| কবি জয়ানন্দের বৈষ্ণব পদাবলী |
| আর না জাইব ঘর না দেখিব বিশ্বম্ভর কবি জয়ানন্দ ভণিতা জয়ানন্দ এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, নদীয়া খণ্ড, ৬০শ অধ্যায়, ৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী॥ আর না জাইব ঘর না দেখিব বিশ্বম্ভর গঙ্গাএ মরিব লক্ষ্মী সঙ্গে। পুত্রে করাইল বিহা কেমনে জানিব ইহা গৌরাঙ্গ রহিলা গিয়া বঙ্গে॥ কান্দে শচী ঠাকুরাণী। শুন শ্রীনিবাস মণি কেমতে বঞ্চিব একাকিনী॥ আমা হেন অভাগিনী নাঞি দেখি নাঞি শুনি জত দূর জাএ লোন পানি। মিশ্র পুরন্দর মৈলা বিশ্বরূপ সন্ন্যাসী হৈলা গৌরাঙ্গের কি হএ না জানি॥ কতেক জন্মের ফলে লক্ষ্মী হেন বধূ মিলে হেন বধূ না দেখিব জবে। মরুক সে দারুণ সাপে কেন না খাইল মোকে পুড়িআ হইলু ছারখারে॥ দারুণ বিষের জ্বালে প্রাণ দিল মা গঙ্গাজলে কে আর করিব মোর সেবা। লক্ষ্মীর চরিত জত স্বপ্ন হেন মোর মত ছল্যা গেলা ক্ষীরোদসম্ভবা॥ হেনই সমএ ধ্বনি হইলা আকাশ বাণী বিষ্ণুপ্রিয়া গৌরাঙ্গ গৃহিণী॥ এই মধুমাস শেষে গৌরাঙ্গ আসিব দেশে জয়ানন্দের মুখে দৈব বাণী॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| একে সে লাবণ্য রূপে কি কহিব একমুখে কবি জয়ানন্দ ভণিতা জয়ানন্দ এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, নদীয়া খণ্ড, ৫২শ অধ্যায়, ৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বারাড়ি রাগ॥ একে সে লাবণ্য রূপে কি কহিব একমুখে আরে নানা ফুলের ছামুনি। আলো সজনি॥ আর তাহে মধুর হাসি জীব হেন নাঞি বাসি আর তাহে বিরিতি চাহনি। আলো সজনি॥ কোন বিধি গড়িল মুখ চান্দে। কেমন কেমন করে মন প্রাণ করে উচাটন পরাণ পুতলী মোর কান্দে॥ ধ্রু। বিধিরে বলিব কি কব়্যাছে কুলের ঝি আর তাহে নহি সতন্বরি। আলো সজনি। কহিলে সে লাজ ভয় পরাণ রাখিল নয় মদন আলসে পুড়্যা মরি॥ কহিব কাহার আগে কহিলে পিরিতি ভাঙ্গে জাতি কুল শীল নাই থাকে। জয়ানন্দ বলে ডাকি শুন সব চন্দ্রমুখী ঠেকিলে গৌরাঙ্গ বেড়া পাকে॥ আলো সজনি॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কি হইল কি করিলে দারুণ বিধাতা কবি জয়ানন্দ ভণিতা জয়ানন্দ এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, সন্ন্যাস খণ্ড, ১১শ অধ্যায়, ১৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মহারাটি রাগ॥ পুনঃ শচীবিলাপ॥ কি হইল কি করিলে দারুণ বিধাতা না জানি কি আছে কপালে। মুই অভাগিনী গৌরাঙ্গ জননী রহিলুঁ মিছা মায়াজালে॥ গৌর আয় আয় আয়। তুমা দেখিলে পরাণ জুড়াএ রে গৌর আয় আয় আয়॥ ধ্রু॥ স্বপন গোচরে ক্ষীরোদ সাগরে পাইলুঁ গৌর গুণনিধি। পাত্যাল্য হাট খানি বেশাতে না পাল্যাঙ বিবাদে লাগিল বিধি॥ রে গৌর আয় আয় আয়॥ পালঙ্ক সিংহাসন চামর চন্দ্রাতপ শয়নমন্দিরে খাটে। বসন কৃষ্ণকেলি সোনার মাদুলি দেখিআ পরাণ ফাটে॥ রে গৌর আয় আয় আয়॥ ডাবর বাটা বাটি সর্ব্বাঙ্গে থান এ ভোট পড়িবার পুথি। পোড়ানি থুয়্যা মোরে গেলা কোথাকারে কি কৈল কেশবভারতী॥ রে গৌর আয় আয় আয়॥ কোথা না আছ বাপু কপিন পরিয়া কি কৈলে চাঁচর কেশে। কেমতে দেখিব কেমতে শুনিব তুমার সন্ন্যাসী বেশে॥ রে গৌর আয় আয় আয়॥ আঁখির পুতলী সঙ্কীর্ত্তন কেলি সবল্যে হা পুতির বাছা। নদ্যার আনন্দ সংসার সর্পগদ অভাগিনী শচীর কোলের বাছা॥ রে গৌর আয় আয় আয়॥ কান্দে শচী দেবী লোটায়া পৃথিবী কাহার প্রবোধ না শুনে। জয়ানন্দ কহে কত না দুঃখ সহে পুড়িলাঙ সে আগুনে॥ রে গৌরাঙ্গ আয় আয় আয়॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ক্ষীরোদ উত্তর কুলে রত্ন কল্পতরু মূলে কবি জয়ানন্দ ভণিতা জয়ানন্দ এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, আদি খণ্ড, ৬ষ্ঠ অধ্যায়, ৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পহিড়া রাগ॥ ক্ষীরোদ উত্তর কুলে রত্ন কল্পতরু মূলে হংসরথে দেব প্রজাপতি। ইন্দ্রাদি অমরগণে ব্রহ্মা সেই গুপ্ত স্থানে জোড় হাথে সভে কর স্তুতি॥ ওহে দেব সৃষ্টি কর নারায়ণ। কলির প্রথম এই স্বকর্ম্ম করিতে না দেই ধর্ম্মপথ হইল মোচন॥ ধ্রু॥ তুমি ব্রহ্মা তুমি হর তুমি চন্দ্র দিবাকর তুমি ইন্দ্র কুবের শমন। ঈশান বরুণ তুমি গোলক চক্রের স্বামী তুমি দেব অনল পবন॥ তুমি দেব ভগবান সর্ব্বলোক পরিত্রাণ তুমা বই গতি নাঞি আর। ধর্ম্ম সংস্থাপন করি যুগে যুগে অবতরি খণ্ডাহ ধরণী গুরুভার॥ কলিযুগে নাঞি ধর্ম্ম দেব তীর্থ সত্কর্ম্ম পাষণ্ড অসুর ম্লেচ্ছ জাতি। অসুরের ভার দেখি মনে হয়্যা আসুখী রসাতল যাএ বসুমতী॥ অনন্ত নাগের কোলে আছে যোগনিদ্রা ছলে ক্ষীরোদসম্ভবা পদতলে। শঙ্খচক্র গদাম্বুজ শুদ্ধসত্ত্ব চতুর্ভূজ মকর কুণ্ডল শ্রুতিমূলে॥ চন্দ্র কোটি সুশীতল সূর্য্য কোটি মহাবল সিন্ধু কোটি গভীর অশেষ। কোটি কাম মহারূপ ইন্দ্র কোটি মহাভূপ শম্ভু কোটি না জানে উদ্দেশ॥ ব্রহ্মার স্তবন শুনি হইল আকাশ বাণী জন্ম গিয়া পৃথিবী মণ্ডলে। সাঙ্গ পাঙ্গ পারিষদ গন্ধর্ব সে নারদ নরদেহ ধর কুতূহলে॥ গোলকের ভগবান সর্ব্বলোক পরিত্রাণ দ্বিজকুলে জন্মিব কলিযুগে। ধরিব সন্ন্যাসী বেশ বিষ্ণুভক্তি পরবেশ অকিঞ্চনে নব অনুরাগে॥ বিন্ধ্য হিমালয় গিরি তার মাঝে সুরেশ্বরী তার তটে নদীয়া নগরী। তাহে মিশ্র জগন্নাথ অনুপাম মহাজাত তার ঘরে জন্মিব শ্রীহরি॥ গৌরাঙ্গ কীর্ত্তন ধাম ধরিব চৈতন্য নাম শচীপুত্র হব ভগবান। পঙ্গু বধির জড় পতিত পামর মুঢ় সবারে করিব পরিত্রাণ॥ মহা ভাগবত সঙ্গে হরি সংকীর্ত্তন রঙ্গে বিষ্ণু যজ্ঞে যজিব সংসার। হরিনাম চিন্তামণি সভারে দিবেন জানি কলিগ্রহ এই প্রতিকার॥ শুনিয়া আকাশ বাণী চলিলা অমর মণি ধরণী চলিলা প্রেমানন্দে। চৈতন্যমঙ্গল গীত ত্রিজগৎ আনন্দিত জয়ানন্দ রচে নানা ছন্দে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |