কবি নটবর দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
তোমার বদন আমার জীবন
ভণিতা নটবর
কবি নটবর দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য়শাখা ২৫শ পল্লব,
দান-লীলা, ১৩৬৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

তোমার বদন                      আমার জীবন
সরবস ধন তুমি।
তোমা ধরি চিতে               খুঁজিতে খুঁজিতে
আসিয়া পাইলাম আমি॥
রাই হে, কি মোর করম ভাগি।
ব্রজের জীবন                        সবাকার ধন
আসিয়া পাইলাম লাগি॥ ধ্রু॥
দারিদ্রের মত                     ফিরিয়ে জগত
চনক-মুঠের আশে।
তার মাঝে যেন                      হেম-বরিষণ
বিধি মিলায়ল পাশে॥
এতক্ষণে মোর                        আশ পূরল
ভাঙ্গল মনের ধন্দ।
কহে নটবর                        এ হেন দুর্ল্লভ
রাই শ্যামর-চন্দ॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৮৭৬-পদসংখ্যায়
কোনও পাঠান্তর ছাড়াই হুবহু একই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

তোমার বদন                      আমার জীবন
সরবস ধন তুমি।
তোমা ধরি চিতে                খুঁজিতে খুঁজিতে
আসিয়া পাইলাম আমি॥
রাই হে, কি মোর করম ভাগি।
ব্রজের জীবন                        সবাকার ধন
আসিয়া পাইলাম লাগি॥ ধ্রু॥
দারিদ্রের মত                      ফিরিয়ে জগত
চনক-মুঠের আশে।
তার মাঝে যেন                      হেম-বরিষণ
বিধি মিলায়ল পাশে॥
এতক্ষণে মোর                        আশ পূরল
ভাঙ্গল মনের ধন্দ।
কহে নটবর                         এ হেন দুর্ল্লভ
রাই শ্যামর-চন্দ॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ ধানসী॥

তোমার বদন, আমার জীবন, সরবস ধন তুমি। তোমা ধরি চিতে,
খোঁজিতে খোঁজিতে আসিয়া পাইনু আমি॥ রাই হে, কি মোর করমে ভাগী।
ব্রজের জীবন, সভাকার ধন, আসিয়া পাইনু লাগি॥ ধ্রু॥ দরিদ্রের মত, ফিরিয়ে
জগত, চনক মুটের আসে। তার মাঝে যেন, হেম বরিষল, বিধি মিলাওল পাশে॥
এতক্ষণ মোর আশ পূরল, ভাঙ্গল মনের ধন্ধ। কহে নটবর, এ নহে দুর্ল্লভ, রাই
শ্যামর চন্দ॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, ২০০৬, ২০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

তোমার বদন আমার জীবন
সরবসধন তুমি।
তোমা ধরি চিতে খুঁজিতে খুঁজিতে
আসিয়া পাইলাম আমি॥
রাই হে, কি মোর করম ভাগী।
ব্রজের জীবন সভাকার ধন
আসিয়া পাইলাম লাগি॥
দরিদ্রের মত ফিরিয়ে জগত
চনক মুঠের আশে।
তার মাঝে যেন হেম বরিষণ
বিধি মিলাওল পাশে॥
এতক্ষণে মোর আশ পূরল
ভাঙ্গল মনের ধন্দ।
কহে নটবর হেন এ দুর্ল্লভ
রাই শ্যামর চন্দ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দান - শ্রীকৃষ্ণের আত্মনিবেদন
॥ ধানশী॥

তোমার বদন                      আমার জীবন
সরবস ধন তুমি।
তোমা ধরি চিতে                খুঁজিতে খুঁজিতে
আসিয়া পাইলাম আমি॥
রাই হে কি মোর করম ভাগি।
ব্রজের জীবন                        সবাকার ধন
আসিয়া পাইলাম লাগি॥
দারিদ্রের মত                     ফিরিয়ে জগতে
চণক মুঠির আশে।
তার মাঝে যেন                      হেম বরিষণ
বিধি মিলাওল পাশে॥
এত দিনে মোর                        আশ পূরল
ভাঙ্গল মনের ধন্দ।
কহে নটবর                        এ হেন দুর্লভ
রাইয়ের শ্যামর চন্দ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৫০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তোমার বদন আমার জীবন                     
সরবস ধন তুমি।
তোমা ধরি চিতে খুঁজিতে খুঁজিতে                
আসিয়া পাইলাম আমি॥
রাই হে কি মোর করম ভাগি।                     
ব্রজের জীবন সবাকার ধন                        
আসিয়া পাইলাম লাগি॥
দারিদ্রের মত ফিরিয়ে জগতে                     
চণক মুঠির আশে।
তার মাঝে যেন হেম বরিষণ                      
বিধি মিলাওল পাশে॥
এত দিনে মোর আশ পূরল                        
ভাঙ্গল মনের ধন্দ।
কহে নটবর এ হেন দুর্লভ                        
রাইয়ের শ্যামর চন্দ॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
গোপীগণ-কুচ-কুঙ্কুমে রঞ্জিত
ভণিতা নটবর
কবি নটবর দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ২১শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
ইত্যাদি, ২২৫০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

গোপীগণ-কুচ-                        কুঙ্কুমে রঞ্জিত
অরুণ বসন শোভে অঙ্গে।
কাঞ্চন-নিন্দিত-                      কান্তি কলেবর
রাই পরশ-রস-রঙ্গে॥
দেখ দেখ অপরূপ গৌর-বিলাস।
লাখ যুবতি-রতি                  যো গুরু লম্পট
সো অব করল সন্ন্যাস॥ ধ্রু॥
যো ব্রজ-বধুগণ                      দৃঢ় ভুজ-বন্ধন
অবিরত রহত অগোর।
সো তনু পুলকে              পুরিত অব ঢর ঢর
নয়নে গলয়ে প্রেম-লোর॥
যো নটবর ঘন-                     শ্যাম-কলেবর
বৃন্দা-বিপিন-বিহারী।
কহয়ে নটবর                   সো অব অকিঞ্চন
ঘরে ঘরে প্রেম ভিখারী॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৩৫৫-পদসংখ্যায়,
“বলরাম” ভণিতায়, এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর
টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

গোপীগণ-কুচ-                  কুঙ্কুম কিয়ে ভেল
অরুণ বসন শোভে অঙ্গে।
কাঞ্চন-নিন্দিত-                     কান্তি কলেবর
রাই পরশ-রস-রঙ্গে॥
দেখ দেখ অপরূপ গৌর-বিলাস।
লাখ যুবতি-রতি                যো গুরু লম্পট
সো অব করল সন্ন্যাস॥ ধ্রু॥
যো ব্রজ-বধুগণ                    দৃঢ় ভুজ-বন্ধন
অবিরত রহত অগোর।
সো তনু পুলকে            পুরিত অব ঢর ঢর
নয়নে গলয়ে প্রেম-লোর॥
যো নটবর ঘন-                   শ্যাম-কলেবর
বৃন্দা-বিপিন-বিহারী।
কহয়ে বলরাম                সো অব অকিঞ্চন
ঘরে ঘরে প্রেম বিথারী॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ১|২-পদ-সংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

গোপীগণ-কুচ-                        কুঙ্কুম রঞ্জিত
অরুণ বসন ধরু অঙ্গে।
কাঞ্চন-নিন্দিত-                    কান্তি কলেবর
রাই পরশ-রস-রঙ্গে॥
দেখ দেখ অপরূপ চৈতন্য-বিলাস।
লাখ যুবতি-রতি                   লম্পট যো গুরু
সো অব করল সন্ন্যাস॥ ধ্রু॥
যো ব্রজ-বধুগণ                        দৃঢ় পরিরম্ভণ
অবিরত রহত অগোর।
সো তনু পুলকে                পুরিত অব ঢর ঢর
নয়নে বহয়ে ঘন-লোর॥
যো নটবর ঘন-                      শ্যাম-কলেবর
বৃন্দা-বিপিন-বিহারী।
কহয়ে নটবর                    সো অব অকিঞ্চন
ঘরে ঘরে প্রেম ভিখারী॥

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - একতালা॥

গোপীগণ-কুচ-                        কুঙ্কুমে রঞ্জিত
অরুণ বসন শোভে অঙ্গে।
কাঞ্চন নিন্দিত                      কান্তি কলেবর
রাই-পরশরস রঙ্গে॥
দেখ দেখ অপরূপ গৌরবিলাস।
লাখযুবতি রতি                    যো গুরু লম্পট
সো অব করল সন্ন্যাস॥ ধ্রু॥
যো ব্রজবধুগণ                        দৃঢ় ভুজবন্ধন
অবিরত রহত অগোর।
সো তনু পুলকে                পুরিত অব ঢর ঢর
নয়নে গলয়ে প্রেম-লোর॥
যো নটবর ঘন-                        শ্যাম কলেবর
বৃন্দা-বিপিন-বিহারী।
কহয়ে নটবর                     সো অব অকিঞ্চন
ঘরে ঘরে প্রেম ভিখারী॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রাধা কৃষ্ণ প্রেম রস জলনিধি দুর্গম
ভণিতা নটবর
কবি নটবর দাস
এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ১৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধাকৃষ্ণের প্রেম-মাহাত্ম্য
॥ কামোদ মল্লার॥

রাধা-কৃষ্ণ-প্রেম-রস-জলনিধি দুর্গম
অতিশয় গভির-বিথার।
অজ ভব ব্যাস শেষ শুক নারদ
মুনিগণ না পাওল পার॥
হরি হরি ইহ রস কো অবগাহ।
যো রসে নিমগন সঘনে বৃন্দাবন
আপে না বূঝল নাহ॥ ধ্রু॥
শ্রীজয়দেব বিদ্যাপতি কবি-কুল
রসিক-ভকত-গণ মেলি।
পদ-পঙ্কজ-মকরন্দে মাতাওল
ভকত-ভ্রমর মাতি গেলি॥
রূপ স্বরূপ সনাতম ব্রজ-জন
চরণ-শরণ করু আশা।
নটবর দাস কহে ক্ষুদ্র-পক্ষ চাহে
করইতে সিন্ধু পিপাসা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ কামোদ মল্লার॥

রাধাকৃষ্ণ প্রেমরস জলনিধি দুর্গম                        
অতিশয় গভির-বিথার।
অজভব ব্যাস শেষ শুক নারদ                        
মুনিগণ না পাওল পার॥
হরি হরি ইহ রস কো অবগাহ।                        
যো রসে নিমগন সঘনে বৃন্দাবন                        
আপে না বূঝল নাহ॥
শ্রীজয়দেব বিদ্যাপতি কবিকুল                        
রসিক ভকতগণ মেলি।
পদপঙ্কজ মকরন্দে মাতাওল                            
ভকত ভ্রমর মাতি গেলি॥
রূপ স্বরূপ সনাতম ব্রজজন                            
চরণ শরণ করু আশা।
নটবর দাস কহে ক্ষুদ্র পক্ষ চাহে                        
পিবইতে সিন্ধু পিপাসা॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৫০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাধাকৃষ্ণ প্রেমরস জলনিধি দুর্গম                        
অতিশয় গভির বিথার।
অজভব ব্যাস শেষ শুক নারদ                        
মুনিগণ না পাওল পার॥
হরি হরি ইহ রস কো অবগাহ।                        
যো রসে নিমগন সঘনে বৃন্দাবন                        
আপে না বূঝল নাহ॥
শ্রীজয়দেব বিদ্যাপতি কবিকুল                        
রসিক ভকতগণ মেলি।
পদপঙ্কজ মকরন্দে মাতাওল                           
ভকত ভ্রমর মাতি গেলি॥
রূপ স্বরূপ সনাতম ব্রজজন                             
চরণ শরণ করু আশা।
নটবর দাস কহে ক্ষুদ্র পক্ষ চাহে                        
পিবইতে সিন্ধু পিপাসা॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তুমি মোর সখাবর সকল আনন্দ কর
ভণিতা দাস নটবর
কবি নটবর দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গৌরীদাস বন্দনা
॥ তথারাগ॥

তুমি মোর সখাবর                       সকল আনন্দ কর
সখাতে পরম শ্রেষ্ঠ মোর।
তোর গুণগান করি                  রাধাভাবে ভাব ভারি
সুবল বলিয়া নাম তোর॥
আরে মোর গৌরীদাস পণ্ডিত।
তুমি মোর প্রাণধন                 তোমাতে মোর সদা মন
তুমি মোর গোপীতে মণ্ডিত॥
অম্বিকাতে বাস হবে                  আমার সনে থাকিবে
বিগ্রহেতে দুই ভাই স্থিতি।
কহিতে কহিতে প্রভু                      স্থির নহে মন কভু
আমার আমার করে নিতি॥
কহে দাস নটবরে                        বহু সাধ মনে করে
আমারে করহ তোমার সঙ্গী।
রূপের সঙ্গিণী কর                          এই নিবেদন ধর
কর মোরে চরণেতে রঙ্গী॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৫০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তুমি মোর সখাবর সকল আনন্দ কর             
সখাতে পরম শ্রেষ্ঠ মোর।
তোর গুণগান করি রাধাভাবে ভাব                
ভারি সুবল বলিয়া নাম তোর॥
আরে মোর গৌরীদাস পণ্ডিত।                     
তুমি মোর প্রাণধন তোমাতে সদা মন              
তুমি মোর গোপীতে মণ্ডিত॥
অম্বিকাতে বাস হবে আমার সনে থাকিবে        
বিগ্রহেতে দুই ভাই স্থিতি।
কহিতে কহিতে প্রভু স্থির নহে মন কভু           
আমার আমার করে নিতি॥
কহে দাস নটবরে বহু সাধ মনে করে              
আমারে করহ তোমার সঙ্গী।
রূপের সঙ্গিণী কর এই নিবেদন ধর                
কর মোরে চরণেতে রঙ্গী॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রামদাস তোর নাম মোর সনে সদা কাম
ভণিতা নটবর
কবি নটবর দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিরাম বন্দনা
॥ তথারাগ॥

রামদাস তোর নাম                     মোর সনে সদা কাম
ভায়্যা ভায়্যা ডাকয়ে গৌরাঙ্গ।
সুদাম সুদাম বোলে                    এই মাত্র করে রোলে
তোমা সঙ্গ নহে যেন ভঙ্গ॥
আরে মোর সুদাম রঙ্গিয়া।
এবে নাম অভিরাম                   আমা সনে তোর কাম
ডাকে মোর নিতাই সঙ্গিয়া॥
বৃন্দাবন পড়ে মনে                        থাকে নব বৃন্দাবনে
ডাকে কেনে রাধা রাধা বলি।
গদাধর মুখ হেরি                          মুরছিত গৌরহরি
কোলে করে যায়্যা নরহরি॥
বলরাম দাদা মোর                    সে রূপ নাহিক তোর
হবে তুমি সন্ন্যাসীর পারা।
নিতাই নিতাই বোলে                  সঘনে করয়ে কোলে
নটবর কহে শ্যাম গোরা॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৫০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রামদাস তোর নাম মোর সনে সদা কাম                 
ভায়্যা ভায়্যা ডাকয়ে গৌরাঙ্গ।
সুদাম সুদাম বোলে এই মাত্র করে                        
রোলে তোমা সঙ্গ নহে যেন ভঙ্গ॥
আরে মোর সুদাম রঙ্গিয়া।                                
এবে নাম অভিরাম আমা সনে তোর                      
কাম ডাকে মোর নিতাই সঙ্গিয়া॥
বৃন্দাবন পড়ে মনে থাকে নব বৃন্দাবনে                     
ডাকে কেনে রাধা রাধা বলি।
গদাধর মুখ হেরি মুরছিত গৌরহরি                        
কোলে করে যায়্যা নরহরি॥
বলরাম দাদা মোর সে রূপ নাহিক তোর                   
হবে তুমি সন্ন্যাসীর পারা।
নিতাই নিতাই বোলে সঘনে করয়ে                        
কোলে নটবর কহে শ্যাম গোরা॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শল্য কহে শুন সব কৃষ্ণ রূপ গুণ
ভণিতা দাস নটবর
কবি নটবর দাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৩৮-পৃষ্ঠার পাদটীকায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নটবর গীতার অনুবাদ করিয়াছিলেন :

শল্য কহে শুন সব কৃষ্ণ রূপ গুণ।
কহিব আনন্দ মনে সবে মিলি শুন॥
জয় জয় কৃষ্ণগুণ মণি।
রূপ গুণ কি কহিব কিবা আমি জানি॥
জিনিয়া অতসী পুষ্প রূপ মনোহর।
শ্রীঅচ্যুতানন্দ প্রভু পীত পট্টধর॥
দাস নটবরে নতি করয়ে গোবিন্দে।
ভয় মাত্র নাশ হয় কহিয়ে সানন্দে॥

.        *************************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর