আমরা মিলনসাগরে  কবি চন্দ্রশেখর আচার্য্য এবং বৈষ্ণবদাস পরবর্তী কবি চন্দ্রশেখরের বৈষ্ণব পদাবলী
তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে  পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা।



চৈতন্য সমকালীন কবি চন্দ্রশেখর আচার্য্যের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন
অষ্টাদশ শতকের বৈষ্ণবদাস পরবর্তী কবি চন্দ্রশেখরের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ১৫.৯.২০১৯
সুকুমার সেনের উদ্ধৃতি সংযোজন - ৩.২.২০২০


...
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
চন্দ্রশেখর আচার্য্য, চৈতন্য সমকালীন    
চন্দ্রশেখর দাস, চৈতন্য সমকালীন    
চন্দ্রশেখর, শশিশেখরের ভ্রাতা বৈষ্ণবদাস পরবর্তী কবি   
চন্দ্রশেখর ও শশিশেখর সম্বন্ধে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি   
চন্দ্রশেখর ও শশিশেখর সম্বন্ধে দীনেশচন্দ্র সেনের উদ্ধৃতি    
চন্দ্রশেখর ও শশিশেখরের রচনা সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি   
চন্দ্রশেখর সম্বন্ধে রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রের উদ্ধৃতি   
চন্দ্রশেখর সম্বন্ধে সুকুমার সেনের উদ্ধৃতি   
চন্দ্রশেখর নিয়ে যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য ও দ্বারেশচন্দ্র শর্ম্মাচার্য্যর উদ্ধৃতি  
চন্দ্রশেখর আচার্য্য সম্বন্ধে দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি   
চন্দ্রশেখর ও শশীশেখর কি অভিন্ন পদকর্তা?     
অনির্দিষ্ট চন্দ্রশেখর (?) ও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পদ     
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি   
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
.
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি -                                   পাতার উপরে . . .  
শিক্ষাবীদ, সাহিত্যিক, গবেষক ও প্রাচীন পুথির সংগ্রাহক,
শ্রী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, সুরেশচন্দ্র
সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ, ১৩২৫ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯১৮), তাঁর “সঙ্গীত শাস্ত্রের
একখানি প্রাচীন গ্রন্থ” প্রবন্ধে লিখেছেন . . .

“. . .
বৈষ্ণব পদাবলীর মত সুন্দর জিনিস বঙ্গসাহিত্যে আর নাই। কাণের ভিতর দিয়া মরমে পশিয়া প্রাণ
আকুল করিয়া তুলিতে পারে, এমন সুধাস্রাবী ঝঙ্কার বৈষ্ণব পদাবলী ভিন্ন বাঙ্গালায় আর কিছুতে নাই
।”
কবি চন্দ্রশেখর - তিনজন চন্দ্রশেখরের
সম্বন্ধে জানা যায়।
চন্দ্রশেখর আচার্য্য। চৈতন্য সমকালীন।
চন্দ্রশেখর দাস। চৈতন্য সমকালীন।
চন্দ্রশেখর। অষ্টাদশ শতকের পদকর্তা
শশিশেখরের অগ্রজ। বৈষ্ণবদাস পরবর্তী।
এই পাতার ভণিতা
চন্দ্রশেখর
.
চন্দ্রশেখর আচার্য্য, চৈতন্য সমকালীন -                                                পাতার উপরে . . .  
ইনি ছিলেন
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অতি অন্তরঙ্গ ভক্ত। ইনি আচার্য্যরত্ন নামে বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছেন।
আত্মীয়তার সূত্রে ইনি ছিলেন
শ্রীচৈতন্যের পূর্বাশ্রমে বিশ্বম্ভরের মেসোমশায়। মাতা শচীদেবীর ভগ্নী মালিনীর
পতি।

বৈষ্ণবদাস সংকলিত শ্রীশ্রীপদতল্পতরুতে তিনটি চন্দ্রশেখর ভণিতার পদ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা প্রায় একমত
যে এই পদগুলি
চৈতন্য সমকালীন এই কবি চন্দ্রশেখর আচার্য্যের রচিত। কিন্তু সুকুমার সেনের মতে
বৈষ্ণবদাসের শ্রীশ্রীপদকল্পতরু এবং দীনবন্ধু দাসের সঙ্কীর্ত্তনামৃতের চন্দ্রশেখর ভণিতার পদকর্ত্তা
ছিলেন নরহরি ঠাকুরের শিষ্য শ্রীখণ্ড-নিবাসী বৈদ্য চন্দ্রশেখর।

জ্যৈষ্ঠ ১২৯৬ বঙ্গাব্দে (জুন ১৮৮৯) প্রকাশিত, জগদীশ্বর গুপ্ত সম্পাদিত,
কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্য  
চরিতামৃতের আদিলীলার ১০ম পরিচ্ছেদ, মূলস্কন্ধ শাখা গণনং, ২৭১-পৃষ্ঠায় রয়েছে আচার্য্য রত্নের নাম
চন্দ্রশেখর . . .

শ্রীআচার্য্য রত্ন নাম এক বড় শাখা ; তাঁর পরিকর তাঁর শাখা উপশাখা।
আচার্য্য রত্নের নাম শ্রীচন্দ্রশেখর ; যাঁর ঘরে দেবীভাবে নাচেন ঈশ্বর


অন্ত্যলীলার ১২শ পরিচ্ছেদ, ১৯৬-পৃষ্ঠায় রয়েছে
শ্রীচৈতন্যর সঙ্গে নীলাচলে গিয়ে দেখা করতে গৌড়ীয়  
ভক্তদের মধ্যে চন্দ্রশেখর আচার্য্য ও তাঁর পত্নী মালিনীর যাত্রার বর্ণনা . . .

এথা গৌরদেশে প্রভুর যত ভক্তগণ ; প্রভু দেখিবারে সবে করিলা গমন।
শিবানন্দ সেন আর আচার্য্য গোঁসাঞি ; নবদ্বীপে সব ভক্ত হৈল এক ঠাঁঞি।
কুলীন গ্রামবাসী আর যত খণ্ডবাসী ; একত্র মিলিলা সব নবদ্বীপে আসি।
নিত্যানন্দ প্রভুরে যদ্যপি আজ্ঞা নাই ; তথাপি দেখিতে চলে চৈতন্য গোঁসাঞী।
শ্রীনিবাস চারি ভাই সঙ্গেতে মালিনী ; আচার্য্য রত্নের সঙ্গে তাঁহার গৃহিণী।
*                *                *                *                *        
চতুর্মাস্য সব যাত্রা কৈল দরশন ; মালিনী প্রভৃতি প্রভুকে কৈল নিমন্ত্রণ।
প্রভুর প্রিয় নানা দ্রব্য আনিয়া দেশ হৈতে ; সেই ব্যঞ্জন করি ভিক্ষা দেন ঘর ভাতে

.
চন্দ্রশেখর দাস, চৈতন্য সমকালীন -                                                      পাতার উপরে . . .  
ইনি ছিলেন
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর এক দীন ভক্ত। বৃন্দাবনে যাবার পথে শ্রীচৈতন্য কাশীধামে তপন মিশ্রর  
বাড়ীতে কিছুদিন থেকেছিলেন সেখানে এই চন্দ্রশেখর দাসও ছিলেন। তিনি পদকর্ত্তা ছিলেন এমন কোন কথার
উল্লেখ জানা যায় নি। জ্যৈষ্ঠ ১২৯৬ বঙ্গাব্দে (জুন ১৮৮৯) প্রকাশিত, জগদীশ্বর গুপ্ত সম্পাদিত,
কৃষ্ণদাস  
কবিরাজের চৈতন্য চরিতামৃতের মধ্যলীলার ১৭শ পরিচ্ছেদ, শ্রীবৃন্দাবন গমনং, ৩৮৭-পৃষ্ঠায় চন্দ্রশেখর দাস
সম্বন্ধে রয়েছে . . .

এই মত নানা সুখে প্রভু আইলা কাশী ; মধ্যাহ্ন স্নান কৈল মণিকর্ণিকায় আসি।
সেই কালে তপন মিশ করে গঙ্গাস্নান ; প্রভু দেখি হইল তাঁর কিছু বিস্ময় জ্ঞান।
*                *                *                *                *
ঘরে লইয়া আইলা প্রভুকে আনন্দিত হঞা ; সেবা করি নৃত্য করে বস্ত্র উড়াইয়া।
*                *                *                *                *
প্রভুর শেষান্ন মিশ্র সবংশে খাইসা ; প্রভু আইলা শুনি চন্দ্রশেখর আইলা।
মিশ্রের কথা তিঁহ প্রভুর নিজ দাস ; বৈদ্য জাতি লিখন বৃত্তি বারাণসী বাস।
আসি প্রভুর পদে পড়ি করেন রোদন ; প্রভু উঠি তাঁরে কৈল আলিঙ্গন।
চন্দ্রশেখর কহে ‘প্রভু বড় কৃপা কৈলা ; আপনে আসিয়া ভৃত্যে দরশন দিলা।
আপন প্রারব্ধে বসি বারাণসী স্থানে ; ‘মায়া’ ;ব্রহ্ম’ শব্দ বিনা নাহি শুনি কাণে।
ষড়্ দর্শন ব্যাখ্যা বিনা কথা নাহি এথা ; মিশ্র কৃপা করি মোরে শুনান কৃষ্ণ কথা।
নিরন্তর দুঁহে চিন্তি তোমার চরণ ; সর্ব্বজ্ঞ ঈশ্বর তুমি দিলে দরশন।
শুনি মহাপ্রভু যাবেন শ্রীবৃন্দাবন ; দিন কত রহি তার ভৃত্য দুইজন’।
মিশ্র কহে প্রভু! যাবৎ কাশীতে রহিবে ; মোর নিমন্ত্রণ বিনা আন্যত্র না মানিবে।
এইমত মহাপ্রভুর দুই ভৃত্যের বশে ; ইচ্ছা নাহি তবু তথা রহিল দিন দশে।
.
চন্দ্রশেখর, শশিশেখরের ভ্রাতা বৈষ্ণবদাস পরবর্তী কবি -                         পাতার উপরে . . .  
বৈষ্ণবদাস পরবর্তী এই কবির কোনও পদ শ্রীশ্রীপদকল্পকরুতে উদ্ধৃত হয় নি। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের তাই
মত। তিনি অষ্টাদশ শতকের কবি এবং তাঁর ভাই
শশিশেখরও খ্যাতনামা পদকর্তা ছিলেন। বৈষ্ণবদাস
পরবর্তী সময়ে তাঁদের কীর্তন খুব জনপ্রিয় হয়েছিল যা বিংশ শতকের শুরুতেও কীর্তনীয়াদের মুখে শোনা
যেতো।

শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ রসকল্পবল্লী বৈষ্ণব পদাবলী সংকলনের রচয়িতা
গোপালদাস বা রামগোপাল দাসের পুত্র  
পীতাম্বর দাসের রসমঞ্জরী গ্রন্থের অনুকরণে,
চন্দ্রশেখর এবং শশিশেখর ভ্রাতৃদ্বয়ের রচিত “নায়িকা রত্নমালা”
গ্রন্থটি ১৩৩৭ বঙ্গাব্দে (১৯৩০ খৃষ্টাব্দ), হুগলী জেলার আলাটীর ভক্তিপ্রভা প্রেস থেকে, মধুসূদন অধিকারীর  
প্রকাশনায় এবং
সতীশচন্দ্র রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন” গ্রন্থের “বর্ণানুক্রমিক কবিপরিচয়”-তে তিনি জানিয়েছেন যে চন্দ্রশেখর এবং  
শশিশেখর ভাতৃদ্বয়ের “নায়িকা রত্নমালা” গ্রন্থে চন্দ্রশেখরের ৪৫টি এবং শশিশেখরের ১৪টি পদ রয়েছে।  
১৯৪৬ সালের
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী গ্রন্থে চন্দ্রশেখরের ৫১টি এবং শশিশেখরের
২৯টি পদ সংকলিত হয়েছে। আশা করা যায় যে সেখানে তাঁদের অন্যান্য সংকলনে প্রাপ্ত পদের সঙ্গে,  
“নায়িকা রত্নমালা” গ্রন্থের সকল পদই সংকলিত হয়েছে। যদিও এ কথা তাঁর “বৈষ্ণব পদাবলী” গ্রন্থে
হরেকৃষ্ণ
মুখোপাধ্যায় কিছু লিখে যান নি। ১৯০০সালে প্রকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “সঙ্গীত-সার-গ্রন্থ”,
১ম খণ্ডে এই
চন্দ্রশেখরের ৩৯টি পদ রয়েছে।

দুর্ভাগ্যবশত
চন্দ্রশেখর এবং শশিশেখর ভ্রাতৃদ্বয়ের রচিত “নায়িকা রত্নমালা” গ্রন্থটি আমরা বহু চেষ্টা করে
যোগাড় করতে বিফল হয়েছি। আমরা এই বইটির খোঁজ করেছি কলকাতা এবং তার আশেপাশে অবস্থিত,
জাতীয় গ্রন্থাগার ও বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ গ্রন্থাগার সহ ২১টি গ্রন্থাগারে, যার মধ্যে ১৪টি ছিল শতবর্ষেরও
অধিক প্রাচীন গ্রন্থাগার!

হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় তাঁর সম্পাদিত বীরভূম বিবরণ ৩য় খণ্ডে বৈষ্ণবদাস পরবর্তী চন্দ্রশেখর সম্বন্ধে   
লিখেছেন যে
শশিশেখরচন্দ্রশেখর জন্মগ্রহণ করেন বীরভূমের কাঁদরা গ্রামে, তাঁরা ছিলেন সহোদর এবং
পিতার নাম গোবিন্দানন্দ ঠাকুর।

শশিশেখরের শিষ্য পদকর্তা
বিশ্বম্ভর, যাঁর একটি পদ বৈষ্ণবদাসের পদকল্পতরুতে উদ্ধৃত রয়েছে, তাঁর একটি
পদে শশিশেখরের বন্দনা থেকে জানা যায় যে
শশিশেখর, চন্দ্রশেখরের ছোট ভাই ছিলেন।

গুরু
শশিশেখরের পদ পদকল্পতরুতে না থাকা সত্বেও শিষ্য বিশ্বম্ভরের পদ রয়েছে। মনে করা হয়  যে  
সম্ভবত বিশ্বম্ভরের বয়স গুরুর থেকে বেশি ছিল। অথবা বিশ্বম্ভরের কথা
বৈষ্ণবদাসের শোনা বা জানা ছিল
অথবা দুজনে পরিচিত ছিলেন। পদকল্পতরুর রচনা অবধি দুই ভাই সম্ভবত পদকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ
করেন নি।

১৯৪৬ সালে প্রকাশিত,
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৮৭-
পৃষ্ঠায় প্রকাশিত পদকর্তা
বিশ্বম্ভরের শশিশেখর-বন্দনা পদে তিনি তাঁর গুরু শশিশেখরের বন্দনার সঙ্গে  
জানিয়েছেন যে শশিশেখর ছিলেন
চন্দ্রশেখরের অনুজ। এই পদটি বৈষ্ণবদাসের পদকল্পতরুতে নেই।

.        
শ্রীশশিশেখর জয় জয়।
চন্দ্রশেখর অনুজ জয় পরম করুণাময়॥
*        *        *        *        *        *
কহ বিশ্বম্ভর                প্রণতি পুরঃসর
.        চরণে শরণাগত দীন

সম্পূর্ণ পদটি পড়তে মিলনসাগরে কবি
বিশ্বম্ভরের বৈষ্ণব পদাবলীর পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . . ।

গৌরপদ-তরঙ্গিণীর সংকলক
জগদ্বন্ধু ভদ্র এবং দীনেশচন্দ্র সেন মনে করতেন যে শশিশেখরেই রায় শেখর
ভণিতায় পদ রচনা করতেন। বৈষ্ণবদাস সংকলিত পদকল্পতরুর সম্পাদক
সতীশচন্দ্র রায় গ্রন্থের ৫ম খণ্ডের
ভূমিকায় বিস্তারিতভাবে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সেই মত কে খণ্ডন করেছেন।

সুকুমার সেন তাঁর ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত বৈষ্ণব পদাবলী গ্রন্থে, “জিতি কুঞ্জর গতি মন্থর” ও "
কাহে তুহুঁ কলহ
করি কান্ত-সুখ তেজলি
”" পদের ক্ষেত্রে লিখেছেন যে কেউ কেউ এই পদের রচয়িতাকে অষ্টাদশ শতকের
পদকর্তা
শশিশেখরের ভাই বলে মনে করেন। তিনি আরও বলেন যে সমার্থক হওয়ার জন্য হয়তো
দুটি নামই এক ব্যক্তির।
.
চন্দ্রশেখর ও শশিশেখর সম্বন্ধে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি -               পাতার উপরে . . .  
মহারাজকুমার মহিমারঞ্জন চক্রবর্তী সম্পাদিত ও হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় দ্বারা সংকলিত “বীরভূম-বিবরণ” ৩য়
খণ্ডে, তিনি চন্দ্রশেখর নিয়ে একটি প্রবন্ধ লেখে। গ্রন্থটি আমরা সংগ্রহ করতে পারিনি। কিন্তু তা থেকে  
চন্দ্রশেখর সম্বন্ধে
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতিটি সতীশচন্দ্র রায় তাঁর সম্পাদিত বৈষ্ণবদাস সংকলিত  
শ্রীশ্রীপদতল্পতরুর ১৯৩১ সালে প্রকাশিত ৫ম খণ্ডের ভূমিকায় তুলে দিয়েছিলেন। আমরা সেখান থেকে  
উদ্ধৃতিটি এখানে তুলে দিচ্ছি . . .

চন্দ্রশেখর ও শশিশেখর দুই সহোদর ভ্রাতা, পিতার নাম গোবিন্দানন্দ ঠাকুর, জন্মভূমি কাঁদরা। মুলুকের  
বিশ্বম্ভর ঠাকুরের সময় ধরিয়া হিসাব করিলে ইহাঁদিগকে মাত্র দেড় শত বত্সরের কিছু অধিক পূর্ব্ববর্ত্তী  
বলিয়া মনে হয়। চন্দ্রশেখর ও শশিশেখরের কোনো পদ পদকল্পতরুতে সংগৃহীত হইয়াছিল কি না,   
নিশ্চিতরূপে বলা যায় না। অনেকে পদকল্পতরুর শেখর ভণিতাযুক্ত পদগুলি রায় শেখরের বলিয়া অনুমান
করেন। আমাদিগের কিন্তু মনে হয়, পদকল্পতরুর সংগ্রহের সময় এই শেখর ভাতৃদ্বয় ও বিশ্বম্ভর  ঠাকুর  
ইহাঁরা তিনজনেই বর্ত্তমান ছিলেন এবং ইহাঁদেরও দুই একটী করিয়া পদ পদকল্পতরুতে সংগৃহীত হইয়াছিল।
তবে ইহাঁরা তখনো তেমন প্রসিদ্ধি লাভ করিতে পারেন নাই বলিয়া বৈষ্ণবদাস ইহাঁদের এধিক পদ সংগ্রহ
করেন নাই। বৈষ্ণবদাসের পর ইহাঁরা জীবিত ছিলেন এবং খ্যাতি লাভ করিয়াছিলেন, এই জন্যই পরবর্ত্তী
পদসংগ্রহগ্রন্থে ইহাঁদের অনেক পদ স্থান পাইয়াছিল
।”

পদকল্পতরুতে প্রাপ্ত চন্দ্রশেখরের সবকটি (তিনটি) পদই বাংলা ভাষায় লেখা। ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত,
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলনে তিনি চন্দ্রশেখর আচার্য্যের নামে, ব্রজবুলিতে
রচিত “আয়ল মধুপুরতে ব্রজমোহন” শিরোনামের পদটি রেখেছেন। পদটি তিনি কোথায় পেয়েছিলেন বা কেন
পদটিকে চন্দ্রশেখর আচার্য্যের নামে তুলেছেন তার কোনও ব্যাখ্যা তিনি দেননি। সেক্ষেত্রে পদটি
বৈষ্ণবদাস
পরবর্তী
শশিশেখরের ভ্রাতা চন্দ্রশেখরের অথবা কোনও অজ্ঞাত চন্দ্রশেখর নামের পদকর্তার পদ হতেও
পারে।
.
চন্দ্রশেখর ও শশিশেখর সম্বন্ধে দীনেশচন্দ্র সেনের উদ্ধৃতি -                        পাতার উপরে . . .  
দীনেশচন্দ্র সেন রায়বাহাদুরে “বঙ্গভাষা ও সাহিত্য” ৬ষ্ঠ সংকলনই তাঁর জীবিত অবস্থায় শেষ সংকলন।
এই সংকলনের  ভূমিকায়  তিনি নিজেই বলে গিয়েছেন যে ৫ম ও ৬ষ্ঠ  সংস্করণের মধ্যে  অনেক  প্রভেদ  
রয়েছে। এই সংকলনে পুস্তকটিকে তিনি আমূল সংশোধন করেছেন। এই গ্রন্থের ২৯৩-পৃষ্ঠায় শশীশেখর ও
চন্দ্রশেখরের সম্বন্ধে লিখেছেন . . .

শশিশেখরের সহোদর ভ্রাতা চন্দ্রশেখর। দুইজনই প্রসিদ্ধ কবি। বর্ত্তমান কীর্ত্তন গানগুলি দুই ভ্রাতার পদাবলী
দ্বারাই বিশেষরূপে পুষ্ট। ইহাঁদের পিতার নাম গোবিন্দদাস ঠাকুর। ইহাঁরা কাঁদর বিখ্যাত ‘মঙ্গল’ বংশীয়  
ব্রাহ্মণ কুল অলঙ্কৃত করিয়াছিলেন। মঙ্গল ঠাকুর ছিলেন গদাধর পণ্ডিতের শিষ্য, জ্ঞানদাসের সমসাময়িক।
মুলুকের বিখ্যাত পজকর্ত্তা বিশ্বম্ভর ঠাকির ছিলেন শশীশেখরের শিষ্য এবং তাঁহারই পদে জানা যায় যে  
শশীশেখর চন্দ্রশেখরের সহোদর ছিলেন। বিশ্বম্ভর শশিশেখরের বন্দনা লিখিয়া তাঁহার পদাবলীর মুখবন্ধ
করিয়াছেন। ইহারা বৈষ্ণবদাসের (পদকল্পতরুর সঙ্কলয়িতা) কিছু পূর্ব্বে বিদ্যমান ছিলেন। আজকাল  
কীর্ত্তনিয়ারা শশীশেখরের পদাবলীই বিশেষ ঘটা করিয়া গাহিয়া থাকেন। সম্ভবতঃ ইঁহাদের একজনই “রায়  
শেখর” উপাধিতে পদ রচনা করিতেন
।”
.
চন্দ্রশেখর ও শশিশেখর রচনা সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি -               পাতার উপরে . . .  
গৌরপদ-তরঙ্গিণীর সংকলক
জগদ্বন্ধু ভদ্র এবং দীনেশচন্দ্র সেন মনে করতেন যে শশিশেখরেই রায় শেখর  
ভণিতায় পদ রচনা করতেন।
বৈষ্ণবদাস সংকলিত পদকল্পতরুর সম্পাদক সতীশচন্দ্র রায় গ্রন্থের ৫ম খণ্ডের
ভূমিকায় বিস্তারিতভাবে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সেই মত কে খণ্ডন করেছেন।

১৯২৬ সালে প্রকাশিত,
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত "অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী" সংকলনের “পদকর্ত্তাগণ ও  
তাঁহাদিগদের পদাবলী”তে
চন্দ্রশেখরশশিশেখর ভাতৃদ্বয়ের পদাবলী সম্বন্ধে লিখেছেন . . .

চন্দ্রশেখর ও শশিশেখরের সময় ও ব্যক্তিত্ব সম্বন্ধে রায় শেখরের প্রসঙ্গেই আলোচনা করা হইয়াছে ;  
সুতরাং আমরা তাঁহাদিগের রচনা সম্বন্ধেই এখানে দুই চারিটি কথা বলিব। শশিশেখর বা চন্দ্রশেখর খুব  
উচ্চশ্রেণীর পদ-কর্ত্তা নহেন। তথাপি তাঁহাদের পদে ছন্দের এমন একটি বিচিত্র ঝঙ্কার ও খণ্ডিতা-নায়িকা  
শ্রীরাধার উক্তিতে এমন একটা বিদ্রূপের সতেজ ভঙ্গী আছে যে, পদগুলি শোনা মাত্রেই শ্রোতার চিত্তে একটা
মোহের সঞ্চার হয়। এ জন্য ঐ পদগুলি কীর্ত্তনিয়াদিগের বড় প্রিয় জিনিস। ‘কীর্ত্তন-গীত-রত্নাবলী’ প্রভৃতি  
কোনও কোনও সংগ্রহ-গ্রন্থে ইহাঁদিগের কয়েকটি পদের বিচিত্র ছন্দের প্রতি সম্পাদকদিগের অনবধানতা হেতু,
পদ গুলির বড়ই দুরবস্থা ঘটিয়াছে ; সে জন্যই আমরা পদ গুলিকে সংশোধিত ও পাদ-টীকায়  ছন্দের  
বিশ্লেষণ করিয়া পদ-রত্নাবলীতে সন্নিবেশিত করিয়াছি। এ স্থলে ইহাও বলা আবশ্যক যে, আমাদিগের  
সংগৃহীত চন্দ্রশেখর ভণিতার সকলগুলি পদই দ্বিতীয় চন্দ্রশেখরের বটে
।”
.
চন্দ্রশেখর সম্বন্ধে রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্রের উদ্ধৃতি -                          পাতার উপরে . . .  
১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও
খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ
খণ্ডের ভূমিকার ৩৭-পৃষ্ঠায়
রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র, চন্দ্রশেখরের পরিচয়ে লিখেছেন . . .

চন্দ্রশেখর - বৈষ্ণব সাহিত্যে মহাপ্রভুর কৃপাপাত্র, দীন ভক্ত, বৈদ্যবংশজাত এক চন্দ্রশেখর ব্যতীত আরও
দুইজন চন্দ্রশেখরের উল্লেখ দেখা যায়। দ্বিতীয় চন্দ্রশেখর ছিলেন শ্রীচৈতন্যের মাসীপতি। ইনি মহাপ্রভুর
অন্তরঙ্গ ভক্ত ছিলেন এবং ইনি আচার্য্য রত্ন উপাধি দ্বারাই অধিক পরিচিত। তৃতীয় চন্দ্রশেখরই পদকর্ত্তা।
ইনি বৈষ্ণবদাস পরবর্ত্তী সময়ের কবি
।”

এই উদ্ধৃতিটি একটু বিস্ময়কর।
বৈষ্ণবদাস পরবর্ত্তী সময়ের কবি, তৃতীয় চন্দ্রশেখরই যদি পদকর্ত্তা হন,
তাহলে
বৈষ্ণবদাস রচিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুতে কোন চন্দ্রশেখরের পদ রয়েছে?
.
চন্দ্রশেখর সম্বন্ধে দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্ধৃতি -                                পাতার উপরে . . .  
আষাঢ় ১৩৬৬ বঙ্গাব্দে (জুন ১৯৫৯ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন” গ্রন্থের
পরিশিষ্টের বর্ণানুক্রমিক কবিপরিচয়, ২৩৩-পৃষ্ঠায়
চন্দ্রশেখর সম্বন্ধে লিখেছেন . . .

অষ্টাদশ শতকের শেষার্ধের বৈষ্ণব পদকর্তা। জন্মভূমি কাঁদড়া। পিতার নাম গোবিন্দানন্দ ঠাকুর। ভ্রাতা
শশিশেখরও ছিলেন পদকর্তা। দুজনেই ব্রজবুলি পদের ছন্দোনিপুণ কবি। নায়িকা রত্নমালা সংকলনে
চন্দ্রশেখরের স্বরচিত ৪৫টি পদ বর্তমান। পদাবলীতে আর একজন চন্দ্রশেখর ছিলেন চৈতন্যের অন্তরঙ্গ
পরিকর চন্দ্রশেখর আচার্য ; ইনি কোমল ও প্রাঞ্জল বাংলা ভাষায় গৌরাঙ্গ বিষয়ক পদের রচয়িতা
।”
.
অনির্দিষ্ট চন্দ্রশেখর (?) ও কয়েকটি উল্লখযোগ্য পদ -                             পাতার উপরে . . .  
কয়েকটি পদ কোন চন্দ্রশেখরের তা নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। আমরা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতেও পারছি না।
সেই পদগুলোর সম্বন্ধে প্রাপ্ত তথ্য নিচে দেওয়া হলো। যার থেকে তিনটি পদ আমরা অনিশ্চিত চন্দ্রশেখরের
পাতায় রেখেছি।  

১। শ্রীকৃষ্ণের জন্মলীলার “হের দেখসিয়ে নয়ন ভরিয়ে” পদটি রয়েছে ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র
ব্রজবাসী ও
খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ডের ৪০-পৃষ্ঠায়।  চন্দ্রশেখর
আচার্য্যের সব পদই বাংলা ভাষায় এবং গৌরাঙ্গ বিষয়ক। অপরদিকে
বৈষ্ণবদাস পরবর্তী চন্দ্রশেখরের পদ
ব্রজবুলিতে এবং রাধাকষ্ণ বিষয়ক।

এই পদটির প্রথম কলিটি কেবল ব্রজবুলি মিশ্রিত ভাষায়। বাকি পদটি বাংলায় লেখা পদ এবং গৌর  
বিষয়ক।
খগেন্দ্রনাথ মিত্র তাঁর গ্রন্থে এই পদটির টীকায় লিখেছেন---লোচন দাসের একটি পদের আরম্ভে এই
দুইটি কলি আছে। অন্য কলিগুলি স্বতন্ত্র। তাঁর “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ডে চন্দ্রশেখরের পরিচয়-তে স্পষ্ট
লিখেছেন যে
বৈষ্ণবদাস পরবর্তী চন্দ্রশেখর ছাড়া কার কেউ পদকর্তা ছিলেন না। প্রাপ্ত পদাবলীর বিষয় ও
ভাষা, নির্দেশ করছে যে এটি চন্দ্রশেখর আচার্য্যের পদ হতে পারে। প্রথম কলিটি  লোকমুখে খানিকটা বদলে
গেছে অথবা
লোচন দাসের পদের সঙ্গে মিলে গেছে।

আবার, চন্দ্রশেখর আচার্য্য ছিলেন
শ্রীচৈতন্যের পূর্বাশ্রমের মাসি-পতি। আমরা জানি না যে চন্দ্রশেখর  
আচার্য্যের স্ত্রী শচীদেবীর অগ্রজা না অনুজা। যদি অগ্রজার পতি হয়ে থাকেন,
শ্রীচৈতন্যের ভক্ত  হওয়া  
সত্বেও, তিনি কি ভণিতার নীচের কলিটি লিখবেন?  যদি অনুজা অথবা চৈতন্য পরবর্তী কোনও  পদকর্তা  
হয়ে থাকেন তাহলে এই কলিটি আশা করা যায় . . .
চন্দ্রশেখরে,                কহয়ে কান্দিয়া,
.        শচীর চরণে শুয়ে

নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না বলে আমরা এটিকে অনিশ্চিত চন্দ্রশেখরের পদ বলে তুললাম।

২। “আয়ল মধুপুরতে ব্রজমোহন” পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৫২-পৃষ্ঠায় দেওয়া রয়েছে। তিনি এই ব্রজবুলিতে রচিত পদটি
চন্দ্রশেখর আচার্যের পদ বলে উল্লেখ করেছেন। পদটি কোথায় পেয়েছিলেন বা কেন পদটিকে চন্দ্রশেখর
আচার্য্যের নামে তুলেছেন তার কোনও ব্যাখ্যা তিনি দেননি। দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে - “
চন্দ্রশেখর
আচার্য কোমল ও প্রাঞ্জল বাংলা ভাষায় গৌরাঙ্গ বিষয়ক পদের রচয়িতা
”। পদকল্পতরুতে প্রাপ্ত চন্দ্রশেখরের
সবকটি পদই তাই। ব্রজবুলিতে রচিত এই পদটি সেক্ষেত্রে
বৈষ্ণবদাস পরবর্তী শশিশেখরের ভ্রাতা  
চন্দ্রশেখরের পদ হতেও পারে। এই পদটি পদকল্পতরুতে নেই। তাই এই পদটিকে আমরা অনির্দিষ্ট  
চন্দ্রশেখরের পাতায় রাখলাম।

৩। “ইয়াদিকির্ধ গুণসমুদ্র শত সাধু রাধা” পদটি আমরা পেয়েছি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের
প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৬৩-পৃষ্ঠায়। এই পদটি সম্বন্ধে আমরা
কোনও তথ্য পাইনি। নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভর হচ্ছে না, এই পদটি কোন চন্দ্রশেখরের। তাই এই পদটিকে
আমরা অনির্দিষ্ট চন্দ্রশেখরের পাতায় রাখলাম।

৪। “স্বর্ণ-বর্ণ বিবর্ণ ভৈ গেল” পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি নিমানন্দ দাসের “পদরসসার”
গ্রন্থের পদ। খগেন্দ্রনাখ মিত্র তাঁর ও নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসীর সহ সম্পাদিত “শ্রীপদামৃতমাধুরী”, ২য় খণ্ডে এই
পদটি বৈষ্ণবদাস পরবর্তী কবি চন্দ্রশেখরের রচনা বলেছেন। এই পদটি আমরা
বৈষ্ণবদাস পরবর্তী অষ্টাদশ
শতকের শশিশেখরের অগ্রজ কবি চন্দ্রশেখরের পাতায় তুলেছি।

৫। “কাহে তুহুঁ কলহ করি কান্ত-সুখ তেজলি” পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেনের  “বৈষ্ণব  
পদাবলী” গ্রন্থের ৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সেই গ্রন্থের ৪১-পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন যে এই পদটিকে
কেউ কেউ অষ্টাদশ শতকের পদকর্তা শশিশেখরের ভাই বলে মনে করেন। আরও বলেছেন যে সমার্থক
হওয়ার জন্য হয়তো দুটি নামই এক ব্যক্তির। এই পদটি আমরা
বৈষ্ণবদাস পরবর্তী অষ্টাদশ শতকের
শশিশেখরের অগ্রজ কবি চন্দ্রশেখরের পাতায় তুলেছি।

৬। “জিতি কুঞ্জর গতি মন্থর” পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত  শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা গ্রন্থের, ৩৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সুকুমার সেন  তাঁর ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত  বৈষ্ণব  
পদাবলী গ্রন্থের ৯৫-পৃষ্ঠায় লিখেছেন যে এই পদটিকে কেউ কেউ অষ্টাদশ শতকের পদকর্তা  শশিশেখরের
ভাই বলে মনে করেন। আরও বলেন যে সমার্থক হওয়ার জন্য হয়তো দুটি নামই এক ব্যক্তির। এই পদটি
আমরা
বৈষ্ণবদাস পরবর্তী অষ্টাদশ শতকের শশিশেখরের অগ্রজ কবি চন্দ্রশেখরের পাতায় তুলেছি।
.
চন্দ্রশেখর সম্বন্ধে যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য ও দ্বারেশচন্দ্র শর্ম্মাচার্য্য উদ্ধৃতি -     পাতার উপরে . . .  
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত (গ্রন্থে প্রকাশকাল দেওয়া হয়নি অথবা আমাদের সংগ্রহের গ্রন্থটিতে
প্রকাশকাল লেখা পাতাটি নেই) যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য ও  দ্বারেশচন্দ্র শর্ম্মাচার্য্য সম্পাদিত, রায়শেখরের
পদাবলী সংকলনের ভূমিকার “ঘ” পাতায় তাঁরা এই বিষয়টি ছুঁয়ে গিয়েছেন এইভাবে . . .

“. . .
শেখর ভণিতাকে কেহ কেহ আবার চন্দ্রশেখর কিংবা শশিশেখর ধরণের কোন নামের সংক্ষিপ্ত
অংশবিশেষ মনে করিয়া থাকেন কিন্ত ইহার কোন প্রমাণ বা উল্লেখ কোথাও নাই
। . . .”

এই গ্রন্থটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরে তাঁকে উত্সর্গ করে
প্রকাশিত করা হয়। সুতরাং নিশ্চিতভাবে বইটির প্রকাশকাল ২৩শে জুন ১৯৫৩ তারিখের পরবর্তী কোন
সময়ে।
.
চন্দ্রশেখর ও শশিশেখর কি অভিন্ন পদকর্তা? -                                       পাতার উপরে . . .  
চন্দ্রশেখর নামের কয়জন পদকর্তা ছিলেন তা নিয়ে আমরা পূর্ব্বেই আলোচনা করেছি। কিন্তু
চন্দ্রশেখর
শশিশেখর নামের দুইজন পদকর্তা কে নিয়ে আরেক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল উনিশ শতকের বৈষ্ণব
পদাবলীর বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। তাঁদের কারও কারও মনে হয়েছিল যে এই দুইজন বোধহয় একই ব্যক্তি।
শশি ও চন্দ্র এই সমার্থক নাম দুটি ব্যবহার করেছেন ছদ্মনাম হিসেবে। কারও কারও মনে হয়েছে যে
শশিশেখরচন্দ্রশেখর আসলে পদকর্তা রায়শেখরেরই অন্য দুটি ভণিতা। গৌরপদতরঙ্গিণীর সংকলক ও
সম্পাদক
জগদ্বন্ধু ভদ্রদীনেশচন্দ্র সেন রায়বাহাদুর মনে করতেন যে পদকর্তা রায় শেখরেরই প্রকৃত নাম
শশিশেখর ও অপর নাম চন্দ্রশেখর।

১৯২৯ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়
হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদিত বীরভূম বিবরণ ৩য় খণ্ড। তিনিই সেই গ্রন্থে
প্রথম উল্লেখ করেন যে
শশিশেখরচন্দ্রশেখরের নিবাস বীরভূমের কাঁদরা গ্রামে ছিল এবং তাঁরা ছিলেন
সহোদর। বিশেষজ্ঞ মহল এই তথ্যই মেনে নিয়েছেন। এই বিষয়টি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের ঘটনাক্রম,  আমরা  
নীচে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

১৯০৪ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত গৌরপদতরঙ্গিণীর সংকলক ও সম্পাদক
জগদ্বন্ধু ভদ্র তাঁর গ্রন্থের পদকর্তার পরিচয়ে
চন্দ্রশেখরশশিশেখর সম্বন্ধে নিম্মলিখিত উদ্ধৃতি দিয়েছেন। আমরা তা পেয়েছি ১৯৩৪ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত
মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত গৌরপদ তরঙ্গিণী, ২য় সংস্করণের ১৬৬-পৃষ্ঠা থেকে। লিখেছিলেন . . .

"জগবন্ধুবাবু কিন্তু অন্য কথা বলেন। তিনি রায়শখরের পরিচয়ে লিখিয়াছেন, 'পদগ্রন্থে শেখর, রায়-শেখর,
কবি-শেখর, দুঃখি-শেখর ও নৃপ-শেখর ভণিতাযুক্ত পদ প্রাপ্ত হওয়া যায়। ইঁহারা পাঁচজনই যদি এক ও  
অভিন্ন হয়েন, তবে রায় ও নৃপ এই দুই উপাধি হইতে বুঝা যায়, ইনি ধনীর সন্তান,--রাজা বা জমিদার ছিলেন।
অনেকের মতে ইঁহার প্রকৃত নাম শশিশেখর ও অপর নাম চন্দ্রশেখর
।' ”

দীনেশচন্দ্র সেন রায়বাহাদুর তাঁর ১৯০৮ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, “বঙ্গভাষা ও সাহিত্য” গ্রন্থের ৩য় সংস্করণের
৩১০-পৃষ্ঠায় পদকর্তা রায়শেখর সম্বন্ধে লিখেছেন . . .

রায়শেখর - প্রকৃত নাম শশিশেখর, অপর নাম চন্দ্রশেখর ; বর্দ্ধমান পড়ান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ইনি
খণ্ডবাসী রঘুনন্দন গোস্বামীর শিষ্য ও নিত্যানন্দ-বংশসম্ভূত। ইনি গোবিন্দদাসের পরবর্ত্তী
।”

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে এই গ্রন্থের ৩য় সংস্করণ লেখার সময় পর্যন্ত
দীনেশচন্দ্র সেন,  জগদ্বন্ধু ভদ্রর মতোই
মনে করতেন যে
শশিশেখরচন্দ্রশেখর এক ও অভিন্ন ব্যক্তি এবং চন্দ্রশেখর শশিশেখরের ছদ্মনাম।
বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, ৪র্থ সংস্করণ আমাদের সংগ্রহে নেই তাই বলতে পারছি না যে সেই  সংস্করণে  
দীনেশচন্দ্র সেন চন্দ্রশেখর ও শশিশেখর সম্বন্ধে ঠিক কি লিখেছিলেন। কিন্তু ৬ষ্ঠ সংস্করণে দেখা যাচ্ছে যে
তিনি চন্দ্রশেখর ও শশিশেখরকে ভিন্ন পদকর্তা হিসেবে মেনে নিয়েছেন। তাঁর ৬ষ্ঠ সংস্করণের  উদ্ধতি  
আমরা আগেই এই পাতায়, উপরে তুলে দিয়েছি। তা পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .।

১৯২৬ সালে প্রকাশিত,
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত অপ্রকাশিত পদ-রত্নাবলী সংকলনের “পদকর্ত্তাগণ ও  
তাঁহাদিগদের পদাবলী”-তে চন্দ্রশেখর ও শশিশেখর ভাতৃদ্বয়ের পদাবলী সম্বন্ধে তিনি বিস্তারিতে লিখেছেন।
এখানে তিনি, জগদ্বন্ধু ভদ্র এবং
দীনেশচন্দ্র সেনের ভাবধারায়, চন্দ্রশেখরশশিশেখর যে এক ও অভিন্ন
ব্যক্তি, এই মতের খণ্ডন করেছেন এভাবে . . .

“. . .
গৌর-পদ-তরঙ্গিণী গ্রন্থের ভূমিকায় স্বর্গ-গত জগদ্বন্ধু ভদ্র মহাশয় লিখিয়াছেন যে, চন্দ্রশেখর,  শশিশেখর
ও রায় শেখর অভিন্ন পদ-কর্ত্তা। বঙ্গভাষা ও সাহিত্য গ্রন্থে দীনেশবাবুও ঐ মতই গ্রহণ করিয়াছেন। জগদ্বন্ধু
বাবু কিম্বা দীনেশ বাবু ঐ মতের পোষকতায় কোন প্রমাণের উল্লেখ করেন নাই। শশিশেখর রায় শেখরের
অনেক পরবর্ত্তী পদ-কর্ত্তা ; তাঁহার ‘আওত পরপঞ্চক শঠ’, ‘তরুণারুণ নয়নাম্বুজ’, ‘অতি শীতল মলয়ানিল’  
ইত্যাদি ঝঙ্কারময় বিচিত্র পদগুলি এখন প্রায় সকল কীর্ত্তনিয়ার মুখে শোনা গেলেও পদকল্পতরুর বিরাট  
সংগ্রহে ঐ পদগুলি কিম্বা ‘শশিশেখর’ ভণিতার কোনও পদই উদ্ধৃত হয় নাই। কিন্তু পদরত্নাকর পদরসসার
প্রভৃতি পরবর্ত্তী সংগ্রহে শশিশেখরের পদ পাওয়া যায় ; সুতরাং শশিশেখরকে পদকল্পতরুর সঙ্কলয়িতা  
বৈষ্ণব দাস ও পদরত্নাকরের সম্পাদক কমলাকান্তের মধ্যবর্ত্তী অর্থাৎ আনুমানিক দেড় শত বত্সরের অধিক
প্রাচীন বলিয়া মনে করার কারণ দেখা যায় না। চন্দ্রশেখরের নামে একাধিক পদ-কর্ত্তা ছিলেন। অমিয়  
নিমাইচরিত প্রভৃতি গ্রন্থ-প্রণেতা, শ্রদ্ধাস্পদ স্বর্গগত শিশির বাবুর ন্যায় অনেক অভিজ্ঞ ব্যক্তির মতে গৌরাঙ্গ
প্রভুর নদীয়া-লীলার অন্যতম সহচর ও তাঁহার মাতৃস্বসুপতি চন্দ্রশেখর আচার্য্যই চন্দ্রশেখর নামক প্রাচীন পদ-
কর্ত্তা ; এই চন্দ্রশেখরের রচিত শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস-গ্রহণ বিষয়ক কয়েকটি পদ পদকল্পতরুতে সন্নিবেশিত
হইয়াছে। অপর চন্দ্রশেখর অনেক পরবর্ত্তী কবি। শশিশেখরের ন্যায় ইহারও ‘কাহে তুহুঁ কলহ করি’, ‘মান
কয়লি তো কয়লি’ ইত্যাদি বিচিত্র পদগুলি পদকল্পতরুতে নাই, কিন্তু পদরত্নাকর ও পদরসসার প্রভৃতি  
পরবর্ত্তী সংগ্রহে সন্নিবেশিত হইয়াছে। এই চন্দ্রশেখর ও পূর্বোক্ত শশিশেখরের সময়-গত ও রচনা-গত সাদৃশ্য
দেখিয়াই বোধ হয়, উভয়ে অভিন্ন এই মতটি সৃষ্ট হইয়া থাকিবে। ‘শশি’ ও ‘চন্দ্র’ একার্থ বাচক শব্দ হইলেও
‘শশিশেখর’ নামক কোন ব্যক্তিকে যদৃচ্ছাক্রমে কখনও ‘শশিশেখর’ কখনও ‘চন্দ্রশেখর’ নাম ব্যবহার করিতে
দেখা যায় না। শশিশেখর ও চন্দ্রশেখর একার্থক দুইটি নাম বলিয়া একটির ওরফে আর একটি নাম ব্যবহৃত
হওয়াও সম্ভবপর বোধ হয় না ; সুতরাং বিশ্বাসযোগ্য বিরুদ্ধ প্রমাণের অভাবে আমরা শশিশেখর ও এই  
দ্বিতীয় চন্দ্রশেখরকে আন্দাজ দেড় শত  বত্সর প্রাচীন  দুইজন  বিভিন্ন  পদ-কর্ত্তা  বলিয়াই  মনে করি।  
শশিশেখর বা চন্দ্রশেখর নামের সংক্ষেপ শেখর হইলেও শুধু শেখর নামের পদগুলি ইহাঁদিগের পদ অপেক্ষা
অনেক প্রাচীন ও রায়শেখরের রচণার লক্ষণাক্রান্ত। রায় শেখরের স্বরচিত পদ-পূর্ণ ‘দণ্ডাত্মিকা পদাবলী’ গ্রন্থে
রায় শেখর, কবিশেখর, নব কবিশেখর, রায় ও শেখর --- এই কয়েকটি ভণিতার পদই পাওয়া যায়।   
উল্লিখিত বিষয়গুলির প্রতি প্রণিধান করিলে রায় শেখর, শশিশেখর এ চন্দ্রশেখর যে, বিভিন্ন পদ-কর্ত্তা এবং
ব্রজবুলি ও বাংলা---উভয়-বিধ রচনায় তুল্য কৃতিত্ব প্রদর্শন করিয়াছেন, তাহা পূর্ব্বেই কবিশেখর প্রসঙ্গে বলা
হইয়াছে
।”

পরবর্তী সকল পদাবলী সাহিত্যের বিশেষজ্ঞগণই এই মত মেনে নিয়েছেন, যা উপরে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের  
উদ্ধৃতিতে আমরা দেখিয়েছি।
.
চন্দ্রশেখর সম্বন্ধে সুকুমার সেনের উদ্ধৃতি -                                            পাতার উপরে . . .  
১৯৪০ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেনের বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস ১ম খণ্ড, ১৩ পরিচ্ছেদ, বৈষ্ণব
গীতিকবিতা অধ্যায়ের, অন্যান্য পদকর্ত্তার মধ্যে ২৫০-পৃষ্ঠায় তিনি ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তিনি
পদকল্পতরুর চন্দ্রশেখর ভণিতার পদকর্তা সম্বন্ধে লিখেছেন . . .

পদকল্পতরুতে চন্দ্রশেখর ভণিতার যে তিনটি পদ আছে তাহা শশিশেখরের ভ্রাতা প্রসিদ্ধ পদকর্ত্তা
চন্দ্রশেখরের পূর্ব্ববর্ত্তী কোন কবির রচিত। পদ তিনটির মধ্যে দুইটি গৌরচন্দ্রিকা ; এই দুইটি পদ পাঠ
করিলে অনুমান হয় যে, কবি মহাপ্রভুর সমসাময়িক ছিলেন। মহাপ্রভুর মেসো চন্দ্রশেখর আচার্য্যরত্ন এই
পদগুলি রচনা করিয়াছিলেন, ইহাই প্রচলিত ধারণা। আমার মনে হয়, এই পদকর্ত্তা নরহরি ঠাকুরের শিষ্য
শ্রীখণ্ড-নিবাসী বৈদ্য চন্দ্রশেখর ভিন্ন আর কেহই নহেন। পদকল্পতরু-ধৃত তৃতীয় পদটি হইতে স্পষ্টই জানা
যায় যে ইনি মহাপ্রভুর অন্যতম প্রধান পারিষদ চন্দ্রশেখর আচার্য্যরত্ন হইতে পারেন না। সঙ্কীর্ত্তনামৃতে
চন্দ্রশেখর ভণিতায় যে দুইটি ব্রজবুলি পদ আছে, তাহাও এই শ্রীখণ্ডীয় চন্দ্রশেখরের রচনা বলিয়া অনুমান
করি
।”