মুরারি ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী
*
প্রেমাবেশে প্রভুরে রাখিয়া শান্তিপুরে
প্রভুরে রাখিয়া শান্তিপুরে
ভণিতা মুরারি
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, ২২৩১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ সুহই॥

প্রেমাবেশে প্রভুরে রাখিয়া শান্তিপুরে।
নিত্যানন্দ প্রভু আইলা নদীয়া নগরে॥
ভাবিয়া শচীর দুখ নিত্যানন্দ রায়।
পথ মাঝে অবনীতে গড়াগড়ি যায়॥
ক্ষণেকে সম্বরি নিতাই আইলেন ঘরে।
শুনি শচী ঠাকুরাণী আইলা বাহিরে॥
দাড়াঞা মায়ের আগে ছাড়য়ে নিশ্বাস।
প্রাণ বিদরয়ে ভাইয়ের কহিতে সন্ন্যাস॥
সন্ন্যাস করিয়া গৌর আইলা শান্তিপুরে।
আমারে পাঠাঞা দিল তোমা লইবারে॥
শচী কান্দে নিতাই কান্দে নদীয়া-নিবাসী।
সভারে ছাড়িয়া নিমাই হইলা সন্ন্যাসী॥
কহয়ে মুরারি গোরাচাঁদ না দেখিলে।
নিশ্চয় মরিব প্রবেশিব গঙ্গা-জলে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৩৩৭-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ সুহই॥

প্রেমাবেশে প্রভুরে রাখিয়া শান্তিপুরে।
নিত্যানন্দ প্রভু আইলা নদীয়া নগরে॥
ভাবিয়া শচীর দুখ নিত্যানন্দ রায়।
পথ মাঝে অবনীতে গড়াগড়ি যায়॥
ক্ষণেকে সম্বরি নিতাই আইলেন ঘরে।
শুনি শচী ঠাকুরাণী আইলা বাহিরে॥
দাড়াঞা মায়ের আগে ছাড়য়ে নিশ্বাস।
প্রাণ বিদরয়ে ভাইয়ের কহিতে সন্ন্যাস॥
সন্ন্যাস করিয়া গৌর আইলা শান্তিপুরে।
আমারে পাঠাঞা দিল তোমা লইবারে॥
শচী কান্দে নিতাই কান্দে নদীয়া-নিবাসী।
সভারে ছাড়িয়া নিমাই হইলা সন্ন্যাসী॥
কহয়ে মুরারি গোরাচাঁদ না দেখিলে।
নিশ্চয় মরিব প্রবেশিব গঙ্গা-জলে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ১১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই রাগ - লোফা॥

প্রেমাবেশে প্রভুরে রাখিয়া শান্তিপুরে।
নিত্যানন্দ প্রভু আইলা নদীয়া নগরে॥
ভাবিয়া শচীর দুখ নিত্যানন্দ রায়।
পথ মাঝে অবনীতে গড়াগড়ি যায়॥
ক্ষণেকে সম্বরি নিতাই আইলেন ঘরে।
শুনি শচী ঠাকুরাণী আইলা বাহিরে॥
দাড়াঞা মায়ের আগে ছাড়য়ে নিশ্বাস।
প্রাণ বিদরয়ে ভাইয়ের কহিতে সন্ন্যাস॥
সন্ন্যাস করিয়া গৌর আইলা শান্তিপুরে।
আমারে পাঠায়্যা ছিলা তোমা লইবারে॥
শচী কান্দে নিতাই কান্দে নদীয়া নিবাসী।
সবারে ছাড়িয়া নিমাই হইলা সন্ন্যাসী॥
কহয়ে মুরারী গোরাচান্দ না দেখিলে।
নিশ্চয় মরিব প্রবেশিব গঙ্গাজলে॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৪৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

প্রেমাবেশে প্রভুরে রাখিয়া শান্তিপুরে।
নিত্যানন্দ প্রভু আইলা নদিয়া নগরে॥
ভাবিয়া শচীর দুঃখ নিত্যানন্দ রায়।
পথমাঝে অবনীতে গড়াগড়ি যায়॥
ক্ষণেক সম্বরি নিতাই আইলেন ঘরে।
শুনি শচী ঠাকুরাণী আইলা বাহিরে॥
দাড়াঞা মায়ের আগে ছাড়য়ে নিশ্বাস।
প্রাণ বিদরয়ে ভাইয়ের কহিতে সন্ন্যাস॥
সন্ন্যাস করিয়া গৌর আইলা শান্তিপুরে।
আমারে পাঠাঞা দিল তোমা লইবারে॥
শচী কান্দে নিতাই কান্দে নদীয়া নিবাসী।
সভারে ছাড়িয়া নিমাই হইলা সন্ন্যাসী॥
কহয়ে মুরারী গোরাচাঁদ না দেখিলে।
নিশ্চয় মরিব প্রবেশিয়া গঙ্গা জলে॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
১৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী সুহই - তাল লোফা॥

প্রেমাবেশে প্রভুরে রাখিয়া শান্তিপুরে। নিত্যানন্দ রায়
আইলা নদীয়া নগরে॥ ভাবিয়া শচীর দুঃখ নিত্যানন্দ প্রভু।
পথ মাঝে অবনীতে গড়াগড়ি যায়॥ ক্ষণেকে সম্বরি নিতাই
আইলেন ঘরে। শুনি শচী ঠাকুরাণী আইলা বাহিরে॥ দাঁড়াঞা
মায়ের আগে ছাড়িলা নিঃশ্বাস। প্রাণ বিদরয়ে ভাইয়ের কহিতে
সন্ন্যাস॥ সন্ন্যাস করিয়া গৌর আইলা শান্তিপুরে। আমারে
পাঠাঞা দিল তোমা লইবারে॥ শচী কান্দে নিতাই কান্দে
নদীয়া নিবাসী। সভারে ছাড়িয়া নিমাঞি হইলা সন্ন্যাসী॥ কহয়ে
মুরারী গোরাচাঁদ না দেখিলে। নিশ্চয় মরিব প্রবেশিব
গঙ্গাজলে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ ধানশী॥

প্রভুরে রাখিয়া শান্তিপুরে।
নিত্যানন্দ আইলেন নদীয়া নগরে॥ ধ্রু॥
ভাবিয়া শচীর দুঃখ নিত্যানন্দ রায়।
পথমাঝে অবনীতে গড়াগড়ি যায়॥
ক্ষণেকে সম্বরি নিতাই আইলেন ঘরে।
শুনি শচী ঠাকুরাণী আইলা বাহিরে॥
দাঁড়ায়ে মায়ের আগে ছাড়য়ে নিশ্বাস।
প্রাণ বিদরয়ে ভাইয়ের কহিতে সন্ন্যাস॥
কাতরে পড়িয়া শচী দেখিয়া নিতাই।
কাঁদি বলে কোথা আছে আমার নিমাই॥
না কাঁদিও শচীমাতা শুন মোর বাণী।
সন্ন্যাস করিল প্রভু গৌরগুণমণি॥
সন্ন্যাস করিয়া গৌর আইলা শান্তিপুরে।
আমারে পাঠাঞা দিলা তোমা লইবারে॥
শুনিয়া নিতাইর মুখে সন্ন্যাসের কথা।
অচেতন হৈঞা ভূমে পড়ে শচী মাতা॥
উঠাইল নিত্যানন্দ চল শান্তিপুরে।
তোমার নিমাই আছে অদ্বৈতের ঘরে॥
শচী কাঁদে নিতাই কাঁদে নদীয়ানিবাসী।
সভারে ছাড়িয়া নিমাই হইল সন্ন্যাসী॥
কহয়ে মুরারি গোরাচাঁদে না দেখিলে।
নিশ্চয় মরিব প্রবেশিয়া গঙ্গাজলে॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে খণ্ডিত ও ভণিতাহীন অবস্থায় দেওয়া রয়েছে।

প্রভুরে রাখিয়া শান্তিপুরে।
নিত্যানন্দ আইলেন নদীয়ানগরে॥
ভাবিয়া শচীর দুঃখ নিত্যানন্দ রায়।
পথমাঝে অবনীতে গড়াগড়ি যায়॥
ক্ষণেকে সম্বরি নিতাই আইলেন ঘরে।
শুনি শচী ঠাকুরাণী আইলা বাহিরে॥
দাঁড়ায়ে মায়ের আগে ছাড়য়ে নিশ্বাস।
প্রাণ বিদরয়ে ভাইয়ের কহিতে সন্ন্যাস॥
কাতরে পড়িয়া শচী দেখিয়া নিতাই।
কাঁদি বলে কোথা আছে আমার নিমাই॥
না কাঁদিও শচীমাতা শুন মোর বাণী।
সন্ন্যাস করিল প্রভু গৌরগুণমণি॥
সন্ন্যাস করিয়া প্রভু আইলা শান্তিপুরে।
আমারে পাঠাইঞা দিলা তোমা লইবারে॥

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই - দুঠুকী॥

প্রেমাবেশে প্রভুরে রাখিয়া শান্তিপুরে।
নিত্যানন্দ প্রভু আইলা নদীয়া নগরে॥
ভাবিয়া শচীর দুখ নিত্যানন্দ রায়।
পথমাঝে অবনীতে গড়াগড়ি যায়॥
ক্ষণেকে সম্বরি নিতাই আইলেন ঘরে।
শুনি শচী ঠাকুরাণী আইলা বাহিরে॥
দাঁড়াঞা মায়ের আগে ছাড়য়ে নিশ্বাস।
প্রাণ বিদরয়ে ভাইয়ের করিতে সন্ন্যাস॥
সন্ন্যাস করিয়া গৌর আইলা শান্তিপুরে।
আমারে পাঠাঞা দিল তোমা লইবারে॥
শচী কান্দে নিতাই কান্দে নদীয়া নিবাসী।
সভারে ছাড়িয়া নিমাই হইলা সন্ন্যাসী॥
কহয়ে মুরারি গোরাচাঁদ না দেখিলে।
নিশ্চয় মরিব প্রবেশিব গঙ্গাজলে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রভুরে রাখিয়া শান্তিপুরে।
নিত্যানন্দ আইলেন নদীয়া নগরে॥
ভাবিয়া শচীর দুঃখ নিত্যানন্দ রায়।
পথমাঝে অবনীতে গড়াগড়ি যায়॥
ক্ষণেকে সম্বরি নিতাই আইলেন ঘরে।
শুনি শচী ঠাকুরাণী আইলা বাহিরে॥
দাঁড়ায়ে মায়ের আগে ছাড়য়ে নিশ্বাস।
প্রাণ বিদরয়ে ভাইয়ের কহিতে সন্ন্যাস॥
কাতরে পড়িয়া শচী দেখিয়া নিতাই।
কাঁদি বলে কোথা আছে আমার নিমাই॥
না কাঁদিও শচীমাতা শুন মোর বাণী।
সন্ন্যাস করিল প্রভু গৌরগুণমণি॥
সন্ন্যাস করিয়া গৌর আইলা শান্তিপুরে।
আমারে পাঠাঞা দিলা তোমা লইবারে॥
শুনিয়া নিতাইর মুখে সন্ন্যাসের কথা।
অচেতন হৈঞা ভূমে পড়ে শচী মাতা॥
উঠাইল নিত্যানন্দ চল শান্তিপুরে।
তোমার নিমাই পাছে অদ্বৈতের ঘরে॥
শচী কাঁদে নিতাই কাঁদে নদীয়ানিবাসী।
সভারে ছাড়িয়া নিমাই হইল সন্ন্যাসী॥
কহয়ে মুরারি গোরাচাঁদে না দেখিলে।
নিশ্চয় মরিব প্রবেশিয়া গঙ্গাজলে॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
ধর ধর ধর ধর রে নিতাই
ধর ধর ধর রে নিতাই
ভণিতা মুরারি
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
ইত্যাদি, ২২৩৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

ধর ধর ধর                        ধর রে নিতাই
আমার গৌরাঙ্গ ধর।
আছাড়-সময়ে                     অনুজ বলিয়া
বারেক করুণা কর॥ ধ্রু॥
আচার্য্য গোসাঞি                  দেখিহ নিমাই
আমার আঁখির তারা।
না জানি কি খেণে                নাচিতে কীর্ত্তনে
পরাণে হইব হারা॥
শুনহ শ্রীবাস                     কব়্যাছে সন্ন্যাস
ভুমি-তলে গড়ি যায়।
সোণার বরণ                        ননীর পুতলী
বেথা না লাগয়ে গায়॥
শুন ভক্তগণ                        রাখহ কীর্ত্তন
হইল অধিক নিশা।
কহয়ে মুরারি                      শুন গৌরহরি
দেখহ মায়ের দশা॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৩৪০-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ সুহই॥

ধর ধর ধর ধর                   ধর রে নিতাই
আমার গৌরাঙ্গ ধর।
আছাড়-সময়ে                     অনুজ বলিয়া
বারেক করুণা কর॥ ধ্রু॥
আচার্য্য গোসাঞি                 দেখিহ নিতাই
আমার নয়ন তারা।
না জানি কখনে                  নাচিতে কীর্ত্তনে
পরাণে হইব হারা॥
শুনহ শ্রীবাস                     কব়্যাছে সন্ন্যাস
ভুমি-তলে গড়ি যায়।
সোণার বরণ                        ননীর পুতলী
বেথা না লাগয়ে গায়॥
শুন ভক্তগণ                        রাখহ কীর্ত্তন
হইল অধিক নিশা।
কহয়ে মুরারি                       শুন গৌরহরি
দেখহ মায়ের দশা॥

ই পদটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত, মহানামশুক নবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ জয়জয়ন্তী - দোঠুকী॥

ধর ধর ধর,                      ধর রে নিতাই,
আমার গৌরাঙ্গ ধর।
আছাড় সময়ে,                     অনুজ বলিয়া,
বারেক করুণা কর॥
আচার্য্য গোঁসাঞি,                 দেখিহ নিমাই,
আমার আঁখির তারা।
না জানি কিখেণে,             নাচিতে কি মেনে,
পরাণে হইব হারা॥
শুনহ শ্রীবাস,                    কব়্যাছে সন্ন্যাস,
ভুমিতলে গড়ি যায়।
সোণার বরণ,                      ননীর পুতলি,
কোথা না লাগয়ে গায়॥
শুন ভক্তগণ,                        রাখহ কীর্ত্তন,
হইল অধিক নিশা।
কহয়ে মুরারি,                      শুন গৌরহরি,
দেখহ মায়ের দশা॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৫ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছ্বাস, ২৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রামকেলি বা তুড়ী॥

ধর ধর ধর রে নিতাই আমার গৌরে ধর।
আছাড় সময়ে অনুজ বলিয়া বারেক করুণা কর॥ ধ্রু॥
আচার্য্য গোঁসাঞি, দেখিও নিতাই, আমার আঁখির তারা।
না জানি কি ক্ষণে, নাচিতে কীর্ত্তনে, পরাণে হইব হারা॥
শুনহ শ্রীবাস, কৈরাছে সন্ন্যাস, ভুমিতলে গড়ি যায়।
সোনার বরণ, ননীর পুতলি, ব্যথা না লাগয়ে গায়॥
শুন ভক্তগণ, রাখহ কীর্ত্তন, হইল অধিক নিশা।
কহয়ে মুরারি, শুন গৌরহরি, দেখহ মায়ের দশা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ রামকেলি বা তুড়ী॥

ধর ধর ধর রে নিতাই আমার গৌরে ধর।
আছাড় সময়ে                        অনুজ বলিয়া
বারেক করুণা কর॥ ধ্রু॥
আচার্য্য গোসাঁঞি,                  দেখিও নিমাই,
আমার আঁখির তারা।
না জানি কি ক্ষণে,                নাচিতে কীর্ত্তনে,
পরাণে হইব হারা॥
শুনহ শ্রীবাস,                      কৈরাছে সন্ন্যাস,
ভুমিতলে গড়ি যায়।
সোনার বরণ,                        ননীর পুতলি,
ব্যথা না লাগয়ে গায়॥
শুন ভক্তগণ,                         রাখহ কীর্ত্তন,
হইল অধিক নিশা।
কহয়ে মুরারি,                        শুন গৌরহরি,
দেখহ মায়ের দশা॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”,
১৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে খণ্ডিত ও ভণিতাহীন অবস্থায় দেওয়া রয়েছে।

ধর ধর রে নিতাই আমার গৌরে ধর।
আছাড় সময়ে অনুজ বলিয়া বারেক করুণা কর॥
আচার্য্য গোসাঁই, দেখিও নিতাই, আমার আঁখির তারা।১
শুনহ শ্রীবাস, কৈরাছে সন্ন্যাস ভুমিতলে গড়ি যায়।
সোনার বরণ ননীর পুতলি ব্যথা না লাগয়ে গায়॥
শুন ভক্তগণ রাখহ কীর্ত্তন হইল অধিক নিশা।
কহয়ে মুরারি শুন গৌরহরি দেখহ মায়ের দশা॥

১। এর পরের কলিটি এই গ্রন্থে নেই।

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রামকেলি - লোফা॥

ধর ধর ধররে নিতাই আমার গৌরাঙ্গ ধর।
আছাড়-সময়ে                     অনুজ বলিয়া
বারেক করুণা কর॥ ধ্রু॥
আচার্য্য গোসাঞি                   দেখিহ নিমাই
আমার আঁখির তারা।
না জানি কি খেণে                নাচিতে কীর্ত্তনে
পরাণে হইব হারা॥
শুনহ শ্রীবাস                      কব়্যাছে সন্ন্যাস
ভুমিতলে গড়ি যায়।
সোণার বরণ                        ননীর পুতলী
বেথা না লাগয়ে গায়॥
শুন ভক্তগণ                        রাখহ কীর্ত্তন
হইল অধিক নিশা।
কহয়ে মুরারি                     শুন গৌর হরি
দেখহ মায়ের দশা॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ধর ধর ধর রে নিতাই আমার গৌরে ধর।
আছাড় সময়ে অনুজ বলিয়া                
বারেক করুণা কর॥
আচার্য্য গোসাঁঞি দেখিও নিমাই           
আমার আঁখির তারা।
না জানি কি ক্ষণে নাচিতে কীর্ত্তনে           
পরাণে হইব হারা॥
শুনহ শ্রীবাস কৈরাছে সন্ন্যাস                
ভুমিতলে গড়ি যায়।
সোনার বরণ ননীর পুতলি                  
ব্যথা না লাগয়ে গায়॥
শুন ভক্তগণ রাখহ কীর্ত্তন                    
হইল অধিক নিশা।
কহয়ে মুরারি শুন গৌরহরি                
দেখহ মায়ের দশা॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
শচীর আঙ্গিনা মাঝে ভুবনমোহন সাজে
ভণিতা মুরারি
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২য় তরঙ্গ, ২য় উচ্ছ্বাস, ৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শচীর আঙ্গিনা মাঝে                        ভুবনমোহন সাজে
গোরাচাঁদ দেয় হামাগুড়ি।
মায়ের অঙ্গুলি ধরি                       ক্ষণে চলে গুড়ি গুড়ি
আছাড় খাইয়া যায় পড়ি॥
বাঘনখ গলে দোলে                       বুক ভাসি যায় লোলে
চাঁদমুখে হাসির বিজুলি।
ধূলামাখা সর্ব্ব গায়                        সহিতে কি পারে মায়
বুকের উপরে লয় তুলি॥
কাঁদিয়া আকুল তাতে                  নামে গোরা কোল হৈতে
পুন ভূমে দেয় গড়াগড়ি।
হাসিয়া মুরারি বোলে                     এ নহে কোলের ছেলে
সন্ন্যাসী হইবে গৌরহরি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

শচীর আঙ্গিনা মাঝে                        ভুবনমোহন সাজে
গোরাচাঁদ দেয় হামাগুড়ি।
মায়ের অঙ্গুলি ধরি                        ক্ষণে চলে গুড়ি গুড়ি
আছাড় খাইয়া যায় পড়ি॥
বাঘনখ গলে দোলে                        বুক ভাসি যায় লালে
চাঁদমুখে হাসির বিজুলি।
ধূলামাখা সর্ব্ব গায়                        সহিতে কি পারে মায়
বুকের উপরে লয় তুলি॥
কাঁদিয়া আকুল তাতে                   নামে গোরা কোল হৈতে
পুন ভূমে দেয় গড়াগড়ি।
হাসিয়া মুরারি বোলে                      এ নহে কোলের ছেলে
সন্ন্যাসী হইবে গৌরহরি॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”,
১৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শচীর আঙ্গিনা মাঝে                        ভুবন মোহন সাজে
গোরাচাঁদ দেয় হামাগুড়ি।
মায়ের অঙ্গুলি ধরি                       ক্ষণে চলে গুড়ি গুড়ি
আছাড় খাইয়া যায় পড়ি॥
বাঘনখ গলে দোলে                       বুক ভাসি যায় লোলে
চাঁদমুখে হাসির বিজুলি।
ধূলামাখা সর্ব্বগায়                        সহিতে কি পারে মায়
বুকের উপরে লয় তুলি॥
কাঁদিয়া আকুল তাতে                 নামে গোরা কোল হৈতে
পুন ভূমে দেয় গড়াগড়ি।
হাসিয়া মুরারি বোলে                     এ নহে কোলের ছেলে
সন্ন্যাসী হইবে গৌরহরি॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শচীর আঙ্গিনা মাঝে                        ভুবনমোহন সাজে
গোরাচাঁদ দেয় হামাগুড়ি।
মায়ের অঙ্গুলি ধরি                     ক্ষণে চলে গুড়ি গুড়ি
আছাড় খাইয়া যায় পড়ি॥
বাঘনখ গলে দোলে                      বুক ভাসি যায় লালে
চাঁদমুখে হাসির বিজুলি।
ধূলামাখা সর্বগায়                        সহিতে কি পারে মায়
বুকের উপরে লয় তুলি॥
কাঁদিয়া আকুল তাতে                 নামে গোরা কোল হৈতে
পুন ভূমে দেয় গড়াগড়ি।
হাসিয়া মুরারি বোলে                    এ নহে কোলের ছেলে
সন্ন্যাসী হইবে গৌরহরি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শচীর আঙ্গিনা মাঝে ভুবনমোহন সাজে           
গোরাচাঁদ দেয় হামাগুড়ি।
মায়ের অঙ্গুলি ধরি ক্ষণে চলে গুড়ি                
গুড়ি আছাড় খাইয়া যায় পড়ি॥
বাঘনখ গলে দোলে বুক ভাসি যায় লালে          
চাঁদমুখে হাসির বিজুলি।
ধূলামাখা সর্ব্ব গায় সহিতে কি পারে মায়          
বুকের উপরে লয় তুলি॥
কাঁদিয়া আকুল তাতে নামে গোরা কোল             
হৈতে পুন ভূমে দেয় গড়াগড়ি।
হাসিয়া মুরারি বোলে এ নহে কোলের                
ছেলে সন্ন্যাসী হইবে গৌরহরি॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
শচীর দুলাল মনোরঙ্গে
ভণিতা মুরারি
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২য় তরঙ্গ, ২য় উচ্ছ্বাস,
৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

শচীর দুলাল মনোরঙ্গে। খেলে সমবয় শিশু সঙ্গে॥
মাঝে গোরা শিশু চারি পাশে। নাচে আর মৃদু মৃদু হাসে॥
হাতে হাতে করে ধরাধরি। তালে তালে নাচে ঘুরি ঘুরি॥
ক্ষণে ঘন দেয় করতালি। ক্ষণে কেহ কহে ভালি ভালি॥
গোরা যবে বলে হরি হরি। শিশুগণ বলে সঙ্গে হরি॥
ঘন ঘন হরিবোল শুনি। কাঁপে কলি পরমাদ গুণি॥
মুরারি আনন্দে ভরপূর। পাপের রাজত্ব হৈল দূর॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

শচীর দুলাল মনোরঙ্গে।
খেলে সম বয় শিশু সঙ্গে॥
মাঝে গোরা শিশু চারি পাশে।
নাচে আর মৃদু মৃদু হাসে॥
হাতে হাতে করে ধরাধরি।
তালে তালে নাচে ঘুরি ঘুরি॥
ক্ষণে ঘন দেয় করতালি।
ক্ষণে কেহ কহে ভালি ভালি॥
গোরা যবে বলে হরি হরি।
শিশুগণ সঙ্গে বলে হরি॥
ঘন ঘন হরিবোল শুনি।
কাঁপে কলি পরমাদ গুণি॥
মুরারি আনন্দে ভরপূর।
পাপের রাজত্ব হৈল দূর॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শচীর দুলাল মনোরঙ্গে। খেলে সমবয় শিশু সঙ্গে॥
মাঝে গোরা শিশু চারি পাশে। নাচে আর মৃদু মৃদু হাসে॥
হাতে হাতে করে ধরাধরি। তালে তালে নাচে ঘুরি ঘুরি॥
ক্ষণে ঘন দেয় করতালি। ক্ষণে কেহ কহে ভালিভালি॥
গোরা যবে বলে হরি হরি। শিশুগণ সঙ্গে বলে হরি॥
ঘন ঘন হরিবোল শুনি। কাঁপে কলি পরমাদ গুণি॥
মুরারি আনন্দে ভরপুর। পাপের রাজত্ব হৈল দূর॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শচীর দুলাল মনোরঙ্গে।
খেলে সম বয় শিশু সঙ্গে॥
মাঝে গোরা শিশু চারি পাশে।
নাচে আর মৃদু মৃদু হাসে॥
হাতে হাতে করে ধরাধরি।
তালে তালে নাচে ঘুরি ঘুরি॥
ক্ষণে ঘন দেয় করতালি।
ক্ষণে কেহ কহে ভালি ভালি॥
গোরা যবে বলে হরি হরি।
শিশুগণ সঙ্গে বলে হরি॥
ঘন ঘন হরিবোল শুনি।
কাঁপে কলি পরমাদ গুণি॥
মুরারি আনন্দে ভরপূর।
পাপের রাজত্ব হৈল দূর॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
চলিল নদীয়ার লোক গৌরাঙ্গ দেখিতে
ভণিতা মুরারি
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৫ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছ্বাস,
২৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

চলিল নদীয়ার লোক গৌরাঙ্গ দেখিতে।
আগে শচী আর সবে চলিলা পশ্চাতে॥
হা গৌরাঙ্গ হা গৌরাঙ্গ সবাকার মুখে।
নয়নে গলয়ে ধারা হিয়া ফাটে দুখে॥
গৌরাঙ্গ বিহনে ছিল জীয়ন্তে মরিয়া।
নিতাই বচনে যেন উঠিল বাঁচিয়া॥
হেরিতে গৌরাঙ্গ মুখ মনে অভিলাষ।
শান্তিপুর ধায় সবে হৈয়া ঊর্দ্ধশ্বাস॥
হইল পুরুষশূন্য নদীয়ানগরী।
সবাকার পাছে পাছে চলিল মুরারি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ ধানশী॥

চলিল নদীয়ার লোক গৌরাঙ্গ দেখিতে।
আগে শচী আর সবে চলিলা পশ্চাতে॥
হা গৌরাঙ্গ হা গৌরাঙ্গ সবাকার মুখে।
নয়নে গলয়ে ধারা হিয়া ফাটে দুখে॥
গৌরাঙ্গ বিহনে ছিল জীয়ন্তে মরিয়া।
নিতাই বচনে যেন উঠিল বাঁচিয়া॥
হেরিতে গৌরাঙ্গ মুখ মনে অভিলাষ।
শান্তিপুর ধায় সবে হৈয়া ঊর্দ্ধশ্বাস॥
হইল পুরুষশূন্য নদীয়ানগরী।
সবাকার পাছে পাছে চলিল মুরারি॥

ই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু
শ্রীচৈতন্য”, ১৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে খণ্ডিত ও ভণিতাহীন অবস্থায় দেওয়া রয়েছে।

চলিল নদীয়ার লোক গৌরাঙ্গ দেখিতে।
আগে শচী আর সবে চলিলা পশ্চাতে॥
হা গৌরাঙ্গ হা গৌরাঙ্গ সবাকার মুখে।
নয়নে গলয়ে ধারা হিয়া ফাটে দুখে॥
গৌরাঙ্গ বিহনে ছিল জীয়ন্তে মরিয়া।
নিতাই বচনে যেন উঠিল বাঁচিয়া॥
হেরিতে গৌরাঙ্গ মুখ মনে অভিলাষ।
শান্তিপুর ধায় সবে হৈয়া ঊর্দ্ধশ্বাস॥
হইল পুরুষশূন্য নদীয়া নাগরী।
সবাকার পাছে পাছে চলিল মুরারি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চলিল নদীয়ার লোক গৌরাঙ্গ দেখিতে।
আগে শচী আর সবে চলিলা পশ্চাতে॥
হা গৌরাঙ্গ হা গৌরাঙ্গ সবাকার মুখে।
নয়নে গলয়ে ধারা হিয়া ফাটে দুখে॥
গৌরাঙ্গ বিহনে ছিল জীয়ন্তে মরিয়া।
নিতাই বচনে যেন উঠিল বাঁচিয়া॥
হেরিতে গৌরাঙ্গ মুখ মনে অভিলাষ।
শান্তিপুর ধায় সবে হৈয়া ঊর্দ্ধশ্বাস॥
হইল পুরুষশূন্য নদীয়ানগরী।
সবাকার পাছে পাছে চলিল মুরারি॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
তপন-কিরণে যদি অঙ্কুর দগধল
ভণিতা মুরারি
এই পদটি, বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে  সংকলিত ও বিরোচিত এবং
১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-
গীতচিন্তামণি”, চতুর্বিংশ ক্ষণদা, শুক্লা নবমী, ১৯৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ি॥

তপন-কিরণে যদি                        অঙ্কুর দগধল
কি করব জল-অভিষেকে।
দুখ-ভরে প্রাণ                    বাহিরে যদি নিকসব
কি করব ঔষধ-বিশেখে॥
মানিনি! অতএ সমাপহুঁ মান।
মৃদু মৃদু ভাষে                        সম্ভাষহ বর-তনু
এক বের দেহ জিউ দান॥
সুন্দর বদনে                        বিহসি বর-ভামিনি
রচহ মনোহর বাণী।
কুচ-কনয়া-গিরি                        মধি গহি রাখহ
নিজ ভুজে আপনা জানি॥
অধর-সুধা-রস-                         পান দেহ সখি
হৃদয় জুড়াওহ মোর।
তুয়া মুখ-ইন্দু                     উদয় হেরি বিলসঙ
তিরপিত নয়ন-চকোর॥
নিজ গুণ হেরি                 পরকো দোখ পরিহরি
তেজহ হৃদয়কো রোখ।
ভণই মুরারি                        প্রাণপতি-সঙ্গিনি
পুরুষ-বধ বহু দোখ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার মান
শ্রীকৃষ্ণের উক্তি
॥ বরাড়ি॥

তপন-কিরণে যদি                        অঙ্কুর দগধল
কি করব জল অভিষেকে?
দুখভরে প্রাণ                     বাহিরে যদি নিকসব
কি করব ঔষধ বিশেখে॥
মানিনি! অতএ সমাপহ মান।
মৃদু মৃদু-ভাষে,                        সম্ভাষহ বরতনু
এক বেরি দেহ জিউদান॥
সুন্দর বদনে-                       বিহসি, বরভামিনি
রচহ মনোহর-বাণী।
কুচ-কনয়া-গিরি                        মাঝ গহি রাখহ
নিজভুজে আপনা জানি॥
অধর-সুধা-রস                          পান দেহ সখি
হৃদয় জুড়াওহ মোর।
তুয়ামুখ-ইন্দু                      উদয় হেরি, বিলসউ
তিরপিত নয়ন-চকোর॥
নিজগুণ হেরি,                  পরকো দোখ পরিহরি
তেজহ হৃদয় কো রোখ।
ভনই মুরারি,                        প্রাণপতি সঙ্গিনি
পুরুষ-বধ বহু দোখ॥

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৫১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ি - একতালা॥

তপন কিরণে যদি                        অঙ্কুর দগধল
কি করব জল অভিষেকে।
দুঃখ-ভরে প্রাণ,                 বাহিরে যদি নিকসব,
কি করব ঔষধ বিশেখে॥
মানিনি! অতএ সমাপহ মান।
মৃদু মৃদু ভাষে,                        সম্ভাষহ বরতনু,
একবের দেহ জিউদান॥
সুন্দর বদনে,                       বিহসি বর-ভামিনি,
রচহ মনোহর বাণী।
কুচ কনয়া গিরি                        মাঝ গহি রাখহ
নিজভুজে আপনা জানি॥
অধর সুধা রস                          পান দেহ সখি,
হৃদয় জুড়াওহ মোর।
তুয়া মুখ ইন্দু                     উদয় হেরি বিলসঙ,
তিরখিত নয়ন-চকোর॥
নিজগুণ হেরি,                   পরক দোখ পরিহরি,
তেজহ হৃদয়ক রোখ।
ভনই মুরারি,                        প্রাণ পতি সঙ্গিনি,
পুরুষ-বধ বহু দুখ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তপন কিরণে যদি অঙ্কুর দগধল           
কি করব জল অভিষেকে?
দুখভরে প্রাণ বাহিরে যদি নিকসব        
কি করব ঔষধ বিশেখে॥
মানিনি অতএ সমাপহ মান।                
মৃদু মৃদু ভাষে সম্ভাষহ বরতনু              
এক বেরি দেহ জিউদান॥
সুন্দর বদনে-বিহসি বরভামিনি              
রচহ মনোহর বাণী।
কুচ কনয়া গিরি মাঝ গহি রাখহ              
নিজভুজে আপনা জানি॥
অধর সুধা রস পান দেহ সখি                
হৃদয় জুড়াওহ মোর।
তুয়ামুখ ইন্দু উদয় হেরি বিলসউ             
তিরপিত নয়ন চকোর॥
নিজগুণ হেরি পরকো দোখ পরিহরি        
তেজহ হৃদয় কো রোখ।
ভনই মুরারি প্রাণপতি সঙ্গিনি                
পুরুষ বধ বহু দোখ॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
গোবিন্দের অঙ্গে পহুঁ নিজ অঙ্গ দিয়া
ভণিতা মুরারি
এই পদটি, বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে  সংকলিত ও
বিরোচিত এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত
বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, ষষ্ঠ ক্ষণদা, কৃষ্ণা ষষ্ঠী, ৪২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্রস্য।
॥ পঠমঞ্জরী॥

গোবিন্দের অঙ্গে পহুঁ নিজ অঙ্গ দিয়া।
গান বৃন্দাবন-গুণ আনন্দিত হইয়া॥
অনন্ত অনঙ্গ জিনি দেহের বলনি।
মুখ-চাঁদ কি কহিব কহিতে না জানি॥
নাচেন গৌরাঙ্গচাঁদ গদাধর-রসে।
গদাধর নাচে পহুঁ গৌরাঙ্গ-বিলাসে॥
ত্রিভুবন দরবিত দম্পতি-রসে।
মুরারি বঞ্চিত ভেল নিজ মায়া-দোষে॥

উল্লেখনীয়-
এই পদটির পাঠান্তর “মুরারি গুপ্ত” ভণিতাযুক্ত “গঙ্গাধর-অঙ্গে পহু অঙ্গ হেলাইয়া”  এবং
“গদাধর অঙ্গে পহুঁ অঙ্গ হেলাইয়া” পদ দুটি। একই পদ কীর্ত্তনিয়াদের মুখে মুখে বিবর্তিত
হয়ে গিয়েছে বিগত ৫০০ বছরে! কোনটি আসল তা বলা সম্ভব কি না তা গবেষক ও
বিশেষজ্ঞদের ভাববার বিষয়। নীচে বিমানবিহারী মজুমদারের টীকায় তাঁর ব্যাখ্যা রয়েছে।

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৫১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পঠমঞ্জরী॥

গোবিন্দের অঙ্গে পহুঁ নিজ অঙ্গ দিয়া।
গান বৃন্দাবনগুণ আনন্দিত হৈয়া॥
অনন্ত অনঙ্গ জিনি দেহের বলনি।
মুখ-চাঁদ কি কহিব কহিতে না জানি॥
নাচেন গৌরাঙ্গ চাঁদ গদাধর রসে।
গদাধর নাচে পহুঁ গোবিন্দ বিলাসে॥
ত্রিভুবন দরবিত দম্পতি রসে।
মুরারি বঞ্চিত ভেল নিজ মায়া দোষে॥

পাঠান্তর -
রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র পদকল্পতরুতে পাওয়া এই পদের পাঠান্তর দিয়েছেন--
॥ পঠমঞ্জরী॥

গদাধর অঙ্গে পহুঁ অঙ্গ হেলাইয়া।
বৃন্দাবন গুণগান বিভোর হইয়া॥
ক্ষেণে হাসে ক্ষেণে কান্দে বাহ্য নাহি জানে।
রাধার ভাবে আকুল প্রাণ গোকুল পড়ে মনে॥
অনন্ত অনঙ্গ জিনি দেহের বলনি।
কত কোটী চাঁদ কান্দে হেরি মুখখানি॥
ত্রিভুবন দরবিত এ দোঁহার রসে।
না জানি মুরারি গুপ্ত বঞ্চিত কোন দোষে॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ৩২৪--পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোবিন্দের অঙ্গে পহুঁ নিজ অঙ্গ দিয়া।
গান বৃন্দাবন-গুণ আনন্দিত হইয়া॥
অনন্ত অনঙ্গ জিনি দেহের বলনি।
মুখচাঁদ কি কহিব কহিতে না জানি॥
নাচেন গৌরাঙ্গচাঁদ গদাধর রসে।
গদাধর নাচে পহুঁ গৌরাঙ্গ বিলাসে॥
ত্রিভুবন দরবিত দম্পতি রসে।
মুরারি বঞ্চিত ভেল নিজ মায়া-দোষে॥

টীকা -
শ্রীচৈতন্যের প্রথম চরিতাখ্যায়ক মুরারি গুপ্তের এই পদটি ঐতিহাসিকদের নিকট দুইটি
কারণে মূল্যবান্। প্রথমতঃ, ইহাতে শ্রীগৌরাঙ্গের ভাবময় জীবনের অপূর্ব্ব আলেখ্য অতি
সংক্ষেপে বর্ণিত হইয়াছে। ---প্রভু রাধাভাবে আকুল হইয়া বাহ্যজ্ঞান-বিরহিত হইয়া
থাকেন ; কখনও হাসেন, কখনও কাঁদেন। দ্বিতীয়তঃ, এই দুই জনের (গৌরাঙ্গ ও গদাধরের)
রসে ত্রিভুবন দরবিত অর্থাৎ দ্রবীভূত হইল বলায় গৌর-গদাধর উপাসনার সূত্রপাতের
ইঙ্গিত এখানে দেখা যায়।
---বিমানবিহারী মজুমদার, “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
রসবতী হোই রসিক-জন-লালস
ভণিতা মুরারি
এই পদটি, বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে  সংকলিত ও বিরোচিত এবং
১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত ও প্রকাশিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-
গীতচিন্তামণি”, ৯ম ক্ষণদা, কৃষ্ণা নবমী, ৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণ আহ।
॥ সুহই॥

রসবতী হোই                        রসিক-জন-লালস
যদি নাহি পূরবি রামা।
গুণগণ তেজি                        দোখ যব্ সঞ্চরু
তব্ কৈছে গুণবতী নামা॥
মানিনি! মোহে তেজসি কথি লাগি।
একু হৃদয় তুয়া                    রস-সিন্ধু নিমজনু
কত কত যামিনী জাগি॥ ধ্রু॥
পহিল মিলনে তুয়া                  সরস হৃদয় ছিল
এবে ভেল অতি কঠিনাই।
কঠিন পয়োধর                     সঙ্গে কঠিন ভেল
সঙ্গ-দোষ নাহি যাই॥
যার লাগি নয়ন                   শাঙণ-ঘন বরিখয়ে
নিশি দিশি অন্তরে রাধা।
তাকর মনে যব্                  করুণা না উপজব
তব্ জীবনে কিয়ে সাধা॥
ও মৃদু বচন                      মধুর-অমিয়া-নিধি
অন্তরে খেলই মোর।
ভণই মুরারি                        প্রাণপতি-সঙ্গিণী
ইহ তনু জীবন তোর॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”,
৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুই॥

রসবতী ইহ রসিক জন মানয় যদি না পূরিব রামা।
গুণ গণ ত্যেজি দোষ সব সঞ্চরু তব কৈছে গুণবতী নামা॥
মানিনী মোহে ত্যেজসি কতি লাগি। এক তুয়া রস
সিন্ধু নিমজনু কত২ যামিনী জাগি॥ ধ্রু॥ পহিল মিলনে
@@ হৃদয় ছিল এবে হইল অতি কঠিনাই। কঠিন পয়োধর
সঙ্গে কঠিন ভেল সঙ্গ দোষ নাহি যাই॥ যা লাগি নয়ন শায়ন
ঘন বরিখয়ে নিশি দিশি অন্তরে রাধা। তাকর মনে যদি
করুণা না উপজব তব কিয়ে জীবন সাধা॥ এদুয় চরণ অমিয়া
নিধি মন্থত অন্তরে লেখই মোর। ভণই মুরারি প্রাণপতি
ইহ তনু জীবন তোর॥

@@ - অপাঠ্য অক্ষর।

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
হরষিত অন্তর চলু বরনাগর
ভণিতা মুরারী
এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নায়কের অভিসার।
॥ গুর্জ্জরী॥

হরষিত অন্তর,                        চলু বরনাগর,
হেরইতে রঙ্গিনী রাধা।
সুন্দরী পাশ যব,                       সুন্দর মিলল,
পূরল সব মন সাধা॥
দোঁহে দোঁহে হেরি বিভোর।
দুঁহু জন বয়ানে,                    বাত নাহি ফুরই,
ঢরকই নঅল কিশোর॥ ধ্রু॥
বৈঠলি সুবদনি,                    নোরে মহী পূরল,
কান বৈঠল তছু পাশ।
ধরইতে করহি,                     করে ধনী বারই,
লাজে কহত নাহি ভাষ॥
পিবইতে চকোর,                    সুধারস মাধুরী,
মেঘে ঝাপিল জনু চন্দ।
ভণয়ে মুরারী                        প্রাণপতি সঙ্গিনী.
দিনে দিনে ভাঙ্গব ধন্দ॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ১৩০-
পৃষ্ঠায় এইরূপে খণ্ডিত ভণিতাহীন অবস্থায়  দেওয়া রয়েছে। পদের নীচে (মুরারি) উল্লেখ করা রয়েছে।

॥ গুর্জ্জরী॥

হরষিত অন্তর                        চলু বর নাগর
হেরইতে রঙ্গিনী রাধা।
সুন্দরী-পাশ যব                        সুন্দর মিলল
পূরল সব মন সাধা॥
দোঁহে দোঁহা হেরি বিভোর।
দুঁহু জন বয়ানে                     বাত নাহি ফুরই
ঢরকই নওল কিশোর॥
বৈঠলি সুবদনী                     লোরে মহী পূরল
কান বৈঠল তছু পাশ।

(মুরারি)

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
কহ কহ সুন্দরী রজনী বিলাস
ভণিতা মুরারী
এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গারানুরাগ।
॥ যথারাগ॥

কহ কহ সুন্দরী রজনী বিলাস।
কৈছনে নাহ পূরল তুয়া আশ॥
কতহু যতনে বিধি অনুমান।
নাগর নাগরী কয়ল নিরমাণ॥
অখিল ভুবন মাহা তুহু বরনারী।
সুপুরখ নাহ তোহে মিলল মুরারী॥

.            *************************             
.                                                                                 
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর