| অষ্টাদশ শতকের কবি চন্দ্রশেখরের বৈষ্ণব পদাবলী |
| কাহে তুহুঁ কলহ করি কান্ত সুখ তেজলি কবি চন্দ্রশেখর এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি নিমানন্দ দাসের “পদরসসার” গ্রন্থের পদ। শ্রীরাধার প্রতি সখীর উক্তি ॥ তিরোথা ধানশী॥ কাহে তুহুঁ কলহ করি কান্ত-সুখ তেজলি অবশি বসি রোয়সি কি রাধে। মেরু-সম মান করি উলটি ফিরি বৈঠলি নাহ যব চরণ ধরি সাধে॥ তবহু উহে নাগরি ভতসন করি তেজলি মান বহু রতন করি গণলা। অবহুঁ তুহুঁ ধরম-পথ কাহিনি উগারসি রোখে হরি বিমুখ ভই চললা॥ কাতরে তুয় চরণ-যুগ বেড়ি ভুজ-পল্লবে নাহ নিজ-শপতি বহু দেল। নিপট কুটি-নাটি কটু- কঠিনি বজরা-বুকি কৈছে জিউ ধরলি কর ঠেল॥ অবহিঁ সব সহিনি তব নিকট নহি বৈঠব হেন অবিচার যদি করলি। চন্দ্রশেখর কহয়ে এ ধনি অবোধিনি পিরিতি হেন কাহে তুহুঁ তেজলি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অথ কলহান্তরিতা শ্রীরাধার প্রতি সখীর উক্তি ॥ তিরোথা ধানশী॥ কাহে তুহুঁ কলহ করি কান্ত সুখ তেজলি অবশি বসি রোয়সি কি রাধে। মেরু-সম মান করি উলটি ফিরি বৈঠলি নাহ যব চরণ ধরি সাধে॥ তবহুঁ উহে নাগরি ভর্তসন করি তেজলি মান বহু রতন করি গণলা। অবহুঁ তুহুঁ ধরম-পথ- কাহিনি উগারসি রোখে হরি বিমুখ ভই চললা॥ কাতরে তুয় চরণ-যুগ বেড়ি ভুজ-পল্লবে নাহ নিজ-শপতি বহু দেল। নিপট কুটি-নাটি কট্ কঠিনি বজরা-বুকি কৈছে জিউ ধরলি কর ঠেল॥ অবহিঁ সব সহিনি তব নিকট নহি বৈঠব করলি যদি এ হেন অবিচার। চন্দ্রশেখরে কহে এ ধনি তুহুঁ অবোধিনি করব অব কোন পরকার॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ২৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কলহান্তরিতা ॥ সুহিনী - ঝাঁপতাল॥ কাহে তুহুঁ কলহ করি কান্ত সুখ তেজলি অবসি বসি রোয়সি কাহে রাধে। মেরুসম মান করি উলটি যব বৈঠলি নাহ তব চরণ ধরি সাধে॥ তবহুঁ উহে গারি ভর্ৎসনা করি তেজলি মান বহু রতন করি গণলা। অবহুঁ ধরম পথ কাহিনী উগারহ রোখে হরি বিমুখ ভই চললা॥ কাতরে তুয়া চরণযুগ বেঢ়ি ভুজ-পল্লবে নাহ নিজ শপতি বহু দেল। নিপট কটুনাদি কোটি কঠিনি বজরাবুকি কৈছে কর চরণপর ঠেল॥ অবহিঁ সব সহিনী তব নিকটে নাহি বৈঠব হেনই অবিচার যদি করলি। চন্দ্রশেখর কহে কতয়ে সমঝায়লু মঝু বচন উপেখি প্রেম ভাঙ্গলি॥ এই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেনের “বৈষ্ণব পদাবলী” গ্রন্থের ৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেই গ্রন্থের ৪১-পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন যে এই পদটিকে কেউ কেউ অষ্টাদশ শতকের পদকর্তা শশিশেখরের ভাই বলে মনে করেন। আরও বলেছেন যে সমার্থক হওয়ার জন্য হয়তো দুটি নামই এক ব্যক্তির। কাহে তুহুঁ কলহ করি কান্ত-সুখ তেজলি অবশি সে রোয়সি কি রাধে। মেরু-সম মান করি উলটি ফিরি বৈঠলি নাহ তব চরণ ধরি সাধে॥ তবহুঁ তারে গারি ভর্ৎসন করি তেজলি মান বহু রতন করি গণলা। অবহুঁ ধরমপথ- কাহিনী উগারই রোখে হরি-বিমুখ ভই চললা॥ কাতরে তুয়া চরণযুগ বেঢ়ি ভুজপল্লবে নাহ নিজ-শপতি বহু দেল। নিপট কুটিনাটি-কটু কঠিনী বজরাবুকী কৈছে জিউ ধরলি কর ঠেল॥ অবহিঁ সব সখিনী তব নিকটে নাহি বৈঠব হেনই অবিচার যদি করলি। চন্দ্রশেখর কহে কতয়ে সমুঝায়ল পিরীতি হেন কাহে তুহুঁ তেজলি॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী” গ্রন্থের ২২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কীর্তনগীতরত্নাবলীর পদ। কাহে তুহু কলহ করি কান্ত সুখ তেজলি অব সে বসি রোঅসি কাহে রাধে। মেরুসম মান করি উলটি যব বৈঠলি নাহ তব চরণ ধরি সাধে॥ তবহু তারে গারি ভর্ৎসন করি তেজলি মান বহু রতন করি গণলা। অবহুঁ ধরম পথ কাহিনী উগারই রোখে হরি বিমুখ ভই চললা॥ কাতরে তুয়া চরণযুগ বেঢ়ি ভুজপল্লবে নাহ নিজ শপতি বহু দেল। নিপট কটিনাটি কোটি- কঠিনী বজরাবুকী কৈছে কর চরণপর ঠেল॥ অবহুঁ সব সখিনী তব নিকটে নাহি বৈঠব হেনই অবিচার যদি করলি। চন্দ্রশেখর কহে কতয়ে সমুঝায়েল মঝু বচন উপেখি প্রেম ভাঙ্গলি॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৮৬৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কাহে তুহুঁ কলহ করি কান্ত সুখ তেজলি অবশি বসি রোয়সি কি রাধে। মেরুসম মান করি উলটি ফিরি বৈঠলি নাহ যব চরণ ধরি সাধে॥ তবহুঁ উহে নাগরি ভর্তসন করি তেজলি মান বহু রতন করি গণলা। অবহুঁ তুহুঁ ধরম পথ কাহিনি উগারসি রোখে হরি বিমুখ ভই চললা॥ কাতরে তুয় চরণযুগ বেড়ি ভুজ পল্লবে নাহ নিজ শপতি বহু দেল। নিপট কুটিনাটি কট্ কঠিনি বজরা বুকি কৈছে জিউ ধরলি কর ঠেল॥ অবহিঁ সব সহিনি তব নিকট নহি বৈঠব করিলি যদি এ হেন অবিচার। চন্দ্রশেখরে কহে এধনি তুহুঁ অবোধিনি করব অব কোন পরকার॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| পায়ে পড়ল হরি পায়ে পড়ল হরি কবি চন্দ্রশেখর এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শঙ্করাভরণ॥ পায় পড়ল হরি, পায় পড়ল হরি, পায় পড়ল হরি তোর। সভে মিলি ঐছন, বোলসি পুন পুন, কোই না বুঝল দুখ মোর॥ দুখ কাহে কহব হাম মাই। পায় পড়ল বলি, কিয়ে হাম তৈখনে, অম্বরে উঠায়ব বাই॥ আন রমণী রতি চিহ্নাবে কত তনু, সবহুঁ দেখলি পরতেক। কহ দেখি মনহি, বিচারি সবহুঁ মিলি, কৈছেন হোয়ত বিবেক॥ নিতি নিতি তাকর, পর ঘর যায়ল, কত চিতে দেয়ব ক্ষেমা। চন্দ্রশেখর কহে, কাহে তুহুঁ রোখসি, পরিহর তা সোঙা প্রেমা॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অথ কলহান্তরিতা শ্রীরাধার উক্তি ॥ শঙ্করাভরণ॥ পায়ে পড়ল হরি পায়ে পড়ল হরি পায়ে পড়ল হরি তোর। সবে মিলি ঐছন বোলসি পুন পুন কোই না বুঝিলি দুখ মোর॥ কাহে কহব দুখ মাই। পায়ে পড়ল বলি কিয়ে হাম তৈখনে অম্বরে উঠব বাই॥ ধ্রু॥ আন-রমণি-রতি চিহ্ন বেকত তনু সবহুঁ দেখলি পরতেখ। কহ দেখি মনহিঁ বিচারি সবহু মিলি কৈছন হোয়ত বিবেক॥ নিতি নিতি তাকর পর-ঘর যাওন কত চিতে দেয়ব ক্ষেম। চন্দ্রশেখর কহে কাহে তুহুঁ রোখসি পরিহর তা সঞে প্রেম॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৮৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পায়ে পড়ল হরি পায়ে পড়ল হরি পায়ে পড়ল হরি তোর। সবে মিলি ঐছন বোলসি পুন পুন কোই না বুঝিলি দুখ মোর॥ কাহে কহব দুখ মাই। পায়ে পড়ল বলি কিয়ে হাম তৈখনে অম্বরে উঠব বাই॥ আন রমণি রতি চিহ্ন বেকত তনু সবহুঁ দেখলি পরতেখ। কহ দেখি মনহিঁ বিচারি সবহু মিলি কৈছন হোয়ত বিবেক॥ নিতি নিতি তাকর পর ঘর যাওন কত চিতে দেয়ব ক্ষেম। চন্দ্রশেখর কহে কাহে তুহুঁ রোখসি পরিহর তা সঞে প্রেম॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| তে নহিক দোষ এতহি সখী মিলিয়ে তিনুহিঁক দোষ এতহি সখি মানিয়ে কবি চন্দ্রশেখর এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী॥ তে নহিক দোষ, এতহি সখী মিলিয়ে, সঙ্কেত করিলা নাহি আয়ে। হামহিক দোষ, মান করি তা সো, অবহু বহুত পঠ তায়ে॥ সখী কালক দোষ বাখানি। আজি শনৈশ্চর, ঘরি দুই প্রাতর, সময় অভদ্রক জানি॥ হরিষে যোই যুবতী, নিশি বঞ্চল, তা কর এহি পুন দোষ। আপন দাগে দাগি, তাহে ভেজল, তে মুঝ বাঢ়ল রোষ॥ এহি চারি দোষে, উপেখনু মাধব, অন্তরে করি অনুমান। চন্দ্রশেখর কহে, কৈছন করি তুহু, মুদি রহল দুনয়ন॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অথ কলহান্তরিতা শ্রীরাধার উক্তি ॥ পঠমঞ্জরী॥ তিনুহিঁক দোষ এতহি সখি মানিয়ে সঙ্কেত করি নহি আয়ে। হাম হিঁক দোষ মান করি তা সঞে অবহুঁ বহুত পচতায়ে॥ সখী কালক দোষ রাখনি। আজি শনিশ্চর ঘড়ি দুই প্রাতর সময় অভদ্রক জানি॥ ধ্রু॥ হরিষে যোই যুবতি নিশি বঞ্চল তাকর এহি পুন দোষ। আপন দাগে দাগি তাহে ভেজল তে মঝু বাঢ়ল রোষ॥ এহি চারি দোষে উপেখলুঁ মাধব অন্তরে করি অনুমান। চন্দ্রশেখর কহে ঐছন করি তুহুঁ মুন্দি রহলি দু-নয়ান॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৮৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তিনুহিঁক দোষ এতহি সখি মানিয়ে সঙ্কেত করি নহি আয়ে। হাম হিঁক দোষ মান করি তা সঞে অবহুঁ বহুত পচতায়ে॥ সখী কালক দোষ রাখনি। আজি শনিশ্চর ঘড়ি দুই প্রাতর সময় অভদ্রক জানি॥ হরিষে যোই যুবতি নিশি বঞ্চল তাকর এহি পুন দোষ। আপন দাগে দাগি তাহে ভেজল তে মঝু বাঢ়ল রোষ॥ এহি চারি দোষে উপেখলুঁ মাধব অন্তরে করি অনুমান। চন্দ্রশেখর কহে ঐছন করি তুহুঁ মুন্দি রহলি দু নয়ান॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| স্বর্ণ বর্ণ বিবর্ণ ভৈ গেল স্বর্ণ বর্ণ বিবর্ণ ভৈ গেও (তোমার) স্বর্ণ বর্ণ বিবর্ণ ভৈগেল কবি চন্দ্রশেখর এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। খগেন্দ্রনাখ মিত্র তাঁর ও নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসীর সহ সম্পাদিত “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ডে এই পদটি বৈষ্ণবদাস পরবর্তী কবি চন্দ্রশেখরের রচনা বলেছেন। ॥ ঝিঝিট॥ স্বর্ণ বর্ণ বিবর্ণ ভৈগেও পূর্ণ বিধুমুখী তূর্ণ নিরস লরে। নয়ন পঙ্কজ নোরে ভিগেল হিয়কা অম্বররে॥ মান ভেল তুয়া প্রাণ গ্রাহক নহিলে উপেক্ষসী নায়ক যো ভেল সোভেল অবহু অবধিনি অপনা সম্বররে॥ যতহু মন মাহা কোপ উপজতো ততহি কোপ করিতে সমোচিত। পায়ে পরিণত যোজন হোণত তাহেকি তেজিয়েরে॥ হিতও কহিতে অহিত মানসি সুহৃদ গণে তুহু বৈরি জানসি অতয়ে দেখি শুনি নিরবে রহি নাহি উত্তর দিয়ে রে॥ যাবিনু শত তিলেক হোয়ত সো তোয়ে মিনতি কয়ল কত২ কওল কর জোর গলহি অম্বর ধরণী লুটালরে॥ ঐছে হট পুনঃ পালটি বৈঠলি কান্ত বদন নিতান্ত না হেরলিরে। চন্দ্রশেখর ভণয়ে ভামিনী পিরীতি ভাঙ্গলীরে॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা গ্রন্থের, ৩৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ঝিঝিট॥ স্বর্ণ বর্ণ বিবর্ণ ভৈ গেও পূর্ণ বিধুমুখি তূর্ণ নিরসল রে। নয়ন পঙ্কজ লোরে ভিগল হিয়াকা অম্বর রে॥ মান ভেল তুয়া প্রাণ গ্রাহক নহিলে উপেক্ষসি নায়ক রে। যো ভেল সো ভেল অবহু অবোধিনি আপনা সম্বর রে॥ যতহু মন মাহা কোপ উপজত ততহি কোপ করিতে অনুচিত রে। পায়ে পরিণত যো জান হোয়ত তাহে কি তেজিয়ে রে। হিত কহইতে অহিত মানসি সুহৃদগণে তুহু বৈরি জানসি রে॥ অতয়ে দেখি শুনি নীরবে রহি পুনঃ নাহি উত্তর দিয়ে রে॥ যা বিনু শত তিলেক হোয়ত সো তোয়ে মিনতি কয়ল কত কত রে। কহি করজোড়ি গলহি অম্বর ধরণী লুটায়ল রে॥ ঐছে হট পুনঃ উলটি বৈঠলি কান্ত বদন নিতান্ত না হেরলি রে। চন্দ্রশেখর ভণয়ে ভামিনি পিরীতি ভাঙ্গলি রে॥ এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি নিমানন্দ দাসের “পদরসসার” গ্রন্থের পদ। খগেন্দ্রনাখ মিত্র তাঁর ও নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসীর সহ সম্পাদিত “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ডে এই পদটি বৈষ্ণবদাস পরবর্তী কবি চন্দ্রশেখরের রচনা বলেছেন। শ্রীরাধার প্রতি সখীর উক্তি ॥ ললিত॥ স্বর্ণ-বর্ণ বি- বর্ণ ভৈ গেল পূর্ণ বিধু-মুখ তূর্ণ নিরসল নয়ন-পঙ্কজ নিরহী ভীগল হিয়ক অম্বর রে। মান ভেল তুয় প্রাণ-গাহক নৈলে উপেখসি রসিক-নায়ক যে ভেল সে ভেল অবহুঁ অবুধিনি অপন সম্বর রে॥ যত হি মন মহ কোপ উপজত তত হি কোপ কি করিতে সমুচিত পায়ে পরণত যে জন হোয়ত উহে কি তেজিয়ে রে। হীত কহইতে অহিত মানসি সুহৃদ-জনে তুহুঁ বৈরি জানসি অতয়ে দেখি শুনি নিরবে রহি পুন উতর না দিয়ে রে॥ যে বিনু যুগ-শত নিমিখ হোয়ত সে তুহে মীনতি কয়ল কত শত করহিঁ কর যুড়ি গলহিঁ অম্বর ধরণি লুঠল রে। ঐছে হঠ পুন উলটি বৈঠলি কন্ত বদন নি- তান্ত না হেরলি চন্দ্রশেখর ভণই ভামিনি পিরিতি ভাঙ্গল রে॥ টীকা - এই পদের প্রত্যেক কলিতে নিম্নলিখিত মাত্রাবিন্যাস দৃষ্ট হয়, যথা--- ৩+৪ ৩+৪ ৩+৪ ৩+৪ ৩+৪ ৩+৪ ৩+৪+২ ---সতীশচন্দ্র রায়, “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীরাধার প্রতি সখীর উক্তি ॥ সুহই॥ স্বর্ণ-বর্ণ বিবর্ণ ভৈ গেল পূর্ণ বিধু-মুখ তূর্ণ নিরসল নয়ন-পঙ্কজ নিরহী ভীগল . হিয়ক অম্বর রে। মান ভেল তুয় প্রাণ-গাহক নহিলে উপেখসি রসিক-নায়ক যো ভেল সো ভেল অবহুঁ অবুধিনি . অপন সম্বর রে॥ যতহি মন মহ কোপ উপজত ততহি কোপ কি করিতে সমুচিত পায়ে পরণত যো জন হোয়ত . তাহে কি তেজিয়ে রে। হীত কহইতে অহিত মানসি সুহৃদ-গণে তুহুঁ বৈরি জানসি অতয়ে দেখি শুনি নিরবে রহি নহি . উতর দী জিয়ে রে॥ যে বিনে যুগ-শত নিমিখ হোয়ত সে তুহে মিনতি কয়ল কত শত করহি কর জুড়ি গলহিঁ অম্বরে . ধরণি লুঠল রে। ঐছে হঠপন পলটি বৈঠলি কান্ত-বদন নিতান্ত না হেরলি চন্দ্রশেখর ভণয়ে ভাবিনি . পিরীতি ভাগল রে॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ২২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কলহান্তরিতা সখীর উক্তি ॥ ললিত - ছোট দশকুশী॥ (তোমার) স্বর্ণ বর্ণ বিবর্ণ ভৈগেল পূর্ণ বিধুমুখ তূর্ণ নিরসলরে। নয়ন পঙ্কজ নীরে ভীগেও হিয়াক অম্বর হে॥ মান ভেল তুয়া প্রাণ-গাহক নহিলে উপেখসি রসিক নায়ক হে। যো ভেল সো ভেল অবহু অবোধিনী আপনা সম্বর রে॥ যতহি মন মাহা কোপ উপজত ততহি কোপ করিতে অনুচিত হে। পায়ে পরণত যো জন হোয়ত তাহে কি তেজিয়ে হে॥ হিত কহইতে অহিত মানসি সুহৃদগণে তুহু বৈরী জানসি হে। অতয়ে দেখি শুনি নীরবে রহি পুনি উত্তর না দিয়ে হে॥ যা বিনু যুগশত নিমিখ হোয়ত সো তোহে মিনতি করলহি কত শত হে। করল কর জোড় গলহি অম্বর ধরণী লোটায়ল হে॥ ঐছে হঠ পুন পালটি বৈঠলি কান্ত বদন নিতান্ত না হেরলি হে। চন্দ্রশেখর ভণয়ে ভামিনী পিরিতি ভাঙ্গলি হে॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী” গ্রন্থের ২২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কীর্তনগীতরত্নাবলীর পদ। স্বর্ণবর্ণ বিবর্ণ ভৈ গেল পূর্ণ বিধুমুখ তূর্ণ নিরসল নয়ন-পঙ্কজ নিরহি ভীগল . হিয়াক অম্বর রে। মান ভেল তুয়া জীবন গাহক নহিলে উপেখসি রসিক নায়ক যো ভেল সো ভেল অবহুঁ মুগধিনি . আপনা সম্বর রে॥ যতহি মনমাহা কোপ উপজত ততহি কোপ কি করিতে অনুচিত পায়ে পরণত যো জন হোয়ত . তাহে কি তেজহ রে। হিত কহইতে অহিত মানসি সুহৃদ-গণে তুহুঁ বৈরিসম জানসি অতয়ে দেখিশুনি নিরবে রহি পুনি . উতর না দেই রে॥ যো বিনু যুগশত নিমিখে হোয়ত সো তোহে মিনতি করল কতশত করহি কর জোরি, গলহি অম্বর . ধরণী লোটাঅল রে। ঐছে হঠপন উলটি বৈঠলি কান্তবদন নিতান্ত না হেরলি চন্দ্রশেখর ভনয়ে ভামিনী . পিরীতি ভাঙ্গল রে॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৮৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। স্বর্ণ-বর্ণ বিবর্ণ ভৈ গেল পূর্ণ বিধু মুখ তূর্ণ নিরসল নয়ন পঙ্কজ নিরহী ভীগল . হিয়ক অম্বর রে। মান ভেল তুয় প্রাণ গাহক নহিলে উপেখসি রসিক-নায়ক যো ভেল সো ভেল অবহুঁ অবুধিনি . অপন সম্বর রে॥ যতহি মন মহ কোপ উপজত ততহি কোপ কি করিতে সমুচিত পায়ে পরণত যো জন হোয়ত . তাহে কি তেজিয়ে রে। হীত কহইতে অহিত মানসি সুহৃদ গণে তুহুঁ বৈরি জানসি অতয়ে দেখি শুনি নিরবে রহি নহি . উতর দী জিয়ে রে॥ যে বিনে যুগ-শত নিমিখ হোয়ত সে তুহে মিনতি কয়ল কত শত করহি কর জুড়ি গলহিঁ অম্বরে . ধরণি লুঠল রে। ঐছে হঠপন পলটি বৈঠলি কান্ত বদন নিতান্ত না হেরলি চন্দ্রশেখর ভণয়ে ভাবিনি . পিরীতি ভাগল রে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| মান কয় তুলি ত কয় তুলি কয়লিত কয়লি কলহ কাহে কান্দসি মান কয়লি তো কয়লি কলহে কাহে কান্দসি মান কয়লি তো কয়লি কলহে কাহে রোয়সি কবি চন্দ্রশেখর এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মান কয় তুলি ত কয় তুলি কলহে কাহে রোওসি বৈঠহি বিরমহু ভবনে। সো কাঁহা জাওব আপহি আওব পুনহি লোটায়ব চরণে॥ সহচরী বচনে করহ বিসআস। সজল নয়নে হরি পন্থ নেহারই চিত রহল তুয়া পাশ॥ বেণু ধেনু তেজি সকল সখাগণ পরিহরি নীপমূলে বসই। রাই রাই করি শিরে কর হানই তুয়া নাম অনশন সোই॥ তুয়া লাগি মঝু গেহ আওত কত বেরি হাম জব সাধব লাখ। চন্দ্রশেখরে কহে অব তুহু মোচবি আপন কান্ত দেখ॥ এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ জয়শ্রী॥ কয়লিত কয়লি, কলহ কাহে, কান্দসি বৈঠি বিরস তুহু ভবনে। সো কাহা যায়ব, আপহি আয়ব, পুনহি লোটায়ব চরণে॥ সুন্দরী বচনে করহ বিশু আসে। সজল নয়ন হরি, ধরণী লোটায়ত, চিত্র কহল মুঝ পাশে॥ বেণু ধেনু তেজি, সকল সখা- গণ, পরিহরি নীপমূলে বসই। হরি হরি বলি শিরে, করাঘাত হানত, তুয়া নামধরি নিশসই॥ তুয়া লাগি কত বেরি, মুঝ ঘরে আয়ল, হাম জব সাধব লাগ। চন্দ্র- শেখর কহে, তবু তুহু মোচবি, আপন সান্তক পাক॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা গ্রন্থের, ৩৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গান্ধার॥ মান কয়লি তো কয়লি কলহে কাহে কান্দসি বৈঠি রহু তুহু ভবনে। সো কাঁহা যাওব আপহি আওব পুনহি লোটায়ব চরণে॥ সুন্দরি বচনে করিও বিশোয়াস। সজল নয়নে হরি ধরণী লোটাওত চিত্রা কহল মঝু পাশ॥ ধ্রু॥ বেণু ধেনু তেজি সকল সখাগণ পরিহরি নীপ মূলে বসই। রাই রাই বলি শিরে কর হানই তুয়া নাম করিয়া নিশসই॥ তুয়া লাগি কত বেরি বেরি বেরি মঝু ঘরে আওব হামে হরি সাধব লাখ। চন্দ্রশেখরে কহে তব তুহুঁ জানত কাহে করত হুতাস॥ এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি নিমানন্দ দাসের “পদরসসার” গ্রন্থের পদ। শ্রীরাধার প্রতি সখীর উক্তি ॥ ধানশী॥ ( মান ) কয়লি তো কয়লি কলহে কাহে রোয়সি বৈঠি বিরম তুহুঁ ভবনে। সো কাঁহা যায়ব আপহিঁ আয়ব পুনহি লোটায়ব চরণে॥ সুন্দরি বচনে করবি আশোয়াস। সজল নয়নে হরি পন্থ নেহারই চিত্রা কহল মঝু পাশ॥ ধ্রু॥ বেণু ধেনু তেজি সকল সখাগণ পরিহরি নিপ-মুলে বসই। রাই রাই করি শিরে কর হানই তুয়া নাম ধরই নিশসই॥ তুয়া লাগি মঝু ঘরে কত বেরি আওব মোহে সাধব যব নাথ। চন্দ্রশেখরে কহে তব তুহুঁ বঞ্চবি আপন কান্তক সাথ॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত ও সংকলিত “পদামৃত লহরী”, ৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী গান্ধার - তাল চঞ্চুপুট॥ শ্রীমতীর ক্রন্দন দেখিয়া এক সখী বলিতে লাগিলেন। মান কয়লি তো কয়লি, কলহে কাঁহে কাঁন্দসি, বৈঠি বিরম তুহ ভবনে। সো কাঁহা যাওব, আপহি আওব, পুনহি লোটায়ব চরণে॥ সুন্দরী বচনে করবি বিশোয়াস। সজল নয়নে হরি, পন্থ নেহারই, চিত্রা কহল মঝু পাশ॥ বেণু ধেনু তেজি, সকল সখাগণ, পরিহরি নীপমূলে বসই। রাই রাই করি, শিরে কর হানই, তুয়া নাম ধরি নিঃশ্বাসই॥ তুয়া লাগি কতবেরি, মঝু ঘরে আওব, মোহে সাধব যব লাখ। চন্দ্রশেখর কহে, তব তুহ বঞ্চবি, আপন কান্তক সাথ॥ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ২৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মানখণ্ড ॥ পঠমঞ্জরী - চঞ্চুপুট তাল॥ কয়লি তো কয়লি কলহে কাহে কাঁদসি বৈঠি বিরম নিজ ভবনে। সো কাঁহা যাওব আপহি আওব পুনহি লোটায়ব চরণে॥ সুন্দরি, বচনে করবি বিশোয়াসে। সজল নয়নে হরি পন্থ নেহারই চিত্রা কহল মঝু পাশে॥ ধ্রু॥ বেণু ধেনু তেজি সকল সখাগণ পরিহরি নীপমূলে বসই। রাই রাই করি শিরে কর হানই @য়া নাম ধরই নিশসই॥ তুয়া লাগি কত বেরি মঝু গেহে আওব মোহে যব সাধব লাখ। চন্দ্রশেখর কহ তব তুহুঁ বঞ্চবি আপন কান্তকি সাথ॥ @ - অপাঠ্য অক্ষর। এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীরাধার প্রতি সখীর উক্তি ॥ ধানশী॥ ( মান ) কয়লি তো কয়লি কলহে কাহে রোয়সি বৈঠি বিরম তুহুঁ ভবনে। সো কাঁহা যায়ব আপহিঁ আয়ব পুনহি লোটায়ব চরণে॥ সুন্দরি বচনে করবি আশোয়াস। সজল-নয়নে হরি পন্থ নেহারই চিত্রা কহল মঝু পাশ॥ ধ্রু॥ বেণু ধেনু তেজি সকল সখাগণ পরিহরি নিপ-মুলে বসই। রাই রাই করি শিরে কর হানই তুয়া নাম ধরই নিশসই॥ তুয়া লাগি মঝু ঘরে কত বেরি আওব মোহে সাধব যব নাথ। চন্দ্রশেখরে কহে তব তুহুঁ বঞ্চবি আপন কান্তক সাথ॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ২২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কলহান্তরিতা ॥ পঠমঞ্জরী - চঞ্চুপুট তাল॥ মান কয়লি ত কয়লি @@ বৈঠি বিরম নিজ ভবনে। সো কাঁহা যাওব আপহি আওব পুনহি লোটায়ব চরণে॥ সুন্দরি বচনে করবি বিশোয়াসে। সজল নয়নে হরি পন্থ নেহারই চিত্রা কহল মঝু পাশে॥ ধ্রু॥ বেণু ধেনু তেজি সকল সখাগণ পরিহরি নীপমূলে বসই। রাই রাই করি শিরে কর হানই তুয়া নাম লেই সদা শ্বসই॥ তুয়া লাগি কত বেরি মঝু গেহে আওত মোহে যব সাধব লাখ। চন্দ্রশেখর কহে, তব তুহুঁ বঞ্চবি, আপন কান্তক সাথ॥ @@ - “কলহে কাহে রোয়সি” এই কথাগুলি নেই বা মুদ্রিত হয়নি বা আমাদের সংগ্রহের এই পাতার স্ক্যানে ওঠেনি। এই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সখী উক্তি মান কয়লিতো কয়লি কলহে কাহে কাঁদসি বৈঠি রহু তুহুঁ ভবনে। সো কাঁহা যাওব আপহি আওব পুনহি লোটায়ব চরণে। ( তোমা ছেড়ে কোথা যাবে, পুনঃ এসে পায়ে ধরিবে, তুই আপন ঘরে বসে থাক রাই তোমা ছেড়ে কোথা যাবে ) পুনহি লোটায়ব চরণে॥ সুন্দরী বচনে করিব বিশোয়াস। সজল নয়নে হরি ধরণী লোটায়ত চিত্রা ক’হল মঝু পাশ॥ ( চিত্রা আমায় বলে গেল, এই সে দেখে এসেছেগো ) চিত্রা ক’হল মঝু পাশ॥ বেণু ধেণু তেজি সকল সখীগণ পরিহরি নীপমূলে বসই। (নীপমূলে বসে আছে, বেণু ধেণু তেজ্য করে নীপমূলে বসে আছে ) পরিহরি নীপমূলে বসই॥ রাই রাই বলি, শিরে কর হানই তুয়া নাম ধরি নিশাসই। ( এখনও তোমায় ভোলে নাই গো, এত অপমান হয়েও এখনও তোমায় ভোলে নাই গো ) তুয়া নাম ধরি নিশাসই॥ তুয়া লাগি কত বেরি, মঝু ঘরে আওব, মোহে সাধব যব লাখ। ( আমায় এসে কত সাধিবে, তোমার দেখা পাবার লাগি আমার ঘরে এসে কত সাধিবে ) আওব হামে হরি সাধব লাখ॥ চন্দ্রশেখর কহে, তব তুহুঁ বঞ্চবি, আপন কান্তক সাথ। ( ধৈর্য্য ধরে বসে থাক রাই, প্রকারেতে মিলাইব, ধৈর্য্য ধরে বসে থাক রাই ) আপন কান্তক সাথ॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৮৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মান কয়লি তো কয়লি কলহে কাহে রোয়সি বৈঠি বিরম তুহুঁ ভবনে। সো কাঁহা যায়ব আপহিঁ আয়ব পুনহি লোটায়ব চরণে॥ সুন্দরি বচনে করবি আশোয়াস। সজল নয়নে হরি পন্থ নেহারই চিত্রা কহল মঝু পাশ॥ বেণু ধেনু তেজি সকল সখাগণ পরিহরি নিপ মূলে বসই। রাই রাই করি শিরে কর হানই তুয়া নাম ধরই নিশসই॥ তুয়া লাগি মঝু ঘরে কত বেরি আওব মোহে সাধব যব নাথ। চন্দ্রশেখরে কহে তব তুহুঁ বঞ্চবি আপন কান্তক সাথ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ধনি পরবোধি চললি বর-রঙ্গিণি ধনি পরবোধি চললি বরসুন্দরী কবি চন্দ্রশেখর এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি নিমানন্দ দাসের “পদরসসার” গ্রন্থের পদ। শ্রীকৃষ্ণের নিকট দূতীর গমন ॥ ধানশী॥ ধনি পরবোধি চললি বর-রঙ্গিণি ধরলিহ বিপিনক পন্থ। গোঠ গোবর্দ্ধন যমুনা-কানন এ সব ফিরয়ে একান্ত॥ সহচরি কতিহুঁ না পেখলি নাহ। নিরজনে গোঠ গোবর্দ্ধন পরিহরি পড়ি রহু পাঁতর মাহ॥ ধ্রু॥ হেম-বরণ এক অন্বুজ করে ধরি ঘন ঘন হেরত তায়। রাই রাই করি শিরে কর হানই ধূলি-ধূসর সব গায়॥ চূড়হিঁ চারু শিখন্ড বিখণ্ডই মূরলী পড়ি রহু দূর। ঐছন সময়ে তাহাঁ পরশেবল চন্দ্রশেখর সুচতুর॥ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ২৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ - দশকুশী॥ ধনি পরবোধি চললি বর-সুন্দরী ধরলিহু বিপিনক পন্থ। গোঠ গোবর্দ্ধন যমুনা কানন এ সব ফিরত একান্ত॥ সুন্দরি, কতিহুঁ না পেখল নাহ। নিরজনে গোপ গোধন সব পরিহরি পড়ি রহু পাঁতর মাহ॥ ধ্রু॥ হেম-বরণ এক অন্বুজ করে ধরি পুন পুন হেরত তায়। রাই রাই করি শিরে কর হানই ধূলিধূসর সব কায়॥ চূড়া চারু শিখণ্ডক মণ্ডিত মুরলী পড়ি রহু দূর। ঐছন সময়ে তাহি পরশেবল চন্দ্রশেখর সুচতুর॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের নিকট দূতীর উক্তি ॥ ধানশী॥ ধনি পরবোধি চললি বর-রঙ্গিণি ধরলিহ বিপিনক পন্থ। গোঠ গোবর্দ্ধন যমুনা কানন এ সব ফিরয়ে একান্ত॥ সহচরি কতিহুঁ না পেখলি নাহ। নিরজনে গোঠ গোবর্দ্ধন পরিহরি পড়ি রহু পাঁতর মাহ॥ ধ্রু॥ হেম-বরণ এক অন্বুজ করে ধরি ঘন ঘন হেরত তায়। রাই রাই করি শিরে কর হানই ধূলি-ধূসর সব গায়॥ চূড়হিঁ চারু শিখণ্ড বিখন্ডিত মূরলী পড়ি রহু দূর। ঐছন সময়ে তাঁহা পরশেবল চন্দ্রশেখর সুচতুর॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ২২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কলহান্তরিতা ॥ কামোদ - দশকুশী॥ ধনি পরবোধি চললি বরসুন্দরী ধরলিহু বিপিনক পন্থ। গোঠ গোবর্দ্ধন যমুনা কানন এ সব ফিরত একান্ত॥ সুন্দরী কতিহুঁ না পেখল নাহ। নিরজনে গোপ গোধন সব পরিহরি পড়ি রহু পাঁতর মাহ॥ ধ্রু॥ হেম বরণ এক অন্বুজ করে ধরি পুন পুন হেরত তায়। রাই রাই করি শিরে কর হানই ধূলি ধূসর সব কায়॥ চূড়া চারু শিখণ্ডক মণ্ডিত মূরলী পড়িয়া রহু দূর। ঐছন সময়ে তাহি পরশেবল চন্দ্রশেখর সুচতুর॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৮৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ধনি পরবোধি চললি বর ধরলিহু বিপিনক পন্থ। গোঠ গোবর্দ্ধন যমুনা কানন এ সব ফিরত একান্ত॥ সুন্দরী কতিহুঁ না পেখল নাহ। নিরজনে গোপ গোধন সব পরিহরি পড়ি রহু পাঁতর মাহ॥ হেম বরণ এক অন্বুজ করে ধরি ঘন ঘন হেরত তায়। রাই রাই করি শিরে কর হানই ধূলি ধূসর সব কায়॥ চূড়া চারু শিখণ্ডক মণ্ডিত মূরলী পড়িয়া রহু দূর। ঐছন সময়ে তাহি পরশেবল চন্দ্রশেখর সুচতুর॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাই প্রবোধি চলতহি সহচরী রাই প্রবোধি চললি বর-রঙ্গিণি এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি নিমানন্দ দাসের “পদরসসার” গ্রন্থের পদ। শ্রীকৃষ্ণের নিকট দূতীর গমন ॥ কামোদ॥ রাই প্রবোধি চললি বর-রঙ্গিণি করইতে কানুক উদেশ। চঞ্চল নয়নে চৌ দিগে নেহারই বিপিনহি কয়ল প্রবেশ॥ সহচরি ঢুঁড়ত বরজ-কিশোর। এক নীপ-মূলে পড়ি রহু মাধব রাই-বিরহ জরে ভোর॥ ধ্রু॥ দুরহি কানুক হেরি রসিক-বরা থমকি থমকি চলি যায়। জনু আন কাজে চললি বর-চাতুরি ডাহিন বামে না চায়॥ ডাকি কহত হরি--- হম রাই-কিঙ্কর করুণা করি অব চাহ। চন্দ্রশেখর কহে এক নিবেদন তোহে শুনি তুহুঁ আন কাজে যাহ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।। শ্রীকৃষ্ণের নিকট দূতীর উক্তি ॥ কামোদ॥ রাই প্রবোধি চলতহি সহচরী করইতে কানুক উদেশ। চঞ্চল নয়নে চৌ-দিগে নেহারই বিপিনহি কয়ল প্রবেশ॥ সহচরি ঢুঁড়ত বরজ-কিশোর। এক নীপ-মূলে পড়ি রহু মাধব রাই-বিরহ জরে ভোর॥ ধ্রু॥ দুরহি কানুক হেরি চতুরা সখী ঠমকি ঠমকি চলি যায়। জনু আন কাজে চললি বর-রঙ্গিণী ডাহিন বামে নাহি চায়॥ ডাকি কহত হরি হম রাই-কিঙ্কর করুণা করি অব চাহ। চন্দ্রশেখর কহে এক নিবেদন তোহে শুনি তুহুঁ আন কাজে যাহ॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৮৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রাই প্রবোধি চলতহি সহচরী করইতে কানুক উদেশ। চঞ্চল নয়নে চৌ দিগে নেহারই বিপিনহি কয়ল প্রবেশ॥ সহচরি ঢুঁড়ত বরজ কিশোর। এক নীপ মূলে পড়ি রহু মাধব রাই বিরহ জরে ভোর॥ দুরহি কানুক হেরি চতুরা সখী ঠমকি ঠমকি চলি যায়। জনু আন কাজে চললি বর রঙ্গিণি ডাহিন বামে নাহি চায়॥ ডাকি কহত হরি হম রাই কিঙ্কর করুণা করি অব চাহ। চন্দ্রশেখর কহে এক নিবেদন তোহে শুনি তুহুঁ আন কাজে যাহ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কি কহবি কি তব তুরুত করি কহ কহ কি কহবি মাধব তুরিতহি কহ কহ কবি চন্দ্রশেখর এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কি কহবি কি তব তুরুত করি কহ কহ হাম জাওব আন কাজে। তুয়া সনে বাত নহে মঝু সমুচিত দোষ পাইব সখীমাঝে॥ সুনি ইহ ভাষই কানু নিশ্বাসই কাহে রহসি অছু বাণী। রাই তেজল বলি তুহুঁ সব তেজবি তব বিখ ভুঞ্জিব আমি॥ আহিরিনী কুরূপিণী গুণহিণী পরাধীনী হাম সব লাগি বিখ পিয়োবি। চন্দ্রাবলী মুখ চন্দ্রসুধারস পিবি পিবি যুগে যুহে জিয়বি॥ পদ্মমা পদ্ম গন্ধে অনুমাতাল শ্রীভদ্রা মঙ্গল দানে। চন্দ্রশেখর কহে সুন বহুবল্লভ রাই পিরিতি কেবা জানে॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা গ্রন্থের, ৩৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ কি কহবি মাধব তুরুতহি কহ কহ হাম চলব আন কাজে। তো সঞে বাত নহ মঝু সমুচিত দোষ পাওব সখী মাঝে॥ রাই তেজল অভিমানি। রাই তেজল বলি তুহুঁ সব তেজবি তব বিখ ভুঞ্জব আমি॥ আহিরিণী কুরূপিণী গুণহীণী ভাগিহীনী তাহে লাগি কাহে বিখ পিওবি। চন্দ্রাবলি মুখ চন্দ্র সুধারস পিবি পিবি যুগে জিয়বি॥ পদ্মা পদুমা গন্ধে মাতায়াল ভদ্রা মঙ্গল দানে। চন্দ্রশেখরে কহে শুন বহুবল্লভ রাই পিরীতি কিবা জানে॥ এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি নিমানন্দ দাসের “পদরসসার” গ্রন্থের পদ। শ্রীকৃষ্ণের নিকট দূতীর গমন ॥ ধানশী॥ “কি কহবি মাধব তুরুতহিঁ কহ কহ হম যায়ব আন-কাজে। তো সঞে বাতহুঁ নহ মঝু সমুচিত দোখ পাওব সখি-মাঝে॥ কি কহব সজনী কহিতে বা কিয়ে জানি রাই তেজল অভিমানি। রাই তেজল বলি তুহুঁ যব তেজবি তব বিখ ভুঞ্জব আনি॥” “আহিরিণি কুরুপিণি গুণহিণি ভাগিহিনি তাহে লাগি কাহে বিখ পিয়বি। চন্দ্রাবলি-মুখ- চন্দ্র-সুধা-রস পিবি পিবি যুগ যুগ জিয়বি॥ পদ্মা পদুমা গন্ধে মাতায়ব ভদ্রা মঙ্গল দানে।” চন্দ্রশেখরে কহে শুন বহু বল্লভ রাই পিরিতি কিবা জানে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের প্রতি দূতী ॥ ধানশী॥ কি কহবি মাধব তুরুতহিঁ কহ কহ হম যায়ব আন-কাজে। তো সঞে বাতহুঁ নহ মঝু সমুচিত দোখ পাওব সখি-মাঝে॥ কি কহব সজনী কহিতে বা কিয়ে জানি রাই তেজল অভিমানি। রাই তেজল বলি তুহুঁ যব তেজবি তব বিখ ভুঞ্জব আনি॥ আহিরিণি কুরুপিণি গুণহিণি ভাগিহিনি তাহে লাগি কাহে বিখ পিয়বি। চন্দ্রাবলি-মুখ- চন্দ্র-সুধা-রস পিবি পিবি যুগ যুগ জিয়বি॥ পদ্মা দপুমা গন্ধে মাতায়ব ভদ্রা মঙ্গল দানে। চন্দ্রশেখরে কহে শুন বহু বল্লভ রাই পিরীতি কিবা জানে॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ২৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কলহান্তরিতা ॥ ধানশী - ছোট একতালা॥ কি কহবি মাধব তুরুতহি কহ কহ হাম যায়ব আন কাজে। তো সনে বাত নহে মঝু সমুচিত দোষ পাওব সখি মাঝে॥ কি কহব সজনি কহিতে বা কিবা জানি রাই তেজল অভিমানি। রাই তেজল বলি তোরা সব তেজবি তবে বিষ ভুঞ্জব আমি॥ আহিরিণী কুরূপিণী গুণহিণী অভাগিনী তাহে লাগি কাহে বিষ পিয়বি। চন্দ্রাবলী-মুখ- চন্দ্র-সুধারস পিবি পিবি যুগে যুগে জিয়বি॥ পদ্মা পদুমা গন্ধে মাতায়ল ভদ্রা মঙ্গল দানে। চন্দ্রশেখর কহে শুন বহুবল্লভ রাই পিরিতি কিবা জানে॥ এই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত, দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কি কহবি মাধব, তুরুতহি কহ কহ হাম চলব আন কাজে। তোসঞে বাত নহ মঝু সমুচিত দোষ পাওব সখী মাঝে॥ কি কহব সজনী, কহিতেবা কিবা জানি, রাই তেজল অভিমানি। রাই তেজল বলি, তুহুঁ সব তেজবি, অববিখ ভুঞ্জব আমি॥ আহীরীণী কুরুপিণী, গুণহীণী ভাগীহীণী তাহে লাগি কহ বিখ পিয়বি। চন্দ্রাবলী-মুখ, চন্দ্র-সুধারস, পিবি পিবি যুগে যুগে জীয়বি॥ পদ্মা পদুমা, গন্ধে মাতায়ল, ভদ্রা মঙ্গল দানে। চন্দ্রশেখরে কহে, শুন বহু বল্লভ, রাই পিরীতি কিবা জানে॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৮৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কি কহবি মাধব তুরুতহিঁ কহ কহ হম যায়ব আন কাজে। তো সঞে বাতহুঁ নহ মঝু সমুচিত দোখ পাওব সখি-মাঝে॥ কি কহব সজনী কহিতে বা কিয়ে জানি রাই তেজল অভিমানি। রাই তেজল বলি তুহুঁ যব তেজবি তব বিখ ভুঞ্জব আনি॥ আহিরিণি কুরুপিণি গুণহিণি ভাগি- হিনি তাহে লাগি কাহে বিখ পিয়বি। চন্দ্রাবলি মুখ চন্দ্র সুধা রস পিবি পিবি যুগ যুগ জিয়বি॥ পদ্মা দপুমা গন্ধে মাতায়ব ভদ্রা মঙ্গল দানে। চন্দ্রশেখরে কহে শুন বহু বল্লভ রাই পিরীতি কিবা জানে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| এতহি কহল যব কানু শুনই তব কবি চন্দ্রশেখর এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি নিমানন্দ দাসের “পদরসসার” গ্রন্থের পদ। শ্রীকৃষ্ণের নিকট দূতীর গমন ॥ সুহই॥ এতহি কহল যব কানু শুনই তব আয়ল দূতিক সাথ। যাহাঁ ধনি বৈঠত দ্রুত চলি আওত করই কতহি প্রণিপাত॥ বিমুখি-ভাব তব পরিহর সুমূখি গো বিনতি-গদগদ নাথে। ইহ বেরি মোহে হেরি সব দোখ খেমহ হরি লাগি ধরি তুয়া হাথে॥ তব ললিতা সা ত্বং ললিতায়া ইতি ব্রজ মহ কো নহি জান। আঁচর পাতি হম তুয় পাশে মাগিয়ে মান-রতন দেহ দান॥ বদতি তটস্থা মান-বিতস্থা রাই-শ্রুতি-নিকটে বিশাখা। “ও বহু-বল্লভ সহজহি দুল্লভ পুন কাহাঁ পায়বি দেখা॥ চিত্রা চম্পক- লতিকা আদি করি বহুত বুঝায়লি বাণী। চন্দ্রশেখরে কহে দুহুঁ জন সমুঝল হম দুহুঁ-অন্তর জানি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীরাধার প্রতি সখীগণের অনুনয় ॥ সুহই॥ এতহি কহল যব কানু শুনই তব আয়ল দূতিক সাথ। যাহাঁ ধনি বৈঠত দ্রুত চলি আওত করই কতহি প্রণিপাত॥ বিমুখি-ভাব তব পরিহর সুমূখি গো বিনতি-গদগদ নাথে। ইহ বেরি মোহে হেরি সব দোখ খেমহ হরি লাগি ধরি তুয়া হাথে॥ তব ললিতা সা ত্বং ললিতায়া ইতি ব্রজ মহ কো নহি জান। আঁচর পাতি হম তুয় পাশে মাগিয়ে মান-রতন দেহ দান॥ বদতি তটস্থা মান-বিতস্থা রাই-শ্রুতি-নিকটে বিশাখা। ও বহু-বল্লভ সহজহি দুর্ল্লভ পুন কাহাঁ পায়বি দেখা॥ চিত্রা চম্পক- লতিকা আদি করি বহুত বুঝায়লি বাণী। চন্দ্রশেখর কহে দুহুঁ জন সমুঝল হম দুহুঁ-অন্তর জানি॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৮৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এতহি কহল যব কানু শুনই তব আয়ল দূতিক সাথ। যাঁহা ধনি বৈঠত দ্রুত চলি আওত করই কতহি প্রণিপাত॥ বিমুখি ভাব তব পরিহর সুমুখি গো বিনতি গদ গদ নাথে। ইহ বেরি মোহে হেরি সব দোখ খেমহ হরি লাগি ধরি তুয়া হাথে॥ তব ললিতা সা ত্বং ললিতায়া ইতি ব্রজ মহ কো নহি জান। আঁচর পাতি হম তুয় পাশে মাগিয়ে মান রতন দেহ দান॥ বদতি তটস্থা মান বিতস্থা রাই শ্রুতি নিকটে বিশাখা। ও বহু বল্লভ সহজহি দুর্ল্লভ পুন কাহাঁ পায়বি দেখা॥ চিত্রা চম্পক লতিকা আদি করি বহুত বুঝায়লি বাণী। চন্দ্রশেখর কহে দুহুঁ জন সমুঝল হম দুহুঁ অন্তর জানি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কো সখি অক্রুর ভোজ ভূপতি চর কো সখি অক্রুর ভোজ নৃপতি চর কবি চন্দ্রশেখর এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহাড়ি॥ কো সখী অক্রুর, ভোজভূপতি চর, বরজে বিজয়ী কোন কামে। মুরহর হলধর, দুহুজন লেয়ব, রথ করি মধুপুর ধামে॥ সখা হে কোন কহল ইহ বাণী। পদুমা রোই, ঊর মুখে ধায়ত, ঊরপর কঙ্কণ হানি॥ তাহে হাম পুছইতে, সো মোহে বোলল, যাহ যাহ নিজ সখী পাশ। রজনী পোহাইলে, রোহিনী সুত সঙে, কানু চলব পরবাস॥ পদুমিনী মুখে শুনি, এতি বোর আইনু, গোচর কর- লুম তোয়। হাহা হরি বলি, সুবদনী মূরছিত, চন্দ্রশেখর মরু রোয়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ভবন্ বিরহ ॥ পাহিড়া॥ কো সখি অক্রূর ভোজ-নৃপতি-চর বরজে বিজই কোন কামে। মুরহর হলধর দুহুঁ-জনে লেয়ব রথে করি মধুপুর-ধামে॥ সখি হে কোন কহল ইহ বাণী। পদুমা রোই উরধ-মুখে ধাওত উর পর কঙ্কণ হানি॥ ধ্রু॥ তাহে হাম পুছইতে সো মোহে বোলল যাহ যাহ নিজ সখি পাশ। রজনী পোহাইলে রোহিনি-সুত সঞে কানু চলব পরবাস॥ পদুমিনি মুখে শুনি এত বেরি আওলুঁ গোচর করলুঁ মুঞি তোয়। হা হা হরি বলি সুবদনি মুরছিত চন্দ্রশেখর তঁহি রোয়॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৮৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কো সখি অক্রূর ভোজ নৃপতি চর বরজে বিজই কোন কামে। মুরহর হলধর দুহুঁ জনে লেয়ব রথে করি মধুপুর ধামে॥ সখি হে কোন কহল ইহ বাণী। পদুমা রোই উরধ মুখে ধাওত উর পর কঙ্কণ হানি॥ তাহে হাম পুছইতে সো মোহে বোলল যাহ যাহ নিজ সখি পাশ। রজনী পোহাইলে রোহিনি সুত সঞে কানু চলব পরবাস॥ পদুমিনি মুখে শুনি এত বেরি আওলুঁ গোচর করলুঁ মুঞি তোয়। হা হা হরি বলি সুবদনি মুরছিত চন্দ্রশেখর তঁহি রোয়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |