| কবি জয়ানন্দের বৈষ্ণব পদাবলী |
| গৌরী আরাধিআ সাগরে মরিয়া কবি জয়ানন্দ ভণিতা জয়ানন্দ এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, নদীয়া খণ্ড, ১২শ অধ্যায়, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বারাড়ি রাগ॥ গৌরী আরাধিআ সাগরে মরিয়া পায়্যাছি তুমা নবদ্বীপে। দেখিয়া চান্দ মুখ বৈকুন্ঠ কত সুখ না থাক আমার সমীপে॥ সোনার বাছা পিয় পিয় পিয় বাছা না যায় দূরা খেলাবারে। তুমা না দেখি ঘরে এ বুক বিদরে সংসার অসার আমারে॥ ধ্রু॥ কনক কলেবর ধুলায় ধূসর আল্যাল চাঁচর কেশে। তেজিয়া গৃহকাজ সাজিল দেবরাজ মলিন কৈল সব বেশে॥ বাজ পড়ুক মোর সকল গৃহ কাজে আঁখি আড় হৈলে মরি। মুঞি ছার মরি জাঙ কাকার চুম্ব খাঙ দেখিলে সকল পাসরি॥ গৌরাঙ্গ শচীকোলে নিন্দ গেলা ছলে শুয়াল্য দিব্য সিংহাসনে। জয়ানন্দ কহে বাল্যভাব নহে জীবের নিস্তার কারণে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| চান্দ নিগাড়িআ কলঙ্ক ছানিঞা কবি জয়ানন্দ ভণিতা জয়ানন্দ এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, নদীয়া খণ্ড, ৪৩শ অধ্যায়, ৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বারাড়ি রাগ॥ চান্দ নিগাড়িআ কলঙ্ক ছানিঞা মুখ নিরমাল্য কে। উ রূপ দেখিয়া কেন নাহি দ্রবে তার পাথরে বান্ধিল দে॥ বারি হয়্যা দেখ আলো ননদিনী গৌরাঙ্গ চান্দের নাট। সকল নদীয়া আনন্দে ভাসিয়া মুঞ্জরে শুখান কাঠ॥ সোনা শতবান অঙ্গ নিরমাণ আজানু দীঘল বাহু। ভালে চন্দন অলকা লম্বিত চান্দ গিলে জেন রাহু॥ কুটীল সরোরুহ বেড়িল ভ্রমর মধুপিবি মধু আশে। মধুর আলাপ হাসি অমিঞা সাগরে ভাসি প্রেম জেন পরকাশে॥ আয়ত লোচন রাতা জেন পঙ্করুহ পাতা প্রেম মন্দাকিনী তাতে বহে। পদপঙ্কজ তলে অমৃত ফল ফলে জয়ানন্দ সেই আশে রহে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| তাড়্যাতে পাতে বিচিত্র পুথি কবি জয়ানন্দ ভণিতা জয়ানন্দ এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, নদীয়া খণ্ড, ৩১শ অধ্যায়, ৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কথা দিশা॥ সুই রাগ॥ তাড়্যাতে পাতে বিচিত্র পুথি তাথে রূপার চাকি পাটের ডোর চন্দনে চর্চ্চিত পরিপাটি॥ গৌরাঙ্গসুন্দর পড়ে নিরন্তর ভোটকম্বলে বসিয়া। কলাপে আলাপ করএ প্রলাপ ঈসৎ হাসিয়া॥ ধ্রু। খিরোদ নন্দনী হরপদ্ম জোনি বহে নিরন্তর পাশে। হইয়া বীনাপাণি স্তুতি করে রাণী প্রেমভক্তি অভিলাষে॥ সটিক ব্যাস বৈ কাব্য অলঙ্কার নাট তর্ক সাহিত্যে। না দেখ না শুনে সে শাস্ত্র বাখানে সভা মোহে কবিত্বে॥ মূর্ত্তি হঅ্যা চৌষট্টি বিদ্যা রহে অত্যন্ত সমীপে। ধর্ম্ম সনাতন শ্রীশচীনন্দন ছদ্ম পড়ে নবদ্বীপে॥ বুদ্ধে সুরগুরু বাঞ্ছাকল্পতরু স্কন্দ রূপ লাবণ্য। গাম্ভীর্যে জলধি জেন কলানিধি অভয় ছত্র শরণে॥ চিন্তিয়া চৈতন্য গদাধর প্রাণনাথ পদপঙ্কজমকরন্দে। চৈতন্যমঙ্গল নিগূঢ় নিগূঢ় প্রকাশিল জয়ানন্দে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ধন্য ধন্য কাটোয়া নগরী কবি জয়ানন্দ ভণিতা দ্বিজ জয়ানন্দ এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, সন্ন্যাস খণ্ড, ২য় অধ্যায়, ১৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঠমঞ্জরী রাগ॥ ধন্য ধন্য কাটোয়া নগরী কেশবভারতী জথা। মহা ভাগবত দ্বিজ শত শত সপ্তধারা নদী জথা॥ সুতার সঙ্গম ইষ্টকা রচিত পাঁচির মণ্ড মঠে। কূপ তড়াগ সুযন্ত্রিত চত্বর রাজিত গঙ্গার তটে॥ আম্র পনশ গুবাক নারিকেল চম্পক তাল কদম্বে। বিল্ব নারেঙ্গ হরিতুকী মন্দার বকুল নিম্বে॥ শারিশুক চক্রবাক পারিজাত মউর হংস কোকিল। মল্লিকা মালতী কেশর কেতকী মত্ত মধুব্রত মেলে॥ সভার মন্দিরে তোরণ কলস ধ্বজ পতাকা বিচিত্রে। শঙ্খ মৃদঙ্গ রবাব সমধুর চন্দ্রাতপাদি বিচিত্রে ॥ গন্ধপুষ্প ধূপ দীপ নিরন্তর পুষ্পের বাজার পুড়ে। প্রপা পুষ্পোদ্যান রম্য রম্য স্থান দেব দেবালয় গড়ে॥ দিব্য মূর্ত্তি জত ব্রাহ্মণ পন্ডিত সর্ব্বশাস্ত্রে বিশারদে। কাটোয়া নগরী যেন সুরপুরী সর্ব্বসুখ প্রমোদে॥ দেব ঋষি মুনি স্নান সুরধুনী কপট সন্ন্যাসী বেশে। ন্যাসী চক্রবর্তী কেশবভারতী পুষ্প শতাবধি শেষে॥ ব্রাহ্মণ কুমারী ইন্দ্র বিদ্যাধরী কাটোয়া নগরী বসে। রূপলাবণ্য ত্রিজগতে মোহিত বচনে মাণিক্য খসে॥ নাছে বাটে হাটে নিরন্তর স্বস্তির সিন্দুর লেখা। ধ্বজ কলস চুতাঙ্কুর পল্লব দিব্য চন্দ্রাতপ শাখা॥ দধি মধু ঘৃত কজ্জল রোচনা দর্পণে ধান্য রজতে। কাঞ্চন জরিত রাজিত চামর তাম্র ধূপ দীপ শতে॥ পূর্ব্বে ইন্দ্রেশ্বর ঘাট মনোহর উত্তরে অজয় গঙ্গা। মধ্যে কাটোয়া গুপ্ত বারাণসী নৃত্য নবরত সঙ্গা॥ গোধূলি সমএ মৃদঙ্গ শঙ্খধ্বনি প্রমোদে। ভূদেব সম্পদী দিব্য পরিচ্ছদ তর্ক সাহিত্য বিনোদে॥ গুপ্ত বারাণসী কাটোয়া নিবাসী দর্শনে পাতক খণ্ডে। শ্রবণে মুক্তি নিত্য শুদ্ধমতি মহাপাপ খণ্ডে দণ্ডে॥ চিন্তি গদাধর প্রাণনাথ পদ পঙ্কজ মকরন্দে। চৈতন্যমঙ্গল নিগম নিগূঢ় গাএ দ্বিজ জয়ানন্দে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নদীয়া পুরনারী লাস বেশ করি কবি জয়ানন্দ ভণিতা দ্বিজ জয়ানন্দ এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, নদীয়া খণ্ড, ৪৮শ অধ্যায়, ৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তত কথা দিশা। ॥ মঙ্গল গুর্জ্জরী রাগ॥ নদীয়া পুরনারী লাস বেশ করি তেজিআ গৃহপতি আশে। চলিলা রাজপথে কুসুম মালা হাথে নদীয়াচন্দ্র সম্ভাষে॥ আস্য লো সব সখী বিভারে জাঙ দেখি আচার্য্য পুরন্দর বাসে। গৌরাঙ্গ লখমিনী পুষ্পের ছামুনী দেখিয়া আসিব উল্লাসে॥ ধ্রু অলক তিলক পঙ্কজলোচন কুঙ্কুম কস্তুরি চন্দনে। অঙ্গ ঠেলাঠেলি মদন ঢামালি কর্পূর তাম্বুল বগানে॥ নগরে চাতরে প্রতি ঘরে ঘরে নাছে বাটে হাটে ঘাটে। আনন্দ কোলাহলে পানি সাজা বলে রসিক রমণী ঠাটে॥ স্বস্তিক সিন্দুর তোরণ জাতাঙ্কুর প্রতি দ্বারে দ্বারে দেখি। শঙ্খ করতাল রবাব পাখাজ বাজাএ কত চন্দ্রমুখী॥ হরিদ্রা আলিপনা দধি গোরচনা দূর্ব্বা ধান্য চন্দ্রাতপে। ধূপদীপ মধু লইয়া কুলবধূ খেলি খেলে নবদ্বীপে॥ চিন্তিয়া গদাধর প্রাণনাথ পদ পঙ্কজ মকরন্দে। চৈতন্যমঙ্গল নিগম নিগূঢ় গাএ দ্বিজ জয়ানন্দে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| নানা চিত্রে ধাতু বিচিত্র নগরী কবি জয়ানন্দ ভণিতা দ্বিজ জয়ানন্দ এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, নদীয়া খণ্ড, ৩য় অধ্যায়, ১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুই রাগ॥ নানা চিত্রে ধাতু বিচিত্র নগরী নানা জাতি বস্যে তথা। চূর্ণ বিলেপিত দেউল দেহারা নানা বর্ণে বৃক্ষলতা॥ জয় জয় ধন্য নদীয়া নগরী অলকানন্দার কূলে। কমলা ভাবিনী ক্রীড়া করে তথি রাজিত বকুল মালে॥ প্রতি ঘরের উপরি বিচিত্র কলস চঞ্চল পতাকা উড়ে। পূর্ব্বে যেন ছিল অযোধ্যা নগরী বিজুরী ছটাক পড়ে॥ নাট পাঠশাল দীঘি সরোবর কূপ তড়াগ সোপান। মঠ মণ্ডপ সুযন্ত্রিত চত্বর কুন্দ তুলসী উদ্যান॥ প্রতি দ্বারে শোভে বিচিত্র কপাট প্রতি কুলী পড়ে হাট। প্রতি কুলী নৃত্য গীত আনন্দিত প্রতি ঘরে বেদপাঠ॥ দ্বিজরূপ ধরি দেবতা গন্ধর্ব জন্ম লভিল নবদ্বীপে। হআ দ্বিজ নারী ইন্দ্র বিদ্যাধরী সঙ্গীত গঙ্গার সমীপে॥ স্বর্গ ছাড়ি যত গন্ধর্ব মণ্ডলী জন্মিল বৈদ্য বনিতা। দেব ঋষি মুনি দ্বিজ রূপ ধরি অধ্যয়ন শ্রুতি গীতা॥ গোধূলি সমএ মৃদঙ্গ করতাল শঙ্খধ্বনি প্রতি ঘরে। শ্বেত চামর ময়ূর পাখা তহি চন্দ্রাতপ শোভা করে॥ ইষ্টকা রচিত প্রাচীর প্রাঙ্গণ সুযন্ত্রিত গৃহ দ্বার। হিঙ্গুল হরিতালে কাচ ঢাল চৌখণ্ডী চৌকার শাল॥ শালে রসাস বিশালক স্তম্ভ রাজিত চন্দ্রার্ক তিলাকে। ময়ূর শুক সারস পারাবত সিংহ হংস চক্রবাকে॥ খাট পালঙ্ক সিংহাসন আসন চৌখণ্ডী ময়ূর পাখা। বিচিত্র চামর চন্দ্রাতপ প্রতি ঘরে সুন্দর শাখা॥ ডাবর বাটা গুবাক সম্পুট দর্পণ রসবাটিকা। তাম্র হাণ্ডি রস পিত্তল কলস বারাণসীর ত্রিপদিকা॥ শঙ্খ বাটাবাটি সরঙ্গি থাল রসময় সব খুরি। তিরোহিত গাড়ু তাম্র মুখারস মণ্ডল শীতল পিত্তল ঝারি॥ পাষাণ ভাজন অতি সুগঠন খড়িকা রঙ্গিকা পড়া। উড়িআ গৌড়িয়া কুলুপা চিরনি বিচিত্র শাঁপুড়া॥ টাড় গাঁঠ্যা কড়ি হিরণ্য মাদুলী কেয়ুর কঙ্কণ রত্ন নূপুরে। হেম কিআ পাতা বিদ্রুম মুকুতা কাশ্মীর দেশের খুরে॥ তবক বসর পান কাটা কাঞ্চী দেশের বিচিত্র বেণী। পাটনেত ভোট সকলাত কম্বল শ্রীরাম খানি জমখা। ভোট্ট দেশের ইন্দ্রনীলমণি লক্ষ্ণীবিলাস তারকা॥ দেখিতে না পারি দাস দাসী যত মিশ্রের মন্দিরে খাটে। যে যে দ্রব্য সব ভুবনদুর্ল্লভ বিকাএ নদ্যার হাটে॥ চিন্তিয়া চৈতন্য গদাধর প্রাণনাথ পদপঙ্কজ মকরন্দে। চৈতন্য মঙ্গল নিগম নিগূঢ় গাএ দ্বিজ জয়ানন্দে॥ . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |