| কবি চূড়ামণি দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| বস্ত্র পরিধানে পুরী পিণ্ডাএ ত স্থান করি কবি চূড়ামণি দাস এই পদটি আনুমানিক ১৫৫০ খৃষ্টাব্দে, চূড়ামণিদাস বিরচিত এবং সুকুমার সেন দ্বারা ১৯৫৭ খৃষ্টাব্দে সম্পাদিত, কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি দ্বারা প্রকাশিত, “গৌরাঙ্গ-বিজয়” অথবা “ভূবনমঙ্গল” গ্রন্থের ১ম খণ্ড, ৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদে রয়েছে . . . জগন্নাথ মিশ্রের গৃহে মাধবেন্দ্র পুরী। ॥ করুণশ্রীঃ॥ ॥ পড়িল মান॥ বস্ত্র পরিধানে পুরী পিণ্ডাএ ত স্থান করি সায়াহ্নে ত কৃষ্ণপূজা করি। মন্ত্রাঙ্গ ধেয়ান করি জপ যজ্ঞ আচরি প্রেমাবেশে দণ্ডবত করে॥ ১॥ সন্ধ্যা করি মিশ্রবর গিয়া নারায়ণ-ঘর পুষ্প ধূপ নৈবেদ্য চন্দন। নিবেদিয়া নারায়ণ শঙ্খ ঘণ্টা সুবাদনে আদরে (ত) অভিবন্দনে॥ ২॥ হেন বেলা বিশ্বভর গিয়া নারায়ণ-ঘর অষ্টাঙ্গে ত দণ্ডবত করে। পুরী কছে ভক্তিময়ে যত করে সে সাজএ ইথে কেবা কি কহিতে পারে॥ গভীর অগাধ চিত দেখিতে লাগয়ে ভীত দেখিতে দেখিতে তেজআনে। জে দেখে তাহার মন হরএ(ত) ততক্ষণ উপলভে কাহারী পরাণে॥ ৪॥ এত করি পুরীবর গিয়া নারায়ণ-ঘর মিশ্র সাথে বসে গৌর লই। সর্ব্বাঙ্গে বুলায়ে হাথ আপাদ পর্যন্ত মাথ নানাবিধি শাস্ত্র মন্ত্র কয়ি॥ ৫॥ মিশ্র ডাকি একজন লই গেল কোন স্থান মাধবেন্দ্র রহে গৌর সাথে। নানাবিধ দুঃখ খেদে পাইলুঁ তোমারি পদে এখন রহিমুঁ কোনমতে॥ প্রভু কহে শুন পুরী যে কহিলে তাহা করি আমি রহিয়াছি এই স্থানে। মোরে দেখি রহি এথা তোমা সনে কব কথা বসিয়া ত অদ্বৈতের সনে॥ এত বলি বিশ্বম্ভর চলিয়া ত গিয়া ঘর মাকে কহে আমি অন্ন খাব। নানা উপচারে অন্ন করিয়া ত ভোজন আচমন শয্যাকে ত জায়ে॥ ৮॥ কহিছেন নিত্যানন্দ এইসব পরবন্ধ গদাধর-ধনঞ্জয় সনে। গৌর-মাধবেন্দ্র মেলি প্রেম-আনন্দ কেলি চূড়ামণি দাস রচনে॥ ৯॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| অতি শে চারুতর মস্তক পরিসর কবি চূড়ামণি দাস এই পদটি আনুমানিক ১৫৫০ খৃষ্টাব্দে, চূড়ামণিদাস বিরচিত এবং সুকুমার সেন দ্বারা ১৯৫৭ খৃষ্টাব্দে সম্পাদিত, কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি দ্বারা প্রকাশিত, “গৌরাঙ্গ-বিজয়” অথবা “ভূবনমঙ্গল” গ্রন্থের ১ম খণ্ড, ৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদে রয়েছে . . . বালক শচীনন্দনের বর্ণনা। ॥ ধানশ্রী॥ ॥ মান জতি॥ অতি শে চারুতর মস্তক পরিসর মেঘাঙ্কুর কেশজাল। ত্রিজট মনোহর শ্রীমুখ উপর শোণ কঞ্জে ভৃঙ্গমাল॥ ১॥ কি আঁজ পেখলুঁ শচীর নন্দন বালকমণ্ডপী মাঝ। লাবণ্য-রসসার আনন্দ-প্রেমাকার কেবা কইল রূপরাজ॥ ধ্রু॥ উন্নত ভ্রুভঙ্গ নয়ন তরঙ্গ বয়ান নবরস শশী। অধর বিম্বফল দশন কুন্দদল হাসল অমিঞাঁক রাশি॥ ২॥ সুগ্রীব সিংহজিত কম্বু কণ্ঠ ভিত শ্রীবৎস লাঞ্ছন চীন। পীন পরিসর উন্নত বক্ষবর মধ্যদেশ অতি খীন॥ ৩॥ নবীন গজশুও দীঘল ভুজদণ্ড পল্লব চারুতর রাত। অঙ্গুলী সুবল চম্পক কুট্ মল নখচান্দ ফল জাত॥ ছার করিকুম্ভ নিতম্ববর-বিম্ব বলিত চারু ঊরু জঙ্ঘ। চরণ অরবিন্দ প্রচুর মকরন্দ পিঅব ভকত-ভূঙ্গ॥ নাশব কলিঘোর তোষব সহচর মো সব পাষণ্ড বিমুখ। বুক মুখ ভরি অদ্বৈতে কহে পুরী চূড়ামণি দাসেরে সুখ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আদেশিল পুরী বাদীন্দ্র শিরে ধরি কবি চূড়ামণি দাস এই পদটি আনুমানিক ১৫৫০ খৃষ্টাব্দে, চূড়ামণিদাস বিরচিত এবং সুকুমার সেন দ্বারা ১৯৫৭ খৃষ্টাব্দে সম্পাদিত, কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি দ্বারা প্রকাশিত, “গৌরাঙ্গ-বিজয়” অথবা “ভূবনমঙ্গল” গ্রন্থের ১ম খণ্ড, ৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদে রয়েছে . . . নিমাঞির চূড়াকরণ ও কর্ণবেধ অনুষ্ঠান। ॥ মঙ্গল রাগ॥ ॥ জতি মান॥ আদেশিল পুরী বাদীন্দ্র শিরে ধরি সভারে করিল বরণ। জে বেদবিধি যজ্ঞ শ্রাদ্ধ আদি করএ এ চূড়াকরণ॥ মিশ্র শুন্ধমন করি আচমন পাতিয় গণাধিপ-বারা। গৌর্য্যাদি ষোড়শ মাতৃকা পূজিয়া মন্দির ভিতে বসুধারা॥ ২॥ কৃতবৃদ্ধি আদি শ্রাদ্ধ সমর্পিয়া করিল অগ্নির স্থাপন। বেদ যথাবিধি আনিঞা ঘৃত আদি করিল অগ্নি রমণ॥ ৩॥ শুচি বাস লই গৌর-অঙ্গে দেই শ্রীশচী পুত্র কোলে করে। অগ্নিব উত্তর প্রাঙ্মুখী কুশোপরি বসি বসাএ নাপিতেরে॥ তিথি ক্ষণ এ যোগ করণ মাহেন্দ্রদণ্ডে ভিতরে। উষ্ণোদক দেহ দিব্য খুর লইব পণ কৈল বিশ্বম্ভরে॥ নাপিতে আদরে কহে মিশ্রবরে শুনহ আমার বচন। সাবহিত মনে এহ শুভক্ষণে করহে কর্ণ-বেধন॥ হই সাবধান নাপিত শুদ্ধমন করিয়া মন্ত্রতন্ত্র ভেদ। জয়-জয় ধ্বনি করয়ে ব্রাহ্মণী নাপিতে কৈল কর্ণবেধ॥ মিশ্র যথাবিধি ক্রিয়া ত সমাধি নাপিতে ভক্ষ-বাস দিল। বালক বপন কেশ কোন জন বাঁশ-বনে লই থুইল॥ যতেক ব্রাহ্মণ ভিক্ষুক ভাটগণ সভাকে সুখী করাইয়া। মহামহাজন ফলাহার ভোজন বিদায় বস্ত্র-রত্ন দিয়া॥ পুবীরে দণ্ডবত করিয়া আরত ভিক্ষার নিমন্ত্রণ দিল। অদ্বৈতেকে নমস্কারে আরতি আদরে দুঁহাকে মন্দিরে নিল॥ আনিঞা গঙ্গাজলে চরণ পাখালে ভোজনে বসে দুইজন। গৌর-সমপর্ণ অন্নাধি ব্যঞ্জন দুঁহে করএ ভোজন॥ করিয়া ভোজন দুঁহে আচমন মুখশুদ্ধি যথাবিধি। দেখিয়া বিশ্বম্ভরে অদ্বৈত মন্দিরে বিদায় করে দুই সিধি॥ সভারে বিদায় দিয়া ত মহাশয়ে আনন্দে মন্দিরে আসি। করহ ঘরে স্নান বাহির উঠাণ কহিল পিঁড়ায়েত বসি॥ সবেত স্নান করি মিশ্রেরে গোচরি কুটুম্ব জ্ঞাতি বন্ধু আনে। দিব্যান্ন-ব্যঞ্জনে করাএ ভোজনে আনন্দ মিশ্রবর মনে॥ করিল আঁচমন পরিয়া বসন সবেত মুখশুদ্ধি করে। করিয়া গঙ্গাস্নান মিশ্র মহান আহ্নিক করি আদরে॥ দিব্যান্ন-ব্যঞ্জনে সমর্পে নারায়ণে সুখে করিয়া ভোজনে। আচমন করি ধুতি বস্ত্র পরি এ মুখশুদ্ধি শয়নে॥ পরম আনন্দ সদয় নিত্যানন্দ কছিল মহামহাজনে। শুনি কি দশা সেই ভরোসা এ দাস চূড়ামণি গানে॥ ১৭॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |