সর্ব্বশিশু সঙ্গে গৌর নিজ গৃহে আসি কবি চূড়ামণি দাস এই পদটি আনুমানিক ১৫৫০ খৃষ্টাব্দে, চূড়ামণিদাস বিরচিত এবং সুকুমার সেন দ্বারা ১৯৫৭ খৃষ্টাব্দে সম্পাদিত, কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি দ্বারা প্রকাশিত, “গৌরাঙ্গ-বিজয়” অথবা “ভূবনমঙ্গল” গ্রন্থের ১ম খণ্ড, ৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
এই পদে রয়েছে . . . শচীদেবীর কথার উত্তরে জ্যেষ্ঠ পুত্রের সন্ন্যাস নেওয়ার ফলে হতাশ পিতা জগন্নাথ মিশ্রের বিশ্বম্ভরকে শিক্ষিত না করার মত প্রকাশ, তা শুনে বিশ্বম্ভরের গঙ্গায় মানুষ ও পশুর হাড়গোড় ফেলা, পিতার বাধ্য হয়ে নিমাঞিকে গঙ্গাদাসের টোলে ভর্তি করা, বিদ্যাচর্চা, রসকাব্যের যোগের প্রকার, উপনয়ন। এই পদটি এর পূর্ব পদের অবিচ্ছিন্ন অংশ হিসেবে মুদ্রিত রয়েছে। তাই পূর্ব পদের রাগ ও তাল এখানেও আমরা উল্লেখ করলাম।
॥ করুণ শ্রী॥ ॥ একতালী॥
সর্ব্বশিশু সঙ্গে গৌর নিজ গৃহে আসি। বালকে বিদাএ দিয়া পিঁড়াএত বসি॥ শচী কহে শুন মিশ্র কহিতে ডরাই। অকার্য্য পড়িলে কিছু কহিবারে চাই॥
বালক চঞ্চল পুত্র খেলে সর্ব্বক্ষণ। ব্রাহ্মণকুমার হৈয়া না করে অধ্যয়ন॥ তোমার গোষ্ঠীতে জত মহা অধ্যাপক। বেদ বেদান্ত সর্ব্ব বিদ্যাএ ক্ষমক॥ মিশ্র কহে এক পুত্র পড়িয়া শুনিঞা। বৈষ্ণবের সঙ্গে বুলে কি বিদ্যা জানিঞা॥ পড়িবার কাজ নাঞি থাকুক মূর্খ হৈয়া। জে জে পাকে বর্ত্তিবে নিজ ধন খাইয়া॥ এতেক কহিল মিশ্র শচী রহে শুনি। শুনি শুনি বিশ্বম্ভর মনে মনে গুণি॥ কালি সে করিব কার্য্য এ কথার মত। বুঝিয়া করিব কার্য্য মনে হএ যত। গাইতে ঘোষিতে হইল প্রভাত রজনী। যুক্তি করি শিশু সঙ্গে জাএ গৌরমণি॥ পশু-নর ছাড়মুড় জত তটে ছিল। বালকের সাথে বহি গঙ্গা-জলে নিল॥ হস্তি ঘোড়া গো মহিষ নানা পণ্ড নর। হাড় বহি পেলে গঙ্গাজলের ভিতর॥ সব দিন ছাড় বহি পেলে গঙ্গাজলে। মিশ্র পুরন্দরে গিয়া সব লোক বলে॥
কপালে ক্ষেপিয়া কর কহে মিশ্রবর। কতেক সন্তাপ বিধি দেই নিরন্তর॥ মন্দিরে ত গিয়া মিশ্র শচীরে কছিল। তোমার পুত্রের পাকে অপকীর্ত্তি হৈল॥ মড়ার হাড় বহি পেলে গঙ্গাজলে। দেখি শুনি সর্ব্বলোক কুবচন বলে॥ এত শুনি শচী দেবী বিশ্বম্ভরে বলে। কেনি হাড় বহি পেল জাহ্নবীর জলে॥ এত শুনি গৌর বলে কি কহিব আর। যেতেমতে করি সব জীবের উদ্ধার॥ না পড়ি না করি কার্য্য বসি অন্ন খাই। পরলোক-কার্য্য কিছু করিবারে চাই॥ নিরাশ্রয় জত জীব নাঞিক সহাএ। অপমৃত্যু মরি হাড় গড়াগড়ি জাএ॥ কোনপাকে তার হাড় পড়ে গঙ্গাজলে। সে সব কৃতার্থ হএ সর্ব্ব শাস্ত্র বলে॥ লোতে জে করএ প্রীতি সে পিরিতি নয়ে। জে জিঘাংসাএ লক্ষ্মী আনে সে লক্ষ্মী না রয়ে॥ সুপাত্রে যে দেএ ধন সে নহেত ব্যয়ে। পরার্থে করিয়ে দুঃখ সেহ দুঃখ নয়ে॥ পরিশ্রম করি হাড় পেলি গঙ্গাজলে। অবশ্য কৃতার্থ জীব হব শুভ ফলে॥
স্থাবর জঙ্গম জত সবে কৃষ্ণে রত। কৃষ্ণের সবারে কৃপা করুণ মহত্ত্ব॥ জীবগণের সুখ দুঃখ সব কৃষ্ণে লাগে। সর্ব জীবের কল্যাণ কৃষ্ণ-চিত্তে জাগে॥ অতয়েব বৈষ্ণব সব জীবে দয়া করে। দেখিতে শুনিতে কিছু মোর চিত্রে স্ফুরে॥ এত শুনি শচীরে কহএ মিশ্রবর। এসব কথাএ কার না সাজে উত্তর॥ মোর বাক্য বিশ্বস্তর শুন মন দিয়া । পরম যত্নেতে তুমি শাস্ত্র পড় গিয়া॥ গঙ্গাদাস চক্রবর্তী পণ্ডিত মহান। সমর্পি এড়িব গিয়া চল তার স্থান॥ সহজে তোমার প্রখর শুদ্ধ ভাব। তাঁর স্থানে তোমার ত হৈব বিদ্যালাভ॥ চক্রবর্তী স্থানে মিশ্র পুত্র লই জাএ। বিনয়ে প্রেমেতে পুত্র সমর্পিল তাএ॥ আজি হৈতে পুত্র তোমারে কৈল সমর্পণ। যত্ন আশীর্ব্বাদে ইহাঁ করাহ অধ্যয়ন॥ এত শুনি গঙ্গাদাস অনুমতি দিল। পিরিতি আরতি ভক্তি মিশ্রেকে তোষিল॥ পরম আহ্লাদে মিশ্র মন্দিরেত গিয়া। আর দিনে পড়িবারে পুত্র থুইল নিয়া॥
অধ্যয়ন করয়ে গৌর গঙ্গাদাস স্থানে। এক জানাইতে গৌর অনেক সে জানে॥ বিশ্বম্ভর প্রতিভা দেখিয়া গঙ্গাদাস। আকৃতের মত গুণ দেখি উল্লাস। ইহাঁ পড়াইলে হব সর্ব্ব শিষ্য বশ॥ ইহাঁ পড়াইলে জত পণ্ডিত মহান। সভাএ কহিব মোরে পরম বিদ্বান॥ মোর নাম যশ সব ঘুষিব সুজনে। সামুদ্রক গুণ অঙ্গে দেখ বিদ্যমানে॥ জত জত সল্লক্ষণ আছে বিশ্বম্ভরে। মহা সল্লক্ষণ গুণ কেহ নাঞি ধরে॥ অচিরাৎ বিদ্যালাভ হইব ইহাঁর। এত বড় ভাগ্যে কেহ নাঞি হব আর॥ স্বভাবসুন্দর [রূপ] গুণ অনুপামে। নবদ্বীপ শ্লাঘ্য হব বিশ্বম্ভর নামে॥ এত বলি বিশ্বম্ভরে আদরে পড়াএ। শ্রুতিমাত্রে সব বুঝে শুনি সুখ পাএ॥ ছয় মাসের বিদ্যা গৌর পড়ে ছয় দিনে। দেখি শুনি সর্ব্বলোক অদ্ভুত মানে॥ মাস পাঁচ ছয়ে হএ ব্যাকরণ বোধ। কাব্য পড়াইতে গুরু করে অনুরোধ॥ একমাসে পড়ে গৌর সর্ব্ব অভিধান। রসকাব্য পড় গুরু করিল বিধান॥ গৌর কএ শুন চক্রবর্ত্তী মহাশয়ে। কোন রসকাব্য মোরে কহত নিশ্চয়ে॥
গুরুরে লইল গৌর নানা দ্রব্যজাতে কবি চূড়ামণি দাস এই পদটি আনুমানিক ১৫৫০ খৃষ্টাব্দে, চূড়ামণিদাস বিরচিত এবং সুকুমার সেন দ্বারা ১৯৫৭ খৃষ্টাব্দে সম্পাদিত, কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি দ্বারা প্রকাশিত, “গৌরাঙ্গ-বিজয়” অথবা “ভূবনমঙ্গল” গ্রন্থের ১ম খণ্ড, ৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
এই পদে রয়েছে . . . বিশ্বম্ভরের গুরু গঙ্গাদাস পণ্ডিতকে মহা-অধ্যাপক প্রতিপন্ন, নিত্যানন্দের আগমনের কথা শ্রীবাসকে জানানো এবং বলা যে তাঁকে সে নিজে ছাড়া আর কেউ দেখতে পারবেন না, শ্রীবাসকে গৌরাঙ্গ দশাবতার দর্শন করাবেন বললেন। এই পদটি এর পূর্ব পদের অবিচ্ছিন্ন অংশ হিসেবে মুদ্রিত রয়েছে। তাই পূর্ব পদের রাগ ও তাল এখানেও আমরা উল্লেখ করলাম।
॥ করুণ শ্রী॥ ॥ একতালী॥
গুরুরে লইল গৌর নানা দ্রব্যজাতে। দিলেন সকল দ্রব্য নফরের হাথে॥ তোমার বুদ্ধ্যের কেবা নিতে পারে ওর। না বুঝিএ তোমার বাক্য তোমি শিষ্য মোর॥ কি কাজে আমারে দিয়া গুরু সম্ভাষণা। তুষিয়া সকল ধীর ভূষিলে আপনা॥ তোমার চিত্তের কথা কে বুঝিতে পারে। কিছু বুঝএ কৃপাদৃষ্টে চাহ জারে॥ জে কিছু আছএ মোর বিরল কখন। শুনিবে আমার ভাগ্যে দিয়া কিছু মন। শুনিঞা ওরুর স্তব বিশ্বম্ভর রায়ে। স্থগিত করাএ প্রভু ঈষত লীলায়ে॥ বিশ্বম্ভর রায়ে জত জত খণ্ডা করে। তত তত সিদ্ধান্ত শ্রীগঙ্গাদাস পুরে॥ বিশ্বম্ভর গঙ্গাদাসে করে দৃক্পাতে। মহা মহা প্রতিভা সে হএ হৃদ্জাতে॥ এক কহিতে কহে অনন্ত আখ্যান। হাপুর কহিতে করে বেদান্ত ব্যাখ্যান। বুঝি গঙ্গাদাস কণ্ঠে সরস্বতী বাস। সেই দর্পে গঙ্গাদাসের এ বাগ্ বিলাস॥ মহা মহা অধ্যাপক নবদ্বীপবাসী। অদ্ভূত শ্রবণে সবে মেলিলেন আসি॥
হেন জন নাঞি জে করএ প্রত্যুত্তর। মহাব্যাখ্যা শুনি সভার সুখাএ অন্তর॥ কেহ কহে গঙ্গাদাস বড় ভাগ্যবান। আচম্বিত শুনি ইহার এসব ব্যাখ্যান॥ কেহ কহে কোন সিদ্ধ আশীর্ব্বাদ দিল। কেহ কহে কোন দেব পরসন্ন হৈল॥ কেছ কহে কোন মন্ত্র সাধি গঙ্গাদাস। সেই সেই দর্পে করে এ বাগ্ বিলাস॥ কেহ কহে নারায়ণ পরসন্ন হৈল। গঙ্গাদাসের শ্রীকণ্ঠে সরস্বতী দিল॥ ধনি ধনি গঙ্গাদাস সভার তিলক। নদীয়া সমাজে তোমি মহা অধ্যাপক॥ মহাপদ গরুকে দিলেন গৌররায়ে। বিমল কিরিতি তাঁর অধ্যাপক গাএ॥ এইরূপ অধ্যয়ন করে বিশ্বম্ভর। বিদায় করিয়া চলেন আপনার ঘর। এ জল আসন লৈয়া ভৃত্যগণ ধাএ। চরণ পাখালে কেহ তৈল দেই গাএ॥ গঙ্গাস্নান করি গৌর পরে কাচা ধূতী। আসনে বসিয়া লৈল সন্ধ্যাবিধি পুথী॥
গৌর অঙ্গে নিকশল মৎস্যরূপ হবি কবি চূড়ামণি দাস এই পদটি আনুমানিক ১৫৫০ খৃষ্টাব্দে, চূড়ামণিদাস বিরচিত এবং সুকুমার সেন দ্বারা ১৯৫৭ খৃষ্টাব্দে সম্পাদিত, কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি দ্বারা প্রকাশিত, “গৌরাঙ্গ-বিজয়” অথবা “ভূবনমঙ্গল” গ্রন্থের ১ম খণ্ড, ৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
এই পদে রয়েছে . . . শ্রীবাসের গৃহে শ্রীবাস ও মালিনীকে দশাবতার প্রদর্শন, বিশ্বরূপের সন্ন্যাস। দীর্ঘ পদের এইটুকুই আমরা এখানে তুলেছি।
চলিজাএ নিত্যানন্দ গৌর-অনুরাগে কবি চূড়ামণি দাস এই পদটি আনুমানিক ১৫৫০ খৃষ্টাব্দে, চূড়ামণিদাস বিরচিত এবং সুকুমার সেন দ্বারা ১৯৫৭ খৃষ্টাব্দে সম্পাদিত, কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি দ্বারা প্রকাশিত, “গৌরাঙ্গ-বিজয়” অথবা “ভূবনমঙ্গল” গ্রন্থের ১ম খণ্ড, ৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অতি উসকালে জাএ চোর গমনে কবি চূড়ামণি দাস এই পদটি আনুমানিক ১৫৫০ খৃষ্টাব্দে, চূড়ামণিদাস বিরচিত এবং সুকুমার সেন দ্বারা ১৯৫৭ খৃষ্টাব্দে সম্পাদিত, কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি দ্বারা প্রকাশিত, “গৌরাঙ্গ-বিজয়” অথবা “ভূবনমঙ্গল” গ্রন্থের ১ম খণ্ড, ৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
এই পদে রয়েছে . . . প্রভু নিত্যানন্দ ও বিশ্বম্ভরের মিলন।