কবি গোবর্দ্ধন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
ঋতু পতি যামিনি কালিন্দি তীর
ভণিতা গোবর্দ্ধন দাস
কবি গোবর্দ্ধন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং  
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য়শাখা ২৭শ পল্লব, পুনশ্চ হোরি-লীলাভিসার, ১৪৭৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

ঋতু-পতি-যামিনি কালিন্দি-তীর।
বিকসিত ফুলচয় কুঞ্জ-কুটীর॥
কোকিল-কুল পঞ্চম করু গান।
গুঞ্জরি চঞ্চরি করু মধু-পান॥
চান্দনি রজনি উজোরল তায়।
সুমলয় পবন বহই মৃদু বায়॥
ঐছন সময়ে বিহরে মঝু নাহ।
কি করব অব হাম মন্দির মাহ॥
সো সুখ যব মঝু উপজয়ে চীত।
অতি উতকন্ঠিত না মানয়ে ভীত॥
কতয়ে মনোরথ মন মাহা হোয়।
যৈছন রভসে মিলব পিয়া মোয়॥
তুরিতে চলহ সখি পূরব আশ।
সঙ্গেহি চলব গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির
২০২৯-পদসংখ্যায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র
রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ কামোদ॥

ঋতু-পতি-যামিনি কালিন্দী-তীর।
বিকসিত ফুলচয় কুঞ্জ-কুটীর॥
কোকিল-গণ পঞ্চম করু গান।
গুঞ্জরি চঞ্চরি করু মধু-পান॥
চান্দনি রজনি উজোরল তার।
সুমলয় পবন বহই মৃদু বায়॥
ঐছন সময়ে বিহরে মঝু নাহ।
কি করব অব হাম মন্দির মাহ॥
সো মুখ যব মঝু উপজয়ে চিত।
অতি উতকন্ঠিত না মানয়ে ভীত॥
কতয়ে মনোরথ মন মাহা হোয়।
যৈছন রভসে মিলব পিয়া মোয়॥
তুরিতে চলহ সখি পূরব আশ।
সঙ্গেহি চলতহি গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত,
১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ,
২০০৬, ২৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

ঋতুপতি যামিনী কালিন্দীর তীর।
বিকশিত ফুলচয় কুঞ্জকুটীর॥
কোকিলকুল পঞ্চম করু গান।
গুঞ্জরি চঞ্চরি করু মধু পান॥
চাঁদনি রজনী উজোরল তায়।
সুমলয় পবন বহই মৃদুবায়॥
ঐছন সময়ে বিহরে মঝু নাহ।
কি করব অব হাম মন্দির মাহ॥
সো মুখ যব মঝু উপজয়ে চিত।
অতি উতকণ্ঠিত না মানয়ে ভীত॥
কত যে মনোরথ মনমাহা হোয়।
যৈছন রভসে মিলব প্রিয়া মোয়॥
তুরিতে চলহ সখী পূরব আশ।
সঙ্গেহি চলব গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

ঋতু-পতি-যামিনী কালিন্দীর তীর।
বিকসিত ফুলচয় কুঞ্জ-কুটীর॥
কোকিলকুল পঞ্চম করু গান।
গুঞ্জরি চঞ্জরী করু মধু পান॥
চান্দিনী রজনী উজোরল তায়।
সুমলয় পবন বহই মৃদু বায়॥
ঐছন সময়ে বিহরে মঝু নাহ।
কি করব অব হাম মন্দির মাহ॥
সো মুখ যব মঝু উপজয়ে চিত।
অতি উতকন্ঠিত না মানয়ে ভীত॥
কতয়ে মনোরথ মন মাহা হোয়।
যৈছন রভসে মিলব পিয়া মোয়॥
তুরিতে চলহ সখি পূরব আশ।
সঙ্গে চলব গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হোরি লীলাভিসার
॥ কামোদ॥

ঋতুপতি যামিনি কালিন্দি তীর।
বিকসিত ফুলচয় কুঞ্জ কুটীর॥
কোকিল কুল করু পঞ্চম গান।
গুঞ্জরি চঞ্চরি করু মধুপান॥
চান্দনি রজনি উজোরল তায়।
সুমলয় পবন বহই মৃদু বায়॥
ঐছন সময়ে বিহরে মঝু নাহ।
কি করব অব হাম মন্দির মাহ॥
সো সুখ যব মঝু উপজয়ে চীত।
অতি উতকন্ঠিত না মানয়ে ভীত॥
কতয়ে মনোরথ মন মাহা হোয়।
কৈছন রভসে মিলব পিয়া মোয়॥
তুরিতে চলহ সখি পূরব আশ।
সঙ্গহি চলব গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৪২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ঋতুপতি যামিনি কালিন্দি তীর।
বিকসিত ফুলচয় কুঞ্জ কুটীর॥
কোকিল কুল করু পঞ্চম গান।
গুঞ্জরি চঞ্চরি করু মধুপান॥
চান্দনি রজনি উজোরল তায়।
সুমলয় পবন বহই মৃদু বায়॥
ঐছন সময়ে বিহরে মঝু নাহ।
কি করব অব হাম মন্দির মাহ॥
সো সুখ যব মঝু উপজয়ে চীত।
অতি উতকন্ঠিত না মানয়ে ভীত॥
কতয়ে মনোরথ মন মাহা হোয়।
কৈছন রভসে মিলব পিয়া মোয়॥
তুরিতে চলহ সখি পূরব আশ।
সঙ্গহি চলব গোবর্দ্ধন দাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পদ্মা সখি সহ আওল শূনলুঁ
ভণিতা গোবর্দ্ধন
কবি গোবর্দ্ধন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য়শাখা ২৭শ পল্লব, পুনশ্চ হোরি-
লীলাভিসার, ১৪৭৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ বসন্ত॥

পদ্মা সখি সহ               আওল শূনলুঁ
খেলব নাহক সাথ।
বংশীবট-তট             মীলন ভেল বুঝি
ফাগু-যন্ত্র করি হাত॥
সজনি ইহ দারুণ পরমাদ।
ঐছন ভাতি           রচন করি চল সখি
যাই করিয়ে সব বাদ॥ ধ্রু॥
ভদ্রা শ্যামল-                 য়া সহ মীলব
যূথে যূথে এক হোই।
সভে মিলি ফাগু-      তিমির করি বেঢ়ব
লখই না পারই কোই॥
ঐছনে কানু              লেই সভে আওব
তুরিতহিঁ নিধুবন পাশ।
গোবর্দ্ধন কহ                আনন্দে খেলহ
পদ্মা পাউ নৈরাশ॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২০৩০-পদসংখ্যায়, এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ কামোদ বসন্ত॥

পদ্মা সখি সহ               আওল শুনল
খেলব নাহক সাথ।
বংশীবট-তট            মিলন ভেল বুঝি
ফাগু-যন্ত্র করি হাত॥
সজনি ইহ দারুণ পরমাদ।
ঐছন ভাতি          রচন করি চল সখি
যাই করিয়ে সব বাদ॥ ধ্রু॥
ভদ্রা শ্যামল-            য়া সহজই মিলব
যূথে যূথে এক হোই।
সভে মিলি ফাগু-      তিমির করি বেঢ়ব
লখই না পারই কোই॥
ঐছনে কানু              লেই সভে আওব
তুরিতহিঁ নিধুবন পাশ।
গোবর্দ্ধন কহ                আনন্দে খেলহ
পদ্মা জাউ নৈরাশ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বসন্ত॥

পদ্মা সখী সহ,               আওল শুনলু,
খেলব নাহক সাথ।
বংশী-বট তট,          মিলন ভেল বুঝি,
ফাগু-যন্ত্র করি হাত॥
সজনি, ইহ দারুণ পরমাদ।
ঐছন ভাতি,        বচন করি চল সখি,
যাই করিয়ে সব বাদ॥
ভদ্রা শ্যাম,              লয়া সহ মীলব,
যূথে যূথে এক হোই।
সবে মিলি ফাগু,    তিমির করি বেঢ়ব,
লখই না পারই কোই॥
ঐছনে কানু,          লেই সভে আওব,
তুরিতহিঁ নিধুবন পাশ।
গোবর্দ্ধন কহ,            আনন্দে খেলই,
পদ্মা পাউ নৈরাশ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পদ্মাকে বঞ্চনা
॥ কামোদ বসন্ত॥

পদ্মা সখি সহ               আওল শূনলু
খেলব নাহক সাথ।
বংশীবট তট          মীলন ভেল বুঝি
ফাগু যন্ত্র করি হাত॥
সজনি ইহ দারুণ পরমাদ।
ঐছন ভাতি         রচন করি চল সখি
যাই করিয়ে সব বাদ॥ ধ্রু॥
ভদ্রা শ্যামলা              সহ সব মীলব
যূথে যূথে এক হোই।
সভে মিলি ফাগু      তিমির করি বেঢ়ব
লখই না পারই কোই॥
ঐছনে কানু             লেই সভে আওব
তুরিতহিঁ নিধুবন পাশ।
গোবর্দ্ধন কহ               আনন্দে খেলহ
পদ্মা পাউ নৈরাশ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৪২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পদ্মা সখি সহ আওল শুনলু                
খেলব নাহক সাথ।
বংশীবট তট মীলন ভেল বুঝি             
ফাগু যন্ত্র করি হাত॥
সজনি ইহ দারুণ পরমাদ।                
ঐছন ভাতি রচন করি চল সখি           
যাই করিয়ে সব বাদ॥ ধ্রু॥
ভদ্রা শ্যামলা সহ সব মীলব                
যূথে যূথে এক হোই।
সভে মিলি ফাগু তিমির করি বেঢ়ব        
লখই না পারই কোই॥
ঐছনে কানু লেই সভে আওব              
তুরিতহিঁ নিধুবন পাশ।
গোবর্দ্ধন কহ আনন্দে খেলহ                
পদ্মা পাউ নৈরাশ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মধুর শ্রীবৃন্দাবনে ঋতু পতি বিহরণে
ভণিতা গোবর্দ্ধন দাস
কবি গোবর্দ্ধন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য়শাখা ২৭শ পল্লব, হোরি-লীলাভিসার,
১৪৭৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

মধুর শ্রীবৃন্দাবনে               ঋতু-পতি বিহরণে
তরু লতা প্রফুল্লিত সব।
ফল ফুলে নম্র ডাল        পুষ্পোদ্যান-শোভা ভাল
কোকিল-ভ্রমর-শিখি-রব॥
হোরি-রঙ্গে উনমত             নানা যন্ত্র চমত্কৃত
গায় বায় বিলসয়ে শ্যাম।
রাই নিজ গৃহে থাকি             অনুরাগে ডগমগি
গমন ইচ্ছুক সোই ঠাম॥
সখী সঙ্গে বিনোদিনী        কান্তি জিনি সৌদামিনী
তাহে চিত্র অরুণ বসন।
যৈছে চলে পূর্ণচন্দ্র            সঙ্গে লৈয়া তারাবৃন্দ
তৈছে ধনী যায় কুঞ্জবন॥
বহুবিধ যন্ত্র সঙ্গে                 কুঙ্কুম আবির রঙ্গে
নৃত্য গীতে সভার উল্লাস।
মিলল নাগর সঙ্গে             আরম্ভিলা খেলা রঙ্গে
নিরখই গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২০৩১-পদসংখ্যায়, এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ শ্রীরাগ॥

মধুর শ্রীবৃন্দাবনে               ঋতু-পতি বিহরণে
তরু লতা প্রফুল্লিত সব।
ফল ফুলে নম্র ডাল        পুষ্পোদ্যান-শোভে ভাল
কোকিল-ভ্রমর-শিখি-রব॥
হোরি-রঙ্গে উনমত             নানা যন্ত্রে চমত্কৃত
গায় বায় বিলসয়ে শ্যাম।
রাই নিজ গৃহে থাকি               অনুরাগে ডগমগি
গমন ইচ্ছুক সোই ঠাম॥
সখী সঙ্গে বিনোদিনী          কান্তি জিনি সৌদামিনী
তাহে চিত্র অরুণ বসন।
যৈছে চলে পূর্ণচন্দ্র              সঙ্গে লৈয়া তারাবৃন্দ
তৈছে ধনী যায় কুঞ্জবন॥
বহুবিধ যন্ত্র সঙ্গে                  কুঙ্কুম আবির রঙ্গে
নৃত্য গীতে সভার উল্লাস।
মিলল নাগর সঙ্গে             আরম্ভিলা খেলা রঙ্গে
নিরখই গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

মধুর শ্রীবৃন্দাবনে,               ঋতু পতি বিহরণে,
তরু লতা প্রফুল্লিত সব।
ফল ফুলে নম্র ডাল,        পুষ্পোদ্যান শোভা ভাল,
কোকিল-ভ্রমর-শিখী-রব॥
হোরি রঙ্গে উনমত,             নানা যন্ত্রে চমত্কৃত,
গায় বায় বিলসয়ে শ্যাম।
রাই নিজ গৃহে থাকি,              অনুরাগে ডগমগি,
গমন-ইচ্ছুক সোই ঠাম॥
সখী সঙ্গে বিনোদিনী,         কান্তি জিনি সৌদামিনী,
তাহে চিত্র অরুণ বসন।
যৈছে চলে পূর্ণচন্দ্র,             সঙ্গে লৈয়া তারাবৃন্দ
তৈছে ধনী ধায় কুঞ্জবন॥
বহুবিধ যন্ত্র সঙ্গে,                কুঙ্কুম আবির অঙ্গে,
নিরখই গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাসন্তী রাসলীলা
॥ বসন্তরাগ - ডাঁশপাহিড়া॥

মধুর শ্রীবৃন্দাবনে,               ঋতুপতি বিহরণে,
তরু লতা প্রফুল্লিত সব।
ফল ফুলে নর্ম্ম ডাল,        পুষ্পোদ্যান শোভা ভাল,
ভ্রমরা কোকিল শিখি রবে॥
হোরি রঙ্গে উনমত,             নানা যন্ত্রে চমত্কৃত,
গায় বায় বিলসই শ্যাম।
রাই নিজ গৃহে থাকি,               অনুরাগে ডগমগি,
গমন ইচ্ছুক সোই ঠাম॥
সখী সঙ্গে বিনোদিনী,         কান্তি জিনি সৌদামিনী,
তাহে চিত্র অরুণ বসন।
যৈছে চলে পূর্ণচন্দ্র,             সঙ্গে লৈয়া তারাবৃন্দ
তৈছে ধনি ধায় কুঞ্জবন॥
বহুবিধ যন্ত্র সঙ্গে,                 আবির কুঙ্কুম রঙ্গে,
নৃত্য গীতে সবার উল্লাস।
মিলল নাগর সঙ্গে,              আরম্ভিলা খেলা রঙ্গে,
নিরখই গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বসন্তবিহার
॥ শ্রীরাগ॥

মধুর শ্রীবৃন্দাবনে                  ঋতুপতি বিহরণে
তরুলতা প্রফুল্লিত সব।
ফল ফুলে নম্র ডাল            পুষ্পোদ্যান-শোভা ভাল
কোকিল ভ্রমর শিখি রব॥
হোরি রঙ্গে উনমত                নানা যন্ত্র চমত্কৃত
গায় বায় বিলসয়ে শ্যাম।
রাই নিজ গৃহে থাকি                 অনুরাগে ডগমগি
গমন ইচ্ছুক সোই ঠাম॥
সখী সঙ্গে বিনোদিনী           কান্তি জিনি সৌদামিনী
তাহে চিত্র অরুণ বসন।
যৈছে চলে পূর্ণচন্দ্র              সঙ্গে লৈয়া তারাবৃন্দ
তৈছে ধনী যায় কুঞ্জবন॥
বহুবিধ যন্ত্র সঙ্গে                  কুঙ্কুম আবির রঙ্গে
নৃত্য গীতে সভার উল্লাস।
মিলল নাগর সঙ্গে             আরম্ভিলা খেলা রঙ্গে
নিরখই গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৪২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মধুর শ্রীবৃন্দাবনে ঋতুপতি বিহরণে                
তরুলতা প্রফুল্লিত সব।
ফল ফুলে নম্র ডাল পুষ্পোদ্যান-শোভা               
ভাল কোকিল ভ্রমর শিখি রব॥
হোরি রঙ্গে উনমত নানা যন্ত্র চমত্কৃত               
গায় বায় বিলসয়ে শ্যাম।
রাই নিজ গৃহে থাকি অনুরাগে ডগমগি               
গমন ইচ্ছুক সোই ঠাম॥
সখী সঙ্গে বিনোদিনী কান্তি জিনি                      
সৌদামিনী তাহে চিত্র অরুণ বসন।
যৈছে চলে পূর্ণচন্দ্র সঙ্গে লৈয়া                        
তারাবৃন্দ তৈছে ধনী যায় কুঞ্জবন॥
বহুবিধ যন্ত্র সঙ্গে কুঙ্কুম আবির রঙ্গে                
নৃত্য গীতে সভার উল্লাস।
মিলল নাগর সঙ্গে আরম্ভিল খেলা রঙ্গে              
নিরখই গোবর্দ্ধন দাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিহরে শ্যাম নবিন কাম
ভণিতা গোবর্দ্ধন / গোবর্দ্ধন দাস
কবি গোবর্দ্ধন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য়শাখা ২৭শ পল্লব,বসন্ত-বিহার, ১৪৭৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহগড়া॥

বিহরে শ্যাম নবিন কাম
নবিন বৃন্দা-বিপিন ধাম
সঙ্গে নবিন নাগরিগণ
.      নব ঋতু-পতি-রাতিয়া।
নবিন গান নবিন তান
নবিন নবিন ধরই মান
নোতুন গতি নৃত্যতি অতি
.      নবিন নবিন ভাতিয়া॥
ইষত সরস মধুর ভাষ
সরসে পরশে করু বিলাস
রসবতি ধনি রস-শিরোমণি
.      সরস রভসে মাতিয়া।
সরস কুসুম সরস সুষম
সরস কাননে ভেলি ভূষণ
রসে উনমত ঝঙ্কৃতি কত
.      সরস ভ্রমর-পাঁতিয়া॥
মধুর কেলি মধুর মেলি
মধুর মধুর করয়ে খেলি
মধুর যুবতি মাঝে মধুর
.      শ্যামর-গৌরি-কাঁতিয়া।
কিবা সে দুহুঁক বদন-ইন্দু
তাহে শ্রম-জল বিন্দু বিন্দু
আনন্দে মগন গোবর্দ্ধন
.       হেরিয়া ভরল ছাতিয়া॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির
২০৩২-পদসংখ্যায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র
রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ বিহগড়া॥

বিহরে শ্যাম নবিন কাম
নবিন বৃন্দা-বিপিন ধাম
সঙ্গে নবিন নাগরিগণ
.      নব ঋতু-পতি-রাতিয়া।
নবিন গান নবিন তান
নবিন নবিন ধরই মান
নোতুন গতি নৃত্যতি অতি
.      নবিন নবিন ভাতিয়া॥
ইষত সরস মধুর ভাষ
সরসে পরশে করু বিলাস
রসবতি ধনি রস-শিরোমণি
.      সরস রভসে মাতিয়া।
সরস কুসুম সরস সুষম
সরস কাননে ভেলি ভূষণ
রসে উনমত ঝঙ্কৃত কত
.      সরস ভ্রমর-পাঁতিয়া॥
মধুর কেলি মধুর মেলি
মধুর মধুর করয়ে খেলি
মধুর মুরতি মাঝে মধুর
.      শ্যামর-গৌরি-কাঁতিয়া।
কিবা সে দুহুঁক বদন-ইন্দু
তাহে শ্রম-জল বিন্দু বিন্দু
আনন্দে মগন দাস গোবর্দ্ধন
.       হেরিয়া ভরল ছাতিয়া॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহগড়া॥

বিহরে শ্যাম নবীন কাম
নবিন বৃন্দা-বিপিন ধাম
সঙ্গে নবীন নাগরীগণ
নব ঋতু-পতি-রাতিয়া।
নবীন গান নবীন তান
নবীন নবীন ধরই মান
নৌতুন গতি নৃত্যতি অতি
নবীন নবীন ভাতিয়া॥
ঈষত সরস মধুর ভাষ
সরসে পরশে করু বিলাস
রসবতী ধনী রস-শিরোমণি
সরস রভসে মাতিয়া।
সরস কুসুম সরস পবন
সরস কাননে ভেলি ভূষণ
রসে উনমত ঝঙ্কৃতি কত
সরস ভ্রমর-পাতিয়া॥
মধুর কেলি মধুর মেলি
মধুর মধুর করয়ে খেলি
মধুর যুবতী মাঝে মধুর
শ্যামর-গোরী-কাঁতিয়া।
কিবা সে দুহুঁক বদন-ইন্দু
তাহে শ্রম-জল বিন্দু বিন্দু
আনন্দে মগন দাস গোবর্দ্ধন
হেরিয়া ভরব ছাতিয়া॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণ বসন্ত - বৃহৎ জপতাল॥

বিহরে শ্যাম নবীন কাম
নবীন বৃন্দা-বিপিন ধাম
সঙ্গে নবীন নাগরীগণ
.      নবঋতুপতি রাতিয়া।
নবীন গান নবীন তান,
নবীন নবীন ধরই মান,
নৌতুন গতি নৃত্যতি অতি,
.      নবীন নবীন ভাতিয়া॥
ইষত সরম মধুর হাস,
সরসে পরশে করু বিলাস,
রসবতী ধনি রস শিরোমণি,
.      সরস রভসে মাতিয়া।
সরস কুসুম সরস সুষম,
সরস কাননে ভেলি ভূষণ
রসে উনমত ঝঙ্কৃত কত
.      সরস ভ্রমর পাতিয়া॥
মধুর কেলি মধুর মেলি,
মধুর মধুর করয়ে খেলি,
মধুর যুবতী মাঝে মধুর,
.      শ্যাম গৌরী কাঁতিয়া।
কিবা সে দুহুঁক বদন ইন্দু,
তাহে শ্রম জল বিন্দু বিন্দু,
আনন্দে-মগন দাস গোবর্দ্ধন
.       হেরিয়া ভরল ছাতিয়া॥

ই পদটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস
ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা”, ১৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিহরে শ্যাম নবীন কাম
নবীন বৃন্দা-বিপিন-ধাম
সঙ্গে নবীন নাগরীগণ,
.              নব ঋতুপতি-রাতিয়া।
নবীন গান নবীন তান,
নবীন নবীন ধরই মান,
নৌতুন গতি নৃত্যতি অতি
.                নবীন নবীন ভাতিয়া॥
ইষত সরস মধুর ভাষ,
সরসে পরশে করু বিলাস
রসবতী ধনী রস-শিরোমণি
.              সরস রভসে মাতিয়া।
সরস কুসুম সরস সুষম,
সরস কাননে ভেলি ভূষণ,
রসে উনমত ঝঙ্কৃত কত
.              সরস ভ্রমর-পাঁতিয়া॥
মধুর কেলি, মধুর মেলি,
মধুর মধুর করয়ে খেলি
মধুর যুবতী-মাঝে মধুর,
.              শ্যামর-গৌরী-কাঁতিয়া।
কিবা সে দুহুঁক বদন ইন্দু,
তাহে শ্রম-জল বিন্দু বিন্দু,
আনন্দে মগন দাস গোবর্দ্ধন
.               হেরিয়া ভরল ছাতিয়া॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বসন্তবিহার
॥ বিহগড়া॥

বিহরে শ্যাম নবিন কাম
নবিন বৃন্দা বিপিন ধাম
সঙ্গে নবিন নাগরিগণ
.      নব ঋতু পতি রাতিয়া।
নবিন গান নবিন তান
নবিন নবিন ধরই মান
নোতুন গতি নৃত্যতি অতি
.      নবিন নবিন ভাতিয়া॥
ইষত সরস মধুর ভাষ
সরসে পরশে করু বিলাস
রসবতি ধনি রস-শিরোমণি
.      সরস রভসে মাতিয়া।
সরস কুসুম সরস সুষম
সরস কাননে ভেলি ভূষণ
রসে উনমত ঝঙ্কৃতি কত
.      সরস ভ্রমর পাঁতিয়া॥
মধুর কেলি মধুর মেলি
মধুর মধুর করয়ে খেলি
মধুর যুবতি মাঝে মধুর
.      শ্যামর গৌরি কাঁতিয়া।
কিবা সে দুহুঁক বদন-ইন্দু
তাহে শ্রম-জল বিন্দু বিন্দু
আনন্দে মগন গোবর্দ্ধন
.       হেরিয়া ভরল ছাতিয়া॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৪২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিহরে শ্যাম নবিন কাম
নবিন বৃন্দা বিপিন ধাম
সঙ্গে নবিন নাগরিগণ
.              নব ঋতু পতি রাতিয়া।
নবিন গান নবিন তান
নবিন নবিন ধরই মান
নোতুন গতি নৃত্যতি অতি
.              নবিন নবিন ভাতিয়া॥
ইষত সরস মধুর ভাষ
সরসে পরশে করু বিলাস
রসবতি ধনি রস-শিরোমণি
.              সরস রভসে মাতিয়া।
সরস কুসুম সরস সুষম
সরস কাননে ভেলি ভূষণ
রসে উনমত ঝঙ্কৃতি কত
.              সরস ভ্রমর পাঁতিয়া॥
মধুর কেলি মধুর মেলি
মধুর মধুর করয়ে খেলি
মধুর যুবতি মাঝে মধুর
.              শ্যামর গৌরি কাঁতিয়া।
কিবা সে দুহুঁক বদন-ইন্দু
তাহে শ্রম-জল বিন্দু বিন্দু
আনন্দে মগন গোবর্দ্ধন
.               হেরিয়া ভরল ছাতিয়া॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
যূথহি যূথ রমণিগণ মাঝ
ভণিতা গোবর্দ্ধন
কবি গোবর্দ্ধন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য়শাখা ২৭শ পল্লব, বসন্ত-বিহার, ১৪৮০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বসন্ত॥

যূথহি যূথ রমণিগণ মাঝ।
বিহরই নাগরি নাগর-রাজ॥
বরিখত চন্দন-কুঙ্কুম-পঙ্ক।
নাচত গাওত পরম নিশঙ্ক॥
ঋতু-পতি রয়নি উজোরল চন্দ।
পরিমল ভরি বহ মারুত মন্দ॥
বাওত কত কত যন্ত্র রসাল।
কত কত ভাতি ধরই করে তাল॥
সারি শুক শিখি-কুল কোকিল-রাব।
সৌরভে মধুকর মধুকরি ধাব॥
অপরূপ দুহুঁ জন অতনু-বিলাস।
গোবর্দ্ধন হেরি বাঢ়য়ে উলাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২০৩৩-
পদসংখ্যায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ বসন্ত॥

যূথহি যূথ রমণিগণ মাঝ।
বিহরয়ে নাগরি নাগর-রাজ॥
বরিখত চন্দন-কুঙ্কুম-পঙ্ক।
নাচত গাওত পরম নিশঙ্ক॥
ঋতু-পতি রয়নি উজোরল চন্দ।
পরিমল ভরি বহ মারুত মন্দ॥
বাওত কত কত যন্ত্র রসাল।
কত কত ভাতি ধরই করে তাল॥
সারি শুক শিখি কোকিল-রাব।
সৌরভে মধুকর মধুকরি ধাব॥
অপরূপ দুহুঁ জন অতনু-বিলাস।
গোবর্দ্ধন হেরি বাঢ়য়ে উলাস॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাসন্তী রাসলীলা
॥ বসন্ত রাগ - দুঠুকী॥

যূথ হি যূথ রমণীগণ মাঝ।
বিহরয়ে নাগরি নাগর-রাজ॥
বরিখত চন্দন কুঙ্কুম পঙ্ক।
নাচত গায়ত পরম নিঃশঙ্ক॥
ঋতুপতি রজনী উজোরল চন্দ।
পরিমল ভরি বহ মারুত মন্দ॥
বাওত কত কত যন্ত্র রসাল।
কত কত ভাতি ধরই করতাল॥
সারী শুক শিখি কোকিল রাব।
সৌরভে মধুকর মধুকরী ধাব॥
অপরূপ দুঁহু জন অতনু বিলাস।
গোবর্দ্ধন হেরি বাঢ়য়ে উল্লাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বসন্তবিহার
॥ বসন্ত॥

যূথহি যূথ রমণিগণ মাঝ।
বিহরই নাগরি নাগর-রাজ॥
বরিখত চন্দন কুঙ্কুম পঙ্ক।
নাচত গাওত পরম নিশঙ্ক॥
ঋতুপতি রয়নি উজোরল চন্দ।
পরিমল ভরি বহ মারুত মন্দ॥
বাওত কত কত যন্ত্র রসাল।
কত কত ভাতি ধরই করে তাল॥
সারি শুক শিখিকুল কোকিল রাব।
সৌরভে মধুকর মধুকরি ধাব॥
অপরূপ দুহুঁ জন অতনুবিলাস।
গোবর্দ্ধন হেরি বাঢ়য়ে উলাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৪২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যূথহি যূথ রমণিগণ মাঝ।
বিহরই নাগরি নাগর-রাজ॥
বরিখত চন্দন কুঙ্কুম পঙ্ক।
নাচত গাওত পরম নিশঙ্ক॥
ঋতুপতি রয়নি উজোরল চন্দ।
পরিমল ভরি বহ মারুত মন্দ॥
বাওত কত কত যন্ত্র রসাল।
কত কত ভাতি ধরই করে তাল॥
সারি শুক শিখিকুল কোকিল রাব।
সৌরভে মধুকর মধুকরি ধাব॥
অপরূপ দুহুঁ জন অতনুবিলাস।
গোবর্দ্ধন হেরি বাঢ়য়ে উলাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গৌর সুন্দর পরম মনোহর
ভণিতা গোবর্দ্ধন দাস
কবি গোবর্দ্ধন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য়শাখা ৩১শ পল্লব, অভিষেক-লীলা,
১৫৭৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

গৌর সুন্দর                    পরম মনোহর
শ্রীবাসপণ্ডিত গেহ।
সোণ-চম্পক-                   কনক-দরপণ-
নিন্দি সুন্দর দেহ॥
রসিয়া গোরা পহু            হাসিয়া লহু লহু
কহয়ে পণ্ডিত ঠাম।
তোহারি প্রেম-রসে        এ মোর পরকাশে
দেখহ সো পহু হাম॥
শুনিয়া পণ্ডিত                  অতি হরষিত
চরণ-তলে গড়ি যায়।
করয়ে স্তুতি নতি            প্রেম-জলে ভাসি
পুলকে পূরল গায়॥
ভাগবতগণে                  আসিয়া তৈখনে
পহুক করে অভিষেক।
বারি ঘট ভরি               রাখল সারি সারি
গন্ধ আদি পরতেক॥
মুকুন্দ গদাধর                পণ্ডিত দামোদর
মুরারি হরিদাস গায়।
উঠিল জয়ধ্বনি                 মঙ্গল-রব শুনি
নদীয়া-নরনারী ধায়॥
পণ্ডিত শ্রীবাস                      পরম-উল্লাস
পহুক শিরে ঢালি বারি।
চৌদিগে হরিবোল               বড়ই উতরোল
মঙ্গল-রব সব নারী॥
নিতাই অদ্বৈত                 অতিহুঁ হরষিত
হেরই ডাহিন বাম।
সিনান সমাপল                  বসন পরায়ল
পূরল সব মন-কাম॥
কতহুঁ উপচারি                পূজল গৌরহরি
ভোজন আসন বাস।
দণ্ডবত নতি                  করল বহু স্তুতি
কহ গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২১৪৩-পদসংখ্যায়, এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ মঙ্গল॥

গৌর সুন্দর                    পরম মোহন
শ্রীবাসপণ্ডিত গেহ।
সোণ-চম্পক-                   কনক-দরপণ-
নিন্দি সুন্দর দেহ॥
রসিয়া গোরা পহু             হাসিয়া লহু লহু
কহয়ে পণ্ডিত ঠাম।
তোহারি প্রেম-রসে      সে মোরে পরকাশে
দেখ দেখ সে পহু হাম॥
শুনিয়া পণ্ডিত                অতিহুঁ হরষিত
চরণ-তলে গড়ি যায়।
করয়ে স্তুতি নতি             প্রেম-জলে ভাসি
পুলকে পূরল গায়॥
ভাগবতগণে                   আনিয়া তৈখনে
পহুক করে অভিষেক।
বারি ঘট ভরি                রাখল সারি সারি
গন্ধ আদি পরতেক॥
মুকুন্দ গদাধর                পণ্ডিত দামোদর
মুরারি হরিদাস গায়।
উঠিল জয়ধ্বনি                  মঙ্গল-রব শুনি
নদীয়া-নরনারী ধায়॥
পণ্ডিত শ্রীবাস                      পরম-উল্লাস
পহুক শিরে ঢালি বারি।
চৌদিগে হরিবোল               বড়ই উতরোল
মঙ্গল-রব সব নারী॥
নিতাই অদ্বৈত                  অতিহুঁ হরষিত
হেরই ডাহিন বাম।
সিনান সমাপল                  বসন পরায়ল
পূরল সব মন-কাম॥
কতহুঁ উপচারি                 পূজল গৌরহরি
ভোজন আসন বাস।
দণ্ডবত নতি                   করল বহু স্তুতি
কহ গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

গৌর সুন্দর,                    পরম মনোহর,
শ্রীবাসপণ্ডিত গেহ।
শোণ চম্পক,                   কনক দরপণ,
নিন্দি সুন্দর দেহ॥
বসিয়া গোরা পহুঁ,          হাসিয়া লহু লহু,
কহয়ে পণ্ডিত ঠাম।
তোহারি প্রেম রসে,       এ মোর পরকাশে,
দেখহ লো পহুঁ হাম॥
শুনিয়া পণ্ডিত,                অতি হরষিত,
চরণ তলে গড়ি যায়।
করয়ে স্তুতি নতি,          প্রেম জলে ভাসি,
পুলকে পূরল গায়॥
ভাগবতগণে,                 আনিয়া তৈখনে,
পহুক করে অভিষেক।
বারি ঘট ভরি,             রাখল সারি সারি,
গন্ধ আদি পরতেক॥
মুকুন্দ গদাধর,              পণ্ডিত দামোদর,
মুরারি হরিদাস গায়।
উঠিল জয়ধ্বনি,                মঙ্গল রব শুনি,
নদীয়া নরনারী ধায়॥
পণ্ডিত শ্রীবাস,                    পরম উল্লাস,
পহুঁক শিরে ঢালে বারি।
চৌদিগে হরিবোল,             বড়ই উতরোল,
মঙ্গল রব সব নারী॥
নিতাই অদ্বৈত,                অতিহুঁ হরষিত,
হেরই ডাহিন বাম।
সিনান সমাপন,                পরশ পরায়ণ,
পূরল সব মনকাম॥
কতহুঁ উপচারি,               পূজল গৌরহরি,
ভোজন আসন বাস।
দণ্ডবত নতি                  করল বহু স্তুতি,
কহ গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ১ম উচ্ছ্বাস, ১৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

গৌর সুন্দর                 পরম মনোহর
শ্রীবাস পণ্ডিত গেহ।
শোণ-চম্পক                  কনক দরপণ
নিন্দি সুন্দর দেহ॥
বসিয়া গোরা পহুঁ          হাসিয়া লহু লহু
কহয়ে পণ্ডিত ঠাম।
তোহারি প্রেমরসে       এ মোর পরকাশে
নদীয়া দেখহুঁ হাম॥
শুনিয়া পণ্ডিত                অতি হরষিত
চরণ তলে গড়ি যায়।
করয়ে স্তুতি নতি           প্রেমজলে ভাসি
পুলকে পূরল গায়॥
উঠিল জয়ধ্বনি              মঙ্গল রব শুনি
নদীয়া-নরনারী ধায়॥
মুকুন্দ গদাধর                পণ্ডিত দামোদর
মুরারি হরিদাস গায়॥
ভাগবতগণে                @@@@ তৈখনে
পহুঁ করে অভিষেক।
ঘট ভরি বারি               রাখি সারি সারি
গন্ধ আদি পরতেক॥ ধ্রু॥
পণ্ডিত শ্রীবাস                     পরম উল্লাস
ঢালে পহুঁক শিরে বারি।
চৌদিকে হরি বোল           বড়ই উতরোল
মঙ্গলরব সব নারী॥
নিতাই অদ্বৈত                অতিহুঁ হরষিত
হেরই ডাহিন বাম।
সিনান সমাপন                 পরম পরায়ণ
পূরল সব মনকাম॥
কতহুঁ উপচারি                পূজিল হরগৌরী
ভোজন আসন বাস।
দণ্ডবত নতি                 করল বহুত স্তুতি
কহ গোবর্দ্ধন দাস॥

@@ - অপাঠ্য, অমুদ্রিত অক্ষর।

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মালসী - তেওরা॥

গৌর সুন্দর,                  পরম মনোহর,
শ্রীবাস পণ্ডিত গেহ।
শোন চম্পক,                   কনক দরপণ,
নিন্দি সুন্দর দেহ॥
বসিয়া গোরা পঁহু,          হাসিয়া লহু লহু,
কহয়ে পণ্ডিত ঠাম।
তোহারি প্রেম রসে,       এ মোর পরকাশে,
দেখহ সো পঁহু হাম॥
শুনিয়া পণ্ডিত,                অতি হরষিত,
চরণ তলে গড়ি যায়।
করয়ে স্তুতি নতি,          প্রেম জলে ভাসি,
পুলকে পুরল গায়॥
ভাগবতগণে,                 আসিয়া তৈখনে,
পহুঁক করে অভিষেক।
বারি ঘট ভরি,              রাখিল সারি সারি,
গন্ধ আদি পরতেক॥
মুকুন্দ গদাধর,                পণ্ডিত দামোদর,
মুরারি হরিদাস গায়।
উঠিল জয়ধ্বনি,                 মঙ্গল রব শুনি,
নদীয়ার নর নারী ধায়॥
পণ্ডিত শ্রীবাস,                     পরম উল্লাস,
পহুঁক শিরে ঢালে বারি।
চৌদিকে হরিবোল,             বড়ই উতরোল,
মঙ্গল রব সব নারী॥
নিতাই অদ্বৈত,                 অতিহুঁ হরষিত,
হেরই ডাহিনে বাম।
সিনান সমাপল,                  বসন পরায়ল,
পূরল সব মনকাম॥
কতহু উপচারি,                পূজল গৌরহরি,
ভোজন আসন বাস।
দণ্ডবত নতি,                    করল বহু স্তুতি,
কহয়ে গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরাঙ্গের অভিষেক লীলা
॥ মঙ্গল॥

গৌর সুন্দর                  পরম মনোহর
শ্রীবাসপণ্ডিত গেহ।
শোণ চম্পক                  কনক দরপণ
নিন্দি সুন্দর দেহ॥
বসিয়া গোরা পহুঁ          হাসিয়া লহু লহু
কহয়ে পণ্ডিত ঠাম।
তোহারি প্রেমরসে       এ মোর পরকাশে
দেখহ সো পহু হাম॥
শুনিয়া পণ্ডিত               অতিহুঁ হরষিত
চরণতলে গড়ি যায়।
করয়ে স্তুতি নতি            প্রেমজলে ভাসি
পুলকে পূরল গায়॥
ভাগবতগণে                 আনিয়া তৈখনে
পহুঁক করে অভিষেক।
বারি ঘট ভরি              রাখল সারি সারি
গন্ধ আদি পরতেক॥
মুকুন্দ গদাধর               পণ্ডিত দামোদর
মুরারি হরিদাস গায়।
উঠিল জয়ধ্বনি                মঙ্গলরব শুনি
নদীয়া নরনারী ধায়॥
পণ্ডিত শ্রীবাস                   পরম উল্লাস
পহুঁক শিরে ঢালি বারি।
চৌদিকে হরিবোল             বড়ই উতরোল
মঙ্গল রব সব নারী॥
নিতাই অদ্বৈত                অতিহুঁ হরষিত
হেরই ডাহিন বাম।
সিনান সমাপল                 বসন পরায়ল
পুরল সব মন কাম॥
কতহুঁ উপচারি              পুজল গৌরহরি
ভোজন আসন বাস।
দণ্ডবত নতি                  করল বহু স্তুতি
কহু গোবর্দ্ধন দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৪২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌর সুন্দর পরম মনোহর                
শ্রীবাসপণ্ডিত গেহ।
শোণ চম্পক কনক দরপণ                
নিন্দি সুন্দর দেহ॥
বসিয়া গোরা পঁহু হাসিয়া লহু লহু          
কহয়ে পণ্ডিত ঠাম।
তোহারি প্রেমরসে এ মোর পরকাশে       
দেখহ সো পহু হাম॥
শুনিয়া পণ্ডিত অতিহুঁ হরষিত              
চরণতলে গড়ি যায়।
করয়ে স্তুতি নতি প্রেমজলে ভাসি          
পুলকে পূরল গায়॥
ভাগবতগণে আনিয়া তৈখনে                
পহুঁক করে অভিষেক।
বারি ঘট ভরি রাখল সারি সারি             
গন্ধ আদি পরতেক॥
মুকুন্দ গদাধর পণ্ডিত দামোদর               
মুরারি হরিদাস গায়।
উঠিল জয়ধ্বনি মঙ্গলরব শুনি                
নদীয়া নরনারী ধায়॥
পণ্ডিত শ্রীবাস পরম উল্লাস                   
পহুঁক শিরে ঢালি বারি।
চৌদিকে হরিবোল বড়ই উতরোল            
মঙ্গল রব সব নারী॥
নিতাই অদ্বৈত অতিহুঁ হরষিত                
হেরই ডাহিন বাম।
সিনান সমাপল বসন পরায়ল                
পুরল সব মন কাম॥
কতহুঁ উপচারি পুজল গৌরহরি                
ভোজন আসন বাস।
দণ্ডবত নতি করল বহু স্তুতি                
কহু গোবর্দ্ধন দাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
উঠিয়া বিহান বেলি
ভণিতা গোবর্দ্ধন দাস
কবি গোবর্দ্ধন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ৫ম উচ্ছ্বাস,
১৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

উঠিয়া বিহান বেলি। সকল ভকত মেলি॥
ভেটিল গৌরাঙ্গচাঁদ। ত্রিভুবনমনফাঁদ॥
বিরলে বসিয়া গোরা। ব্রজভাবে হয়ে ভোরা॥
কহে সে শ্যাম নাগর। শুধুই রসসাগর॥
মো সঞে নিকুঞ্জবাস। কয়ল নানা বিলাস॥
আদরে মু কৈল কোলে। তুষিল মধুর বোলে॥
কি সুখ সে হরি হরি। বালাই লইয়া মরি॥
কহে গোবর্দ্ধন দাস। এ দীনের পূরিবে কি আশ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
অতি উষাকালে শেজ তেয়াগিয়া উঠিলেন গৌরবিধু
ভণিতা গোবর্দ্ধন দাস
কবি গোবর্দ্ধন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ৫ম উচ্ছ্বাস,
১৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

অতি উষাকালে, শেজ তেয়াগিয়া, উঠিলেন গৌরবিধু।
বিগসিত বেশ, আলুথালু কেশ, জনু নব কুলবধু॥
ভকতগণেরে, হেরিয়া নিয়ড়ে, সাহসে তুলিয়া মাথা।
ঢালে জনু মধু, কহে মৃদু মৃদু, রজনীবিলাসকথা॥
শ্যাম বঁধুয়ার, পিরীতি অপার, কহিতে সজল আঁখি।
করে আহা আহা, বলে পিয় কাঁহা, উড়িল কি প্রাণপাখী॥
মনোভাব যাহা, অনুভবি তাহা, কহে গোবর্দ্ধন দাসে।
আসিলে রজনী, পাবে গুণমণি, শুনি গোরা সুখে ভাসে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হে সখি হে সখি শুন মঝু বাণী
ভণিতা গোবর্দ্ধন দাস
কবি গোবর্দ্ধন দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগদ্বন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৫ম তরঙ্গ, ৪র্থ উচ্ছ্বাস,
২৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

হে সখি হে সখি শুন মঝু বাণী।
গোরা বিনু এ দেহে না রহে পরাণি॥
মোহে বিছুরি সে রহল পরদেশ।
তব কাহে না হোয়ত এ পরাণ শেষ॥
অয়বে করি কত গণলু দিন।
ক্ষিতি পর লেখনে অঙ্গুলি ছিন॥
দিন দিন গণি হোয়ল মাহ।
তবে কাহে না ফিরল নিকরুণ নাহ॥
মাহ মাহ গণি পূরল বরষ।
ছিড়ল আশাপাশ জীউ বিরস॥
গোবর্দ্ধন কহে কাহে ছোড় আশ।
আছয়ে তোহারি পিয় তোহারি পাশ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
এ ধনি মানিনি মান নিবার
ভণিতা গোবর্দ্ধন
কবি গোবর্দ্ধন দাস
এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির শেষ চারটি কলি “কি করব এ সখি মন্দির মাহ” পদটির
শেষ চারটি কলি পায় হুবহু এক।

॥ কামোদ॥

এ ধনি মানিনি মান নিবার।
আবিরে অরুণ শ্যাম,-                 অঙ্গ মুকুর পর,
নিজ প্রতিবিম্ব নেহার॥
হোরি রঙ্গ,                            তরঙ্গিত শ্যামর,
বিহরই কালিন্দী তীর।
সোঙরি সোঙরি মন,                     করত উচাটন
যতনে না হোয়ত থির॥
কি কহব গুরুজন,                     পরিজন দুরজন,
ইহ সব বড়ই তিখার।
সহচরী রঙ্গহি,                            পরম নিশঙ্কহি,
কানু সঞে করব বিহার॥
মৃগ মদ চন্দন,                            কুসুম হারগণ,
যতেক ঝাঁপি লেহ হাত।
তাম্বুল কপূরযুত,                       লেই চলহ দ্রুত,
গোবর্দ্ধন চলু সাথ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর