কবি গোবর্দ্ধন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
পাল জড় করি শিশুগণ মেলি
ভণিতা দাস গোবর্দ্ধন
কবি গোবর্দ্ধন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২৩শ পল্লব, গোবর্দ্ধন-লীলা,
১২৪১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীগান্ধার॥

পাল জড় করি                  শিশুগণ মেলি
নামাইল যমুনার জলে।
আনন্দে গোগণে                 করে জলপানে
পিও পিও সভে বোলে॥
উচ্চ পুচ্ছ করি               জলে পেট ভরি
উপরে উঠিল ধেনু।
রাখাল মেলিয়া                হেলিয়া হেলিয়া
ঘন বায় শিঙ্গা বেণু॥
নব তৃণ পাইয়া           ধেনু খাইয়া খাইয়া
ভ্রময়ে যমুনা-তীরে।
নন্দের নন্দন                    করি গোচারণ
সখাগণ সঙ্গে ফিরে॥
বেলি অবসান                    দেখি বলরাম
ধেনুগণ লৈয়া সুখে।
কৃষ্ণ মাঝে করি                   সখাগণ ঘেরি
চলিলা গোকুল মুখে॥
গোষ্ঠে প্রবেশিয়া               গোগণ রাখিয়া
পথেতে মিলিলা মায়।
পুত্র কোলে নিলা                 পরাণ পাইলা
দাস গোবর্দ্ধন গায়॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৭৭৫-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ শ্রীগান্ধার॥

পাল জড় করি                  শিশুগণ মেলি
নামাইল যমুনার জলে।
আনন্দে গোগণে               করে জলপানে
পিও পিও সদা বোলে॥
উচ্চ পুচ্ছ করি               জলে পেট ভরি
উপরে উঠিল ধেনু।
রাখাল মেলিয়া              তুলিয়া তুলিয়া১
ঘন বায় শিঙ্গা বেণু॥
নব তৃণ পাইয়া              ধেনু খাওয়াইয়া
ভ্রময়ে যমুনা-তীরে।
নন্দের নন্দন                   করি গোচারণ
সখাগণ সঙ্গে ফিরে॥
বেলি অবসান                   দেখি বলরাম
ধেনুগণ লৈয়া সুখে।
কৃষ্ণ মাঝে করি                  সখাগণ ঘেরি
চলিলা গোকুল মুখে॥
গোষ্ঠে প্রবেশিয়া               গোপাল রাখিয়া
পথেতে মিলিলা মায়।
পুত্র কোলে নিলা                  পরাণ পাইলা
দাস গোবর্দ্ধন গায়॥

১। “তুলিয়া তুলিয়া” - “ভুলিয়া ভুলিয়া” অথবা “ভুলিয়া তুলিয়া” হতে পারে। স্পষ্ট পড়া যাচ্ছে না।

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৮৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্তর গোষ্ঠ
॥ শ্রীগান্ধার॥

পাল জড় করি                  শিশুগণ মেলি
নামাইল যমুনা জলে।
আনন্দে গোগণে               করে জলপানে
পিও পিও সভে বোলে॥
উচ্চ পুচ্ছ করি               জলে পেট ভরি
উপরে উঠিল ধেনু।
রাখাল মেলিয়া               হেলিয়া হেলিয়া
ঘন বায় শিঙ্গা বেণু॥
নব তৃণ পাইয়া           ধেনু খাইয়া খাইয়া
ভ্রময়ে যমুনা তীরে।
নন্দের নন্দন                    করি গোচারণ
সখাগণ সঙ্গে ফিরে॥
বেলি অবসান                    দেখি বলরাম
ধেনুগণ লৈয়া সুখে।
কৃষ্ণ মাঝে করি                   সখাগণ ঘেরি
চলিলা গোকুল মুখে॥
গোষ্ঠে প্রবেশিয়া               গোগণ রাখিয়া
পথেতে মিলিলা মায়।
পুত্র কোলে নিলা                 পরাণ পাইলা
দাস গোবর্দ্ধন গায়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৪২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পাল জড় করি শিশুগণ মেলি                
নামাইল যমুনা জলে।
আনন্দে গোগণে করে জলপানে               
পিও পিও সভে বোলে॥
উচ্চ পুচ্ছ করি জলে পেট ভরি              
উপরে উঠিল ধেনু।
রাখাল মেলিয়া হেলিয়া হেলিয়া              
ঘন বায় শিঙ্গা বেণু॥
নব তৃণ পাইয়া ধেনু খাইয়া খাইয়া        
ভ্রময়ে যমুনা তীরে।
নন্দের নন্দন করি গোচারণ                
সখাগণ সঙ্গে ফিরে॥
বেলি অবসান দেখি বলরাম                
ধেনুগণ লৈয়া সুখে।
কৃষ্ণ মাঝে করি সখাগণ ঘেরি                
চলিলা গোকুল মুখে॥
গোষ্ঠে প্রবেশিয়া গোগণ রাখিয়া                
পথেতে মিলিলা মায়।
পুত্র কোলে নিলা পরাণ পাইলা                
দাস গোবর্দ্ধন গায়॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বাজে দিগ দিগ থৈ থৈয়া হোরি রঙ্গে
ভণিতা গোবর্দ্ধন
কবি গোবর্দ্ধন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য়শাখা ২৭শ পল্লব, হোরি-লীলা, ১৪৪৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহগড়া॥

বাজে দিগ দিগ থৈ থৈয়া হোরি রঙ্গে॥ ধ্রু॥
কিশোর কিশোরি সখিনি মেলি
তপন-তনয়া-তীরে কেলি
সুখময় অতি মধু ঋতু-পতি
.          রতিপতি তথি সঙ্গে॥
মসৃণ ঘুসৃণ চুবক চন্দন
যন্ত্র-রন্ধ্রে বরিখে সঘন
অরুণ বসন লুলিত রসন
.           শ্রম-জল গল অঙ্গে।
বীণ মুরজ সর উপাঙ্গ
দ্রিমিকি দ্রিমিকি দ্রিমি মৃদঙ্গ
চঞ্চল গতি খঞ্জন জিতি
.           নৃত্যতি অতি ভঙ্গে॥
গাওয়ে গমকে গোপি মেলি
গৌরি গুর্জ্জরি রামকেলি
সুভগা সুহিনি সুহই সাহানি
.            সঙ্গিত রস-তরঙ্গে।
যুথে যূথে যুবতিবৃন্দ
মাঝে শোহত গোকুল-চন্দ
গোবর্দ্ধন হৃদি বর্দ্ধন
.              করু মর্দ্দন অনঙ্গে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির
১৯৯৬-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র
রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ বিহগড়া॥

বাজে দিগ দিগ থৈ থৈয়া হোরি রঙ্গে॥ ধ্রু॥
কিশোর কিশোরি সখিনি মেলি
তপন-তনয়া-তীরে কেলি
সুখময় অতি মধু ঋতু-পতি
.          রতিপতি তথি সঙ্গে॥
মসৃণ ঘুসৃণ চুবক চন্দন
যন্ত্র-রন্ধ্রে বরিখে সঘন
তরুণ বসন লোলিত সঘন
.           শ্রম-জল গল অঙ্গে।
বীণ মুরজ সর উপাঙ্গ
দ্রিমিকি দ্রিমিকি দ্রিমি মৃদঙ্গ
চঞ্চল গতি খঞ্জন জিতি
.           নৃত্যতি অতি ভঙ্গে॥
গাওয়ে গমকে গোপি মেলি
গৌরি গুর্জ্জরি রামকেলি
সুভগা সুহিনি সুহই সাহিনি
.            সঙ্গিত রস-তরঙ্গে।
যুথে যূথে যুবতিবৃন্দ
মাঝে শোহত গোকুল-চন্দ
গোবর্দ্ধন হৃদি বর্দ্ধন
.              করু মর্দ্দন ইলঙ্গে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৯৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

॥ বিহগড়া॥

বাজে দিগ দিগ থৈ থৈয়া হোরি রঙ্গে॥
কিশোর কিশোরী সখিনী মেলি
তপন-তনয়া-তীরে কেলি
সুখময় অতি মধু ঋতু-পতি
রতিপতি তথি সঙ্গে॥
মসৃণ ঘুসৃণ চুবক চন্দন
যন্ত্র-রন্ধ্রে বরিখে সঘন
অরুণ বসন লুলিত রসন
শ্রম-জল-কণ অঙ্গে।
বীণ মুরজ স্বর উপাঙ্গ
দ্রিমিকি দ্রিমিকি দ্রিমি মৃদঙ্গ
চঞ্চল গতি খঞ্জন জিতি
নৃপতি অতি ভঙ্গে॥
গাওয়ে গমকে গোপী মেলি
গৌরি গুর্জ্জরি রামকেলি
সুভগা সুহিনী সুহই সোহিনি
সঙ্গীত রস-তরঙ্গে।
যূথে যূথে যুবতীবৃন্দ
মাঝে শোহত গোকুল-চন্দ্র
গোবর্দ্ধন হৃদি বর্দ্ধন
করু মর্দ্দন অনঙ্গে॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাসন্তী রাসলীলা
॥ বেহাগ বসন্ত - একতালা॥

বাজে দিগ দিগ থৈ থৈয়া হোরি রঙ্গে।
কিশোরা কিশোরী সখিনী মেলি,
তপন তনয়া তীরে কেলি,
সুখময় অতি মধু ঋতুপতি,
.          রতিপতি তথি সঙ্গে॥
মসৃণ ঘুসৃণ চুবক চন্দন,
যন্ত্র রন্ধ্রে বরিখে সঘন,
অরুণ বসন লুলিত রমণ,
.           শ্রম জল গলদঙ্গে।
বীণমুরুজ স্বর উপাঙ্গ,
দ্রিমিকি দ্রিমিকি দ্রিমি মৃদঙ্গ
চঞ্চল গতি খঞ্জন জিতি
.           নৃত্যতি অতি ভঙ্গে॥
গাওয়ে গমকে গোপী মেলি
গৌরি গুর্জ্জরি রামকেলি
সুভগা সুহিনী সুহই সাহীনি
.            সঙ্গিত রস তরঙ্গে।
যূথে যূথে যুবতী বৃন্দ,
মাঝে শোভিত গোকুলচন্দ
গোবর্দ্ধন-হৃদি-বর্দ্ধন
.              করু মর্দ্দন অনঙ্গে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হোরি লীলাভিসার
॥ তথারাগ॥

বাজে দিগ দিগ থৈ থৈয়া হোরি রঙ্গে॥ ধ্রু॥
কিশোর কিশোরি সখিনি মেলি
তপনতনয়া তীরে কেলি
সুখময় অতি মধু ঋতুপতি
.          রতিপতি তথি সঙ্গে॥
মসৃণ ঘুসৃণ চুবক চন্দন
যন্ত্ররন্ধ্রে বরিখে সঘন
অরুণ বসন লুলিত রসন
.           শ্রমজল গল অঙ্গে।
বীণ মুরজ সর উপাঙ্গ
দ্রিমিকি দ্রিমিকি দ্রিমি মৃদঙ্গ
চঞ্চল গতি খঞ্জন জিতি
.           নৃত্যতি অতি ভঙ্গে॥
গাওয়ে গমকে গোপি মেলি
গৌরি গুর্জ্জরি রামকেলি
সুভগা সুহিনি সুহই সাহানি
.            সঙ্গিত রস তরঙ্গে।
যূথে যূথে যুবতিবৃন্দ
মাঝে শোহত গোকুল চন্দ
গোবর্দ্ধন হৃদি বর্দ্ধন
.              করু মর্দ্দন অনঙ্গে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৪২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাজে দিগ দিগ থৈ থৈয়া হোরি রঙ্গে॥
কিশোর কিশোরি সখিনি মেলি
তপনতনয়া তীরে কেলি
সুখময় অতি মধু ঋতুপতি
.          রতিপতি তথি সঙ্গে॥
মসৃণ ঘুসৃণ চুবক চন্দন
যন্ত্ররন্ধ্রে বরিখে সঘন
অরুণ বসন লুলিত রসন
.           শ্রমজল গল অঙ্গে।
বীণ মুরজ সর উপাঙ্গ
দ্রিমিকি দ্রিমিকি দ্রিমি মৃদঙ্গ
চঞ্চল গতি খঞ্জন জিতি
.           নৃত্যতি অতি ভঙ্গে॥
গাওয়ে গমকে গোপি মেলি
গৌরি গুর্জ্জরি রামকেলি
সুভগা সুহিনি সুহই সাহানি
.            সঙ্গিত রস তরঙ্গে।
যূথে যূথে যুবতিবৃন্দ
মাঝে শোহত গোকুল চন্দ
গোবর্দ্ধন হৃদি বর্দ্ধন
.              করু মর্দ্দন অনঙ্গে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গৌর বরণ হিরণ কিরণ
ভণিতা দীন গোবর্দ্ধন দাস
কবি গোবর্দ্ধন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য়শাখা ২৭শ পল্লব, হোরি-রসোদ্গার,
১৪৫৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ততো হোরি-সম্ভোগস্য রসোদ্গারঃ।
তত্র শ্রীগৌরচন্দ্রঃ।
॥ বিভাষ॥

গৌর-বরণ                        হিরণ-কিরণ
অরুণ বসন তায়।
রাঙা উতপল                       নয়ন-যুগল
প্রেম-ধারা বহি যায়॥
দেখ দেখ নবদ্বীপ-রাজ।
ভাবে বিভোর                     সদা গর গর
মধুর ভকত মাঝ॥ ধ্রু॥
কহয়ে আবেশে                  পূরব-বিলাসে
মধুর রজনী-কথা।
অমিয়া-ঝরণ                        ঐছন বচন
হরল মনের বেথা॥
শুনি হরষিত                        সকল ভকত
প্রেমের সাগরে ভাসে।
সে সব সোঙরি                  কান্দয়ে গুমরি
দীন গোবর্দ্ধন দাসে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২০০৭-পদসংখ্যায়,
“গোবিন্দ দাস” ভণিতায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ বিভাষ॥

গৌর-বরণ                        হিরণ-কিরণ
অরুণ বসন তায়।
রাঙা উতপল                       নয়ন-যুগল
প্রেম-ধারা বহি যায়॥
দেখ দেখ দ্বিজরাজ।
ভাবে বিভোর                     সদা গর গর
মধুর ভকত মাঝ॥ ধ্রু॥
কহয়ে আবেশে                  পূরব-বিলাসে
মধুর রজনী-কথা।
অমিয়া-ঝরণ                        ঐছন বচন
হরল মনের বেথা॥
শুনি হরষিত                        সকল ভকত
প্রেমের সাগরে ভাসে।
সে সব সোঙরি                  কান্দয়ে গুমরি
গোবিন্দ দাসে॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার,
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ অত্র রসোদ্গার॥ তদ্ভাবিত শ্রীমহাপ্রভু॥ রাগিণী বিভাষ তাল॥

গৌরবরণ হিরণ কিরণ অরুণ বসন তায়।
রাঙা উতপল নয়ন যুগল প্রেমধারা বহি যায়॥
দেখ নবদ্বীপ রাজ।
ভাবে বিভোর সদা গরগর মধুর ভকত মাঝ॥
কহএ আবেশে পূরূব বিলাস মধুর রজনী-কথা।
অমিঞা ঝরল ঐছন বচন হরল মনের ব্যথা॥
সুনি হরসিত সকল ভকত প্রেমের সাগরে ভাসে।
সে সব সঙরি কান্দয়ে গুমরি দীন গোবর্দ্ধনদাসে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ৫ম উচ্ছ্বাস, ১৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

গৌরবরণ, হিরণকিরণ, অরুণ বসন তায়।
রাতা উতপল, নয়নযুগল, প্রেমধারা বহি যায়॥
দেখ দেখ নবদ্বীপ-দ্বিজরাজ।
ভাবে বিভোর, সদা গর গর, মধুর ভকত মাঝ॥ ধ্রু॥
কহয়ে আবেশে, পূরুব বিলাসে, মধুর রজনী-কথা।
অমিয়া ঝরণ, ঐছন বচন, হরল মনের ব্যথা॥
শুনি হরষিত, সকল ভকত, প্রেমের সাগরে ভাসে।
সে সব সোঙরি, কাঁদয়ে গুমরি, দীন গোবর্দ্ধন দাসে॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাসন্তী রাসলীলা
হোলির সম্ভোগ রসোদ্গার
॥ বিভাস - মধ্যমদশকুশী॥

গৌর বরণ হিরণ কিরণ অরুণ বসন তায়।
রাতা উতপল নয়ন যুগল প্রেম ধারা বহি যায়॥
দেখ দেখ নবদ্বীপ দ্বিজরাজ।
ভাবে বিভোর সদা গর গর মধুর ভকত মাঝ॥
কহয়ে আবেশে পূরুব বিলাসে মধুর রজনী কথা।
অমিয়া ঝরণ ঐছন বচন রহল মরমে ব্যথা॥
শুনে হরষিত সকল ভকত প্রেমের সাগরে ভাসে।
সোসব সঙরি কাঁদয়ে গুমরি দীন গোবর্দ্ধন দাসে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হোরি রসোদ্গার
॥ বিভাস॥

গৌর বরণ                        হিরণ কিরণ
অরুণ বসন তায়।
রাতা উতপল                       নয়ন যুগল
প্রেমধারা বহি যায়॥
দেখ দেখ নবদ্বীপ রাজ।
ভাবে বিভোর                     সদা গর গর
মধুর ভকত মাঝ॥ ধ্রু॥
কহয়ে আবেশে                  পূরব বিলাসে
মধুর রজনী কথা।
অমিয়া ঝরণ                        ঐছন বচন
হরল মনের বেথা॥
শুনি হরষিত                        সকল ভকত
প্রেমের সাগরে ভাসে।
সে সব সোঙরি                  কান্দয়ে গুমরি
দীন গোবর্দ্ধন দাসে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৪২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌর বরণ হিরণ কিরণ           
অরুণ বসন তায়।
রাতা উতপল নয়ন যুগল           
প্রেমধারা বহি যায়॥
দেখ দেখ নবদ্বীপ রাজ।            
ভাবে বিভোর সদা গর গর        
মধুর ভকত মাঝ॥ ধ্রু॥
কহয়ে আবেশে পূরব বিলাসে      
মধুর রজনী কথা।
অমিয়া ঝরণ ঐছন বচন            
হরল মনের বেথা॥
শুনি হরষিত সকল ভকত            
প্রেমের সাগরে ভাসে।
সে সব সোঙরি কান্দয়ে গুমরি        
দীন গোবর্দ্ধন দাসে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঋতু পতি রয়নি বিলাসিনি কামিনি
রিতুপতি রজনি বিলাসিনী কামিনী
ভণিতা গোবর্দ্ধন দাস
কবি গোবর্দ্ধন
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য়শাখা ২৭শ পল্লব, হোরি-রসোদ্ গার,
১৪৫৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

ঋতু-পতি-রয়নি                বিলাসিনি কামিনি
আলসে ঢুলু ঢুলু আঁখি।
কাঞ্চন-বরণ-                 হরণ তনু অরুণিত
মধুর-মধুর মৃদু ভাখি॥
সব সহচরিগণ                     আওল তৈখন
এক জন করয়ে পুছারি।
কহ ধনি কৈছনে               গিরিবর-ধর সনে
কালি খেললি পিচকারি॥
পদ্মা সহচরি                       কৈছনে বাঁচলি
বাঁচলি তুমুল সংগ্রাম।
গৃহ-পতি-সেবন                 কাজে রহলুঁ তব
যাই না পেখলুঁ হাম॥
শুনি তব রসবতি            হরিষে ভরল মতি
কহ সোই কৌতুক-ভাষ।
সো বচনামৃতে                    শ্রবণ জুড়ায়ই
ইহ গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২০০৮-পদসংখ্যায়, এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

ঋতু-পতি-রজনি               বিলাসিনি কামিনি
আলসে ঢুলু ঢুলু আঁখি।
কাঞ্চন-বরণ-          হরণ বরণ১ তনু অরুণিত
মধুর-মধুর মৃদু ভাখি॥
সব সহচরিগণ                     আওল তৈখন
এক জন করয়ে পুছারি।
কহ ধনি কৈছনে               গিরিবর-ধর সনে
কালি খেললি পিচকারি॥
পদ্মা সহচরি                       কৈছনে বাচলি
বাচলি তুমুল সংগ্রাম।
গৃহ-পতি-সেবন                  কাজে রহলুঁ তব
যাই না পেখলুঁ হাম॥
শুনি তব রসবতি              হরষে ভরল মতি
কহ সোই কৌতুক-ভাষ।
সো বচনামৃতে                     শ্রবণ জুড়ায়ই
এও গোবর্দ্ধন দাস॥

১। “হরণ বরণ” - অথবা “কাঞ্চন-হরণ-বরণ তনু অরুণিত” হতে পারে।

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাসন্তী রাসলীলা
হোলির সম্ভোগ রসোদ্গার
॥ ললিতরাগ - মধ্যম দশকুশী॥

রিতুপতি রজনী              বিলাসিনী কামিনী
আলসে ঢুলু ঢুলু আঁখি।
কাঞ্চন বরণ                 হরণ তনু অরুণিত
মধুর মধুর মৃদু ভাখি॥
সব সহচরীগণ                   আওল তৈখনে
একজন করয়ে পুছারি।
কহ ধনি কৈছনে               গিরিবরধর সনে
কালি খেললি পিচকারী॥
পদ্মা সহচরী                       কৈছনে বাঁচলি
বাড়লি তুমুল সংগ্রাম।
গৃহপতি সেবনে                 কাজে রহলুঁ তব
যাই না পেখলুঁ হাম॥
শুনি তব রসবতি            হরিসে ভরল মতি
কহ সোই কৌতুক ভাষ।
সো বচনামৃতে                    শ্রবণ জুড়ায়ই
ইহ রস গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হোরি রসোদ্গার
॥ তথা রাগ॥

ঋতুপতি-রয়নি                বিলাসিনি কামিনি
আলসে ঢুলু ঢুলু আঁখি।
কাঞ্চন বরণ                 হরণ তনু অরুণিত
মধুর মধুর মৃদু ভাখি॥
সব সহচরিগণ                     আওল তৈখন
এক জন করয়ে পুছারি।
কহ ধনি কৈছনে               গিরিবরধর সনে
কালি খেললি পিচকারি॥
পদ্মা সহচরি                       কৈছনে বাঁচলি
বাঁচলি তুমুল সংগ্রামে।
গৃহপতি সেবন                 কাজে রহলুঁ তব
যাই না পেখলুঁ হামে॥
শুনি তব রসবতি            হরিষে ভরল মতি
কহ সোই কৌতুক ভাষ।
সো বচনামৃতে                    শ্রবণ জুড়ায়ই
ইহ গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৪২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ঋতুপতি রয়নি বিলাসিনি কামিনি               
আলসে ঢুলু ঢুলু আঁখি।
কাঞ্চন বরণ হরণ তনু অরুণিত                  
মধুর মধুর মৃদু ভাখি॥
সব সহচরিগণ আওল তৈখন                     
এক জন করয়ে পুছারি।
কহ ধনি কৈছনে গিরিবরধর সনে                
কালি খেললি পিচকারি॥        
পদ্মা সহচরি কৈছনে বাঁচলি                        
বাঁচলি তুমুল সংগ্রামে।
গৃহপতি সেবন কাজে রহলুঁ তব                   
যাই না পেখলুঁ হামে॥
শুনি তব রসবতি হরিষে ভরল মতি              
কহ সোই কৌতুক ভাষ।
সো বচনামৃতে শ্রবণ জুড়ায়ই                       
ইহ গোবর্দ্ধন দাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শুন শুন আজুক কৌতুক কাজ
ভণিতা গোবর্দ্ধন
কবি গোবর্দ্ধন
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য়শাখা ২৭শ পল্লব, হোরি-রসোদ্ গার, ১৪৫৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শুন শুন আজুক কৌতুক-কাজ।
মীলল যব হাম নাগর-রাজ॥
চন্দ্রাবলি নিজ সহচরি মেলি।
আওল কানু সঞে করইতে কেলি॥
তৈখনে দুর সঞে হেরলুঁ হাম।
যূথহি যূথ কয়ল এক ঠাম॥
ভদ্রাদিক আসি মীলল মোয়।
বহুতর ফাগু উড়ায়ল সোয়॥
ফাগু-রজে সকল করল আন্ধিয়ারী।
নারি পুরুষ কোই লখই না পার॥
ঐছনে কানুক মাঝহি ঘেরি।
আয়লু নিধুবনে সো নাহি হেরি॥
তাহাঁ যাই সবহুঁ হোই এক ঠাম।
পিয়া সঞে খেলি পুরায়লু কাম॥
সো সব কি কহব পুছ সখি-পাশ।
গোবর্দ্ধন কহ পূরল আশ॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির
২০১০-পদসংখ্যায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র
রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

শুন শুন আজুক কৌতুক-কাজ।
মিলল যব হাম নাগর-রাজ॥
চন্দ্রাবলি নিজ সহচরি মেলি।
আওল কানু সঞে করইতে কেলি॥
তৈখনে দুর সঞে হেরলুঁ হাম।
যূথহি যূথ কয়ল এক ঠাম॥
ভদ্রাদিক আসি মীলল মোয়।
বহুতর ফাগু উড়ায়ল সোয়॥
ফাগু-রজে সকল করলুঁ আন্ধিয়ার।
নারি পুরুষ কোই লখই না পার॥
ঐছনে কানুক মাঝহি ঘেরি।
আনলুঁ নিধুবনে সো নাহি হেরি॥
তাহাঁ যাই সবহুঁ হোই এক ঠাম।
পিয়া সঞে খেলি পুরায়লু কাম॥
সো সব কি কহব পুছ সখি-পাশ।
গোবর্দ্ধন কহ পূরল আশ॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাসন্তী রাসলীলা
॥ কৌ বিভাস - দুঠুকী॥

শুন শুন আজুক কৌতুক কাজ।
মীলল যব হাম নাগর রাজ॥
চন্দ্রাবলি নিজ সহচরি মেলি।
আওল কানু সঁঞেক রইতে কেলি॥
তৈখনে দুরসঞে হেরলুঁ হাম।
যূথহি যূথ কয়ল একঠাম॥
ভদ্রাদিক আসি মীলল মোয়।
বহুতর ফাগু উড়ায়ল সোয়॥
ফাগুরজে সকল করল আঁধিয়ার।
নারী পুরুখ কোই লখই না পার॥
ঐছনে কানুক মাঝহি ঘেরি।
আনল নিধুবনে সো নাহি হেরি॥
তাহা যাঁই সবহুঁ হোই একঠাম।
পিয়া সঞে খেলি পুরায়লুঁ কাম॥
সো সব কি কহব পুছ সখী পাশ।
গোবর্দ্ধন কহল পূরল আশ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার উক্তি
॥ ধানশী॥

শুন শুন আজুক কৌতুক কাজ।
মীলল যব হাম নাগর রাজ॥
চন্দ্রাবলী নিজ সহচরি মেলি।
আওল কানু সঞে করইতে কেলি॥
তৈখনে দুর সঞে হেরলুঁ হাম।
যূথহি যূথ কয়ল এক ঠাম॥
ভদ্রাদিক আসি মীলল মোয়।
বহুতর ফাগু উড়ায়ল সোয়॥
ফাগু রজে সকল করলুঁ আন্ধিয়ার।
নারি পুরুষ কোই লখই না পার॥
ঐছনে কানুক মাঝহি ঘেরি।
আনলুঁ নিধুবনে সো নাহি হেরি॥
তাহাঁ যাই সবহুঁ হোই এক ঠাম।
পিয়া সঞে খেলি পুরায়লুঁ কাম॥
সো সব কি কহব পুছ সখি পাশ।
গোবর্দ্ধন কহ পূরল আশ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৪২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শুন শুন আজুক কৌতুক কাজ।
মীলল যব হাম নাগর রাজ॥
চন্দ্রাবলী নিজ সহচরি মেলি।
আওল কানু সঞে করইতে কেলি॥
তৈখনে দুর সঞে হেরলুঁ হাম।
যূথহি যূথ কয়ল এক ঠাম॥
ভদ্রাদিক আসি মীলল মোয়।
বহুতর ফাগু উড়ায়ল সোয়॥
ফাগু রজে সকল করলুঁ আন্ধিয়ার।
নারি পুরুষ কোই লখই না পার॥
ঐছনে কানুক মাঝহি ঘেরি।
আনলুঁ নিধুবনে সো নাহি হেরি॥
তাহাঁ যাই সবহুঁ হোই এক ঠাম।
পিয়া সঞে খেলি পুরায়লুঁ কাম॥
সো সব কি কহব পুছ সখি পাশ।
গোবর্দ্ধন কহ পূরল আশ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কি কহব সো রস রঙ্গ
ভণিতা গোবর্দ্ধন দাস
কবি গোবর্দ্ধন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য়শাখা ২৭শ পল্লব, হোরি-রসোদ্ গার, ১৪৫৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনী॥

কি কহব সো রস-রঙ্গ।
কানু খেলই মঝু সঙ্গ॥
সুবল সখা করি বাম।
সমুখে দাঁড়ায়লুঁ হাম॥
ললিতা ডাহিনে রহু মোর।
হেরি কানু ভেল ভোর॥
করহি খসল পিচকারি।
ঐছে পড়ল তনু ঢারি॥
সচকিত হোই হাম ধাই।
কোরে অগোরলুঁ তাই॥
বয়নে বয়নে যব দেল।
ইষত শ্বাস তব ভেল॥
করে করি মাজিয়ে মূখ।
হেরইতে বিদরয়ে বূক॥
ক্ষণেকে চেতন যব হোই।
চৌদিশে হেরই সোই॥
কহই রাই কাহাঁ গেল।
ইহ দুখ বিহি কাহে দেল॥
হাম নিজ পরিচয়-বাণী।
কতহুঁ কহলুঁ ধরি পাণি॥
তব মুখ হেরই মোর।
হাম রহু কোরে আগোর॥
সখিগণ সচকিত থারি।
বয়ানে দেয়ল তব বারি॥
বৈঠল কুঞ্জহিঁ যাই।
তহিঁ সব কহলুঁ বুঝাই॥
প্রেম-বিচিত্র-বিলাস।
কহ গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির
২০১২-পদসংখ্যায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র
রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ সুহিনী॥

কি কহব সো সব-রঙ্গ।
কানু খেলই মঝু সঙ্গ॥
সুবল সখা করি বাম।
সমুখে দাঁড়ায়লুঁ হাম॥
ললিতা ডাহিনে রহু মোর।
হেরি কানু ভেল বিভোর॥
করহি খসল পিচকারি।
ঐছে পড়ল তনু ঢারি॥
সচকিত হোই হাম ধাই।
কোরে অগোরলুঁ তাই॥
বয়নে বয়নে যব দেল।
ইষত শ্বাস তব ভেল॥
করে কর মাজই মুখ।
হেরইতে বিদরয়ে বুক॥
ক্ষণেকে চেতন যব হোই।
চৌদিশে হেরই সোই॥
কহই রাই কাহাঁ গেল।
ইহ দুখ বিহি কাহে দেল॥
হাম নিজ পরিচয়-বাণী।
কতহুঁ কহলুঁ ধরি পাণি॥
তব মুখ হেরই মোর।
হাম রহু কোরে আগোর॥
সখিগণ সচকিত থারি।
বয়ানে দেয়ল তব বারি॥
বৈঠল কুঞ্জহিঁ যাই।
তহিঁ সব কহল বুঝাই॥
প্রেম-বিচিত্র-বিলাস।
কহ গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহিনী॥

কি কহব সো সব রঙ্গ।
কানু খেলই মঝু সঙ্গ॥
সুবল সখা করি বাম।
সমুখে দাঁড়ায়লু হাম॥
ললিতা ডাহিনে রহু মোর।
হেরি কানু ভেল ভোর॥
করহি খসল পিচকারি।
ঐছে পড়ল তনু ডারি॥
সচকিত হোই হাম ধাই।
কোরে অগোরনু তাই॥
বয়ানে বয়ানে যব দেল।
ইষত শ্বাস তব ভেল॥
করে করি মাজিয়ে মুখ।
হেরইতে বিদরয়ে বুক॥
ক্ষণেকে চেতন যব হোই।
চৌদিশে হেরই সোই॥
কহই রাই কাহাঁ গেল।
ইহ দুখ বিহি কাঁহে দেল॥
হাম নিজ-পরিচয়-বাণী।
কতহুঁ কহনু ধরি পাণি॥
তব মুখ হেরই মোর।
হাম রহুঁ কোরে আগোর॥
সখিগণ সচকিত থারি।
বয়নে দেয়ল তব বারি॥
বৈঠল কুঞ্জহিঁ যাই।
তহিঁ সব কহল বুঝাই॥
প্রেম-বিচিত্র বিলাস।
কহ গোবর্দ্ধনদাস॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাসন্তী রাসলীলা
॥ সুহিনী - জপতাল॥

কি কহব সো রসরঙ্গ। কানু খেলত মঝু সঙ্গ॥
সুবল সখা করি বাম। সমুখে দাঁড়ায়লুঁ হাম॥
ললিতা ডাহিনে রহু মোর। হেরি কানু ভেল বিভোর॥
করহি খসল পিচকারী। ঐছে পড়ল তনু ডারি॥
সচকিত হোই হাম ধাই। কোরে অগোরলুঁ তাই॥
বয়নে বয়নে যব দেল। ঈষত শ্বাস তব ভেল॥
করে করি মাজিয়ে মুখ। হেরইতে বিদরয়ে বুক॥
খেনেকে চেতন যব হোই। চৌদিশে হেরই সোই॥
কহই রাই কাহাঁ গেল। ইহ দুখ বিহি কাঁহে দেল॥
হাম নিজ পরিচয় বাণী। কতহুঁ কহলুঁ ধরি পাণি॥
তব মুখ হেরই মোর। হাম রহুঁ কোরে আগোর॥
সখীগণ সচকিত থারি। বয়নে দেয়ল তব বারি॥
বৈঠল কুঞ্জহি যাই। তহি সব কহলুঁ বুঝাই॥
প্রেম বিচিত্র বিলাস। কহ গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার উক্তি
॥ সুহিনী॥

কি কহব সো রসরঙ্গ।
কানু খেলই মঝু সঙ্গ॥
সুবল সখা করি বাম।
সমুখে দাঁড়ায়লুঁ হাম॥
ললিতা ডাহিনে রহু মোর।
হেরি কানু ভেল ভোর॥
করহি খসল পিচকারি।
ঐছে পড়ল তনু ঢারি॥
সচকিত হোই হাম ধাই।
কোরে অগোরলুঁ তাই॥
বয়নে বয়ন যব দেল।
ইষত শ্বাস তব ভেল॥
করে করি মাজিয়ে মূখ।
হেরইতে বিদরয়ে বূক॥
ক্ষণেকে চেতন যব হোই।
চৌদিশে হেরই সোই॥
কহই রাই কাহাঁ গেল।
ইহ দুখ বিহি কাহে দেল॥
হাম নিজ পরিচয় বাণী।
কতহুঁ কহলুঁ ধরি পাণি॥
তব মুখ হেরই মোর।
হাম রহু কোরে আগোর॥
সখিগণ চকিত আগুসারি।
বয়নে দেয়ল তব বারি॥
বৈঠল কুঞ্জহিঁ যাই।
তহিঁ সব কহলুঁ বুঝাই॥
প্রেম বিচিত্র বিলাস।
কহ গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৪২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি কহব সো রসরঙ্গ।
কানু খেলই মঝু সঙ্গ॥
সুবল সখা করি বাম।
সমুখে দাঁড়ায়লুঁ হাম॥
ললিতা ডাহিনে রহু মোর।
হেরি কানু ভেল ভোর॥
করহি খসল পিচকারি।
ঐছে পড়ল তনু ঢারি॥
সচকিত হোই হাম ধাই।
কোরে অগোরলুঁ তাই॥
বয়নে বয়ন যব দেল।
ইষত শ্বাস তব ভেল॥
করে করি মাজিয়ে মুখ।
হেরইতে বিদরয়ে বুক॥
ক্ষণেকে চেতন যব হোই।
চৌদিশে হেরই সোই॥
কহই রাই কাহাঁ গেল।
ইহ দুখ বিহি কাহে দেল॥
হাম নিজ পরিচয় বাণী।
কতহুঁ কহলুঁ ধরি পাণি॥
তব মুখ হেরই মোর।
হাম রহু কোরে আগোর॥
সখিগণ চকিত আগুসারি।
বয়নে দেয়ল তব বারি॥
বৈঠল কুঞ্জহিঁ যাই।
তহিঁ সব কহলুঁ বুঝাই॥
প্রেম বিচিত্র বিলাস।
কহ গোবর্দ্ধন দাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আজু কোই কুলবতি নাহি বাহিরাব
ভণিতা গোবর্দ্ধন
কবি গোবর্দ্ধন
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য়শাখা ২৭শ পল্লব, হোরি-রসোদ্ গার, ১৪৬০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অথ অভিসারানুরাগ।
দূত্যুক্তি।
॥ তুড়ী॥

আজু কোই কুলবতি নাহি বাহিরাব।
যমুনা সিনানে কোই নাহি যাব॥
বিপতি পড়ল আজু যুবতি-সমাজ।
সখাগণ সঙ্গে খেলই যুব-রাজ॥
পন্থহি পন্থ ঘেরল চৌ ওর।
সব ব্রজ-বালক তাহে আগোর॥
বটু সূবল দুহুঁ ভেল এক ঠাম।
যূথহি যূথ করল নিরমান॥
ভরি পিচকারি সেই সভে হাত।
ঘন বরিখণ জনু পড়তহিঁ মাথ॥
আবিরে না হেরিয়ে দীগ বিদিগ।
রঙ্গে বসন বহি যাওত ভীগ॥
কহ গোবর্দ্ধন রহু গৃহ মাহ।
কোই জনি মন্দির ছোড়ি বাহিরাহ॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির
২০১৩-পদসংখ্যায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র
রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তুড়ী॥

আজু কোই কুলবতি নাহি বাহিরাব।
যমুনা সিনানে কোই নাহি যাব॥
বিপতি পড়ল আজু যুবতি-সমাজ।
সখাগণ সঙ্গে খেলই ব্রজ-রাজ॥
পন্থহি পন্থ ঘেরল চৌ ওর।
সব ব্রজ-বালক তাহে আগোর॥
বটু সুবল দুহুঁ ভেল এক ঠাম।
যূথহি যূথ করল নিরমান॥
ভরি পিচকারি লেই সভে হাত।
ঘন বরিখণ জনু পড়ু তহি মাথ॥
আবিরে না হেরিয়ে দিগবিদিগ।
রঙ্গে বসন বহি যাওত ভীগ্॥
কহ গোবর্দ্ধন রসগৃহ মাহ।
কোই জানি মন্দির ছোড়ি বাহিরাহ॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত,
১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ,
২০০৬, ৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

আজু কোই কুলবতি নাহি বাহিরায়।
যমুনা সিনানে যেন কোই নাহি যায়॥
বিপতি পড়ল আজু যুবতী সমাজ।
সখাগণ সঙ্গে খেলই ব্রজরাজ॥
পন্থ নিপন্থ ঘেরল সুচতুর।
সব ব্রজবালক তাহে আগোর॥
বটু সুবল দুহুঁ ভেল এক ঠাম।
যথহিযথ কয়ল নিরমাণ॥
ভরি পিচকারি লেই সভে হাত।
ঘন বরিষণ জনু পড়তহি মাথ॥
আবিরে না হেরই দিগ বিদিগ।
রঙ্গে বসন বহি যাওত ভিক॥
কহ গোবর্দ্ধন রহু গৃহ মাহ।
কোই জানি মন্দির ছোড়ি বাহিরাহ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

আজু কোই কুলবতী নাহি বাহিরায়।
যমুনা-সিনানে কোই নাহি যায়॥
বিপতি পড়ল আজু যুবতি সমাজ।
সখাগণ সঙ্গে খেলই ব্রজ-রাজ॥
পন্থ বিপন্থ ঘেরল চতুর।
সব ব্রজ-বালক তাহে আগোর॥
বটু সূবল দুহুঁ ভেল এক ঠাম।
যুথহি যূথ কয়ল নিরমাণ॥
ভরি পিচকারি সেই সবে হাত।
ঘন বরিখণ জনু পড়তহি মাথ॥
আবিরে না হেরিয়ে দুগ বিদিগ।
রঙ্গে বসনবহি যাওত ভীগ॥
কহ গোবর্দ্ধন রহু গৃহ মাহ।
কোই জানি মন্দির ছোড়ি বাহিরাহ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হোরি লীলা
॥ তুড়ী॥

আজু কোই কুলবতি নাহি বাহিরাব।
যমুনা সিনানে কোই নাহি যাব॥
বিপতি পড়ল আজু যুবতি-সমাজ।
সখাগণ সঙ্গে খেলই যুবরাজ॥
পন্থহি পন্থ ঘেরল চহুঁ ওর।
সব ব্রজ বালক তাহে আগোর॥
বটু সূবল দুহুঁ ভেল এক ঠাম।
যূথহি যূথ কয়ল নিরমাণ॥
ভরি পিচকারি লেই সভে হাত।
ঘন বরিখণ জনু পড়তহিঁ মাথ॥
আবিরে না হেরিয়ে দীগ বিদিগ।
রঙ্গে বসন বহি যাওত ভীগ॥
কহ গোবর্দ্ধন রহু গৃহ মাহ।
কোই জনি মন্দির ছোড়ি বাহিরাহ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৪১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজু কোই কুলবতি নাহি বাহিরাব।
যমুনা সিনানে কোই নাহি যাব॥
বিপতি পড়ল আজু যুবতি-সমাজ।
সখাগণ সঙ্গে খেলই যুবরাজ॥
পন্থহি পন্থ ঘেরল চহুঁ ওর।
সব ব্রজ বালক তাহে আগোর॥
বটু সূবল দুহুঁ ভেল এক ঠাম।
যূথহি যূথ কয়ল নিরমাণ॥
ভরি পিচকারি লেই সভে হাত।
ঘন বরিখণ জনু পড়তহিঁ মাথ॥
আবিরে না হেরিয়ে দীগ বিদিগ।
রঙ্গে বসন বহি যাওত ভীগ॥
কহ গোবর্দ্ধন রহু গৃহ মাহ।
কোই জনি মন্দির ছোড়ি বাহিরাহ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঘন মুরলী ধ্বনি ডম্ফ শবদ শুনি
ভণিতা গোবর্দ্ধন দাস
কবি গোবর্দ্ধন
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য়শাখা ২৭শ পল্লব, হোরি-রসোদ্ গার,
১৪৬১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

ঘন মুরলী-ধ্বনি                 ডম্ফ-শবদ শুনি
উমড়ই হৃদয় বিশাল।
হো হো হোরি                সঘনে তহিঁ গরজন
উনমত যত ব্রজ-বাল॥
মাঝহি মনমথ-রাজ।
নবঘন অরুণ-               বরণ তনু হেরইতে
তেজই কুলবতি লাজ॥ ধ্রু॥
চুয়া চন্দন                         মৃগ-মদ কুঙ্কুম
পিচকারি ভরি সভে লেই।
সব জন কোপে             কোপিত হই দুহুঁ দুহুঁ
নয়ন বয়ন পর দেই॥
ইহ দিনে কৈছে            রহিতে কহ ঘর মাহা
সো সুখে হোই নৈরাশ।
গণ সঞে আজি                   যাই তহিঁ হেরব
সঙ্গে গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২০১৪-পদসংখ্যায়, এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ কামোদ॥

ঘন মুরলী-ধ্বনি                 ডম্ফ-শবদ শুনি
উমতই হৃদয় বিশাল।
হো হো হোরি               সঘনে তহিঁ গরজত
উনমত যত ব্রজ-বাল॥
মাঝহি মনমথ-রাজ।
নবঘন অরুণ-               বরণ তনু হেরইতে
তেজই কুলবতি লাজ॥ ধ্রু॥
চুয়া চন্দন                         মৃগ-মদ কুঙ্কুম
পিচকারি ভরি ভরি লেই।
সব জন কোপে            কোপিত হই দুহুঁ দুহুঁ
নয়ন নয়ন পর দেই॥
ইহ দিনে কৈছে             রহিতে কহ ঘর মাহ
সো সুখে হোই নৈরাশ।
গণ সঞে আজি                   যাই তহিঁ হেরব
সঙ্গে গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

ঘন মুরলী-ধ্বনি,                 ডম্ফ-শবদ শুনি,
উমড়ই হৃদয় বিশাল।
হো হো হোরি,               সঘনে তহিঁ গরজন,
উনমত যত ব্রজ-বাল॥
মাঝহি মনমথ-রাজ।
নবঘন অরুণ,-              বরণ তনু হেরইতে,
তেজই কুলবতী লাজ॥
চুয়া চন্দন,                         মৃগ-মদ কুঙ্কুম,
পিচকারি ভরি লেই।
সব জন কোপি,            কোপিত হই দুহুঁ দুহুঁ,
নয়ান বয়ান পর দেই॥
ইহ দিন কৈছে,             রহিতে কহ ঘর মাহা,
সো সুখে হোই নৈরাশ।
সখিগণ সঞে আজি,              যাই তহিঁ হেরব,
সঙ্গে গোবর্দ্ধনদাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হোরি লীলা
॥ কামোদ॥

ঘন মুরলী ধ্বনি                 ডম্ফ শব্দ শুনি
উমড়ই হৃদয় বিশাল।
হো হো হোরি               সঘনে তহিঁ গরজন
উনমত যত ব্রজবাল॥
মাঝহি মনমথ রাজ।
নবঘন অরুণ               বরণ তনু হেরইতে
তেজই কুলবতি লাজ॥ ধ্রু॥
চুয়া চন্দন                         মৃগমদ কুঙ্কুম
পিচকারি ভরি সভে লেই।
সব জন কোপে            কোপিত হই দুহুঁ দুহুঁ
নয়ন বয়ন পর দেই॥
ইহ দিনে কৈছে             রহিতে কহ ঘর মাহা
সো সুখে হোই নৈরাশ।
গণ সঞে আজি                   যাই তহিঁ হেরব
সঙ্গে গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৪২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ঘন মুরলী ধ্বনি ডম্ফ শব্দ শুনি         
উমড়ই হৃদয় বিশাল।
হো হো হোরি সঘনে তহিঁ গরজন        
উনমত যত ব্রজবাল॥
মাঝহি মনমথ রাজ।                     
নবঘন অরুণ বরণ তনু হেরইতে        
তেজই কুলবতি লাজ॥
চুয়া চন্দন মৃগমদ কুঙ্কুম                    
পিচকারি ভরি সভে লেই।
সব জন কোপে কোপিত হই দুহুঁ           
দুহুঁ নয়ন বয়ন পর দেই॥
ইহ দিনে কৈছে রহিতে কহ ঘর মাহা       
সো সুখে হোই নৈরাশ।
গণ সঞে আজি যাই তহিঁ হেরব            
সঙ্গে গোবর্দ্ধন দাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শ্রম জলে ঢর ঢর দুহুঁক কলেবর
ভণিতা গোবর্দ্ধন
কবি গোবর্দ্ধন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য়শাখা ২৭শ পল্লব, পুনশ্চ হোরি-
লীলাভিসার, ১৪৭৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

শ্রম-জলে ঢর ঢর                দুহুঁক কলেবর
ভীগল অরুণিম বাস।
রতন বেদী পর                  বৈঠল দুহুঁ জন
খরতর বহই নিশাস॥
আনন্দ কহই না যায়।
চামর করে কোই                 বীজন বীজই
কোই বারি লেই ধায়.॥ ধ্রু॥
চরণ পাখালই                  তাম্বুল যোগায়ই
কোই মোছায়ই ঘাম।
ঐছন দুহুঁ তনু                 শিতল কয়ল জনু
কুবলয় চম্পক-দাম॥
আর সহচরিগণে                  বহুবিধ সেবনে
শ্রম-জল কয়লহিঁ দূর।
আনন্দ-সায়রে                     দুহুঁ মুখ হেরই
গোবর্দ্ধন হিয়া পূর॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২০২৭-পদসংখ্যায়, এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ শ্রীরাগ॥১

শ্রম-জলে ঢর ঢর                দুহুঁক কলেবর
ভীগল অরুণিম বাস।
রতন বেদী পর                  বৈঠল দুহুঁ জন
খরতর বহই নিশাস॥
আনন্দ কহই না যায়।
চামর করে কোই                 বীজন বীজই
কোই বারি লেই ধায়.॥ ধ্রু॥
চরণ পাখালই                  তাম্বুল যোগায়ই
কোই মোছায়ই ঘাম।
ঐছন দুহুঁ তনু               শিতল৩ কয়ল জনু
কুবলয় চম্পক-দাম॥
আর সহচরিগণে                  বহুবিধ সেবনে
শ্রম-জল কয়লহিঁ দূর।
আনন্দ-সায়রে                     দুহুঁ মুখ হেরই
গোবর্দ্ধন হিয়া পূর॥

যে পাঠান্তর দেওয়া রয়েছে -
১। ইহা প-র-সা পুথির ২০১৭ সংখ্যক পদ।
২। ‘ভিগল’ ক, চ, প-র-সা। ‘২’ সংখ্যাটি মুদ্রিত হয় নি। তাই নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না কোন শব্দটির
বদলে ক, চ, প-র-সা পুথিতে ‘ভিগল’ হবে।
৩। ‘শীতল’ ক।

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাসন্তী রাসলীলা
॥ বসন্তরাগ - দুঠুকী॥

শ্রম জলে ঢর ঢর,                দুহুঁক কলেবর,
ভীগেও অরুণিম বাস।
রতন বেদী পর,                  বৈঠল দুহুঁ জন,
খরতর বহই নিশ্বাস॥
আনন্দ কহনে না যায়।
চামর করে কোই,                   বীজন বীজই
কোই বারি লেই ধায়॥ ধ্রু॥
চরণ পাখালই,                   তাম্বূল যোগায়ই,
কোই মোছায়ই ঘাম।
ঐছন দুহুঁ তনু,                  শীতল কয়ল জনু,
কুবলয় চম্পক দাম॥
আর সহচরীগণে,                  বহুবিধ সেবনে,
শ্রমজল করলহি দূর।
আনন্দ সাগরে,                     দুহুঁ মুখ হেরই,
গোবর্দ্ধন হিয়া পূর॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখীগণের সেবা
॥ শ্রীরাগ॥

শ্রমজলে ঢর ঢর                দুহুঁক কলেবর
ভীগল অরুণিম বাস।
রতন বেদী পর                  বৈঠল দুহুঁ জন
খরতর বহই নিশাস॥
আনন্দ কহই না যায়।
চামর করে কোই                 বীজন বীজই
কোই বারি লেই ধায়.॥ ধ্রু॥
চরণ পাখালই                 তাম্বুল যোগায়ই
কোই মোছায়ই ঘাম।
ঐছন দুহুঁ তনু              শিতল কয়ল জনু
কুবলয় চম্পক দাম॥
আর সহচরিগণে               বহুবিধ সেবনে
শ্রমজল কয়লহিঁ দূর।
আনন্দ সায়রে                  দুহুঁ মুখ হেরই
গোবর্দ্ধন হিয়া পূর॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৪২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রমজলে ঢর ঢর দুহুঁক কলেবর                
ভীগল অরুণিম বাস।
রতন বেদী পর বৈঠল দুহুঁ জন                
খরতর বহই নিশাস॥
আনন্দ কহই না যায়।                        
চামর করে কোই বীজন বীজই                
কোই বারি লেই ধায়.॥
চরণ পাখালই তাম্বুল যোগায়ই                
কোই মোছায়ই ঘাম।
ঐছন দুহুঁ তনু শিতল কয়ল জনু              
কুবলয় চম্পক দাম॥
আর সহচরিগণে বহুবিধ সেবনে               
শ্রমজল কয়লহিঁ দূর।
আনন্দ সায়রে দুহুঁ মুখ হেরই                  
গোবর্দ্ধন হিয়া পূর॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কি করব এ সখি মন্দির মাহ
ভণিতা গোবর্দ্ধন
কবি গোবর্দ্ধন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য়শাখা ২৭শ পল্লব, পুনশ্চ হোরি-
লীলাভিসার, ১৪৭৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির শেষ চারটি কলি “এ ধনি মানিনি মান
নিবার” পদটির শেষ চারটি কলি পায় হুবহু এক।

॥ তথা রাগ॥

কি করব এ সখি মন্দির মাহ।
ইহ মধু-যামিনি               সব ব্রজ-কামিনি
বৃন্দা-বিপিনহি যাহ॥ ধ্রু॥
হোরী-রঙ্গ-                    তরঙ্গিত শ্যামর
বিহরই কালিন্দি-তীর।
সোঙরি সোঙরি মন           করত উচাটন
যতনে না হোয়ত থীর॥
কি কহব গুরুজন             পরিজন দুরজন
ইহ সব বড়ই তেহার।
সহচরি রঙ্গহি                    পরম নিশঙ্কহি
কানু সঞে করব বিহার॥
মৃগ-মদ চন্দন                    কুসুম হারগণ
যতনে ঝাঁপি লেহ হাত।
তাম্বুল কপুরযুত                 লেই চলহ দ্রুত
গোবর্দ্ধন চলু সাথ॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২০২৮-পদসংখ্যায়, এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

তত্রানুরাগাভিসারোত্কণ্ঠা।
॥ তথা রাগ॥

কি করব এ সখি মন্দির মাহ।
ইহ মধু-যামিনি               সব ব্রজ-কামিনি
বৃন্দা-বিপিনহি যাহ॥ ধ্রু॥
হেরি হেরি-রঙ্গ-                তরঙ্গিত শ্যামর
বিহরই কালিন্দি-তীর।
সোঙরি সোঙরি মন             করত উচাটন
যতনে না হোয়ত থির॥
কি কহব গুরুজন             পরিজন দুরজন
ইহ সব বড়ই তেহার।
সহচরি রঙ্গহি                    পরম নিশঙ্কহি
কানু সঞে করব বিহার॥
মৃগ-মদ চন্দন                     কুসুম হারগণ
যতনে ঝাঁপি লেহ হাত।
তাম্বুল কপুরযুথ                 লেই চলহ দ্রুত
গোবর্দ্ধন চলু সাথ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হোরি লীলাভিসার
॥ তথা রাগ॥

কি করব এ সখি মন্দির মাহ।
ইহ মধু যামিনি             সব ব্রজ কামিনি
বৃন্দাবিপিনহি যাহ॥ ধ্রু॥
হোরী রঙ্গ                    তরঙ্গিত শ্যামর
বিহরই কালিন্দি তীর।
সোঙরি সোঙরি মন           করত উচাটন
যতনে না হোয়ত থীর॥
কি কহব গুরুজন             পরিজন দুরজন
ইহ সবে না কর নেহার।
সহচরি রঙ্গহি                   পরম নিশঙ্কহি
কানু সঞে করব বিহার॥
মৃগমদ চন্দন                    কুসুম হারগণ
যতনে ঝাঁপি লেহ হাত।
তাম্বুল কপূরযূত                লেই চলহ দ্রুত
গোবর্দ্ধন চলু সাথ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৪২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি করব এ সখি মন্দির মাহ।            
ইহ মধু যামিনি সব ব্রজ কামিনি           
বৃন্দাবিপিনহি যাহ॥
হোরী রঙ্গ তরঙ্গিত শ্যামর                
বিহরই কালিন্দি তীর।
সোঙরি সোঙরি মন করত উচাটন        
যতনে না হোয়ত থীর॥
কি কহব গুরুজন পরিজন দুরজন        
ইহ সবে না কর নেহার।
সহচরি রঙ্গহি পরম নিশঙ্কহি               
কানু সঞে করব বিহার॥
মৃগমদ চন্দন কুসুম হারগণ                
যতনে ঝাঁপি লেহ হাত।
তাম্বুল কপূরযূত লেই চলহ দ্রুত            
গোবর্দ্ধন চলু সাথ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর