| মুরারি দাস ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী |
| এক দিন মনে আনন্দ বাঢ়ল ভণিতা দাস মুরারি / দাসু মুরারি এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২৩শ পল্লব, শ্রীচৈতন্য- নিত্যানন্দের রূপ-গুণ-বর্ণন, ২৩৩৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ এক দিন মনে আনন্দ বাঢ়ল নিতাই গৌর রায়। হাসিতে হাসিতে কেহ নাহি সাথে বাজারে চলিয়া যায়॥ হেনই সময়ে যতেক নাগরী জল ভরিবারে যায়। পথে হৈল দেখা রূপের নাহি লেখা দিঠি পইল গোরা-গায়॥ কেহ বলে ইথে গোকুল হইতে নাটুয়া আইসাছে পারা। চল দেখিবারে নাচিবে বাজারে মরুক মরুক জল ভরা॥ বাহে বাহে ছান্দা জাহ্নবী দু-কান্দা ভরিল যতেক নারী। হেরি গোরা পানে ভুলিল নয়ানে কহয়ে দাস মুরারি॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৪৩৮-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ ধানশী॥ এক দিন মনে আনন্দ বাঢ়ল নিতাই গৌর রায়। হাসিতে হাসিতে কেহ নাহি সাথে বাজারে চলিয়া যায়॥ হেনই সময়ে যতেক নাগরী জল ভরিবারে যায়। পথে হৈল দেখা রূপে নাহি লেখা দিঠি পঢ়িল গোরা-গায়॥ কেহ বলে ইথে গোকুল হইতে নাটুয়া আসিছে পারা। চল দেখিবারে নাচিবে বাজারে মরুকহু জল ভরা॥ বাহু বাহু ছান্দা জাহ্নবী দু-কান্দা ভরিল যতেক নারী। হেরি গোরা পানে ভুলিল নয়ানে কহয়ে দাস মুরারি॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছ্বাস, ৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ এক দিন মনে আনন্দ বাঢ়ল নিতাই গৌর রায়। হাসিতে হাসিতে কেহ নাহি সাথে বাজারে চলিয়া যায়॥ পথে হৈল দেখা রূপের নাহি লেখা দিঠি ফেলাইল গোরা গায়॥ এহেন সময়ে যতেক নাগরী জল ভরিবার যায়। কেহ বোলে ইথে গোকুল হইতে নাটুয়া আইসাছে পারা। চল দেখিবারে নাচিবে বাজারে মরুক মরুক জল ভরা॥ বাহে বাহে ছান্দা জাহ্নবী সুকান্দা ভরিল যতেক নারী। হেরি গোরা পানে ভুলিল নয়ানে কহয়ে দাসু মুরারি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীচৈতন্য, নিত্যানন্দের রূপ গুণ বর্ণন ॥ ধানশী॥ এক দিন মনে আনন্দ বাঢ়ল নিতাই গৌর রায়। হাসিতে হাসিতে কেহ নাহি সাথে বাজারে চলিয়া যায়॥ পথে হৈল দেখা রূপে নাহি লেখা দিঠি দিয়া গোরা গায়॥ এহেন সময়ে যতেক নাগরী জল ভরিবারে যায়। কেহ বোলে ইথে গোকুল হইতে নাটুয়া আইসাছে পারা। চল দেখিবারে নাচিবে বাজারে মরুক মরুক জল ভরা॥ বাহে বাহে ছান্দা জাহ্নবী কাদা ভরিল যতেক নারী। হেরি গোরা পানে ভাসিল নয়ানে কহয়ে দাস মুরারি॥ এই পদটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত, সতী ঘোষ সম্পাদিত “প্রত্যক্ষদর্শীর কাব্যে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য”, ১৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। একদিন মনে আনন্দ বাঢ়ল নিতাই গৌর রায়। হাসিতে হাসিতে কেহ নাহি সাথে বাজারে চলিয়া যায়॥ পথে হৈল দেখা রূপ নাহি লেখা দিঠি ফেলাইল গোরা গায়॥ এহেন সময়ে যতেক নাগরী জল ভরিবারে যায়। কেহ বোলে ইথে গোকুল হইতে নাটুয়া আইসাছে পারা। চল দেখিবারে নাচিবে বাজারে মরুক মরুক জল ভরা॥ বাহে বাহে ছান্দা জাহ্নবী সুকান্দা ভরিল যতেক নাগরী। হেরি গোরা পানে ভাসিল নয়ানে কহয়ে দাসু মুরারি॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। একদিন মনে আনন্দ বাঢ়ল নিতাই গৌর রায়। হাসিতে হাসিতে কেহ নাহি সাথে বাজারে চলিয়া যায়॥ পথে হৈল দেখা রূপে নাহি লেখা দিঠি দিয়া গোরা গায়॥ এহেন সময়ে যতেক নাগরী জল ভরিবারে যায়। কেহ বোলে ইথে গোকুল হইতে নাটুয়া আইসাছে পারা। চল দেখিবারে নাচিবে বাজারে মরুক মরুক জল ভরা॥ বাহে বাহে ছান্দা জাহ্নবী কাদা ভরিল যতেক নারী। হেরি গোরা পানে ভাসিল নয়ানে কহয়ে দাস মুরারি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| যত সহচরী হাত ধরাধরি ভণিতা দাস মুরারি এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”. ৩৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ঝুলনলীলা ॥ শ্রীরাগ - জপতাল॥ যত সহচরী হাত ধরাধরি ঝুলনাক কাছে কাছে। আনন্দ-লহরী ময়ূরা ময়ূরী পেখম ধরিয়া নাচে॥ ভ্রমরা ভ্রমরী গুন গুন করি উড়িছে চূড়ার ফুলে। শারি শুক পিক হইয়া বিভোর গান করে বসি ডালে॥ যত ব্রজবালা গাঁথি ফুলমালা সবে আনি নানা রঙ্গে। গন্ধ চন্দন লৈয়া গোপীগণ দিতেছে দোঁহার অঙ্গে॥ সুগন্ধি চন্দন অঙ্গেতে লেপন করিয়া যতেক সখী। আনন্দে মগন দেখি শ্রীবদন ঝুলাইয়া ঝুলাইয়া দেখি॥ সঙ্গের সঙ্গিনী বড়ই রঙ্গিণী ঝুলায় আনন্দ করি। নাগর নাগরী ঝুলাইয়া ঝুলিছে কহয়ে দাস মুরারি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |