| মুরারি ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী |
| ধর ধর ধর ধর রে নিতাই ধর ধর ধর রে নিতাই ভণিতা মুরারি এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৩৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ ধর ধর ধর ধর রে নিতাই আমার গৌরাঙ্গ ধর। আছাড়-সময়ে অনুজ বলিয়া বারেক করুণা কর॥ ধ্রু॥ আচার্য্য গোসাঞি দেখিহ নিমাই আমার আঁখির তারা। না জানি কি খেণে নাচিতে কীর্ত্তনে পরাণে হইব হারা॥ শুনহ শ্রীবাস কব়্যাছে সন্ন্যাস ভুমি-তলে গড়ি যায়। সোণার বরণ ননীর পুতলী বেথা না লাগয়ে গায়॥ শুন ভক্তগণ রাখহ কীর্ত্তন হইল অধিক নিশা। কহয়ে মুরারি শুন গৌরহরি দেখহ মায়ের দশা॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৩৪০-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ সুহই॥ ধর ধর ধর ধর ধর রে নিতাই আমার গৌরাঙ্গ ধর। আছাড়-সময়ে অনুজ বলিয়া বারেক করুণা কর॥ ধ্রু॥ আচার্য্য গোসাঞি দেখিহ নিতাই আমার নয়ন তারা। না জানি কখনে নাচিতে কীর্ত্তনে পরাণে হইব হারা॥ শুনহ শ্রীবাস কব়্যাছে সন্ন্যাস ভুমি-তলে গড়ি যায়। সোণার বরণ ননীর পুতলী বেথা না লাগয়ে গায়॥ শুন ভক্তগণ রাখহ কীর্ত্তন হইল অধিক নিশা। কহয়ে মুরারি শুন গৌরহরি দেখহ মায়ের দশা॥ এই পদটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত, মহানামশুক নবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ জয়জয়ন্তী - দোঠুকী॥ ধর ধর ধর, ধর রে নিতাই, আমার গৌরাঙ্গ ধর। আছাড় সময়ে, অনুজ বলিয়া, বারেক করুণা কর॥ আচার্য্য গোঁসাঞি, দেখিহ নিমাই, আমার আঁখির তারা। না জানি কিখেণে, নাচিতে কি মেনে, পরাণে হইব হারা॥ শুনহ শ্রীবাস, কব়্যাছে সন্ন্যাস, ভুমিতলে গড়ি যায়। সোণার বরণ, ননীর পুতলি, কোথা না লাগয়ে গায়॥ শুন ভক্তগণ, রাখহ কীর্ত্তন, হইল অধিক নিশা। কহয়ে মুরারি, শুন গৌরহরি, দেখহ মায়ের দশা॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৫ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছ্বাস, ২৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রামকেলি বা তুড়ী॥ ধর ধর ধর রে নিতাই আমার গৌরে ধর। আছাড় সময়ে অনুজ বলিয়া বারেক করুণা কর॥ ধ্রু॥ আচার্য্য গোঁসাঞি, দেখিও নিতাই, আমার আঁখির তারা। না জানি কি ক্ষণে, নাচিতে কীর্ত্তনে, পরাণে হইব হারা॥ শুনহ শ্রীবাস, কৈরাছে সন্ন্যাস, ভুমিতলে গড়ি যায়। সোনার বরণ, ননীর পুতলি, ব্যথা না লাগয়ে গায়॥ শুন ভক্তগণ, রাখহ কীর্ত্তন, হইল অধিক নিশা। কহয়ে মুরারি, শুন গৌরহরি, দেখহ মায়ের দশা॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ॥ রামকেলি বা তুড়ী॥ ধর ধর ধর রে নিতাই আমার গৌরে ধর। আছাড় সময়ে অনুজ বলিয়া বারেক করুণা কর॥ ধ্রু॥ আচার্য্য গোসাঁঞি, দেখিও নিমাই, আমার আঁখির তারা। না জানি কি ক্ষণে, নাচিতে কীর্ত্তনে, পরাণে হইব হারা॥ শুনহ শ্রীবাস, কৈরাছে সন্ন্যাস, ভুমিতলে গড়ি যায়। সোনার বরণ, ননীর পুতলি, ব্যথা না লাগয়ে গায়॥ শুন ভক্তগণ, রাখহ কীর্ত্তন, হইল অধিক নিশা। কহয়ে মুরারি, শুন গৌরহরি, দেখহ মায়ের দশা॥ এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে খণ্ডিত ও ভণিতাহীন অবস্থায় দেওয়া রয়েছে। ধর ধর রে নিতাই আমার গৌরে ধর। আছাড় সময়ে অনুজ বলিয়া বারেক করুণা কর॥ আচার্য্য গোসাঁই, দেখিও নিতাই, আমার আঁখির তারা।১ শুনহ শ্রীবাস, কৈরাছে সন্ন্যাস ভুমিতলে গড়ি যায়। সোনার বরণ ননীর পুতলি ব্যথা না লাগয়ে গায়॥ শুন ভক্তগণ রাখহ কীর্ত্তন হইল অধিক নিশা। কহয়ে মুরারি শুন গৌরহরি দেখহ মায়ের দশা॥ ১। এর পরের কলিটি এই গ্রন্থে নেই। এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রামকেলি - লোফা॥ ধর ধর ধররে নিতাই আমার গৌরাঙ্গ ধর। আছাড়-সময়ে অনুজ বলিয়া বারেক করুণা কর॥ ধ্রু॥ আচার্য্য গোসাঞি দেখিহ নিমাই আমার আঁখির তারা। না জানি কি খেণে নাচিতে কীর্ত্তনে পরাণে হইব হারা॥ শুনহ শ্রীবাস কব়্যাছে সন্ন্যাস ভুমিতলে গড়ি যায়। সোণার বরণ ননীর পুতলী বেথা না লাগয়ে গায়॥ শুন ভক্তগণ রাখহ কীর্ত্তন হইল অধিক নিশা। কহয়ে মুরারি শুন গৌর হরি দেখহ মায়ের দশা॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ধর ধর ধর রে নিতাই আমার গৌরে ধর। আছাড় সময়ে অনুজ বলিয়া বারেক করুণা কর॥ আচার্য্য গোসাঁঞি দেখিও নিমাই আমার আঁখির তারা। না জানি কি ক্ষণে নাচিতে কীর্ত্তনে পরাণে হইব হারা॥ শুনহ শ্রীবাস কৈরাছে সন্ন্যাস ভুমিতলে গড়ি যায়। সোনার বরণ ননীর পুতলি ব্যথা না লাগয়ে গায়॥ শুন ভক্তগণ রাখহ কীর্ত্তন হইল অধিক নিশা। কহয়ে মুরারি শুন গৌরহরি দেখহ মায়ের দশা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| শচীর আঙ্গিনা মাঝে ভুবনমোহন সাজে ভণিতা মুরারি এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২য় তরঙ্গ, ২য় উচ্ছ্বাস, ৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ শচীর আঙ্গিনা মাঝে ভুবনমোহন সাজে গোরাচাঁদ দেয় হামাগুড়ি। মায়ের অঙ্গুলি ধরি ক্ষণে চলে গুড়ি গুড়ি আছাড় খাইয়া যায় পড়ি॥ বাঘনখ গলে দোলে বুক ভাসি যায় লোলে চাঁদমুখে হাসির বিজুলি। ধূলামাখা সর্ব্ব গায় সহিতে কি পারে মায় বুকের উপরে লয় তুলি॥ কাঁদিয়া আকুল তাতে নামে গোরা কোল হৈতে পুন ভূমে দেয় গড়াগড়ি। হাসিয়া মুরারি বোলে এ নহে কোলের ছেলে সন্ন্যাসী হইবে গৌরহরি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পাহিড়া॥ শচীর আঙ্গিনা মাঝে ভুবনমোহন সাজে গোরাচাঁদ দেয় হামাগুড়ি। মায়ের অঙ্গুলি ধরি ক্ষণে চলে গুড়ি গুড়ি আছাড় খাইয়া যায় পড়ি॥ বাঘনখ গলে দোলে বুক ভাসি যায় লালে চাঁদমুখে হাসির বিজুলি। ধূলামাখা সর্ব্ব গায় সহিতে কি পারে মায় বুকের উপরে লয় তুলি॥ কাঁদিয়া আকুল তাতে নামে গোরা কোল হৈতে পুন ভূমে দেয় গড়াগড়ি। হাসিয়া মুরারি বোলে এ নহে কোলের ছেলে সন্ন্যাসী হইবে গৌরহরি॥ এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শচীর আঙ্গিনা মাঝে ভুবন মোহন সাজে গোরাচাঁদ দেয় হামাগুড়ি। মায়ের অঙ্গুলি ধরি ক্ষণে চলে গুড়ি গুড়ি আছাড় খাইয়া যায় পড়ি॥ বাঘনখ গলে দোলে বুক ভাসি যায় লোলে চাঁদমুখে হাসির বিজুলি। ধূলামাখা সর্ব্বগায় সহিতে কি পারে মায় বুকের উপরে লয় তুলি॥ কাঁদিয়া আকুল তাতে নামে গোরা কোল হৈতে পুন ভূমে দেয় গড়াগড়ি। হাসিয়া মুরারি বোলে এ নহে কোলের ছেলে সন্ন্যাসী হইবে গৌরহরি॥ এই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শচীর আঙ্গিনা মাঝে ভুবনমোহন সাজে গোরাচাঁদ দেয় হামাগুড়ি। মায়ের অঙ্গুলি ধরি ক্ষণে চলে গুড়ি গুড়ি আছাড় খাইয়া যায় পড়ি॥ বাঘনখ গলে দোলে বুক ভাসি যায় লালে চাঁদমুখে হাসির বিজুলি। ধূলামাখা সর্বগায় সহিতে কি পারে মায় বুকের উপরে লয় তুলি॥ কাঁদিয়া আকুল তাতে নামে গোরা কোল হৈতে পুন ভূমে দেয় গড়াগড়ি। হাসিয়া মুরারি বোলে এ নহে কোলের ছেলে সন্ন্যাসী হইবে গৌরহরি॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শচীর আঙ্গিনা মাঝে ভুবনমোহন সাজে গোরাচাঁদ দেয় হামাগুড়ি। মায়ের অঙ্গুলি ধরি ক্ষণে চলে গুড়ি গুড়ি আছাড় খাইয়া যায় পড়ি॥ বাঘনখ গলে দোলে বুক ভাসি যায় লালে চাঁদমুখে হাসির বিজুলি। ধূলামাখা সর্ব্ব গায় সহিতে কি পারে মায় বুকের উপরে লয় তুলি॥ কাঁদিয়া আকুল তাতে নামে গোরা কোল হৈতে পুন ভূমে দেয় গড়াগড়ি। হাসিয়া মুরারি বোলে এ নহে কোলের ছেলে সন্ন্যাসী হইবে গৌরহরি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| তপন-কিরণে যদি অঙ্কুর দগধল ভণিতা মুরারি এই পদটি, বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা- গীতচিন্তামণি”, চতুর্বিংশ ক্ষণদা, শুক্লা নবমী, ১৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ি॥ তপন-কিরণে যদি অঙ্কুর দগধল কি করব জল-অভিষেকে। দুখ-ভরে প্রাণ বাহিরে যদি নিকসব কি করব ঔষধ-বিশেখে॥ মানিনি! অতএ সমাপহুঁ মান। মৃদু মৃদু ভাষে সম্ভাষহ বর-তনু এক বের দেহ জিউ দান॥ সুন্দর বদনে বিহসি বর-ভামিনি রচহ মনোহর বাণী। কুচ-কনয়া-গিরি মধি গহি রাখহ নিজ ভুজে আপনা জানি॥ অধর-সুধা-রস- পান দেহ সখি হৃদয় জুড়াওহ মোর। তুয়া মুখ-ইন্দু উদয় হেরি বিলসঙ তিরপিত নয়ন-চকোর॥ নিজ গুণ হেরি পরকো দোখ পরিহরি তেজহ হৃদয়কো রোখ। ভণই মুরারি প্রাণপতি-সঙ্গিনি পুরুষ-বধ বহু দোখ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীরাধার মান শ্রীকৃষ্ণের উক্তি ॥ বরাড়ি॥ তপন-কিরণে যদি অঙ্কুর দগধল কি করব জল অভিষেকে? দুখভরে প্রাণ বাহিরে যদি নিকসব কি করব ঔষধ বিশেখে॥ মানিনি! অতএ সমাপহ মান। মৃদু মৃদু-ভাষে, সম্ভাষহ বরতনু এক বেরি দেহ জিউদান॥ সুন্দর বদনে- বিহসি, বরভামিনি রচহ মনোহর-বাণী। কুচ-কনয়া-গিরি মাঝ গহি রাখহ নিজভুজে আপনা জানি॥ অধর-সুধা-রস পান দেহ সখি হৃদয় জুড়াওহ মোর। তুয়ামুখ-ইন্দু উদয় হেরি, বিলসউ তিরপিত নয়ন-চকোর॥ নিজগুণ হেরি, পরকো দোখ পরিহরি তেজহ হৃদয় কো রোখ। ভনই মুরারি, প্রাণপতি সঙ্গিনি পুরুষ-বধ বহু দোখ॥ এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৫১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ি - একতালা॥ তপন কিরণে যদি অঙ্কুর দগধল কি করব জল অভিষেকে। দুঃখ-ভরে প্রাণ, বাহিরে যদি নিকসব, কি করব ঔষধ বিশেখে॥ মানিনি! অতএ সমাপহ মান। মৃদু মৃদু ভাষে, সম্ভাষহ বরতনু, একবের দেহ জিউদান॥ সুন্দর বদনে, বিহসি বর-ভামিনি, রচহ মনোহর বাণী। কুচ কনয়া গিরি মাঝ গহি রাখহ নিজভুজে আপনা জানি॥ অধর সুধা রস পান দেহ সখি, হৃদয় জুড়াওহ মোর। তুয়া মুখ ইন্দু উদয় হেরি বিলসঙ, তিরখিত নয়ন-চকোর॥ নিজগুণ হেরি, পরক দোখ পরিহরি, তেজহ হৃদয়ক রোখ। ভনই মুরারি, প্রাণ পতি সঙ্গিনি, পুরুষ-বধ বহু দুখ॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তপন কিরণে যদি অঙ্কুর দগধল কি করব জল অভিষেকে? দুখভরে প্রাণ বাহিরে যদি নিকসব কি করব ঔষধ বিশেখে॥ মানিনি অতএ সমাপহ মান। মৃদু মৃদু ভাষে সম্ভাষহ বরতনু এক বেরি দেহ জিউদান॥ সুন্দর বদনে-বিহসি বরভামিনি রচহ মনোহর বাণী। কুচ কনয়া গিরি মাঝ গহি রাখহ নিজভুজে আপনা জানি॥ অধর সুধা রস পান দেহ সখি হৃদয় জুড়াওহ মোর। তুয়ামুখ ইন্দু উদয় হেরি বিলসউ তিরপিত নয়ন চকোর॥ নিজগুণ হেরি পরকো দোখ পরিহরি তেজহ হৃদয় কো রোখ। ভনই মুরারি প্রাণপতি সঙ্গিনি পুরুষ বধ বহু দোখ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| রসবতী হোই রসিক-জন-লালস ভণিতা মুরারি এই পদটি, বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা- গীতচিন্তামণি”, ৯ম ক্ষণদা, কৃষ্ণা নবমী, ৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ আহ। ॥ সুহই॥ রসবতী হোই রসিক-জন-লালস যদি নাহি পূরবি রামা। গুণগণ তেজি দোখ যব্ সঞ্চরু তব্ কৈছে গুণবতী নামা॥ মানিনি! মোহে তেজসি কথি লাগি। একু হৃদয় তুয়া রস-সিন্ধু নিমজনু কত কত যামিনী জাগি॥ ধ্রু॥ পহিল মিলনে তুয়া সরস হৃদয় ছিল এবে ভেল অতি কঠিনাই। কঠিন পয়োধর সঙ্গে কঠিন ভেল সঙ্গ-দোষ নাহি যাই॥ যার লাগি নয়ন শাঙণ-ঘন বরিখয়ে নিশি দিশি অন্তরে রাধা। তাকর মনে যব্ করুণা না উপজব তব্ জীবনে কিয়ে সাধা॥ ও মৃদু বচন মধুর-অমিয়া-নিধি অন্তরে খেলই মোর। ভণই মুরারি প্রাণপতি-সঙ্গিণী ইহ তনু জীবন তোর॥ এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, ৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুই॥ রসবতী ইহ রসিক জন মানয় যদি না পূরিব রামা। গুণ গণ ত্যেজি দোষ সব সঞ্চরু তব কৈছে গুণবতী নামা॥ মানিনী মোহে ত্যেজসি কতি লাগি। এক তুয়া রস সিন্ধু নিমজনু কত২ যামিনী জাগি॥ ধ্রু॥ পহিল মিলনে @@ হৃদয় ছিল এবে হইল অতি কঠিনাই। কঠিন পয়োধর সঙ্গে কঠিন ভেল সঙ্গ দোষ নাহি যাই॥ যা লাগি নয়ন শায়ন ঘন বরিখয়ে নিশি দিশি অন্তরে রাধা। তাকর মনে যদি করুণা না উপজব তব কিয়ে জীবন সাধা॥ এদুয় চরণ অমিয়া নিধি মন্থত অন্তরে লেখই মোর। ভণই মুরারি প্রাণপতি ইহ তনু জীবন তোর॥ @@ - অপাঠ্য অক্ষর। . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হরষিত অন্তর চলু বরনাগর ভণিতা মুরারী এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন- মালা”, ৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। নায়কের অভিসার। ॥ গুর্জ্জরী॥ হরষিত অন্তর, চলু বরনাগর, হেরইতে রঙ্গিনী রাধা। সুন্দরী পাশ যব, সুন্দর মিলল, পূরল সব মন সাধা॥ দোঁহে দোঁহে হেরি বিভোর। দুঁহু জন বয়ানে, বাত নাহি ফুরই, ঢরকই নঅল কিশোর॥ ধ্রু॥ বৈঠলি সুবদনি, নোরে মহী পূরল, কান বৈঠল তছু পাশ। ধরইতে করহি, করে ধনী বারই, লাজে কহত নাহি ভাষ॥ পিবইতে চকোর, সুধারস মাধুরী, মেঘে ঝাপিল জনু চন্দ। ভণয়ে মুরারী প্রাণপতি সঙ্গিনী. দিনে দিনে ভাঙ্গব ধন্দ॥ এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ১৩০- পৃষ্ঠায় এইরূপে খণ্ডিত ভণিতাহীন অবস্থায় দেওয়া রয়েছে। পদের নীচে (মুরারি) উল্লেখ করা রয়েছে। ॥ গুর্জ্জরী॥ হরষিত অন্তর চলু বর নাগর হেরইতে রঙ্গিনী রাধা। সুন্দরী-পাশ যব সুন্দর মিলল পূরল সব মন সাধা॥ দোঁহে দোঁহা হেরি বিভোর। দুঁহু জন বয়ানে বাত নাহি ফুরই ঢরকই নওল কিশোর॥ বৈঠলি সুবদনী লোরে মহী পূরল কান বৈঠল তছু পাশ। (মুরারি) . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |