| অষ্টাদশ শতকের কবি চন্দ্রশেখরের বৈষ্ণব পদাবলী |
| রাইক নরপতি বেশ বনায়ত কবি চন্দ্রশেখর এই পদটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত, হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”, ১ম খণ্ড, ৩৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল॥ রাইক নরপতি। বেশ বনায়ত কুসুম বিপিনে হরি রায়। কাঞ্চন ছত্র, দণ্ড তারে দেওল, নিজ করে চামর ঢুলায়॥ সখি হে দেখহ রাইক ভাগি। অভিষেক করি, যমুনা জল সুশীতল, চলিতহি অনুমতি মাগি॥ নব নব যৌবনী, রসিকিনী রঙ্গিণী, সারি সারি করিয়া রসায়। কুঞ্জ সহরে হরি, করে এক শাঠ করি, রাইক দোহাই ফিরায়॥ যৌবন রতন, পসার পসারল, নব নব নাগরী ঠাট। চন্দ্রশেখর কহে, তুহি গ্রাহক যোই, পাতায়ল হাট॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী” , ১০২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রাই রাজা ॥ মঙ্গল॥ রাইক নরপতি- বেশ বনায়ত কুসুম-বিপিনে হরি-রায়। কাঞ্চন-ছত্র দণ্ড তারে দেওল নিজ-করে চামর ঢুলায়॥ সখি হে দেখ দেখ রাইক ভাগি। করি অভিষেক যমুনা-জল সুশীতল চলিতহি অনুমতি মাগি॥ ধ্রু॥ নব নব যৌবনি রঙ্গিনি রসিকিনি সারি সারি করিয়া রসায়। কুঞ্জ-সহরে হরি করে নিশান ধরি রাইক দোহাই ফিরায়॥ যৌবন-রতন পসার পসারল নব নব নাগরি-ঠাট। চন্দ্রশেখর কহে ওহি গ্রাহক যোহি পাতাওল হাট॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৮৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রাইক নরপতি বেশ বনায়ত কুসুম বিপিনে হরি রায়। কাঞ্চন ছত্র দণ্ড তারে দেওল নিজ করে চামর ঢুলায়॥ সখি হে দেখ দেখ রাইক ভাগি। করি অভিষেক যমুনা জল সুশীতল চলিতহি অনুমতি মাগি॥ নব নব যৌবনি রঙ্গিনি রসিকিনি সারি সারি করিয়া রসায়। কুঞ্জ সহরে হরি করে নিশান ধরি রাইক দোহাই ফিরায়॥ যৌবন রতন পসার পসারল নব নব নাগরি ঠাট। চন্দ্রশেখর কহে ওহি গ্রাহক যোহি পাতাওল হাট॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নম নমঃ তুলসী মহারাণী ভনিতা চন্দ্রশেখর কবি চন্দ্রশেখর আচার্য্য এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা গ্রন্থের, ৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি পদকল্পতরুতে নেই। এ পদটি বৈষ্ণব পদাবলী নয়। তুলসী-আরতি। নম নমঃ তুলসী মহারাণী। নমরে নমরে মায়্যা নমঃ নারায়ণী॥ ধ্রু॥ যাকো পত্র মঞ্জরী কোমল, শ্রীপতি চরণে লপেটানি। যাকো নামে নিয়ত অঘনাশন, মহিমা বেদ পুরাণে বাখানি॥ ধন্য তুলসী পুনঃ তপ কি এ শালগ্রাম মহাপাটরাণী। ধূপ দীপ নৈবেদ্য আরতি পুষ্প নখত বরখে বরখানি॥ ছাপান্ন ভোগ, ছত্রিশ ব্যঞ্জন, বিনা তুলসী প্রভু এক নাহি মানি। শিব সনকাদি আউর ব্রহ্মাদিক, ঢূরত ফিরত মহামূনি গুণী॥ চন্দ্রশেখর মায়্যা তেরি যশ গাওয়ে ভক্তি-দান দিজিএ মহারাণী॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হা হা নিরলজ পরপঞ্চক শঠ কবি চন্দ্রশেখর এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি নিমানন্দ দাসের “পদরসসার” গ্রন্থের পদ। খণ্ডিতা ॥ বিভাষ॥ হা হা নিরলজ পরপঞ্চক শঠ রাই-নিয়ড়ে মতি যাই। বেরি বেরি তোহে নিষদ হম করতহি কাহে উদবেগ বাড়াই॥ তভু যদি যায়বি কলহ বাঢ়ায়বি বৈরি হসায়বি প্রাতে। পেহ না পায়বি রোই রোই আয়বি কর অবলম্বই মাথে॥ এতহুঁ বচন কহি ফিরি দূতি চলতহিঁ কানু চলল তছু সাথ। চন্দ্রশেখর কহে লাজ না হ যাকর তাকর সঞে কিয়ে বাত॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রাইক মান জানি হরি সাজল কবি চন্দ্রশেখর এই পদটি ১৭৭১ খৃষ্টাব্দে দীনবন্ধু দাস দ্বারা সংকলিত, ১৯২৯ খৃষ্টাব্দে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা সম্পাদিত ও মুদ্রিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ১৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদ টি পদকল্পতরুতে নেই। রাইক মান জানি হরি সাজল অদভুত যোগিক রঙ্গ। চূড়ক খোলি বান্ধি জটাজুট ভসম লাগাওল অঙ্গ॥ শোভা বনি অনুপাম। কাঞ্চন পগরি উতারি পহীরল শঙ্খ কুণ্ডল তছু ঠাম॥ গজমোতি হার আড় করি কণ্ঠহিঁ মণ্ডিত ফাটিক মালা। পিন্ধি অরুনাম্বর শিঙ্গা করে করি বাঢ়ল বিরহক জ্বালা॥ জয় জয় গোরখ- নাথ বলি নাগর জটিলাদ্বারহিঁ পাই। যোগি ভোগি বলি করু অন্বেষণ চন্দ্রশেখর বলি যাই॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জিতি কুঞ্জর গতি মন্থর ভণিতা চন্দ্রশেখর কবি চন্দ্রশেখর এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা গ্রন্থের, ৩৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সুকুমার সেন তাঁর ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত বৈষ্ণব পদাবলী গ্রন্থের ৯৫-পৃষ্ঠায় লিখেছেন যে এই পদটিকে কেউ কেউ অষ্টাদশ শতকের পদকর্তা শশিশেখরের ভাই বলে মনে করেন। আরও বলেন যে সমার্থক হওয়ার জন্য হয়তো দুটি নামই এক ব্যক্তির। ॥ কামোদ॥ জিতি কুঞ্জর গতি মন্থর চলত সো বরনারী। বংশীবট যাবট তট বনহি বন হেরি॥ মদন-কুঞ্জ শ্যাম-কুঞ্জ রাধা-কুণ্ড তীরে। দ্বাদশ বন হেরত স’ঘন শৈলহুঁ কিনারে॥ যাঁহা ধেনু সব করতহি রব তাহি চলত জোরে। শ্রীদাম সুদাম শ্রীমধুমঙ্গল দেখত বলবীরে॥ যমুনা কূলে নীপহি মুলে লুঠত বনয়ারী। চন্দ্রশেখর ধূলি ধূসর কহত প্যারি প্যারি॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত ও সংকলিত “পদামৃত লহরী”, ৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী শ্রীরাগ - তাল লোফা॥ জিতি কুঞ্জর, গতি মন্থর, চলত সো বরনারী। যাবট তট, বংশীবট, বনহি বন হেরি॥ মদনকুণ্ড, শ্যাম-কুণ্ড, রাধাকুণ্ড তীরে। দ্বাদশবন, হেরত সবন, শৈলহু কিনারে॥ যাঁহা সব, ধেনুরব, তাঁহা চলত জোরে। শ্রীদাম সুদাম, মধুমঙ্গল, হেরত বলবীরে॥ যমুনা কূলে, নীপহি মূলে, লোঠত বনয়ারী। চন্দ্রশেখর, ধূলি ধূসর, কহই প্যারি প্যারি॥ এই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেনের “বৈষ্ণব পদাবলী” গ্রন্থের ৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেই গ্রন্থের ৯৫-পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন যে এই পদটিকে কেউ কেউ অষ্টাদশ শতকের পদকর্তা শশিশেখরের ভাই বলে মনে করেন। আরও বলেছেন যে সমার্থক হওয়ার জন্য হয়তো দুটি নামই এক ব্যক্তির। ॥ কামোদ॥ জিতি কুঞ্জর- গতি মন্থর চলত সো বরনারী। বংশীবট যাবট-তট বনহি বন হেরি॥ মদনকুঞ্জে শ্যামকুণ্ড- রাধাকুণ্ড-তীরে। দ্বাদশ বন হেরত সঘন শৈলহুঁ কিনারে॥ যাহা ধেনু সব করতহি রব তাহি চলত জোরে। শ্রীদাম সুদাম মধুমঙ্গল দেখত বলবীরে॥ যমুনাকুলে নীপহিঁ মুলে লুঠত বনয়ারী। চন্দ্রশেখর ধূলিধূসর কহত প্যারী প্যারী॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| চল চল মাধব মোহে সঙ্গে করি কবি চন্দ্রশেখর এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ১৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ - একতালা॥ চল চল মাধব, মোহে সঙ্গে করি, কুবুজা রাণীক পাশ। তাহে মানাই তোহে লেই যায়ব অন্তরে না কর তরাস॥ ছি ছি মঝু মুখে লাগল আগি। সিংহিনী হোই শিবাপদ সেবিব কি মঝু করম অভাগী॥ বৃন্দা বিপিনে ব্রজেশ্বরী যে ধনি তাকর দাসী সব হাম। জগ মাঝে কোন এ বরাকিনী কুবুজিনি তাহে করব ঐছন কাজ। চন্দ্রশেখর কহে ঐছন শুনইতে দোষ পায়ব সখীমাঝ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |