কবি কৃষ্ণপ্রসাদের বৈষ্ণব পদাবলী
*
আজু কেন হেন বাসি
কবি কৃষ্ণপ্রসাদ
এই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২  
গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয় (পূর্বরাগ)”।

পুনন্তদ্রসোদ্গারঃ --- [ সখী নায়িকাং প্রত্যহ ]
॥ ললিত॥

আজু কেন হেন দেখি।
স্বরূপ করিয়া     না কহ আমরা     মনের মরম সখী॥ ধ্রু॥
আঁখি ঢুলু ঢুলু     ঘুমেতে আকুল     জাগিয়াছ বুঝি নিশি॥
রসের ভরে     অঙ্গ না ধরে     বসন পড়িছে খসি।
এক কহইতে     আন কহিছ     বচন হইছ হারা।
রসিয়ার সঙ্গে     কিবা রসরঙ্গে     সঙ্গ হইয়াছে পারা॥
ঘন ঘন তুমি     মুড়িছ অঙ্গ     সঘনে নিশাস ছাড়।
স্বরূপে কহিয়ে     না কহসি ইহা     মরমে কপট বড়॥
ভালের সিন্দুর     আধেক আছে     নয়ান আধ কাজল।
চাঁদ নিঙাড়িয়া     এমন করিয়া     কেবা নিলে এ সকল॥
কৃষ্ণপ্রসাদ কয়     যে বোলো সে হয়     ভালো ভুলাইলে কাজ।
সঙ্গের সঙ্গিনী     বঞ্চিতে নারিয়া     কিবা কর আর লাজ॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা ১০ম পল্লব, সংক্ষিপ্ত
রসোদ্গার, ২৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ললিত॥

আজু কেন হেন বাসি।
আঁখি ঢুলু ঢুলু                     ঘুমেতে আকুল
জাগিয়াছ বুঝি নিশি॥ ধ্রু॥
রসের ভরে                           অঙ্গ না ধরে
বসন পড়িছে খসি।
স্বরূপ করিয়া                      কহ না আমরা
মনের মরমী সখি॥
এক কহইতে                           আন কহিছ
বচন হইল হারা।
রসিয়ার সঙ্গে                      কিবা রস-রঙ্গে
সঙ্গ হইয়াছে পারা॥
ঘন ঘন তুমি                        মোড়িছ অঙ্গ
সঘনে নিশ্বাস ছাড়।
স্বরূপ করিয়া                     কেনে না কহসি
মরমে কপট কর॥
ভালের সিন্দুর                     আধেক আছে
নয়ানে আধ কাজল।
চান্দ নিঙ্গাড়িয়া                      এমন করিয়া
কেবা নিলে এ সকল॥
কৃষ্ণপ্রসাদ কয়                    যে বোল সে হয়
ভাল ভুলাইলে কাজ।
সঙ্গের সঙ্গিনী                      বঞ্চিতে নারিবা
কিবা কর আর লাজ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ ললিত॥

আজু কেন হেন বাসি।
আঁখি ঢুলু ঢুলু                        ঘুমেতে আকুল
জাগিয়াছ বুঝি নিশি॥
রসের ভরে                            অঙ্গ না ধরে
বসন পড়িছে খসি।
স্বরূপ করিয়া                        কহ না আমরা
মনের মরমী দাসী॥
এক কহইতে                             আন কহিছ
বচন হইল হারা।
রসিয়ার সঙ্গে                        কিবা রস রঙ্গে
সঙ্গ হইয়াছে পারা॥
ঘন ঘন তুমি                          মোড়িছ অঙ্গ
সঘনে নিশ্বাস ছাড়।
স্বরূপ করিয়া                        কেনে না কহসি
মরমে কপট কর॥
ভালের সিন্দুর                        আধেক আছে
নয়ানে আধ কাজল।
চান্দ নিঙ্গাড়িয়া                        এমন করিয়া
কেবা নিলে এ সকল॥
কৃষ্ণপ্রসাদ কয়                      যে বোল সে হয়
ভাল ভুলাইলে কাজ।
সঙ্গের সঙ্গিনী                        বঞ্চিতে নারিবা
কিবা কর আর লাজ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৯৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজু কেন হেন বাসি।                        
আঁখি ঢুলু ঢুলু ঘুমেতে আকুল                
জাগিয়াছ বুঝি নিশি॥
রসের ভরে অঙ্গ না ধরে                     
বসন পড়িছে খসি।
স্বরূপ করিয়া কহ না আমরা                
মনের মরমী দাসী॥
এক কহইতে আন কহিছ                    
বচন হইল হারা।
রসিয়ার সঙ্গে কিবা রস রঙ্গে                
সঙ্গ হইয়াছে পারা॥
ঘন ঘন তুমি মোড়িছ অঙ্গ                  
সঘনে নিশ্বাস ছাড়।
স্বরূপ করিয়া কেনে না কহসি                
মরমে কপট কর॥
ভালের সিন্দুর আধেক আছে                
নয়ানে আধ কাজল।
চান্দ নিঙ্গাড়িয়া এমন করিয়া                
কেবা নিলে এ সকল॥
কৃষ্ণপ্রসাদ কয় যে বোল সে হয়              
ভাল ভুলাইলে কাজ।
সঙ্গের সঙ্গিনী বঞ্চিতে নারিবা                
কিবা কর আর লাজ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ভালই সময় ছিল যখন শিশুমতি
ভণিতা কৃষ্ণপ্রসাদ / শ্রীকৃষ্ণ প্রসাদ
কবি কৃষ্ণপ্রসাদ
এই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও
বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ৪২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বাঙ্গাল শ্রীপ্রতিমণ্ঠক তালৌ॥

ভালই সময় ছিল যখন শিশুমতি। অন্তরে অনল এবে
পিরিতিকি রিতি॥ বাহিরে আনল নয় জল দিয়ে তায়।
শ্যাম প্রেমে দগদগি কি বলিব কায়॥ মনের মরম কথা সইরে
সে বলি। হিয়ার মাঝারে শ্যাম পরাণ পুতলি॥ ঘর কৈলু
বাহির বাহির কৈলু ঘর। দেখিবারে করি সাধ নহিস অন্তর॥
নিশ্বাস ছাড়িতে মোর নাহি অবসাদ। শ্রীকৃষ্ণ প্রসাদ কহে
পিরিতি প্রমাদ॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা ১১শ পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৯৪৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

ভালই সময় ছিল যখন শিশুমতি।
অন্তরে অনল জ্বলে পিরিতি-কিরিতি॥
বাহিরে অনল নহে জল দিব তায়।
শ্যাম-প্রেমে ধকধকি কি বলিব কায়॥
প্রাণসখি তোমারে সে বলি।
হিয়ার ভিতরে শ্যাম পরাণ-পুতলী॥
ঘর হৈতে বাহির হইয়ে নিরন্তর।
দেখিবারে সাধ করি নহি সতন্তর॥
মন ধকধক করে দিবস রজনী।
লোক মাঝে না থাকিয়ে রহি একাকিনী॥
নিশ্বাস ছাড়িতে মোর নাহি অবসর।
কৃষ্ণপ্রসাদ কহে পরমাদ বড়॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির
১৪|১২১-পদসংখ্যায়, “শিবানন্দ” ভণিতায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে
পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ শ্রীরাগ॥

ভালই সময় ছিল যখন শিশুমতি।
অন্তরে অনল ইবে পিরিতিক-রীতি॥
বাহিরে অনল নহে জল দিয়ে তায়।
শ্যাম-প্রেমে দগদগি কি করি উপায়॥
মনের মরম কথা তোমারে সে বলি।
হিয়ার মাঝারে শ্যাম পরাণ-পুতলী॥
দেখিবারে করি সাধ নহি সতন্তর।
ঘর কৈলুঁ বাহির বাহির কৈলুঁ ঘর॥
নিশ্বাস ছাড়িতে মোরে নাহি অবসাদ।
শিবানন্দ কহে এই পিরিতি প্রমাদ॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৪১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

ভালই সময় ছিল যখন শিশুমতি।
অন্তরে অনল জ্বলে পিরীতিক রীতি॥
বাহিরে অনল নহে জল দিব তায়।
শ্যাম-প্রেম ধকধকি কি বলিব কায়॥
প্রাণসখি তোমারে সে বলি।
হিয়ার ভিতরে শ্যাম পরাণ-পুতলী॥
ঘর হৈতে বাহির হইয়ে নিরন্তর।
দেখিবারে সাধ করি নহি সতন্তর॥
মন ধকধকি করে দিবস রজনী।
লোক মাঝে না থাকিয়ে রহি একাকিনী॥
নিশ্বাস ছাড়িতে মোর নাহি অবসর।
কৃষ্ণপরসাদ কহে পরমাদ বড়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ তুড়ী॥

ভালই সময় ছিল যখন শিশুমতি।
অন্তরে অনল জ্বলে পিরীতি কিরিতি॥
বাহিরে অনল নহে জল দিব তায়।
শ্যাম প্রেমে ধকধকি কি বলিব কায়॥
প্রাণসখি তোমারে সে বলি।
হিয়ার ভিতরে শ্যাম পরাণ-পুতলী॥
ঘর হৈতে বাহির হইয়ে নিরন্তর।
দেখিবারে সাধ করি নহি সতন্তর॥
মন ধক ধক করে দিবসরজনী।
লোক মাঝে না থাকিয়ে রহি একাকিনী॥
নিশ্বাস ছাড়িতে মোর নাহি অবসর।
কৃষ্ণ পরসাদ কহে পরমাদ বড়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৯৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ভালই সময় ছিল যখন শিশুমতি।
অন্তরে অনল জ্বলে পিরীতি কিরিতি॥
বাহিরে অনল নহে জল দিব তায়।
শ্যাম প্রেমে ধকধকি কি বলিব কায়॥
প্রাণসখি তোমারে সে বলি।
হিয়ার ভিতরে শ্যাম পরাণ পুতলী॥
ঘর হৈতে বাহির হইয়ে নিরন্তর।
দেখিবারে সাধ করি নহি সতন্তর॥
মন ধক ধক করে দিবসরজনী।
লোক মাঝে না থাকিয়ে রহি একাকিনী॥
নিশ্বাস ছাড়িতে মোর নাহি অবসর।
কৃষ্ণ পরসাদ কহে পরমাদ বড়॥


.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর