কবি জয়ানন্দের বৈষ্ণব পদাবলী
*
সংসার অসার মা স্বপ্ন হেন নহে
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, বৈরাগ্য খণ্ড, ৫ম অধ্যায়, ৯০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কথা দিশা।
॥ মল্লার রাগ॥

সংসার অসার মা স্বপ্ন হেন নহে।
ইষ্ট মিত্র কুটুম্ব সন্তাপ মনে দহে॥
কার মাতা পিতা পুত্র ধনজন সখা।
মরণ সঙ্কটে নহে কার সঙ্গে দেখা॥
না কান্দ না কান্দ মা এ সংসার এ সব।
ধ্রুবের জননী ধ্রুবে করিল বৈষ্ণব॥ ধ্রু।
কত জন্ম মরণ সঙ্কট গর্ব্তবাসে।
অল্পভাগ্যে বিষ্ণুভক্তি দেহে না প্রকাশে॥
তিলার্দ্ধ পদারবিন্দে রহে যার ধ্যান।
কোটি ইন্দ্রপদ তার নহে তৃণজ্ঞান॥
যত দেখ জত জন জত মনে করে।
কৃষ্ণের ভজন মা সভার পরাপরে॥
তিলার্দ্ধ ভজিঞা কৃষ্ণ হএ উদাসীন।
সে জন ইন্দ্রের বড় পরিআ কপিন॥
মিথ্যা মায়াজালে মা সংসার হইল বন্দী।
তিলার্দ্ধ পাঠাইতে তার নাঞি আর সন্ধি॥
গৌরাঙ্গবৈরাগ্য দেখি কান্দে নারায়ণী।
সীতা সর্ব্বাণী কান্দে বৈষ্ণবী মালিনী॥
কারে কিছু না বলি ঠাকুর গৌরচন্দ্র।
সকল নদীয়া কান্দে কান্দে জয়ানন্দ॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
সমুদ্রতটে বট নিকটে পুরি
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, তীর্থ খণ্ড, ৫ম অধ্যায়, ২১৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
              
॥  সিন্ধুড়া রাগ॥

সমুদ্রতটে বট নিকটে পুরি।
দারুব্রহ্ম রূপে নীলাচল গিরি॥
নাম ধরে প্রভু জগন্নাথ।
নাছে বাটে হাটে বিকাএ ভাত॥
ঠাকুর জগন্নাথ গণ্ডিচা রথে।
গোয়াল ধরে ইন্দ্র সে রাজপথে॥ ধ্রু।
কাঞ্চন নির্ম্মিত রথের পাট।
গজমুক্তা তাহে সুবর্ণ-কপাট॥
সুবর্ণ-কলস পতাকা উড়ে।
সোনার দর্পণ রথের চূড়ে॥
বিচিত্র রথে শ্বেত চামর নাছা।
মানুষ প্রমাণ রথের চাকা॥
পুষ্কল গজদন্ত সিংহাসনে।
সিংহ শার্দ্দূল বার কোনে॥
হিঙ্গুল হরিতালে সাজে রথ।
কিঙ্কিণী ঘন্টা বাজে সহস্র শত॥
ভদ্রা বলরাম সুদর্শনে।
উজ্জ্বল নীলাচল এ চারিজনে॥
বাঅন কোটি ভাণ্ডার লআ।
চলিলা জগন্নাথ গণ্ডিচা বঞা॥
জয়ানন্দে বলে এ বড় কথা।
সকল চতুর্ভূজময় জথা ॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
হরি হরি হরি গৌরাঙ্গ প্রাণনাথ
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “জয়ানন্দ
বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, সন্ন্যাস খণ্ড, ১৩শ অধ্যায়, ১৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ততঃ কথা।
॥  পটমঞ্জরী রাগ॥

হরি হরি হরি          গৌরাঙ্গ প্রাণনাথ
কি লাগি হইলা সন্ন্যাসী।
তুমা না দেখিলে ঘরে    এ বুক বিদরে
না জিএ বিষ্ণুপ্রিয়া দাসী॥
গোসাঞি॥
শঙ্কর আরাধিয়া           সাগরে মরিয়া
জন্ম হল্য নবদ্বীপে।
হইল্যাঙ তুমার দাসী   ভাগ্য হেন বাসি
সেবা করিব সমীপে॥
গোসাঞি॥
জগৎ নিস্তারিতে       আইলা দুটি ভাই
গোলোক ছাড়িয়া সংপ্রতি।
কীর্ত্তনানন্দ রসে       অখিল জীব ভাসে
আমারে ছাড়ি হইলে যতি॥
গোসাঞি॥
ভাল ভাল ভাল          কেশব ভারতী
ঠেকিলা বিষ্ণুপ্রিয়া বধে।
আমার ঠাকুরে          সন্ন্যাসী করালে
কৌপীন কটি পরিচ্ছদে॥
গোসাঞি॥
ভাল ভাল ভাল       গোসাঞি অবধুত
আইরে কৈলে উদাসিনী।
বিনোদ গৃহবাস         ছাড়িয়া সন্ন্যাসী
ধরিলে করঙ্ক কৌপিনী॥
গোসাঞি॥
ভাল ভাল ভাল  বিষ্ণুপুরী গোসাঞি
কি আর কহিব সভারে।
বিষ্ণুপ্রিয়া প্রতি         সভার অনুগ্রহ
জানিল কার্য্যানুসারে॥
যত দূরে জানি          সঞ্চরেন পাণি
আমা হেন আছে কে।
জয়ানন্দ কহে      এ কথা মিথ্যা নহে
গৌরাঙ্গ সত্য গোসাঞি॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
নৃসিংহ ভারতী সঙ্গে কেশব ভারতী রঙ্গে
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা মিত্র গোসাঞির সুত
এই পদটি আনুমানিক ১৫৬০ সাল নাগাদ জয়ানন্দ দ্বারা বিরচিত, ১৯৭১ সালে বিমান বিহারী মজুমদার ও
সুখময় মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত “চৈতন্যমঙ্গল”, সন্ন্যাস খণ্ড, ৬ষ্ঠ অধ্যায়, ১৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে। এখানে ভণিতায় রয়েছে “অভিরাম গোসাঞীর দাস মিত্র গোসাঞির সুত”। এই থেকেই ,ম্ভবত
দীনেশচন্দ্র সেন বলেছেন যে অভিরাম গোসাঞি জয়ানন্দের দীক্ষাগুরু ছিলেন।

॥ পঠমঞ্জরি॥

নৃসিংহ ভারতী সঙ্গে                        কেশব ভারতী রঙ্গে
মনুখে বসিলা নিত্যানন্দ।
গোবিন্দ ভারতী আসি                        ষেল বেদী মধ্যে বসি
যড়ঙ্গে পূজিল গৌরচন্দ্র॥
রামগিরি ব্রহ্মগিরি                              মহেন্দ্র প্রদ্যুম্নগিরি
ব্রহ্মগিরি সত্যগিরি নামে।
গড়ুরাবধূত যতি                                    ভার্গব সরস্বতী
সানন্দে বসিলা প্রভু বামে॥
সন্ন্যাসী আশ্রম দশ নাম
গিরি পুরী সরস্বতী                             রণ প্রকাশ ভারতী
জে আনাল্য চৈতন্য বিশ্রাম॥
বিষ্ণুপুরী ঈশ্বরপুরী                                     রঘুনাথ পুরী
রামচন্দ্র তাম্ব পুরী॥
গোপালপুরী ব্রহ্মানন্দপুরী        হরি নন্দী সুখানন্দ পরমানন্দপুরী
বসিলা গৌরাঙ্গের বাম পাশে।
কৃষ্ণ বলরাম বল                                  ঊদ্ধব অক্রূর বল
এ ষোল বেদী গৌরাঙ্গ প্রকাশে॥
মুকুন্দ প্রকাশে                                     দাশরথী প্রকাশ
রামচন্দ্র প্রকাশ যজ্ঞস্থান।
অনন্ত বিশ্রাম রঙ্গে                               শিষ্য প্রশিষ্য সঙ্গে
করিল সন্ন্যাস মুক্ত গানে॥
গোসাঞি শঙ্করারণ্য                           অচ্যুতারণ্য ধন্য ধন্য
রামারণ্য কাশীপুরারণ্যে।
নৃসিংহ প্রাচীন যতি                               শুদ্ধানন্দ সরস্বতী
যে বসিলা সন্ন্যাস অগ্রগণ্যে॥
কেহো ব্রহ্মা হর ইন্দ্র                              কবের বরুণ চন্দ্র
গৌরাঙ্গ করিল অভিষেক।
অন্তরীক্ষে দেবগণ                                করে পুষ্প বরিষণ
জে দিব্যাঙ্গনা লক্ষ্মীর আলেক॥
চৌদিগে সন্ন্যাসী বৃন্দে                        স্তুতি করে গৌরচন্দ্রে
সব লোকে বলে হরি হরি।
অভিরাম গোসাঞীর দাস                 মিত্র @ গোসাঞির সুত
সর্ব্বসুখ কাটোয়া নগরী॥

@ - মিত্র - কথাটি মিশ্র হবে। ‘মিশ্র গোসাঞি সুত’ অর্থাৎ সুবুদ্ধি মিশ্র-সুত “জয়ানন্দ” হবে এই ভণিতার
কলি তে। সুখময় মুখোপাধ্যায়, যিনি এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে ১৯৭১ সালে প্রকাশিত “জয়ানন্দের
চৈতন্যমঙ্গল” গ্রন্থের সহ সম্পাদক ছিলেন, তিনি তাঁর ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত “মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের
তথ্য ও কালক্রম” গ্রন্থের ১০৩-পৃষ্ঠার পাদটীকায় লিখেছেন - “
এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত
জয়ানন্দের চৈতন্যমঙ্গলে দু’এক জায়গায় ছাপার ভুলে “মিশ্র গোসাঞি”র জায়গায় “মিত্র গোসাঞি” মুদ্রিত
হয়েছে
।”

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
পরম রসায়ন গায়নসঙ্গী
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি আনুমানিক ১৫৬০ সাল নাগাদ জয়ানন্দ দ্বারা বিরচিত, ১৯৭১ সালে বিমান
বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায় দ্বারা সম্পাদিত “চৈতন্যমঙ্গল”, সন্ন্যাস খণ্ড, ১০ম
অধ্যায়, ১৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তত কথা।
॥ বেলো আর॥

পরম রসায়ন গায়নসঙ্গী।
কীর্ত্তন লম্পট রাজত্রিভঙ্গী॥
ভালি নাচত॥
শ্বাস হাস স্বেদ কম্প পুলক কদম্বে।
উথলিল প্রেমসিন্ধু কত ভাবারম্ভে॥
ভালি নাচত গৌর কীর্ত্তনসুখে।
ভুবন নর্ত্তন হেরি শত শত মুখে॥ ধ্রু
নিশি দিশি রোদন কম্প অনুরাগে।
ক্ষেণে বিভোল ক্ষেণে সমাধি লাগে॥
ভালি নাচত॥
আচণ্ডাল আদি সভারে দিল কোল।
আব্রহ্ম ভরিয়া শুনি হরি হরি বোল॥
গৌর তনু অরুণাম্বর বেশ।
সুমেরু বেড়িয়া যেন সিন্দুরিয়া মেঘ॥
ভালি নাচত॥
জন শমতাবধি গৌর অনুরাগে।
জয়ানন্দ সে নাটের ধূলা মাগে॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
অধিবাস গোপ্যানন্দে রজনী বঞ্চিল
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ                
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, সন্ন্যাস খণ্ড, ৫ম অধ্যায়, ১৩৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ততঃ কথা॥

অধিবাস গোপ্যানন্দে রজনী বঞ্চিল।        
ঊষাকালে গৌরচন্দ্র গঙ্গাএ মজ্জিল॥
গৌরচন্দ্র শ্রাদ্ধ করিল একে একে।
বাপ জগন্নাথ মিশ্র দেখি অন্তরীক্ষে॥
পিতামহ জনার্দ্দন মিশ্র মহাশয়।
প্রপিতামহ রাজগুরু মিশ্র ধনঞ্জয়॥
দিগ্বিজয়ী রামকৃষ্ণ বৃদ্ধপ্রপিতামহ।
তার পিতা বিরূপাক্ষ কবীন্দ্র বিগ্রহ॥
তার পিতা ক্ষীরচন্দ্র অভিনব ব্যাস।
দিব্যরথে আইলা সভে দেখিতে সন্ন্যাস॥
গঙ্গাজল তর্পণে তুষিল একে একে।
সখায়াত পূজাএ পূজি দেবলোকে॥
বর্ষী তর্পণে সনকাদি তুষ্ট হইল।
লক্ষ্ণী ঠাকুরাণী রথে অন্তরীক্ষে বৈল॥
গঙ্গার তর্পণে তুষিল শচীমাতা।
আমি সন্ন্যাসী মা বঞ্চিবে তুমি কোথা॥
বিদ্যাগুরু গঙ্গাদাস তর্পণে তুষিল।
ঈশ্বরপুরী মন্ত্রদাতা তারে জল দিল॥
ধাত্রীমাতা নারায়ণী তর্পণের জলে।
বৈষ্ণবী মালিনী সীতা তুষিল সকলে॥
দুখী দাসী চন্দ্রশেখর আচার্য্য পুরন্দর।
তর্পণে তুষিল গঙ্গাজলে বিশ্বম্ভর॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
অষ্টমে প্রকাশখণ্ড শুন সাবধানে
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, প্রকাশ খণ্ড, ৫ম অধ্যায়, ১৮৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীচৈতন্যচন্দ্রায় নমঃ।
শ্রীরাধাকৃষ্ণায় নমঃ।
কথা দিশা॥

অষ্টমে প্রকাশখণ্ড শুন সাবধানে।
জগন্নাথ চৈতন্য প্রকাশ পুরুষোত্তমে॥
জগন্নাথের আজ্ঞা জে চৈতন্যদেবে দেখে।
পুনর্জন্ম নাঞি তার বৈকুন্ঠেতে থাকে॥
চৈতন্যের পাদোদক জেই জন পিএ।
সে জন সংসারে ধন্য সেই মাত্র জিএ॥
চৈতন্যে জে নমস্কার করে একবার।
তার বংশে যমের নাঞিখ অধিকার॥
চৈতন্য-অধরামৃত পিএ জেন জন।
সে জন অমর তাকে রাখে সুদর্শন॥
চৈতন্যসেবক সে তুমার পারিষদ।
যুগে যুগে প্রেমভক্তি তার সে সম্পদ।
আমি কৃষ্ণচৈতন্য চৈতন্য জগন্নাথ।
যুগ অবতার হেতু ব্রহ্মকুলে জাত॥
এসব প্রকাশ সর্ব্বলোকে প্রকাশিল।
শুনিঞা উত্কল রাজ্য আনন্দে ভাসিল॥
একদিন চৈতন্য গোসাঞি নীলাচলে।
কৃষ্ণকথা কহিতে ভাসিলা অশ্রুজলে॥
বৈষ্ণব সমান কেহো নহে ত্রিজগতে।
সর্ব্বজীবে নিস্তারিব শ্রীজগন্নাথে॥
ভোজন-পাত্রাবশেষ সেবকেরে দিয়া।
দেশে দেশে পতিত উদ্ধার করেন গিয়া॥
জগতের নাথ তেঞি জগন্নাথ নাম।
জত জত অবতার বিশ্রাম ধাম॥
জত পুণ্য হএ জগন্নাথ দরশনে।
তত পুণ্য হএ মহাপ্রসাদ ভক্ষণে॥
জত পুণ্য হএ কাশী প্রয়াগ গমনে
তত পুণ্য হএ মহাপ্রসাদ ভক্ষণে॥
জত পুণ্য হএ গঙ্গাস্নানপানাবগাহনে।
তত পুণ্য হএ মহাপ্রসাদ ভক্ষণে॥
মন্দার মরণে মধুসূদন দর্শনে।
তত পুণ্য হএ মহাপ্রসাদ ভক্ষণে॥
জত পুণ্য হএ মহাপুরাণ শ্রবণে।
তত পুণ্য হএ মহাপ্রসাদ ভক্ষণে॥

॥ শ্লোক॥

মহাপ্রসাদে গোবিন্দে নমো ব্রহ্মণে বৈষ্ণবে।
নাল্পভাগ্যবতাং রাজন্ বিশ্বাসস্তত্র জায়তে॥

কুক্কুরস্য মুখাদ্ভ্রষ্টং যদন্নং জায়তে যদি।
ইন্দ্রেনাপি চ তদ্ভক্ষ্যং ভাগ্যতা যদি লভ্যতে॥

॥ শ্লেকদ্বয়ং॥

মহাপ্রসাদে নামে গোবিন্দে বৈষ্ণবে।
অল্প ভাগ্যে বিশ্বাস না জন্মে এ সবে॥
জগন্নাথের আজ্ঞা মোর অন্ন জেই পাএ।
কুকুর মুখে ভূমে পড়ে তাহ ইন্দ্রে খাএ॥
তবে ইন্দ্র আপনারে ভাগ্য করি মানে।
বেদব্যাস লেখেন ইহা ব্রহ্মপুরাণে॥
শাণ্ডিল্য ব্রাহ্মণ মহাপ্রসাদ নিন্দিয়া।
সর্ব্বাঙ্গ গলিত হইল মহাপ্রসাদ না খায়্যা॥
শ্রীজগন্নাথের অন্ন জাএ দেশে দেশে।
দর্ব্বজীব মুক্ত সেই অন্নপরশে॥
জগন্নাথ দেখে মহাপ্রসাদ অন্ন খাএ।
প্রসাদ ভক্ষণে এক পাদ চলি জাএ॥
কনার্ক ভুবনেশ্বর বিরজা জে দেখে।
পুনর্জন্ম নাঞি সে বৈকুণ্ঠেতে থাকে॥
রখে বামন দোলে গোবিন্দ গোসাঞি।
মঞ্চে মধুসূদন দর্শনে জন্ম নাঞি॥

॥ শ্লোক॥
লোলায়মানং গোবিন্দং মঞ্চস্থং মধুসূদনং।
রথস্থং বামনং দৃষ্ট্বা পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে॥
মার্কণ্ডেয়বটে কৃষ্ণ রৌহিণের মহোদধৌ।
ইন্দ্রদ্যুম্নসরঃ স্নানে পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে॥

মার্কণ্ডের বটে জগন্নাথ বলরাম।
মহোদধি ইন্দ্রদ্যুম্ন সরোবরে স্নান॥
পুনর্জন্ম নহে সেই মোক্ষপদ হএ।
জগন্নাথ জগতে নিস্তারিতে কৃপাময়॥
চি্নতিয়া চৈতন্যগদাধরপদদ্বন্দ্ব।
আনন্দে প্রকাশখণ্ড গায় জয়ানন্দ॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
আগম নিগম গীতা করঙ্ক কৌপীন
কবি জয়ানন্দ                
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, বৈরাগ্য খণ্ড, ২৪শ অধ্যায়,
১২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তত কথা দিশা॥

আগম নিগম গীতা করঙ্ক কৌপীন।
বৈরাগ্য সংসার ছাড়ি হৈলা উদাসীন॥
সিংহাসন পালঙ্ক ছাড়িয়া ভূমিশয্যা।
ছাড়িল বৃন্দার সেবা কৃষ্ণ পরিচর্য্যা॥
লক্ষ্মীর বিলাস ছাড়ি তরুতলে বাস।
বৈরাগ্য ছাড়িল ঝাঁট হইব সন্ন্যাস॥
রত্ন কুণ্ডল হার হিরণ্য মাদুলি।
সুখময় বসন না পরে কৃষ্ণকেলি॥
বিষ্ণুতৈল ছাড়ি প্রভু সুগন্ধি পরাগ।
চাঁচর কেশ ধুলাএ ধূসর তিন ভাগ॥
জে ঠাকুর দিব্য মালা পরে শতে শতে।
সে প্রভু গলে ডোর নাম গ্রন্থ কতে॥
জে অঙ্গ চন্দনাগুরু কস্তুরি সুন্দর।
সে অঙ্গ কীর্ত্তনানন্দে ধূলাএ ধূসর॥
সুবাসিত কর্পূর তাম্বুল যার মুখে।
সে প্রভু হরিতুকি খাএ কোন্ সুখে॥
মহাবৈরাগ্য দেখি পার্ষদে উন্মাদ।
তা দেখি গৌরাঙ্গ সভাএ করিল প্রসাদ॥
হেনকালে নিত্যানন্দ নবদ্বীপে আসি।
সন্ন্যাস রহস্য যত গৌরাঙ্গে প্রকাশি॥
শুনিয়া আনন্দ হইলা গৌরচন্দ্র।
গঙ্গা পার হয়্যা আগে রৈলা নিত্যানন্দ॥
মুকুন্দ দত্ত বৈদ্য গোবিন্দ কর্মকার।
মোর সঙ্গে আস্য কাঁটোয়া গঙ্গাপার॥
আচার্য্যরত্ন চন্দ্রশেখর আচার্য্য হরি।
বাসুদেব দত্ত শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারী॥
বক্রেশ্বর পণ্ডিত ভগাই গঙ্গাদাস।
তুমা সভার বিদ্যমানে লইব সন্ন্যাস॥
চিন্তিয়া চৈতন্যগদাধরপদদ্বন্দ্ব।
আনন্দে বৈরাগ্যখণ্ড রচে জয়ানন্দ॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
এককালে উদ্ধব নৈমিষারণ্যে বসি
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, আদি খণ্ড, ৩য় অধ্যায়, ৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ততো দিশা॥        

এককালে উদ্ধব নৈমিষারণ্যে বসি।
নারদ ঠাকুরে জিজ্ঞাসিল হাসি হাসি॥
কৃষ্ণ হেন অবতার না হইব আর।
কোন অবতারে জীব পাইব নিস্তার॥
যত যত অবতার করিল ঈশ্বরে।
প্রেম ভক্তি না দিলেন সকল জীবেরে॥
কোন কোন জনেরে দিলেন প্রেমধন।
অসুর সংহার করি ভারাবতারণ॥
বিষ্ণু অবতারে পাইল প্রেম মাধুরী।
শিব শুক নারদ জনা দুই চারি॥
রাম অবতারে সিন্ধু বান্ধি সেতুবন্ধ।
কপিগণ সঙ্গে রঙ্গে মারি দশস্কন্ধ॥
সুগ্রীব বিভীষণ অঙ্গদ হনুমান।
নল নীল সুষেণ পনস জাম্বুবান॥
এই নয়জনে ভক্তি দিলেন শ্রীরাম।
সূর্য্যবংশে অবতার দূর্ব্বাদলশ্যাম॥
নৃসিংহ অবতারে মহাদ্ভুত মহাশক্তি।
সভে মাত্র প্রহ্লাদ পাইলা প্রেমভক্তি॥
ব্রহ্মার প্রপৌত্র ধ্রুব প্রেমভক্তি পাইল।
জননী সহিত উচ্চস্থানেতে রহিল॥
ব্রহ্মা মনু কপিল কুমার ভীষ্ম যম।
জনক অর্জ্জুন বলি পাইল সবে প্রেম॥
কোন অবতারে সর্ব্ব জিবে হএ দয়া।
সর্ব্বভক্ত জানেন কৃষ্ণের যত মায়া॥
নারদ বলেন উদ্ধব শুন একচিত্তে।
সর্ব্বজীব বৈষ্ণব হবেক আচম্বিতে॥
দ্বিজকুলে জন্মিব গৌর ভগবান।
অখিল জীবেরে করিবেন প্রেমদান॥
ঘরে ঘরে প্রতি গ্রামে হবে দেবালয়।
কলিযুগে সর্ব্বলোক হবে ধর্ম্মময়॥
সাঙ্গোপাঙ্গে পারিষদে যত অবতারে।
কলুযুগে জন্মিবেন প্রতি ঘরে ঘরে॥
মহান্ত বৈষ্ণব সহ প্রকটে বৈষ্ণবী।
সেবকানুসেবকে ব্যাপিবেক পৃথিবী॥
অদীক্ষিত নরনারী কলিতে না হবে।
আচণ্ডাল আদি সবে প্রেমভক্তি পাবে॥
এই কথা নারদ কহিল উদ্ধবেরে।
পূর্ব্বে ব্রহ্মা জিজ্ঞাসিআছিলা মহেশ্বরে॥
জৈমিনি শিষ্যেরে ব্যাস কহেন সে কথা।
জৈমিনিসংহিতা ত্রিজগতে কল্পলতা॥
চিন্তিয়া চৈতন্যচন্দ্রচরণকমল।
জয়ানন্দ আনন্দে গাএ প্রভুর মঙ্গল॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর
*
জয়ানন্দের জন্ম মাতামহ গৃহবাসে
কবি জয়ানন্দ
ভণিতা জয়ানন্দ
এই পদটি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার ও সুখময় মুখোপাধ্যায়
সম্পাদিত “জয়ানন্দ বিরচিত চৈতন্যমঙ্গল” কাব্যগ্রন্থ, আদি খণ্ড, ৩য় অধ্যায়, ৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এখানে আদিখণ্ডের ৩য় অধ্যায়ের শেষাংশ থেকে কেবল
জয়ানন্দের জন্ম-বৃত্তান্ত দেওয়া হলো।

॥ --॥        

জয়ানন্দের জন্ম মাতামহ গৃহবাসে॥
গুহিআ নাম ছিল মাএর মড়াছিয়া বাদে।
জয়ানন্দ নাম হৈল চৈতন্য প্রসাদে॥
জয়ানন্দের বাপ সুবুদ্ধি মিশ্র গোসাঞি।
পরম ভাগবত উপমা দিতে নাঞি॥
পূর্ব্বে গোসাঞির শিষ্য পুস্তক লিখনে।
আপনে চিন্তিএ পড়ে যত শিষ্যগণে॥
বাপ সুবুদ্ধি মিশ্র তপস্যার ফলে।
জয়ানন্দের মন হইল চৈতন্যমঙ্গলে॥
চৈতন্য চরিত্র কে বর্ণিবারে পারে।
চারিবেদে চতুর্ম্মুখে স্ততি করে যারে॥
যাহার মহিমা গাএ সহস্রবদনে।
যার গুণ গাইয়া উন্মত্ত ত্রিলোচনে॥
পৃথিবীর রেণু গণিতে শক্তি কারা।
যদি বা গণিতে পারি পৃথিবীর তারা॥
আঢ়কে প্রণাম করি সমুদ্রের জল।
গণিবারে পারি যত বৃক্ষের ফল॥
উনপঞ্চাশ বায়ু মুষ্টি করি ধরি।
তবু সে চৈতন্যগুণ বর্ণিতে না পারি॥
অনন্ত চরিত্র প্রভুর অনন্ত মহিমা।
অনন্ত সেবক গুণ অনন্ত গরিমা॥
অচিন্ত্য অনন্ত রূপ অনন্তাবতার।
অনন্ত কবীন্দ্রে গাএ মহিমা যাহার॥
রামায়ণ করিল বাল্মীকি মহাকবি।
পাঁচালী করিল কৃত্তিবাস অনুভবি॥
শ্রীভাগবত কৈল ব্যাস মহাশয়।
গুণরাজ খাঁন কৈল শ্রীকৃষ্ণবিজয়॥
জয়দেব বিদ্যাপতি আর চণ্ডীদাস।
কৃষ্ণের চরিত্র তারা করিল প্রকাশ॥
সার্ব্বভৌম ভট্টাচার্য্য ব্যাস অবতার।
চৈতন্য চরিত্র আগে করিল প্রচার॥
চৈতন্য সহস্র নাম শ্লোক প্রবন্ধে।
সার্ব্বভৌম রচিল কেবল প্রেমানন্দে॥
পরমানন্দ পুরী গোসাঞি মহাশয়।
সংক্ষেপে করিলেন তিহোঁ গৌরাঙ্গ বিজয়॥
আদিখণ্ড মহাখণ্ড শেষখণ্ড করি।
বৃন্দাবনদাস প্রচারিল সর্বোপরি॥
গৌরীদাস পণ্ডিতের কবিত্ব সুশ্রেণী।
সঙ্গীত প্রবন্ধে তার পদে পদে ধ্বনি॥
সংক্ষেপে করিলে অতি পরমানন্দ গুপ্ত।
গৌরাঙ্গবিজয় গীত শুনিতে অদ্ভুত॥
গোপাল বসু করিলেন গীতত প্রবন্ধে।
চৈতন্যমঙ্গল তারা চামর বিছন্দে॥
ইবে শব্দ চামর সঙ্গীত বাদ্যরসে।
জয়ানন্দ চৈতন্যমঙ্গল গাএ শেষে॥
আর যত যত কবি জন্মিল আপারে।
চৈতন্যমঙ্গল তারা করিল প্রচারে॥
চিন্তিআ চৈতন্য গদাধর পদদ্বন্দ্ব।
আদিখণ্ড জয়ানন্দ করিল প্রবন্ধ॥

.            ****************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    



মিলনসাগর