কবি জয়ানন্দের বৈষ্ণব পদাবলী
*
আর দিন প্রভাতে ভোজন করি রঙ্গে
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, নদীয়া খণ্ড, ১৬শ অধ্যায়, ২৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
      
॥  কথা দিশা॥

আর দিন প্রভাতে ভোজন করি রঙ্গে।
পড়িতে ওঝার বাড়ি গেলা শিশু সঙ্গে॥
ক খ আঙ্ক আস্থ সিদ্ধি অষ্ট ধাতু পড়ি।
অষ্ট শব্দি পড়িয়া ছাড়িল রাম খড়ি॥
সুবন্ত জ্ঞান কার পড়িল ষট্ কারক।
সটীক কলাপ পড়ি সভার ব্যাপক॥
নবদ্বীপে বিতপত্তি পণ্ডিত গঙ্গাদাস।
তাহার মন্দিরে কৈল বিদ্যার প্রকাশ॥
চন্দ্র সারস্বত নব কাব্য নাটকে।
স্মৃতি তর্ক সাহিত্য পড়িল একে একে॥
একদিন গঙ্গাদাস মন্দিরে বসিয়া।
পড়ুয়াকে কটাক্ষিল ইষৎ হাসিয়া॥
কোন ব্যাটা আছে দেখোঁ ব্যাখ্যা মোর খণ্ডে।
তার কান্ধে চড়িআ টাকর মারোঁ মুণ্ডে॥
ইহা শুনি গুরু মারে পুস্তকের বাড়ি।
কান্দিয়া পুস্তক চিরি খিতিতলে পড়ি॥
মিশ্র পুরন্দর দেখি কোলে করি আনি।
নিশ্চয় জানিল আমি নবদ্বীপ ছাড়ি॥
কালসর্প ঘাঁটাইল মরিবার তরে।
অপরাধ ক্ষেমা কর আমার কুমারে॥
মিশ্র পুরন্দর গৌরচন্দ্র হাথে ধরি।
গঙ্গাদাস পণ্ডিতেরে সমর্পণ করি॥
আমার বালক বড় উদ্ধত জানহ।
ইহা জানি মনে পাছে দুঃহ মানহ॥
না জানি ইহার দেহে কে না কেলি করে।
আত্ম বৈ পরের বচন নাঞি ধরে॥
পূর্ব্বে আমারে কহিয়াছিল এক যতি।
এই পুত্র হইতে তোর বংশের উন্নতি॥
কি বোল গঙ্গাদাস পণ্ডিত মহাশয়।
কত জন্ম তপস্যায় হেন পুত্র হয়॥
শুনিঞা আনন্দময় হল্যা গঙ্গাদাস।
মন্দিরে চলিলা মনে করিয়া বিশ্বাস ॥
চিন্তিয়া চৈতন্যচন্দ্রচরণকমল।
জয়ানন্দানন্দে গায় প্রভুর মঙ্গল॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
আর না জাইব ঘর না দেখিব বিশ্বম্ভর
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ
বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, নদীয়া খণ্ড, ৬০শ অধ্যায়, ৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥  পঠমঞ্জরী॥

আর না জাইব ঘর            না দেখিব বিশ্বম্ভর
গঙ্গাএ মরিব লক্ষ্মী সঙ্গে।
পুত্রে করাইল বিহা            কেমনে জানিব ইহা
গৌরাঙ্গ রহিলা গিয়া বঙ্গে॥
কান্দে শচী ঠাকুরাণী।
শুন শ্রীনিবাস মণি     কেমতে বঞ্চিব একাকিনী॥
আমা হেন অভাগিনী      নাঞি দেখি নাঞি শুনি
জত দূর জাএ লোন পানি।
মিশ্র পুরন্দর মৈলা         বিশ্বরূপ সন্ন্যাসী হৈলা
গৌরাঙ্গের কি হএ না জানি॥
কতেক জন্মের ফলে           লক্ষ্মী হেন বধূ মিলে
হেন বধূ না দেখিব জবে।
মরুক সে দারুণ সাপে      কেন না খাইল মোকে
পুড়িআ হইলু ছারখারে॥
দারুণ বিষের জ্বালে        প্রাণ দিল মা গঙ্গাজলে
কে আর করিব মোর সেবা।
লক্ষ্মীর চরিত জত              স্বপ্ন হেন মোর মত
ছল্যা গেলা ক্ষীরোদসম্ভবা॥
হেনই সমএ ধ্বনি              হইলা আকাশ বাণী
বিষ্ণুপ্রিয়া গৌরাঙ্গ গৃহিণী॥
এই মধুমাস শেষে            গৌরাঙ্গ আসিব দেশে
জয়ানন্দের মুখে দৈব বাণী॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
মহানৈ পার হয়্যা গেল নীলাচলে
উত্তর খণ্ডের দাক্ষিণাত্য ভ্রমণ ও তীর্থশেষে নীলাচলে ফিরে শ্রীচৈতন্যের তিরোধান থেকে গ্রন্থশেষ।
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ
বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, ২৩২-২৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মহানৈ পার হয়্যা গেল নীলাচলে।
নীলাচলে রহিলা অষ্টবিংশতি বত্সরে॥
ধর্ম্মময় সর্ব্বলোক বসুমতী ধন্যা।
হিম সেতু অবধি করিল প্রেম বন্যা॥
প্রেমসাগরে নিত্যানন্দ কর্ণধারে।
কলির কলুষ ভরা ডুবিল পাথারে॥
যমালয় শূন্য হইল নরক যন্ত্রণা।
যম গেলা ব্রহ্মা ঠাঞি করিআ মন্ত্রণা॥
যম বলে ব্রহ্মা বিষয় কর দূর।
সর্ব্বপাপী উদ্ধারিল চৈতন্য ঠাকুর॥
চৌরাশি নরককুণ্ড সব শূন্য হইল।
ষাটি সহস্র দূত ঘরে বসি রইল॥
কথো পাপী তারিলেন শ্রীজগন্নাথে।
কথোপাপী মুক্ত হইল মহাপ্রসাদ খাইতে॥
কথো পাপী মুক্ত হইল সেবিআ তুলসী।
কখো পাপী মুক্ত হইল গঙ্গা বারাণসী॥
কথো পাপী মুক্ত হইল শিলা শালগ্রামে।
কথো পাপী মুক্ত হইল হরিনামে॥
যমালয় শূন্য হইল আর পাপী নাঞি।
সর্ব্ব পাপী উদ্ধারল চৈতন্য গোসাঞি॥
শুনিআ যমের কথা ব্রহ্মা মনে গুণি।
ইন্দ্র শঙ্কর সঙ্গে চলিলা আপনি।
সকল দেবতা মেলি করিয়া ধরণী॥ ( B পুথিতে কলিটি আছে। A পুথিতে নেই ) @
নীলাচলে নিশাএ চৈতন্য টোটাশ্রমে।
বৈকুণ্ঠে যাইতে নিবেদিল একাক্রমে॥
আষাঢ় সপ্তমী শুক্লা অঙ্গীকার করি।
রথ পাঠাইহ জাব বৈকুণ্ঠপুরী॥
নিত্যানন্দ গেল রথ যাত্রার নিকটে।
অদ্বৈতচন্দ্রেরে সব কহিল নিষ্কপটে॥
নিত্যানন্দ অদ্বৈত অভেগ একরূপ।
না বুঝিআ বলে সে কন্দল স্বরূপ॥
নিত্যানন্দে অদ্বৈতেরে সমর্পণা করি।
সহ্কীর্ত্তন যজ্ঞ সব তোমরা অধিকারী॥
আটাইশ বত্সর আমি নীলাচলে রহি।
স্থানান্তরে যাব আমি নিষ্কপটে কহি॥
অনেক বৈষ্ণব হব অনেক বৈষ্ণবী।
সেবকানুসেবকে ব্যাপিবে পৃথিবী॥
এ বাড়ির অধিকারী ণ্ডিত গোসাঞি।
তাহার অধিক মোর প্রিয় কেহো নাঞি॥
শ্রীহরিদাস ঠাকুর রহিলা নীলাচলে।
টোটা নির্ম্মাইঞা দিল সমুদ্রের কূলে॥
অনেক সেবক সঙ্গে রঙ্গে নিত্যানন্দ।
গৌরদেশ পাঠাইঞা দিল গৌরচন্দ্র॥
আষাঢ়ে প্রতাপরুদ্র প্রভু ঘরে বসি।
কৃষ্ণকথা অদ্বৈত কহেন হাসি হাসি॥
দড়া প্রভুর তিতে কপিনের ডোর।
অগ্নি দিল কৃষ্ণ কথাএ বাদ দিল মোর॥
হরিতকী গাছে মৈলা মহেন্দ্র ভারতী।
মুখে অগ্নি দিল তার তিনশত যতি॥
হরিদাস ঠাকুর আগে করিল বিজয়।
ফাল্গুনের শুক্লা চতুর্দ্দশীর উদয়॥

আষাঢ় বঞ্চিতা রথ বিজয় নাচিতে।
ইটাল বাজিল বাম পায় আচম্বিতে॥
অদ্বৈত চলিলা প্রাতঃকালে গৌড়দেশে।
নিভৃতে কর্ম্ম কথা কহিল বিশেষে॥
নরেন্দ্রের জলে সর্ব্ব পারিষদ সঙ্গে।
চৈতন্য করিল জলক্রীড়া নানা রঙ্গে॥
চরণে বেদনা বড় ষষ্টি দিবসে।
সেই লক্ষে টোটাএ শয়ন অবশেষে॥
পণ্ডিত গোসাঞিকে কহিল সর্ব্বকথা।
কালি দশ দণ্ড রাত্রে চলিব সর্ব্বথা॥
নানা বর্ণে দিব্য মালা আইলা কোথা হইতে।
কত বিদ্যাধরী নৃত্য করে রাজপথে॥
রথ আন রথ আন ডাকে দেবগণ।
গরুড়ধ্বজ রথে করিল আরোহণ॥
মায়া-শরীর থাকিল ভূমে পড়ি।
চৈতন্য বৈকুন্ঠ গেলা জম্বুদ্বীপ ছাড়ি॥
অনেক সেবক সর্পে দংশাইআ মৈলা।
উল্কাপাত বজ্রাঘাত ভূমিকম্প হইলা॥
নিত্যানন্দ অদ্বৈত আচার্য্য গোসাঞি শুনি।
বিষ্ণুপ্রিয়া মূর্চ্ছা গেলা শচী ঠাকুরাণী॥
সর্ব্ব পারিষদ লয়্যা শ্রীরামদাস।
নিত্যানন্দ প্রবোধিলা করিয়া বিশ্বাস॥
পুরুষোত্তম আদি অদ্বৈত পারিষদ।
চৈতন্য-বিজয় শুনি হইলা নিশবদ॥
চৈতন্য-বিচ্ছেদে নিত্যানন্দ অনুক্ষণ।
চৈতন্য বিজয় বিনে না করে শ্রবণ॥
নিত্যানন্দে প্রবোধিয়া সর্ব্ব পারিষদ।
চৈতন্যানন্দে নাচে কীর্ত্তন সম্পদ॥
নিত্যানন্দ স্বরূপ জদি নাম ধরোঁ।
আচণ্ডাল আদি জদি বৈষ্ণব না করোঁ॥
জাতিভেদ না করিমু চণ্ডাল যবনে।
প্রেমভক্তি দিআ সভাএ নাচামু কীর্ত্তনে॥
সর্ব্বশক্তি ধরে মোর শ্রীরামদাস।
ছাপ্পান্ন কোটি যদুবংশ করিব প্রকাশ॥
কূলবধূ নাচাইমু কীর্ত্তনানন্দে।
অন্ধ বধির পঙ্গু নাচিব স্বচ্ছন্দে॥
গাওয়াইমু চৈতন্য নুঙাঞিমু চৈতন্য।
গৌড়ে উত্কল রাজ্যে করামু ধন্য ধন্য॥
এই প্রতিজ্ঞা নিত্যানন্দ-মুখে শুনি।
সকল বৈষ্ণব করিল জয়ধ্বনি॥
কথোদিনে নিত্যানন্দ শিখাসূত্র ধরি।
মহামল্ল বেশে ক্ষিতি পর্য্যটন করি॥
সূর্য্যদাস-নন্দিনী শ্রী বসু জাহ্নবী।
পাণিগ্রহণ করিল স্বচ্ছন্দ কৌতুকী॥
বসু গর্ভে প্রকাশ গোসাঞি বীরভদ্র।
জাহ্নবী নন্দন রামভদ্র মহামর্দ্দ॥
মূরারি চৈতন্যদাস ব্যাঘ্র ধরি আনে।
নাগ-শয্যায় নিদ্রা জায় সর্ব্বলোক জানে॥
শ্রীসুন্দরানন্দ পানির ভিতরে।
কুম্ভীর ধরিআ আনে সভার গোচরে॥
কাজি সনে বাদ করি প্রেম-উন্মাদে।
সাতদিন গৌরীদাস ছিলা গঙ্গা-হ্রদে॥
প্রেমে উন্মাদ কমলাকর পিপলাই।
নিজ অঙ্গ কাটিল তবু বাহ্যজ্ঞান নাই॥
কাজি সনে বিবাদ করিল গদাধর দাস।
অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ দিলা দেখি লোকে ত্রাস॥
মারু বিষ খাইলেন পুরুষেত্তম দাসে।
বিষ জীর্ণ করিলা প্রেমানন্দ রসে॥
বাল্যভাবে ধনঞ্জয় পণ্ডিত নাচিতে।
মুখে হইতে সর্প বাব়্যাইলা আচম্বিতে॥
ভাবাবেশে মুরারি গুপ্ত হইলা হনুমান।
লেঙ্গুড়ে বাড়াইল হস্ত দ্বাদশ প্রমাণ॥
পুরন্দর পণ্ডিত গাছের চূড়ে চড়ে।
ষোল হাথ লেঙ্গুড় গাছের তলে পড়ে॥
পরমেশ্বর  দাস মাটি খাইল তিন আড়ি।
বলরাম দাসে পোড়ে যবনের দাড়ি॥
কুম্ভীর বান্ধিআ আনে কালিয়া কৃষ্ণদাস।
দেখি নিত্যানন্দ মনে বাড়িল উল্লাস॥
নিত্যানন্দ নিবাস করিল খড়দহে।
মহাকুল যোগেশ্বর বংশ যাহে রহে॥
অদ্বৈতচান্দের বংশ শান্তিপুরে বসে।
সীতা অদ্বৈত পুত্র পৌত্র প্রকাশে॥
সঙ্কীর্ত্তন দেবালয় হইল সব রাজ্যে।
খণ্ডিল ধরণীভার গুরুতর কার্য্যে॥
চৈতন্যের প্রাণধন প্রভু নিত্যানন্দ।
তিলেক বিচ্ছেদ না দেখিল জেন অঙ্গ॥
নিরবধি নিত্যানন্দ আছেন আলয়ে।
গৌরীদাস পণ্ডিত করিয়া সহায়ে॥
গৌরীদাস পণ্ডিত চারি ভাই মেলি।
নিত্যানন্দ সঙ্গে রঙ্গে রসের ঢামালি॥
সহস্র সহস্র কত অদ্বৈত-সেবক।
তাহার সেবক সব সংসার ব্যাপক॥
চৈতন্য-সেবক জত নাঞিখ অবধি।
নিত্যানন্দ সেবকে দেবেন্দ্র সমৃদ্ধি॥
জত তীর্থ নিত্যানন্দচন্দ্রের সহিতে।
বত্সরে বত্সরে তাহা না পারি গণিতে॥
সহস্র সহস্র এক সেবকের গণ।
নিত্যানন্দের প্রসাদে তাঁরা গুরুসম॥
কলিযুগে ধর্ম্মময় হইল সংসার।
খণ্ডিলেক ধরণীর জত গুরুভার॥
নিত্যানন্দ গৌরীদাস পণ্ডিতেরে কহি।
নিকট পণ্ডিত আমি ছাড়িব এ মহী॥
আশ্বিন মাসেতে যোগ কৃষ্ণাষ্টমী তিথি।
নিত্যানন্দ বৈকুন্ঠ চলিলা ছাড়ি ক্ষিতি॥
একাদশী দিবসে প্রলয় ঝড় হইলা।
অনন্তের নাক-শ্বাসে পৃখিবী কাঁপিলা॥
নিত্যানন্দ-বিজয় শুনিল জে মহান্ত।
বীরভদ্র দেখি সভে দাঁড়াইল একান্ত॥
সীতা অদ্বৈত অন্তরে রহিল বড় দুঃখ।
হাহা চৈতন্য নিত্যানন্দ স্বরূপ॥
আচার্য্য গোসাঞি কথোকাল বঞ্চিলা।
পৃথিবী ছাড়িব ইহা সভারে কহিলা॥
পৌষমাসে শুক্লা ত্রয়োদশী তিথি হৈলা।
আচার্য্য গোসাঞি বৈকুন্ঠবিজয় করিলা॥
মহান্তের পুত্র পৌত্র প্রপৌত্র অবধি।
চৈতন্যের প্রেমানন্দে পাবে ঋদ্ধি সিদ্ধি॥
স্বস্তি স্বস্তি জয় জয় চৈতন্যমঙ্গল।
অবতার-শিরোমণি প্রকাশ সকল॥
চৈতন্য গাএ জেবা চৈতন্য গাওয়াএ।
চৈতন্যের সেবক তাতে চৈতন্য সহায়॥
তার পুত্র পৌত্র প্রপৌত্র আদি জত।
জয়ানন্দে আশীর্ব্বাদ পুত্র অভিমত॥
চিন্তিয়া চৈতন্যগদাধরপদদ্বন্দ্ব।
আনন্দে উত্তরখণ্ড গাএ জয়ানন্দ॥

শ্রীশ্রীচৈতন্যমঙ্গল সম্পূর্ণ॥

টীকা -
@ - B পুথি - নগেন্দ্রনাথ বসু ও কালিদাস নাথ সম্পাদিত এবং বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ প্রকিত মুদ্রিত গ্রন্থ
(১৩১২ বঙ্গাব্দ)।
A পুথি - কলকাতার এসিয়াটিক সোসাইটির G.5398-6-C নং পুথি (সম্পূর্ণ গ্রন্থ)।

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
একে সে লাবণ্য রূপে কি কহিব একমুখে
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ
বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, নদীয়া খণ্ড, ৫২শ অধ্যায়, ৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বারাড়ি রাগ॥

একে সে লাবণ্য রূপে             কি কহিব একমুখে
আরে নানা ফুলের ছামুনি।
আলো সজনি॥
আর তাহে মধুর হাসি         জীব হেন নাঞি বাসি
আর তাহে বিরিতি চাহনি।
আলো সজনি॥
কোন বিধি গড়িল মুখ চান্দে।
কেমন কেমন করে মন            প্রাণ করে উচাটন
পরাণ পুতলী মোর কান্দে॥  ধ্রু।
বিধিরে বলিব কি                কব়্যাছে কুলের ঝি
আর তাহে নহি সতন্বরি।
আলো সজনি।
কহিলে সে লাজ ভয়              পরাণ রাখিল নয়
মদন আলসে পুড়্যা মরি॥
কহিব কাহার আগে         কহিলে পিরিতি ভাঙ্গে
জাতি কুল শীল নাই থাকে।
জয়ানন্দ বলে ডাকি                 শুন সব চন্দ্রমুখী
ঠেকিলে গৌরাঙ্গ বেড়া পাকে॥
আলো সজনি॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
এমন রূপ এমনকৃপা এমন কার হয়
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, প্রকাশ খণ্ড, ১৫শ অধ্যায়, ২০০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মহারাটি রাগ॥

এমন রূপ এমন কৃপা এমন কার হয়।
কৃষ্ণ হেন ঠাকুর না দেখি কৃপাময়॥
জেন তেন মনে কৃষ্ণ ভজিলে নিস্তার।
পতিতপাবন কৃষ্ণ কি বলিব আর॥
শুন ইন্দ্র রাজা কৃষ্ণ হেন নাঞি ত্রিজগতে।
গৃধিনী কুকুর মুক্ত জাহার কৃপাতে॥
দানে ধ্যানে কোটি কল্পে কৃষ্ণ নাঞি পাই।
জথা ভক্ত তথা কৃষ্ণ দেখ সর্ব্ব ঠাঞি॥
কৃষ্ণের ভজন ভিন্ন সভে নাঞি জানি।
জে জেমন তারে তেমন দেব চক্রপাণি॥
জাহার কটাক্ষে কোটি ব্রহ্মা হএ পাত।
জাহারে ভজিলে জীব হএ জগন্নাথ॥
চৈতন্যমঙ্গল গীত গাএ জয়ানন্দে।
মন রহু কৃষ্ণপদাম্বুজমকরন্দে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
কি হইল কি করিলে দারুণ বিধাতা
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ
বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, সন্ন্যাস খণ্ড, ১১শ অধ্যায়, ১৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মহারাটি রাগ॥
পুনঃ শচীবিলাপ॥

কি হইল কি করিলে           দারুণ বিধাতা
না জানি কি আছে কপালে।
মুই অভাগিনী                 গৌরাঙ্গ জননী
রহিলুঁ মিছা মায়াজালে॥
গৌর আয় আয় আয়।
তুমা দেখিলে                    পরাণ জুড়াএ
রে গৌর আয় আয় আয়॥ ধ্রু॥
স্বপন গোচরে                 ক্ষীরোদ সাগরে
পাইলুঁ গৌর গুণনিধি।
পাত্যাল্য হাট খানি     বেশাতে না পাল্যাঙ
বিবাদে লাগিল বিধি॥
রে গৌর আয় আয় আয়॥
পালঙ্ক সিংহাসন            চামর চন্দ্রাতপ
শয়নমন্দিরে খাটে।
বসন কৃষ্ণকেলি              সোনার মাদুলি
দেখিআ পরাণ ফাটে॥
রে গৌর আয় আয় আয়॥
ডাবর বাটা বাটি               সর্ব্বাঙ্গে থান
এ ভোট পড়িবার পুথি।
পোড়ানি থুয়্যা মোরে     গেলা কোথাকারে
কি কৈল কেশবভারতী॥
রে গৌর আয় আয় আয়॥
কোথা না আছ বাপু          কপিন পরিয়া
কি কৈলে চাঁচর কেশে।
কেমতে দেখিব              কেমতে শুনিব
তুমার সন্ন্যাসী বেশে॥
রে গৌর আয় আয় আয়॥
আঁখির পুতলী                 সঙ্কীর্ত্তন কেলি
সবল্যে হা পুতির বাছা।
নদ্যার আনন্দ                সংসার সর্পগদ
অভাগিনী শচীর কোলের বাছা॥
রে গৌর আয় আয় আয়॥
কান্দে শচী দেবী             লোটায়া পৃথিবী
কাহার প্রবোধ না শুনে।
জয়ানন্দ কহে             কত না দুঃখ সহে
পুড়িলাঙ সে আগুনে॥
রে গৌরাঙ্গ আয় আয় আয়॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
কেন বা কান্দ বাছা ঘন দুধ তোল
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, সন্ন্যাস খণ্ড, ১১শ অধ্যায়, ১৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বারাড়ি রাগ॥        

কেন বা কান্দ বাছা ঘন দুধ তোল।
কোলেতে না রহ আঁখি না মেল॥
না জানি হইল কোন উদরে ব্যথা।
কত না খায় তুমি মাএর মাথা॥
ও না আয় আয়।
কি লাগি কান্দে মোর গৌরাঙ্গ রায়॥  ধ্রু॥
ছাঁদন অঙ্গখানি দেখিল কে।
না জানি পাইল কোন দানব দে॥
মুখে না দেহ স্তন তপত গা।
কথা না পাইল পুতের উপর বা॥
মাএর দুঃখ দেখি গৌরাঙ্গ চান্দে।
কোলেতে নিন্দ গেল আর না কান্দে॥
শচী ঠাকুরাণীর মনে হইল ইত্সা।
জয়ানন্দ বলে প্রভুর কান্দনা মিছা॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
ক্ষীরোদ উত্তর কুলে রত্ন কল্পতরু মূলে
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ
বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, আদি খণ্ড, ৬ষ্ঠ অধ্যায়, ৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পহিড়া রাগ॥

ক্ষীরোদ উত্তর কুলে            রত্ন কল্পতরু মূলে
হংসরথে দেব প্রজাপতি।
ইন্দ্রাদি অমরগণে       ব্রহ্মা সেই গুপ্ত  স্থানে
জোড় হাথে সভে কর স্তুতি॥

ওহে দেব সৃষ্টি কর নারায়ণ।
কলির প্রথম এই         স্বকর্ম্ম করিতে না দেই
ধর্ম্মপথ হইল মোচন॥ ধ্রু॥
তুমি ব্রহ্মা তুমি হর        তুমি চন্দ্র দিবাকর
তুমি ইন্দ্র কুবের শমন।
ঈশান বরুণ তুমি         গোলক চক্রের স্বামী
তুমি দেব অনল পবন॥
তুমি দেব ভগবান           সর্ব্বলোক পরিত্রাণ
তুমা বই গতি নাঞি আর।
ধর্ম্ম সংস্থাপন করি         যুগে যুগে অবতরি
খণ্ডাহ ধরণী গুরুভার॥
কলিযুগে নাঞি ধর্ম্ম           দেব তীর্থ সত্কর্ম্ম
পাষণ্ড অসুর ম্লেচ্ছ জাতি।
অসুরের ভার দেখি         মনে হয়্যা আসুখী
রসাতল যাএ বসুমতী॥
অনন্ত নাগের কোলে     আছে যোগনিদ্রা ছলে
ক্ষীরোদসম্ভবা পদতলে।
শঙ্খচক্র গদাম্বুজ                 শুদ্ধসত্ত্ব চতুর্ভূজ
মকর কুণ্ডল শ্রুতিমূলে॥
চন্দ্র কোটি সুশীতল       সূর্য্য কোটি মহাবল
সিন্ধু কোটি গভীর অশেষ।
কোটি কাম মহারূপ        ইন্দ্র কোটি মহাভূপ
শম্ভু কোটি না জানে উদ্দেশ॥
ব্রহ্মার স্তবন শুনি            হইল আকাশ বাণী
জন্ম গিয়া পৃথিবী মণ্ডলে।
সাঙ্গ পাঙ্গ পারিষদ                 গন্ধর্ব সে নারদ
নরদেহ ধর কুতূহলে॥
গোলকের ভগবান            সর্ব্বলোক পরিত্রাণ
দ্বিজকুলে জন্মিব কলিযুগে।
ধরিব সন্ন্যাসী বেশ            বিষ্ণুভক্তি পরবেশ
অকিঞ্চনে নব অনুরাগে॥
বিন্ধ্য হিমালয় গিরি       তার মাঝে সুরেশ্বরী
তার তটে নদীয়া নগরী।
তাহে মিশ্র জগন্নাথ          অনুপাম মহাজাত
তার ঘরে জন্মিব শ্রীহরি॥
গৌরাঙ্গ কীর্ত্তন ধাম            ধরিব চৈতন্য নাম
শচীপুত্র হব ভগবান।
পঙ্গু বধির জড়                   পতিত পামর মুঢ়
সবারে করিব পরিত্রাণ॥
মহা ভাগবত সঙ্গে           হরি সংকীর্ত্তন রঙ্গে
বিষ্ণু যজ্ঞে যজিব সংসার।
হরিনাম চিন্তামণি          সভারে দিবেন জানি
কলিগ্রহ এই প্রতিকার॥
শুনিয়া আকাশ বাণী            চলিলা অমর মণি
ধরণী চলিলা প্রেমানন্দে।
চৈতন্যমঙ্গল গীত               ত্রিজগৎ আনন্দিত
জয়ানন্দ রচে নানা ছন্দে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
গর্ভাষ্টমে যজ্ঞ সূত্র দিল বিশ্বম্ভরে  
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, নদীয়া খণ্ড, ২৮শ অধ্যায়, ৩০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥  শ্রীরাগ॥        

গর্ভাষ্টমে যজ্ঞ সূত্র দিল বিশ্বম্ভরে।
আনন্দিত নবদ্বীপ প্রতি ঘরে ঘরে॥
শঙ্খ ঘন্টা মৃদঙ্গ রবাব কবিলাশ।
উপরে চন্দ্রাতপ আঙ্গিনা প্রকাশ॥
গৌরাঙ্গের পৈতা আনন্দ মাঘ মাসে।
নানা বর্ণে বাদ্য বাজে রজনী দিবসে॥
নাছে বাটে ছড়া ঝাটি বিচিত্রালিপনা।
গন্ধ পুষ্প ধূপ দীপ নৈবেদ্য রোচনা॥
দধি লাজ জাতাঙ্কুর জব দুর্ব্বাধান্য।
স্বস্তিক সিন্দুর শিলা রজত কাঞ্চন॥
রজনী প্রভাতে মিশ্র স্নান করি রঙ্গে।
চন্দ্রাতপতলে বসি দ্বিজগণ সঙ্গে॥
সংকল্প করিয়া পঞ্চ দেবতা পূজিল।
গৌর্য্যাদি মাতৃকা পূজি বসুধারা দিল॥
নান্দীমুখ শ্রাদ্ধ করি ছাঙলে বসিয়া।
যজ্ঞারম্ভ করিল মঙ্গল জয় দিয়া॥
বিষ্ণু তৈল হরিদ্রা অমলকি উদ্ধর্ত্তনে।
গৌরাঙ্গ করিল স্নান নিজ গৃহাঙ্গনে॥
রত্নাকর নাপিত বিচিত্র খুর হাথে।
পঞ্চকষাএ পঞ্চামৃত জল দিল মাথে॥
কেশ মণ্ডনিআ পঞ্চামৃতে স্নান করি।
রক্তবস্ত্র পরিয়া হইল ব্রহ্মচারী॥
কৃষ্ণসার চর্ম্মসূত্র মিথিলা প্রবন্ধে।
বিল্ব বংশদণ্ড শুভক্ষণে দিল স্কন্ধে॥
জয় জয়॥
ঝুলি কান্ধে ভিক্ষা মাগে বিস্মিত দেবতা।
রজতে কাঞ্চনে ভিক্ষা দিল শচীমাতা॥
.        ভবতী ভিক্ষাং দেহি মাতঃ।
.        ভবতী ভিক্ষাং দেহি মাতঃ।
.        ভবান্ ভিক্ষাং দেহি পিতঃ॥
প্রবাল মৌক্তিক মালা ভিক্ষা মনোহর।
রজত কাঞ্চন দিল মিশ্র পুরন্দর॥
টাড় বলয়া দিল গাঁঠ্যা সুবর্ণ মাদুলি।
মাতামহ ভিক্ষা দিল অঞ্জলি অঞ্জলি॥
নারায়ণী ধাত্রীমাতা ভিক্ষা দিল রঙ্গে।
গুরুপত্নী সুলোচনা সত্যভামা সঙ্গে॥
সত্যবতী ভিক্ষা দিল রজত কাঞ্চন।
সর্ব্বাণী মালিনী দিল দিব্য আভরণ॥
স্ত্রীপুরুষ যত যত নবদ্বীপে বইসে।
একে একে ভিক্ষা দিল মনের সন্তোষে॥
জয় জয়॥
ত্রিজগৎনাথ ভিক্ষা লয়্যা গুরুস্থানে।
মঞ্জু মেখলা আদি করিল মোচনে॥
গুরু মাতামহ নীলাম্বর চক্রবর্তী।
যজ্ঞসূত্র দিয়া কর্ণে কহিল গায়ত্রী॥
জয় জয়॥
গৌরচন্দ্র দ্বিজ হইল নবদ্বীপ খণ্ডে।
জয় জয় শব্দ হইল অখিল ব্রহ্মাণ্ডে॥
জয় জয়॥
নদীয়াখণ্ডের গীত অমৃতের সার।
শুনিলে আপদ খণ্ডে জন্ম নহে আর॥
চিন্তিয়া চৈতন্যগদাধরপদদ্বন্দ্ব।
আনন্দে নদীয়াখণ্ড গাএ জয়ানন্দ॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
গোধুলি সমএ গৌর সুবেশ করি
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, নদীয়া খণ্ড, ৪৩শ অধ্যায়, ৫৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥  সু [ হ ] ই রাগ॥        

গোধুলি সমএ গৌর সুবেশ করি।
আনন্দে দেখিআ বুলে নদীয়া নগরী॥
কত কত কুলবধূ করে কানাকানি।
আড়ে উড়ে থাকিয়া নিহালে মুখখানি॥
দেখিয়া গৌরাঙ্গরূপ পুররমণী।
ভাবে আবেশ চিত না জায় রজনী॥
কৃষ্ণকেলি বসন পরিয়া নানা ছান্দে।
কুঙ্কুমে রঞ্জিত সরু পৈতা বাম কান্ধে॥
শরদ পূর্ণিমা চান্দ বদনমণ্ডলে।
ঝলমল করে মূর্ত্তি গাঁঠ্যা কড়ি শ্রুতিমূলে॥
চন্দন তিলক ভালে পঙ্করুহ আঁখি।
নিরবধি নাচে জেন খঞ্জনিঞা পাখি॥
জয়ানন্দ বলে গৌর রূপের অবধি।
কত কত অনুভবে নিরমাল্য বিধি॥
গভীর হুঙ্কার খেদ পুলক কদম্বে।
কত প্রেমসিন্ধু উথলিল ভাবারম্ভে॥
ভালি নাচত গৌর কীর্ত্তনানন্দে।
বেড়িল ভকত ভৃঙ্গ চরণারবিন্দে॥
গদাধর জগদানন্দে দেই কোল।
আব্রহ্ম ভরিয়া শুনি হরি হরি বোল॥
ডাহিনে অদ্বৈত বামে হরিদাস।
সংকীর্ত্তন গাএন গাএন শ্রীনিবাস॥
জে সব জন কভু হরি নাঞি বলে।
সে হরি বলি ভাসে নআনের জলে॥
পরম রসায়ন গাএন সঙ্গী।
কীর্ত্তন লম্পট রাজত্রিভঙ্গি॥
আর জে অনুভব সে মনে জাগে
জয়ানন্দ উ নাটের ধূলি মাগে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর