্দ্রশেখর কহে শ্যাম-রতন-মণি-
.        হার ধরবি তুহুঁ বুকে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৮৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সঙ্কেত কুঞ্জে আয়ব যব মোহন
.        হসি হম যায়ব দূরে।
বিদগধ নাহ বসনে ধরি আনব
.        পিরীতি বিনয় বেবহারে॥
সখি হে কথিত সময় উপনীত।
কী বুঝি মাধব পথে চলি পায়ত
.        অতএ সে হরখিত চীত॥
বাম বাহু মঝু ঘন ঘন স্পন্দই
.        যবধরি তলপ বিছাই।
কর সঞে তাম্বুল গীরত পুন-পুন
.        বেরি বেরি বদনে উঠাই॥
বূঝলুঁ ব্রজপতি নন্দন সঞে হম
.        রজনি গোঙায়ব সুখে।
চন্দ্রশেখর কহে শ্যাম রতন মণি
.        হার ধরবি তুহুঁ বুকে॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
সুন্দরি সুত হওই ইহ শয়নে
সুন্দরি শূতহ তুহুঁ ইহ শয়নে
কবি চন্দ্রশেখর
এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদা॥

সুন্দরি সুত হওই ইহ শয়নে। হরি
আয়ল বোধ, কপট ঘুম করি, মুদি রহবি
দুনয়নে॥ নিকটে আই যব, সো তোহে
ডাকব, কি করলি সুবদনা বলিয়া। হাম
সব বোলব, রাই ঘুমায়ল, আজি মানত
যাহ চলিয়া॥ তবহুঁ চতুর বর, সেজহি
বৈঠব, নিরখিব তুয়া তনু শোভা। তব
তুহুঁ নিশসি, পসারবি পদযুগ, সোই কর
যে জনু সেবা॥ সখীগণ বোলে, বিহমি
মুখ ঝাঁপল, অন্তরে উপজিল লাজ। চন্দ্র
শেখর কহে, অম্বরে উজল, ঐছন বেরি
দ্বিজরাজ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।।

রাজ-বিজয়
॥ মঙ্গল॥

সুন্দরি শূতহ তুহুঁ শয়নে।
হরি আয়ব বেরি            কপট ঘুম করি
মূদি রহবি দুহুঁ নয়নে ॥ ধ্রু॥
নিকটে আই যব           সো তোহে ডাকব
কি করসি সুবদনি বলিয়া।
হম সব বোলব                  রাই ঘুমায়ল
আজি অনত যাহ চলিয়া॥
তবহুঁ চতুর-বর                 শেজহি বৈঠব
নিরখব তুয় তনু-শোভা।
তবহি নিশসি তুহুঁ          পসারবি পাদ যুগ
সোই করয়ে জনু সেবা॥
সখি-গণ বোলে             বিহসি মুখ ঝাঁপল
অন্তরে উপজল লাজ।
চন্দ্রশেখর কহে                  অম্বর ঊয়ল
ঐছন বেরি দ্বিজ-রাজ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৮৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সুন্দরি শূতহ তুহুঁ শয়নে।                
হরি আয়ব বেরি কপট ঘুম করি         
মূদি রহবি দুহুঁ নয়নে ॥
নিকটে আই যব সো তোহে ডাকব        
কি করসি সুবদনি বলিয়া।
হম সব বোলব রাই ঘুমায়ল                
আজি অনত যাহ চলিয়া॥
তবহুঁ চতুর বর শেজহি বৈঠব              
নিরখব তুয় তনু শোভা।
তবহি নিশসি তুহুঁ পসারবি পাদ যুগ       
সোই করয়ে জনু সেবা॥
সখি গণ বোলে বিহসি মুখ ঝাঁপল          
অন্তরে উপজল লাজ।
চন্দ্রশেখর কহে অম্বর ঊয়ল                
ঐছন বেরি দ্বিজ রাজ॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
কুসুমিত-কাননে শেজ বিছায়ি
কবি চন্দ্রশেখর
এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুভগা॥

কুসুমিত কাননে শেজ বিছায়ি। নিজ
তনুছা হেরি নিরখিত রাই॥ নাগর
ভরমে আদর বহু করই। না দেখিয়া
চকিত নয়নে পুন রহই॥ ক্ষণে ক্ষণে
ভূষণ পরে পুন ত্যজে। ক্ষণে ক্ষণে বৈঠি
বিছায়ত শেষে॥ চন্দ্রশেখর কহে প্রেম
কি রীত। অদরশে দরশ রত পরতীত॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-
গীতাঞ্জলি”, ৪৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুভগা॥

কুসুমিত কাননে শেজ বিছায়ই।
নিজ তনু-ছা হেরি নিরখই রাই॥
নাগর ভরমে আদর বহু করই।
না দেখিয়া চকিত নয়ানে পুন রহই॥
খেনে খেনে ভূষণ পরে পুন তেজে।
খেনে খেনে বৈঠি বিছায়ত শেজে॥
চন্দ্রশেখর কহে প্রেমক রীত।
অদরশে দরশ-রস পরতীত॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাজ-বিজয়
॥ সুভগা॥

কুসুমিত-কাননে শেজ বিছাই।
নিজ-তনু ছায়রি নিরখিতে রাই॥
নাগর-ভরমে আদর বহু করই।
না দেখি চকিত-নয়নে পুন রহই॥
খেনে খেনে ভূষণ পরে পুন তেজ।
খেনে খেনে বৈঠি বিছায়ত শেজ॥
চন্দ্রশেখর কহে প্রেমক রীত।
অদরশে দরশ করত পরতীত॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৮৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কুসুমিত কাননে শেজ বিছাই।
নিজ তনু ছায়রি নিরখিতে রাই॥
নাগর ভরমে আদর বহু করই।
না দেখি চকিত নয়নে পুন রহই॥
খেনে খেনে ভূষণ পরে পুন তেজ।
খেনে খেনে বৈঠি বিছায়ত শেজ॥
চন্দ্রশেখর কহে প্রেমক রীত।
অদরশে দরশ করত পরতীত॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
সদন তেজিয়া আমি বিপিনে আইনু
সদন তেজিয়া আমি বিপিনে আইলুঁ গো
কবি চন্দ্রশেখর
এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ড, ৩৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বাহিড়া॥

সদন তেজিয়া আমি, বিপিনে আইনু
যার সঙ্গমসুখ লাগিয়া। তাহার বিলম্বে
প্রাণ না জানি কি করে গেল কহ রব
রজনী জাগিয়া॥ সখী হে বিহি মোরে
দুরমতি দিল। খলের বচনে মোর এত দূর
হলো গেল, পথ নিরখিতে প্রাণ শেল॥
আসিবার কাল তার, অতীত হইয়া গেল,
গগনে উদয় ভেল শশী। তাহার চরিতে
চিতে, বড় ভয় লাগে গো, পাছে মোর
হয় লোক হাসি। আসিতে আসিতে
কোন, অসুর সহিতে গো, পথে কিবা
হলো দরশন। চন্দ্রশেখর কহে, কোমল
শরীরে গো, কেমনে করিব মহারণ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।।

উত্কন্ঠিতা
॥ পাহিড়া॥

সদন তেজিয়া আমি             বিপিনে আইলুঁ গো
যার সঙ্গ-সুখের লাগিয়া।
তাহার বিলম্বে প্রাণ           না জানি কি করে গো
কত রব রজনী জাগিয়া॥
সখি হে বিহি মোরে দুরমতি দেল।
খলের বচনে মোর                 এতদূর হৈল গো
পথ নিরখিতে প্রাণ গেল ॥ ধ্রু॥
আসিবার কাল তার               অতীত হইল গো
গগনে উদয় ভেল শশী।
তাহার চরিতে রীতে              বড় ভয় লাগে গো
পাছে মোর হয় লোক-হাসি॥
আসিতে আসিতে কোন            অসুর সহিত গো
পথে কিবা হৈল দরশন।
চন্দ্রশেখর কহে                   কোমল-শরীরে গো
কেমনে করিবে মহা-রণ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৮৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সদন তেজিয়া আমি বিপিনে আইলুঁ গো                   
যার সঙ্গ সুখের লাগিয়া।
তাহার বিলম্বে প্রাণ না জানি কি করে গো                
কত রব রজনী জাগিয়া॥
সখি হে বিহি মোরে দুরমতি দেল।                        
খলের বচনে মোর এতদূর হৈল গো                        
পথ নিরখিতে প্রাণ গেল॥
আসিবার কাল তার অতীত হইল গো                     
গগনে উদয় ভেল শশী।
তাহার চরিতে রীতে বড় ভয় লাগে গো                   
পাছে মোর হয় লোক হাসি॥
আসিতে আসিতে কোন অসুর সহিত গো                
পথে কিবা হৈল দরশন।
চন্দ্রশেখর কহে কোমল শরীরে গো                        
কেমনে করিবে মহা রণ॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর