তিনি নিশ্চিতভাবে বৈষ্ণবদাস পূর্ববর্তী কবি, এ কথা বলা যায়। সতীশচন্দ্র রায়ের কাছে থাকা পদকল্পতরুর পাঁচটি আদর্শ পুথির একটিতে এই পদটি বিদ্যাপতির ভণিতায় পাওয়া গিয়েছে। পদের ভাষা ও ভাব দেখে, সতীশচন্দ্রের মতে, এই পদটি বিদ্যাপতির নয় বলে তিনি মনে করেন।
পদকর্তা দলপতির পরিচয় ও জীবন সম্বন্ধে কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই। ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ডে আমরা এই কবির এই পদটি উদ্ধৃত পেয়েছি। পদটি থাকা সত্বেও শ্রীপদামৃতমাধুরী-তে কবি দলপতির কোনও পরিচয় নেই।
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . . শিক্ষাবীদ, সাহিত্যিক, গবেষক ও প্রাচীন পুথির সংগ্রাহক, শ্রী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ, ১৩২৫ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯১৮), তাঁর “সঙ্গীত শাস্ত্রের একখানি প্রাচীন গ্রন্থ” প্রবন্ধে লিখেছেন . . . “. . . বৈষ্ণব পদাবলীর মত সুন্দর জিনিস বঙ্গসাহিত্যে আর নাই। কাণের ভিতর দিয়া মরমে পশিয়া প্রাণ আকুল করিয়া তুলিতে পারে, এমন সুধাস্রাবী ঝঙ্কার বৈষ্ণব পদাবলী ভিন্ন বাঙ্গালায় আর কিছুতে নাই।”
আমরা মিলনসাগরে কবি দলপতির বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা।
কবি দলপতি সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . . সতীশচন্দ্র রায় তাঁর সম্পাদিত বৈষ্ণবদাস সংকলিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকায় পদকর্তা দলপতি সম্বন্ধে ১২২-পৃষ্ঠায় লিখেছেন . . .
“দলপতি ভণিতার শুধু একটি মাত্র পদ (৬০৮ সংখ্যক) পদকল্পতরু গ্রন্থে উদ্ধৃত হইয়াছে। পদকল্পতরুর গ- পুথিখানায় আবার দলপতি স্থলে বিদ্যাপতি পাঠ আছে। সুতরাং দসপতি নাম শুধু অন্যান্য পুথি- লেখকদিগের ভ্রম-প্রসূত কি না, সে বিষয়েও সন্দেহ জন্মিতে পারে। আমরা কিন্তু পদ-রস-সার পুথি এ পদতল্পতরুর ক, খ, ঘ, ও চ পুথির সাক্ষ্য অনুসারে এই পদটী দলপতি র রচিত বলিয়াই স্থিক করিয়াছি। এখন পর্য্যন্ত অনেক পদকর্ত্তারই কোন পরিচয় পাওয়া যায় নাই। পদ-কর্ত্তা দলপতিও আমাদের সম্পূর্ণ অপরিচিত। কিন্তু পদ-কর্ত্তার নাম অপরিচিত হইলেই যে তাঁহার অস্তিত্ব অমূলক মনে করিয়া, উহা উড়াইয়া দেওয়ার চেষ্টা করিতে হইবে, তাহা কোন মতেই সঙ্গত মনে হয় না। বিদ্যাপতির রূপান্তরিত ব্রজ-বুলীর পদেও ভাষা ও ভাবের যথেষ্ট বিশেষত্ব আছে। বলা আবশ্যক যে, দলপতির এই পদে আমরা বিদ্যাপতির কবিতার কোনও চিহ্ন লক্ষ্য করিতে পারি নাই। আমরা এই অপরিচিত পদ-কর্ত্তার পরিচয় ও অন্যান্য পদাবলী সংগ্রহের জন্য পদাবলীপ্রিয় উত্সাহী সাহিত্যসেবীদিগে অনুরোধ করি।”