কবি জয়ানন্দের বৈষ্ণব পদাবলী
*
অনেক দিবস ধরি সভে অনুমান করি
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ
বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, নদীয়া খণ্ড, ২২শ অধ্যায়, ২৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কথা দিশা
॥ পঠমঞ্জরী॥

অনেক দিবস ধরি            সভে অনুমান করি
গৌরাঙ্গ আনিল গৃহবাসে।
মনে অনুভব যত          বিনোদ কর শত শত
হাসি হাসি সভারে প্রকাশে॥
শুন শচী ঠাকুরাণী                 অপরূপ কাহিনী
কুলবধূ কৈল কেন ভূতে।
গৃহকাজে না লয় মন            প্রাণ করে উচাটন
না জানি কি কৈল তোমার পুতে॥
তিমির মন্দিরে থাকি            বসনে বদন ঢাকি
সব অলঙ্কার ঢাকি লে।
তোরা রামকৃষ্ণ বল              দেখি পুলক জল
হাসিয়া আনন্দে কোল দে॥
যে জনা না বলে হরি        তারে মারে চুলে ধরি
বান্ধিয়া পেলাএ অন্ধকূপে।
দেখিঞা শুনিঞা খুড়ি       ভাঙ্গে সব হাঁড়ি কুড়ি
বিবসন করাএ স্বরূপে॥
চাপের দুধের সর               ক্ষীর নাড়ু মনোহর
আপনি খাইআ মিছা দোষে।
জিজ্ঞাসিলে করে দ্বন্দ্ব        তাহে সাক্ষী জয়ানন্দ
তুমারে করিল আর দাসে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
অনেক সেবক সঙ্গে হাস পরিহাস রঙ্গে
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ
বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, নদীয়া খণ্ড, ৩৫শ অধ্যায়, ৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কথা দিশা
॥ মাউর ধানশি রাগ॥

অনেক সেবক সঙ্গে                হাস পরিহাস রঙ্গে
ইন্দ্রাণী নৈহাটি করি বামে।
অজয় নদী পার হয়্যা    চাকটা য়ালকণা ডাহিনে থুঞা
উত্তরিলা তিলপুর গ্রামে॥
শিষ্যগুরু ভগবান                   গয়া করিবারে জান
চরণারবিন্দ পরকাশে।
পদরজে অনায়াসে                  নিরবধি অভিলাষে
কেবল মুনীন্দ্র সম্ভাষে॥
ডাহিনে বামে বাউবাড়া      একতালা গৌড় মাল্বা পাড়া
বাহিয়া কানাঞির নাটশালে।
গড়িপা পর্ব্বততলে                   গঙ্গার দক্ষিণ কূলে
তপ্ত সিকতা রবি জ্বলে॥
জয়ঢাক বীরঢাক                     পর্ব্বত লাখে লাখ
মহারণ্য কর্কট কর্কশে।
খগমৃগ তরুলতা                      পাষাণ বনদেবতা
মুক্ত হইল চরণ পরশে॥
কুসুমিত বনস্থলী                  কোকিল ভ্রমর কেলি
কূজিত কুঞ্জকুটীরে।
কপোত শুকসারী যত                 দেখি পুলকাবৃত
মুরুছিত নদনদী তীরে॥
দুর্গম পথ পরিহরি                  মগধে প্রবেশ করি
রাজগিরি ঈশ্বরপুরী বসে।
গোপাল মন্ত্র দশাক্ষর                প্রেমভক্তি শক্তিধর
ঈশ্বরপুরী কহে জপের উদ্দেশে॥
পথশ্রমে জ্বর আইল              বিপ্র পাদোদক লইল
সভারে কহিল হাসি হাসি।
ব্রাহ্মণমহিমা জত                     কহি সব সঞ্জাত
কালি হব গয়াক্ষেত্রবাসী॥
রজনী বঞ্চিয়া সুখে                চলিলা পশ্চিম মুখে
গয়ার ময়াল (?) দেখি নাচে।
প্রবেশিলা গয়াক্ষেত্রে            মুনীন্দ্রের মঠ বিচিত্রে
বাসা করি ফল্গু নদী কাছে॥
চৈতন্যমঙ্গল গীত                 সর্ব্বলোক আনন্দিত
জয়ানন্দ মুখে   দৈববাণী।
জেবা শুনে জেবা গাএ           আনন্দে বৈকুন্ঠে জাএ
গঙ্গা জেন ত্রিপথগামিনী॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
অভাগীর উদরে পুত্র তোর জন্ম হইল
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ
বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, বৈরাগ্য খণ্ড, ৭ম অধ্যায়, ৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তত কথা দিশা
॥ পঠমঞ্জরী রাগ॥

অভাগী উদরে পুত্র        তোর জন্ম হইল ধ্রুব রে
কৃষ্ণসেবা না করিল আমি।
তাহে বাপের দুলাল নহ       সিংহাসনে  বসিতে চাহ
এত ভাগ্যে না জন্মিলা তুমি॥
ধ্রুব না কান্দ না কান্দ,   ধ্রুব রে,
কত মিছা মায়াজাল বান্ধ॥ ধ্রু॥
দুর্ভাগার পুত্র তুমি জগতে বিদিৎ।
রাজসিংহাসন তোমার নহে ত উচিৎ॥
ব্রহ্মা আদি আত্ম (? )         মত কৃষ্ণ সেবা করে।
উলসিত উচ্চপদ পায় স্বর্গপুরে॥
তুমি জদি কৃষ্ণ ভজ করি আরাধনা।
সিংহাসন পাবে তুমি করি উপাসনা॥
মায়ের বচন শুনি ধ্রুব মনে গুণি।
কোথা গেলে পাব কৃষ্ণ কহ গো জননী॥
মধুবনে পাবে কৃষ্ণ কহেন উপদেশ।
আমার বচন শুন কহিল বিশেষ॥
উত্তানপাদের পুত্র ধ্রুব মহাশয়।
সিংহাসন পাবে তুমি কহিলাম নিশ্চয়॥
তবে ধ্রুব নাম মোর জগতে বিস্তারি।
মায়ের সৌভাগ্য দিব সেবিআ শ্রীহরি॥
আপনা প্রতিজ্ঞা ধ্রুব মায়েরে কহিল।
পঞ্চ বত্সরের শিশু বনেতে চলিল॥
মায়ের চরণ শিরে বিভূষিত করি।
শুভক্ষণে সেই বেলা লড়ে যাত্রা করি॥

তুমার সতাই পূর্ব্বে               কৃষ্ণ আরাধিয়াছিল
স্বামীর সৌভাগ্যা তে কারণে।
কৃষ্ণভক্তিহীন আমি             হারাল্য সে হেন স্বামী
কেমতে বসিবে সিংহাসনে॥
তুমার সতাইর পুত্র জত         বাপে তারা অনুরত
সিংহাসনে বস্যে মাএর বোলে।
তুমি দুহইর বেটা               সংসার যুড়িয়া খোঁটা
কেমতে বসিবে বাপের কোলে॥
ব্রহ্মাদি অমর জত               কৃষ্ণ ভজে অবিরত
উচ্চপদ বস্যে স্বর্গভূমি।
তুমি জদি কৃষ্ণ ভজ               সিংহাসন কোন পদ
ত্রিলোকে পূজিত হবে তুমি॥
মাএর বচন শুনি                  ধ্রুব মনে মনে গুনি
কোথা পাব কৃষ্ণের উদ্দেশ।
মধুবনে কৃষ্ণ পাবে                তথা কেমনে জাবে
এই তোরে কহি উপদেশ॥
উত্তানপাদপুত্র                          নাম পড়াএ ধ্রুব
মা বাপের সিংহাসন দেঙ।
তবে ধ্রুব নাম ধরোঁ           তুমারে সৌভাগ্য করোঁ
সিংহাসন তুমারে দেঙ॥
মাএর চরণধূলি                   শিরে বিভূষণ করি
শুভক্ষণে যাত্রা করি লড়ে।
চৈতন্যচরণ ধ্যানে                 জয়ানন্দানন্দে ভণে
জয় জয়কার স্বর্গে পড়ে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
অযোধ্যায় তে রাত্রি বঞ্চিআ প্রেমসুখে
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, তীর্থ খণ্ড, ২য় অধ্যায়, ২১১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তীর্থ-২

অযোধ্যায় তে রাত্রি বঞ্চিআ প্রেমসুখে।
চলিলা চৈতন্য গোসাঞি দক্ষিণ মুখে॥
গিরি কন্দর ঝোর ঝঙ্কার অরণ্য।
অনেক দিবসে পথে চলিলা চৈতন্য॥
তপ্ত বালি কর্কশ কন্টক পাখর কুচা।
কুশ কাশ শীর্ণ পত্র তৃণ কাঁটা খোঁচা॥
প্রেমানন্দে দিবস রাত্রিতে করি ত্বরা।
চৈতন্য গোসাঞি উত্তরিলা গা মথুরা॥
আশী ক্রোশ মথুরামণ্ডল সর্ব্ব জয়।
স্থাবর জঙ্গম সব চতুর্ভূজময়॥
বিংশতি যোজন ক্ষেত্র নগর মথুরা।
পুরে কারাগার ছিল এবে সে মগরা॥
মথুরামণ্ডল দেখি দণ্ডবৎ হইলা।
প্রেমানন্দে অশ্রুজলে ডুবিয়া রহিলা॥
কামপূর্ণ কালিন্দীর জলে স্নান করি।
জন্মস্থান দেখি গেলা গোবর্দ্ধন গিরি॥
শেষ-শায়ী গোপীনাথ মথুরা-মল্ল দেখি।
রঙ্গভূমি দেখিয়া হইলা বড় সুখী॥
কংসমঞ্চ বিশ্রামঘাট ভোজন তিঅড়ি।
ধনুর্ম্ময় যজ্ঞস্থান অক্রুরের বাড়ি॥
মালাকার কুবুজা মন্দির একে একে।
কংসপাট ব্জ্রঘাট দেখিল কৌতুকে॥
দেখিল গোবিন্দরায় মান সরোবর।
ইন্দ্র যজ্ঞ ভঙ্গ যথা করিল ঈশ্বর॥
ব্রহ্মার মোহন স্থান দেখি বৃন্দাবনে।
বংশীবট ভাণ্ডীর দেখিল যথাক্রমে॥
যজ্ঞপত্মীর অন্ন খাইল জেইখানে।
ধীর সমীর গেলা তাহার দক্ষিণে॥
গোপিকার বস্ত্রহরণ ঘাট দেখি।
রাধাকুণ্ড দেখি বড় হইলা কৌতুকী॥
কেলিমণ্ডল কল্পতরু আর কেশি ঘাট।
উদ্ধবের ঘর ভাদুর শিলাপাট॥
সমধুর ঘাট কালী হ্রদ নন্দালয়।
একে একে দেখি বৃন্দাবনে জলাশয়॥
হেনকালে দবির খাস ভার সহিতে।
চৈতন্যচন্দ্রের ঠাঞি গেলা আচম্বিতে॥
মহাবৈরাগ্য মূর্ত্তি মৃত্তিকাভাণ্ড সঙ্গে।
নিরবধি প্রেমধারা পুলক সর্ব্বাঙ্গে॥
যতেক সম্পদ তারা তৃণ জ্ঞান করি।
বৃন্দাবনে ভ্রমেন অকিঞ্চন বেশ ধরি॥
ঈশ্বর দবির খাস তাই সনাতন।
গৌড়েন্দ্র-সম্পদ ছাড়ি হইল অকিঞ্চন॥
সহস্র ঘোড়া যার আগু পিছু দৌড়ে।
বাইশ লক্ষ সুবর্ণ রহিল পোঁতা গৌড়ে॥
পূর্ব্বে তারা ব্রহ্মার মানস পুত্র ছিলা।
শাপভ্রষ্ট দুই ভাই পৃথিবী জন্মিলা॥
চৈতন্যে দর্শনে তাঁর পাপ বিমোচন।
গোসাঞি নাম থুইল দুই ভাই রূপসনাতন॥
প্রভু বলেন শাপান্তর হইল দবির খাশ।
রূপ সনাতন হইল ক্ষিতি পরকাশ॥
দবির খাশে কৃপা করিয়া গৌরচন্দ্র।
মথুরা দেখিয়া তবে গেলা সেতুবন্ধ॥
শিবকাঞ্চি বিষ্ণুকাঞ্চি মধ্যে মহারণ্য।
দ্রাবিড় ডাহিনে থুঞা চলিলা চৈতন্য॥
তার মধ্যে ত্রিপথ নিকটে এক গ্রাম।
তাহে এক ব্রাহ্মণ কুঠ্যা গরুড় মিশ্র নাম॥
সর্ব্বাঙ্গে গলিত কুষ্ঠ গা-ময় পোকা।
ব্রাহ্মণী সহিতে মহারণ্যে বসে একা॥
তাহার মন্দির গেলা গৌর সুন্দর।
তপ্ত বালি মহারৌদ্র কন্টক বিস্তর॥
অনেক দিবস গরুড় মিশ্র তথা আছে।
পতিব্রতা সুন্দরী তাহার আছে কাছে॥
খসিআ পড়িছে হাথ পাএর অঙ্গুলি।
দুর্গন্ধে সে পথে কেহো না জাএ মুখ তুলি॥
তাহার ব্রাহ্মণী করাএ স্নান ভোজন।
বৈষ্ণব-নিন্দাএ দুঃখ পাএ সে ব্রাহ্মণ॥
হরি বোলাইয়া তারে আলিঙ্গন দিল।
দিব্যমূর্ত্তি হঅ্যা নিজ খট্টাএ বসিল॥
চুম্বনে গলিত কুষ্ঠ হইল অন্তর্দ্ধান।
তার ঘরে চৈতন্য করিল জলপান॥
প্রভুর আজ্ঞাএ তারা নীলাচলে গিয়া।
কহিল দক্ষিণ পাশে টোটা নির্ম্মাইয়া॥
চিন্তিয়া চৈতন্যগদাধরপদদ্বন্দ্ব।
অনুভবে তীর্থখণ্ড গাএ জয়ানন্দ॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
অলকা ললিত ভালে কবরী কুসুম মালে
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ
বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, তীর্থ খণ্ড, ৫০তম অধ্যায়, ৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গুর্জ্জরী রাগ॥

অলকা ললিত ভালে        কবরী কুসুম মালে
চন্দন তিলক বিন্দু নাএ।
হাটক কুণ্ডল শ্রুতি          পঙ্কজ লোচন দ্যুতি
শারদ বিশদ ইন্দু নাএ॥ ধ্রু॥
কেয়ুর কঙ্কণ হার         প্রবাল মৌক্তিক মাল
ক্ষৌম বাস দিব্য শঙ্খ হাথে।
দিব্য সিংহাসনে বসি     প্রকাশ রোহিণী শশী
রমণীগণ তারকাগণ সাথে॥
দিব্য মালা করে ধরি         সখিগণ সঙ্গে করি
প্রদিক্ষণ করি সাত বার।
সম্মুখে রহিআ গিয়া      প্রভু গলাএ মালা দিয়া
জোড় হাথে করি নমস্কার॥
পুষ্পের ছামনে বেলা         গলায়ে কুসুম মালা
বেড়িলেক রমণীর ঠাটে।
দেখি লক্ষ্মী বিশ্বম্ভরে        ধন্য ধন্য সভে করে
জয়ানন্দ আনন্দে নিকটে॥

ই পদটি পুনরায় কয়েকটি পাঠান্তর পাঠসহ নদীয়া খণ্ড, ৬৫শ অধ্যায়, ৭২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

অলকা ললিত ভালে           কবরী হৃদি মণ্ডলে
চন্দন তিলক বিন্দু নাএ।
হাইক কুন্তল শ্রুতি               পঙ্কজলোচন সুতি
জয় জয় জয় বিষ্ণুপ্রিয়া গৌরচন্দ্র।
বৃদ্ধ বাল যুবা জত               কুলবধূ শত শত
বলে কমলাক্ষী মকরন্দ॥ ধ্রু॥
কেয়ুর কঙ্কণ হার            প্রবাল মৌক্তিক মাল
ক্ষৌমবাস দিব্য শঙ্খ হাথে।
দিব্য সিংহাসনে বসি       প্রকাশে রোহিণী শশী
মূলে তারকাগণ সাথে॥
দিব্য মালা করে ধরি            সখিগণ সঙ্গে করি
প্রদক্ষিণ করি সাতবার।
সমুখে রহিলা গিয়া           প্রভু গলে মালা দিয়া
জোড় হাথে হইল নমস্কার॥
পুষ্পের ছামনি বেলা           গিরিশ কুসুম মালা
বেড়িলেক রমণের ঠাটে।
বিষ্ণুপ্রিয়া বিশ্বম্ভরে           প্রদক্ষিণ সাত বারে
জয়ানন্দ আনন্দে কপাটে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
আগম নিগম গীতা গোবিন্দের কান্ধে
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায়  
সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, সন্ন্যাস খণ্ড, ৩য় অধ্যায়, ১৩১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মহারাটি রাগ॥

আগম নিগম গীতা গোবিন্দের কান্ধে।
করঙ্ক কৌপীন কটিসূত্র তাথে বান্ধে॥
কনক কুণ্ডল হার হিরণ্য মাদুলী।
সকল সম্পদ সুখে দিয়া তিলাঞ্জলি॥
চলিলা সন্ন্যাসে গৌর গজেন্দ্রগমনে।
নাম সঙ্কীর্ত্তন বই না শুনে শ্রবণে॥ ধ্রু॥
জে অঙ্গ সতত লাগে সুগন্ধি পরাগ।
সে অঙ্গে কীর্ত্তন ধূল লাগে তিনভাগ॥
কর্পূর তাম্বুল যার মুখে নিরবধি।
সে মুখে গোবিন্দধ্বনি করে নিরবধি॥
ধ্বজ বজ্রাঙ্কুশ যার রাঙ্গা পাএ সাজে।
হেন রাঙ্গা পাএ কুশ কন্টক বাজে॥
কাঁচ সনা জিনিঞা গৌরাঙ্গ ডগমগি।
না ধরে সংসারলেশ না জানি কি লাগি॥
পথে পথে সকলে দেখা জত হএ।
কান্দিয়া বিকল লোক মর্ম্মকথা লয়॥
কারে কিছু না বলেন ঠাকুর গৌরচন্দ্র।
আনন্দে সন্ন্যাসখণ্ড গাএ জয়ানন্দ॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
আচম্বিতে নবদ্বীপে দুই প্রহর বেলা
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, সন্ন্যাস খণ্ড, ৯ম অধ্যায়, ১৩৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥        

আচম্বিতে নবদ্বীপে দুই প্রহর বেলা।
কে কোথা ডাকিয়া বলে নদ্যার সম্পদ গেলা॥
মুকুন্দের মুখে শুনে শচী ঠাকুরাণী।
আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়ে না নিঃসরে বাণী॥
কান্দিয়া বিকল জত নবদ্বীপবাসী।
কি লাগি গৌরাঙ্গ হইলা সন্ন্যাসী॥
নাছে বাটে হাটে ঘাটে আন নাহি শুনি।
কোলের পো পেলাইয়া কান্দে নদ্যার রমণী॥
কি হইল কি হইল রে ঠাকুর কি হৈলা কি শুনি।
বৃদ্ধ বাল যুবা কান্দে পড়িয়া ধরণী॥
মুক্তকেশে গঙ্গামুখে জাএ লোক ধায়্যা।
কোলের ছাওয়াল কান্দে মা বাপ মুখ চায়্যা॥
হাম্বা রব করি কান্দে জত সব ধেনু।
দিবসে আন্ধার গগন পুরিলেক রেণু॥
স্থকিত অলকানন্দা জল নাঞি চলে।
নদ্যার সম্পদ গেল সর্ব্বলোক বলে॥
কি লাগি গৌর হইলা সন্ন্যাসী।
কোথা গেলা কোথা আছ না দেখিব আর॥
বিষ্ণুপ্রিয়া ঠাকুরাণী সংসার আধার।
রন্ধন ভোজন নিদ্রা নবদ্বীপে নাই॥
শুনি মূর্ছা গেলা সীতা অদ্বৈত গোসাঞি।
কি লাগি গৌর হইলা সন্ন্যাসী॥
মূর্ছা গেলা শ্রীনিবাস মুরারি বক্রেশ্বর।
গঙ্গাএ ঝাঁপ দিয়া পড়ে শ্রীগদাধর॥
কি লাগি গৌর হইলা সন্ন্যাসী।
হরিদাস ঠাকুরের শুনি লাগিল সমাধি।
কান্দিয়া বিকল আচার্য্যরত্ন বিদ্যানিধি॥
কি লাগি গৌর হইলা সন্ন্যাসী॥
কুলবধূ কান্দে প্রভুর রূপ বিনাইয়া।
শাস্ত্রশালে পড়ুয়া কান্দে পুথি আছাড়িয়া॥
শারি শুক কান্দে কপোত কুহরে।
শৃগাল কুক্কুর কান্দে কোকিলি ভ্রমরে॥
কি লাগি গৌর হইলা সন্ন্যসী॥
যত পুষ্পোদ্যান তাহে পুষ্প নাঞি ফুটে।
উজান বহে সুরধুনী তরঙ্গ জে টুটে॥
বনে কান্দে শাখামৃগ তরুতলে বসি।
কুলবধূ কান্দে সব পরমরূপসী॥
কি লাগি গৌর হইলা সন্ন্যাসী।
লীলাচ্ছলে জগন্নাথে বাড়িল উল্লাস।
জয়ানন্দ বলে প্রভুর কপট সন্ন্যাস॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
আচার্য্য বনমালী কহে শুনিঞা আনন্দমএ
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা দ্বিজ জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ
বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, নদীয়া খণ্ড, ৪৭শ অধ্যায়, ৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আচার্য্য বনমালী কহে             শুনিয়া আনন্দমএ
ধন্য করি মানিল জীবনে।
ধন্য ধন্য লক্ষ্মী পিতা                ধন্য লক্ষ্মীর মাতা
ধন্য ধন্য জত বন্ধুজনে॥
শুন শুন অপূর্ব্ব কাহিনী।
শুনহে লক্ষ্মীর জননী ॥
মিশ্র পুরন্দর সুত                  অশেষ মহিমাযুত
তারে বিভা দেহ লক্ষ্মীমণি।
কুলে শীলে বিদ্যা ধনে          ত্রিজগতে জারে জানে
হেন বর নবদ্বীপ চান্দে
জার অঙ্গের সৌরভ পায়্যা      মধুকর আস্যে ধায়্যা
আসি রূপ দেখে ত্রিজগতে॥
তুমি অনেক জন্মের তপে       জন্ম লভিলে নবদ্বীপে
লক্ষ্মী তুমার বংশ উদ্ধারিতে॥
কি আর অনুমান কর               আমার বচন ধর
বরমালা দেহ শচীসুতে॥
লক্ষ্মীর জননী বলে               বর দেখি কোন ছলে
লক্ষ্মী বিভা দিব গৌরচন্দ্রে।
দ্বিজ জয়ানন্দ বলে                  শুন সাধু অবহেলে
কর্ণপথে পিয় মকরন্দে

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
আজ্ঞা দিল জগন্নাথ সাজন করিয়া ঠাট
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ
বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, উত্কল খণ্ড, ৪র্থ অধ্যায়, ১৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥  শ্রীরাগ॥

আজ্ঞা দিল জগন্নাথ           সাজন করিয়া ঠাট
অনুব্রজি যায় দ্বিজরাজে।
নানা বর্ণে বাদ্য বাজে          তরল নিশান গাজে
পুষ্পবৃষ্টি নীলাচল মাঝে॥
সিন্দুরে মণ্ডিত জত            পাট হস্তী শত শত
ঘোড়ার পআন চারিপাশে।
শত শত কোটি                জ্বলে প্রদীপ দেউটি
মহাতাপ গগন পরশে॥
চৌদিগে আনন্দময়              নীলাচলে জয় জয়
শঙ্খধ্বনি বাজে নানা ছান্দে।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর                বিজয় হইল
ভেটিবারে নীলাচলচান্দে ॥ ধ্রু॥
জত স্বর্ণ বিদ্যাধরী            নানা যন্ত্র হাথে করি
জোগান ধরিল নট বেশে।
গজঘন্টা চন্দ্রাতপ           ছত্র চামর মুক্তা থোপ
ধ্বজ পতাকা আচ্ছাদে আকাশে॥
জত উড়্যা গৌড়্যা ব্রাহ্মণে     বেত্রহাথে বিদ্যমানে
আড়হো আড়হো করি ডাক ছাড়ে।
উভ বাহু না জাএ তল        ভূমি বৈকুন্ঠ নীলাচল
চন্দনের ছড়া পথে পড়ে॥
লবণ সমুদ্র তটে                 অক্ষয় বট নিকটে
বিশ্বকর্ম্মার নির্ম্মিত পুরী দেখি।
সৌধ ঘর সারি সারি         উপরে সোনার বারি
কাঞ্চনে নির্ম্মিত নানা পাখী॥
সিদ্ধেশ্বর যমেশ্বর              মার্কণ্ডেয় সরোবর
পক্ষরাজ গরুড় হনুমানেরে।
শ্বেত গঙ্গা মহোদধি            জিঅর পর্ব্বতাবধি
মুক্তি গেলা অশ্বমেধ স্থানেরে॥
কর্ণাক ভুবনেশ্বর               ইন্দ্রদ্যুম্ন সরোবর
রোহিণী কুণ্ড পাতালবাসিনীরে।
হংসেশ্বর কপোতাক্ষী          নিকুঞ্জ অলর্কসাক্ষী
বিমলা কমলা ভদ্রাণীরে॥
চিত্রোত্পলা কনখলা            স্বর্গদ্বারা রত্নমালা
ব্রহ্মবেদী সুদর্শন রেবতী।
নৃসিংহ বামন রাম             বরাহ কচ্ছপ নাম
চতুর্ভুজ ব্যাস সত্যবতী॥
নানা ফুলে বিরচিত            বনমালা শত শত
মল্লিকা মালতী জাতি যুতি।
করবীর আমলকী                         কেতকী
মাধবী লতা ফুলে।
কুন্দ তুলসী দল                 নীল রাতা উত্পল
নাগেশ্বর চম্পক বকুলে॥
নানা ফুলে বিরচিত             বনমালা শত শত
আবীর চন্দন চুয়া গন্ধে।
পট্টনা পড়িছা পাতা          মাহাতি ধরে জেগান
গৌরচন্দ্রে॥
দেখিয়া দেউলে ধ্বজা        দণ্ডবতে কৈল পূজা
কমলপুর বাহির উদ্যানে।
প্রেমানন্দে ঝরে আঁখি       পুলকে পথ না দেখি
দিগ্ বিদিগ্ নাঞি জানে॥
আঠারনালা পার হয়্যা        নরেন্দ্রের দীঘি দিয়া
উত্তরিলা পুরুষোত্তমে।
গুণ্ডিচা মণ্ডপে রহি                 তিন প্রহর বই
অশ্বমেধ বেদী কৈল বামে॥
দশদণ্ড রাত্রি গেলে              পুষ্পাঞ্জলির বেলা
প্রবেশ করিল সিংহদ্বারে।
মহেন্দ্র দ্বার দিয়া           জগমোহন বামে থুয়্যা
উত্তরিলা নাটমন্দিরে॥
নাটমন্দিরে দেখি              সমুখে গরুড় পাখি
জয় জয় করি উভ হাথে।
গভীর হুঙ্কার ছাড়ি           প্রেমানন্দে ভূমে পড়ি
দেখিয়া ঠাকুর জগন্নাথে॥
মুখচন্দ্র ষোলকলা               গলাএ দনের মালা
কিরীট মুকুট রত্ন মাথে।
লক্ষ বাণ হীরামণি               প্রবাল রত্ন খেচনি
পদ্মরাগ শঙ্খচক্র হাথে॥
প্রফুল্লিত রাজিত                লোচন অরুণারুণ
রূপে জিনিলে কোটি কামে।
রত্ন সিংহাসন রাজে          সুভদ্রা ভগিনী মাঝে
ডাহিনে ভাই বলরাম রে॥
জত জত অবতার                বিশ্রাম কল্পতরু
দারুব্রহ্মময় নীলাচলে।
জগন্নাথ দরশনে                পুনর্জন্ম নহে ভূমে
ব্রহ্মপুরাণে ইহা বলে॥
চৈতন্যপাদারবিন্দে              সুধাময় মকরন্দে
ভকতনিকর অলিকুলে।
ত্রৈলোক্যদুর্লভ পদ        ছাড়িয়া সংসার আশ
জয়ানন্দ সেই আশে বুলে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
আনন্দে প্রকাশ খণ্ড শুন একচিত্তে
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, প্রকাশ খণ্ড, ৮ম অধ্যায়, ১৯১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আনন্দে প্রকাশ খণ্ড শুন একচিত্তে।
প্রতাপরুদ্রে কৃপা করিল জেন মতে॥
সার্ব্বভৌম মুখে রাজা শুনিঞা সকল।
চৈতন্য ভেটিতে রাজা গেলা নীলাচল॥
জৈষ্ঠ্য মাসে স্নানযাত্রা পূর্ণমাসী দিনে।
দেউল উত্তর দিগে দেখিল চৈতন্যে॥
পূর্ণচন্দ্র প্রভামুখ হাস্য কৌমুদী।
দুই আঁখি প্রেমধারা বহে নিরবধি॥
তপ্ত মহারজত জিনিঞা কলেবর।
কিরীট কুণ্ডল হার বৈদূর্য্য পাথর॥
রাজিত চরণাম্বুজে কটিতে মেখলা।
বৈজয়ন্তী কোলে দিব্য দমনক মালা॥
অষ্ট বাহু শঙ্খচক্র কোদণ্ড মূরলী।
করঙ্ক কাষায় কিঙ্কিণী ঝলমলি॥
দেখিয়া প্রতাপরুদ্র মূর্চ্ছাগত গেল।
চন্দ্রকলা রাণী রূপ দেখি ধরণী পড়িল॥
চারি যুগে অবতার অষ্ট বাহু দেখে।        
রাত্রিকালে জয় শব্দ শুনে আস্যা লোকে॥
চারি বর্ণ অষ্ট ভুজ প্রচণ্ডাতি গৌর।
শুক্ল দূর্ব্বা শ্যাম মেঘ শ্যাম আগি গৌর॥
শুক্ল হস্তে শঙ্খচক্র নৃসিংহাবতার।
কাণ্ড কোদণ্ড দূর্ব্বা শ্যাম হাথে আর॥
রঘুনাথ অবতার দেখাইল হাথে।
সুবর্ণ মূরলী বাজে মেঘ শ্যাম হাথে॥
কৃষ্ণ বর্ণ দেখান আপনি কৃষ্ণ হেন।
গৌরবর্ণ দুই হাথ নিজ নাম নেন॥
রাজারে প্রকিতে ভাবে জন্মিল তত্কাল।
পুলকাশ্রু জলে রাজার আনন্দ বিকাশ॥
দেউল উত্তর দ্বারে সে মূর্ত্তি দেখিল।
অষ্টভুজ গৌর জে নারায়ণ দেখিল॥
ভাবিয়া চৈতন্যগদাধরপদদ্বন্দ্ব।
আনন্দে প্রকাশখণ্ড গাএ জয়ানন্দ॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর