কবি গোপীর বৈষ্ণব পদাবলী
*
দণ্ডবৎ হৈয়া মায় সাজিল যাদব রায়
ভণিতা গোপী
কবি গোপী
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা ২য়-ভাগ, ৩০শ পল্লব, অষ্টকালীয়
নিত্য-লীলা, ২৫৭২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভাটিয়ারি॥

দণ্ডবৎ হৈয়া মায়                        সাজিল যাদব রায়
সঙ্গহি রঙ্গিয়া রাখাল।
বরজে পড়িল ধ্বনি                       শিঙ্গা-বেণু-রব শুনি
আগে ধায় গোধনের পাল॥
গোঠেরে সাজিল ভাইয়া             যে শুনে সে যায় ধাইয়া
রহিতে না পারে কেহ ঘরে।
শুনিয়া মুখের বেণু                        মন্দ মন্দ চলে ধেনু
পুচ্ছ ফেলি পিঠের উপরে॥
নাচিতে নাচিতে যায়                        নূপুর পঞ্চম গায়
পাঁচনি ফিরায় শিশুগণে।
হৈ হৈ রাখাল বলে                        শুনি সুখ সুরকুলে
গোপী বলে নাথ যায় বনে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ও সে আমার চিকণ কালা
ভণিতা গোপী
কবি গোপী
এই পদটি নৃসিংহচন্দ্র মুখোপাধ্যায় বিদ্যারত্ন সম্পাদিত “সাহিত্য-সংহিতা” পত্রিকা-র ১৩০৯
বঙ্গাব্দের আষাঢ়-শ্রাবণ সংখ্যায় (জুলাই-আগস্ট ১৯০২খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, আবদুল করিম
সাহিত্যবিশারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী” প্রবন্ধে ২০৭-পৃষ্ঠায় উদ্ধৃত, চট্টগ্রামের কোন
পুঁথি থেকে পাওয়া, এই পদটি এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গীত॥

ও সে আমার চিকণ কালা,
.        কেন শূন্য কদম তলা॥ ধু।
কি বোলে প্রবোধ দিব মনে আমার।
বিচ্ছেদ ভুজঙ্গ অঙ্গে ডংশে অনিবার॥
নিবৃত্ত না হএ সখি বিরহ বিষের জ্বালা॥
মরি মরি সহচরি, আমি অবলা।
কার গলে হার গাথে দিব বনফুলের মালা॥
বাঁকা বংশী বদন বিনে প্রাণি মোর যাএ।
বৃকভানু নন্দিনী পাগলিনী প্রায়॥
আদরিণী করে মোরে বাড়াইলে গৌরব।
কলঙ্কিনী করে মোরে লুকালে মাধব॥
রাধা বোলে কে ডাকিবে গোঠে যাবার বেলা॥
মরি মরি বন্ধু বিনে শূন্য হেরি বৃন্দাবন।
কি করিব কোথা যাব বোল অখন॥
অহনিশি বন্ধু বিনে ঝুরে দুই নয়ান।
তুষের আনল হইতে দহে তনু দুই গুণ॥
গোপী বোলে সেই বিচ্ছেদে হইল (মন) আমার চঞ্চলা।

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর