| কবি চূড়ামণি দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| তিন প্রহর নিশি মিশ্র পিড়াএ বসি কবি চূড়ামণি দাস এই পদটি আনুমানিক ১৫৫০ খৃষ্টাব্দে, চূড়ামণিদাস বিরচিত এবং সুকুমার সেন দ্বারা ১৯৫৭ খৃষ্টাব্দে সম্পাদিত, কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি দ্বারা প্রকাশিত, “গৌরাঙ্গ-বিজয়” অথবা “ভূবনমঙ্গল” গ্রন্থের ১ম খণ্ড, ১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদে রয়েছে . . . নিমাঞি-এর অন্নপ্রাশন। ॥ ধানশ্রী রাগঃ॥ তিন প্রহর নিশি মিশ্র পিড়াএ বসি ডাকিয়া ত নিজ নিজ জনে। ঘর উঠান জত চত্বর নাছ পথ লোক দেই করাহ মার্জনে॥ তোরণ চন্ত্রাতক টানাইতে দেহ লোক কদলী রোয়াহ সারি সারি। রদ্ধনের কারণ রান্ধনী করুক স্নান গঙ্গাজল আন ঘড়া ভরি॥ শেষ দেখিয়া নিশি প্রাতঃক্রিয়া করি আসী ব্রাহ্মী মুহূর্ত্তে করি স্নান। আহ্নিক ক্রিয়া করি তর্পণ জপাচরি মন্দিরে করিল পয়াণ। জতেক ব্রাহ্মণ ত্বরাএ গমন আসিয়া মিশ্রের মন্দিরে। শত শত জন পাখালী চরণ জার জে যোগ্য কার্য্য করে॥ বিবিধ বাজন বাজাএ সুমোহন বাজায়ে নানা বাদ্যকরে। কাহার কখন না বুঝে কোন জন না কহে বুঝে ঠারে ঠোরে॥ ভাটঘটা জত বৈতাল অবভট্ট সিংঘল পিঙ্গল সুছান্দে। বিবিধ যন্ত্র মেলি কলান্ত কৃষ্ণ-কেলি গাএ ত ধ্রুপদ-প্রবন্ধে॥ বরাঙ্গনা জত মঙ্গল গাএ ত ব্রাহ্মণ বেদধ্বনি করে। বিপ্র বেদবিধি শ্রাদ্ধ যজ্ঞ আদি করএ মিশ্র পুরন্দরে॥ আনি বিশ্বম্ভরে উদ্বর্ত্তন করে করএ বিধি মহাস্নানে। পরাই বসন এ মাল্য-চন্দন আভরণ পরিধানে॥ যজ্ঞ শ্রাদ্ধ আদি করাই বেদবিধি প্রবেশ করাই মন্দিরে। অতি সে শুভক্ষণ অন্ন-পরাশন করব প্রভু বিশ্বম্ভরে॥ হাসি বিশ্বম্ভর বসি পিঠোপর বিবিধ উপচার দেখি। করি দৃকপাত সভায়ে দেহি হাথ লীলাএ কাহঁ না উপেখি॥ জা দেই জাহা খাই অঙ্গুলি দেখাই তাহা সে আনিবারে কহে। আন জে আনএ না মুখ মেলয়ে নানা সে নানা করি রয়ে॥ করিয়া ভোজন শ্রীশচীনন্দন আচাই মুখশুদ্ধি করে। পরিয়া বসন ভূষিত বেশন পিঁড়া আসন উপরে॥ মাল্য চন্দন গুবাক জেবা ধন জারা জে ঠলে (?) তা দেএ। মিশ্র জগন্নাথ করিয়া দৃকপাত আদর পুরস্কার নেএ॥ অন্ন-পরাশন শ্রীশচীনন্দন আনন্দ নদীয়া নগরে। রজত কাঞ্চন বিবিধ আয়োজন দেই প্রতি ঘরে ঘরে॥ নবদ্বীপ-বাসী মিশ্র-ঘরে আসি আদরে দেখি বিশ্বম্ভরে। এ মাল্য-চন্দন রজত কাঞ্চন যৌতুক নানা উপচারে॥ অদৈত আচার্য্য মহা অধ্যাপক বিবিধ অলঙ্কার আনি। প্রেমানন রঙ্গে দেএ শ্রীঅঙ্গে ভাবে এ দিগ না আানি॥ আজি সে শুভ ভেল ত্রিবিধ তাপ গেল দেখি শ্রীচান্দ-মুখে। কলি-কালসর্প হরিয়া সর্ব্ব দর্প মাধবেন্দ্র দিল সুখে॥ কহিতে প্রেমে মাতি যেন মত্ত হাথি মহাভাবে প্রভু নাচে। দেখি সর্ববলোক পাসরে দুঃখশোক নাচে অদ্বৈতের পাছে॥ জতেক পণ্ডিত এ লাজ-খণ্ডিত নাচিতে জাএ গড়াগড়ি। অট্ট অট্ট হাস গলিত অঙ্গবাস হাথের পুথি ভূমি পড়ি॥ দেখি অদ্ভুত ঠাকুর অদ্বৈত গৌরাঙ্গ-প্রেমের বিভূতি। হরিব দুঃখভার অব সে বেদসার করিমুঁ প্রভুবরে স্তুতি॥ তোমার প্রভাব করুণ স্বভাব কহিতে লাখ মুখে নারে। অচিন্ত আদরে আরতি নির্ভরে প্রেম দেহ সভাকারে॥ জে প্রেমধনহীন সর্ব্ব দেব খীন লখমী বুঝয়ে জাহাবে॥ জে প্রেম অনন্ত খোজি হা হন্ত সে প্রেম দেহ জারে তারে॥ হয়ী রসময় ব্রজেরে সদয় প্রেম দিতে তাঁসভাবে। দিতে সে প্রেমধন অতি নিকরুণ দিলে নগরী অষিচারে (?)। অবতার দশ প্রেমেতে কর্কশ বুঝিয়া বুঝ তাঁ সভারে॥ দুরন্ত কর্কশে দেহ প্রেমরসে অসাধনে সভাকারে॥ তুমি সি প্রভুবর করুণ অন্তর নিরন্তর কৃপারাশি। না ভজি প্রেমপাএ উপামা দিব কাহে তো সম কারে নাঞি বাসী॥ চারি মুখে ধাতা গাএ বেদ-গাথা নাঞ্রি বুঝি আদি অন্তে। বিবিধ বিচারে কহে সারধারে অচিন্ত অসংখ্য অনন্তে॥ পাঁচ মুখে গাএ বিষ্ণু দ্রব পাএ পুন সে অচ্যুত হরি। দেখি পরাৎপর শিব দিগন্বর নাচত কহি হরি হরি॥ সহস্রবদন গাএ তোরি গুণ বিংশতি শতকর্ণে শুনে। সহস্র তীন আখি তোমার পদ দেখি ভাবে অনন্ত অখিলে॥ জত সে দেবগণ তোমারি শরণ তাঁরা সে অধিকৃত দাসে। ষোড়শ শকতি তেজিয়া মুকতি তোমারি চরণ বিলাসে॥ ছাড়ি দীর্ঘ ছন্দ পয়ার প্রবন্ধ তোমারি স্তব অভিলাষে॥ বিসুপ্রিয়া-নাথ করহ দৃক্পাত কহত চূড়ামণি দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জত জত মিশ্র-ইষ্ট কুটুম্ব আবাধ্য শিষ্ট কবি চূড়ামণি দাস এই পদটি আনুমানিক ১৫৫০ খৃষ্টাব্দে, চূড়ামণিদাস বিরচিত এবং সুকুমার সেন দ্বারা ১৯৫৭ খৃষ্টাব্দে সম্পাদিত, কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি দ্বারা প্রকাশিত, “গৌরাঙ্গ-বিজয়” অথবা “ভূবনমঙ্গল” গ্রন্থের ১ম খণ্ড, ২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদে রয়েছে . . . শিশু নিমাঞি। ॥ ধানসী রাগঃ॥ জত জত মিশ্র-ইষ্ট কুটুম্ব আবাধ্য শিষ্ট জার জেবা যোগ্য দ্রব্য দিয়া। যথাযোগ্য ব্যবহার বিদায় ত সভাকারে সভাসত অনুব্রজ গিয়া॥ মিশ্রবর আসি ঘরে সরখেল কিঙ্করে প্রেমভাবে করাই ভোজনে। বাৎসল্য অনুরোধে দিয়া দিব্য পরসাদে সর্ব্ব কার্য্যে কৈল নিযোজনে॥ ভোজন করিল বিধি আচমন মুখশুদ্ধি শয্যা বসি তাম্বুল খাএ। পুত্রে কোলে বসাইয়া লাখ লাখ চুম্ব দিয়া বাৎসল্য রূপ বিলায়ে॥ নিরিখিয়া পুত্রের মুখ আখি জলে ভিজে বুক উপামা দিবারে মিশ্র চায়ে। দেখিয়া শ্রীমুখছাঁদ নিছনি করিল চাঁদ উপামা ত আর দিব কারে॥ ছত্রিত সোশর রব কেশ ভৃঙ্গ-সহোদর পরিসর চারু ভালতটে। উন্নত ভ্রূব ভঙ্গ দীঘল আখি সুবঙ্গ পদ্ম জব (?) শশীর সঙ্কটে॥ শ্রবণ সুন্দর অতি অনির্মিত প্রজাপতি এ রূপ স্বরূপ নাঞি তুলে। কপোল বিমল পীন কনক মুকুর-দীন তাপে প্রবেশল জন্বু জলে॥ সুদীর্ঘ উন্নত নাসা মন-আখি-কুল বাসা বাঁধুলী সে চঞ্চু অধরে। চিবুক চারু অতুল দশন সে কুন্দ ফুল হাসি শশী রাশি রাশি ঝরে॥ সিংহ জিনি গ্রীব মাঝ সুবলিত ভুজ রাজ কম্বু কণ্ঠ বক্ষ পরিসরে। উন্নত নিতম্ব বিম্ব যেন শিশু করিকুম্ভ তরু জঙ্খ বলিত সুন্দরে॥ চরণ সুরঙ্গ কঞ্জ মন্দমকরন্দ পুঞ্জ অঙ্গুলি-নখ শশধরে। মহাসল্লক্ষণবর- ভূষিত চরণ কর কৃষ্ণ বিনে আর নাঞি কারে॥ জে অঙ্গে দেখয়ে আখি সে অঙ্গে ত রহে মাখি আর অঙ্গে অসিবারে নারে। শুন বিষ্ণুপ্রিয়া-নাথ কর শুভ দৃক্পাত চূড়ামণিদাস অনাথেরে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শ্রাবণ মাস গেল ভাদ্র প্রবেশ হৈল কবি চূড়ামণি দাস এই পদটি আনুমানিক ১৫৫০ খৃষ্টাব্দে, চূড়ামণিদাস বিরচিত এবং সুকুমার সেন দ্বারা ১৯৫৭ খৃষ্টাব্দে সম্পাদিত, কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি দ্বারা প্রকাশিত, “গৌরাঙ্গ-বিজয়” অথবা “ভূবনমঙ্গল” গ্রন্থের ১ম খণ্ড, ২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদে রয়েছে . . . জন্মাষ্টমী তে প্রকাশ মহাভাব। ॥ ধানসী রাগঃ॥ (এখানে কোনো রাগ লেখা নেই, কিন্তু পূর্ব পদের ভণিতার পরে নতুন পদ শুরু হয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা পূর্ব পদের রাগটিই উল্লেখ করলাম। ) শ্রাবণ মাস গেল ভাদ্র প্রবেশ হৈল কৃষ্ণাষ্টমী কৃষ্ণের জন্ম। ত্রিভঙ্গ অঙ্গ করি মুরলী-মুদ্রা ধরী বিপুল পুলক অঙ্গে ঘর্ম্ম॥ দীঘল আখির জল মাঝিয়া ভিজিয়া গেল শচীদেবী চমকিত মন। বিশ্বভব-চরিত দেখিয়া বিপরীত মিশ্রবরে করি নিবেদন॥ শুনহ মিশ্রবর ভিজিল কেন ঘর নিদ্রা হৈতে উঠি দেখ আসি। ব্রাহ্মী মুহূর্ত্ত ভেল সবে গঙ্গাস্নানে গেল নত-মণ্ডলে পরকাশী॥ উঠি মিশ্র বিকল ঘর পূরিত জল কি ভেল কি ভেল করি চায়ে। পুত্র খাটের সনে ধরিল দুজনে আনে তুরিতে লইল পিড়ায়ে॥ পুরী পুৰী কলসী পানি সিঁচিয়া দাসী মন্দির করয়ে মার্জনে। খাট ভিজিয়া ধার মাটি ছিড়ে পিড়ার যেন জলধর গাঢ় বরিষণে॥ দেখে সর্ব্বাঙ্গ তারে মুরলী-মুদ্রা করে অধর গত বয়ে শ্বাসে। সর্ব্বলোক আসিয়া শিশু দেখএ গিয়া দেখি দেখি লাগএ তরাসে॥ কহএ কেহ কেহ বৈদ্য আনি দেখাহ পুথী দেখি করুক বিচারে। আমরা নাঞি জানি সর্বাঙ্গে বয়ে পানি বৈদ্য করুক প্রতীকারে॥ এত শুনি শ্রীবাস অদ্বৈত সঙ্গে করি আসিয়া ত মিশ্রবর-ঘরে। দেখিয়া ত বিশ্বম্ভর গোবিন্দের রূপধর দুঁহে নাচে গাএ উচ্চস্বরে॥ শুন হে সর্ব্বজন ব্রজের প্রাণধন জন্মিয়াছে মিশ্রবর-ঘরে। এ কলি-কালসর্প হরিব বিষদর্প নামামৃত ছড়াব সংসারে॥ উঠহ বিশ্বস্তর মহাভাব সম্বর ইহা বুঝি কাহার শকতি। পরম পরাৎপর ব্রজবীর সুন্দর সর্ব্বজনে দিবে প্রেম-ভকতি॥ শুনিঞা ত প্রভু হাসি খাটেতে উঠিয়া বসি দেখিষা কোল পসরে। পুত্র কোলে করি সুখে পাখালিয়া শ্রীমুখে লাখ চুম্ব দেই অধরে॥ শ্রীঅদ্বৈত কহে শুন মিশ্র দিয়া ত মন কৃষ্ণজন্ম-যাত্রা আজি কর॥ মিশ্র এতেক শুনি সর্ব্বলোক ডাকী আনি নানারূপ করে উপহার॥ শ্রীকৃষ্ণ-যাত্রা করি সভাকার মন পুরি বিদায় ত দিল সর্ব্বজনে। কুটুম্ব পরিজন করাইয়া ভোজন যজ্ঞ-শেষ করএ ভোজনে॥ প্রকাশ মহাভাব জে জে শুনয়ে সব অসাধনে বিষ্ণুভক্তি পাএ। শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়া নাথ করহ দৃক্পাত চূড়ামণি দাস গাএ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| জতেক ব্রাহ্মণ পরম শুদ্ধ মন কবি চূড়ামণি দাস এই পদটি আনুমানিক ১৫৫০ খৃষ্টাব্দে, চূড়ামণিদাস বিরচিত এবং সুকুমার সেন দ্বারা ১৯৫৭ খৃষ্টাব্দে সম্পাদিত, কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি দ্বারা প্রকাশিত, “গৌরাঙ্গ-বিজয়” অথবা “ভূবনমঙ্গল” গ্রন্থের ১ম খণ্ড, ৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদে রয়েছে . . . চতুর্বর্ণের বর্ণনা ও তাদের সাথে নিমাঞির পরিচয়। ॥ ধানসী॥ ॥ মান জতি॥ জতেক ব্রাহ্মণ পরম শুদ্ধ মন পণ্ডিত সদাচার অতি। যজন যাজন অধ্যয়ন অধ্যাপন দান প্রতিগ্রহ নিতি॥ নদীয়া মহাস্থান গঙ্গা সন্নিধান বসএ জত জত জাতি। শচীর তনয় বয়স্য জত হএ প্রভাতে আইসে নিতি নিতি॥ ধ্রু॥ ক্ষত্রিয় শুদ্ধমতি আযুধ-বিভুতি নিজধর্ম্ম তৎপর। ভট্ট উদভট্ট জ্ঞাত অবহট্ট প্রসন্ন কবিতে মুখর॥ ২॥ দৈবজ্ঞ দৈবতারি জ্যোতিষ বিচারি দেবভট্ট দেবপর। বশত ধর্ম্মসেতু বণিজ্যা এই হেতু দানধর্ম্ম নিরন্তর॥ ৩॥ বৈদ্য আয়ুর্বেদ টিকীছা মহাভেদ বিশারদ উপাধ্যায়। কায়স্থ সদাচার স্যাখত বিচার জানএ পরম উপা'এ॥ 8॥ সৎ-শূদ্র গোপ সদাচার রূপ দেব-বিপ্র-সেবাপর। সধর্ম্ম আচরী রাজসেবা করি বাণিজ্য সদা তৎপর॥ ৫॥ বারই তাম্বুলী তেলী তাঁতী মালী নাপিত মোদক কুমার। ধনমানে ধিক পঞ্চবণিক করএ স্বধর্ম্ম আচার॥ ৬॥ দোকান বাজার জতেক জাতি আর কহিলে কহিবারে নারী। হুদূরা মন্দিরে ভূষিত ইন্দিরা যেন দেখি মধুপুরী॥ ৭॥ স্বজাতি কর্ম্মকার সোনার লোহার কুশলী বসে বাদ্যকার। অসংখ্য জাতি তাহি যে চাহি তাহা পাই উপামা দিতে নাই আর॥ ৮॥ মিশ্রের মন্দির ভূষিত শিশুবর অনাহ্বানে আইসে নিতু। দাস চূড়ামণি কহে গৌরমণি বাল্য-পরকাশ হেতু॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |