বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি -                                   পাতার উপরে . . .  
শিক্ষাবীদ, সাহিত্যিক, গবেষক ও প্রাচীন পুথির সংগ্রাহক,
শ্রী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, সুরেশচন্দ্র  
সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ, ১৩২৫ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯১৮), তাঁর “সঙ্গীত শাস্ত্রের  
একখানি প্রাচীন গ্রন্থ” প্রবন্ধে লিখেছেন . . .

“. . .
বৈষ্ণব পদাবলীর মত সুন্দর জিনিস বঙ্গসাহিত্যে আর নাই। কাণের ভিতর দিয়া মরমে পশিয়া প্রাণ
আকুল করিয়া তুলিতে পারে, এমন সুধাস্রাবী ঝঙ্কার বৈষ্ণব পদাবলী ভিন্ন বাঙ্গালায় আর কিছুতে নাই
।”



আমরা
মিলনসাগরে  কবি জগমোহন দাসের বৈষ্ণব পদাবলী আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে
এই  প্রচেষ্টার সার্থকতা।   


কবি জগমোহন দাসের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।   


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ১৯.৯.২০১৯

...
বঙ্গীয় জীবন কোষে জগমোহন মিত্র   
কবি জগমোহন দাস সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি   
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি    
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
*
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
এই পাতার কবিতার ভণিতা -
জগমোহন, জগমোহন দাস
কিন্তু তাঁর পরিচয় ও জীবন সম্বন্ধে কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই। ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র
ব্রজবাসী ও
খগেন্দ্রনাথ মিত্রর “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ডে আমরা এই কবির আরও দুটি পদ পেয়েছি। এর
মধ্যে একটি বাংলায় ও একটি ব্রজবুলিতে। দুটি পদ থাকা সত্বেও এই গ্রন্থে কবি জগমোহনের কোনও
পরিচয় দেওয়া হয়নি।

চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু” সঙ্কলনে আমরা জগমোহন দাসের ভণিতায়
“পুরুব জনম-দিবস দেখিয়া” পদটি পাই। অর্থাৎ ১৮৭০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত এই জগমোহন দাসের পদটি ভণিতায়
গাওয়া হোত। কারণ চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পদ সংগ্রহ করতেন বিভিন্ন মেলায়, কীর্তনের অনুষ্ঠানে
এবং কীর্তনিয়াদের কাছে শুনে শুনে। তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, এ কথা গ্রন্থের ভূমিকায় লিখে
গিয়েছেন।
বঙ্গীয় জীবন কোষে জগমোহন মিত্র -                                                  পাতার উপরে . . .  
১৯৫৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত প্রিয়নাথ জানা সম্পাদিত বঙ্গীয় জীবন কোষ ১ম খণ্ডে একজন জগমোহনের উল্লেখ
রয়েছে। পুরো নাম জগমোহন মিত্র। পিতা রামচন্দ্র। তিনি একটি মনসা-মঙ্গল কাব্য রচনা করেছিলেন
১৭৬৬ খৃষ্টাব্দে। সেই গ্রন্থের তাঁর আত্ম-পরিচয় থেকে জানা যায় যে তাঁর নিবাস ছিল বালাণ্ডার গোহপুরে।
মজার কথা হলো এই যে সম্পাদক লিখেছেন যে, “কবির বিনয় প্রকাশের ভঙ্গী দেখে কেউ কেউ কবিকে
বৈষ্ণব বলে অনুমান করেন কবির নিজের ভাষায়,---

নাম রাখিয়াছে সবে শ্রীজগমোহন।
অন্ধের যেমন নাম কমললোচন॥”

আমাদের বৈষ্ণব পদাবলীর কবি জগমোহন আর উপরোক্ত মনসা-মঙ্গলের কবি জগমোহন মিত্র কি এক ও
অভিন্ন ব্যক্তি? কারণ একই কবি বিভিন্ন ধর্ম-ভাবের কাব্য রচনা করেছেন, এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে।
গোবিন্দদাস কবিরাজের নামটিই সর্বাগ্রে মনে আসে! তিনি শুরুতে শাক্ত পদাবলী রচনা করতেন।  পরে  
বৈষ্ণব পদাবলী রচনা করেন। তাই বিশেষজ্ঞদের কাছে অনুরোধ রইলো যাতে তাঁরা এই বিষয়ে অনুসন্ধান
করে এই রকম সব বাংলা-সাহিত্যের অজানা দিক উন্মোচিত করেন।
*
কবি জগমোহন দাস সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি -                              পাতার উপরে . . .  
সতীশচন্দ্র রায় তাঁর সম্পাদিত বৈষ্ণবদাস সংকলিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকায় পদকর্তা
জগমোহন দাস সম্বন্ধে ১১৯-পৃষ্ঠায় লিখেছেন . . .

পদকর্ত্তা জগমোহনের দাসের মাত্র দুটী পদ পদকল্পতরুতে উদ্ধৃত হইয়াছে। পদ দুইটী বিষশেষত্বহীন উহা
হইতে জগমোহনের পরিচয় কিছু জানা যাইতে পারে নাই। জগবন্ধু বাবুর গৌরপদ-তরঙ্গিণীতে জগমোহনের
কোনও পদ বা তাঁহার পরিচয় সংগৃহীত হয় নাই। আমরা আশা করি যে, পরবর্ত্তী আলোচনাকারীদিগের
অনুসন্ধানের ফলে জগমোহনের পরিচয় সহ তাঁহার রচিত অন্যান্য পদাবলী সংগৃহীত হইয়া পদাবলী-
সাহিত্যের পুষ্টি সাধন করিবে
।”
*
কবি জগমোহন দাস - এর বাংলাভাষায় লেখা দুটি
পদ রয়েছে
বৈষ্ণবদাস সংকলিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুতে।
সুতরাং তিনি নিশ্চিতভাবে
বৈষ্ণবদাস পূর্ববর্তী কবি,
এ কথা বলা যায়। তাঁর “পুরুব জনম-দিবস দেখিয়া”
দটি
নিমানন্দ দাসের পদরসসার সংকলনে বৃন্দাবন
দাসের ভণিতায় পাওয়া গেছে।