| গুপ্ত ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী |
| কি ছার পিরিতি কৈলা জীয়ন্তে বধিয়া আইলা কি ছার পিরিতি কৈলে পরাণ মারিয়া আইলে কি ছার পিরিতি কৈলে জীয়ন্তে বধিয়া আইলা ভণিতা গুপ্ত এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ৬ষ্ঠ পল্লব, দূতী-সংবাদ, ১৬৯৯- পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ করুণ কামোদ॥ কি ছার পিরিতি কৈলা জীয়ন্তে বধিয়া আইলা বাঁচিতে সংশয় ভেল রাই। সফরী সলিল বিন গোঙাইব কত দিন শুন শুন নিঠুর মাধাই॥ ঘৃত দিয়া এক রতি জ্বালি আইলা যুগ বাতি সে কেমনে রহে অযোগনে। তাহে সে পবনে পুন নিভাইল বাসোঁ হেন ঝাট আসি রাখহ পরাণে॥ ধ্রু॥ বুঝিলাম উদ্দেশে সাক্ষাতে পিরিতি তোষে স্থান ছাড়া বন্ধু বৈরী হয়। তার সাক্ষী পদ্ম ভানু জল ছাড়া তার তনু শুখাইলে পিরিতি না রয়॥ যত সুখে বাঢ়াইলা তত দুখে পোড়াইলা করিলা কুমুদ-বন্ধু ভাতি। গুপ্ত কহে এক মাসে দ্বিপক্ষ ছাড়িল দেশে নিদানে হইল কুহু রাতি॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৯২২। ১০৫০-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ তুড়ী॥ কি ছার পিরিতি কৈলে পরাণ মারিয়া আইলে খঞ্জনী-নয়নী ধনী রাই। সফরী সলিল বিনে গোঙাইব কত দিনে শুন শুন নিঠুর মাধাই॥ হেদে হে নিঠুর শ্যাম তুমি রাধা হৈলে বাম ঝাটি রাখ রাধার পরাণে। ঘৃত দিয়া এক বাতি জ্বালাইয়া যুগ বাতি সে কেমনে রহে অযোগনে। যখন পিরিতি কৈলা আনি চান্দ হাতে দিলা আপনি বনাইতে রাধার বেশ। হিয়ার উপরে থুইতে আঁখি আড় না করিতে এবে হৈল দেখিতে সন্দেশ॥ বুঝিলাম উদ্দেশে সাক্ষাতে পিরিতি তোষে স্থান ছাড়া বন্ধু বৈরি হয়। তার সাক্ষী পদ্ম ভানু জল ছাড়া তার তনু শুখাইয়া পিরিতি মারয়॥ যত সুখে বাঢ়াইলা তত দুখে পোড়াইলা করিলা কুমুদ-বন্ধু ভাতি। গুপ্ত কহে এক মাসে দুই পক্ষ এবশেষে নিদানে করিলে কুহু রাতি॥ এই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ৪০|১৪০-পদ-সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ মাউর॥ কি ছার পিরিতি কৈলে জীয়ন্তে বধিয়া আইলা বাঁচিতে সংশয় ভেল রাই। সফরী সলিল বিনু গোঙাইব কত দিন শুন শুন নিঠুর মাধাই॥ শুন শুন অহে শ্যাম ইবে কেনে হৈলে বাম ঝাট আইস রাখ তার প্রাণ। ঘৃত দিয়া এক রতি জ্বাল্যা আল্যে যুগ বাতি সে কেমনে রহয়ে যোগান। যখন পিরিতি কৈলা আনি চান্দ হাতে দিলা আপনি বনাইতে রাধার বেশ। হিয়ার উপরে থুইতে আঁখি আড় না করিতে এবে হৈল দেখিতে সন্দেশ॥ বুঝিলাম উদ্দেশে সাক্ষাতে পিরিতি পেষে স্থান ছাড়া বন্ধু বৈরি হয়। তার সাক্ষী পদ্ম ভানু জল ছাড়া তার তনু শুখাইলে পিরিতি না রয়॥ যত সুখে বাঢ়াইলে তত দুখে পোড়াইলে করিলে কুমুদ-বন্ধু ভাতি। গুপ্ত কহে এক মাসে দ্বিপক্ষ হইল শেষে নিদানে হইল কুহু রাতি॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার, ১৩৮১টি পদবিশিষ্ট, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগ তালো যথা॥ কি ছার পিরিতি কৈলে পরাণে বধিআ এলে শোন শোন নিঠুর মাধাই। সফরী সলিল বিনে জোগাইব কত দিনে জিবইতে সংশয় রাই॥ মাধব ঝাট চল রাখহ পরাণ। ঘৃত দিআ এক রতি জ্বেলে দিলে যুগবাতি সে কেমনে রহিবে জোগন॥ জখন পিরিতি কৈলে আনি চাঁন্দ হাতে দিলে আপুনি বনিয়ে দিথে বেশ। আঁখি আড় না করিতে হিআর মাধারে থুতে এবে তোমা দেখিতে সন্দেশ॥ বুঝিলাম সেই দেশে সাক্ষাৎ পিরিতি আছে স্থান ছাড়া বন্ধু বৈরী হয়। তার সাখি পদ্ম ভানু জলছাড়া না রয় তনু সুখাইলে পিরিতি না রয়॥ যত সুখ বাড়াইলে তত দুখে পোড়াইলে করিলে কুমুদবন্ধু ভাঁতি। গোপ্ত কহে য়েক মাসে দুই পক্ষ তার শেষে নিদান হইল কুহুরাতি॥ এই পদটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা”, ২৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কি ছার পিরিতি কৈলা জীয়ন্তে বধিয়া আইলা বাঁচিতে সংশয় ভেল রাই। সফরী সলিল বিন গোঁয়াইব কত দিন শুন শুন নিঠুর মাধাই॥ ঘৃত দিয়া এক রতি জ্বালি আইলা যুগ বাতি সে কেমনে রহে অযোগনে। তাহে সে পবনে পুন নিভাইল বাসো হেন ঝাট আসি রাখহ পরাণে॥ ধ্রু॥ বুঝিলাম উদ্দেশে সাক্ষাতে পিরিতি তোষে স্থান ছাড়া বন্ধু বৈরী হয়। তার সাক্ষী পদ্ম ভানু জল ছাড়া তার তনু শুখাইলে পিরিতি না রয়॥ যত সুখে বাড়াইলা তত দুখে পোড়াইলা করিলা কুমুদবন্ধু ভাতি। গুপ্ত কহে এক মাসে দ্বিপক্ষ ছাড়িল দেশে নিদানে হইল কুহুরাতি॥ . ----মুরারি গুপ্ত এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ১৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মায়ূর - তেওট॥ কি ছার পিরিতি কৈলা, জীয়ন্তে বধিয়া আইলা, বাঁচিতে সংশয় ভেল রাই। সফরী সলিল বিনে, জীয়াইব কতদিনে, শুন শুন নিঠুর কানাই॥ ঘৃত দিয়া এক রতি, জ্বালি আইলা যুগ বাতি, সে কেমনে রহয়ে যোগান। তাহে সে পবনে পুন নিভাইল বাসোঁ হেন ঝাট আসি রাখহ পরাণ॥ বুঝিলাম উদ্দেশে, সাক্ষাতে পীরিতি তোষে, স্থান ছাড়া বন্ধু বৈরী হয়। তার সাক্ষী পদ্মভানু, জল ছাড়া তার তনু, শুখাইলে পিরিতি না রয়॥ যত সুখে বাড়াইলে, তত দুখে পোড়াইলে, করিলে কুমুদবন্ধু ভাতি। গুপ্তকহে একমাসে, দ্বিপক্ষ ছাড়িল দেশে, নিদানে হইল কুহু রাতি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ১৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মাথুর শ্রীকৃষ্ণের প্রতি সখীর উক্তি ॥ কামোদ॥ কি ছার পিরীতি কৈলা জীয়ন্তে বধিয়া আইলা বাঁচিতে সংশয় ভেল রাই। সফরী সলিল বিন গোঙাইব কত দিন শুন শুন নিঠুর মাধাই॥ ঘৃত দিয়া এক রতি জ্বালি আইলা যুগ বাতি সে কেমনে রহে অ-যোগানে। তাহে সে পবনে পুন নিভাইল বাসোঁ হেন ঝাট আসি রাখহ পরাণে॥ ধ্রু॥ বুঝিলাম উদ্দেশে সাক্ষাতে পিরীতি তোষে স্থান ছাড়া বন্ধু বৈরী হয়। তার সাক্ষী পদ্ম ভানু জল ছাড়া তার তনু শুখাইলে পিরীতি না রয়॥ যত সুখে বাঢ়াইলা তত দুখে পোড়াইলা করিলা কুমুদ-বন্ধু ভাতি। গুপ্ত কহে এক মাসে দ্বিপক্ষ ছাড়িল দেশে নিদানে হইল কুহু রাতি॥ এই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বিরহসন্দেশ মুরারি গুপ্ত @ কি ছার পীরিতি কৈলা জীয়ন্তে বধিয়া আইলা বাঁচিতে সংশয় ভেল রাই। শফরী সলিল বিন গোঙাইব কত দিন শুন শুন নিঠুর মাধাই॥ ঘৃত দিয়া এক রতি জ্বালি আইলা যুগ বাতি সে কেমনে রহে অযোগানে। তাহে সে পবনে পুন নিভাইল বাসোঁ হেন ঝাট আসি রাখহ পরাণে॥ বুঝিলাম উদ্দেশে সাক্ষাতে পীরিতি তোষে স্থান-ছাড়া বন্ধু বৈরী হয়। তার সাক্ষী পদ্ম ভানু জল-ছাড়া তার তনু শুখাইলে পীরিতি না রয়॥ যত সুখে বাঢ়াইলা তত দুখে পোড়াইলা করিলা কুমুদবন্ধু-ভাতি। গুপ্ত কহে এক মাসে দ্বিপক্ষ ছাড়িল দেশে নিদানে হইল কুহু-রাতি॥ @ - এই গ্রন্থে সুকুমার রায়, গুপ্ত ভণিতার পদকর্তাকে সরাসরি মুরারি গুপ্ত বলে উপস্থাপন করেছেন। এই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ২১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কি ছার পিরিতি কৈলা জীয়ন্তে বধিয়া আইলা বাঁচিতে সংশয় ভেল রাই। সফরী সলিল বিন গোঙাইব কতদিন শুন শুন নিঠুর মাধাই॥ ঘৃত দিয়া এক রতি জ্বালি আইলা যুগ বাতি সে কেমনে রহে অযোগনে। তাহে সে পবনে পুন নিভাইল বাসোঁ হেন ঝাট আসি রাখহ পরাণে॥ ধ্রু॥ বুঝিলাম উদ্দেশে সাক্ষাতে পিরিতি তোষে স্থান ছাড়া বন্ধু বৈরী হয়। তার সাক্ষী পদ্ম ভানু জল ছাড়া তার তনু শুখাইলে পিরিতি না রয়॥ যত সুখে বাঢ়াইলা তত দুখে পোড়াইলা করিলা কুমুদবন্ধু ভাতি। গুপ্ত কহে এক মাসে দ্বিপক্ষ ছাড়িল দেশে নিদানে হইল কুহুরাতি॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কি ছার পিরীতি কৈলা জীয়ন্তে বধিয়া আইলা বাঁচিতে সংশয় ভেল রাই। সফরী সলিল বিন গোঙাইব কত দিন শুন শুন নিঠুর মাধাই॥ ঘৃত দিয়া এক রতি জ্বালি আইলা যুগ বাতি সে কেমনে রহে অযোগানে। তাহে সে পবনে পুন নিভাইল বাসোঁ হেন ঝাট আসি রাখহ পরাণে॥ বুঝিলাম উদ্দেশে সাক্ষাতে পিরীতি তোষে স্থান ছাড়া বন্ধু বৈরী হয়। তার সাক্ষী পদ্ম ভানু জল ছাড়া তার তনু শুখাইলে পিরীতি না রয়॥ যত সুখে বাঢ়াইলা তত দুখে পোড়াইলা করিলা কুমুদ বন্ধু ভাতি। গুপ্ত কহে এক মাসে বিপক্ষ ছাড়িল দেশে নিদানে হইল কুহূ রাতি॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |