কবি জগমোহন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
পুরুব জনম-দিবস দেখিয়া
পুরব জনম-দিবস দেখিয়া
পূরব জনম-দিবস দেখিয়া
পুরূব জনম-দিবস দেখিয়া
ভণিতা জগমোহন দাস
কবি জগমোহন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য়শাখা ১৮শ পল্লব, জন্মলীলা,
১১২৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পদটি বৃন্দাবন দাসের ভণিতাতেও পাওয়া গেছে।

অথ শ্রীকৃষ্ণস্য জন্ম-লীলা।
নন্দোত্সবঃ।
অস্যোচিত-শ্রীগৌরচন্দ্রঃ।
॥ কল্যাণী॥

পুরুব জনম-                        দিবস দেখিয়া
আবেশে গৌর রায়।
নিজগণ লৈয়া                        হরষিত হৈয়া
নন্দ-মহোত্সব গায়॥
খোল করতাল                        বাজয়ে রসাল
কীর্ত্তন জনম-লীলা।
আবেশে আমার                    গৌরাঙ্গ-সুন্দর
গোপ-বেশ নিরমিলা॥
ঘৃত ঘোল দধি                        গো-রস হলদি
অবনী মাঝারে ঢালি।
কান্ধে ভার করি                      তাহার উপরি
নাচে গোরা বনমালী॥
করেত লগুড়                        নিতাই সুন্দর
আনন্দ-আবেশে নাচে।
রামাই মহেশ                        রাম গৌরীদাস
নাচে তার পাছে পাছে॥
হেরিয়া যতেক                        নীলাচল-লোক
প্রেমের পাথারে ভাসে।
দেখিয়া বিভোর                        আনন্দ-সাগর
এ জগমোহন দাসে॥

এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৬২৫-পদসংখ্যায়
বৃন্দাবন দাসের ভণিতায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ কল্যাণী॥

পুরুব জনম-                        দিবস দেখিয়া
আবেশে গৌর রায়।
নিজগণ লৈয়া                        হরষিত হৈয়া
নন্দ-মহোত্সব গায়॥
খোল করতাল                        বাজয়ে রসাল
কীর্ত্তন জনম-লীলা।
আবেশে আমার                     গৌরাঙ্গ-সুন্দর
গোপ-বেশ নিরমিলা॥
ঘৃত ঘোল দধি                        গো-রস হলদি
অবনী মাঝারে ঢালি।
কান্ধে ভার করি                      তাহার উপরি
নাচে গোরা বনমালী॥
করেতে লগুড়                        নিতাই সুন্দর
আনন্দ-আবেশে নাচে।
রামাই মহেশ                        রাম গৌরীদাস
নাচে তার পিছে পিছে॥
হেরিয়া যতেক                        নীলাচল-লোক
প্রেমের পাথারে ভাসে।
দেখিয়া বিভোর                        আনন্দ-সাগর
গায় বৃন্দাবন দাসে॥

এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে
।

॥ কল্যাণী॥

পূরব জনম-দিবস দেখিয়া আবেশে গৌর রায়। নিজগণ লঞে, হরষিত
হ’ঞে, নন্দ মহোত্সব গায়॥ খোল করতাল, বাজায়ে রসাল, কীর্ত্তন জনম-লীলা।
আবেশে আমার, গৌরাঙ্গ সুন্দর গোপবেশ নিরমিলা॥ ঘৃত ঘোল দধি,
গো-রস হলদি, অবনীমাঝারে ঢালি। কান্ধে ভার করি, তাহার উপরি, নাচে
গোরা বনমালী॥ করেতে লগুড়, নিতাই সুন্দর, আনন্দ-আবেশে নাচে।
রামাই মহেশ, রামগৌরীদাস, নাচে তার পাছে পাছে॥ হেরিয়া যতেক, নীলাচল
লোক, প্রেমের পাথারে ভাসে। দেখিয়া বিভোর, আনন্দ-সাগর, এ জগমোহন দাসে॥

এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীশ্রীকৃষ্ণের জন্মলীলা।
তস্য শ্রীগৌরচন্দ্র।
॥ কল্যাণী॥

পুরুব জনম                          দিবস দেখিয়া
আবেশে গৌর রায়।
নিজগণ লৈয়া                        হরষিত হৈয়া
নন্দ মহোত্সব গায়॥
খোল করতাল                        বাজয়ে রসাল
কীর্ত্তন জনম লীলা।
আবেশে আমার                     গৌরাঙ্গ সুন্দর
গোপ বেশ নিরমিলা॥
ঘৃত ঘোল দধি                        গো-রস হলদি
অবনী মাঝারে ঢালি।
কান্ধে ভার করি                      তাহার উপরি
নাচে গোরা বনমালী॥
করেতে লগুড়                        নিতাই সুন্দর
আনন্দে আবেশে নাচে।
রামাই মহেশ                        রাম গৌরীদাস
নাচে তার পাছে পাছে॥
হেরিয়া যতেক                        নীলাচল লোক
প্রেমের পাথারে ভাসে।
দেখিয়া বিভোর                        আনন্দ সাগর
এ জগমোহন দাসে॥

এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নন্দোত্সব।
॥ বিভাস - মধ্যম দশকুশী॥

পুরব জনম                          দিবস দেখিয়া
আবেশে গৌররায়।
নিজগণ লৈয়া                        হরষিত হইয়া
নন্দমহোত্সব গায়॥
খোল করতাল                        বাজয়ে রসাল
কীর্ত্তন জনম-লীলা।
আবেশে আমার                     গৌরাঙ্গ সুন্দর
গোপবেশ নিরমিলা॥
ঘৃত ঘোল দধি                        গোরস হলদি
অবনী মাঝারে ঢালি।
কান্ধে ভার করি                     তাহার উপরি
নাচে গোরা-বনমালী॥
করেতে লগুড়                        নিতাই সুন্দর
আনন্দ আবেশে নাচে।
রামাই মহেশ                        রাম গৌরী দাস
নাচে তার পাছে পাছে॥
হেরিয়া যতেক                        নীলাচল লোক
প্রেমের পাথারে ভাসে।
দেখিয়া বিভোর                        আনন্দ সাগর
এ জগমোহন দাসে॥

এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরচন্দ্র
॥ কল্যাণী॥

পুরূব জনম-                        দিবস দেখিয়া
আবেশে গৌর রায়।
নিজগণ লয়ে                        হরষিত হয়ে
নন্দ মহোত্সব গায়॥
খোল করতাল                      বাজয়ে রসাল
কীর্ত্তন জনমলীলা।
আবেশে আমার                    গৌরাঙ্গ সুন্দর
গোপবেশ নিরমিলা॥
ঘৃত ঘোল দধি                        গোরস হলদি
অবনী মাঝারে ঢালি।
কান্ধে ভার করি                    তাহার উপরি
নাচে গোরা বনমালী॥
করেতে লগুড়                        নিতাই সুন্দর
আনন্দে আবেশে নাচে।
রামাই মহেশ                        রাম গৌরীদাস
নাচে তার পাছে পাছে॥
হেরিয়া যতেক                        নীলাচল লোক
আনন্দ সাগরে ভাসে।
দেখিয়া বিভোর                        আনন্দ সাগর
এ জগমোহন দাসে॥

এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৯১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পুরূব জনম দিবস দেখিয়া                
আবেশে গৌর রায়।
নিজগণ লয়ে হরষিত হয়ে                
নন্দ মহোত্সব গায়॥
খোল করতাল বাজয়ে রসাল             
কীর্ত্তন জনমলীলা।
আবেশে আমার গৌরাঙ্গ সুন্দর           
গোপবেশ নিরমিলা॥
ঘৃত ঘোল দধি গোরস হলদি              
অবনী মাঝারে ঢালি।
কান্ধে ভার করি তাহার উপরি             
নাচে গোরা বনমালী॥
করেতে লগুড় নিতাই সুন্দর                
আনন্দে আবেশে নাচে।
রামাই মহেশ রাম গৌরীদাস                
নাচে তার পাছে পাছে॥
হেরিয়া যতেক নীলাচল লোক                
আনন্দ সাগরে ভাসে।
দেখিয়া বিভোর আনন্দ সাগর                
এ জগমোহন দাসে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাধা মাধব সঙ্গ
ভণিতা জগমোহন দাস
কবি জগমোহন দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য়শাখা ২৭শ পল্লব, বাসন্তী রাস-লীলা প্রকারান্তর, ১৫১৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ কেদার॥

রাধা মাধব সঙ্গ।
বিহরয়ে প্রেম-তরঙ্গ॥
চৌদিশে সহচরি মেলি।
মণ্ডলি করি করু কেলি॥
করহিঁ করহিঁ বন্ধান।
মাঝহি রাধা কান॥
বহুবিধ রাগিণি ছন্দ।
গাওত কতহুঁ পরবন্ধ॥
কত কত যন্ত্র রসাল।
ভেদ পবন ধরু তাল॥
অপরূপ রাস-বিলাস।
কহ জগমোহন দাস॥

এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির
১৫১৭-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র
রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ কেদার॥

রাধা মাধব সঙ্গ।
বিহরয়ে প্রেম-তরঙ্গ॥
চৌদিশে সহচরি মেলি।
মণ্ডলি করি করু কেলি॥
করহি কর বন্ধান।
মাঝহি রাধা কান॥
বহুবিধ রাগিণি ছন্দ।
গাওত কতহি পরবন্ধ॥
কত কত যন্ত্র রসাল।
ভেদ পরণ ধরু তাল॥
অপরূপ রাস-বিলাস।
কহ জগমোহন দাস॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
(কারু) কোচড়েতে ভেটা করি রাম চাকি ভাঁড়াগুলি
ভণিতা জগমোহন
কবি জগমোহন দাস
এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠলীলা
॥ কড়খা ধানশ্রী - মধ্যম ছুটা॥

(কারু) কোচড়েতে ভেটা করি,                রাম চাকি ভাঁড়াগুলি,
কেহ কেহে পাণচনি ফিরায়।
রাম কানাই কুতুহলে,                               দুইদিগে দুইগলে,
শিশুগণ করে ধাওয়াধাই॥
কোকিলার স্বরে,                                কুহু কুহু শব্দ করে,
কেহ ডাকে ভ্রমরার স্বরে।
কেহ হয় শিখিপাখি,                        দুই কর ভূমেতে রাখি,
পদ তোলে মস্তক উপরে॥
কেহ বৃক্ষ ডালে চড়ি,                         ঝাঁপ দিয়ে ভূমে পড়ি,
কেহ তারে খেদাড়িয়া যায়।
কেহ যায় দুরাদুরি,                             কেহ তরু লক্ষ করি,
কেহ ডাকে দাদারে বলাই॥
কেহ পলায় উভ রড়ে,                       দেখ না মারিছে মোরে,
বলি আইসে বলরামের পাশে।
গেঁড়ুয়া লইয়া করে,                          উলটি তাহারে মারে,---
বলরাম মন্দ মন্দ হাসে॥
কৌতুকে ঠেলাঠেলি,                            নিজ অঙ্গ হেলাহেলি,
কেহ কেহ লাটুয়া ঘুরায়।
সব শিশু থরে থরে,                            গেঁড়ুয়া লইয়া করে,
লোফে গেঁড়ু মত্ত বলাই॥
সাতলি ভাঙ্গিল বলি,১                          ডাকে মহা মত্ত বলী,
চৌদিগে পড়ে ধাওয়া ধাই।
এক শিশু কহে শুন                            সাতলি পাত্যাছি পুন
মার যদি কানাইর দোহাই॥
রাম কানু সখা মেলি,                        করয়ে বিনোদ কেলি,
কালিন্দি পুলিন তরুতলে।
এ জগমোহন ভণে,                              রাখালগণের সনে,
আনন্দে বিবিধ খেলা খেলে॥

টীকা -
১। যে ‘কোট বা গণ্ডী’ দিয়া খেলা হয়, তাহা অতিক্রম করিলেই তাহাকে ‘সাতলি ভাঙ্গা’ বলে। সাতলি
ভাঙ্গিলে খেলায় জয় হইল।
---রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র, “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঘন মুরলী ধ্বনি ডম্ফ শবদ শুনি
ভণিতা জগমোহন
কবি জগমোহন দাস
এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত “কীর্ত্তন পদাবলী”,
৩৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

হোলীলীলা
॥ মায়ূর বসন্ত - তেওট॥

ঘন মুরলী-ধ্বনি                     ডম্ফ-শবদ শুনি
উমরই নাগরী-চিত।
সখিগণ সঙ্গে                      সাজি ধনি নিকসল
গায়ত সুমধুর গীত॥
ডম্ফ রবাব                        উপাঙ্গ বাজাওত
কোই সখি করে তাস।
সভে ভেল উনমত                  আবীর উড়ায়ত
কোই সখি বলে ভালি ভাল॥
হোরিক রঙ্গে                        সঙ্গে ব্রজবধুগণ
আওল কালিন্দী-তীর।
বটু সুবল সঙ্গে               খেলিতে খেলিতে রঙ্গে
আওল গোকুলবীর॥
মদনমোহন হেরি                    দেওত রসগারি
দুই দলে ভেল একঠাম।
ছুটে পিচকারী                     গুলাল ভরি ভরি
নিরখি মূরছি কোটি কাম॥
দুই দলে এক মেলে                   ঘন কুঙ্কুম চলে
আবীরে অরুণ ভেল অঙ্গ।
এ জগমোহন তহিঁ                     রঙ্গ জোগায়ত
দেখত দুহুঁ জন সঙ্গ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর