| মুরারি গুপ্ত ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী |
| সখি হে ফিরিয়া আপন ঘরে যাও ফিরিয়া আপন ঘরে যাও ভণিতা মুরারি গুপ্ত, মুরারী গুপত এই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত, বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”, ২৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিয়ারি রাগ রূপক তালাভ্যাং॥ সখি হে ফিরিয়া আপন ঘরে যাও। জিয়ন্তে মরিয়া যে বা আপনা খাইয়াছে তারে তুমি কি আর বুঝাও॥ নয়ান পুতলি করি লইলুঁ মোহন রূপ হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ। পিরিতি আগুনি জালি সকল পোড়াইয়াছি জাতি কুল শিল অভিমান॥ না জানিয়া মুঢ় লোকে কি জানি কি বোলে মোকে না করিয়ে শ্রবণ গোচরে। শ্রোত বিথার জলে এতনু ভাসাইয়াছি কি করিবে কুলের কুকুরে॥ খাইতে সুইতে নিতে আন না লয় চিতে বন্ধু বিনু মনে নাহি ভায়। মুরারি গুপতে কহে পিরিতি এমতি হইলে তার গুণ তিন লোকে গায়॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ৮ম পল্লব, অনুরাগে কুণ্ডে মিলন, ৭৫১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ সখি হে ফিরিয়া আপন ঘরে যাও। জিয়ন্তে মরিয়া যে আপনা খাইয়াছে তাহে তুমি কি আর বুঝাও॥ ধ্রু॥ নয়ন-পুতলী করি লইলুঁ মোহন রূপ হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ। পিরিতি আগুনি জ্বালি সকলি পোড়াইয়াছি জাতি কুল শীল অভিমান॥ না জানিয়া মুঢ় লোকে, কি জানি কি বলে মোকে না করিয়ে শ্রবণ গোচরে। স্রোত-বিথার জলে এ তনু ভাসাইয়াছি কি করিবে কুলের কুকুরে॥ খাইতে শুইতে রৈতে আন নাহি লয় চিতে বন্ধু বিনে আন নাহি ভায়। মুরারি গুপতে কহে পিরিতি এমতি হৈলে তার গুণ তিন লোকে গায়॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১২৪১-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ ধানশী॥ সখি হে ফিরিয়া আপন ঘরে যাও। জিয়ন্তে মরিল যে আপনা খাইল সে তাহে তুমি কি আর সুধাও॥ ধ্রু॥ নয়ন-পুতলী করি লইলুঁ মোহন রূপ হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ। পিরিতি আগুনি জ্বালি সকলি পোড়াইয়াছি জাতি কুল শীল অভিমান॥ না জানিয়া মুঢ় লোকে, কি জানি কি বলে মোকে না করিয়ে শ্রবণ গোচরে। স্রোত-বিথার জলে এ তনু ভাসাঞাছি কি করিবে কুলের কুকুরে॥ খাইতে শুইতে নিতে আন নাহি লয় চিতে বন্ধু বিনে আন নাহি ভায়। মুরারি গুপতে কহে এমন পিরিতি হৈলে তার যশ ত্রিজগতে গায়॥ এই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ১৪|২২-পদ-সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ ধানশী॥ সখি হে ফেরিয়া আপন ঘরে যাও। জিয়ন্তে মরিয়া যে আপনা খাইয়াছে তারে তুমি কি আর বুঝাও॥ ধ্রু॥ নয়ন-পুতলী করি লইয়াছি মোহন রূপ হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ। পিরিতি আগুনি জ্বালি সকলি পোড়াঞাছি জাতি কুল শীল অভিমান॥ না জানি মুঢ় লোকে, কি জানি কি বলে মোকে না করিয়ে শ্রবণ গোচরে। স্রোত-বিথার জলে এ তনু ভাসাঞাছি কি করিবে কুলের কুকুরে॥ খাইতে শুইতে পথে আন নাহিক চিতে বন্ধু বিনে মনে নাহি ভায়। মুরারি গুপতে কহে পিরিতি এমতি হৈলে তার গুণ তিন লোকে গায়॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ভাটিআরি॥ সখি হে ফিরিআ আপন ঘরে যাও॥ জিয়ন্তে মরিআ যে আপনা খআছে তারে তুমি কি আর বুঝাও॥ নয়ানপুথলি করি লইনু মোহন রূপ হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ। পিরিতি আনল জ্বালি সকলি পুড়িয়াছি জাতি কুল শীল অভিমান॥ না জানিএ মূঢ় লোকে কি জানি কি বলে মোকে না জানিএ ভুবনগোচরে। স্রোত বিথার জলে এ তনু ভাসিআছি কি করিবে কুলের কুকুরে॥ খাইতে সুইতে চিতে আন নাহি হেরি পথে বন্ধু বিনে আন নাহি ভায়। মুরারি গোপতে কহে পিরিতি এমতি হলে তার গুণ তিনলোকে গায়॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ১১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ সখি হে ফিরিয়া আপন ঘরে যাও। জিয়ন্তে মরিয়া যে, আপনা খাইয়াছে, তাহে তুমি কি আর বুঝাও॥ নয়ন পুতলী করি, লৈয়াছে মোহন রূপ, হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ। পিরীতি আগুন জ্বালি, সকলি পোড়াঞাছি, জাতি কুল শীল অভিমান॥ না জানিয়া মুঢ় লোকে, কি জানি জি বলে মোকে না করিয়ে শ্রবণ গোচরে। স্রোত বিথার জলে, এ তনু ভাসাঞাছি, কি করিবে কুলের কুকুরে॥ খাইতে শুইতে চিতে, আন নাহি হেরি পথে, বন্ধু বিনে আন নাহি ভায়। মুরারি গুপতে কহে, পিরীতি এমতি হৈলে, তার যশ তিন লোকে গায়॥ এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৫১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রূপানুরাগ ॥ শঙ্করাভরণ - দশকুশী॥ ফিরিয়া আপন ঘরে যাও। জীয়ন্তে মরিয়া যে আপনা খাইয়াছে তাহে তুমি কি আর বুঝাও॥ ধ্রু॥ নয়ন পুতলি করি লইয়াছি মোহন রূপ হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ। পিরিতি আগুনি জ্বালি সকলি পুড়াইয়াছি জাতি কুল শীল অভিমান॥ না জানিয়া মুঢ় লোকে কি জানি জি বলে মোকে না করিয়া শ্রবণ গোচরে। স্রোত বিথার জলে এ তনু ভাসাইয়াছি১ কি করিবে কুলের কুকুরে॥২ খাইতে শুইতে রইতে আন নাহি লয় চিতে বন্ধু বিনে আন নাহি ভায়৩। মুরারী গুপতে কহে পিরীতি এমতি হইলে তার গুণ তিন লোকে গায়॥ টীকা - ১। বিস্তৃত (বিথার) জলস্রোতে আমার এই দেহ ভাসাইয়াছি। ২। যখন বিস্তৃত স্রোতস্বিনীর মাঝখান দিয়া কোনও শব ভাসিয়া যায়, তখন কুলস্থিত কুকুর ইচ্ছা করে যে শবটিকে টানিয়া কুলে উঠায় ; কিন্তু তাহাদের সে মনোরথ যেমন পূর্ণ হয় না, তেমনি আমার এই জীয়ন্তে মরা দেহকে তোমরা কুলে ফিরাউয়া আনিতে চাহিলেও সে চেষ্টা বৃথা হইবে! কেননা আমি হা কৃষ্ণ বলিয়া অকুল পাথারে ভাসিয়াছি। ৩। আর কিছুই মনে আসে না। ---রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র, “শ্রীপদামৃতমাধুরী”॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ সখি হে ফিরিয়া আপন ঘরে যাও। জীয়ন্তে মরিয়া যে আপনা খাইয়াছে তাহে তুমি কি আর বুঝাও॥ ধ্রু॥ নয়ান পুতলী করি লইয়াছি মোহনরূপ হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ। পিরীতি আগুনি জ্বালি সকলি পোড়াঞাছি জাতি কুল শীল অভিমান॥ না জানিয়া মুঢ় লোকে কি জানি কি বলে মোকে না করিয়ে শ্রবণ গোচরে। স্রোত বিথার জলে এতনু ভাসায়াছি কি করিবে কুলের কুকুরে॥ খাইতে শুইতে চিতে আন নাহি হেরি চিতে বন্ধু বিনে আন নাহি ভায়। মুরারী গুপতে কহে পিরীতি এমন হৈলে তার গুণ তিন লোকে গায়॥ এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ১৪৭, ২৩১ ও ৩৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে সামান্য পাঠান্তর সহ। নিজোক্তি ॥ ভাটিয়ারি॥ সখি হে ফিরিয়া আপন ঘরে যাও। জীয়ন্তে মরিয়া যে আপনা খাইয়াছে তাহে তুমি কি আর বুঝাও॥ নয়ান পুতলি করি লৈঞাছি মোহন রূপ হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ। পিরীতি-আগুনি জ্বালি সকলি পোড়াঞাছি জাতি কুল শীল অভিমান॥ না জানিয়া মুঢ় লোকে কি জানি কি বলে মোকে না করিয়ে শ্রবণ গোচরে। স্রোত বিথার জলে এ তনু ভাসাঞাছি কি করিবে কুলের কুকুরে॥ খাইতে শুইতে রৈতে আন নাহি হেরি চিতে বন্ধু বিনে আন নাহি ভায়। মুরারি গুপতে কহে পিরীতি এমন হৈলে তার গুণ তিন লোকে গায়॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩য় তরঙ্গ, ২য় উচ্ছ্বাস, ১১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ সখি হে ফিরিয়া আপন ঘরে যাও। জিয়ন্তে মরিয়া যেই আপনারে খাইয়াছে তাহে তুমি কি আর বুঝাও॥ ধ্রু॥ নয়ান পুতলি করি লইনু মোহনরূপ হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ। পীরিতি-আগুন জ্বালি সকলি পুড়াইয়াছি জাতি-কুল-শীল-অভিমান॥ না জানিয়া মুঢ় লোকে কি জানি কি বলে মোকে না করিয়া শ্রবণ গোচরে। স্রোত বিথার জলে এ তনুটি ভাসায়েছি কি করিবে কুলের কুকুরে॥ যাইতে শুইতে রইতে আন নাহি লয় চিতে বন্ধু বিনা আর নাহি ভায়। মুরারি গুপতে কহে পীরিতি এমতি হয় তার গুণ তিন লোকে গায়॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ১১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। প্রিয় সখীর হিতোপদেশ শ্রবণ করিয়া শ্রীমতী দুঃখ করিয়া বলিতেছেন যে সখী ॥ রাগিণী সুহই - তাল কাটা সমতাল॥ সখা হে ফিরিয়া আপন ঘরে যাও। জীয়ন্তে মরিয়া যে, আপনা খাইয়াছে, তারে তুমি কি আর বুঝাও॥ ধ্রু॥ নয়ন পুতলী করি, লইয়াছি মোহন রূপ, হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ। পিরীতি আগুন জ্বালি, সকলি পোড়াঞাছি, জাতি কুলশীল অভিমান॥ না জানিয়া যে মুঢ় লোকে, কি জানি কি বলে মোকে, না করয়ে শ্রবণ গোচরে। স্রোত বিথার জলে, এ তনু ভাসাঞাছি, কি করিবে কুলের কুকুরে॥ খাইতে শুইতে রইতে, আন নাহি লয় চিতে, বঁধু বিনে আন নাহি ভায়। মুরারি গোপতে কহে, পিরীতি এমতি হৈলে, তার গুণ তিন লোকে গায়॥ এই পদটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা”, ২২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সখি হে ফিরিয়া আপন ঘরে যাও। জিয়ন্তে মরিয়া যে আপনা খাইয়াছে তাহে তুমি কি আর বুঝাও॥ নয়ন পুতলী করি লইলুঁ মোহন রূপ হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ। পিরিতি আগুন জ্বালি সকলি পোড়াইয়াছি জাতি কুল শীল অভিমান॥ না জানিয়া মুঢ় লোকে কি জানি কি বলে মোকে না করিয়ে শ্রবণ গোচরে। স্রোত বিথার জলে এ তনু ভাসাইয়াছি কি করিবে কুলের কুকুরে॥ খাইতে শুইতে রৈতে আন নাহি লয় চিতে বন্ধু বিনে আন নাহি ভায়। মুরারি গুপতে কহে পিরিতি এমতি হৈলে তার গুণ তিন লোকে গায়॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আক্ষেপানুরাগ ॥ তথারাগ॥ সখি হে ফিরিয়া আপন ঘরে যাও। জিয়ন্তে মরিয়া যেই আপনারে খাইয়াছে তারে তুমি কি আর বুঝাও॥ ধ্রু॥ নয়ান পুতলি করি লইনু মোহনরূপ হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ। পিরীতি-আগুন জ্বালি সকলি পুড়াইয়াছি জাতি-কুল-শীল-অভিমান॥ না জানিয়া মুঢ় লোকে কি জানি কি বলে মোকে না করিয়ে শ্রবণ গোচরে। স্রোত বিথার জলে এ তনু ভাসায়েছি কি করিবে কুলের কুকুরে॥ খাইতে শুইতে রইতে আন নাহি লয় চিতে বন্ধু বিনা আন নাহি ভায়। মুরারি গুপতে কহে পিরীতি এমতি হৈলে তার গুণ তিন লোকে গায়॥ এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সখি হে ফিরিয়া আপন ঘরে যাও। জিয়ন্তে মরিয়া যেই আপনারে খাইয়াছে তারে তুমি কি আর বুঝাও॥ নয়ান পুতলি করি লইনু মোহনরূপ হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ। পীরিতি-আগুন জ্বালি সকলি পুড়াইয়াছি জাতি কুল শীল অভিমান॥ না জানিয়া মুঢ় লোকে কি জানি কি বলে মোকে না করিয়া শ্রবণ গোচরে। স্রোতবিথার জলে এ তনুটী ভাসায়েছি কি করিবে কুলের কুকুরে॥ যাইতে শুইতে রইতে আন নাহি লয় চিতে বন্ধু বিনা আন নাহি ভায়। মুরারি গুপতে কহে পীরিতি এমতি হয় তার গুণ তিলেকে গায়॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”, ১০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সখী হে ফিরিয়া আপন ঘরে যাও। জিয়ন্তে মরিয়া যে আপনা খাইয়াছে তাহে তুমি কি আর বুঝাও॥ ধ্রু॥ নয়ান পুতলী করি লইলুঁ মোহনরূপ হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ। পিরীতি আগুনি জ্বালি সকলি পোড়াইয়াছি জাতি-কুল-শীল অভিমান॥ না জানিয়া মুঢ় লোকে কি জানি কি বলে মোকে না করিয়ে শ্রবণ গোচরে। স্রোত-বিথার জলে এ তনু ভাসাইয়াছি কি করিবে কুলের কুকুরে॥ খাইতে শুইতে রইতে আন নাহি লয় চিতে বন্ধু বিনে আন নাহি ভায়। মুরারী গুপতে কহে পিরিতি এমতি হৈলে তার গুণ তিন লোকে গায়॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”, ১১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ সখি হে, ফিরিয়া আপন ঘরে যাও। জিয়ন্তে মরিয়া যে আপনা খাইয়াছে তাহে তুমি কি আর বুঝাও॥ ধ্রু॥ নয়ন-পুতলী করি লইলুঁ মোহন রূপ হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ। পিরিতি আগুনি জ্বালি সকলি পোড়াইয়াছি জাতি কুল শীল অভিমান॥ না জানিয়া মুঢ় লোকে কি জানি কি বলে মোকে না করিয়ে শ্রবণ গোচরে। স্রোত বিথার জলে এ তনু ভাসায়াছি কি করিবে কুলের কুকুরে॥ খাইতে শুইতে রৈতে আন নাহি লয় চিতে বন্ধু বিনে আন নাহি ভায়। মুরারি গুপতে কহে পিরিতি এমতি হৈলে তার গুণ তিন লোকে গায়॥ এই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ১০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সখি হে ফিরিয়া আপন ঘরে যাও। জিয়ন্তে মরিয়া যে আপনা খাইয়াছে তাহে তুমি কি আর বুঝাও॥ নয়ন-পুতলি করি লইলুঁ মোহন রূপ হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ। পিরিতি আগুনি জ্বালি সকলি পোড়াইয়াছি জাতি কুল শীল অভিমান॥ না জানিয়া মুঢ় লোকে কি জানি কি বলে মোকে না করিয়ে শ্রবণ গোচরে। স্রোত-বিথার জলে এ তনু ভাসাইয়াছি কি করিবে কুলের কুকুরে॥ খাইতে শুইতে নিতে আন নাহি লয় চিতে বন্ধু বিনে আন নাহি ভায়। মুরারি গুপতে কহে পিরিতি এমতি হৈলে তার গুণ তিন লোক গায়॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সখি হে ফিরিয়া আপন ঘরে যাও। জিয়ন্তে মরিয়া যেই আপনারে খাইয়াছে তারে তুমি কি আর বুঝাও॥ নয়ান পুতলি করি লইনু মোহনরূপ হিয়ার মাঝারে করি প্রাণ। পিরীতি আগুন জ্বালি সকলি পুড়াইয়াছি জাতি-কুল-শীল-অভিমান॥ না জানিয়া মুঢ় লোকে কি জানি কি বলে মোকে না করিয়ে শ্রবণ গোচরে। স্রোত বিথার জলে এ তনু ভাসায়েছি কি করিবে কুলের কুকুরে॥ খাইতে শুইতে রইতে আন নাহি লয় চিতে বন্ধু বিনা আন নাহি ভায়। মুরারি গুপতে কহে পিরীতি এমন হৈলে তার গুণ তিন লোকে গায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সখি হে কেন গোরা নিঠুরাই মোহে সখি হে গোরা কেন নিঠুরাই মোহে ভণিতা মুরারি গুপ্ত এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩য় তরঙ্গ, ২য় উচ্ছ্বাস, ১১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ সখি হে কেন গোরা নিঠুরাই মোহে। জগতে করিল দয়া দিয়া সেই পদছায়া বঞ্চল এ অভাগিরে কাহে॥ ধ্রু॥ গৌরপ্রেমে সঁপি প্রাণ জিউ করে আনচান স্থির হৈয়া রইতে নারি ঘরে। আগে যদি জানিতাম পীরিতি না করিতাম যাচিঞা না দিতু প্রাণ পরে॥ আমি ঝুরি যার তরে সে যদি না চায় ফিরে এমন পীরিতে কিবা সুখ। চাতক সলিল চাহে বজর ক্ষেপিলে তাহে যায় ফাটি যায় কিনা বুক॥ মুরারি গুপত কয় পীরিতি সহজ নয় বিশেষে গৌরাঙ্গ প্রেমের জ্বালা। কুল মান সব ছাড় চরণ আশ্রয় কর তবে সে পাইবা শচীর বালা॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আক্ষেপানুরাগ ॥ সুহই॥ সখি হে গোরা কেন নিঠুরাই মোহে। জগতে করিল দয়া দিয়া সেই পদছায়া বঞ্চল এ অভাগীরে কাহে॥ ধ্রু॥ গৌরপ্রেমে সঁপি প্রাণ জিউ করে আনচান স্থির হৈয়া রইতে নারি ঘরে। আগে যদি জানিতাম পিরীতি না করিতাম যাচিঞা না দিতু প্রাণ পরে॥ আমি ঝুরি যার তরে সে যদি না চার১ ফিরে এমন পিরীতে কিবা সুখ। চাতক সলিল চাহে বজর ক্ষেপিলে তাহে যায় ফাটি যায় কিনা বুক॥ মুরারি গুপত কয় পিরিীতি সহজ নয় বিশেষে গৌরাঙ্গ-প্রেমের জ্বালা। কুল মান সব ছাড় চরণ আশ্রয় কর তবে সে পাইবা শচীর বালা॥ ১। “চার” - সম্ভবত “চায়” হবে। মুদ্রণ প্রমাদ হতে পারে। এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সখি হে গোরা কেন নিঠুরাই মোহে। জগতে করিল দয়া দিয়া সেই পদছায়া বঞ্চল এ অভাগীরে কাহে॥ গৌর প্রেমে সঁপি প্রাণ জিউ করে আনচান স্থির হৈয়া রৈতে নারি ঘরে। আগে যদি জানিতাম পীরিতি না করিতাম যাচিঞা না দিতু প্রাণ পরে॥ আমি ঝুরি যার তরে সে যদি না চায় ফিরে এমন পীরিতি কিবা সুখ। চাতক সলিল চাহে বজর ক্ষেপিলে তাহে যায় ফাটি যায় কিনা বুক॥ মুরারি গুপত কয় পীরিতি সহজ নয় বিশেষে গৌরাঙ্গ প্রেমের জ্বালা। কুলমান সব ছাড় চরণ আশ্রয় কর তবে সে পাইবা শচীর বালা॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সখি হে গোরা কেন নিঠুরাই মোহে। জগতে করিল দয়া দিয়া সেই পদছায়া বঞ্চল এ অভাগীরে কাহে॥ গৌরপ্রেমে সঁপি প্রাণ জিউ করে আনচান স্থির হৈয়া রইতে নারি ঘরে। আগে যদি জানিতাম পিরীতি না করিতাম যাচিঞা না দিতু প্রাণ পরে॥ আমি ঝুরি যার তরে সে যদি না চায় ফিরে এমন পিরীতে কিবা সুখ। চাতক সলিল চাহে বজর ক্ষেপিলে তাহে যায় ফাটি যায় কিনা বুক॥ মুরারি গুপত কয় পিরিীতি সহজ নয় বিশেষে গৌরাঙ্গ প্রেমের জ্বালা। কুল মান সব ছাড় চরণ আশ্রয় কর তবে সে পাইবা শচীর বালা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দণ্ডে দণ্ডে তিনে তিলে গোরারূপ না দেখিলে ভণিতা মুরারি গুপ্ত এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৪৬৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রূপানুরাগ শ্রীগৌরচন্দ্র ॥ কামোদ - বড় দশকুশী॥ দণ্ডে দণ্ডে তিনে তিলে গোরারূপ না দেখিলে মরমে মরিয়া যন থাকি। সাধ হয় নিরন্তর হেমকান্তি কলেবর হিয়ার মাঝারে সদা রাখি॥ তিলে না দেখিলে তায় পাঁজর ধসিয়ে যায় ধৈরয ধরিতে নাহি পারি। অনুরাগের ডুব দিয়া অন্তরে কি করে সিয়া না জানি তার কতই ধার ধারি॥ সুরধুনি তীরে যাইয়া কুল দিব ভাসাইয়া অনল জ্বালাইয়া দিব লাজে। গৌরাঙ্গ সম্মুখে করি দেখিব নয়ন ভরি দিন গেল মিছামিছি কাজে॥ হাম নারী কুলবালা গৌরাঙ্গ কলঙ্ক-মালা গলায়ে পরিতে সাধ লাগে। মুরারি গুপতে বলে ভাল দাগে দাগা দিলে গুপক গৌরাঙ্গ-অনুরাগে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |